ইরানে হামলা চালালে এবার যুদ্ধ শুরু হবে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ইসরায়েলকে কড়া হুঁশিয়ার বার্তা দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ইরানে ফের হামলা চালালে কী পরিণতি হতে পারে তা নিয়ে সতর্ক করেছেন আব্বাস। খবর ইরান ইন্টারন্যাশনালের।

চীনের সিসিটিভিতে আব্বাস বলেছেন, ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলার ব্যাপারে ইরান পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। আব্বাস গত ডিসেম্বরে এই সাক্ষাৎকার দিয়েছেন কিন্তু গত শনিবার এটি প্রকাশিত হয়েছে।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, আমি আশা করি ইসরায়েল এমন বেপরোয়া পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থাকবে। এমন পদক্ষেপ নিলে পুরো মাত্রার যুদ্ধ শুরু হবে।

এদিকে গত ৩ জানুয়ারি ‘ওয়াশিংটন টাইমস’ ও মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইরানের পরমাণু স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা করছেন। শুধু পরিকল্পনাই নয়, প্রস্তুতিও নিতে শুরু করেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার শুরু করলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে, মুলত তা নিয়েই প্রেসিডেন্ট বাইডেন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা জানালেও বৈঠকে এখন পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

তবে এরইমধ্যে ইরানের পরমাণু স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র বলে দাবি অ্যাক্সিওসের।




যুদ্ধবিরতি চুক্তির অধীনে ৩৪ বন্দিকে মুক্তি দিতে প্রস্তুত হামাস

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসকে নির্মূলের লক্ষ্য নিয়ে অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। টানা ১৫ মাস ধরে চলা এই অভিযানে বিপুল সংখ্যক বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় বিশ্বজুড়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে দেশটি।

অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবিও হয়ে উঠেছে বেশ জোরালো। এমন অবস্থায় ৩৪ বন্দিকে মুক্তি দিতে সম্মত হওয়ার কথা জানিয়েছে হামাস। যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে এই মুক্তির বিষয়ে সম্মত হয়েছে স্বাধীনতাকামী এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি।

সোমবার (৬ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।




পদত্যাগ করতে চলেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরেই দেশের রাজনীতিতে অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। বিরোধীরা তো বটেই, দলের মধ্যে থেকেই উঠছে পদত্যাগের দাবি। এমন অবস্থায় শোনা যাচ্ছে— পদত্যাগ করতে চলেছেন কানাডার এই প্রধানমন্ত্রী।

সেই ঘোষণাও আবার দিতে পারেন সোমবারের (৬ জানুয়ারি) মধ্যেই। বেশ কিছু সূত্রের বরাত দিয়ে কানাডার সংবাদমাধ্যম গ্লোব অ্যান্ড মেইলের রিপোর্টে এই তথ্য সামনে আনা হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

বার্তাসংস্থাটি বলছে, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো সোমবারের মধ্যে লিবারেল পার্টির নেতা হিসাবে পদত্যাগের কথা ঘোষণা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে, দ্য গ্লোব অ্যান্ড মেইল রোববার তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে।




গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত আরও ৮৮ ফিলিস্তিনি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বর্বর হামলায় আরও ৮৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এতে করে উপত্যকাটিতে নিহতের মোট সংখ্যা ৪৫ হাজার ৮০০ ছাড়িয়ে গেছে।

এছাড়া ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলা এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও লক্ষাধিক ফিলিস্তিনি। রোববার (৫ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের চলমান হামলায় কমপক্ষে আরও ৮৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এতে করে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৫ হাজার ৮০৫ জনে পৌঁছেছে বলে রোববার অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নিরলস এই হামলায় আরও অন্তত এক লাখ ৯ হাজার ৬৪ জন ব্যক্তিও আহত হয়েছেন।

মন্ত্রণালয় বলেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত আগ্রাসনে ৮৮ জন নিহত এবং আরও ২০৮ জন আহত হয়েছেন। অনেক মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং রাস্তায় আটকা পড়ে আছেন কারণ উদ্ধারকারীরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না।




জরুরি বৈঠকে বসছেন নেতানিয়াহু

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ও দখলদার ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতির আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে। কাতারের রাজধানী দোহায় এ নিয়ে দফায় দফায় আলোচনা হচ্ছে। এরমধ্যে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।

সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল রোববার (৫ জানুয়ারি) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় কয়েকজন মন্ত্রীকে নিয়ে বৈঠকে বসবেন নেতানিয়াহু। তবে ইসরায়েলি এক মন্ত্রীর সহযোগী সংবাদমাধ্যমটিকে নিশ্চিত করেননি বৈঠকটিতে যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি চুক্তি আলোচনাই হবে কি না।

বৈঠকে উগ্রপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গিভির এবং অর্থমন্ত্রী বাজায়েল স্মোরিচও থাকবেন। এ দুজন গাজায় হামাসের সঙ্গে যে কোনো ধরনের চুক্তির বিরোধীতা করছেন। তারা এখনো বলে আসছেন চুক্তিতে কোনো সমর্থন জানাবেন না। চুক্তি করলে নেতানিয়াহুর জোট থেকে বেরিয়ে সরকারের পতন ঘটানোর হুমকিও দিয়েছেন তারা।

তবে যেসব জিম্মি এখনো গাজায় আছেন তাদের পরিবারের সদস্যরা ইসরায়েলি সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করা শুরু করেছেন। গতকাল শনিবার রাতেও তারা বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ করেন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ও ইসলামিক জিহাদ ইসরায়েলের বিভিন্ন অবৈধ বসতিতে হামলা চালিয়ে প্রায় ২৫০ জনকে গাজায় জিম্মি হিসেবে নিয়ে যায়। এরমধ্যে ওই বছরের নভেম্বরে এক সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে শতাধিক জিম্মি মুক্তি পান। এরপর আর কোনো চুক্তি না করে সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে জিম্মিদের মুক্তির চেষ্টা চালিয়েছিল ইসরায়েলি সেনারা। কিন্তু তারা বেশিরভাগ জিম্মিকেই মৃত হিসেবে উদ্ধার করেছে।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল




উপহারের ফ্ল্যাট নিয়ে মিথ্যাচার, মন্ত্রিত্ব হারাতে পারেন টিউলিপ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: লন্ডনে একটি ফ্ল্যাট উপহার পাওয়া নিয়ে মিথ্যাচার করায় যুক্তরাজ্যের দুর্নীতি-বিরোধী মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিকের ওপর পদত্যাগের চাপ জোরাল হয়েছে। বহুল আলোচিত এই কেলেঙ্কারির ঘটনায় মন্ত্রিত্ব হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন টিউলিপ। রোববার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।<!--more-- ব্রিটিশ এই সংবাদমাধ্যমের সহযোগী দৈনিক দ্য মেইল অন সানডে টিউলিপ সিদ্দিকের কাছে একাধিকবার জানতে চায়, তাকে দুই শয্যাকক্ষের ফ্ল্যাটটি উপহার হিসোবে দেওয়া হয়েছে কি না। বর্তমানে যার বাজার মূল্য ৭ লাখ পাউন্ড; ফ্ল্যাটটি তার বাংলাদেশি স্বৈরশাসক খালা শেখ হাসিনার পরিচিত একজন ডেভেলপারের মালিকানাধীন। জবাবে উপহার হিসাবে ফ্ল্যাট পাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন টিউলিপ সিদ্দিক। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ফ্ল্যাটটি তার বাবা-মা তাকে কিনে দিয়েছেন। একই সঙ্গে দ্য মেইল অন সানডে পত্রিকার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন টিউলিপ।




হিলারি, মেসি কে ‘মেডেল অব ফ্রিডমে’ ভূষিত করলেন বাইডেন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিদায় নেওয়ার ১৬ দিন আগে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, ক্রীড়া, বিনোদনসহ বিভিন্ন জগতের ১৯ তারকাকে দেশটির অন্যতম সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘প্রেসিডেনশিয়াল মেডেল অব ফ্রিডমে’ ভূষিত করেছেন জো বাইডেন।

গতকাল শনিবার হোয়াইট হাউসের ইস্ট রুমে এক অনুষ্ঠানে সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সাবেক ফার্স্ট লেডি হিলারি ক্লিনটনসহ সম্মাননা পাওয়া ব্যক্তিরা কিংবা তাঁদের প্রতিনিধিদের বাইডেন এ পদক পরিয়ে দেন। রয়টার্সের খবর বলছে, সম্মাননা গ্রহণ করেছেন জনপ্রিয় ফুটবল তারকা লিওনেল মেসিও। তবে শিডিউলের কারণে তিনি সশরীর অনুষ্ঠানস্থলে আসতে পারেননি।

মার্কিন সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি ও অন্যান্য খাতে বিশেষ অবদান রাখা এই গুণীজনদের মধ্যে আরও রয়েছেন নিহত সিনেটর রবার্ট এফ কেনেডি, সাবেক সিনেটর মিট রমনির বাবা প্রয়াত জর্জ রমনি, উদারপন্থী রাজনীতিবিদ ও ধনকুবের জর্জ সরোস, গণমাধ্যমের নির্বাহী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আনা উইনটুর, সংগীতশিল্পী বোনো, অভিনেতা মাইকেল জে ফক্স, বাস্কেটবল কিংবদন্তি আরভিন জনসন (ম্যাজিক নামে পরিচিত), বিনিয়োগকারী ডেভিড এম রুবেনস্টেইন।

উল্লেখযোগ্য আরও আছেন সফটওয়্যার খাতের উদ্যোক্তা টিম গিল, ফ্যাশন ডিজাইনার রাফ লরেন, ‘দ্য সায়েন্স গাই’ নামে পরিচিত টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব বিল নাই, ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের প্রধান ও প্রতিষ্ঠাতা জোস আন্দ্রেস, প্রয়াত সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাশটন বি কার্টার, প্রাইমাটোলজিস্ট জেন গুডঅল, অধিকারকর্মী ফ্যানি লোউ হ্যামার, আমেরিকান ফিল্ম ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা জর্জ স্টিভেনস জুনিয়র ও অভিনেতা ডেনজেল ওয়াশিংটন।




ইসরায়েলের কাছে ৮০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির পরিকল্পনা বাইডেনের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ইসরায়েলের কাছে ৮০০ কোটি ডলার মূল্যের অস্ত্র বিক্রির পরিকল্পনার কথা কংগ্রেসকে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। দেশটির একজন কর্মকর্তা বিবিসিকে এ খবর নিশ্চিত করেছেন। অস্ত্রের এ চালান পাঠাতে হাউজ ও সিনেট কমিটির অনুমোদন প্রয়োজন হবে। এ চালানে থাকবে ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদসহ বিভিন্ন ধরনের সমরাস্ত্র।

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের হোয়াইট হাউজ ছাড়ার দুই সপ্তাহ আগে এমন পরিকল্পনার কথা জানানো হলো।

গাজায় বিপুল সংখ্যক বেসামরিক নাগরিক নিহত হবার কারণে ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা না দেবার যে আহ্বান সেটি ওয়াশিংটন প্রত্যাখ্যান করেছে। গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র দুই হাজার কোটি ডলার ফাইটার জেট ও অন্য সামরিক উপকরণ ইসরায়েলের কাছে বিক্রির একটি প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্র অনুমোদন করেছিল।

কর্মকর্তারা বলছেন, সবশেষ যেসব অস্ত্র পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে, তার মধ্যে আছে আকাশ থেকে আকাশে উৎক্ষেপনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র, আর্টিলারি গোলা এবং বোমা।

এসব অস্ত্র বিক্রির সঙ্গে জড়িত একটি সূত্র বিবিসিকে শনিবার জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট এটা পরিষ্কার করেছেন যে আন্তর্জাতিক আইন ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ইসরায়েলের নাগরিকদের আত্মরক্ষা এবং ইরান ও তার প্রক্সিদের আগ্রাসন প্রতিরোধের অধিকার আছে।

সূত্রটি আরও জানিয়েছে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা সরবরাহ আমরা অব্যাহত রাখবো।

জো বাইডেন প্রায়শই ইসরায়েলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনকে ‘অবিচ্ছেদ্য’ আখ্যায়িত করে থাকেন। যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ। এ ছাড়া দেশটি ইসরায়েলকে সবচেয়ে আধুনিক প্রযুক্তির সামরিক উপকরণ বানাতে সহায়তা করছে।

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইন্সটিটিউট (এসআইপিআরআই) এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সাল থেকে ২০২৩ সাল সময়ের মধ্যে ইসরায়েল যত অস্ত্র আমদানি করেছে তার ৬৯ ভাগই যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা হয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র দুই হাজার পাউন্ড ও ৫০০ পাউন্ড ওজনের বোমার একটি চালান স্থগিত করেছিল।

গাজার দক্ষিণাঞ্চলে রাফাহ শহরে ইসরায়েলের স্থল অভিযানের উদ্বেগ থেকে তখন এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছিল দেশটি। এতে ওয়াশিংটনের রিপাবলিকানরা তীব্র সমালোচনায় নেমে পড়েছিল। পাশাপাশি বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একে ‘অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার’ সঙ্গে তুলনা করেছিলেন।

এরপর বাইডেন স্থগিতাদেশ আংশিক প্রত্যাহার করে নেন। এবার যে চালান পাঠানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে তা বাইডেন প্রশাসনের সাম্প্রতিক সময়ের অনেকগুলো পদক্ষেপের একটি। তবে প্রেসিডেন্ট বাইডেন হোয়াইট হাউজ ছাড়ার আগে সম্ভবত এটাই ইসরায়েলের কাছে শেষ অস্ত্র বিক্রি। আগামী ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তিনি এর আগে বিদেশে সংঘাত বন্ধের কথা জোর দিয়ে বলেছেন। এমনকি নিজের নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি কমিয়ে আনার কথা বলেছেন।

ট্রাম্প নিজেকে ইসরায়েলের একজন কট্টর সমর্থক হিসেবে বলে থাকেন। তবে তিনি ইসরায়েলকে গাজার সামরিক অভিযান দ্রুত শেষ করার আহবান জানিয়েছেন।

ইসরায়েলের ভূখণ্ডে হামাসের নজিরবিহীন হামলার পর গাজায় স্থল অভিযান শুরু করে ইসরায়েল সামরিক বাহিনী।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরে ওই হামলায় ১২শ মানুষকে হত্যার পাশাপাশি ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়েছিল। এরপর গাজায় ইসরায়েলের অভিযানে ৪৫ হাজার ৫৮০ জন মারা গেছে বলে সেখানকার হামাস নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।




ফিলিস্তিন রক্ষায় প্রথম আন্তর্জাতিক সম্মেলন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ৮ ডিসেম্বর ১৯১৭। ফিলিস্তিনে ৪০১ বছরের উসমানীয় শাসনের অবসান হয়। পবিত্র এই ভূমির শাসন চলে যায় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের হাতে। শুরু হয় ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার নীলনকশা।

পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে ইহুদিরা সমবেত হতে থাকে ফিলিস্তিন ভূমিতে। ব্রিটিশ শাসকদের ছত্রচ্ছায়ায় তারা নানা কৌশলে ফিলিস্তিনি ভূমি কবজা করতে থাকে। ফিলিস্তিনিদের কাছে বিষয়টি ক্রমেই স্পষ্ট হয় এবং তারা নানাভাবে তা প্রতিহতের চেষ্টা করে। তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৩১ সালে জেরুজালেমে অনুষ্ঠিত হয় ওয়ার্ল্ড ইসলামিক কংগ্রেস, যাতে সারা বিশ্বের মুসলিম বুদ্ধিজীবী ও নেতারা অংশ নেন।

এটা ছিল ফিলিস্তিন রক্ষার প্রথম বৈশ্বিক আন্দোলন। এর মাধ্যমে ফিলিস্তিন সমস্যাটি আরব ও মুসলিম বিশ্বের সংকট হিসেবে চিহ্নিত হয় এবং ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়।
ঐতিহাসিক এই সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন মুফতি হাজি আমিন আল হুসাইনি (রহ.)। তিনি ছিলেন জেরুজালেমের প্রধান মুফতি এবং ব্রিটিশ পৃষ্ঠপোষকতায় ইহুদি বন্দোবস্তের অন্যতম প্রতিবাদকারী।

১৯৩০ থেকে ১৯৪০ দশকের শেষভাগ পর্যন্ত তিনি যেভাবে ব্রিটিশবিরোধী প্রতিবাদ করেছিলেন তা আজও ইতিহাসে বিখ্যাত। এই সম্মেলনের স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন ভারতীয় মুসলিম নেতা মাওলানা মোহাম্মদ আলী জওহর (রহ.)।
ফিলিস্তিনিদের সারা বিশ্বে গড়ে ওঠা আন্দোলনের অন্যতম রূপকার ছিলেন লেখক ও রাজনীতিক মাওলানা মোহাম্মদ আলী (রহ.)। যিনি ১৯০৬ সাল থেকে ভারতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হন। পরবর্তী সময় ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে ভারতীয়দের আলোচনায় প্রতিনিধিত্ব করেন।

তিনি উপমহাদেশের ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন খিলাফত আন্দোলনের জন্য। এই আন্দোলন গড়ে উঠেছিল তুরস্কের উসমানী খিলাফত রক্ষা দাবিতে; প্রকৃত পক্ষে যা ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনই ছিল। কিন্তু সম্মেলন আয়োজনের আগেই তিনি ৪ জানুয়ারি ১৯৩১ লন্ডনে মারা যান।

মাওলানা মোহাম্মদ আলী (রহ.)-এর মৃত্যুর সংবাদ শুনে মুফতি হুসাইনি (রহ.) তাঁর ভাই মাওলানা শওকত আলীকে টেলিগ্রাম করেন। যাতে তিনি মাওলানা মোহাম্মদ আলী (রহ.)-কে আল আকসা মসজিদের আশপাশে কবর দেওয়ার আহ্বান জানান। মাওলানা শওকত আলী (রহ.) নিজেও ভারতীয় উপমহাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন। ২৩ জানুয়ারি ১৯৩১ মাওলানা মোহাম্মদ আলী (রহ.)-এর কফিন জেরুজালেমে পৌঁছে। কয়েক হাজার ফিলিস্তিন অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে তা নিয়ে মসজিদুল আকসা প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়। কুব্বাতুস সাখরার পাশে তাঁকে দাফন করা হয়।

জানাজার সময় মুফতি হুসাইনি (রহ.) মাওলানা মোহাম্মদ আলীর ভূয়সী প্রশংসা করেন। সেখানে আরো উপস্থিত ছিলেন মিসরের প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ আহমদ জাকি পাশা এবং তিউনিশিয়ার জাতীয়বাদী আন্দোলনের নেতা আবদেল আজিজ থালবি। এমনকি একজন আরব খ্রিস্টান কবি মোহাম্মদ আলী (রহ.)-এর স্মরণে কবিতা পাঠ করেন। এ সময় মাওলানা শওকত আলী (রহ.) ফিলিস্তিনে আবারও একটি আন্তর্জাতিক মুসলিম সম্মেলন আয়োজন করার অনুরোধ করেন, যা মুফতি হুসাইনি (রহ.) আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করেন। কেননা তিনি বুঝতে পেরেছিলেন ফিলিস্তিনের প্রতি মুসলিম বিশ্বের মনোযোগ আকর্ষণের এটাই সুযোগ।

মাওলানা শওকত আলীর লক্ষ্য ছিল ইসলামী খিলাফতের পুনরুদ্ধার করা এবং তিনি এই লক্ষ্য নিয়ে সুলতান দ্বিতীয় আবদুল মজিদের সঙ্গে দেখাও করেন। অন্যদিকে মুফতি হুসাইনি (রহ.) চাচ্ছিলেন ফিলিস্তিনের পক্ষে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সমর্থন গড়ে তোলা। সুলতানের সম্মতিতে এবং মুফতি হুসাইনি ও শওকত আলীর উদ্যোগে আন্তর্জাতিক ইসলামী সম্মেলনের কাজ এগিয়ে যায়। তুর্কি প্রজাতন্ত্রের সরকার ফ্রান্সকে অনুরোধ করে যেন সুলতান ফিলিস্তিনে আসতে না দেয়। যদিও শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশ সরকারের চাপে মুফতি হুসাইনি (রহ.) ঘোষণা করেন সম্মেলনে খলিফা নির্বাচন করা হবে না। ব্রিটিশরা সম্মেলনের অনুমতি দিলেও সুলতান দ্বিতীয় আবদুল মজিদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করে।

৭ ডিসেম্বর ১৯৩১ সালে সম্মেলন শুরু হয়। তাতে ২২টি দেশের ১৩০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। যাঁদের মধ্যে ছিলেন লেবাননের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী রিয়াদ আল সোলহ, সিরিয়ার পরবর্তী প্রেসিডেন্ট শুকরি আল কুওয়াতলি। মিসরের ইসলামী চিন্তাবিদ রশিদ রিদা, ভারতের দার্শনিক ও কবি মুহাম্মদ ইকবাল। তারা মহাসমারোহে ফিলিস্তিনে আগমন করেন। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন মুফতি হুসাইনি (রহ.)। সম্মেলনে মুসলিম বিশ্বের স্বার্থ রক্ষায় একটি প্ল্যাটফরম গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত হয়। অংশগ্রহণকারীরা শপথ নেন সর্বশক্তি দিয়ে পবিত্র স্থানগুলো রক্ষা করা হবে। তাঁরা ইহুদিবাদীদের পণ্য বর্জনের আহ্বান জানান। পাশাপাশি ফিলিস্তিনের প্রতি মুসলিম বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য এবং ফিলিস্তিনকে মুসলিম বিশ্বের বুদ্ধিবৃত্তিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব জেরুজালেম প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত হয়। ফিলিস্তিনিদের ভূমি কিনতে একটি কম্পানি প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্তও হয়। ১৪ ডিসেম্বর গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেন আল্লামা ইকবাল (রহ.), যাতে তিনি পুঁজিবাদ ও উগ্রজাতীয়তাবাদীদের ব্যাপারে সতর্ক করেছিলেন এবং উপস্থিত নেতাদের সারা বিশ্বে মুসলিম ভ্রাতৃত্বের বাণী ছড়িয়ে দিতে আহ্বান জানান।




সুবাতাস বইছে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের পালে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকসহ সাম্প্রতিক কূটনৈতিক যোগাযোগ বলে দিচ্ছে, নতুন সম্পর্ক বিনির্মাণের পাশাপাশি বিরোধের জায়গাগুলো মিটিয়ে ফেলতে দুদেশই অঙ্গীকারাবদ্ধ।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক দৃশ্যপটে একটা সময় পর্যন্ত ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে অস্থিরতা বাড়তে থাকে। কিন্তু বর্তমানে এসে সেই পরিস্থিতি ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করেছে। পারস্পরিক আস্থা বাড়ানো ও স্থিতিশীলতাকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রতি দুই প্রতিবেশীই আগ্রহ দেখিয়েছে। দুই দেশের সমৃদ্ধি ও সম্ভাবনা কাজে লাগাতে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহযোগিতার ইচ্ছাও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ঢাকা-দিল্লির সম্পর্কের ইতিবাচক পরিবর্তনের হাওয়া আশাব্যঞ্জক মোড় নিচ্ছে। যদিও অনেকের শঙ্কা, বাংলাদেশে ভারত-বিরোধী মানসিকতা বেড়ে যাওয়ার কারণে দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটতে পারে।

কিন্তু পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকসহ সাম্প্রতিক কূটনৈতিক আদান-প্রদান নতুন সম্পর্ক বোনার আভাস দিচ্ছে। পাশাপাশি বিরোধের জায়গাগুলো মীমাংসার ক্ষেত্রেও তারা ইতিবাচক।