যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুমোদন ইসরায়েলের, রোববার মুক্তি ৯৫ ফিলিস্তিনির

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: গাজায় যুদ্ধবিরতির চুক্তির অনুমোদন দিয়েছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা। শনিবার ভোরের দিকে এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ইসরায়েলের সরকার জিম্মি ফেরত পরিকল্পনার অনুমোদন দিয়েছে। আগামীকাল রোববার থেকে কার্যকর হচ্ছে এই পরিকল্পনা।”

এদিকে ইসরায়েলের বিচার বিষয়ক মন্ত্রণালয় পৃথক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির প্রথম দিন রোববার দেশটির বিভিন্ন কারাগারে বন্দি ৯৫ জন ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেওয়া হবে। এদের মধ্যে ৬৯ জন নারী, ১৬ জন পুরুষ এবং ১০ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ৯৫ জনের নামও প্রকাশ করেছে বিচার বিষয়ক মন্ত্রণালয়।




ট্রাম্পের শপথে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি মোদিকে, কারণ কী

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: আগামী সোমবার (২০ জানুয়ারি) দ্বিতীয়বারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবারই প্রথমবার রীতি ভেঙে কয়েকজন বিশ্বনেতাকে নিজের শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ট্রাম্প। যার মধ্যে আছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট জাভিয়ার মিলেই, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, এল সাদভাদরের প্রেসিডেন্ট নাঈব বুকেলে এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এছাড়া এ তালিকায় আছেন ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জেয়ার বলসোনারোও। তবে ট্রাম্পের কাছের মানুষ হিসেবে পরিচিত ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আমন্ত্রণ পাননি। তার শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত এরিক গারসেত্তিকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করেছিল সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে। জবাবে তিনি বলেছেন, “কাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এই তালিকা দেখিনি। তবে আমি জানি পরবর্তী জাতীয় নিরাপত্তা পরামর্শক হতে যাচ্ছেন মাইক ওয়াল্টজ। তিনি প্রতিনিধি পরিষদে ভারতীয় রাজনৈতিক সমিতির চেয়ারম্যান। মার্কো রুবিওকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে মনোনিত করেছেন ট্রাম্প। তিনি খুব সম্ভবত এ দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন। যিনি ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সামরিক-কৌশলগত সম্পর্ককে আরও গভীর করার জন্য আইন উত্থাপন করেছিলেন। তারা এ দুই দেশের সম্পর্কের বড় চিয়ারলিডার।”




গাজা যুদ্ধবিরতি: ইরানজুড়ে হামাসের বিজয় উদযাপন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় সম্পর্কিত একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে হামাস ও ইসরাইল। রোববার থেকে এই চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। দীর্ঘ ১৫ মাস পর গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার খবরকে রীতিমত হামাসের বিজয় হিসেবে দেখছে ইরানের জনগণ।

সেই বিজয় উদযাপন করার জন্য ইরানের জনগণ দেশটির বিভিন্ন শহরে শুক্রবার জুম’আর নামাজের পর বিজয় ও আনন্দ মিছিল করেছে।

হামাস ও ইসলামিক জিহাদসহ গাজার প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর চাপে দখলদার ইসরাইল বাধ্য হয়ে গত বুধবার হামাসের সঙ্গে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে নেয়। যদিও তারা দাবি করেছিল যে, গাজায় ১৫ মাস আগে শুরু হওয়া তাদের গণহত্যামূলক অভিযানে হামাসকে ধ্বংস করাই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য।

তবে সেটা তারা অর্জন করতে পারেনি। যার ফলে গাজায় হামাসের বিজয় উদযাপন করতে ইরানিরা দেশটির রাজধানী তেহরানসহ মাজানদারানের রাজধানী সারি, পশ্চিম ইরানের ইলাম এবং উত্তর-পূর্ব ইরানের ব্রিজ্যান্ড শহরে ‘বিজয় শুক্রবার’ নামে আনন্দ মিছিল করেছে।




এখনো দেননি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা, আড়ালে যা করছেন নেতানিয়াহু

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ও দখলদার ইসরায়েল গতকাল যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে সম্মত হয়। যা হামাসের একাধিক কর্মকর্তা, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, কাতারের আমির মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান আল-থানি এবং নির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে জানান।

তবে দখলদার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এখনো যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেননি। উল্টো হামাসের ওপর দোষ চাপিয়ে এটির অনুমোদন আটকে রেখেছেন তিনি। তবে ইসরায়েলের এক কর্মকর্তাই বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) জানিয়েছেন, নেতানিয়াহু তার জোট সরকার বাঁচাতে এমনটি করছেন।

নেতানিয়াহুর ডানপন্থি জোট সরকারের দুই উগ্রপন্থি মন্ত্রী ইতামার বিন গিভির এবং বাজায়েল স্মোরিচ জানিয়েছেন, যদি হামাসের সঙ্গে চুক্তির অনুমোদন তিনি দেন এবং আবারও যুদ্ধ শুরু না করেন তাহলে জোট থেকে বেরিয়ে সরকার ভেঙে দেবেন। কিন্তু চুক্তি হলেও তারা দুজন যেন জোট না ছাড়েন সেটির প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত নেতানিয়াহু।

এই কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলকে বলেছেন, চুক্তিটির বিস্তারিত ধারাগুলো চূড়ান্ত করা হচ্ছে। কিন্তু যেসব বিষয় নিয়ে এখনো মতানৈক্য রয়েছে সেগুলো খুবই ছোট। যা কয়েক ঘণ্টার মধ্যে শেষ করা যাবে। নেতানিয়াহু এ মুহূর্তে কী করছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে এ কর্মকর্তা বলেন, তিনি ‘জোট রাজনীতি’ করছেন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দপ্তরের নিরাপত্তাবিষয়ক মুখপাত্র জন কিরবি বলেছেন, নেতানিয়াহু চুক্তি নিয়ে হামাসের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তুলেছেন সেগুলো সম্পর্কে তারা অবগত। তবে তার বিশ্বাস এসব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হবে এবং আগামী রোববার থেকে যুদ্ধবিরতির চুক্তি কার্যকর হবে।

এদিকে কাতারের আমিরের যুদ্ধবিরতির ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ৮০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি সেনারা। এরমধ্যে শুধুমাত্র গাজা সিটিতেই প্রাণ হারিয়েছেন ৩০ জন।

সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা অ্যারাবিকের সংবাদদাতা জানিয়েছেন, গাজা সিটির ইঞ্জিনিয়ার্স ইউনিয়ন বিল্ডিংয়ের কাছের একটি ভবনে ভয়াবহ হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। ওই হামলায় নিহত হন ১৮ ফিলিস্তিনি। অপরদিকে ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, গাজা সিটির রেদওয়ান এলাকা থেকে ১২ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে তারা।
এছাড়া মধ্য গাজার বুরুজি ক্যাম্পের কারাজ এলাকায় ড্রোন হামলায় নিহত হন আরও পাঁচজন। নিহতরা সেখানে জড়ো হয়েছিলেন।
গতকাল হামাস ও ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা শোনার পর গাজার সাধারণ মানুষ রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। তারা আনন্দ উল্লাস করতে থাকেন। তবে কিছুক্ষণ পরই ইসরায়েলি হামলার আশঙ্কায় বাসিন্দারা আবারও নিজ নিজ তাঁবুতে ফিরে যান।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল




বাংলাদেশে দ্রুত নির্বাচন চায় ভারত-যুক্তরাষ্ট্র

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে নির্বাচন চায় বলে জানিয়েছেন দিল্লিতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত এরিক গারসেত্তি। তার মতে, গণতন্ত্র ও নির্বাচন বাংলাদেশে নতুন অধ্যায় খুলতে সহায়ক হবে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউওআইএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এরিক গারসেত্তি বলেন, ‘‘আমরা উভয়ই যত দ্রুত সম্ভব বাংলাদেশে গণতন্ত্র এবং গণতান্ত্রিক নির্বাচন দেখতে চাই। আর এটি বাংলাদেশে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে সহায়তা করবে।”

এমন মন্তব্যের মাধ্যমে দিল্লিতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবারই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে কথা বললেন। তিনি বলেন, “আমি মনে করি ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্র একক নীতিতে বিশ্বাস করে। সেটি হলো উভয় দেশই শান্তিপূর্ণ দক্ষিণ এশিয়া দেখতে চায়। এই মুহূর্তে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ হয়ে কাজ করছে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র।”




যুক্তরাষ্ট্র-ভারত: বাংলাদেশে দ্রুত গণতন্ত্র ও নির্বাচন চায়

ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত এরিক গারসেটি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত উভয়ই দ্রুত বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে আগ্রহী। তিনি বলেন, “উভয় দেশ শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক দক্ষিণ এশিয়ার জন্য একসঙ্গে কাজ করছে।”

ওয়ার্ল্ড ইজ ওয়ান নিউজের (WION) সহকারী সম্পাদক সিদ্ধান্ত সিবালের সঙ্গে আলাপকালে রাষ্ট্রদূত গারসেটি আরও জানান, “বাংলাদেশ কিংবা অন্য কোনো দেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে দুই দেশই একমত। এছাড়াও বাংলাদেশে একটি শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে এটি দেশের জন্য নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।”

গারসেটি মনে করেন, অতীত ভুলে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র একত্রে কীভাবে ভবিষ্যৎ দক্ষিণ এশিয়াকে আরো স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক করা যায় তা নিয়ে কাজ করার সময় এসেছে।

বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা ক্রমেই বাড়ছে। ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বার্তাটি এ বিষয়টিকেই প্রতিফলিত করছে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়ার পরও গাজায় চলছে হামলা, নিহত অন্তত ৩০

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে দীর্ঘ ১৫ মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসানে হামাস ও দখলদার ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে রাজি হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও কাতার। অবশ্য এরপরও গাজায় ইসরায়েলি বর্বরতা থেমে নেই।

যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর থেকে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডে চালানো ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ৩০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, দীর্ঘ ১৫ মাস যুদ্ধের পর হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছে বলে মধ্যস্থতাকারীরা নিশ্চিত করার পর গাজার ফিলিস্তিনিরা আনন্দ উদযাপন করছেন। আগামী রোববার (১৯ জানুয়ারি) থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে চলেছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরও ইসরায়েলি বাহিনী অবশ্য গাজা উপত্যকা জুড়ে তাদের হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং চুক্তির কথা ঘোষণার পর থেকে এই ভূখণ্ডে অন্তত ৩০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েল।

হামাসের কর্মকর্তা ইজ্জাত আল-রিশেক বলেছেন, কাতারের রাজধানী দোহায় যে চুক্তি হয়েছে তাতে গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার, বাস্তুচ্যুত লোকদের তাদের বাড়িতে ফিরে যাওয়া এবং যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তিসহ ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর সমস্ত শর্তই পূরণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে “জিম্মি ও তাদের পরিবারের দুঃখকষ্টের” অবসানে চুক্তি “এগিয়ে নিতে সহায়তা” করার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের গত ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন আন্তঃসীমান্ত হামলার পর থেকে ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় অবিরাম বিমান ও স্থল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েলি এই হামলায় হাসপাতাল, স্কুল, শরণার্থী শিবির, মসজিদ, গির্জাসহ হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে।




অবশেষে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত ইসরায়েল-হামাস

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: দীর্ঘ ১৫ মাস ধরে চলা সংঘাতের পর অবশেষে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে রাজি হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ হামাস ও দখলদার ইসরায়েল। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আজ বুধবার (১৫ জানুয়ারি) ইসরায়েল ও হামাস গাজা যুদ্ধের জন্য একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছেছে। এই যুদ্ধে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং যুদ্ধের উত্তাপে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়েছে।

আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না করা এই চুক্তিতে ছয় সপ্তাহের প্রাথমিক যুদ্ধবিরতির রূপরেখা রয়েছে এবং এতে গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী ধীরে ধীরে প্রত্যাহার এবং ইসরায়েলের হাতে আটক ফিলিস্তিনি বন্দীদের বিনিময়ে হামাসের হাতে আটক জিম্মিদের মুক্তি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, আলোচনার বিষয়ে ব্রিফ করা একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন।

চুক্তিটি মিশর ও কাতারের মধ্যস্থতায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে কয়েক মাসের আলোচনার ফল। যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ জানুয়ারির অভিষেকের ঠিক আগে চূড়ান্ত চুক্তিটি চূড়ান্ত হলো। যেখানে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ক্ষমতা হস্তান্তরের আগেই মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

গাজার প্রধান ফিলিস্তিনি সশস্ত্র স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস জানিয়েছে, হামাসের প্রতিনিধিদল মধ্যস্থতাকারীদের কাছে যুদ্ধবিরতি চুক্তি এবং বন্দীদের ফেরতের বিষয়ে তাদের সম্মতি জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, হামাস চুক্তির মৌখিক সম্মতি দিয়েছে এবং চূড়ান্ত লিখিত সম্মতি দেওয়ার জন্য আরও তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছে।

ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সা’আর জানিয়েছেন, তিনি ইউরোপ সফর সংক্ষিপ্ত করে আজ রাতেই ইসরায়েল ফিরে আসছেন। ফিরেই তিনি নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা ও সরকারের ভোটে অংশ নেবেন। সম্ভবত আগামীকাল বৃহস্পতিবারের মধ্যে এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস–নেতৃত্বাধীন সশস্ত্র ব্যক্তিরা নিরাপত্তা বাধা ভেঙে ইসরায়েলি এলাকায় প্রবেশ করে। তারা ১ হাজার ২০০ সেনা ও সাধারণ নাগরিককে হত্যা করে এবং ২৫০ জনেরও বেশি বিদেশি ও ইসরায়েলি নাগরিককে বন্দী করে নিয়ে যায়।

এরপর ইসরায়েলের গাজা অভিযানে এ পর্যন্ত ৪৬ হাজার এরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। উপকূলীয় এই এলাকাটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে ইসরায়েল। তীব্র শীতে শত শত মানুষ তাঁবু ও অস্থায়ী আশ্রয়ে কোনোরকম টিকে আছে।

ট্রাম্প তার অভিষেকের আগে বারবার দ্রুত চুক্তি করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, বন্দীদের মুক্তি না দিলে ‘মারাত্মক পরিণতি’ হবে। তার মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের দলের সঙ্গে মিলে চুক্তিটি সম্পন্ন করতে কাজ করেছেন।

এখন ইসরায়েলে বন্দীদের ফিরে আসা প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার ডানপন্থী সরকারের বিরুদ্ধে জনরোষ কমাতে পারে। যেখানে গত বছরের ৭ অক্টোবরের নিরাপত্তা ব্যর্থতার জন্য নেতানিয়াহুর সরকার তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে।

এই সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে ইরান–সমর্থিত লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইরাক ও ইয়েমেনের গোষ্ঠীগুলো ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইসরায়েলের বেশ কয়েকটি হামলা চালিয়েছে। এই চুক্তিটি ইসরায়েলি অভিযানে হামাস ও লেবাননের হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতাদের হত্যা করার পর চূড়ান্ত হলো। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই নেতাদের হত্যার মাধ্যমে ইসরায়েল কৌশলগতভাবে এগিয়ে গেছে।




“যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে হামাসের ‘হ্যা’, আজ রাত বা কাল ঘোষণা আসবে”

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি ও গাজায় যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে সম্মতি দিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বেশ কয়েকজন ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা। তবে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, হামাস এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত প্রতিক্রিয়া প্রদান করেনি।

বুধবার (১৫ জানুয়ারি) এই বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতি ও জিম্মিদের মুক্তির চুক্তি নিয়ে একমত হয়েছে। এ বিষয়ে ঘোষণা আজ রাত অথবা আগামীকাল (১৬ জানুয়ারি) আসতে পারে। হামাস জানিয়েছে যে, আগামী রোববার থেকে জিম্মিদের মুক্তি শুরু হবে।

ফিলিস্তিনি সূত্রে জানা গেছে, হামাস এই চুক্তির জন্য মৌখিকভাবে সম্মতি জানিয়েছে, তবে এখনও লিখিতভাবে প্রস্তাবটি গ্রহণের ব্যাপারে কোনো ঘোষণা দেয়নি। ইসরায়েলি মন্ত্রীরা বুধবার রাতেই যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে ভোটের জন্য সময়সূচী নির্ধারণ করেছেন, এবং বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভায় এ বিষয়ে ভোট গ্রহণ করা হবে।

কান নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামাসের সামরিক নেতা মোহাম্মদ সিনওয়ার যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মতি দিয়েছেন। এছাড়া, হামাস ইসরায়েলকে গাজা উপত্যকা থেকে তার সব পরিকল্পনা সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, হামাস-ইসরায়েল চুক্তি এখন খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে এবং এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে সময় খুব কম বাকি।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




মুখ থুবড়ে পড়ল ইসরায়েলি প্রযুক্তিতে তৈরি আদানির ড্রোন!

ভারতীয় নৌবাহিনীর হাতে হস্তান্তরের আগেই গুজরাটের পোরবন্দরে ভেঙে পড়ল আদানি গ্রুপের তৈরি ‘দৃষ্টি ১০ স্টারলাইনার’ নামের ড্রোন। এটি আদানি ডিফেন্স অ্যান্ড এরোস্পেসের প্রথম ইসরায়েলি প্রযুক্তিতে তৈরি ড্রোন ছিল, যা ভারতের নৌবাহিনীর নজরদারি কার্যক্রমে ব্যবহৃত হওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল।

‘দৃষ্টি ১০ স্টারলাইনার’ একটি শক্তিশালী আনম্যানড এরিয়াল ভেহিকল (UAV) যা মাঝারি উচ্চতায় উড্ডয়নের ক্ষমতা রাখে। এই ড্রোনটি ভারতের নৌবাহিনী দ্বারা গত বছর নজরদারি কাজে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। ড্রোনটি সমুদ্র অভিযান এবং শত্রুপক্ষের জাহাজ বা জলদস্যুদের জলযানে নজরদারি করতে সক্ষম হওয়া সহ অন্যান্য কার্যক্রমে ব্যবহৃত হওয়ার কথা ছিল। প্রস্তুতকারক সংস্থার দাবি, এটি ঝড়-ঝঞ্ঝা সহ যেকোনো পরিবেশে কার্যকরী, এবং ৩৬ ঘণ্টা একটানা আকাশে উড়তে সক্ষম। এছাড়া, ৪৫০ কেজি ভার বহন করার ক্ষমতাও রয়েছে এই ড্রোনের।

ড্রোনটির প্রথম পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন চলাকালীন এটি ভেঙে পড়ে। পোরবন্দরে পাঠানোর আগে সমুদ্র অভিযানে যুক্ত হতে হায়দরাবাদ থেকে পাঠানো হয়েছিল ড্রোনটি। ভেঙে পড়া ড্রোনটি উদ্ধার করা হলেও, আদানি গ্রুপ এখনও পর্যন্ত এই বিষয় নিয়ে কোনো বিবৃতি দেয়নি।

ড্রোনটি যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য অত্যন্ত উপযোগী ছিল এবং আকাশপথে নজরদারি চালানোর জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছিল। তবে, এর প্রথম পরীক্ষা ব্যর্থ হওয়ায় ড্রোনটির কার্যক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, ‘দৃষ্টি ১০ স্টারলাইনার’ ভারতের নৌসেনার জন্য তৈরি প্রথম নজরদারি ড্রোন। এর জন্য প্রতিটি ড্রোনের খরচ পড়েছে ১৪৫ কোটি রুপি।

আদানি গোষ্ঠী ইতিমধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে এবং ছোট আগ্নেয়াস্ত্র, মাঝারি পাল্লার ড্রোন, রাডার, এবং যোগাযোগ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ শুরু করেছে। তারা ভারতে প্রথম বেসরকারি ড্রোন তৈরির কারখানাও স্থাপন করেছে।

এটি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা সংস্থা এলবিট সিস্টেমসের ‘হার্মিস ৯০০ স্টারলাইনার’ ড্রোনের বিকল্প রূপ হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম