যেসব ‘শর্তে’ ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক চাইছে দিল্লি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি গত সোমবার ঢাকায় এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে যোগ দিতে গিয়েছিলেন এমন এক আবহে, যা দিল্লির জন্য খুব একটা স্বস্তির ছিল বলা যাবে না। বিগত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারত সরকারের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে এসে যেরকম অভ্যর্থনা ও বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব দেখতে অভ্যস্ত ছিলেন, বিক্রম মিশ্রি যে তার ছিটেফোঁটাও পাননি, তা বলার অপেক্ষাই রাখে না!

ভারত ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কও গত কয়েক দিনে নানা কারণে তলানিতে ঠেকেছিল, তারও প্রতিফলন সেই বৈঠকে অবশ্যই পড়েছিল।

পররাষ্ট্র সচিব ঢাকায় গিয়ে কথাবার্তা বলে এলেন, তাদের উপদেষ্টাদের সঙ্গে দেখা করে এলেন– তার মানে সব আবার আগের মতো ঠিকঠাক চলছে এটা ধরে নেওয়ার কোনও কারণ নেই। বরং সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে কী কী করা দরকার, এই আলোচনার মূল ফোকাসটা কিন্তু ছিল সেখানেই’, বাংলা ট্রিবিউনকে বলছিলেন দিল্লির সাউথ ব্লকের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা।

তিনি আরও জানাচ্ছেন, দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে একটা সুস্থ ‘ওয়ার্কিং রিলেশনশিপ’ বা কাজের সম্পর্ক রাখার জন্য কী কী পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি, তা নিয়ে বৈঠকে দু’পক্ষের মধ্যে খোলাখুলি আলোচনা হয়েছে।

বস্তুত, ঢাকায় পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের ওই বৈঠক আদৌ হবে কিনা, অনিশ্চয়তা ছিল তা নিয়েও। বাংলাদেশ বৈঠকের সব প্রস্তুতি সেরে রাখলেও দ্বিধা ছিল ভারতের দিক থেকেই। কিন্তু ভারত প্রায় শেষ মুহূর্তে বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা নিশ্চিত করে– কারণ দিল্লি মনে করেছিল এই প্ল্যাটফর্মকে কাজে লাগিয়ে ঢাকাকে কিছু জরুরি বার্তা দেওয়াটা একান্ত প্রয়োজন।

বাংলাদেশ যেমন ভারতের কাছ থেকে তাদের প্রত্যাশা কী, সেটা তুলে ধরেছে– তেমনই ভারতও জানিয়েছে সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে তাদেরও কিছু ‘কন্ডিশন’ বা শর্ত আছে। ভারতের বক্তব্য ছিল— বাংলাদেশের সঙ্গে বিগত বহু বছর ধরে তারা বিভিন্ন খাতে যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে, তা রাতারাতি বন্ধ করাটা কোনও কাজের কথা নয়। কিন্তু বাংলাদেশের নতুন বাস্তবতায় সেই সম্পর্কটা বজায় রাখতে হলে ভারতেরও কিছু দাবি-দাওয়া বা শর্ত আছে!

মনে রাখতে হবে, ঢাকার বৈঠকের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মো. জসীম উদ্দিন সংবাদ সম্মেলন করলেও ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি কিন্তু সাংবাদিকদের কোনও প্রশ্ন নেননি। দিল্লিতে পর্যবেক্ষকরা ধারণা করছেন, সম্পর্ক এখনও স্বাভাবিক হয়নি এই বার্তাটা দিতেই ভারত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে রাজি হয়নি; বরং তাদের দেওয়া সব শর্ত পূরণ হলে তবেই আবার পুরোনো প্রটোকলে ফেরা সম্ভব– এটাই বোঝাতে চেয়েছে!

এখন প্রশ্ন হলো, ভারতের দেওয়া এই শর্তগুলো কী কী?

দিল্লিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, সাবেক ও বর্তমান কূটনীতিবিদদের সঙ্গে কথা বলে বাংলা ট্রিবিউন জানতে পেরেছে, ভারতের পক্ষ থেকে জোর দেওয়া হয়েছে প্রধানত তিনটি শর্তের ওপর। সেগুলো কী, এই প্রতিবেদনে সেটাই তুলে ধরা হলো।

১. ‘এনগেজমেন্ট হবে লিমিটেড’

ভারত একটা জিনিস ঢাকার কাছে স্পষ্ট করে দিয়েছে, তারা বাংলাদেশের একটি ‘অন্তর্বর্তী সরকারের’ সঙ্গে কখনোই ‘ফুল এনগেজমেন্টে’ যাবে না। দিল্লির বক্তব্য হলো, ভারতে একটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় থাকলেও বাংলাদেশে ক্ষমতাসীনদের সাংবিধানিক ভিত্তি বা নির্দিষ্ট ম্যান্ডেট কী, সেটাই পরিষ্কার নয়!

আর যদি কিছু থেকেও থাকে, তাহলে ভারতের দৃষ্টিতে তাদের মূল দায়িত্ব সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ প্রশস্ত করা– এর বেশি কিছু নয়।

অন্যভাবে বললে, নরেন্দ্র মোদি সরকার মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারের সঙ্গে এমন কোনও আলোচনায় যাবে না, যেখানে দ্বিপাক্ষিক কোনও ইস্যুতে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রশ্ন আসবে। ভারত ঢাকাকে জানিয়ে দিয়েছে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের সঙ্গেই নেওয়া হবে– তার আগে নয়।

আর যতদিন না এটা হচ্ছে ততদিন বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ বা আমলা পর্যায়ের বৈঠক হতে পারে, কিন্তু মন্ত্রীরা কোনও গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা বা চুক্তি করবেন না। তবে যেসব চুক্তি আগে থেকেই বহাল আছে সেগুলো যেমন চলছিল চলবে।

সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা উদাহরণ দিয়ে বলছিলেন, ‘দুই দেশের সম্পর্ক যখন একেবারেই ভালো নয়, তখনও কিন্তু নভেম্বরের মাঝামাঝি দুই দেশের মধ্যে গঙ্গা চুক্তির নবায়ন নিয়ে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের সফল আলোচনা হয়েছে, নথিপত্র বিনিময় হয়েছে! কিন্তু চুক্তির নবায়ন নিয়ে যা-ই সিদ্ধান্ত হোক, সেটা কিন্তু সে দেশের পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেই নেওয়া হবে।’

সুতরাং, ভারতের দিক থেকে অন্যতম প্রধান শর্ত হলো, আপাতত দুই সরকারের মধ্যে এনগেজমেন্টের পরিধি ও পরিসর ‘সীমিত’ থাকবে, এই বাস্তবতা ঢাকাকে মেনে নিয়েই চলতে হবে।

২. হিন্দুদের সুরক্ষা, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের সুবিচার

ভারতের দিক থেকে এই দ্বিতীয় শর্তটাই সবচেয়ে জোরালোভাবে উপস্থাপিত করা হয়েছে– আর তা হলো যেকোনও মূল্যে বাংলাদেশে হিন্দুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব এই বার্তাই ঢাকাকে দিয়েছেন যে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের ঘটনাগুলো যদি অন্তর্বর্তী সরকার বেমালুম অস্বীকার করতে থাকে, তাহলে তা দিল্লির কাছে কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য হবে না।

ভারতের সংবাদমাধ্যম যে এই ঘটনাগুলো বেশ ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে বা অতিরঞ্জিত করে পেশ করছে— তা অবশ্য তিনিও প্রকারান্তরে মেনে নিয়েছেন, কিন্তু তার মানে এরকম কোনও ঘটনাই ঘটছে না বলে ঢাকা যে পাল্টা দাবি করছে, সেটিও দিল্লি মানতে পারছে না।

প্রসঙ্গত, বিক্রম মিশ্রির সফরের অব্যবহিত পরেই বাংলাদেশে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে সে দেশে সংখ্যালঘুদের ওপরে ঘটা অন্তত ৮৮টি নির্যাতনের ঘটনার একটি তালিকাও পেশ করা হয়েছে, যেটিকে ভারত ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবেই দেখছে।

এছাড়া বৈঠকে অবধারিতভাবে এসেছে সনাতন জাগরণ মঞ্চের নেতা তথা ইসকন সন্ন্যাসী (সাবেক) চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারের প্রসঙ্গ।

ভারত জানিয়েছে, যে দেশদ্রোহের অভিযোগে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে আটক করা হয়েছে তা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় হতে পারে, কিন্তু তাকে আইনি সহায়তা দেওয়া হবে না, জামিন অস্বীকার করা হবে, অথবা তার হয়ে কোনও আইনজীবীও দাঁড়াবেন না, এটা মেনে নেওয়া যায় না। একজন হিন্দু সন্ন্যাসীকে আটকের ঘটনা যে ভারতেও হিন্দুদের মধ্যে প্রবল বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে, ঢাকাকে জানানো হয়েছে সে কথাও।

ভারতের সঙ্গে ‘স্বাভাবিক সম্পর্ক’ চাইলে এই ইস্যুগুলোকে যে অবিলম্বে ‘অ্যাড্রেস’ করতে হবে, এটা পররাষ্ট্র সচিব পরিষ্কার করে দিয়েছেন।

ভারতের সাবেক কূটনীতিবিদ ও ঢাকায় ভারতের সাবেক হাইকমিশনার ভিনা সিক্রি বলছিলেন, ‘আমি যতদূর খবর পেয়েছি, বিক্রম (মিশ্রি) ঢাকায় গিয়ে বলে এসেছে—আমরাও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চাই, অসমাপ্ত প্রকল্পগুলো শেষ করতে চাই।’

‘কিন্তু এটা তখনই সম্ভব হবে যখন আপনারা সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের ঘটনায় জিরো টলারেন্স দেখাতে পারবেন, নচেৎ নয়!’, জানাচ্ছেন তিনি।

৩. শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ উত্থাপন নয়

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কে বিগত কয়েক মাস ধরে একটি চরম অস্বস্তির বিষয় হয়ে রয়েছে ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার উপস্থিতি এবং সেখান থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া তার নানা রাজনৈতিক বিবৃতি, ভাষণ বা শলাপরামর্শ।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার বারবার বলে এসেছে, গত ৫ আগস্ট পতিত স্বৈরাচারকে আশ্রয় দিয়ে ও তাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়ে ভারত আসলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে বিষিয়ে তুলছে এবং দিল্লির উচিত হবে তার রাশ টেনে ধরা!

এখানে ভারত পাল্টা যুক্তি দিয়েছে, শেখ হাসিনা ভারতের অতিথি এবং একটা বিশেষ পরিস্থিতিতে তিনি ভারতে সাময়িকভাবে আসার অনুমতি চেয়েছিলেন, যা মঞ্জুর করা হয়েছে। তিনি ভারতে গৃহবন্দিও নন, কোনও রাজনৈতিক বন্দিও নন– কাজেই বাইরের জগতের সঙ্গে তার সব সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করারও প্রশ্ন ওঠে না।

এখন সেটাকে কাজে লাগিয়ে তিনি যদি দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন, তাহলে ভারতের সেখানে সত্যিই করার কিছু থাকতে পারে না। কিন্তু তার মানে এই নয় যে তার সব বক্তব্য বা কাজকর্মেও ভারতের সমর্থন আছে।

প্রসঙ্গত, ঢাকা থেকে ফেরার পর দিল্লিতে পার্লামেন্টারি স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠকে বিক্রম মিশ্রিও ভারতের এমপিদের কাছে ঠিক একই বক্তব্য তুলে ধরেছেন।

এ প্রসঙ্গে ভারত আর একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টও তুলে ধরেছে– তা হলো শেখ হাসিনা কিন্তু ভারতে এসেছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রচ্ছন্ন সমর্থনেই। তাকে ভারতে বহন করে নিয়ে এসেছিল বাংলাদেশের একটি মিলিটারি এয়ারক্র্যাফট, তার জন্য ভারতের কাছে অনুমতিও চাওয়া হয়েছিল সেনাবাহিনীর তরফে।

কাজেই শেখ হাসিনার দেশত্যাগ যে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর অনুমতি সাপেক্ষেই হয়েছিল এবং তারপর থেকে সে দেশের সেনাবাহিনীর নেতৃত্বেও কোনও পরিবর্তন হয়নি– এই বিষয়টিও দিল্লির পক্ষ থেকে তুলে ধরা হয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি শীর্ষস্থানীয় সূত্র জানাচ্ছেন, শেখ হাসিনাকে আতিথেয়তা দেওয়াটা যে ভারতের একটা ‘কমপালশন’– এটা কোনও প্ররোচনামূলক পদক্ষেপ নয়– সেই বাস্তবতাটা উপলব্ধি করতে ঢাকাকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এটাও বলা হয়েছে, সুস্থ ও স্বাভাবিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্বার্থে শেখ হাসিনার প্রসঙ্গটি আলোচনার বাইরে রাখলেই উভয় পক্ষের জন্য তা মঙ্গলজনক হবে বলে ভারত মনে করে।

এখন ভারতের দেওয়া এই ‘শর্ত’গুলো বাংলাদেশ কতটা মানতে রাজি হবে সেটা আগামী দিনে বোঝা যাবে। ঢাকার পক্ষ থেকেও যেসব প্রত্যাশা বা দাবিদাওয়ার কথা বলা হয়েছে, সেগুলো নিয়ে ভারত কী মনোভাব নেয়, সেটা বুঝতেও কিছুটা সময় লাগবে।

কিন্তু ঢাকা-দিল্লির সম্পর্কের রূপরেখায় উন্নতির আভাস দেখা যাবে, নাকি তলানিতে হাবুডুবু খাবে, তা নির্ভর করবে এই পারস্পরিক শর্তগুলো উভয়পক্ষ মানতে রাজি হয় কিনা, তার ওপর!




সোমালিয়া ও ইথিওপিয়ার মধ্যে এরদোয়ানের ‘ঐতিহাসিক পুনর্মিলন’ ঘোষণা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মোহাম্মদ এবং ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদের ঐতিহাসিক পুনর্মিলনের প্রশংসা করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান। বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) রাতে আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনার মাধ্যমে সোমালিয়ার বিচ্ছিন্ন অঞ্চল সোমালিল্যান্ড নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ অবসানের সমঝোতা হয়েছে দুই দেশের মধ্যে। তুরস্কের সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড এ খবর জানিয়েছে।

শান্তি আলোচনা শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এরদোয়ান জানান, উভয় পক্ষই নিজেদের মধ্যকার বিরোধ মীমাংসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শান্তি এবং সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি নতুন সূচনার প্রথম পদক্ষেপ নিয়েছি আমরা।

তুরস্কের লক্ষ্য হলো আফ্রিকার এই অঞ্চলটিতে শান্তি এবং স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা। এরদোয়ান আরও বলেন, সোমালিয়া ও ইথিওপিয়ার যৌথ বিবৃতি পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে সহযোগিতা ও সমৃদ্ধির একটি দৃঢ় ভিত্তি স্থাপন করবে।

সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মোহাম্মদ তুরস্কের উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, তার দেশ সবসময় ইথিওপিয়ার ‘সত্যিকারের বন্ধু’ ছিল এবং থাকবে।

ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ তুরস্কের মধ্যস্থতায় হওয়া আলোচনাকে ‘পারিবারিক সংলাপ’ বলে অভিহিত করেছেন এবং এর ফলে উভয় দেশের জন্য ইতিবাচক ফলাফল এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন।

এই সমঝোতা ইথিওপিয়া ও সোমালিয়ার মধ্যে নতুন সহযোগিতার পথ তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

১৯৯০-এর দশকে ইরিত্রিয়ার স্বাধীনতা যুদ্ধের (১৯৬১-১৯৯১) পর লোহিত সাগরের বন্দরগুলো হারায় ইথিওপিয়া। ১৯৯১ সালে ইরিত্রিয়া স্বাধীন হওয়ার পর ইথিওপিয়া সমুদ্রপথে সরাসরি প্রবেশাধিকার হারায়। ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে সোমালিল্যান্ডের লোহিত সাগরের বন্দর বেরবেরা ব্যবহারের অনুমতি পায় ইথিওপিয়া। এরপর থেকেই দু’দেশের মধ্যে সম্পর্ক খারাপ হতে থাকে।

ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ তুরস্কের মধ্যস্থতায় হওয়া আলোচনাকে ‘পারিবারিক সংলাপ’ বলে অভিহিত করেছেন এবং এর ফলে উভয় দেশের জন্য ইতিবাচক ফলাফল এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন।

এই সমঝোতা ইথিওপিয়া ও সোমালিয়ার মধ্যে নতুন সহযোগিতার পথ তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

১৯৯০-এর দশকে ইরিত্রিয়ার স্বাধীনতা যুদ্ধের (১৯৬১-১৯৯১) পর লোহিত সাগরের বন্দরগুলো হারায় ইথিওপিয়া। ১৯৯১ সালে ইরিত্রিয়া স্বাধীন হওয়ার পর ইথিওপিয়া সমুদ্রপথে সরাসরি প্রবেশাধিকার হারায়। ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে সোমালিল্যান্ডের লোহিত সাগরের বন্দর বেরবেরা ব্যবহারের অনুমতি পায় ইথিওপিয়া। এরপর থেকেই দু’দেশের মধ্যে সম্পর্ক খারাপ হতে থাকে।




দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন: হাসিনার কোনো বক্তব্যকে সমর্থন করে না ভারত

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি বলেছেন, ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোনো বক্তব্যকেই ভারত সমর্থন করে না।

আজ দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের নেতৃত্বে ভারতের পররাষ্ট্র বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ব্রিফিংয়ে বুধবার পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি বলেছেন— বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনাকে ভারত সমর্থন করে না এবং এটি (হাসিনার বক্তব্য) বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে খুবই ছোট বা তুচ্ছ বিষয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কেবল একটি একক রাজনৈতিক দল বা সরকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় এবং বাংলাদেশের জনগণের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছে ভারত।

সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি আলোচনার জন্য বাংলাদেশ সফর করেন। তার ঢাকা সফর থেকে ফেরার দুই দিন পর তিনি দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে ব্রিফ করেন। বুধবার নয়াদিল্লির সংসদ ভবনের অ্যানেক্স বিল্ডিংয়ে আড়াই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা ব্রিফে দেশটির ২১ থেকে ২২ সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।




পররাষ্ট্রসচিবের বাংলাদেশ সফর নিয়ে যা জানালো ভারতীয় হাইকমিশন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ভারতের পররাষ্ট্র সচিব শ্রী বিক্রম মিশ্রির বাংলাদেশ সফরের পর এ নিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন। বিবৃতিতে ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের বাংলাদেশ সফরের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে বৈঠকের ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে বৈঠকের ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি।

সফরের দুদিন পর বুধবার (১১ ডিসেম্বর) ভারতীয় হাইকমিশনের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি এক সরকারি সফরে ঢাকায় গিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব জসিম উদ্দিনের সঙ্গেও বৈঠক করেন।

এসব বৈঠকে পররাষ্ট্রসচিব মিশ্রি একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের প্রতি ভারতের সমর্থনের কথা তুলে ধরেন। পারস্পরিক আস্থা ও শ্রদ্ধা এবং একে অপরের উদ্বেগ ও স্বার্থের প্রতি পারস্পরিক সংবেদনশীলতার ভিত্তিতে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি ইতিবাচক ও গঠনমূলক সম্পর্ক গড়ে তুলতে ভারতের ইচ্ছার কথাও পুনরায় ঘোষণা করেন তিনি।

বিবৃতি মতে, ভারতীয় পররাষ্ট্রসচিব জোর দিয়ে বলেছেন, জনগণই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের প্রধান স্টেকহোল্ডার এবং উল্লেখ করেছেন যে, আন্তঃযোগাযোগ, বাণিজ্য, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের উন্নয়ন সহযোগিতা ও বহুমুখী সম্পৃক্ততা, সমস্ত কিছু বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণের জন্যই।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, পররাষ্ট্রসচিব কিছু সাম্প্রতিক ঘটনা ও সমস্যা নিয়েও আলোচনা করেছেন এবং ভারতের উদ্বেগ, বিশেষ করে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন। তিনি সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও কূটনৈতিক স্থাপনার ওপর হামলাকে দুঃখজনক ঘটনা বলেও উত্থাপন করেন।

ফরেন অফিস কনসাল্টেশনস তথা পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠকে উভয়পক্ষ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিষয়ক, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য, বাণিজ্য ও সংযোগ, পানি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা, উন্নয়ন সহযোগিতা, কনস্যুলার, সাংস্কৃতিক এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক জোরদারসহ বিভিন্ন বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা করেছেন।

উভয় পররাষ্ট্রসচিব উপ-আঞ্চলিক, আঞ্চলিক এবং বহুপাক্ষিক বিষয়েও মতবিনিময় করেছেন এবং বিমসটেক কাঠামোর অধীনে আঞ্চলিক অখণ্ডতা এগিয়ে নিতে পরামর্শ ও সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হয়েছেন।

আরও বলা হয়, পররাষ্ট্র সচিবের এই সফর উদ্বেগ দূর করার পাশাপাশি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে সহায়ক হবে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চলমান টানাপোড়েনের মধ্যে গত সোমবার (৯ ডিসেম্বর) ঢাকা সফরে আসেন ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি। দিনব্যাপী ব্যস্ত সময় কাটিয়ে রাতেই ঢাকা ত্যাগ করেন তিনি।




সিরিয়ায় ইসরাইলি হামলায় ধ্বংস নৌবহর

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: সিরিয়ার নৌবহরে হামলার কথা নিশ্চিত করেছে ইসরাইল। বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর সিরিয়ার সামরিক স্থাপনাগুলোকে অকার্যকর করার যে পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটি, এটি তারই অংশ।

এক বিবৃতিতে ইসরাইল ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ) বলেছে, সোমবার রাতে আল-বাইদা ও লাতাকিয়া বন্দরে তারা হামলা করেছে, যেখানে সিরিয়ার নৌ বাহিনীর ১৫টি জাহাজ নোঙ্গর করা ছিল।

লাতাকিয়া বন্দরে হামলার ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, বন্দরের একাংশ এবং জাহাজগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

আইডিএফ আরো জানিয়েছে, তাদের যুদ্ধবিমানগুলো সিরিয়াজুড়ে সাড়ে তিন শ’র বেশি বিমান হামলা করেছে। অন্যদিকে এর স্থলবাহিনী সিরিয়া ও দখলীকৃত গোলান মালভূমির মধ্যবর্তী বাফার জোনের সাময়িক নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।

এর আগে যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস (এসওএইচআর) বলেছে, রোববার সিরিয়ান বিদ্রোহীদের হাত আসাদ সরকারের উৎখাতের পর থেকে এ পর্যন্ত ৩১০টি হামলার তথ্য রেকর্ড করেছে।

ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎয বলেছেন, ‘ইসরাইল রাষ্ট্রের প্রতি কৌশলগত যেসব হুমকি আছে সেগুলো ধ্বংসই তাদের লক্ষ্য।’

তিনি সিরিয়ার নৌবহর ধ্বংস করাকে ‘বিশাল সাফল্য’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

আইডিএফ অবশ্য আরো বিস্তৃত হামলার তথ্য দিয়েছে। এর মধ্যে এয়ারফিল্ড, সামরিক যানবাহন, বিমান বিধ্বংসী অস্ত্র এবং অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে। এগুলোর কিছু সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে। আর কিছু হোমস, তারতাস ও পালমিরায়।

এর বাইরে গোডাউন, গোলাবারুদের মজুত এবং কয়েক ডজন সাগর থেকে সাগরে উৎক্ষেপনযোগ্যও ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাও ইসরাইলের লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল।




চরম শত্রুকে এবার পরম মিত্র বানাতে চায় রাশিয়া

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: নিজেদের স্বার্থেই একসময়কার শত্রুকে বহু আগেই মিত্রতে পরিণত করেছে রাশিয়া। এবার যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে ফেলতে সেই শত্রুকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতিও দিতে চলছেন পুতিন। মনে করা হচ্ছে এতে করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অনেকটাই চাপে পড়বে মার্কিন প্রশাসন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) রুশ সংসদের আফগানিস্তানে ক্ষমতাসীন তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দিতে একটি আইনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন আইনপ্রণেতারা। এতে মস্কোর সন্ত্রাসী তালিকা থেকে গোষ্ঠীটিকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, রুশ সংসদের নিম্নকক্ষ ডুমাতে এ-সংক্রান্ত আইন পাসের পক্ষে মত দেওয়া হয়েছে। ২০২১ সালে ক্ষমতায় আসার পর এখন পর্যন্ত বিশ্বের কোনো দেশই তালেবান সরকারকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি। তবে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকেই গোষ্ঠীটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রক্ষা করে চলছে চীন ও রাশিয়া। এমনকি তাদের সঙ্গে নিয়মিত বাণিজ্যও করে যাচ্ছে বেইজিং ও মস্কো। গত জুলাইয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে তালেবানকে মিত্র বলে উল্লেখ করেছিলেন।

বর্তমানে নিজ নিরাপত্তার স্বার্থে আফগানিস্তানের সঙ্গে মিত্রতা করতে চাইলেও দেশটিতে রক্তক্ষয়ী ইতিহাস রয়েছে রাশিয়ার। ১৯৭৯ সালের ডিসেম্বরে দেশটিতে হামলা চালায় তৎকালীন সোভিয়েত বাহিনী। সে সময় মার্কিন সমর্থনপুষ্ঠ তালেবান যোদ্ধাদের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ১৯৮৯ সালে সোভিয়েত নেতা মিখাইল গর্বাচেভ আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নেন। এ যুদ্ধে প্রায় ১৫ হাজার সোভিয়েত সেনার মৃত্যু হয়।




মন্ত্রণালয়ে বিস্ফোরণে আফগানিস্তানের শরণার্থী মন্ত্রী নিহত

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন দেশটির শরণার্থীবিষয়ক মন্ত্রী খলিল উর-রহমান হাক্কানি। কাবুলে শরণার্থীবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নিজ কার্যালয়ে বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছেন তিনি।

বুধবার কাবুলে শরণার্থীবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে বিস্ফোরণে মন্ত্রীর প্রাণহানির এই ঘটনা ঘটেছে বলে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন হাক্কানির ভাতিজা আনাস হাক্কানি।

নাম প্রকাশে অস্বীকৃতি জানিয়ে দেশটির সরকারি এক কর্মকর্তা ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, কাবুলে শরণার্থীবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে দুর্ভাগ্যজনক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে মন্ত্রী খলিল উর-রহমান হাক্কানিসহ তার কয়েকজন সহকর্মী নিহত হয়েছেন।




সিরিয়া সীমান্তে ১৯৭৪ সালের চুক্তি লঙ্ঘন করেছে ইসরাইল: জাতিসংঘ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনে সিরিয়ার সঙ্গে ১৯৭৪ সালের একটি বিচ্ছিন্নতা চুক্তি ভেঙে দিয়েছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক আইন ও চুক্তি লঙ্ঘনের দায়ে ইসরাইলকে অভিযুক্ত করেছে।

জেরুজালেমের দাবি, আসাদের শাসনের অবসানের পর ইসরাইলের দখলকৃত গোলান মালভূমিতে যে কোনও হুমকি মোকাবেলা করার উদ্দেশ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সিরিয়ার ভূখণ্ডের সীমান্তে ইসরাইলের অবস্থান সীমিত এবং অস্থায়ী ব্যবস্থা।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলকে অবহিত করা এক চিঠিতে, জাতিসংঘের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন জোর দিয়ে বলেছেন, সিরিয়ার সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে চলমান সংঘাতে হস্তক্ষেপ করছে না ইসরাইল। আমাদের কার্যক্রম শুধুমাত্র আমাদের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য।

ইসরাইল-সিরিয়া সীমান্তে ২৩৫ বর্গ-কিলোমিটারের বাফার জোনটি ১৯৭৪ সালে ইসরাইল এবং সিরিয়ার মধ্যে বিচ্ছিন্নকরণ চুক্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যা ইয়োম কিপপুর যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটায় এবং কয়েক দশক ধরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের দ্বারা পরিচালিত হয়েছে।

তবে ইসরাইল রোববার বলেছেন, আসাদ সরকারের পতনের সাথে, সিরিয়ায় শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত তারা চুক্তিটিকে বাতিল বলে মনে করেছে। নেতানিয়াহু সীমান্ত পরিদর্শনের সময় বলেন, ৫০ বছর আগের চুক্তিটির পতন হয়েছে।

নেতানিয়াহু জানান, সিরিয়ার সঙ্গে ১৯৭৪ সালের একটি বিচ্ছিন্নতা চুক্তি ভেঙে গিয়েছে। তাই তিনি বাফার জোন এবং কাছাকাছি কমান্ডিং অবস্থানগুলো দখল করার নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কোনো শত্রু শক্তিকে আমাদের সীমান্তে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে দেব না।’

এদিকে সিরিয়া সীমান্তের অভ্যন্তরে ইসরাইলের সামরিক অবস্থান ও দখলের নিন্দা জানিয়েছে কাতার, তুরস্ক এবং মিশর। বিপরীতে, ইসরাইলি নিরাপত্তা উদ্বেগের সাথে সহানুভূতিশীল হয়ে যুক্তরাজ্য এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপকভাবে এসব হামলায় সমর্থন করেছে।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, সিরিয়ার বর্তমান পরিস্থিতিকে শোষণ করা এবং তার সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করা ইসরাইলের পক্ষে অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করে দোহা।

তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এই পদক্ষেপের নিন্দা করেছে, সিরিয়ার আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি তার সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।’

আর মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা ইসরাইলের আরও সিরিয়ার ভূমি দখলের নিন্দা করে এবং বাফার জোনে আইডিএফের অবস্থানকে একটি নতুন বাস্তবতা প্রয়োগ করার প্রচেষ্টা হিসাবে দেখে। এছাড়া ইরান ইসরাইলের আগ্রাসী আচরণকে জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে।




সিরিয়ার সাথে সীমান্ত গেট খুলে দেবে তুরস্ক

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনের জন্য সিরিয়ার সাথে সংযুক্ত তুরস্কের ইয়ালদাগি সীমান্ত গেট খুলে দেয়ার কথা বলেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান।

দেশটির মন্ত্রিসভার এক বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন এরদোগান।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, লাখ লাখ সিরীয় শরণার্থীদের নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তনের জন্য ইয়ালদাগি সীমান্ত গেট খুলে দেয়া হবে।

এদিকে ৭ ডিসেম্বর তুরস্কের একে পার্টি গাজিয়ানটেপের ৮তম সাধারণ প্রাদেশিক কংগ্রেসে ভাষণে এরদোয়ান জোর দিয়ে বলেন, তুরস্কের ‘এমনকি কোনো দেশের নুড়ির দিকেও’ নজর নেই এবং ‘সিরিয়া শুধুই সিরীয়দের’।

এরদোয়ান বলেন, সিরিয়ার ইদলিবে বেসামরিকদের ওপর ক্রমবর্ধমান হামলা সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর সূত্রপাত করেছে।

তিনি গুরুত্ব দিয়ে বলেন, সিরিয়ায় একটি নতুন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বাস্তবতা রয়েছে, যা আঙ্কারা উপেক্ষা করতে পারে না। কেন না, সংঘাতবিধ্বস্ত দেশটির সাথে তাদের ৯১০ কিলোমিটার (৫৬৫ মাইল) সীমান্ত রয়েছে।




সিরিয়ার অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হলেন মোহাম্মদ আল-বশির

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করা বিদ্রোহীদের সমর্থনে সিরিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন মোহাম্মদ আল-বশির। মঙ্গলবার সিরিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে দেশটির অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া সংক্ষিপ্ত ভাষণে মোহাম্মাদ আল-বশির বলেছেন, ‘‘তিনি ১ মার্চ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী কর্তৃপক্ষের নেতৃত্ব দেবেন।’’ ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলেছে, সিরিয়ার তুলনামূলক কম পরিচিত এই বিদ্রোহী নেতার অতীতে দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ছোট এক অঞ্চলের প্রশাসন পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ওই অঞ্চলটি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে ছিল।

তিনি বলেছেন, ‘‘আজ আমরা মন্ত্রিসভার বৈঠক করেছি। বৈঠকে ইদলিব ও এর আশপাশের মুক্তিকালীন সরকারের একটি দল এবং ক্ষমতাচ্যুত সরকারে কাজ করা সদস্যরা অংশ নিয়েছিলেন।’’

মোহাম্মদ আল-বশির বলেন, ‘অন্তর্বতীকালীন সরকারের কাছে ফাইল ও প্রতিষ্ঠান হস্তান্তর’ শিরোনামে ওই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। টেলিভিশনে ভাষণ দেওয়ার সময় সিরিয়ার অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রীর পেছনে দুটি পতাকা দেখা যায়।

এক দশকের বেশি সময়ের গৃহযুদ্ধকালীন আসাদের বিরোধীদের ব্যবহার করা সবুজ, কালো এবং সাদা রঙের একটি পতাকা এবং কালো কালিতে কালিমা লেখা আরেকটি সাদা পতাকা ছিল। সাধারণত সুন্নি ইসলামপন্থী যোদ্ধারা সিরিয়ায় কালো কালিতে কালিমা লেখা সাদা পতাকা উড়ান।