হিজবুল্লাহর হামলায় ইসরাইলি শহরের ৬০ ভাগ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: হিজবুল্লাহর রকেট হামলায় দখলকৃত ইসরাইলি শহর মেতুলার ৬০ শতাংশেরও বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম।

ইসরাইলি মিডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, শহরটি এক বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রতিদিনই হিজবুল্লাহর তীব্র গোলাবর্ষণ ও অ্যান্টি-ট্যাংক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে।

ইসরাইলি মিডিয়ার বরাতে আল-মায়াদিন জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর হামলার কারণে মেতুলা একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত সামরিক অঞ্চলে পরিণত হয়েছে।

সেখানকার ৪৫০টিরও বেশি বাড়ি হিজবুল্লাহর আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে অন্তত ৬০ ভাগ বাড়ির কাঠামো মারাত্মকভাবে ধ্বংস হয়েছে।

মেতুলার মেয়র ডেভিড আজুলাই শহরটির বর্তমান পরিস্থিতি বর্ণনা করে বলেছেন, ‘আমরা এখন খুব জটিল অবস্থায় আছি। মেতুলায় ঠিক কী কী অবশিষ্ট আছে, সে বিষয়ে আমরা অনিশ্চিত’।

তিনি মেতুলাকে প্রতিবেশী শহর হার জাভিয়া অঞ্চলের সঙ্গে তুলনা করেছেন। যা নিকটবর্তী ওদাইসা এবং কফর কিলার সম্মুখভাগে অবস্থিত।

মেয়র আজুলাই জানান, ঐ এলাকায় ১০০টি বাড়ির মধ্যে অন্তত ৭৫ ভাগ বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার সবই ব্যবহার অযোগ্য। সেগুলোর অধিকাংশকেই ধ্বংস করা প্রয়োজন।

এছাড়াও ফিলিস্তিনের দখলকৃত উত্তরাঞ্চলে ২০,০০০ বসতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। আজুলাই আরও উল্লেখ করেন, দখলকৃত উত্তরাঞ্চলে সরাসরি ক্ষতির পরিমাণ ২ বিলিয়ন শেকেলের (ইসরাইলি মুদ্রা) বা ৫৫ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি। সূত্র: মেহের নিউজ এজেন্সি




আলেপ্পোর পর আরেক প্রধান শহর হামাও দখলে নিল সিরিয়ার বিদ্রোহীরা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:বিদ্রোহী বাহিনীর সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষের পর হামা শহর থেকে নিজেদের বাহিনী প্রত্যাহার করে নিয়েছে সিরিয়ার সামরিক বাহিনী। আর এর মাধ্যমে সিরিয়ার বিদ্রোহীরা আলেপ্পোর পর দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় শহর হামাও নিজেদের দখলে নিলো।

এটিকে চলমান গৃহযুদ্ধে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের আরও একটি বড় পরাজয় বলে মনে করা হচ্ছে। শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিরিয়ার সেনাবাহিনী হামা থেকে তাদের সৈন্য প্রত্যাহার করার পর দেশটির দ্বিতীয় বড় শহরের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কথা জানিয়েছে সিরীয় বিদ্রোহীরা। ইসলামপন্থি গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) এর নেতা আবু মোহাম্মদ আল-জাওলানি হামাতে “বিজয়” ঘোষণা করেছেন এবং “কোনও প্রতিশোধ” নেওয়া হবে না বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

এর আগে, এইচটিএস যোদ্ধারা এবং তাদের সহযোগীরা হামা কেন্দ্রীয় কারাগার দখল করে এবং ভয়ঙ্কর যুদ্ধের মধ্যেই বন্দিদের ছেড়ে দেয়। অন্যদিকে সিরিয়ার সামরিক বাহিনী বলেছে, তারা শহরের বাইরে সেনা মোতায়েন করেছে।

হামা শহরটি ১০ লাখ লোকের আবাসস্থল এবং এটি আলেপ্পো থেকে ১১০ কিলোমিটার (৭০ মাইল) দক্ষিণে অবস্থিত। অতীতে প্রেসিডেন্ট আসাদ তার বিরোধীদের পরাস্ত করতে রাশিয়া ও ইরানের ওপর নির্ভর করতেন। কিন্তু উভয় মিত্র তাদের নিজস্ব বিষয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে তিনি নিজেই এখন বিদ্রোহীদের কাছে পরাস্ত হচ্ছেন।




‘ভারতের উসকানিতে পা না দিয়ে বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছে জনগণ’

চন্দ্রদীপ ডেস্ক: জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ভারতের উসকানিতে পা না দিয়ে বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছে বাংলাদেশের জনগণ’

চট্টগ্রামে আমাদের আইনজীবী ভাইকে হত্যার মাধ্যমে তারা একটি হত্যার হোলি খেলার ফাঁদ পেতেছিল, কিন্তু বাংলার জনগণ ধৈর্য এবং বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে তাদের মুখে চুনকালি মেরে দিয়েছে।

আজ দুপুরে কুমিল্লা নগরীর টাউন হল মাঠে আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা জীবন দেব কিন্তু বাংলাদেশের এক ইঞ্চি মাটিও ছাড়ব না। এটা আমাদের কমিটমেন্ট। আমরা সমতা, ভালোবাসা, অহিংস ঐক্য সাম্যের বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চাই। এদেশে সব ধর্মের-বর্ণের মানুষ মিলেমিশে আছি। বাংলাদেশ আমাদের সবার। আমরা সোচ্চারভাবে বলেছি বাংলাদেশে কোনো মেজরিটি এবং মাইনোরিটি মানি না। এদেশে যারা জন্মগ্রহণ করেছেন তারা সবাই এদেশের গর্বিত নাগরিক। মাইনোরিটি শব্দটি ব্যবহার করে দেশের বাইরে থেকে একটি গোষ্ঠী তাদের স্বার্থ হাসিল করতে চায়।

তিনি বলেন, ভারতের কিছু হলুদ মিডিয়া যখন আমাদের দেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে নেমেছে, তখন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমাদের হিন্দু ভাইয়েরা মিছিল করে তার প্রতিবাদ করেছেন। তারা প্রমাণ করেছেন দেশ আমাদের সবার। আমরা ভারতের অভ্যন্তরীণ কোনো বিষয় নিয়ে হস্তক্ষেপ করি না, কিন্তু তারা আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।

জামায়াত আমির বলেন, দেশবাসী এখন পূর্ণ স্বাধীনতার স্বাদ পাচ্ছে। যারা অকাতরে জীবন দিয়ে আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছে তাদের প্রতি দোয়া এবং কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে গুম-খুন আর ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। বিডিআর বিদ্রোহের নামে পরিকল্পিতভাবে দেশ প্রেমিক সেনাবাহিনীর ৫৭ জন চৌকস অফিসারকে হত্যা করেছে। ষড়যন্ত্র করে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার ভিশন নিয়ে তারা নেমেছিল। জাতি ২০২৪ সালের গণহত্যাসহ প্রতিটি হত্যার বিচার চায়। আইনের মাধ্যমে এ বিচার অবশ্যই করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সংস্কার শেষে যৌক্তিক সময়ে নির্বাচন দিতে হবে। আমরা দেশের মানুষের সেবা করার জন্য সবার সহযোগিতা চাই। এই দেশ নতুনভাবে গড়তে হবে। এই দেশ গড়তে হলে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ কলঙ্কমুক্ত কিছু মানুষ দরকার। সংস্কার এবং স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে।




নতুন যুদ্ধবিরতি ও বন্দীবিনিময় চুক্তির প্রস্তাব করেছে ইসরাইল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসকে মিসরীয় মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে নতুন করে একটি যুদ্ধবিরতি ও বন্দীবিনিময় চুক্তির প্রস্তাব করেছে ইসরাইল
। এই প্রস্তাবনার সাথে যুক্ত দু’টি ইসরাইলি সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

নতুন প্রস্তাবে হামাসের সাথে ৪২ থেকে ৬০ দিন পর্যন্ত সময়ের জন্য একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এই সময় নারী, ৫০ বছরের বেশি পুরুষ ও গুরুতর আহত বন্দীদের মধ্যে থেকে ১০০ জনকে মুক্তি দেবে হামাস। আর হামাসের দাবির ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, তারা প্রাথমিকভাবে ৩৩ জনের মুক্তি চেয়েছিল। তাদের কেউ কেউ বেঁচে নেই। বাকিদেরকে ছেড়ে দেয়া হবে। এর বাইরে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তসহ শত শত ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেয়ার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

জেরুসালেম পোস্ট জানিয়েছে, সম্প্রতি আঞ্চলিক পরিস্থিতিতে কিছুটা সুবিধা পাচ্ছে ইসরাইল। এর মধ্যে রয়েছে গত অক্টোবরে হামাস নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ারকে হত্যা করা এবং লেবাননের হিজবুল্লাহর সাথে যুদ্ধবিরতি চুক্তি করা ইত্যাদি। এছাড়া আগামী জানুয়ারিতে মার্কিন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফিরবেন। এসব ইস্যুতে ইসরাইল কিছুটা সুবিধা পাচ্ছে। সেখান থেকে পূর্ণ মাত্রায় সুবিধা গ্রহণের জন্যই ইসরাইল নতুন কৌশল অবলম্বন করতে যাচ্ছে।

সূত্রটি আরো জানিয়েছে, এরই ধারাবাহিকতায় ইসরাইল নতুনভাবে হামাসকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে। তবে গত আগস্ট মাসে তারা যে প্রস্তাবনা রেখেছিল, নতুন চুক্তিটিকে তারই অবিকল বলা যেতে পারে। তবে সেখান থেকে চুক্তির প্রথম পর্যায়টি বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ জোর দেয়া হয়েছে।

ইসরাইলি একটি সূত্র বলেছে, মিসরীয় ও কাতারী মধ্যস্থতাকারীরা মনে করছেন যে হামাস এখন নতুন যুদ্ধবিরতি ও বন্দীবিনিময় চুক্তিতে সম্মত হতে পারে। যদিও তাতে তাদের দাবির আংশিক প্রতিফলিত হয়।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে সিনিয়র মন্ত্রী এবং বেশ কয়েকজন নিরাপত্তা প্রধানের সাথে বৈঠকের সময় নতুন প্রস্তাবের মূল বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা হয়েছিল। এই পয়েন্টগুলো মিসরীয় গোয়েন্দাদের কাছে পাঠানো হয়েছিল, যারা তখন কায়রোতে হামাসের প্রতিনিধিদের কাছে পেশ করেছিল।

ইসরাইলি কর্মকর্তারা বলেছেন, মিসর বর্তমানে হামাসের সাথে প্রাথমিক আলোচনার চ্যানেল। তবে কাতারও এতে জড়িত রয়েছে।

হামাসের প্রতিক্রিয়ার জন্য অপেক্ষা করছে ইসরাইল
হামাসের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে এক ইসরাইলি কর্মকর্তা মন্তব্য করেছেন, ‘আমরা হামাসের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে মিসরীয়দের জানানোর জন্য অপেক্ষা করছি। কয়েক দিনের মধ্যে আমরা জানতে পারব যে হামাস আমাদের উপস্থাপন করা কাঠামোর মধ্যে আলোচনা করতে ইচ্ছুক কিনা।’

হামাস যদি ইতিবাচকভাবে সাড়া দেয়, তাহলে যুদ্ধবিরতির সময়কাল, কত বন্দী মুক্তি দেয়া হবে এবং কাদেরকে মুক্তি দেয়া হবে, তার মতো বিশদ বিবরণ চূড়ান্ত করতে একটি ইসরাইলি প্রতিনিধি দল কায়রো যাবে।

এদিকে, ইসরাইলি মন্ত্রী রন ডার্মার ওয়াশিংটনে গিয়ে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা মাইক ওয়াল্টজের সাথে দেখা করেছেন।

ট্রাম্পের একজন উপদেষ্টা বলেছেন, ইসরাইল সমর্থন করে, এমন কোনো বন্দীবিনিময় ও যুদ্ধবিরতির চুক্তি হলে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট সেটিকে সমর্থন করবেন।

তিনি আরো বলেন, ট্রাম্প চান এই ধরনের একটি চুক্তি দ্রুত এবং ২০ জানুয়ারির আগেই যেন সম্পাদিত হয়ে যায়।

কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল থানি স্কাই নিউজকে বলেছে, তিনি এই বিষয়ে ট্রাম্পের উপদেষ্টাদের সাথে যোগাযোগ করছেন।

সূত্র : জেরুসালেম পোস্ট




কলকাতা-আগরতলা মিশনের প্রধানদের ঢাকায় ফেরানোর সিদ্ধান্ত

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার উপ-হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ এবং আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলা ও ভাঙচু‌রের পর দুই মিশনের প্রধানকে ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।

বৃহস্প‌তিবার (৫ ডি‌সেম্বর) রাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক‌টি সূত্র এ তথ্য নি‌শ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, কলকাতায় বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত উপ-হাইকমিশনার শিকদার মো. আশরাফুর রহমান এবং ত্রিপুরার সহকারী হাইকমিশনার আরিফুর রহমানকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়। গত মঙ্গলবা‌রে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী ইতোম‌ধ্যে ঢাকায় ফিরেছেন কলকাতায় বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত উপ-হাইকমিশনার শিকদার মো. আশরাফুর রহমান। ত্রিপুরার সহকারী হাইকমিশনারও আজ ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।




পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে ভারতের সঙ্গে বৈঠক আগামী সপ্তাহে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ঢাকায় আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এটাই হতে যাচ্ছে দুই দেশের মধ্যে প্রথম উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক; যা আগে থেকেই ঢাকার হওয়ার কথা ছিল।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা যতটুকু জানি, এটা ১০ ডিসেম্বর হবে; একদিন আগেও হতে পারে।”

বৈঠকটি ‘ফরেন অফিস কনসালটেশন’ (এফওসি) নামে পরিচিত। এ বৈঠকের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্কে ‘গতিশীলতা’ ফিরবে বলে আশা করছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

এমন সময় বৈঠকটি হতে যাচ্ছে, যখন নানা ঘটনায় দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে বৈরিতা তৈরি হয়েছে।

এ বৈরিতা আরও কিছুটা বেড়েছে সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃঞ্চ দাস ব্রহ্মচারীর গ্রেপ্তার এবং আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাই কমিশনে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনার মধ্য দিয়ে।

এমন প্রেক্ষাপটে পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকের বিষয়ে তৌহিদ হোসেন বলেন, “এটা খুবই স্পষ্ট, আমরা চাই ভালো সম্পর্ক। তবে সেটা রেসিপ্রোকাল হতে হবে, দুইপক্ষকেই চাইতে হবে এবং সে লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।”

পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা দিক পর্যালোচনায় নিয়মিত আলোচনার প্ল্যাটফর্ম এফওসি। সর্বশেষ বৈঠক হয় ২০২৩ সালের নভেম্বরে; দিল্লিতে।

এবারের বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্র সচিব জসীম উদ্দিন। ভারতের নেতৃত্বে থাকবেন সে দেশের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি।

এবার বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা হবে, সে বিষয়ে গত ২১ নভেম্বর এক ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তৌফিক হাসান বলেছিলেন, “কী বিষয়ে আলোচনা হবে, তা দুই দেশ মিলে ঠিক করবে। সাধারণত যেটা হয়, সব বিষয় নিয়ে এখানে আলোচনা হয়। কেবল নির্দিষ্ট বিষয় আসবে, সে রকম নয়।

“সাধারণত বর্তমান যে সম্পর্ক সেটার বিষয়গুলো আসে, ভবিষ্যতে এই সম্পর্ক সম্প্রসারণের কী কী ক্ষেত্র চিহ্নিত করা যায় সেই বিষয়গুলোও আসে। কাজে এই মুহূর্তে ঠিক বলা যাচ্ছে না যে ঠিক কোন কোন বিষয়ে আলোচনা হবে। বলা যায় দুদেশের সম্পর্কের সব বিষয় স্থান পাবে।”




ভিয়েনা কনভেনশন ‘লঙ্ঘন’ করেছে ভারত, যে ব্যবস্থা নিতে পারে বাংলাদেশ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ভারতের আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশন কার্যালয়ে হামলার পর এটিকে ভিয়েনা কনভেনশনের লঙ্ঘন বলে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর বাইরেও বিএনপিসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন এই ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে ভিয়েনা কনভেনশনের কথা উল্লেখ করেছে।

মঙ্গলবার ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মাকে ডেকে নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ‘পরিকল্পিতভাবে’ বাংলাদেশ হাইকমিশনে হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কর্মকর্তারা।

হামলার সময় ভারতীয় পুলিশের সদস্যরা সেটি না থামিয়ে নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
হামলার ঘটনার পর নিরাপত্তাহীনতার কারণ দেখিয়ে সকল প্রকার ভিসা ও কনস্যুলার সেবা কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আগরতলার বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশন।

যদিও হামলায় দুঃখপ্রকাশ করে ভারত বলছে, বাংলাদেশের সঙ্গে তারা একটি স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। ঘটনা তদন্তে দেশটি ইতিমধ্যে একটি কমিটি গঠন করেছে।




যুদ্ধ শেষে গাজা শাসন করবে হামাস-ফাতাহ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: গাজার শাসকগোষ্ঠী হামাস ও পশ্চিম তীরে ক্ষমতায় থাকা ফাতাহ ১৩ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর সেখানে প্রশাসনিক দায়িত্ব ভাগ করে নেয়ার জন্য একটি কমিটি গঠনের ব্যাপারে সম্মত হয়েছে।

মঙ্গলবার উভয় পক্ষের মধ্যস্থতাকারীরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এই পরিকল্পনা অনুযায়ী ইসরাইল-অধ্যুষিত পশ্চিম তীরের অংশবিশেষের প্রশাসকের দায়িত্ব পালনকারী সংগঠন ফাতাহ এবং ২০০৭ সাল থেকে গাজার নিয়ন্ত্রণে থাকা হামাস যৌথভাবে গাজা ভূখণ্ডের প্রশাসন পরিচালনার জন্য একটি কমিটি নিয়োগ দেবে। এ কমিটিতে ঊর্ধ্বে ১৫ জন রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ টেকনোক্র্যাট থাকতে পারেন।

কর্মকর্তারা জানায়, ইসরাইলের সাথে যুদ্ধবিরতি চুক্তির চূড়ান্তের পর এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্র, মিসর ও কাতারের মধ্যস্থতায় বেশ কয়েক মাস ধরে গাজার সংঘাত বন্ধের জন্য আলোচনা চললেও এখনো ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো চুক্তি হয়নি।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে ইসরাইল ও লেবাননের হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি সফল হওয়ায় গাজার যুদ্ধবিরতির উদ্যোগে গতিবেগের সঞ্চার হতে পারে।




দ. কোরিয়ায় হঠাৎ সামরিক আইন জারি কেন?

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: দক্ষিণ কোরিয়ায় জরুরি ভিত্তিতে সামরিক আইন জারি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল। মঙ্গলবার গভীর রাতে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল ওয়াইটিএনে দেওয়া জাতির উদ্দেশে এক ভাষণে সামরিক আইন জারির এই ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

সামরিক আইন জারির আকস্মিক ঘোষণায় প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল বলেছেন, উদার এবং সাংবিধানিক শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সামরিক আইন জারির পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া তার আর কোনও উপায় ছিল না। তিনি বলেন, বিরোধী দলগুলো সংসদীয় প্রক্রিয়া জিম্মি করে দেশকে সংকটের মাঝে ফেলে দিয়েছে।

‘‘আমি উত্তরের কমিউনিস্ট শক্তির হুমকি থেকে মুক্ত কোরিয়ার প্রজাতন্ত্র রক্ষা, জনগণের স্বাধীনতা ও সুখ লুণ্ঠনকারী ঘৃণ্য উত্তর কোরিয়াপন্থী রাষ্ট্রবিরোধী শক্তিগুলোকে নির্মূল এবং উদার সাংবিধানিক সুরক্ষার জন্য সামরিক আইন ঘোষণা করছি।’’




বাংলাদেশে সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা, নাগরিকদের সতর্ক করল যুক্তরাজ্য

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বাংলাদেশে হামলার চেষ্টা করতে পারে সন্ত্রাসীরা— এমন আশঙ্কা থেকে ব্রিটিশ নাগরিকদের সতর্ক করেছে যুক্তরাজ্য।

কোথায় সন্ত্রাসী হামলা হতে পারে নির্দিষ্টভাবে তা বলা না হলেও রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবানে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে সতর্ক করা হয়েছে।

৩ ডিসেম্বর হালনাগাদ করা সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে— জনাকীর্ণ এলাকা, ধর্মীয় স্থাপনা ও রাজনৈতিক সভা–সমাবেশসহ বিভিন্ন জায়গায় হামলা হতে পারে। কিছু গোষ্ঠী এমন লোকদের টার্গেট করেছে যাদের তারা ইসলামবিরোধী দৃষ্টিভঙ্গি এবং জীবনধারা সংশ্লিষ্ট বলে মনে করে।