যুক্তরাষ্ট্রে দাবানলে পুড়ল ১০ হাজার বাড়ি-গাড়ি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলসে ভয়াবহ দাবানলে ১০ হাজার ঘরবাড়ি, গাড়ি ও অন্যান্য অবকাঠামো পুড়ে গেছে। এছাড়া আগুনে দগ্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত সাত জন।

লস অ্যাঞ্জেলসে বেশ কয়েকটি সক্রিয় দাবানল জ্বলছে। এরমধ্যে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ওয়েস্ট হিলে কেনেথ নামের নতুন একটি দাবানলের সৃষ্টি হয়। ধারণা করা হচ্ছে, এই দাবানলটি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে শুরু করেছে। এরসঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়েছে। এরআগে গত মঙ্গলবার থেকে তাণ্ডব চালিয়ে আসছিল প্যালিসাদেস এবং ইটন নামের দুটি দাবানল।

লস অ্যাঞ্জেলসের মেয়র কারেন বাস বলেছেন, বাতাসের গতি বেশি থাকায় নতুন দাবানলটি দ্রুত সময়ের মধ্যে ছড়াতে পারে। প্যালসাদেস এবং ইটন উভয় দাবানলই পাঁচ হাজার করে অবকাঠামো ধ্বংস করেছে। যার মধ্যে আছে বাড়ি-গাড়ি এবং শেড। এছাড়া এগুলোর আগুনে ৩০ হাজার একর জমি পুড়ে ভষ্মিভূত হয়ে গেছে।

লস অ্যাঞ্জেলস কাউন্টি শেরিফ রবার্ট লুনা প্রেস কনফারেন্সে জানান, নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি। লুনা বলেন, “মনে হচ্ছে এই এলাকায় কেউ পারমাণবিক বোমা ফেলেছে। আমি কোনো ভালো খবর প্রত্যাশা করছি না। আশঙ্কা করছি মৃতের সংখ্যা বাড়বে।”

ইতিমধ্যে সেখানকার ১ লাখ ৮০ হাজার মানুষকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আরও দুই লাখ মানুষকে সরে যাওয়ার নির্দেশনা পাওয়ার জন্য সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।




লস অ্যাঞ্জেলেসে ভয়াবহ দাবানল, পুড়ে ছাই তারকাদের কোটি টাকার বাড়ি-গাড়ি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেস শহরে ভয়াবহ দাবানলে এক ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চলেছে। বিশেষ করে প্যাসিফিক প্যালিসেডস অঞ্চলে থাকা হলিউড তারকাদের বিলাসবহুল বাড়ি এবং গাড়ি আগুনে পুড়ে গেছে। এই অঞ্চলে বসবাসকারী বেশ কিছু তারকা, যেমন জেমস উড, জেনিফার অ্যানিস্টন, ব্র্যাডলি কুপার, টম হ্যাঙ্কস, বেন অ্যাফ্লেক, মাইকেল কিটন, অ্যাডাম স্যান্ডলারসহ অনেক সেলিব্রিটির সম্পত্তি দাবানলে ভস্মীভূত হয়েছে। এমনকি প্যারিস হিলটনও ঘরহারা হয়েছেন।

বিস্তারিত জানা গেছে, দাবানলে লস অ্যাঞ্জেলেসের চারপাশের বিশাল এলাকা পুড়ে গেছে। প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূল থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসের উত্তরের পাহাড় পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে আগুন। লস অ্যাঞ্জেলেসের ইতিহাসে এটি একে অন্যতম ভয়াবহ দাবানল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শহরের হাজার হাজার বাড়ি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে গেছে।

স্থানীয় কর্মকর্তাদের মতে, দাবানল এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি, এবং এরই মধ্যে সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ক্ষতির পরিমাণ প্রাথমিকভাবে ১ হাজার কোটি ডলার থেকে ৬ হাজার কোটি ডলারের মধ্যে হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

এছাড়া, একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই অঞ্চলে সস্তা বীমা খরচ ছিল, তবে এই ভয়াবহ দাবানলের পর বীমা খরচ বৃদ্ধি পেতে পারে। ক্যালিফোর্নিয়ার সম্পত্তির মূল্য তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় বীমার খরচ কম হলেও, অনেক বীমা প্রতিষ্ঠান তাদের কভারেজ কমিয়ে দিয়েছে।

২০২৩ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার গড় বীমা প্রিমিয়াম ছিল ২২০০ ডলার, যা অন্য রাজ্যগুলোর তুলনায় অনেক কম ছিল। তবে, দাবানলের কারণে এই সস্তা বীমার খরচ বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে, দাবানলে পুড়ে গেছে লস অ্যাঞ্জেলেসের ২৭ হাজার একর জায়গা, এবং সেখানে একটিও সম্পত্তি আগুন থেকে রক্ষা পায়নি।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




টিউলিপকে মন্ত্রিত্ব থেকে সরানোর কথা ভাবছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: যুক্তরাজ্যের সিটি মিনিস্টার টিউলিপ সিদ্দিককে মন্ত্রিত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার। এ লক্ষ্যে টিউলিপকে তার পদ থেকে সরিয়ে ওই পদে দায়িত্ব পালনের জন্য সম্ভাব্য ব্যক্তিদের শর্টলিস্টও করা হয়েছে।

যদিও বাংলাদেশে আর্থিক দুর্নীতির মামলার তদন্তে যুক্তরাজ্যের অর্থ ও নগরবিষয়ক মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিকের ওপর পদত্যাগের চাপ বাড়লেও অতীতে তার পাশেই দাঁড়িয়েছিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার।

বেশ কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, বাংলাদেশের সাবেক স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার সঙ্গে সম্পর্কের কারণে টিউলিপ সিদ্দিককে তার পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হলে তার স্থলাভিষিক্ত হবেন এমন প্রার্থীদের নাম প্রধানমন্ত্রী স্যার কেয়ার স্টারমারের জ্যেষ্ঠ সহযোগীরা বিবেচনা করছেন বলে টাইমসকে বলা হয়েছে।

ঊর্ধ্বতন ওই কর্মকর্তারা সপ্তাহান্তে যুক্তরাজ্যের এই ট্রেজারি মন্ত্রীর স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন এমন প্রার্থীদের চিহ্নিত করেছেন বলেও জানা গেছে। গত সোমবার টিউলিপ সিদ্দিক যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর মিনিস্ট্রিয়াল স্ট্যান্ডার্ডসের ইন্ডিপেনডেন্ট অ্যাডভাইজার লাউরি ম্যাগনাসের কাছে নিজের বিরুদ্ধে তদন্তের আহ্বান জানানোর প্রকাশ্য ঘোষণা দেওয়ার আগেই কর্মকর্তারা সম্ভাব্য প্রার্থীদের চিহ্নিত করেন।




গাজায় নিহত আরও ৭০, প্রাণহানি ছাড়িয়ে গেল ৪৬ হাজার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বর্বর হামলায় কমপক্ষে আরও ৭০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এতে করে উপত্যকাটিতে নিহতের মোট সংখ্যা ৪৬ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

এছাড়া ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলা এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও লক্ষাধিক ফিলিস্তিনি। বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের চলমান হামলায় কমপক্ষে আরও ৭০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এতে করে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬ হাজার ৬ জনে পৌঁছেছে বলে বৃহস্পতিবার অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নিরলস এই হামলায় আরও অন্তত এক লাখ ৯ হাজার ৩৭৮ জন ব্যক্তিও আহত হয়েছেন।

মন্ত্রণালয় বলেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত আগ্রাসনে ৭০ জন নিহত এবং আরও ১০৪ জন আহত হয়েছেন। অনেক মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং রাস্তায় আটকা পড়ে আছেন কারণ উদ্ধারকারীরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ মনে করছে, গাজা উপত্যকা জুড়ে ধ্বংস হওয়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও ১০ হাজারেরও বেশি লোক নিখোঁজ রয়েছেন। মূলত গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব সত্ত্বেও ইসরায়েল অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডে তার নৃশংস আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে।

উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন আন্তঃসীমান্ত হামলার পর থেকে ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় অবিরাম বিমান ও স্থল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েলি এই হামলায় হাসপাতাল, স্কুল, শরণার্থী শিবির, মসজিদ, গির্জাসহ হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিচারের মুখোমুখি করবে হামাস
এছাড়া ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে প্রায় ২০ লাখেরও বেশি বাসিন্দা তাদের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

মূলত ইসরায়েলি আক্রমণ গাজাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। জাতিসংঘের মতে, ইসরায়েলের বর্বর আক্রমণের কারণে গাজার প্রায় ৮৫ শতাংশ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। আর খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং ওষুধের তীব্র সংকটের মধ্যে গাজার সকলেই এখন খাদ্য নিরাপত্তাহীন অবস্থার মধ্যে রয়েছেন।

এছাড়া অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডের ৬০ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। ইসরায়েল ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছে।




চার দেশের ভূখণ্ড নিয়ে ‘বৃহত্তর ইসরাইলের’ মানচিত্র প্রকাশ

Logo
ই-পেপার
সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলা বিনোদন চাকরি
Advertisement

আন্তর্জাতিক

চার দেশের ভূখণ্ড নিয়ে ‘বৃহত্তর ইসরাইলের’ মানচিত্র প্রকাশ
Icon আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০২৫, ০২:৫৪ পিএম

15
Shares
facebook sharing buttonmessenger sharing buttontwitter sharing buttonwhatsapp sharing buttonprint sharing buttoncopy sharing button
চার দেশের ভূখণ্ড নিয়ে ‘বৃহত্তর ইসরাইলের’ মানচিত্র প্রকাশ
ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

মধ্যপ্রাচ্যের চারটি আরব দেশের ভূখণ্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে ‘বৃহত্তর ইসরাইলের’ মানচিত্র প্রকাশ করেছে তেলআবিব। নতুন মানচিত্রে ফিলিস্তিন, জর্ডান, সিরিয়া ও লেবাননের ভূখণ্ডকে বৃহত্তর ইসরাইলের অংশ বলে দাবি করা হয়েছে। খবর আরব নিউজের।

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: চলতি সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই মানচিত্রটি ছড়িয়ে পড়ে। এতে ফিলিস্তিন, জর্ডান, সিরিয়া ও লেবাননের বিস্তীর্ণ ভূখণ্ড কথিত ‘বৃহত্তর ইসরাইলের’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এই মানচিত্র প্রকাশের পরই নিন্দার ঝড় উঠেছে। অধিকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র নাবিল আবু-রুদেইনে ওই মানচিত্রকে সব আন্তর্জাতিক আইন ও প্রস্তাবের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছেন।

তিনি বলেন, ইসরাইলের দখলদারির নীতি, অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের হামলা এবং আল-আকসা মসজিদের বিরামহীন অবমাননা বন্ধ করতে জরুরি ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

জর্ডানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইসরাইলের পক্ষ থেকে প্রকাশিত মানচিত্রকে ‘উস্কানিমূলক ও ভিত্তিহীন’ বলে উল্লেখ করেছে। তারা বলছে, বর্ণবাদের ভিত্তিতে নেয়া ইসরাইলি পদক্ষেপ যেমন জর্ডানের সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করতে পারবে না, তেমনি তা ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায়সঙ্গত অধিকারও লঙ্ঘন করতে পারবে না।

এছাড়া সৌদি আরবও ওই ইসরাইলি মানচিত্রের নিন্দা ও প্রত্যাখ্যান করেছে সৌদি আরব। রিয়াদ বলেছে, এই ধরনের চরমপন্থি দাবি ইসরাইলের উদ্দেশ্য প্রকাশ করে, যা তাদের দখলদারিকে সুসংহত করতে, রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বের ওপর প্রকাশ্য আক্রমণ চালিয়ে যেতে এবং আন্তর্জাতিক আইন ও নিয়ম লঙ্ঘন করতে চায়।




মার্কিন সমর্থনপুষ্ট সেনাপ্রধানই হলেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: দীর্ঘ দুই বছর ধরে শূন্য থাকা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ প্রেসিডেন্ট পদের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন লেবাননের সেনাপ্রধান জোসেফ আউন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনপুষ্ট এই সেনাপ্রধানকে বৃহস্পতিবার লেবাননের পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করা হয়েছে। শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনপুষ্টই নন, বরং ইসরায়েলের সঙ্গে বিধ্বংসী যুদ্ধের পর ইরান-সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর প্রভাব তিনি সীমিত করেছেন বলে মনে করা হয়।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পার্লামেন্টের ভোটাভুটিতে সেনাপ্রধান জোসেফ আউনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার এই ঘটনা লেবানন এবং বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্যের পরিবর্তনকে প্রতিফলিত করছে। কারণ গত বছরের যুদ্ধে লেবাননের শিয়া মতাবলম্বী হিজবুল্লাহ গোষ্ঠী ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ডিসেম্বরে হিজবুল্লাহর মিত্র সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতন ঘটেছে।

সেনাপ্রধানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া লেবাননে সৌদি আরবের প্রভাবের পুনরুত্থানেরও ইঙ্গিত দেয়; যেখানে রিয়াদের ভূমিকা ইরান এবং হিজবুল্লাহ অনেক আগেই নস্যাৎ করে দিয়েছিল।

লেবাননের সাম্প্রদায়িক ক্ষমতা ভাগাভাগি ব্যবস্থায় একজন ম্যারোনাইট খ্রিস্টানের জন্য সংরক্ষিত প্রেসিডেন্ট পদটি ২০২২ সালের অক্টোবরে মিশেল আউনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে খালি রয়েছে। দেশটির রাজনৈতিক দলগুলোর মাঝে গভীর বিভক্তি থাকায় সংসদের ১২৮ আসনের ভোটাভুটিতে পর্যাপ্তসংখ্যক ভোট জিততে পারে এমন কোনও প্রার্থীর বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছিল।

দেশটির সংসদের স্পিকার নাবিহ বেরির মতে, বুধবার প্রথম দফার ভোটে জোসেফ আউন প্রয়োজনীয় ৮৬ ভোটের চেয়ে ১৫ ভোট কম পান। সংসদের ৭১ জন সদস্যের সমর্থন পান তিনি। পরে হিজবুল্লাহ ও তাদের শিয়া মিত্র আমাল মুভমেন্টের সংসদ সদস্যরা সমর্থন জানানোয় দ্বিতীয় দফায় ৯৯ ভোট পান আউন।

বৃহস্পতিবার ভোটাভুটির আগে হিজবুল্লাহর পছন্দের প্রার্থী সুলেমান ফ্রাঙ্গিয়েহ প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নিয়ে সেনাপ্রধান আউনের প্রতি সমর্থন জানান। সেনাপ্রধান জোসেফ আউনের প্রতি সমর্থন ঘিরে দিনভর ফরাসি ও সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূতরা বৈরুতে রাজনীতিবিদদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেন বলে লেবাননের তিনটি রাজনৈতিক সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে। এসব বৈঠকের ফলে মার্কিন সমর্থনপুষ্ট লেবাননের সেনাপ্রধানের জন্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়াটা অনেকাংশে সহজ হয়ে যায়।

সৌদি আরবের রাজকীয় আদালতের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বলেছে, ভোটের আগে হিজবুল্লাহর ঘনিষ্ঠ মিত্র বেরিকে ফরাসী, সৌদি এবং মার্কিন রাষ্ট্রদূতরা জানিয়ে দেন সৌদি আরবসহ আন্তর্জাতিক আর্থিক সহায়তা আউনের নির্বাচনের ওপর নির্ভর করছে।

গত নভেম্বরে ওয়াশিংটন এবং প্যারিসের মধ্যস্থতায় হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে জোসেফ আউনের প্রধান ভূমিকা ছিল। চুক্তির শর্ত হিসাবে সেই সময় বলা হয়েছিল, ইসরায়েলি সৈন্য ও হিজবুল্লাহর যোদ্ধাদের প্রত্যাহার করার সময় লেবাননের সেনাবাহিনীকে দক্ষিণ লেবাননে মোতায়েন করতে হবে।

মার্কিন-সমর্থনপুষ্ট ৬০ বছর বয়সী আউন ২০১৭ সাল থেকে লেবাননের সেনাবাহিনীর প্রধানের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। হিজবুল্লাহর প্রভাব সীমিত করতে সশস্ত্র এই গোষ্ঠীর প্রতি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সমর্থন হ্রাসে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নেন তিনি। দীর্ঘস্থায়ী এই মার্কিন নীতির ফলে লেবাননের সেনাবাহিনীর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন অব্যাহত রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

সূত্র: রয়টার্স, এএফপি।




রাখাইনে জান্তা বাহিনীর বিমান হামলায় শিশুসহ নিহত ৪০, মৃতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা

মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যের আরাকান আর্মি (এএ) নিয়ন্ত্রিত রামরি টাউনশিপের কিয়ুকনিমাও গ্রামে জান্তা বাহিনীর বিমান হামলায় শিশুসহ অন্তত ৪০ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে। এই হামলার পর মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৮ জানুয়ারি) এই হামলা চালানো হয়।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, বিমান হামলায় কিয়ুকনিমাও এলাকায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে, এবং উত্তর-দক্ষিণ ও মঞ্চলীয় এলাকাগুলোর প্রায় ৫০০ বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে। আহতদের মধ্যে শিশু, নারী এবং বয়স্ক ব্যক্তিরাও রয়েছেন।

হামলার পর ছড়িয়ে পড়া আগুন দ্রুত আশপাশের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাতে ছড়িয়ে পড়ে, এতে শত শত ঘরবাড়ি পুড়ে যায়। রামরি টাউনশিপে আরাকান আর্মি ও জান্তা বাহিনীর মধ্যে চলমান সংঘর্ষের কারণে বেশিরভাগ মানুষ কিয়ুকনিমাও অঞ্চলে আশ্রয় নিয়েছে।

কিয়ুকনিমাওয়ের এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, “এই হামলায় আহত মানুষের সংখ্যা নিহতের চেয়ে বেশি, কিন্তু তাদের সেবা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম নেই। এই কারণে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।”

আরাকান আর্মি গত বছরের ১১ মার্চ মিয়ানমারের পশ্চিম উপকূলের দ্বীপ রামরি টাউনশিপের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছিল। এরপর থেকে জান্তা বাহিনী প্রায়ই এই অঞ্চলে বিমান হামলা চালাচ্ছে।

২০২১ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অভ্যুত্থানে দেশটির গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন বেসামরিক সরকার পতনের পর থেকে দেশজুড়ে জান্তা-বিরোধী সশস্ত্র বিদ্রোহের সূচনা হয়।

আরাকান আর্মির মুখপাত্র খাইং থু খা একে “কাপুরুষোচিত” আক্রমণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং এটিকে “বেসামরিক নাগরিকদের ওপর মারাত্মক বিমান হামলা শুরু করা একটি নির্মম যুদ্ধাপরাধ” বলে উল্লেখ করেছেন।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ দাবানল, পালাচ্ছেন মানুষ, পুড়ে ছাই ১১০০ ঘরবাড়ি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্চেলসে ভয়াবহ দাবানলে পুড়ছে ঘরবাড়িসহ সবকিছু। আগুনের ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে সেখান থেকে পালাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। সংবাদমাধ্যম লস অ্যাঞ্জেলস টাইমস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ১০০ কিলোমিটার গতিতে বাতাস বইতে থাকে। এতে তিনটি বড় দাবানলের শক্তি বৃদ্ধি পায়। আগুনে দগ্ধ হয়ে এখন পর্যন্ত অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

এ মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে পালিসাদেস দাবানলটি। এটির আগুনে ১৫ হাজার ৮০০ একর জমি পুড়ে গেছে। এ থেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি কোনো কিছু বাদ যায়নি।

অপরদিকে ইটন দাবানলে ১০ একর জায়গা ভষ্মিভূত হয়ে গেছে। ছাই হয়েছে আলটাডেনা এবং পাসাডেনার বহু ঘরবাড়ি। এ দুটির পাশাপাশি তাণ্ডব চালাচ্ছে সানসেট এবং হার্স্ট দাবানল। এরমধ্যে নতুন করে হলিউড হিলে আগুন ছড়িয়েছে।

ভয়াবহ আগুনে বেশ কয়েকজন হলিউড তারকার ঘর পুড়ে গেছে। তারা নিজেরাই সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি জানিয়েছেন।

আগুনের কারণে সেখানকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দাবানলের আগুনের তীব্রতা এতই বেশি যে অনেকে তাদের গাড়ি রেখেই পালাতে বাধ্য হয়েছেন। সংবাদমাধ্যম সিএনএনের সাংবাদিক অ্যান্ডারসন কুপার আলটাডেনা থেকে জানিয়েছেন, সেখানে আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে। স্যাটেলাইটের ছবিতে দেখা গেছে আলটাডেনার এমন কিছু নেই যা দাবানলের আগুনে পুড়েনি।




গাজায় বর্বর হত্যাযজ্ঞ চলছেই, নিহত আরও অর্ধশতাধিক ফিলিস্তিনি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বর্বর হামলায় আরও অর্ধশতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এতে করে উপত্যকাটিতে নিহতের মোট সংখ্যা ৪৫ হাজার ৯০০ ছাড়িয়ে গেছে।

এছাড়া ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলা এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও লক্ষাধিক ফিলিস্তিনি। বুধবার (৮ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের চলমান হামলায় কমপক্ষে আরও ৫১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এতে করে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৫ হাজার ৯৩৬ জনে পৌঁছেছে বলে বুধবার অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।




সৌদিতে ব্যাপক বন্যা, মক্কা-মদিনায় রেড অ্যালার্ট জারি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: গত কয়েক দিনে ধরে টানা ভারী বর্ষণের জেরে ব্যাপক বন্যা শুরু হয়েছে সৌদি আরবে। বন্যার কারণে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র দুই শহর মক্কা ও মদিনায় ইতোমধ্যে লাল সতর্কতা সংকেত (রেড অ্যালার্ট) জারি করেছে দেশটির আবহাওয়া দপ্তর ন্যাশনাল সেন্টার ফর মেটেরোলজি (এনসিএম)।

মক্কা ও মদিনার অবস্থান সৌদির পশ্চিমাঞ্চলে। এনসিএমের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন দেশটির পূর্বাঞ্চলও বন্যার পানিতে ডুবে গেছে।

বন্যার কারণে অরেঞ্জ অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে রাজধানী রিয়াদ, মধ্যাঞ্চল এবং দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলীয় দুই প্রদেশ আসির এবং জাজানে। পাশাপাশি জনগণ সতর্ক থাকার আহ্বানও জানিয়ে বলা হয়েছে, তারা যেন সরকারে নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশনা অনুসরণ করেন। অনেক এলাকায় বৃষ্টিপাত এখনও অব্যাহত রয়েছে উল্লেখ করা হয়েছে এনসিএমের সর্বশেষ পূর্বাভাসে।

বন্যায় আটকে পড়াদের উদ্ধার করতে যাবতীয় প্রস্তুতির কাজ শেষ হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে সৌদির দুর্যোগ মোকাবিলা দপ্তর এবং আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা সংস্থা রেড ক্রিসেন্ট। দুর্যোগ মোকাবিলা কর্তৃপক্ষের বিবৃতি জনগণকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, তারা যেন নিচু এলাকা এবং বন্যার পানি জমতে পারে— এমন সব এলাকা এড়িয়ে চলেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সৌদির বন্যার বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে। সেসব ছবি-ভিডিওতে দেখা গেছে, বন্যার পানির স্রোতে ভেসে যাচ্ছে গাড়ি। এছাড়া বিভিন্ন ভবনের একতলার প্রায় অর্ধেক ডুবে গেছে— এমনও দেখা গেছে।