ট্রাম্পের শপথের আগে বিদেশি শিক্ষার্থীদের দ্রুত ফিরে আসার আহ্বান

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: নবনিযুক্ত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শপথ গ্রহণের আগে বিদেশি শিক্ষার্থী ও স্টাফদের দ্রুত ক্যাম্পাসে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়। ট্রাম্প প্রশাসন বিদেশিদের ক্ষেত্রে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এই আহ্বান জানিয়েছে।

আগামী ২০ জানুয়ারি শপথের মাধ্যমে দ্বিতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর শপথ নেওয়ার দিনই অর্থনীতি ও অভিবাসী সংক্রান্ত কয়েকটি নির্বাহী আদেশ জারি করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক ব্যুরো এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষা ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে যত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী রয়েছে তার মধ্যে ৫৪ শতাংশই ভারত ও চীনের। এরমধ্যে গত বছর ভারতীয় শিক্ষার্থীর সংখ্যা রেকর্ড সংখ্যক ২৩ শতাংশ বেড়েছে। অপরদিকে চীনা শিক্ষার্থীর সংখ্যা চার শতাংশ কমলেও যুক্তরাষ্ট্রে তাদেরই সবচেয়ে বেশি নাগরিক পড়াশোনা করে।




বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা ভাবছে ত্রিপুরা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থগিত করার কথা বিবেচনা করছে ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরা। শনিবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা আগরতলায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, ‘‘প্রতিবেশী বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান সহিংসতার প্রতিক্রিয়া হিসাবে বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক স্থগিত করার কথা বিবেচনা করছে ত্রিপুরা।’’

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিরোধী দল বিজেপির নেতা শুভেন্দু অধিকারীও বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন। শুভেন্দুর মতো মানিক সাহাও একই দাবি তুলে বলেছেন, ‘‘আমরা এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিনি। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলেও যেকোনও কিছুই ঘটতে পারে।’’




অভিষেকের আগেই গাজায় যুদ্ধবিরতি চান ট্রাম্প

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠান হবে ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি। অর্থাৎ আগামী ২০ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন তিনি।

তবে নিজের অভিষেক অনুষ্ঠানের আগেই গাজায় যুদ্ধবিরতি চান ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটের সদস্য এবং ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত রিপাবলিকান পার্টির রাজনীতিবিদ লিন্ডসে গ্রাহাম এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন এ তথ্য।

শুক্রবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসকে দেওয়া সেই সাক্ষাৎকারে গ্রাহাম বলেন, “গাজায় আটক ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি এবং সেখানে যুদ্ধবিরতির জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এমনকি তিনি চাইছেন, প্রেসিডেন্টের অভিষেক অনুষ্ঠানের আগেই যেন এ ব্যাপারে সুরাহা হয়।”

এক্সিওসকে দেওয়া সাক্ষাৎতকারে গ্রাহাম আরও বলেন, “ইসরায়েলের সরকার এবং জনগণকে আমি বলেছি যে এই মুহূর্তে ট্রাম্প জিম্মিদের মুক্তির ব্যাপারটি মনোযোগের কেন্দ্রে নিয়ে আসতে চাইছেন। আমি যদ্দুর বুঝতে পারছি, ক্ষমতা হস্তান্তরের এই সময়টিতে এ ইস্যুতে ট্রাম্প এবং বিদায়ী প্রেসিডেন্ট বাইডেনের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন একসঙ্গে কাজ করবে।”

গত সপ্তাহে লেবাননের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন যুদ্ধকালীন সরকার। সেই চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকেই গাজায় যুদ্ধবিরতির জন্য আগের চেয়ে বেশি মনযোগী হয়েছে ওয়াশিংটন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন নেতানিয়াহু। সেই সাক্ষাতে ট্রাম্প বলেছিলেন, যদি তিনি নির্বাচনে জিতে যান— তাহলে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণের আগেই গাজায় যুদ্ধের অবসান দেখতে ইচ্ছুক তিনি।

তবে ট্রাম্প এও বলেছিলেন যে তিনি চান ইসরায়েল বিজয়ী হোক এবং যারা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জিম্মি করেছে, তাদেরকে চড়া মূল্য দিতে হবে।

২০২৩ সালে ইসরায়েলের ভূখণ্ডে ঢুকে অতর্কিত হামলা চালায় গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী হামাসের যোদ্ধারা। এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে ১ হাজার ২০০ জনকে হত্যার পাশাপাশি ২৪২ জনকে জিম্মি হিসেবে ধরে নিয়ে যায় তারা।

জিম্মিদের মুক্ত করতে ওই দিন থেকেই গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী, যা এখনও চলছে। ভয়াবহ এ অভিযানের শুরু থেকে এ পর্যন্ত গাজায় নিহত হয়েছেন প্রায় ৪৪ হাজার ৪০০ ফিলিস্তিনি, আহত হয়েছেন আরও এক লক্ষাধিক।

এই জিম্মিদের মধ্যে ১০৭ জনকে গত বছর নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ঘোষিত এক অস্থায়ী বিরতিতে মুক্তি দিয়েছিল হামাস। তারপর গত এক বছরে কয়েক জন জিম্মিকে উদ্ধার করতে পেরেছে ইসরায়েলি বাহিনী, কয়েকজন নিহতও হয়েছেন। বর্তমানে হামাসের কব্জায় ১০১ জন জিম্মি রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র : এক্সিওস, টাইমস অব ইসরায়েল




এই প্রথম যুদ্ধবিরতির পক্ষে বললেন জেলেনস্কি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ইস্যুতে অবস্থান পরিবর্তন করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি। এই প্রথমবার তিনি রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধবিরতির পক্ষে কথা বলেছেন।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন জেলেনস্কিকে একটি প্রস্তাব দিয়েছে। সেটি হলো- গত প্রায় ৩ বছরের যুদ্ধে ইউক্রেনের যেসব অঞ্চল রুশ বাহিনী দখল করেছে— সেসব অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ যদি রুশ বাহিনীর হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে ইউক্রেনকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট ন্যাটোর সদস্যপদ দেওয়া হবে।

শুক্রবার যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজের শীর্ষ প্রতিবেদক স্টুয়ার্ট রামসেকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন জেলেনস্কি। সেখানে তাকে প্রশ্ন করা হয়, ওয়াশিংটনের এই প্রস্তাবে তিনি সম্মত কি না।

জবাবে জেলেনস্কি বলেন, “আমরা যদি এই যুদ্ধের সহিংসতা-ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ করতে চাই এবং ইউক্রেনের যেসব অঞ্চল এখনও আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে— সেসবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই— সেক্ষেত্রে আমাদের ন্যাটোর আশ্রয়ে যাওয়া প্রয়োজন।”

“আমরা প্রথমে ন্যাটোর ছাতার তলায় যেতে চাই। তারপর ইউক্রেনের যেসব অঞ্চল বেদখল হয়েছে, সেগুলো পুনরুদ্ধারে কূটনৈতিক পন্থায় অগ্রসর হতে চাই। আমার মনে হয়— এটা সম্ভব।”

তিনি বলেন, যে যদি ইউক্রেন ন্যাটোর সদস্যপদ পায়— সেক্ষেত্রে রাশিয়ার দখলকৃত এলাকাগুলোতে হামলা বন্ধ করবে ইউক্রেনীয় বাহিনী। তবে সেসব অঞ্চলকে রুশ ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া সম্ভব নয় কিয়েভের পক্ষে।

“ইউক্রেনের যেসব অঞ্চল রাশিয়া দখল করেছে, সেগুলোকে আমরা রুশ ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি দিতে পারি না। এটা অসম্ভব এবং ইউক্রেনের সংবিধানবিরোধী”, সাক্ষাৎকারে বলেন জেলেনস্কি।

ক্রিমিয়াকে রুশ ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা পালন না করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্যপদের কিয়েভের তদবিরের জেরে কয়েক বছর টানাপোড়েন চলার পর ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ইউক্রেনে অভিযান শুরু করে রুশ বাহিনী। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নিজে এ অভিযানের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

গত তিন বছরের যুদ্ধে দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, ঝাপোরিজ্জিয়া এবং খেরসন— ইউক্রেনের এই চার প্রদেশের দখল নিয়েছে রুশ বাহিনী। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে চার প্রদেশকে রুশ ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতিও দিয়েছে মস্কো।

এদিকে ওই একই মাসে ন্যাটোর সদস্যপদের জন্য আবেদন করে কিয়েভ; কিন্তু ন্যাটোর পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয় যে যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত ইউক্রেনকে সদস্যপদ দেওয়া সম্ভব নয়।

এদিকে এর কিছুদিন পর মস্কোর পক্ষ থেকে কিয়েভকে প্রস্তাব দেওয়া হয় যে যদি ইউক্রেন আনুষ্ঠানিক ও সাংবিধানিকভাবে ক্রিমিয়া, দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, ঝাপোরিজ্জিয়া ও খেরসনকে রুশ ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, তাহলে ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধ করবে রুশ বাহিনী।

এর পাল্টা জবাবে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া যদি এই ৫ অঞ্চল ইউক্রেনকে ফিরিয়ে দেয় এবং নিজেদের সেনা প্রত্যাহার করে নেয়, তাহলে তিনি যুদ্ধবিরতির সংলাপ শুরু করতে রাজি আছেন।

স্বাভাবিকভাবেই রাশিয়ার তার প্রস্তাব মেনে নেয়নি। ফলে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে এ পর্যন্ত বিরতিও আসেনি।

সূত্র : আরটি, স্কাই নিউজ




কলকাতায় বাংলাদেশের পতাকার অবমাননা, ঢাকার তীব্র নিন্দা উদ্বেগ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনের বাইরে সংঘবদ্ধ ও সহিংস বিক্ষোভের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার।

বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) বিকালে বঙ্গীয় হিন্দু জাগরণ নামে একটি স্থানীয় সংগঠন এই বিক্ষোভ আয়োজন করে।

সেখানেই বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা অবমাননা এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।

এসব ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ঢাকা। একইসঙ্গে কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশন ও ভারতে বাংলাদেশের অন্যান্য কূটনৈতিক মিশনের পাশাপাশি কূটনৈতিক এবং অকূটনৈতিক সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ সরকার গভীর উদ্বেগের সঙ্গে উল্লেখ করছে যে কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনের বাইরে গতকাল বিকালে কলকাতার একটি হিন্দু সংগঠন ‘বঙ্গীয় হিন্দু জাগরণ’ দ্বারা সহিংস বিক্ষোভ হয়েছে। সে সময় বিক্ষোভকারীদের একটি বড় দল আয়োজিত সমাবেশ ও বিক্ষোভ থেকে সহিংস হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীরা পুলিশ ব্যারিকেড ভেঙে বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের সীমানায় পৌঁছায়। তারা বাংলাদেশের জাতীয় পতাকায় আগুন দেয় এবং বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কুশপুত্তলিকা দাহ করে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে আছে বলে মনে হলেও ডেপুটি হাইকমিশনের সব সদস্যের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে।

এতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা অবমাননা এবং প্রধান উপদেষ্টার কুশপুত্তলিকা পোড়ানোর জঘন্য কাজের তীব্র নিন্দা জানায়। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানায় বাংলাদেশ সরকার।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ, বাংলাদেশ সরকার যেকোনো ধরনের সহিংস কার্যকলাপের নিন্দা জানায়। একইসঙ্গে কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশন এবং ভারতে বাংলাদেশের অন্যান্য কূটনৈতিক মিশনের পাশাপাশি কূটনৈতিক এবং অ-কূটনৈতিক সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়।




বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে যা বললেন মমতা ব্যানার্জি, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেছেন, ‘কোনো ধর্মের ওপরেই আঘাত আসুক আমি চাই না। এখানে ইসকনের যিনি আছেন, তার সাথে আমার কথা হয়েছে। এটা যেহেতু অন্য একটি দেশের বিষয়, তাই কেন্দ্রীয় সরকারকেই (ভারত সরকার) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এই ইস্যুতে আমরা কেন্দ্রীয় সরকারের পাশেই আছি।’

বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে মমতা ব্যানার্জি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাবলী নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এই মন্তব্য করেন।

এর আগে তার দলের সংসদ সদস্য সৌগত রায় দিল্লির পার্লামেন্ট ভবনে বার্তাসংস্থা পিটিআইকে বলেছিলেন, ‘খুবই দুঃখজনক ঘটনা, চিন্তার বিষয়। হিন্দুদের ওপরে এই অত্যাচার হওয়া উচিত নয়। আমি এ ধরনের ঘটনার আমি নিন্দা জানাই।’

তবে তৃণমূল কংগ্রেসের দল-নেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে বাংলাদেশ সনাতন জাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেফতার করা ও এর পরবর্তী সহিংসতা নিয়ে এই প্রথম মন্তব্য শোনা গেল।

গত দু’দিন ধরেই বিজেপির নেতা-নেত্রীরা প্রশ্ন তুলছিলেন যে যখন হিন্দুদের ওপরে অত্যাচার (তাদের কথায়) চলছে, তখন পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল বা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কোনো প্রতিক্রিয়া নেই কেন!

এর আগে কংগ্রেস নেত্রী ও সদ্য নির্বাচিত সংসদ সদস্য প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ওয়াধেরাও বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যাণ্ডেলে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন।

তিনি লিখেছেন, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতার ও ‘সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপরে ক্রমাগত ঘটে চলা সহিংসতার’ সংবাদ অত্যন্ত চিন্তাজনক।

তিনি লিখেছেন, ‘আমি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদন করব যাতে এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা হয় এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের কাছে জোরালেভাবে তুলে ধরা হয়।’

এদিকে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারে উদ্বেগ জানিয়ে যে বিবৃতি দিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, তার পাল্টা বিবৃতি দিয়ে মঙ্গলবার রাতে বাংলাদেশ বলেছে, যেভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ একটি বিষয়, চিন্ময় দাসের গ্রেফতারের বিষয়টি নিয়ে কোনো কোনো মহল ভুলভাবে উপস্থাপন করছে, তাতে বাংলাদেশ হতাশা ও দুঃখ বোধ করছে।




যুদ্ধবিরতির মধ্যে লেবাননে ইসরায়েলের হামলা

সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির মধ্যেই লেবাননে বিমান হামলা চালিয়েছে দখলদার ইসরায়েল। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বৃহস্পতিবার দাবি করেছে, তারা দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর একটি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। যেখানে হিজবুল্লাহ তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছিল।

ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, যে অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে সেটি মিডিয়াম রেঞ্জের রকেট রাখার কাজে ব্যবহার করা হতো। আর এ বিষয়টিকে নিজেদের জন্য হুমকি মনে করায় সেখানে বিমান হামলা চালানো হয়েছে।

তবে হিজবুল্লাহর সঙ্গে দখলদার ইসরায়েলের যে চুক্তি হয়েছে তাতে বলা হয়েছে, আগামী ৬০ দিন দুই পক্ষ সব ধরনের হামলা বন্ধ রাখবে। এই সময়ের মধ্যে ইসরায়েলের সব সেনাকে লেবানন থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। অপরদিকে হিজবুল্লাহর যোদ্ধারা ইসরায়েলের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে সরে গিয়ে লিটানি নদীর অপর পাড়ে চলে যাবে।

গতকাল সকাল থেকে হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি শুরু হয়। এরপরই লেবাননের সাধারণ মানুষ তাদের বাড়িঘরে ফেরা শুরু করেন। তবে দখলদার ইসরায়েলের সেনারা যেসব গ্রামে অবস্থান করছে, সেসব গ্রামে সাধারণ মানুষকে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না তারা। যারা প্রবেশের চেষ্টা করেছেন তাদের লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি ছোড়ার ঘটনাও ঘটেছে।

দীর্ঘ ১৪ মাস যুদ্ধের পর হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়েছে। কিন্তু মাত্র দুদিন না যেতেই এই চুক্তির শর্ত ভঙ্গ হয়েছে। তবে বিষয়টিকে হিজবুল্লাহ এখন কীভাবে নেবে সেটি দেখার বিষয়। যদিও ধারণা করা হচ্ছে হিজবুল্লাহ এক্ষেত্রে ধৈর্য্যের সর্বোচ্চ পরীক্ষা দেবে।




বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ‘সুরক্ষা’ নিয়ে ভারতীয় পার্লামেন্টে যা বললেন এস জয়শঙ্কর

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতি এবং চট্টগ্রামের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের পার্লামেন্টে বক্তব্য দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে তিনি বলেছেন, ‘সংখ্যালঘুদের জীবন, স্বাধীনতা রক্ষার দায়িত্ব l
বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

এর আগে আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে চলমান অস্থিরতা নিয়ে ভারতের পার্লামেন্টে বক্তব্য দেবেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

এনডিটিভি জানায়, বৃহস্পতিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘু, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর চলমান হামলার বিষয়ে আলোচনা করেন জয়শঙ্কর। এর মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রামে একটি মন্দিরে ভাঙচুর এবং হিন্দু ধর্মগুরু চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর গ্রেপ্তারের ঘটনা।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলনের পর সাময়িকভাবে শাসনভার নেয় সেনাবাহিনী। পরে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। তবে এই সরকার সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতার অভিযোগে বিদ্ধ বলে মনে করছে ভারত।




হিজবুল্লাহ ইসরাইলের বিরুদ্ধে ‘জয়’ ঘোষণা করেছে

লেবাননের শিয়া জঙ্গি গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ বুধবার দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, তারা ইসরাইলের বিরুদ্ধে “বিজয়” অর্জন করেছে এবং তাদের যোদ্ধারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। বৈরুত থেকে এএফপি এ খবর নিশ্চিত করেছে।

ইরান সমর্থিত এই গোষ্ঠী এক বিবৃতিতে বলেছে, “ন্যায়নিষ্ঠতার কারণে সর্বশক্তিমান আল্লাহ’র কাছ থেকে আমাদের বিজয় এসেছে।” তারা সরাসরি যুদ্ধবিরতির শর্তাবলীর উল্লেখ না করলেও জানায়, হিজবুল্লাহর যোদ্ধারা ইসরাইলি শত্রুর উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং আক্রমণের মোকাবেলা করার জন্য প্রস্তুত থাকবে।

ইসরাইল ২৩ সেপ্টেম্বর লেবাননের হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটিতে বোমা হামলা চালানোর পর গাজা যুদ্ধের জন্য ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠী এক বছর পর আন্তঃসীমান্ত গুলি বিনিময়ের পর স্থল সেনা পাঠায়। সংঘর্ষ চলাকালে ইসরাইল হিজবুল্লাহকে ব্যাপক আঘাত করতে সক্ষম হলেও দীর্ঘদিনের নেতা হাসান নাসরুল্লাহসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হত্যা করতে পারেনি।

হিজবুল্লাহর বিবৃতিতে বলা হয়, “ইসরাইলি বাহিনী আমাদের কোনও শহর দখল করতে বা তাদের সামরিক ও নিরাপত্তা বাফার জোন প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়েছে।” তারা আরও দাবি করেছে, “আমরা তাদের আক্রমণের শেষ দিন পর্যন্ত তাদের লক্ষ্যবস্তু করব।”

যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুসারে, হিজবুল্লাহকে ইসরাইল সংলগ্ন সীমান্ত থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার (২০ মাইল) দূরে লিটানি নদীর উত্তরে ফিরে যেতে হবে এবং দক্ষিণ লেবাননে তাদের সামরিক অবকাঠামো ভেঙে ফেলতে হবে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ইসরাইলের বিরুদ্ধে জয় ঘোষণা হিজবুল্লাহর

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: লেবাননে ইসরাইলের যুদ্ধবিরতি মেনে নেয়াকে বিজয় অর্জন বলে মন্তব্য করেছে হিজবুল্লাহ।

বুধবার হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলের মধ্যে চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর সংগঠনটি প্রথম বিবৃতিতে এ মন্তব্য করে।

হিজবুল্লাহ বলছে, তারা ইসরাইলের বিরুদ্ধে বিজয় অর্জন করেছে এবং তাদের যোদ্ধারা প্রস্তুত রয়েছে।

ইরান-সমর্থিত সংগঠনটি আরো বলেছে, ‘ন্যায়নিষ্ঠতার কারণে সর্বশক্তিমান আল্লা’র কাছ থেকে আমাদের বিজয় এসেছে।’

সরাসরি যুদ্ধবিরতির শর্তাবলীর উল্লেখ না করে বিবৃতিতে আরো বলা হয়, হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা ইসরাইলি শত্রুর উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং তার আক্রমণের মোকাবেলা করার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকবে।

ইসরাইল ২৩ সেপ্টেম্বর লেবাননে হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি লক্ষ্য করে বোমা হামলা চালায়। গাজা যুদ্ধের জন্য এক বছরেরও বেশি সময় ধরে হিজবুল্লার সাথে আন্তঃসীমান্ত গুলি বিনিময়ের পর স্থল অভিযান চালায় ইসরাইল।

দীর্ঘদিনের নেতা হাসান নাসরুল্লাহ এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হত্যাসহ সংঘর্ষের সময় ইসরাইল হিজবুল্লাহকে প্রচণ্ড আঘাত করে।

হিজবুল্লাহর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরাইলি বাহিনী তাদের কোনো শহর দখল ও স্থাপন করার প্রচেষ্টা, হিজবুল্লাহর আন্তঃসীমান্ত আক্রমণ ঠেকাতে বা শত্রুদের আশা অনুযায়ী একটি সামরিক ও নিরাপত্তা বাফার জোন প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়েছে।

এতে বলা হয়, হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা আগ্রাসনের শেষ দিন পর্যন্ত ইসরাইলকে লক্ষ্যবস্তু করে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় হিজবুল্লাহকে ইসরাইল-সংলগ্ন সীমান্ত থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার (২০ মাইল) দূরে লিটানি নদীর উত্তরে ফিরে যেতে এবং দক্ষিণ লেবাননে এর সামরিক অবকাঠামো ভেঙে ফেলতে হবে।
সূত্র : বাসস