কানাডাকে যুক্ত করে যুক্তরাষ্ট্রের মানচিত্র প্রকাশ ট্রাম্পের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: কানাডাকে যুক্ত করে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছেন নবনিযুক্ত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে কানাডাকে নতুন অঙ্গরাজ্য বানানোর হুমকি দেন ট্রাম্প।

এরআগে গত মঙ্গলবার ক্যাপিটল হিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী প্রার্থী হিসেবে ট্রাম্পকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এরপর ফ্লোরিডায় নিজের বাড়িতে প্রেস কনফারেন্সে কানাডার ব্যাপারে আলোচনা করেন। সেখানে তিনি বলেন, “কৃত্রিম সীমান্ত থেকে মুক্তি নিন। এরপর দেখুন বিষয়টি দেখতে কেমন লাগে। বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বেশ ভালো হবে।

তিনি আরও বলেন, “কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র এক হবে” কানাডার সামরিক ব্যয় নিয়ে ট্রাম্প বলেন, “তাদের সেনাবাহিনী খুবই ছোট। তারা আমাদের সেনাদের ওপর নির্ভরশীল। সব ঠিক আছে। কিন্তু আপনার জানেন, তাদের এজন্য অর্থ দিতে হয়। এটি খুবই অযৌক্তিক।” ট্রাম্পকে তখন এক সাংবাদিক জিজ্ঞেস করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডাকে একীভূত করতে তিনি সামরিক শক্তি প্রয়োগ করবেন কি না। জবাবে তিনি বলেন, “না, অর্থনৈতিক শক্তি প্রয়োগ করব।”

এদিকে ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। কানাডা কখনো যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডা একে অপরকে সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক ও নিরাপত্তা সহযোগী। এতে দুই দেশের কর্মী ও সমাজ উপকৃত হচ্ছে। কানাডা কখনো যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হবে না।”




ভয়াবহ দাবানলে পুড়ছে লস অ্যাঞ্জেলেস, জরুরি অবস্থা জারি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ভয়াবহ দাবানলে পুড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প, বাণিজ্য ও আর্থিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র লস অ্যাঞ্জেলেস। বিশাল এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই দাবানলে ইতোমধ্যেই ১২০০ একরের কেশি এলাকা পুড়ে গেছে।

এছাড়া আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে বহু বাড়িঘর ও গাড়িও। পরিস্থিতি বিবেচনায় ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ১৩ হাজার ভবন আগুনের হুমকির মুখে রয়েছে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় জারি করা হয়েছে জরুরি অবস্থা। বুধবার (৮ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ১০ একর থেকে শুরু হয়ে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ১২০০ একরের বেশি এলাকায় দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। ফায়ার চিফ ক্রিস্টিন ক্রাউলি বলেছেন, ৩০ হাজারেরও বেশি লোককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং ১৩ হাজার ভবন আগুনে পুড়ে যাওয়ার হুমকির মধ্যে রয়েছে।

দাবানলের ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, প্যাসিফিক প্যালিসেডেস এলাকায় আগুন জ্বলছে এবং বাসিন্দারা আগুন থেকে বাঁচতে তাদের গাড়ি ছেড়ে চলে যাচ্ছেন।




ব্রিটিশ উপদেষ্টার কাছে অভিযুক্ত টিউলিপের ‘আত্মসমর্পণ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার ভাগিনী ও শেখ রেহানার কন্যা টিউলিপ সিদ্দিক কার্যত আত্মসমর্পণ করেছেন। ফ্ল্যাটকা-ে অভিযোগের ঘটনায় ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর নীতিশাস্ত্র উপদেষ্টার কাছে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির সিটি মন্ত্রী ও আর্থিক খাতে দুর্নীতি মোকাবিলার দায়িত্বে থাকা এমপি টিউলিপ সিদ্দিক।

লন্ডনে দু’টি ফ্ল্যাটের মালিকানা নিয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর তিনি এ আহ্বান জানান। কারো কারো মতÑ এই আহ্বান জানানোর মাধ্যমে কার্যত ‘আত্মসমর্পণ’ করলেন টিউলিপ। গত সোমবার ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট টিউলিপের আত্মসমর্পণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এ খবর দিয়েছে দ্য টেলিগ্রাফ। বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোকে টিউলিপসহ তার ভাই ও মায়ের অ্যাকাউন্টের তথ্য চেয়ে চিঠি দিয়েছে বিএফআইইউ। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র বলছে, লন্ডনে টিউলিপ সিদ্দিকের সম্পত্তি ব্যবহারকে ঘিরে অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রীদের স্বার্থ সম্পর্কিত স্বাধীন উপদেষ্টার কাছে রেফার করেছেন।




শেখ হাসিনার ভিসার মেয়াদ বাড়িয়েছে ভারত

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিসার মেয়াদ বাড়িয়েছে দেশটি। গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি করতে গত ২৩ ডিসেম্বর নয়াদিল্লির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা। এরই মধ্যে তার ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর খবর পাওয়া গেল।

দিল্লিভিত্তিক হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ত্যাগ করেন এবং তখন থেকেই তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। সম্প্রতি তার ভিসার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

তবে ভারত ঠিক কবে শেখ হাসিনার ভিসার মেয়াদ বাড়িয়েছে, তা এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও) শেখ হাসিনার ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিল। তবে তাকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়া নিয়ে যে গুঞ্জন রয়েছে, সেই কথাও অস্বীকার করা হয়েছে। হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, ভারতে শরণার্থী এবং আশ্রয় দেওয়ার ব্যাপারে কোনো সুনির্দিষ্ট আইন নেই।

এদিকে, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গুম এবং অন্যান্য অপরাধের অভিযোগে ৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। শেখ হাসিনা ও তার সহযোগী ১২ জনকে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হাজির করতে বলেছেন ট্রাইব্যুনাল।

বিডিআর (বর্তমান বিজিবি) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান বলেছেন, ২০০৯ সালে পিলখানায় ৭৪ জনের হত্যাযজ্ঞের তদন্তের অংশ হিসেবে তারা শেখ হাসিনাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে ভারতে যেতে চান।

হিন্দুস্তান টাইমস আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের এমন উদ্যোগকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণে নয়াদিল্লির ওপর চাপ বৃদ্ধির প্রয়াস হিসেবে দেখা হচ্ছে।




শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি নিয়ে যা বলছেন ভারতীয় কূটনীতিক

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: গুমের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। পরোয়ানা জারির ঘটনায় বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার বীণা সিক্রি এই অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং প্রমাণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে তথ্য-প্রমাণের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের সঙ্গে আলাপকালে দেশটির সাবেক এই কূটনীতিক বলেছেন, আন্তর্জাতিক সংস্থা জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কমিশন এই বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পায়নি।

তিনি বলেন, ‘‘শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এই পরোয়ানা জোরপূর্বক গুমের অভিযোগে… আপনি যদি প্রথম গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়ে কথা বলেন, তাহলে সেটি ছিল তথাকথিত গণহত্যার অভিযোগে। কিন্তু কোনও তথ্য ও প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। গত জুলাই-আগস্টে নিহতদের বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনকে একটি প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল। তারা বলেছে, আমাদের কোনও প্রমাণ দেওয়া হয়নি…। কোনও এফআইআর আছে কি? কী লেখা আছে এফআইআরে? প্রমাণ কী আছে? এমন কিছুই নেই…।’’




এবার তুরস্কের সাথে যুদ্ধে জড়াচ্ছে ইসরায়েল!

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ইসরায়েলি সরকারের গঠিত ন্যাগেল কমিটি একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে যেখানে বলা হয়েছে যে দেশটি তুরস্কের সাথে সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হওয়া উচিত।

ইসরায়েলের একটি সরকারি কমিটি জানিয়েছে, তুরস্কের অটোমান সাম্রাজ্যের প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা অঞ্চলে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।

সোমবার প্রকাশিত রিপোর্টে প্রতিরক্ষা বাজেট ও নিরাপত্তা কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে তুরস্কের উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং সিরিয়ার বিভিন্ন গোষ্ঠী তুরস্কের সঙ্গে যুক্ত হলে ইসরায়েলের জন্য তা “নিরাপত্তা হুমকি” তৈরি করতে পারে।

কমিটি সতর্ক করেছে যে, “সিরিয়া থেকে উদ্ভূত হুমকি ইরানি হুমকির চেয়েও ভয়ানক হতে পারে,” এবং তুরস্ক-সমর্থিত বাহিনীকে প্রক্সি হিসেবে ব্যবহারের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

রিপোর্টটি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এবং অতি-ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে।

সেখানে ইসরায়েলকে প্রস্তুত করার জন্য বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

-প্রতিরক্ষা বাজেট বার্ষিক ১৫ বিলিয়ন শেকেল (৪.১ বিলিয়ন ডলার) পর্যন্ত বৃদ্ধি করা
-উন্নত অস্ত্র ও বায়ু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অর্জন
-সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করা

নেতানিয়াহু বলেছেন, “ইরান দীর্ঘদিন ধরে আমাদের প্রধান হুমকি, তবে নতুন শক্তি এখন মঞ্চে প্রবেশ করছে। আমাদের অপ্রত্যাশিতের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। এই রিপোর্টটি ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার একটি রোডম্যাপ প্রদান করেছে।”

সোমবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান বলেছেন, আঙ্কারা সিরিয়াকে বিভক্ত করার প্রচেষ্টা রোধে প্রস্তুত এবং “ক্ষুদ্রতম ঝুঁকি” দেখলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

ইসরায়েল গাজায় তার চলমান বর্বর যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে, যেখানে ৪৫,৮৮৫ এরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এছাড়া, ইসরায়েল লেবানন ও সিরিয়াতেও আক্রমণ চালিয়েছে।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজায় মানবতা বিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে।




লন্ডনে খালেদা জিয়াকে দেওয়া হবে ভিআইপি প্রটোকল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: দীর্ঘ সময় পর চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সবশেষ ২০১৭ সালের জুলাইয়ে তিনি বিদেশ সফর করেছিলেন। বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যায় ভোগা ৭৯ বছর বয়সী খালেদা জিয়া চিকিৎসকের পরামর্শে আজ (৭ জানুয়ারি) রাত ১০টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লন্ডনের উদ্দেশে রওনা করবেন। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে বহন করার জন্য এরই মধ্যে কাতার আমিরের পক্ষ থেকে পাঠানো অত্যাধুনিক আইসিইউ সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকায় এসে পৌঁছেছে।

জানা গেছে, খালেদা জিয়াকে বহনকারী স্পেশাল এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি কাতারের হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিরতি শেষে লন্ডনের উদ্দেশে যাত্রা করবে।

বুধবার (৮ জানুয়ারি) বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টায় যুক্তরাজ্যের হিতথ্রো বিমানবন্দরে তাকে বহনকারী এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি অবতরণ করবে। সেখানে তিনি ভিআইপি প্রটোকল পাবেন।




ভারতের দখলে থাকা ৫ কিলোমিটার নদী উদ্ধার করলো বিজিবি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার সীমান্ত এলাকায় ভারতের দখলে থাকা কোদালিয়া নদীর পাঁচ কিলোমিটার উদ্ধার করেছে বিজিবি। স্বাধীনতার পর থেকেই কোদলা নদীর বাংলাদেশ সীমান্তের ওই অংশ ভারতের বিএসএফ দখল করে সেখানে আধিপত্য বিস্তার করে।

সোমবার (৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ৫৮ বিজিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজিবির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, কোদালিয়া নদী বাংলাদেশের অভ্যন্তর হতে দক্ষিণ দিকে প্রসারিত হয়ে মহেশপুরের মাটিলা এলাকায় ৪.৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত চিহ্নিত করেছে। ১৯৬১ সালে প্রণীত বাংলাদেশ-ভারত (স্টিপ ম্যাপ সিট নম্বর-৫১) মানচিত্র অনুসারে কোদলা নদীর উল্লিখিত ৪.৮ কিলোমিটার নদী সম্পূর্ণ বাংলাদেশ সীমান্তের শূন্য রেখার অভ্যন্তরে অবস্থিত।

বিজ্ঞপ্তি থেকে আরও জানা যায়, সম্প্রতি কোদালিয়া নদীর প্রকৃত মালিকানা-সংক্রান্ত এই বিষয়টি ৫৮ বিজিবির নজরে আসে। এরপর বিজিবি প্রথমে বিভিন্ন নথিপত্র স্থানীয় প্রশাসন ও মানচিত্র থেকে নদীটির প্রকৃত অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত করে বিএসএফের অবৈধ আধিপত্য বিস্তারের বিষয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানায়। পরে ৫৮ বিজিবির সদস্যরা সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কোদালিয়া নদী নিজেদের আয়ত্বে আনতে সক্ষম হয়। বর্তমানে বিজিবি সদস্যরা প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধির পাশাপাশি এলাকার জন্য যন্ত্রচালিত বোট এবং নদীর পাড়ে দ্রুত টহলের জন্য অল টেরেইন ভেহিকেল (এটিভি) বরাদ্দ করা হয়েছে।

মহেশপুরের যাদবপুর ইউনিয়নের মাটিলা গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মহিউদ্দীন বলেন, এক সময় এই নদী থেকে প্রচুর মাছ আহরণ করা হতো। স্বাধীনতার পর কোদালিয়া নদী পাড়ের মানুষ নিজেদের প্রয়োজনে বাংলাদেশের আরও অভ্যন্তরে বসবাস শুরু করলে কোদালিয়া নদীর বাংলাদেশ অংশটুকু ভারতের বিএসএফ দখল করে নেয় এবং সেখানে আধিপত্য বিস্তার করে। ফলে কৃষকরা মাঠে চাষাবাদ ও নদীতে মাছ ধরতে যেতে পারতেন না।




টিউলিপের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, যা বললেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বাংলাদেশে আর্থিক দুর্নীতির এক মামলায় নাম এসেছে যুক্তরাজ্যের দুর্নীতি-বিরোধী মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিকের। এর ফলে ক্রমেই তার ওপর পদত্যাগের চাপ বাড়ছে। তবে এসময়ে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। খবর রয়টার্সের।

লন্ডনে এক সংবাদ সম্মেলনে স্টারমার বলেছেন, ‘টিউলিপ যথার্থভাবে স্বাধীন উপদেষ্টার সঙ্গে কাজ করছেন। আমার তার (টিউলিপ) ওপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে।’
ব্রিটিশ সরকারের নৈতিকতাবিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্বে রয়েছেন লরি ম্যাগনাস। মন্ত্রীরা তাদের কোড অব কন্ডাক্ট ঠিকঠাকভাবে পালন করছেন কিনা সেটা দেখার দায়িত্ব তার। টিউলিপের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তা খতিয়ে দেখার এখতিয়ার রয়েছে লরি ম্যাগনাসের। নিজের বক্তব্যে এই বিষয়টিকেই ইঙ্গিত করেছেন স্টারমার।

বাংলাদেশে টিউলিপ ও তার পরিবারের চার সদস্যের বিরুদ্ধে একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৫ বিলিয়ন পাউন্ড আত্মসাতের অভিযোগের তদন্ত চলছে।

এ বিষয়ে রয়টার্স টিউলিপের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো জবাব পায়নি।

প্রসঙ্গত, গত ৫ আগস্ট বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। তার সঙ্গে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ রেহানাও। শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ।

শেখ হাসিনা এবং তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দেশে এখন বিভিন্ন খাতে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত চলছে। এর মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকে কেন্দ্র করে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে টিউলিপের বিরুদ্ধেও এখন তদন্ত চলছে।

এদিকে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি টেলিগ্রাফ বলছে, আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠজনের কাছ থেকে টিউলিপ সিদ্দিকের ফ্ল্যাট উপহার নেওয়ায় বিষয়টি টরি এমপিরাও খতিয়ে দেখার দাবি তুলেছেন।

‘টিউলিপ সিদ্দিক আন্ডার রাইজিং প্রেসার টু রিজাইন ওভার প্রোপার্টি স্ক্যান্ডাল’ শিরোনামের প্রতিবেদনে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস বলছে, দুর্নীতি প্রতিরোধের দায়িত্বে থাকা টিউলিপ সিদ্দিকের নামে তার খালা, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্কিত একাধিক সম্পত্তির খবর বেরিয়ে এসেছে।

ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস ফিলিপ টিউলিপের সম্পদের উৎস ব্যাখ্যা এবং তার খালার সঙ্গে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থের যোগসূত্র স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারকে এই প্রশ্নের উত্তর না দেওয়া পর্যন্ত তাকে (টিউলিপ) দুর্নীতিবিরোধী মন্ত্রীর পদ থেকে অপসারণ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

মেইল অন সানডে জানিয়েছে, টিউলিপ প্রাথমিকভাবে দাবি করেছিলেন যে, ফ্ল্যাটটি তার বাবা-মা কিনেছিলেন। পরবর্তী সময়ে বলা হয়, তার বাবা-মা আব্দুল মোতালিফকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছিলেন। কৃতজ্ঞতাস্বরূপ মোতালিফ তাকে ফ্ল্যাটটি উপহার দিয়েছেন।

এদিকে ডেইলি টেলিগ্রাফ ‘টিউলিপ সিদ্দিক মাস্ট বি ইনভেস্টিগেটেড বাই ওয়াচডগ ওভার ডিকটেটর লিঙ্কস’ শিরোনামের এক প্রতিবেদনে বলছে, বাংলাদেশে খালার রাজনৈতিক দলের মিত্রের কাছ থেকে নেওয়া টিউলিপ সিদ্দিকের লন্ডনের ফ্ল্যাট ঘিরে অভিযোগের বিষয়টি টোরি এমপিরা প্রধানমন্ত্রীর নৈতিকতাবিষয়ক উপদেষ্টার মাধ্যমে তদন্তের দাবি তুলেছেন।

তারা বলছেন, ফ্ল্যাটটি তার খালার রাজনৈতিক দলের মিত্রের দেওয়া উপহার ছিল বলে যে দাবি করা হচ্ছে, সেটা স্যার লরি ম্যাগনাসের খতিয়ে দেখা উচিত।

দ্য মেইল জানিয়েছে, টিউলিপ সিদ্দিক প্রথমে বলেছিলেন, এমপি হওয়ার আগে উত্তর লন্ডনে তিনি যে দুই বেডরুমের ফ্ল্যাটে ছিলেন, সেটি তার বাবা-মা কিনেছেন। মেইল বলেছে, ২০২২ সালে যখন প্রথমবার ফ্ল্যাটটি (বর্তমান বাজারমূল্য সাত লাখ পাউন্ড) নিয়ে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। কিন্তু গত সপ্তাহে লেবার পার্টির সূত্র সেই কথা পালটে দিয়ে বলে যে ফ্ল্যাটটি আসলে ‘পরিচিত’ কেউ টিউলিপের মা-বাবাকে উপহার হিসাবে দিয়েছেন।

লেবার পার্টির ঘনিষ্ঠ একজন গত সপ্তাহে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেছিলেন যে টিউলিপ সিদ্দিকের বাবা-মা ‘জীবনের চ্যালেঞ্জিং সময়ে একজন বন্ধুকে’ আর্থিক সহায়তা করেছিলেন। সেই ব্যক্তি পরবর্তী সময়ে কৃতজ্ঞতা হিসাবে টিউলিপের মালিকানায় তার ফ্ল্যাট হস্তান্তর করেছিলেন।

টিউলিপের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র টেলিগ্রাফকে বলেছে, ‘তিনি কীভাবে সম্পত্তির মালিকানা অর্জন করেছিলেন, সে সম্পর্কে টিউলিপের আগের বক্তব্য পরিবর্তন হয়েছে। তিনি ত্রুটি বুঝতে পেরেই যে সাংবাদিক আগে এ বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন তাকে বিষয়টি জানাতে চেয়েছেন।’




জাস্টিন ট্রুডোর পদত্যাগ, কানাডার রাজনীতিতে উত্তেজনা

কানাডার প্রায় এক দশক ধরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা জাস্টিন ট্রুডো পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। ২০১৫ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া ট্রুডো, তার দল লিবারেল পার্টির নেতা নির্বাচিত হয়েছিলেন ২০১৩ সালে। তার পদত্যাগের ঘোষণায় কানাডার রাজনৈতিক মহলে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

কানাডার ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবার ‘ট্রুডো পরিবার’ থেকে উঠে আসা জাস্টিন ট্রুডো তার বাবার পথ অনুসরণ করে জনপ্রিয়তা লাভ করেছিলেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে দেশের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তবে, তার বিদায়টা রাজসিক হয়নি। লিবারেল পার্টির অভ্যন্তরীণ চাপ ও বিরোধীদের অনাস্থা ভোটের হুমকির মুখে তাকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

৫৪ বছর বয়সী ট্রুডো, সোমবার (৬ জানুয়ারি) তার পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তবে, লিবারেল পার্টির নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার দায়িত্ব পালন অব্যাহত থাকবে।

পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার সময় তিনি জানান, আগামী জাতীয় নির্বাচনে কানাডা এক নতুন, যোগ্য নেতা বেছে নেবে। এ সময়, তিনি ২৪ মার্চ পর্যন্ত পার্লামেন্ট স্থগিত রাখার ঘোষণা দেন, যাতে বিরোধীরা ভোটাভুটির আয়োজন করতে না পারে। যদিও, বিরোধীরা লিবারেল পার্টিকে ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্য অনাস্থা ভোটের হুমকি দিয়েছে।

ট্রুডোর পদত্যাগের পর, লিবারেল পার্টির নতুন নেতা হিসেবে সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা মার্ক কার্নির নাম শোনা যাচ্ছে। তবে, ধারণা করা হচ্ছে ফ্রিল্যান্ডের প্রতি ট্রুডোর সমর্থন বেশি।

কানাডার বিরোধী দল, নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা জগমিত সিং, ট্রুডোর পদত্যাগের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এটি শেষ কথা নয়। তিনি দাবি করেন, সমস্যার মূল শুধু ট্রুডো নয়, বরং পুরো লিবারেল পার্টি এবং তার মন্ত্রীরা দায়ী।

এদিকে, কানাডার কনজারভেটিভ পার্টির নেতা পিয়েরে পোলিভর ট্রুডোর পদত্যাগকে বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন না। তিনি বলেছেন, লিবারেল পার্টি এবং তাদের নেতারা দীর্ঘ সময় ধরে ট্রুডোর সমর্থক ছিল এবং তাদের পরিবর্তন কিছুই আনবে না।

এমনকি, যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও পোলিভরের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন, তিনি বলেছেন, পোলিভর ক্ষমতায় এলে একসঙ্গে কাজ করা যাবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম