তালেবান-পাকিস্তান সীমান্ত সংঘাতে নতুন কৌশলগত বাস্তবতা

দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে তালেবান শাসিত আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের চলমান সীমান্ত সংঘাত। শনিবার গভীর রাতে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষ রবিবার সকাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এ ঘটনায় দুই দেশের সম্পর্ক আবারও উত্তেজনায় রূপ নিয়েছে, যা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

পাকিস্তানের সেনা মুখপাত্র আইএসপিআর জানায়, আফগান ভূখণ্ড থেকে তালেবান এবং তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)—যাদের তারা ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ বলে অভিহিত করেছে—তাদের হামলার জবাবে পাকিস্তানি বাহিনী পাল্টা অভিযান চালায়। আইএসপিআর দাবি করেছে, এতে ২০০-রও বেশি সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। পাল্টা হামলায় আফগান সীমান্তের একাধিক ঘাঁটি, প্রশিক্ষণ ক্যাম্প ও অবস্থান লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়।

অন্যদিকে, আফগান সরকারের দাবি—তাদের পাল্টা হামলায় ৫৮ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে। তবে পাকিস্তান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি। সৌদি আরব ও কাতারের অনুরোধে আফগানিস্তান আপাতত অভিযান “অস্থায়ীভাবে স্থগিত” রেখেছে বলে জানিয়েছেন আফগান ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি।

মুত্তাকি বলেন, “আমরা আমাদের সামরিক লক্ষ্য অর্জন করেছি। তবে কাতার ও সৌদি আরবের আহ্বানে আপাতত সংঘাত বন্ধ রেখেছি।” তিনি আরও দাবি করেন, “আমাদের ভূখণ্ডে কোনো পাকিস্তানি তালেবান ঘাঁটি নেই; বরং অতীতে পাকিস্তানই এই গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দিয়েছে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংঘাত কেবল সামরিক বিষয় নয়, বরং কৌশলগত পুনর্গঠনের প্রতিফলন। তালেবান সরকার এখন পাকিস্তানের ছায়া থেকে বেরিয়ে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি গঠনের পথে হাঁটছে। তারা চীন, কাতার, ইরান এবং সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছে—যা পাকিস্তানের ঐতিহ্যবাহী প্রভাববলয়ে বড় পরিবর্তন নির্দেশ করছে।

এদিকে ভারতের সঙ্গে আফগানিস্তানের সম্পর্কও দিন দিন উষ্ণ হচ্ছে। সম্প্রতি আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির নয়াদিল্লি সফর দক্ষিণ এশিয়ার নতুন কূটনৈতিক বাস্তবতার ইঙ্গিত দিয়েছে। নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে তিনি আফগানিস্তানের খনিজ, কৃষি, স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান জানান। এছাড়া ইরানের চাবাহার বন্দর ও আফগান-ভারত ওয়াঘা সীমান্ত পুনরায় চালুর বিষয়েও আলোচনা করেন।

তালেবান সরকারের এই অবস্থান পাকিস্তানের জন্য কৌশলগত উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আফগানিস্তানের ওপর পাকিস্তানের “কৌশলগত গভীরতা” নীতির অবসান ঘটছে। একসময় আফগান ভূখণ্ডকে ভারতের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাফার হিসেবে ব্যবহার করলেও এখন কাবুল সেই অবস্থান থেকে সরে এসে ভারতমুখী কূটনীতিতে মনোযোগ দিচ্ছে।

২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রথমে ভারত কৌশলগত দূরত্ব বজায় রাখলেও এখন তারা বাস্তববাদী কূটনীতি অবলম্বন করছে। মানবিক সহায়তা, খাদ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা পুনরায় শুরু করেছে নয়াদিল্লি। এবার তালেবান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর সেই সম্পর্কের রাজনৈতিক স্বীকৃতি ও আস্থার সূচনা করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তালেবানও বুঝতে পেরেছে, আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক অপরিহার্য। কাশ্মীর ইস্যুতে তাদের সাম্প্রতিক নীরবতা সেই নতুন বাস্তবতারই প্রতিফলন।

এই ভূরাজনৈতিক পুনর্গঠনের ফলে পাকিস্তান একদিকে নিরাপত্তাজনিত অস্বস্তিতে পড়েছে, অন্যদিকে ভারত ও চীনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে কৌশলগতভাবে দুর্বল অবস্থানে চলে যাচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্য এশিয়ার প্রান্তে আফগানিস্তানের এই অবস্থান ভবিষ্যতে পুরো অঞ্চলের কৌশলগত ভারসাম্য পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




গাজায় শান্তির নিঃশ্বাস, মানুষ ফিরছে ধ্বংসস্তূপের শহরে

দীর্ঘ দুই বছরের রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও ধ্বংসযজ্ঞের পর ফিলিস্তিনের গাজায় স্বস্তির ছায়া নেমেছে। শুক্রবার (১০ অক্টোবর) থেকে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে, যার অংশ হিসেবে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা ধীরে ধীরে ঘরে ফিরছে।

সকাল থেকেই মধ্য গাজার অপেক্ষাকৃত নিরাপদ এলাকায় থাকা হাজারো মানুষ গাজা শহরের দিকে হেঁটে যাচ্ছে। অনেকেই চোখের জল মুছছেন, কেউ কেউ চিৎকার ও শিস বাজিয়ে স্বস্তি প্রকাশ করছেন। এক সময়ের ব্যস্ত ও ঘনবসতিপূর্ণ শহর এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। তবুও নিজের শহরে ফিরতে পারার অনুভূতি মানুষদের চোখে মুখে স্পষ্ট।

গাজার বাসিন্দা ইব্রাহিম আল-হেলু (৪০) বলেন, “আমরা আবেগাপ্লুত হলেও সতর্ক ছিলাম। এখন রাস্তায় কোনো বাধা নেই, আমরা আমাদের বাড়িতে ফিরছি এবং পরিস্থিতি দেখার জন্য রওনা দিয়েছি।”

এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে মিশরের পর্যটন শহর শারম আল-শেখে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার’ প্রথম ধাপে হামাস ও ইসরায়েল উভয়পক্ষই সই করেছে। ট্রাম্প বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, চুক্তির মাধ্যমে খুব শিগগির সব বন্দিকে মুক্ত করা হবে এবং ইসরায়েল নির্দিষ্ট অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে।

চুক্তি বাস্তবায়নে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র, কাতার, মিশর ও তুরস্ক। হামাসের আলোচক দলের প্রধান খলিল আল-হায়া বলেন, “এই চুক্তি গাজায় সংঘাতের সমাপ্তি আনবে। ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, ত্রাণ প্রবেশ ও বন্দিবিনিময় নিশ্চিত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য মধ্যস্থতাকারীরা নিশ্চয়তা দিয়েছে যে যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ হয়েছে।”

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় আগ্রাসন শুরু করে ইসরায়েল। দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা সহিংসতায় এ পর্যন্ত নিহত হয়েছে ৬৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি এবং আহত প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার। এর আগে সীমিত সময়ের জন্য দুই ধাপে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও বাকি সময়ে অব্যাহত ছিল বিমান হামলা, স্থল অভিযান ও মানবিক বিপর্যয়।

এই নতুন যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রক্রিয়া কতটা দীর্ঘস্থায়ী হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে অন্তত এই মুহূর্তে গাজা উপত্যকার আকাশে দীর্ঘদিন পর কিছুটা হলেও শান্তির ছায়া নেমেছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ইসরায়েলি কারাগার থেকে মুক্ত শহিদুল আলম, পৌঁছেছেন তুরস্কে

বাংলাদেশের খ্যাতনামা আলোকচিত্রশিল্পী ও মানবাধিকার কর্মী শহিদুল আলম অবশেষে ইসরায়েলের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। শুক্রবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তিনি তুরস্কে পৌঁছান, যেখানে তাঁকে স্বাগত জানান ইস্তাম্বুলে নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ মিজানুর রহমান

প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেজ থেকে প্রকাশিত এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। পোস্টে বলা হয়,
তুর্কিশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ইসরায়েল থেকে ফিরে আসা বাংলাদেশের খ্যাতনামা আলোকচিত্রী ও মানবাধিকার কর্মী শহিদুল আলমকে ইস্তাম্বুলে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন।

ইসরায়েলের কারাগারে আটক থাকার পর তাঁর মুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তুরস্ক সরকারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “শহিদুল আলমের মুক্তিতে তুরস্কের সহযোগিতা বাংলাদেশের জনগণ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ রাখবে।

মানবাধিকার রক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসা শহিদুল আলমের মুক্তিকে বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক মহল ইতিবাচকভাবে দেখছে। তাঁর নিরাপদে তুরস্কে পৌঁছানোয় দেশজুড়ে স্বস্তির বাতাস বইছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বীরের বেশে শনিবার দেশে ফিরবেন শহিদুল আলম

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ:  আগামীকাল শনিবার দেশে ফিরে আসবেন ইসরাইলে আটক হওয়া  আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলোকচিত্রী ও মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলম।

মুক্ত হয়ে বর্তমানে  তিনি  তুরস্কে অবস্থান করছেন। শনিবার ভোর ৪টা ৫৫ মিনিটে তার ঢাকা পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

এর আগে শহিদুল আলম স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটার দিকে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ইস্তাম্বুলে পৌঁছান। যেখানে তাকে ইস্তাম্বুলে নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ মিজানুর রহমান স্বাগত জানান।

তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. আমানুর রহমান জানান, শহিদুল আলমের ঢাকায় ফেরার ফ্লাইট শুক্রবার তুর্কি সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে ইস্তাম্বুল ত্যাগ করার কথা রয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ইসরায়েল থেকে শহীদুল আলমের মুক্তি এবং নিরাপদে দেশে প্রত্যাবর্তনের জন্য সহযোগিতার জন্য তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ কর্তৃক শহিদুল আলমকে আটকের পর জর্ডান, মিশর এবং তুরস্কে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোকে সংশ্লিষ্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার এবং তার মুক্তি নিশ্চিত করার জন্য তাৎক্ষণিক কূটনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে।




শান্তির প্রতীক মারিয়া কোরিনা মাচাদো: গণতন্ত্রের লড়াকু কণ্ঠ

ভেনেজুয়েলার স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জিতে বিশ্বমঞ্চে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন। দেশটির গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তার দীর্ঘ সংগ্রাম ও অবিচল অবস্থানই তাকে এনে দিয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই স্বীকৃতি।

নোবেল কমিটির ভাষ্য অনুযায়ী, স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে তার দৃঢ় অবস্থান এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় নিরলস ভূমিকার জন্যই এ বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান মারিয়া কোরিনা মাচাদো।

১৯৬৭ সালের ৭ অক্টোবর ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে জন্মগ্রহণ করেন মারিয়া। তার বাবা হেনরিকে মাচাদো জুলোয়াগা ছিলেন দেশের শীর্ষ শিল্পপতিদের একজন। শিক্ষাজীবনে তিনি Universidad Católica Andrés Bello (UCAB) থেকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিগ্রি এবং পরবর্তীতে IESA থেকে অর্থনীতি ও ব্যবস্থাপনায় স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।

২০০২ সালে নির্বাচনী স্বচ্ছতা ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘Súmate’ নামে একটি নাগরিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। এর মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে দ্রুত গ্রহণযোগ্যতা পান এই সাহসী নারী।

২০১১ সালে তিনি ভেনেজুয়েলার জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। পরের বছর প্রতিষ্ঠা করেন নিজস্ব রাজনৈতিক দল ‘ভেন্তে ভেনেজুয়েলা (Vente Venezuela)’, যার মূল লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বৈরশাসন থেকে মুক্ত করে গণতান্ত্রিক পথে ফেরানো।

২০১২ সালের পর থেকেই প্রয়াত প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজ এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার রয়েছেন মারিয়া। ২০২৩ সালে বিরোধী জোটের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হলেও সরকার তাকে ১৫ বছরের জন্য সরকারি পদে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

তবে সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও দমননীতিও তাকে থামাতে পারেনি। বরং তার সাহসিকতা দেশজুড়ে গণজাগরণ সৃষ্টি করেছে। গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের পক্ষে কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৪ সালে তিনি পেয়েছেন ‘ভ্যাকলাভ হাভেল হিউম্যান রাইটস প্রাইজ’ এবং ‘সাখারভ প্রাইজ ফর ফ্রিডম অব থট’।

বর্তমানে মারিয়া কোরিনা মাচাদো শুধু ভেনেজুয়েলার নয়, বরং সমগ্র লাতিন আমেরিকা ও বিশ্বের গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনের অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। নিপীড়ন, বাধা ও প্রতিকূলতার মাঝেও তার লড়াই প্রমাণ করে— গণতন্ত্রের জন্য সত্যিকারের সংগ্রাম কখনো থেমে থাকে না।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




আফগানিস্তানে তীব্র বিমান হামলা, পাকিস্তানের অভিযানে নিহতের আশঙ্কা

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে গভীর রাতে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তানের বিমানবাহিনী। বৃহস্পতিবার গভীর রাত পেরিয়ে শুক্রবার (১০ অক্টোবর) ভোররাতের কিছুক্ষণ আগে এ হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সময় রাতের আকাশে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে কাবুল নগরী।

পাকিস্তানি গণমাধ্যম পাকিস্তান অবজারভার জানিয়েছে, অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পরিচালিত এই বিমান হামলায় পাকিস্তান তেহরিক-ই-তালিবানের (টিটিপি) শীর্ষ নেতা নূর ওয়ালি মেসুদ নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার সঙ্গে ক্বারী সাইফুল্লাহ মেসুদসহ আরও কয়েকজন সহযোগীর মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে। সাইফুল্লাহকে টিটিপির সম্ভাব্য পরবর্তী নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হতো।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, হামলাটি নূর ওয়ালি মেসুদের গাড়িকে লক্ষ্য করে চালানো হয়। এতে গাড়িটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে যায়। যদিও আফগান সংবাদমাধ্যম এখনো তার নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি, তবে তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলার সময় প্রকাশ্যে রাস্তায় গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন নূর ওয়ালি।

টিটিপি পাকিস্তানে নিষিদ্ধ একটি সন্ত্রাসী সংগঠন, যার নেতৃত্বে থাকা নূর ওয়ালি বহু বছর ধরে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে ওয়ান্টেড তালিকার শীর্ষে রয়েছেন।

এদিকে হামলার পর টিটিপি প্রতিশোধমূলক হামলার প্রস্তুতি নিতে পারে বলে ধারণা করছে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী। সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে ইতিমধ্যেই সেনা সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। এর আগে গত সপ্তাহেও টিটিপির হামলায় ১২ পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়, যার জেরে বৃহস্পতিবার দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ কঠোর হুঁশিয়ারি দেন।

তার হুঁশিয়ারির পরপরই এই বিমান হামলা চালানো হয় বলে মনে করা হচ্ছে। খাজা আসিফ বলেছেন, “আর নয়, এখন প্রতিটি আক্রমণের জবাব দেওয়া হবে।”

কাবুলের স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, তারা একাধিক তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। এরপর বিমানগুলো আকাশে চক্কর দিতে থাকে, যা দেখে অনেকেই আশঙ্কায় ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক ও ভয়।

পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক লেফটেনেন্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী শুক্রবার সকালে পেশোয়ারে একটি জরুরি সংবাদ সম্মেলন করবেন বলে জানানো হয়েছে, যেখানে কাবুলে চালানো অভিযানের বিস্তারিত জানানো হতে পারে।

অন্যদিকে আফগান তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, “বিস্ফোরণ ঘটেছে, তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।” তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, হামলার মাত্রা ছিল ভয়াবহ, যা কাবুলে গত কয়েক মাসে সবচেয়ে বড় বিমান হামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ওমানে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৮ বাংলাদেশির

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানের দুকুম সিদরা এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ৮ বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার সারিকাইত ইউনিয়নের ৭ জন রয়েছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় সময় বুধবার (৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনার সময় প্রবাসীরা সাগর থেকে মাছ ধরে ফেরার পথে প্রাইভেটকারে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মাছবাহী ট্রাকের সঙ্গে তাদের গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ১০ জনের মৃত্যু হয়, যার মধ্যে ৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক।

সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মংচিংনু মারমা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,
“আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, গাড়িতে মোট ১১ জন ছিলেন। এর মধ্যে ১০ জন ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৭ জনের বাড়ি চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে।”

নিহতদের মধ্যে কয়েকজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন—আমিন সওদাগর, আরজু, রকি, বাবলু, শাহাবউদ্দিন, জুয়েল, রনি এবং রাউজানের আলাউদ্দিন

ঘটনাস্থলে থাকা প্রত্যক্ষদর্শী সজীব চৌধুরী, যিনি নিজেও সন্দ্বীপের বাসিন্দা, জানান—
“আমরা সবাই একই এলাকায় থাকতাম। প্রতিদিনের মতো তারা মাছ ধরে গাড়িতে করে ফিরছিলেন। বাড়ি থেকে মাত্র এক ঘণ্টার দূরত্বে দুর্ঘটনাটি ঘটে। সংঘর্ষের পর গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই সবাই মারা যান। অনেকের দেহ বিকৃত হয়ে গেছে।”

দুর্ঘটনার পর ওমান পুলিশ নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে দুকুম হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

নিহতদের মৃত্যুতে তাদের পরিবার ও এলাকার মানুষ শোকাহত। প্রবাসী সহকর্মীদেরও মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। ওমানস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, নিহতদের মরদেহ দেশে ফেরাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




এআই দিয়ে তৈরি শহীদুল আলমের গ্রেফতারের ভাইরাল ছবি : রিউমর স্ক্যানার

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রখ্যাত আলোকচিত্রী শহীদুল আলমের কথিত গ্রেফতারের ছবিটি বাস্তব নয়—এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (Artificial Intelligence) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার

বুধবার (৮ অক্টোবর) রাতে প্রতিষ্ঠানটি তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে বিষয়টি যাচাই করে জানায়, ছবিতে একাধিক অসংগতি পরিলক্ষিত হওয়ায় এটি সম্পূর্ণভাবে এআই জেনারেটেড বলে প্রমাণিত হয়েছে।

রিউমর স্ক্যানারের বিশ্লেষণে বলা হয়, ছবিতে থাকা চারজন সৈন্যের মুখমণ্ডল, শারীরিক গঠন ও উচ্চতায় অস্বাভাবিক মিল পাওয়া গেছে—যা বাস্তব ছবিতে সচরাচর দেখা যায় না। এছাড়া সৈন্যদের হাতে অস্ত্রধারণের ভঙ্গি ও অবস্থানেও বেশ কিছু ত্রুটি লক্ষ্য করা গেছে।

আরও উল্লেখ করা হয়, শহীদুল আলমের পূর্বে তোলা ছবিতে তার পাঞ্জাবিতে থাকা আবু সাইদের ছবির অবস্থান এআই ছবিতে উল্টো দেখা যায়। এটি মিরর ইমেজ বা ডিজিটাল রেন্ডারিংয়ের ফলাফল, যা বাস্তব ছবিতে অসম্ভব।

রিউমর স্ক্যানার জানিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তিকর তথ্য ও ছবি ছড়ানোর প্রবণতা বাড়ছে। তাই যেকোনো ভাইরাল ছবি বা তথ্য শেয়ার করার আগে যাচাই-বাছাই করা অত্যন্ত জরুরি।

উল্লেখ্য, শহীদুল আলম বাংলাদেশের একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলোকচিত্রী, শিক্ষক ও মানবাধিকারকর্মী। সম্প্রতি তার নাম ব্যবহার করে তৈরি এআই-নির্ভর বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা সুবিধা আরও বাড়াবে ভারত

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতের ভিসা প্রদান কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হবে বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভিসা প্রদানের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং আগামীতেও তা ধারাবাহিকভাবে বাড়ানো হবে।

গত সোমবার (৬ অক্টোবর) নয়াদিল্লির সাউথ ব্লকে ‘ডিপ্লোম্যাটিক করেসপনডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ডিক্যাব)’ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এক বৈঠকে এ কথা জানান বিক্রম মিশ্রি।

পররাষ্ট্রসচিব বলেন, “বাংলাদেশ আমাদের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী। এখানকার মানুষের জন্য আমরা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ভিসা কার্যক্রম পরিচালনা করি। সাম্প্রতিক নিরাপত্তাজনিত কারণে কিছু সময়ের জন্য কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিলেও বর্তমানে তা প্রায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে।”

তিনি আরও বলেন, “গত বছরের আগস্টে কিছু নিরাপত্তাজনিত ঘটনার কারণে আমাদের কর্মীবিন্যাসে সামান্য পরিবর্তন আনতে হয়েছিল। তবে এখন ভিসা ইস্যুর সংখ্যা আবারও বাড়ছে, এবং ভবিষ্যতে তা আরও বৃদ্ধি পাবে।”

সাক্ষাৎকারে বিক্রম মিশ্রি সীমান্ত পরিস্থিতি ও সাম্প্রতিক কিছু ইস্যু নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “পুশইন একটি আইনি প্রক্রিয়ার অংশ। ভারত সবসময় আইন ও আন্তর্জাতিক প্রোটোকল মেনে এসব বিষয় পরিচালনা করে থাকে।”

এ ছাড়া সীমান্তে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব জানান, “ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রায় চার হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। এই সীমান্তে মাদক চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অপরাধ দমনসহ নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর দায়িত্ব।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই, দুই দেশের সীমান্ত যেন আরও শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল হয়। এজন্য পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা বৃদ্ধিই সবচেয়ে প্রয়োজন।”

ভারতীয় কূটনীতিকদের মতে, ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক এখন এক নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে দুই দেশের নাগরিকদের চলাচল সহজ করতে ভারত ভবিষ্যতে আরও প্রযুক্তিনির্ভর ভিসা পরিষেবা চালু করার পরিকল্পনা করছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পশ্চিমবঙ্গের কারাগারে বন্দিদের ৮৯ শতাংশই বাংলাদেশি : এনসিআরবি

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গেই সবচেয়ে বেশি বিদেশি নাগরিক বন্দি রয়েছেন—এদের প্রায় ৮৯ শতাংশই বাংলাদেশি। সম্প্রতি ভারতের ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো (এনসিআরবি) প্রকাশিত ‘প্রিজন স্ট্যাটিস্টিকস ২০২৩’ প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের মোট ৬ হাজার ৯৫৬ জন বিদেশি বন্দির মধ্যে ২ হাজার ৫০৮ জন পশ্চিমবঙ্গের কারাগারে রয়েছেন, যা দেশের মোট বিদেশি বন্দির ৩৬ শতাংশ। এর মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। তাদের অধিকাংশই অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশের অভিযোগে আটক হয়েছেন।

২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের মোট ২৫ হাজার ৭৭৪ জন বন্দির মধ্যে ৯ শতাংশই বিদেশি নাগরিক। এদের মধ্যে ৭৭৮ জন দোষী সাব্যস্ত এবং ১ হাজার ৪৪০ জন বিচারাধীন। বিদেশি বন্দিদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মিয়ানমার, এরপর মহারাষ্ট্র, দিল্লি ও উত্তরপ্রদেশের অবস্থান।

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ৪ হাজার ৯০৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের অর্ধেকেরও বেশি অংশ পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে সংযুক্ত। এই সীমান্তের অনেক জায়গা অরক্ষিত থাকায় অনুপ্রবেশের ঘটনাও ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

গত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গে বিদেশি বন্দির সংখ্যা ক্রমেই বেড়েছে। ২০২১ সালে দোষী বন্দি ছিলেন ৩২৯ জন, ২০২২ সালে ৪৭১ জন, আর ২০২৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৯৬ জনে। একই সময়ে বিচারাধীন বন্দির সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

আইনজীবীদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে বিচারাধীন বন্দির সংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো অভিযুক্তদের পক্ষে আইনজীবী জোগাড়ে অসুবিধা, আদালতের ব্যস্ততা এবং বিচার প্রক্রিয়ায় বিলম্ব। ফলে বছরের পর বছর বিদেশি নাগরিকরা কারাগারে আটকে থাকেন।

রাজ্যের এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, “আমাদের পক্ষ থেকে বারবার আবেদন জানানো হলেও বাংলাদেশি বন্দিদের ফেরত পাঠানোর হার খুবই কম। সাজার মেয়াদ শেষ হলেও অনেকে এখানেই থেকে যাচ্ছেন।”

এনসিআরবির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গের কারাগারগুলোতে অতিরিক্ত বন্দিদের চাপ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ৬০টি কারাগারের ধারণক্ষমতা ২১ হাজার ৪৭৬ জন, অথচ বন্দি রয়েছেন ২৫ হাজার ৭৭৪ জন—অর্থাৎ ধারণক্ষমতার ১২০ শতাংশ

নারী বন্দিদের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা দেখা গেছে। রাজ্যের একমাত্র নারী কারাগারে বন্দিদের সংখ্যা ধারণক্ষমতার ১১০ শতাংশেরও বেশি। কারা কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ এবং নারী বন্দিদের জন্য পর্যাপ্ত সুবিধার অভাব—এই বিষয়গুলো নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এনসিআরবি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম