পশ্চিম তীর দখলের বিল অনুমোদন: হুমকি দিলেন ট্রাম্প

চন্দ্রদ্বীপ ডেক্স : ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য একটি বিল দেশটির পার্লামেন্টে প্রাথমিক অনুমোদন পেয়েছে। ইসরায়েলের এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে বিভিন্ন দেশ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এর বিরোধিতা করেছেন। হুমকি দিয়ে তিনি বলেছেন, এমনটি ঘটলে যুক্তরাষ্ট্রের সব সমর্থন হারাবে ইসরায়েল।

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে গতকাল বুধবার ২৫–২৪ ভোটে বিলটি অনুমোদন পায়। বিলটি আইনে পরিণত হওয়ার জন্য চার ধাপে ভোটাভুটির প্রয়োজন। বুধবার ছিল এর প্রথম ধাপ। বিলটি আরও আলোচনার জন্য নেসেটের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা কমিটিতে যাবে। এদিন পশ্চিম তীরে ইহুদিদের মালে আদুমিম বসতি ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করার একটি বিলও ৩১–‍৯ ভোটে অনুমোদন পেয়েছে।

কয়েক বছর ধরেই নেতানিয়াহুর জোটের কয়েকজন সদস্য পশ্চিম তীরের কিছু অংশ ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করার কথা বলছিলেন। তাঁদের ভাষ্য, ওই এলাকাগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের ঐতিহাসিক সংযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ১৯৬৭ সালে আরব দেশগুলোর সঙ্গে যুদ্ধের সময় ইসরায়েল আইন অনুযায়ী পশ্চিম তীর দখল করেনি। তাই এই দখলকে বৈধতা দেওয়ার জন্য একটি আইন প্রয়োজন।

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি এই দখলদারিকে বরাবরই অবৈধ হিসেবে উল্লেখ করেছে জাতিসংঘ এবং বিশ্বের বেশির ভাগ দেশ। ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) এক রায়ে বলা হয়, পশ্চিম তীরসহ ফিলিস্তিনের অন্য ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারি অবৈধ। সেখান থেকে যত দ্রুত সম্ভব ইসরায়েলি অবৈধ বসতি এবং সেনাদের সরিয়ে নিতে হবে।

ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন হারাবে

ইসরায়েলের পার্লামেন্টে এমন সময় বিলটিতে অনুমোদন দেওয়া হলো, যখন ট্রাম্পের ২০ দফা ‘শান্তি’ পরিকল্পনা অনুযায়ী গাজায় যুদ্ধবিরতি চলছে। মাসখানেক আগেই তিনি বলেছিলেন, পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত হতে দেবেন না। আর এই বিল অনুমোদনের সময় ইসরায়েল সফর করছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতিকে এগিয়ে নিতে আজ বৃহস্পতিবার জেডি ভ্যান্স ছিলেন ইসরায়েলের তেলআবিব শহরে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ইসরায়েল পশ্চিম তীর নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করতে পারবে না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের যে নীতি, তাতে পশ্চিম তীরকে যুক্ত করার বিষয়টি নেই। তাই এটি যুক্তরাষ্ট্রেরও নীতি হবে না।’

আজ মার্কিন সাময়িকী টাইমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে একই কথা বলেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি বলেন, ‘এমনটি (পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করা) ঘটবে না। কারণ, আমি এ নিয়ে আরব দেশগুলোকে কথা দিয়েছি। আরব দেশগুলো আমাদের বড় সমর্থন দিয়েছে। এমনটি ঘটলে যুক্তরাষ্ট্রের সব সমর্থন হারাবে ইসরায়েল।’

পার্লামেন্টে এই বিল অনুমোদনের মাধ্যমে রাজনৈতিক বিরোধীরা নেতানিয়াহু সরকারকে বিপত্তিতে ফেলতে চাইছে বলে মনে করে লিকুদ পার্টি। ট্রাম্প–নেতানিয়াহু সম্পর্ক নষ্টের জন্য এই ভোট হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে দলটি। আর ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেয়ন সার বলেছেন, ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার কথা ভেবে সরকার এখন এই ভোটাভুটি চায়নি।

বিভিন্ন দেশের নিন্দা

গাজায় টানা দুই বছর ধরে ইসরায়েলি নৃশংসতার পর ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি শুরু হয়। এরপরও উপত্যকাটিতে হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। চুক্তি অনুযায়ী ত্রাণও প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, গতকাল একজনসহ দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা ইসরায়েলের হামলায় গাজায় অন্তত ৬৮ হাজার ২৮০ জন নিহত হয়েছেন।

এরই মধ্যে পশ্চিম তীর ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করার বিল অনুমোদনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা বলেছে, গাজা ও পশ্চিম তীর ফিলিস্তিনের অংশ। এখানে ইসরায়েলের কোনো সার্বভৌমত্ব নেই। আর এক বিবৃতিতে হামাস বলেছে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইসরায়েলের ‘ঔপনিবেশিক দখলদারির কুৎসিত রূপ’ প্রকাশ পেয়েছে।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সবচেয়ে কড়া ভাষায় ইসরায়েলের পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে। একে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেছে দেশটি। ইসরায়েলের এ পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করেছে সৌদি আরব। আর নিন্দা জানিয়ে জর্ডান বলেছে, এই পদক্ষেপ দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের ভিত্তি নষ্ট করবে।

যদিও বিল অনুমোদনে আগে থেকেই পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের পূর্ণ সার্বভৌমত্ব রয়েছে বলে মনে করেন গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্যালেস্টিনিয়ান ফোরাম ফর ইসরায়েলি স্টাডিজের গবেষক ওয়ালিদ হাব্বাস। আল–জাজিরাকে তিনি বলেন, এই বিল অনুমোদন বর্তমান চিত্রপটে বড় কোনো পরিবর্তন আনবে না। কারণ, দখলদারির মাধ্যমে ইসরায়েল এরই মধ্যে পশ্চিম তীরে পূর্ণ সার্বভৌমত্ব ভোগ করছে। তবে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ওপর এই বিল অনুমোদনের প্রভাব পড়বে।




ফোনালাপে ট্রাম্প-মোদি: পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ নয়

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ফোনে কথা বলেছেন এবং আলোচনায় পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ না করার বিষয়টি প্রধানত গুরুত্ব পেয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, চলতি বছরের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাত থামাতে যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। তবে ভারত দাবি করেছে, যুদ্ধবিরতি কূটনৈতিক কারণেই সম্ভব হয়েছিল, বাণিজ্যিক চাপের কারণে নয়। অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ট্রাম্পের সক্রিয় ভূমিকার প্রশংসা করেছেন।

হোয়াইট হাউসের দীপাবলি অনুষ্ঠানে ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, মোদির সঙ্গে ফোনালাপে বাণিজ্য এবং শান্তি—দুই বিষয় নিয়েই আলোচনা হয়েছে। তিনি মোদিকে ‘অসাধারণ ব্যক্তি’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে উঠেছেন।

ট্রাম্প জানান, মোদি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান চাচ্ছেন এবং যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার আশা করছেন। এছাড়া, ট্রাম্প দাবি করেন, তার প্রশাসন বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে ‘পূর্ণ শান্তি’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




“হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ভারতের রাষ্ট্রপতি মুর্মু অল্পের জন্য রক্ষা”

ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বুধবার সকালে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার কবলে পড়লেন কেরালার থিরুভানান্থাপুরম জেলার প্রমোদোম স্টেডিয়ামে। রাষ্ট্রপতিকে বহনকারী হেলিকপ্টারের চাকা সদ্য নির্মিত কংক্রিট হেলিপ্যাডে আটকে গিয়ে সেটি ভেঙে পড়ে।

ঘটনাটি শবরীমালা মন্দির পরিদর্শনের পর ঘটেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হেলিপ্যাডটি শেষ মুহূর্তে, মঙ্গলবার রাতেই জরুরি ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছিল। ফলে কংক্রিট পুরোপুরি শক্ত হয়নি এবং হেলিকপ্টারের ভার সহ্য করতে পারেনি।

একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, হেলিকপ্টারটি একদিকে হেলে পড়ে এবং পুলিশ ও দমকল কর্মীরা তা উদ্ধার করতে ছুটে যান। বহুজনের সম্মিলিত চেষ্টায় হেলিকপ্টারটি ভূগর্ভস্থ জলাধার থেকে নিরাপদে বের করা হয়।

প্রাথমিকভাবে হেলিকপ্টার অবতরণের পরিকল্পনা ছিল নীলাক্কাল এলাকায়। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে স্টেডিয়াম বিকল্প হিসেবে বেছে নেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপতি মুর্মু বর্তমানে কেরালায় চার দিনের সরকারি সফরে রয়েছেন। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি তিরুবনন্তপুরম পৌঁছে পাথানামথিত্তা জেলার শবরীমালা মন্দির দর্শনে যান।

ভাগ্যক্রমে এই দুর্ঘটনায় কেউ আহত হননি এবং রাষ্ট্রপতি নিরাপদে রয়েছেন, নিশ্চিত করেছে রাষ্ট্রপতির দফতর।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পাকিস্তানে ৫.৩ মাত্রার ভূমিকম্প, রাজধানীসহ একাধিক শহরে কম্পন

পাকিস্তানে আবারও আঘাত হেনেছে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প। মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) রাতে রাজধানী ইসলামাবাদ, রাওয়ালপিন্ডি, পেশোয়ার, চিত্রাল, সুয়াত, দির ও মালাকান্দসহ বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়। দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর (পিএমডি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৩।

পিএমডির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ পর্বতমালা অঞ্চল, যার গভীরতা ছিল প্রায় ২৩৪ কিলোমিটার। গভীর ভূমিকেন্দ্রের কারণে কম্পনটি দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় অনুভূত হলেও বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

ভূমিকম্পের পরপরই দেশজুড়ে জেলা প্রশাসন ও জরুরি প্রতিক্রিয়া ইউনিটগুলোকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং বিভিন্ন এলাকার তথ্য সংগ্রহ করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যাচাই করছে।

ভূকম্পবিদদের মতে, পাকিস্তান পৃথিবীর অন্যতম ভূমিকম্প-প্রবণ অঞ্চলগুলোর একটি। দেশটি হিমালয় ফল্ট লাইনের নিচে অবস্থান করায় প্রায়ই মাঝারি থেকে শক্তিশালী মাত্রার ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে থাকে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




স্বর্ণের দাম আকাশ ছোয়া

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: বাংলাদেশের বাজারে আজ (সোমবার) ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণ লাখ ১৭ হাজার ৩৮২ টাকার বিক্রি হচ্ছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে স্বর্ণের দাম রেকর্ড উচ্চতার কাছাকাছি পৌঁছেছে। সোমবার (২০ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় প্রতি আউন্স স্বর্ণ ,২৬৬ দশমিক ২০ ডলারে লেনদেন হয়, যা আগের তুলনায় দশমিক ৩৯ শতাংশ বেশি।সোনার শহরহিসেবে পরিচিত দুবাইতেও স্বর্ণের দাম ছুঁয়েছে নতুন মাইলফলক। ২৪ ক্যারেট স্বর্ণের দাম প্রথমবারের মতো প্রতি গ্রামে ৫০০ দিরহাম ছাড়িয়ে গেছে।

এই অবস্থায় বিশ্লেষকরা খুচরা বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাদের মতে, বাজারে প্রবেশের জন্য এখনই উপযুক্ত সময় নয়। বরং ১০ শতাংশ দামের পতন হলে সেটাই হতে পারে বিনিয়োগের আদর্শ সুযোগ।




প্রতিদিন ৫৬০ টন খাদ্য ঢুকছে গাজায়, তবে আরও প্রয়োজন

চন্দ্রদ্বীপ ডেক্স : শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি জানিয়েছেহামাসইসরায়েল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫৬০ টন খাদ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে দুর্ভিক্ষ কবলিত অঞ্চলটির চাহিদার তুলনায় এটি অপ্রতুল।

জেনেভায় বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির মুখপাত্র আবির এতেফা বলেন, আমাদের যা প্রয়োজন, তা এখনো কম। কিন্তু আমরা সেখানে পৌঁছাচ্ছি… যুদ্ধবিরতি সুযোগের একটি সংকীর্ণ জানালা খুলে দিয়েছে। খাদ্য সহায়তা বৃদ্ধির জন্য আমরা খুব দ্রুত এবং তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিচ্ছি।

জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল টম ফ্লেচার বলেছেন, গাজার কিছু অংশে দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি বিরাজমান থাকায় সংকট কমাতে এখন থেকে প্রতি সপ্তাহে হাজার হাজার ত্রাণবহর প্রবেশ করতে হবে।

গাজায় বর্তমানে নয়টি বেকারি চালু রয়েছে। এখানে প্রতিদিন ১ লাখেরও বেশি রুটি বানানো হয়। প্রতিটির ওজন দুই কেজি। বেকারিগুলো গাজার মোট ২০ লাখেরও বেশি লোকের মধ্যে পাঁচ জনের একটি পরিবারের প্রতিদিনের খাবার সরবরাহ করে।

 




ত্রিপুরায় তিন বাংলাদেশিকে পিটিয়ে হত্যা, বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগে বিজিবি

ভারতের ত্রিপুরায় তিন বাংলাদেশি নাগরিককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি)।

বুধবার (১৫ অক্টোবর) মধ্যরাতে ৫৫ বিজিবির মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়, নিহত তিনজনের বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার সোনাচং বাজার এলাকায় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এখনো পর্যন্ত তাদের নাম ও বিস্তারিত পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।

৫৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানজিলুর রহমান জানান, নিহতদের সঠিক পরিচয় উদঘাটনের কাজ চলছে। বিস্তারিত যাচাই শেষে পরবর্তীতে তথ্য জানানো হবে।

বিজিবির সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই-তিন দিন আগে শ্রীমঙ্গল উপজেলার সীমান্তবর্তী বিদ্যাবিল এলাকা দিয়ে তিন বাংলাদেশি ত্রিপুরা রাজ্যের খোয়াই থানার কারেঙ্গিছড়া এলাকায় গোপনে প্রবেশ করেন। স্থানটি সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে প্রায় চার থেকে পাঁচ কিলোমিটার ভারতের অভ্যন্তরে, যা ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর ৭০ ব্যাটালিয়নের আওতায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতের অন্ধকারে গরু চোর সন্দেহে স্থানীয় বাসিন্দারা ওই তিনজনের ওপর সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালায়, এতে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। পরে তাদের মরদেহ ত্রিপুরার সাম্পাহার থানায় নিয়ে যায় ভারতীয় পুলিশ।

এ ঘটনার পর বিজিবি বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। সীমান্তবর্তী এই ঘটনার সত্যতা যাচাই ও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে বিজিবি কর্তৃপক্ষ।


মো: আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মাদাগাস্কারে সেনা অভ্যুত্থান, প্রেসিডেন্ট দেশত্যাগ

আবারও অস্থিরতায় কাঁপছে আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র মাদাগাস্কার। দেশটির সেনাবাহিনী বিদ্রোহের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের ঘোষণা দিয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

বিদ্রোহী সেনাদের পক্ষ থেকে জাতীয় রেডিওতে দেওয়া ঘোষণায় কর্নেল মাইকেল র‍্যান্দ্রিয়ানিরিনা বলেন, “আমরা দেশের দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। সেনাবাহিনী এখন থেকে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে।” তিনি আরও জানান, সেনাবাহিনী দেশের সকল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বিলুপ্ত করেছে, তবে জাতীয় সংসদ (লোয়ার হাউস) কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।

এ ঘোষণার কিছুক্ষণ আগেই সংসদে প্রেসিডেন্ট আন্দ্রি রাজোয়েলিনার বিরুদ্ধে অভিশংসনের প্রস্তাব পাস হয়। জাতীয় পরিষদের বৈঠকে মোট ১৩০ জন সদস্য প্রেসিডেন্টের পদচ্যুতি সমর্থন করেন।

এর আগে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের মধ্যে রাজোয়েলিনা দেশত্যাগ করেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম। তিনি গত রবিবার একটি ফরাসি সামরিক বিমানে করে দেশ ত্যাগ করেন। জানা গেছে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে আলোচনার পর এ যাত্রা সম্পন্ন হয়। ফরাসি সেনাবাহিনীর কাসা বিমানটি মাদাগাস্কারের সান্ত মেরি বিমানবন্দর থেকে রাজোয়েলিনাকে নিয়ে যায়।

প্রেসিডেন্ট রাজোয়েলিনা অভিশংসন ভোটের নিন্দা জানিয়ে এক বিবৃতিতে বলেন, “জাতীয় পরিষদ ভেঙে দেওয়ার পরও এই সভা আয়োজন করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক।”

মাদাগাস্কারে গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়। দুর্নীতি, প্রশাসনিক ব্যর্থতা, খাদ্যসংকট ও মৌলিক সেবার ঘাটতি নিয়ে ক্ষুব্ধ জনগণ রাজপথে নেমে আসে। পরে এই আন্দোলন ‘জেনারেশন জি’ বা জেন-জি আন্দোলন নামে পরিচিতি পায়। তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে সংগঠিত এ আন্দোলন দ্রুত রাজোয়েলিনার সরকারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর বিদ্রোহে রূপ নেয়।

রাজধানী আন্তানানারিভোসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সেনাবাহিনীর একাংশ সরকারবিরোধী অবস্থান নেওয়ার পরই পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে ওঠে, যা শেষ পর্যন্ত সামরিক অভ্যুত্থানে রূপ নেয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মাদাগাস্কারের সাম্প্রতিক এই সংকট আফ্রিকার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। দেশটিতে এর আগে ২০০৯ সালেও এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাজোয়েলিনা ক্ষমতায় এসেছিলেন।

বর্তমানে সেনাবাহিনী দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছে, তবে আন্তর্জাতিক মহল এখনো ঘটনাটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে “অভ্যুত্থান” হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ইসরায়েলি কারাগার থেকে মুক্ত আবদুল্লাহ আবু রাফে: ‘আমরা ছিলাম কসাইখানায়’

ইসরায়েলের ওফার কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া ফিলিস্তিনি নাগরিক আবদুল্লাহ আবু রাফে নিজের বেঁচে ফেরার অভিজ্ঞতাকে ‘দুর্দান্ত অনুভূতি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন,

“আমরা ছিলাম কসাইখানায়, দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেটির নাম ছিল ওফার কারাগার।”

সোমবার (১৩ অক্টোবর) মুক্তির পর তিনি আরও বলেন, এখনো অনেক তরুণ ওই কারাগারে বন্দী রয়েছেন। সেখানে জীবনযাপনের পরিবেশ ছিল নরকের মতো—না ছিল বিছানা, না ছিল পর্যাপ্ত খাবার। প্রতিটি দিন পার করতে হতো ভয়াবহ কষ্টের মধ্যে।

ইসরায়েলের কারা কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে বিভিন্ন সময় আটক ১ হাজার ৯৬৮ জন ফিলিস্তিনি বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তারা জানিয়েছে, বন্দীদের ইতোমধ্যে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে।

মুক্তিপ্রাপ্ত আরেক বন্দী ইয়াসিন আবু আমরা বলেন,

“ইসরায়েলি কারাগারের অবস্থা অত্যন্ত ভয়াবহ। খাবার, পানি, নির্যাতন—সব কিছুতেই ছিল সীমাহীন কষ্ট। আমাকে চার দিন কোনো খাবার দেওয়া হয়নি। এখানে এসে যখন দুটি মিষ্টি পেয়েছি, তখন বুঝেছি আমি সত্যিই মুক্ত।”

আরেক বন্দী সাঈদ শুবাইর বলেন,

“এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। শিকলবিহীন সূর্যের আলো দেখা এক অবর্ণনীয় অভিজ্ঞতা। আমার হাত এখন শৃঙ্খলমুক্ত। স্বাধীনতা অমূল্য।”

ইসরায়েল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি প্রায় ২৫০ জন আজীবন ও দীর্ঘমেয়াদী সাজাপ্রাপ্ত বন্দী এবং ১ হাজার ৭১৮ জন গাজা যুদ্ধের সময় আটককৃত ফিলিস্তিনি নাগরিককে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘ এই দ্বিতীয় দলটিকে পূর্বে ‘বলপূর্বক নিখোঁজ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছিল।

মুক্তি পাওয়া বন্দীদের চোখে অশ্রু, মুখে হাসি—তারা বলছেন, এই মুক্তি কেবল কারামুক্তি নয়, এটি এক জাতির বেঁচে থাকার প্রতীক।


সূত্র : আল-জাজিরা

(আল-আমিন)

 




তালেবান-পাকিস্তান সীমান্ত সংঘাতে নতুন কৌশলগত বাস্তবতা

দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে তালেবান শাসিত আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের চলমান সীমান্ত সংঘাত। শনিবার গভীর রাতে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষ রবিবার সকাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এ ঘটনায় দুই দেশের সম্পর্ক আবারও উত্তেজনায় রূপ নিয়েছে, যা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

পাকিস্তানের সেনা মুখপাত্র আইএসপিআর জানায়, আফগান ভূখণ্ড থেকে তালেবান এবং তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)—যাদের তারা ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ বলে অভিহিত করেছে—তাদের হামলার জবাবে পাকিস্তানি বাহিনী পাল্টা অভিযান চালায়। আইএসপিআর দাবি করেছে, এতে ২০০-রও বেশি সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। পাল্টা হামলায় আফগান সীমান্তের একাধিক ঘাঁটি, প্রশিক্ষণ ক্যাম্প ও অবস্থান লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়।

অন্যদিকে, আফগান সরকারের দাবি—তাদের পাল্টা হামলায় ৫৮ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে। তবে পাকিস্তান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি। সৌদি আরব ও কাতারের অনুরোধে আফগানিস্তান আপাতত অভিযান “অস্থায়ীভাবে স্থগিত” রেখেছে বলে জানিয়েছেন আফগান ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি।

মুত্তাকি বলেন, “আমরা আমাদের সামরিক লক্ষ্য অর্জন করেছি। তবে কাতার ও সৌদি আরবের আহ্বানে আপাতত সংঘাত বন্ধ রেখেছি।” তিনি আরও দাবি করেন, “আমাদের ভূখণ্ডে কোনো পাকিস্তানি তালেবান ঘাঁটি নেই; বরং অতীতে পাকিস্তানই এই গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দিয়েছে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংঘাত কেবল সামরিক বিষয় নয়, বরং কৌশলগত পুনর্গঠনের প্রতিফলন। তালেবান সরকার এখন পাকিস্তানের ছায়া থেকে বেরিয়ে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি গঠনের পথে হাঁটছে। তারা চীন, কাতার, ইরান এবং সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছে—যা পাকিস্তানের ঐতিহ্যবাহী প্রভাববলয়ে বড় পরিবর্তন নির্দেশ করছে।

এদিকে ভারতের সঙ্গে আফগানিস্তানের সম্পর্কও দিন দিন উষ্ণ হচ্ছে। সম্প্রতি আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির নয়াদিল্লি সফর দক্ষিণ এশিয়ার নতুন কূটনৈতিক বাস্তবতার ইঙ্গিত দিয়েছে। নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে তিনি আফগানিস্তানের খনিজ, কৃষি, স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান জানান। এছাড়া ইরানের চাবাহার বন্দর ও আফগান-ভারত ওয়াঘা সীমান্ত পুনরায় চালুর বিষয়েও আলোচনা করেন।

তালেবান সরকারের এই অবস্থান পাকিস্তানের জন্য কৌশলগত উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আফগানিস্তানের ওপর পাকিস্তানের “কৌশলগত গভীরতা” নীতির অবসান ঘটছে। একসময় আফগান ভূখণ্ডকে ভারতের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাফার হিসেবে ব্যবহার করলেও এখন কাবুল সেই অবস্থান থেকে সরে এসে ভারতমুখী কূটনীতিতে মনোযোগ দিচ্ছে।

২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রথমে ভারত কৌশলগত দূরত্ব বজায় রাখলেও এখন তারা বাস্তববাদী কূটনীতি অবলম্বন করছে। মানবিক সহায়তা, খাদ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা পুনরায় শুরু করেছে নয়াদিল্লি। এবার তালেবান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর সেই সম্পর্কের রাজনৈতিক স্বীকৃতি ও আস্থার সূচনা করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তালেবানও বুঝতে পেরেছে, আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক অপরিহার্য। কাশ্মীর ইস্যুতে তাদের সাম্প্রতিক নীরবতা সেই নতুন বাস্তবতারই প্রতিফলন।

এই ভূরাজনৈতিক পুনর্গঠনের ফলে পাকিস্তান একদিকে নিরাপত্তাজনিত অস্বস্তিতে পড়েছে, অন্যদিকে ভারত ও চীনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে কৌশলগতভাবে দুর্বল অবস্থানে চলে যাচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্য এশিয়ার প্রান্তে আফগানিস্তানের এই অবস্থান ভবিষ্যতে পুরো অঞ্চলের কৌশলগত ভারসাম্য পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম