জাকির নায়েককে ভারতের কাছে তুলে দেবে বাংলাদেশ: আশা মোদী সরকারের

বিশ্বখ্যাত ইসলামিক বক্তা ও পিস টিভির প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাকির নায়েককে ভারতের হাতে হস্তান্তর করার বিষয়ে আশাবাদী নরেন্দ্র মোদী সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আগামী ২৮ নভেম্বর সম্ভাব্য বাংলাদেশ সফরের আগে ভারতের পক্ষ থেকে এ ধরণের অবস্থান জানানো হলো। জাকির নায়েক দুই দিনের সফরে ঢাকায় এসে একটি দাতব্য অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, জাকির নায়েক ভারতে ওয়ান্টেড পলাতক আসামি। “নয়াদিল্লি আশা করে যে, যে কোনো দেশেই তিনি থাকুন না কেন, সেখানকার সরকার তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে এবং ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগকে গুরুত্ব দেবে।”

বাংলাদেশ সফরের আয়োজন করছে স্পার্ক ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট। প্রতিষ্ঠানটির প্রোপাইটার আলী রাজ জানান, ২৮ বা ২৯ নভেম্বর ঢাকায় ডা. জাকির নায়েকের প্রথম প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হবে। শুধুমাত্র ঢাকায় নয়, রাজধানীর বাইরে অন্যান্য শহরেও অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা রয়েছে।

ডা. জাকির নায়েক ২০১৬ সালে ভারতের হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকারের রোষানলে পড়ে দেশ ত্যাগ করেন। সেই বছর তার ‘পিস টিভি’ চ্যানেল বন্ধ করা হয়। বর্তমানে তিনি মালয়েশিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। মোদী সরকার তার বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানো এবং অর্থপাচারের অভিযোগ আনে এবং তার সংগঠনগুলোর কার্যক্রমের ওপর নজরদারি বৃদ্ধি করে।

২০১৬ সালের গুলশানের হোলি আর্টিজান হামলার পর শেখ হাসিনার সরকার বাংলাদেশে জাকির নায়েকের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়। তখন ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছিল, হামলায় জড়িত কিছু তরুণ নায়েকের বক্তব্যে প্রভাবিত ছিল। তবে গত বছর সরকারি নীতি পরিবর্তনের পর এ নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের ১০ বছরের প্রতিরক্ষা জোট চুক্তি

প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত আগামী ১০ বছরের জন্য নতুন এক প্রতিরক্ষা কাঠামো চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে দুই দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী—মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের বৈঠকের পর বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান, সামরিক প্রযুক্তি সহযোগিতা এবং কৌশলগত সমন্বয় আরও জোরদার হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ। এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া বার্তায় তিনি বলেন, “এই চুক্তি শুধু আমাদের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নয়, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করবে।”

চুক্তিটি এমন সময় সম্পাদিত হলো যখন দুই দেশই দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করায় দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক শীতল হয়ে পড়ে। প্রথমে ২৫ শতাংশ এবং পরে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করায় অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর রাজনাথ সিং এক্সে লিখেছেন, “এই চুক্তি আমাদের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত ঐকমত্যের প্রতিফলন। এটি অংশীদারিত্বের নতুন যুগ সূচনা করবে এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে থাকবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “মুক্ত, অবাধ ও নীতিনির্ভর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গঠনে এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

পর্যবেক্ষক সংস্থা ইউরেশিয়া গ্রুপের বিশ্লেষক প্রমিত পাল চৌধুরী বিবিসিকে জানান, এই চুক্তিটি আসলে জুলাই-আগস্টের মধ্যেই স্বাক্ষর হওয়ার কথা ছিল। তবে পাকিস্তান ইস্যুতে ট্রাম্পের মন্তব্যের কারণে এটি কিছুটা বিলম্বিত হয়। তার মতে, এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের সম্পর্কের ধারাবাহিক অগ্রগতির অংশ, যা দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ও প্রযুক্তি বিনিময়কে আরও সহজ করবে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় প্রতিরক্ষা খাতই আলোচনার মূল বিষয় ছিল। সে সময় ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে কয়েক বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম কিনবে, যা ভবিষ্যতে ভারতের জন্য আধুনিক এফ-৩৫ স্টেলথ যুদ্ধবিমান প্রাপ্তির সম্ভাবনা উন্মুক্ত করবে।

আরো পড়ুন : ৪ নভেম্বর থেকে কুয়াকাটা সৈকতে শুরু হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসব

তবে ভারতের রাশিয়ার কাছ থেকে তেল আমদানি এবং প্রতিরক্ষা খাতে রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষুব্ধ করেছিল। বর্তমানে রাশিয়া ভারতের সবচেয়ে বড় অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ হলেও দিল্লি এখন ধীরে ধীরে দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের দিকেও ঝুঁকছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি শুধু দুই দেশের সামরিক সম্পর্কই নয়, বরং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কৌশলগত অংশীদারিত্বকেও আরও দৃঢ় করবে। আসছে নভেম্বরের মধ্যেই দুই দেশ একটি বড় বাণিজ্য চুক্তিও চূড়ান্ত করতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন কর্মকর্তারা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




২৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকিতে যুদ্ধ থেমেছে : ট্রাম্প

চন্দ্রদ্বীপ ডেক্স : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ থামাতে ২৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন তিনি। যা এখন পর্যন্ত কোনো দেশের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের ঘোষিত সর্বোচ্চ শুল্ক আরোপের হুমকি। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

বুধবার দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়া-প্যাসিফিক সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, আপনি যদি ভারত ও পাকিস্তানের দিকে তাকান তারা তখন মুখোমুখি অবস্থায় ছিল। সাতটি বিমান গুলি করে নামানো হয়েছিল, অবস্থা ছিল ভয়াবহ। ট্রাম্পের দাবি, মে মাসে সীমান্তে সংঘর্ষ বাড়লে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পাকিস্তানের নেতাদের ফোন করে সতর্ক করেন। বলেন, যুদ্ধ চলতে থাকলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করে দেবে এবং ২৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, আমি বলেছিলাম, আমি তোমাদের ওপর ২৫০ শতাংশ শুল্ক বসাবো। মানে, তোমরা আর ব্যবসা করতে পারবে না। বক্তব্যের সময় তার এই মন্তব্যে উপস্থিত শ্রোতারা করতালি দেন।




ইতালিতে রেসিডেন্স পারমিটে শীর্ষে বাংলাদেশিরা

ইতালিতে বসবাসের অনুমতি (রেসিডেন্স পারমিট) পাওয়া দেশের তালিকায় বাংলাদেশিরা এখন শীর্ষ তিনে অবস্থান করছে। দেশটিতে বর্তমানে প্রায় ৫৪ লাখ বিদেশি নাগরিক বসবাস করছেন, যাদের মধ্যে বাংলাদেশিদের উপস্থিতি দ্রুত বাড়ছে। সম্প্রতি প্রকাশিত কারিতাস-মিগ্রান্তেস ফাউন্ডেশনের অভিবাসন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই তথ্য।

রোমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ইতালির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯ দশমিক ২ শতাংশই বিদেশি, যা দেশটির অর্থনীতি ও জনসংখ্যার ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কর্মক্ষেত্রে বিদেশিদের অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্য—মোট কর্মশক্তির ১০ দশমিক ৫ শতাংশ এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১১ দশমিক ৫ শতাংশ বিদেশি নাগরিক।

রোমানিয়া, মরক্কো, আলবেনিয়া, ইউক্রেন ও চীন ঐতিহ্যগতভাবে ইতালিতে বিদেশিদের প্রধান উৎস দেশ হলেও, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশির সংখ্যা সবচেয়ে দ্রুতগতিতে বেড়েছে। মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে দেশটির অর্ধেকেরও বেশি প্রদেশে নতুন রেসিডেন্স পারমিটপ্রাপ্ত নাগরিকদের মধ্যে বাংলাদেশিরা শীর্ষ তিনে উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইতালিতে বসবাসরত বেশিরভাগ বিদেশি দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে অবস্থান করছেন। তবে অনিয়মিত অভিবাসীরা ছড়িয়ে আছেন দক্ষিণের গ্রাম থেকে শুরু করে উত্তরাঞ্চলের শহর পর্যন্ত। তাদের আবাসন পরিস্থিতি অনেক অনিশ্চিত, যা বৈষম্য ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা বাড়িয়ে তুলছে।

কারিতাস ও মিগ্রান্তেসের এক যৌথ জরিপে দেখা গেছে, ইতালিতে এখন আবাসন সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিদেশিরা বৈষম্য ও অর্থনৈতিক চাপে পড়ছেন, যা তাদের সামাজিক অবস্থানকে আরও দুর্বল করে তুলছে।

অন্যদিকে, ইতালিতে জনসংখ্যা হ্রাসের মাঝেও অভিবাসীরা জন্মহার নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। ২০২৪ সালে দেশটিতে জন্ম নেয়া ৩ লাখ ৭০ হাজার শিশুর মধ্যে ২১ শতাংশের বেশি শিশুর অন্তত একজন অভিভাবক বিদেশি। এ ছাড়া ২০২৪ সালে ২ লাখ ১৭ হাজারের বেশি অভিবাসী ইতালির নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন, যা দেশের জনসংখ্যা কাঠামোয় ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে।

এ বছর ইতালিতে কর্মরত মোট মানুষের সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ, যার মধ্যে ২৫ লাখের বেশি বিদেশি কর্মী। অর্থাৎ দেশটির মোট কর্মশক্তির ১০ শতাংশেরও বেশি অংশ বিদেশিদের। কর্মসংস্থানে বিদেশিদের অংশগ্রহণ বাড়লেও বৈষম্য রয়ে গেছে—ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের নাগরিকদের মধ্যে কর্মসংস্থানের হার ৫৭ দশমিক ৬ শতাংশ, যেখানে ইতালীয়দের মধ্যে এটি ৬২ দশমিক ২ শতাংশ।

তবুও ২০২৪ সালে বিদেশিদের জন্য নতুন চাকরির চুক্তি বেড়েছে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। উত্তর-পশ্চিম ও উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে কর্মসংস্থান সবচেয়ে বেশি, যেখানে বিদেশিদের অংশগ্রহণ ২১ শতাংশের বেশি। দক্ষিণাঞ্চলেও এই প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে দ্রুত (১৩ দশমিক ৬ শতাংশ)।

শিক্ষাক্ষেত্রেও বিদেশিদের ভূমিকা দিন দিন বাড়ছে। ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ইতালিতে ৯ লাখ ১০ হাজারেরও বেশি বিদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে, যা মোট শিক্ষার্থীর ১১ দশমিক ৫ শতাংশ। নতুন প্রজন্মের অভিবাসীরা এখন ইতালির সমাজে আরও গভীরভাবে মিশে যাচ্ছে—তাদের অনেকেই ইতালিতে জন্ম নিয়েছে, বড় হচ্ছে ইতালীয় সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে।

এই পরিবর্তনগুলো শুধু ইতালির জনসংখ্যা নয়, বরং অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও সমাজব্যবস্থায়ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বাংলাদেশি নাগরিকদের এই উত্থান এখন ইতালিতে অভিবাসন প্রবণতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




গাজায় শক্তিশালী হামলার নির্দেশ নেতানিয়াহুর

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় নতুন করে ‘শক্তিশালী হামলা’ চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন দখলদার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু

মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) রাতে দীর্ঘ বৈঠক শেষে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে এই নির্দেশ দেন তিনি। নেতানিয়াহুর দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, সশস্ত্র সংগঠন হামাস যুদ্ধবিরতির চুক্তি ভঙ্গ করায় গাজায় ‘তাৎক্ষণিক ও কঠোর’ সামরিক অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইসরায়েলের দাবি, হামাস তাদের হাতে থাকা জিম্মিদের মরদেহ ফেরত দিতে বিলম্ব করছে এবং এভাবে তারা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে। অন্যদিকে হামাসের অভিযোগ, ইসরায়েল নিজেই মরদেহ উদ্ধারে বাধা দিচ্ছে এবং অযথা উত্তেজনা সৃষ্টি করছে।

এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গাজার রাফা এলাকায় ব্যাপক গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সীমান্তবর্তী এ অঞ্চলজুড়ে প্রচণ্ড বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে এলাকা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানায়, রাফায় ইসরায়েলি সেনা ও ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের মধ্যে গুলি বিনিময় শুরু হয়, এরপরই টানা গোলাবর্ষণের শব্দ শোনা যায়।

বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে আশঙ্কা করছেন, সাম্প্রতিক সংঘর্ষের কারণে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি সম্পূর্ণভাবে ভেঙে যেতে পারে এবং নতুন করে ব্যাপক বিমান হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সূত্র জানায়, গত সোমবার হামাস এক ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহের অংশ ইসরায়েলের হাতে হস্তান্তর করে। এর আগেই ২০২৩ সালের নভেম্বরে একই ব্যক্তির দেহের কিছু অংশ উদ্ধার করেছিল ইসরায়েলি সেনারা। তবে নতুন জিম্মির মরদেহ না ফেরানোয় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে দখলদার ইসরায়েল, যা তারা যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ হিসেবে দাবি করছে।

এই প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার জরুরি বৈঠকে বসেন নেতানিয়াহু এবং বৈঠক শেষে গাজায় ‘শক্তিশালী পাল্টা হামলা’ চালানোর নির্দেশ দেন বলে জানা গেছে।

গাজার সাধারণ মানুষ বর্তমানে অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এ হামলার ফলে আবারও ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বাংলাদেশ সেনাপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ পাকিস্তানি সামরিক প্রতিনিধিদলের

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন পাকিস্তানের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান (সিজেসিসি) জেনারেল সাহির শামশাদ মির্জা-এর নেতৃত্বে আগত এক সামরিক প্রতিনিধিদল।

মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীর সেনাসদরে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। পরে সন্ধ্যায় সেনাবাহিনীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।

সেনাবাহিনীর প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়, সাক্ষাৎকালে দুই দেশের সামরিক সম্পর্ক, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও নিরাপত্তা বিষয়ক পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এছাড়া, যৌথ সামরিক প্রশিক্ষণ, সেমিনার, উচ্চ পর্যায়ের পরিদর্শন ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে সামরিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় করেন উভয়পক্ষ।

বাংলাদেশ সেনাপ্রধান ও পাকিস্তানি প্রতিনিধিদল উভয়েই আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা পারস্পরিক বিশ্বাস ও সৌহার্দ্যের ভিত্তিতে আরও সুদৃঢ় হবে।

এর আগে, গত ২৫ অক্টোবর রাতে পাকিস্তানের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান জেনারেল সাহির শামশাদ মির্জা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
সে সময় তারা বাংলাদেশ-পাকিস্তান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্প্রসারণ, এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতাসহ পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে আলোচনা করেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




৩৬টি বিমান বাংকার তৈরি করেছে চীন ভারতের নতুন দুশ্চিন্তা

চন্দ্রদ্বীপ ডেক্সঃ   অরুণাচল প্রদেশের কৌশলগত শহর তাওয়াং থেকে প্রায় ১০৭ কিলোমিটার দূরে লুনজে ঘাঁটিতে নতুন বিমান বাংকার নির্মাণের ফলে চীন এখন তাদের যুদ্ধবিমান এবং ড্রোন সিস্টেমকে আরও সামনে মোতায়েন করার সুযোগ পাবে। এতে অরুণাচল প্রদেশ ও আসামে অবস্থিত ভারতীয় বিমানবাহিনীর (আইএএফ) ঘাঁটি থেকে আকাশপথে যেকোনো হুমকির দ্রুত জবাব দিতে সক্ষম হবে চীন।
তিব্বতের লুনজে বিমানঘাঁটিতে চীন ৩৬টি মজবুত বিমান বাংকার, নতুন প্রশাসনিক ব্লক এবং একটি নতুন অ্যাপ্রন নির্মাণ করেছে। এই ঘাঁটিটি অরুণাচল প্রদেশের ভারত ও চীন সীমান্তের ম্যাকমোহন লাইন থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত।
ভারতীয় বিমানবাহিনীর (আইএএফ) সাবেক প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল বি এস ধানোয়া এনডিটিভিকে বলেন, লুনজেতে ৩৬টি মজবুত বিমান বাংকার নির্মাণ স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে, ভবিষ্যতে কোনো ঘটনা ঘটলে তাদের কৌশলগত ফাইটার ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার লুনজে ঘাঁটি থেকেই তাদের সেনাবাহিনীকে সহায়তা দেবে।
ধানোয়া আরও বলেন, এ এলাকার ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গগুলোতে সম্ভবত ইতিমধ্যেই গোলাবারুদ ও জ্বালানি মজুত করে রাখা হয়েছে।
ভারতের সাবেক এই বিমানবাহিনী প্রধান বলেন, ‘আমি ২০১৭ সালে ডোকলাম ঘটনার সময় আমার কর্মীদের বলেছিলাম, তিব্বতে পিএলএএএফের (পিপলস লিবারেশন আর্মি এয়ারফোর্স) সমস্যা বিমান নয়, সমস্যা হলো মোতায়েন। তখন আমি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলাম, তারা তিব্বতের বিমানঘাঁটিগুলোতে মজবুত বিমান বাংকার তৈরি শুরু করার অর্থ হবে তারা আমাদের সঙ্গে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিব্বতে তাদের মূল দুর্বলতা দূর হয়ে যাবে।’
ভারতীয় বিমানবাহিনীর সাবেক উপপ্রধান এয়ার মার্শাল অনিল খোসলা বলেন, এসব বিমানঘাঁটির নির্মাণ ও আধুনিকীকরণ চীনের ভবিষ্যতের যুদ্ধ পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এটি ভারতের জন্য ‘গুরুতর কৌশলগত হুমকি’। বিশেষত, ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর থেকে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, চীনের সামরিক সক্ষমতার বিকাশ এবং অবকাঠামো তৈরির ধরন বিশ্লেষণ করলে এই ঝুঁকি স্পষ্ট।
অনিল খোসলা বলেন, ‘লুনজেতে চীনের এই আধুনিকীকরণ আঞ্চলিক নিরাপত্তায় গভীর প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে গালওয়ান উপত্যকার সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে ২০২০ সাল থেকে ভারত ও চীন সীমান্তে অচলাবস্থা চলছে। ৩৬টি মজবুত বিমান বাংকার তাদের সরঞ্জামগুলো ছড়িয়ে–ছিটিয়ে রাখতে, কেন্দ্রীভূত আক্রমণের ঝুঁকি কমাতে এবং ভয়াবহ পরিস্থিতিতে দীর্ঘস্থায়ী অপারেশন চালানোর সুবিধা দেবে।’
এয়ার মার্শাল খোসলা বলেন, মজবুত বিমান বাংকারগুলো নির্ভুলভাবে লক্ষ্যভেদী গোলাবারুদ, ভারতীয় বিমান হামলা বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে সুরক্ষা দেবে, যার ফলে ‘সংঘর্ষের শুরুতে ঘাঁটিটিকে ক্ষতিগ্রস্ত করা অনেক বেশি কঠিন হবে।
বিমানবাহিনীর ঊর্ধ্বতন এই কর্মকর্তা বলেন, টিংরি, লুনজে ও বুরংয়ের মতো বিমানঘাঁটিগুলো প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার (এলএসি) খুব কাছে, ৫০ থেকে ১৫০ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত। এত কাছে থাকার কারণে পিএলএ বিমানবাহিনীর সরঞ্জামগুলো সামনের অবস্থানে দ্রুত মোতায়েন এবং সীমান্তে কোনো উত্তেজনা দেখা দিলে দ্রুততম সময়ে সাড়া দিতে পারবে। এসব বিমানক্ষেত্র অরুণাচল প্রদেশ, সিকিম, উত্তরাখন্ড ও লাদাখে ভারতীয় অবস্থানকে নিশানায় আনতে সক্ষম হবে।
বিমানবাহিনীর ঊর্ধ্বতন এই কর্মকর্তা বলেন, টিংরি, লুনজে ও বুরংয়ের মতো বিমানঘাঁটিগুলো প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার (এলএসি) খুব কাছে, ৫০ থেকে ১৫০ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত। এত কাছে থাকার কারণে পিএলএ বিমানবাহিনীর সরঞ্জামগুলোকে সামনের অবস্থানে দ্রুত মোতায়েন এবং সীমান্তে কোনো উত্তেজনা দেখা দিলে দ্রুততম সময়ে সাড়া দিতে পারবে।
চীন তাদের সিএইচ–৪ মনুষ্যবিহীন এরিয়াল ভেহিকেল (ইউএভি) ব্যবহার করছে, যা ১৬ হাজার ফুটের বেশি উচ্চতা থেকে স্বল্পপাল্লার আকাশ থেকে ভূমিতে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে সক্ষম। ইলেকট্রো-অপটিক্যাল সেন্সর থাকার কারণে সিএইচ–৪ ড্রোনটিকে তিব্বতের অনেক উচ্চতার অঞ্চলে হামলার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
ভারতের দিকে সবচেয়ে সরাসরি জবাব ২০২৯ সালে আসা শুরু করবে, যখন আইএএফ এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর বহরে জেনারেল অ্যাটমিক্স-নির্মিত স্কাই গার্ডিয়ান ড্রোন যুক্ত হবে। দুটি বাহিনীর প্রতিটি আটটি করে ড্রোন পাবে। স্কাই গার্ডিয়ান ড্রোন, যার ১৫টি ভ্যারিয়েন্ট ভারতীয় নৌবাহিনীও কিনছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নির্মিত ড্রোনগুলো হিমালয় অঞ্চলজুড়ে ভারতের গোয়েন্দা ও নজরদারি সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নির্ভুল নিশানায় আঘাত হানার সুবিধা দেবে। বর্তমানে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী তুলনামূলকভাবে কম সক্ষম ইসরায়েলের নির্মিত হেরন এবং সার্চার ইউএভি ব্যবহার করছে।
ভারতীয় বিমানবাহিনীর সাবেক উপপ্রধান এয়ার মার্শাল এসপি ধারকর বলেন, চীনের মজবুত বিমান বাংকার নির্মাণ ভারতের জন্য ‘চ্যালেঞ্জিং’ হবে।
ধারকার বলেন, ‘আমরা বছরের পর বছর ধরে আমাদের উত্তরের সীমান্তজুড়ে নানা ঘটনাপ্রবাহ সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করি। ঐতিহাসিকভাবে, আমরা এই বিষয়টি ভেবে কিছুটা সান্ত্বনা খুঁজে পেতাম, সেই অঞ্চলের ভূগোল, ভূখণ্ড এবং উচ্চতা বিমান পরিচালনার ক্ষেত্রে আমাদের কিছুটা সুবিধা দিত। আমরা এখন দেখছি, চীনের আধুনিক ও আরও সক্ষম প্ল্যাটফর্ম তৈরি এবং বৃহত্তর অবকাঠামো ও লম্বা রানওয়েসহ আরও বেশি বিমানক্ষেত্র তৈরির ফলে আমাদের সেই সুবিধা কিছুটা সংকুচিত হচ্ছে।’
ভূ-গোয়েন্দা বিশেষজ্ঞ ড্যামিয়েন সাইমন বলেন, ভারতের তাওয়াং সেক্টরের বিপরীতে এই বিমান বাংকারগুলোর দ্রুত নির্মাণ ঐতিহাসিক স্পর্শকাতর অঞ্চলে চীনের বিমানশক্তি বৃদ্ধির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
সাইমন বলেন, ভারত এলএসির এই অংশে শক্তিশালী বিমান অবকাঠামো বজায় রাখলেও লুনজেতে চীনের সামরিকীকরণের মাত্রা বেইজিংয়ের সেই ব্যবধান কমিয়ে আনার পরিকল্পনাকে তুলে ধরছে।
ভারতীয় বিমানবাহিনীর সাবেক উপপ্রধান এয়ার মার্শাল এসপি ধারকর বলেন, চীনের মজবুত বিমান বাংকার নির্মাণ ভারতের জন্য ‘চ্যালেঞ্জিং’ হবে।
লুনজে ঘাঁটির এই আধুনিকায়ন এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন চীন হিমালয় সীমান্ত বরাবর ভারতের প্রতিরক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধে আরও ছয়টি নতুন বিমানঘাঁটির আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। এ বছরের এপ্রিলে এনডিটিভি স্যাটেলাইট চিত্র প্রকাশ করেছিল, যাতে চীনের টিংরি, লুনজে, বুরং, ইয়ুটিয়ান এবং ইয়ারকান্তের ঘাঁটি অন্তর্ভুক্ত ছিল। হ্যাঙ্গার ও রানওয়ের সম্প্রসারণ ছাড়াও বিমানঘাঁটিগুলোতে নতুন অ্যাপ্রন স্পেস, ইঞ্জিন পরীক্ষার প্যাড এবং সহায়তা কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।
২০২০ সালের ১৫ ও ১৬ জুন ভারত ও চীনের সেনাদের মধ্যে গালওয়ানে সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্কে অচলাবস্থা তৈরি হয়। পরে বেইজিং ও নয়াদিল্লির মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা সত্ত্বেও ভারত ও চীন বিমানঘাঁটি আধুনিকায়ন করছে। দুই দেশের এসব উদ্যোগ এই অঞ্চলে একটি নতুন কৌশলগত বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করছে।
গত এপ্রিলে চীনের বিমানক্ষেত্র নির্মাণের ছবি পর্যালোচনা করার পর ভারতীয় বিমানবাহিনী এনডিটিভিকে এক বিবৃতিতে বলেছিল, ‘আমাদের প্রক্রিয়া চালু আছে এবং আমরা বিষয়গুলো নজরে রাখছি।’
চীনের বিদ্যমান বিমানঘাঁটিগুলোর অব্যাহত আধুনিকায়ন এবং নতুন ঘাঁটি নির্মাণ স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে, বহু দশক ধরে হিমালয় বরাবর ভারতীয় বিমানবাহিনীর উত্তর দিকে লেহ থেকে পূর্বে চাবুয়া পর্যন্ত ১৫টি প্রধান বিমানঘাঁটির মোকাবিলায় বেইজিং এসব কিছু নির্মাণ করছে।




ফের রাজনীতির ময়দানে ফেরার ইঙ্গিত কমালা হ্যারিসের

মার্কিন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমালা হ্যারিস আবারও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। গত নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হলেও, তিনি জানিয়েছেন— তার রাজনৈতিক যাত্রা এখানেই শেষ নয়।

শনিবার (২৫ অক্টোবর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে কমালা হ্যারিস বলেন, “আমি এখনো শেষ হয়ে যাইনি। আমার রাজনৈতিক জীবনের গল্প এখানেই থেমে নেই।”
তিনি আরও বলেন, “একদিন আমি বা অন্য কোনো নারী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হবেন, সেই বিশ্বাস আমি রাখি।”

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কমালা হ্যারিসের অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও, ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও নেতৃত্বের ভারসাম্যের কারণে তার প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা কিছুটা অনিশ্চিত।

বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘স্বৈরাচার’ আখ্যা দিয়ে কমালা বলেন, “আমি নির্বাচনের আগে ট্রাম্প সম্পর্কে যা বলেছিলাম, আজ তা প্রমাণিত হচ্ছে। তিনি বিচার বিভাগকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করছেন, যা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি।”

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নির্বাচনে মূলত প্রার্থী হওয়ার কথা ছিল সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের। তবে শেষ মুহূর্তে দলের চাপের মুখে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন তিনি। এরপর ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে নামেন কমালা হ্যারিস। দলীয় অনেক নেতা মনে করেন, বাইডেনের দেরিতে সরে দাঁড়ানোই নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের পরাজয়ের অন্যতম কারণ ছিল।

এদিকে, অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রশ্ন তুলেছেন— কমালা হ্যারিস গত নির্বাচনে যথেষ্ট কার্যকর প্রচারণা চালাতে পারেননি এবং ভোটারদের কাছে অর্থনৈতিক ইস্যুতে স্পষ্ট বার্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছিলেন।

আগামী নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আমি এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেইনি। তবে আমি শেষ হয়ে যাইনি। মানুষের জন্য কাজ করাই আমার জীবনের লক্ষ্য— সেটি আমি সারাজীবন করব।”

তার এই বক্তব্য নতুন করে মার্কিন রাজনীতিতে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। অনেকেই বলছেন, কমালা হ্যারিস হয়তো ২০২৮ সালের নির্বাচনের প্রস্তুতি এখন থেকেই শুরু করে দিয়েছেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কুনার নদীতে বাঁধ নির্মাণের ঘোষণা তালেবান সরকারের

চন্দদ্বীপ ডেক্সঃ পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে উত্তেজনার মধ্যেই কুনার নদীর পানিপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণে বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে তালেবান সরকার। আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার সরাসরি নির্দেশে এই নির্মাণ কাজ ‘যত দ্রুত সম্ভব’ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির ভারপ্রাপ্ত পানিসম্পদ মন্ত্রী মোল্লা আবদুল লতিফ মনসুর।

মনসুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, আফগানরা নিজেদের পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার পূর্ণ অধিকার রাখে। তিনি আরও জানান, এই প্রকল্পে কোনো বিদেশি ঠিকাদার নয়, আফগান প্রতিষ্ঠানগুলোই কাজ করবে।

পাকিস্তানের সঙ্গে ডুরান্ড লাইনজুড়ে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত এসেছে। ইসলামাবাদ অভিযোগ করেছে, আফগানিস্তান তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানকে (টিটিপি) আশ্রয় দিচ্ছে ও সীমান্ত পার হয়ে হামলায় সহায়তা করছে।

কুনার নদী এর গুরুত্ব

৪৮০ থেকে ৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ কুনার নদী পাকিস্তানের চিত্রাল জেলার হিন্দুকুশ পর্বতমালা থেকে উৎপন্ন হয়ে আফগানিস্তানের কুনার ও নানগারহার প্রদেশ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পুনরায় পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় প্রবেশ করে। নদীটি জালালাবাদের কাছে কাবুল নদীর সঙ্গে মিশে অবশেষে পাঞ্জাবের অ্যাটকে সিন্ধু নদে গিয়ে মিশে যায়।

পাকিস্তানের জন্য এই কুনার ও কাবুল নদী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ- কৃষি, পানীয় জল ও জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় উৎস এগুলো। ফলে পানির প্রবাহ হ্রাস পেলে দেশটির কৃষি ও নীচু এলাকার জনজীবনে তীব্র প্রভাব পড়তে পারে।

ভারতের সঙ্গে ইন্দাস ওয়াটার ট্রিটির মতো পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে এমন কোনো আনুষ্ঠানিক জলবণ্টন চুক্তি নেই। ফলে কাবুলের এই পদক্ষেপ ঠেকাতে ইসলামাবাদের আইনি বা কূটনৈতিক বিকল্প সীমিত।

লন্ডনভিত্তিক সাংবাদিক সামি ইউসুফজাই এক্সে লিখেছেন, ভারতের পর এবার সম্ভবত আফগানিস্তানই পাকিস্তানের পানিপ্রবাহ সীমিত করতে যাচ্ছে… সর্বোচ্চ নেতা নির্দেশ দিয়েছেন, বিদেশি কোম্পানির জন্য অপেক্ষা না করে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোই যেন দ্রুত কাজ শুরু করে।

তালেবান সরকারের কুনার নদীর পানি নিয়ন্ত্রণে বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা এবং এর পেছনের রাজনৈতিক-আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল বিষয়। এই পদক্ষেপটি বিশেষভাবে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সম্পর্কের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ কুনার নদী পাকিস্তানের কৃষি এবং পানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তান আফগানিস্তানের এই সিদ্ধান্তকে একটি বড় হুমকি হিসেবে দেখছে, যা তাদের পানি ব্যবস্থাপনায় সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

এদিকে, আফগানিস্তানের পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার উদ্যোগ ভারতের সাম্প্রতিক জলনীতি ও সিন্ধু নদ চুক্তি স্থগিত করার সিদ্ধান্তের সাথে কিছুটা মিলে যাচ্ছে। তালেবান সরকারের নিজস্ব প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে কৃষি এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করা তাদের অভ্যন্তরীণ উন্নয়নের অংশ হলেও, এতে পাকিস্তানের জন্য উদ্বেগ সৃষ্টি হচ্ছে।

বিশ্বের অন্যান্য দেশও এই অঞ্চলের পানি বিতরণ নিয়ে উদ্বিগ্ন, যেমন উজবেকিস্তান এবং তুর্কমেনিস্তান, যারা আফগানিস্তানের পরিকল্পনা নিয়ে কিছু উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ভারতের সাথে আফগানিস্তানের জলবিদ্যুৎ সহযোগিতাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কারণ এটি এই অঞ্চলের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারে।

 




রাশিয়ার তেল কেনা স্থগিত করল চীন

চন্দ্রদ্বীপ ডেক্স :চীনের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানিগুলো রুশ তেল কেনা স্থগিত করেছে । রাশিয়ার প্রধান দুটি তেল কোম্পানি রসনেফট ও লুকঅয়েলের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পর চীন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে  আজ বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এই পদক্ষেপ এসেছে এমন সময়, যখন রাশিয়ার সর্ববৃহৎ ক্রেতা ভারতও রুশ তেল আমদানি কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইউক্রেন ইস্যুতে মস্কোর বিরুদ্ধে নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে তাল মেলাতে ভারতীয় শোধনাগারগুলো এই পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে।

রাশিয়ার দুই বৃহত্তম ক্রেতা—চীন ও ভারতের তেলের চাহিদা হঠাৎ কমে গেলে মস্কোর আয়ে বড় ধাক্কা লাগবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, বিশ্বের বড় আমদানিকারক দেশগুলো বিকল্প জ্বালানি উৎস খুঁজতে বাধ্য হবে, যা বৈশ্বিক তেলের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে।

চীনের চারটি রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি—পেট্রোচায়না, সিনোপেক, সিএনওওসি এবং ঝেনহুয়া অয়েল সাময়িকভাবে সমুদ্রপথে রুশ তেল কেনা থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কারণ তারা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের ঝুঁকিতে পড়তে চায় না বলে জানিয়েছে সূত্রগুলো।

তবে এ ব্যাপারে এই কোম্পানিগুলোর কেউই এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

চীন প্রতিদিন প্রায় ১৪ লাখ ব্যারেল রুশ তেল সমুদ্রপথে আমদানি করে, যার বেশির ভাগই স্বাধীন রিফাইনারি বা ‘টি-পট’ নামে পরিচিত ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো কেনে। রাষ্ট্রীয় কোম্পানিগুলোর ক্রয়ের পরিমাণ নিয়ে বিভিন্ন অনুমান রয়েছে।

জ্বালানি বাজার ডেটা বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ভরটেক্স অ্যানালিটিকস জানিয়েছে, ২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসে রাশিয়া থেকে চীনের রাষ্ট্রীয় কোম্পানিগুলোর গড় আমদানির পরিমাণ ছিল প্রতিদিন ২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলের নিচে। অন্যদিকে জ্বালানি বাজার ডেটা বিশ্লেষণকারী আরেক প্রতিষ্ঠান এনার্জি অ্যাসপেক্টস জানায়, এই সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ ব্যারেল।

সংশ্লিষ্ট দুটি বাণিজ্যিক সূত্র জানিয়েছে, সিনোপেকের বাণিজ্যিক শাখা ইউনিপেক গত সপ্তাহেই রুশ তেল কেনা বন্ধ করে দেয়, যখন ব্রিটেন রসনেফট ও লুকঅয়েলসহ কিছু চীনা কোম্পানির ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

সূত্রগুলোর মতে, রসনেফট ও লুকঅয়েল সাধারণত তাদের তেল সরাসরি বিক্রি না করে মধ্যস্বত্বভোগী বা মধ্যস্থ প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে চীনে রপ্তানি করে থাকে। অন্যদিকে, চীনের স্বাধীন শোধনাগারগুলো (টি-পট) নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পর্যবেক্ষণ করতে আপাতত রুশ তেল কেনা স্থগিত রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি পরিষ্কার হলে তারা রুশ তেল কেনা চালিয়ে যেতে পারে, বলে জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী।