অভিবাসী তাড়ানোর হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  আজ সোমবার প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর ভাষণ দেবেন ট্রাম্প। দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প কী কী পরিকল্পনা করছেন, তার আভাস তিনি ওই ভাষণে দেবেন বলে মনে করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে গ্রিনল্যান্ড ও পানামা খাল দখল এবং কানাডাকে একটি মার্কিন রাজ্যে পরিণত করার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন। আর তা বিদেশি মিত্রদের হতভম্ব করেছে।

আজ স্থানীয় সময় দুপুরে দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ‘বাইডেন প্রশাসনের প্রতিটি উগ্র ও নির্বোধ নির্বাহী আদেশ’ বাতিল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ট্রাম্প।

ট্রাম্পের পরিকল্পনার ব্যাপারে জানাশোনা আছে এমন একটি সূত্র বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রে সোমবার ট্রাম্প ২০০টির বেশি নির্বাহী পদক্ষেপ নেবেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসনব্যবস্থার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করবেন। নির্বাচনী প্রচারণার সময় দেওয়া এই মূল প্রতিশ্রুতিটি দ্রুত পূরণ করার অঙ্গীকার করেছেন তিনি। ক্ষমতা গ্রহণের এক দিন আগে গতকাল রোববার ওয়াশিংটনে এক সমাবেশে ট্রাম্প হাজার হাজার সমর্থকের উদ্দেশে এসব কথা বলেন।

ক্যাপিটাল ওয়ান এরিনাতে আয়োজিত ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বিজয় সমাবেশে সমবেতদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, ‘কাল সূর্যাস্তের সময় থেকে আমাদের দেশে অনুপ্রবেশ থামবে।’

গতকাল ট্রাম্প বলেন, ‘এটা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ রাজনৈতিক আন্দোলন। ৭৫ দিন আগে, আমরা ঐতিহাসিক রাজনৈতিক বিজয় অর্জন করেছি। আমাদের দেশ কখনো এমনটা দেখেনি। আগামীকাল থেকে, আমি ঐতিহাসিক শক্তি প্রয়োগ করে ব্যবস্থা নেব এবং আমাদের দেশের প্রতিটি সংকটের সমাধান করব।’

২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে এটি ওয়াশিংটনে দেওয়া ট্রাম্পের প্রথম বড় ভাষণ। ওই ভাষণের পর ট্রাম্পের সমর্থকেরা ক্যাপিটল হিলে হামলা চালাতে উদ্বুদ্ধ হয়েছিল। এবার ট্রাম্প বলেছেন, তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিলে ক্যাপিটল হিলে হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত দেড় হাজারের বেশি মানুষকে ক্ষমা করে দেবেন।

ট্রাম্পের বিতাড়ন পরিকল্পনাগুলো অভিবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে। তাঁরা বিতাড়িত হওয়ার আশঙ্কায় আছেন। অভিবাসীদের পক্ষে সোচ্চার থাকা অনেকে বলছেন, এর মধ্যে এমন কিছু অভিবাসী আছেন, তাঁরা আইন মেনে চলেন, দীর্ঘমেয়াদি বাসিন্দা ও তাঁদের স্বামী/স্ত্রীর মার্কিন নাগরিকত্ব ও সন্তান আছে।

ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে আজ ক্যাপিটল ভবনের একটি কক্ষে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন। অনুষ্ঠানটি বাইরে আয়োজন করার কথা থাকলেও শীতকালীন আবহাওয়ার কারণে পরে তা ভেতরে আয়োজন করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ২৫ হাজার সদস্য অনুষ্ঠানে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন।




গাজায় যুদ্ধবিরতি ইসরাইলের জন্য বড় পরাজয়: ইরানি জেনারেল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হওয়ার অর্থ ইহুদিবাদী অর্থাৎ ইসরাইলিদের বড় পরাজয় হয়েছে। এমনটাই মন্তব্য করেছেন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস কুদস ফোর্সের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইসমাইল কানি।

জেনারেল কানি রোববার (১৯ জানুয়ারি) তেহরানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।

জেনারেল ইসমাইল কানি আরও বলেন, ফিলিস্তিন ও লেবাননের জনগণের ওপর ১৫ মাস ধরে সীমাহীন নৃশংসতার পর, নির্মম, রক্তপিপাসু এবং শিশুহত্যাকারী ইহুদিবাদী সরকারকে চরম অবমাননার সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে নিতে বাধ্য করা হয়েছে।

কানি বলেন, গাজায় যুদ্ধবিরতি ইসরাইলি সরকারের ওপর আরোপিত হয়েছে। যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে অতীতে ফিলিস্তিনিরা যে সমস্ত ধারার ওপর জোর দিয়েছিল তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ইহুদিবাদী সরকারের অপমান এবং তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় পরাজয়ের কথা (রোববার) উন্মোচিত হবে।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘ ১৫ মাসের আগ্রাসনের পর রোববার (১৯ জানুয়ারি) বহুল কাঙ্ক্ষিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায়। যুদ্ধবিরতির আলোচনায় মধ্যস্থতা করেছে কাতার, মিশর ও যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধবিরতির প্রথমদিনে তিন নারী ইসরাইলি জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে হামাস। এর বিনিময়ে ৯০ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলের হামলায় ৪৬ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন আর আহত হয়েছেন ১ লাখ ১০ হাজারের বেশি মানুষ।




শপথের পর প্রথম কোন দেশ সফরে যাবেন ট্রাম্প?

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে শপথগ্রহণের পর প্রথম চীন সফর করতে চান ডোনাল্ড ট্রাম্প। বেইজিংয়ের সঙ্গে খোলামেলা সংলাপ শুরুর পাশাপাশি দেশটির প্রতি কঠোর অবস্থানও গ্রহণ করতে চান তিনি। উপদেষ্টাদের কাছে ব্যক্তিগতভাবে চীন নিয়ে এমনটাই অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

দুটি সূত্র জানিয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর কয়েকটি দেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তার মধ্যে অন্যতম ভারত। সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য যাবেন।

এর আগে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রথম এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ট্রাম্প উপদেষ্টাদের বলেছেন, তিনি চীন ভ্রমণ করতে চান।

 

নির্বাচনিরেছেন।  প্রচারণার সময় থেকে শুল্ক এবং অন্যান্য পদক্ষেপের মাধ্যমে চীনকে বারবার আক্রমণ করে আসছেন ট্রাম্প।  তিনি গত শুক্রবার (১৮ জানুয়ারি) চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ফোনালাপ করেন।

 

ফোনালাপের বিষয়ে ট্রাম্প জানান, তারা দুজনেই বাণিজ্য, ফেন্টানাইল এবং টিকটকসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন।

ট্রাম্প সোমবার (২০ জানুয়ারি) তার শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য শিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তবে এতে শি উপস্থিত থাকবেন না। তিনি তার পরিবর্তে ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেংকে পাঠাচ্ছেন।

ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে যুক্তি দিয়ে আসছেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের অন্যান্য রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা উচিত। এছাড়া তিনি প্রায়শই গর্ব করে বলেছেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মতো নেতাদের সঙ্গে তার দুর্দান্ত সম্পর্ক রয়েছে।




ইয়েমেনি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলি বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক ইসরায়েল অধিকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চলে ইয়েমেন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর রাজধানী তেলআবিবের বেন-গুরিয়ন বিমানবন্দরে সব ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। শনিবার সকালে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম।

ইসরায়েলি টিভি চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, ইয়েমেন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে অধিকৃত তেলআবিব এবং আল-কুদস অঞ্চলে সাইরেন বাজানো হয়েছে। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে মেহের নিউজ।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরায়েলের সেনাবাহিনী স্বীকার করেছে যে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইয়েমেন থেকে ছোঁড়া হয়েছে। আর এ হামলার ফলে অধিকৃত কেন্দ্রীয় অঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং মানুষজন আশ্রয়কেন্দ্রের দিকে পালানোর সময় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

এ অবস্থায় ইসরায়েলের নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তৎপর হয়েছে এবং হামলার উৎস সম্পর্কে তদন্ত চালাচ্ছে। এদিকে, ইয়েমেন থেকে আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর অধিকৃত তেলআবিব এবং তার আশপাশের এলাকায় সাইরেন বেজে ওঠার খবর পাওয়া গেছে।

জায়নিস্ট মিডিয়া জানিয়েছে, শনিবার সকালে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে তেলআবিব এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় সাইরেন সক্রিয় হয়। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা আতঙ্কিত হয়ে আশ্রয়কেন্দ্রের দিকে পালাচ্ছে।




নেতানিয়াহুর তিন মন্ত্রীর পদত্যাগ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির বিরোধিতা করে ইসরাইলের অতি-ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গভির পদত্যাগ করেছেন। তার সঙ্গে তার জাতীয়তাবাদী-ধর্মীয় দল ওজামা ইয়েহুদিতের আরও দুই মন্ত্রীও পদত্যাগ করেছেন। খবর রয়টার্সের।

রোববার (১৯ জানুয়ারি) গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার দিনেই এমন খবর এলো। যদিও যুদ্ধবিরতি স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টায় কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও তা এখনও হয়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওজমা ইয়েহুদি বা ইহুদি শক্তি পার্টি এখন থেকে আর ক্ষমতাসীন জোটের অংশ থাকবে না। তবে দলটি বলেছে, তারা নেতানিয়াহুর সরকারের পতন ঘটানোর চেষ্টা করবে না।

যুদ্ধবিরতি ঘোষণার আগের সপ্তাহে বেন গভির পদত্যাগের হুমকি দিয়েছিলেন এবং তিনি এটিকে ‘একটি বেপরোয়া চুক্তি’ বলে অভিহিত করেন।

সেই সঙ্গে তিনি অন্যান্য কট্টরপন্থি, সেটলার (বসতি স্থাপনকারী) পন্থি পক্ষগুলোকেও একই পদক্ষেপ অনুসরণ করার আহ্বান জানান। সেসময় তিনি বলেন, ‘প্রস্তাবিত চুক্তিটি শত শত ফিলিস্তিনি জঙ্গিকে মুক্ত করে দেবে এবং গাজার কৌশলগত এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার করে আমাদের অজর্নগুলোকে মুছে ফেলবে। এর ফলে হামাস অপরাজিত থাকবে।’

প্রসঙ্গত, গত বুধবার (১৫ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র, মিশর ও কাতারের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয় হামাস ও ইসরাইল। আজ রোববার (১৯ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টা থেকে যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় চুক্তি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।

তবে যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী প্রথম ধাপে যেসব জিম্মিদের মুক্তি দেওয়া হবে, তাদের নামের তালিকা না দেওয়া পর্যন্ত গাজায় যুদ্ধবিরতি শুরু হবে না বলে জানান ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

রোববার বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন, যতক্ষণ না হামাস মুক্তি দিতে চাওয়া জিম্মিদের তালিকা দিচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি শুরু হবে না।  স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টা থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা।




ওয়াশিংটনে হাজারো মানুষের ট্রাম্পবিরোধী র‌্যালি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প শপথ নেওয়ার দু’দিন আগে ওয়াশিংটনের রাস্তায় বিক্ষোভ করলো হাজার হাজার মানুষ, যাদের বেশিরভাগই নারী।

এ কর্মসূচির নাম দ্যা পিপলস মার্চ, যা আগে উইমেন’স মার্চ হিসাবে পরিচিত ছিল। এটা ২০১৭ সাল থেকে নিয়মিত হয়ে আসছে। কয়েকটি গ্রুপের একটি জোট এর আয়োজক। তাদের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, তারা ‘ট্রাম্পিজম’ এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে।

ওদিকে নিউইয়র্ক ও সিয়াটলেও ট্রাম্প বিরোধী ছোটখাটো প্রতিবাদ হয়েছে বলে জানা গেছে। এসব প্রতিবাদ র্যালী এমন সময় হলো যখন ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য শপথ গ্রহণ করতে দেশটির রাজধানীতে এসে পৌঁছেছেন।

শপথের আগেও বেশ কয়েকটি ইভেন্টে যোগ দেওয়ার কথা আছে তার। তবে ওয়াশিংটন ডিসিতে শনিবারের এই পিপল’স মার্চের অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা আগের চেয়ে কম।

আয়োজকরা ৫০ হাজার মানুষের অংশগ্রহণ আশা করলেও জমায়েত হয় পাঁচ হাজারের মতো।

লিঙ্কন মেমোরিয়ালের দিকে যাত্রা শুরুর আগে প্রতিবাদকারীরা তিনটি পার্কে জমায়েত হয়। যারা এই কর্মসূচির আয়োজন করে, তারা বিভিন্ন ইস্যুভিত্তিক বিষয়ে কাজ করে। এর মধ্যে আছে জলবায়ু পরিবর্তন, অভিবাসন ও নারী অধিকার।

এদিকে শনিবার ওয়াশিংটন মনুমেন্টের সঙ্গে জমায়েত হয়েছিল একদল ট্রাম্প সমর্থকও। সেখানে ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ লেখা হ্যাট পরিহিত একজনকে উদ্দেশ্যে করে পিপলস মার্চের একজন নেতা বলেছেন ‘নো ট্রাম্প, নো কেকেকে’।

ট্রাম্প ২০১৬ সালে হিলারি ক্লিনটনকে হারিয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে প্রথমবারের মতো পিপলস মার্চ অনুষ্ঠিত হয়। নারীরা তখন ট্রাম্পের শপথ গ্রহণের পরদিন প্রতিবাদ কর্মসূচি দিয়েছিল যাতে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেয়। পরে এই আন্দোলন রাজধানী থেকে অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ে। পরের কয়েক বছরে ট্রাম্পের এজেন্ডার বিরুদ্ধে নারীদের এই ‘মার্চ’ প্রতিবাদ হিসেবে অব্যাহত থাকে।

এদিকে ট্রাম্প শনিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে এসেছেন। তার শপথ গ্রহণ উপলক্ষে ভার্জিনিয়ায় তার গলফ ক্লাবে আতশবাজিসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি।

ওয়াশিংটনে পিপলস মার্চে যোগ দিতে যেসব নারী সমবেত হয়েছেন তারা অনেকে বিবিসিকে বলেছেন, তাদের বিভিন্ন ধরনের লক্ষ্য আছে। ব্রুক নামের একজন প্রতিবাদকারী বলছেন, তিনি গর্ভপাতের সুযোগের বিষয়ে তার সমর্থন জানাতে এসেছেন।

তিনি বলছেন, যেভাবে দেশে ভোট হয়েছে তাতে আমি খুশী নই। আমি অত্যন্ত দুঃখিত যে আমাদের দেশ এমন একজনকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়েছে যিনি ইতোমধ্যেই একবার ব্যর্থ হয়েছেন এবং আমরা একজন নারী প্রার্থীকে মনোনীত করিনি”।

কায়লা নামে আরেকজন নারী বলছিলেন, কিছু আবেগ তাকে রাজধানীর রাস্তায় নিয়ে এসেছে। সত্যি বলতে আমি পাগল হয়ে গেছি, আমি দুঃখিত আবার আমি আনন্দিত।

সুশি এসেছেন সান ফ্রান্সিসকো থেকে। সঙ্গে এসেছেন তার বোন আন্নে, যিনি কাছেই বসবাস করেন। তারা দু’জনেই ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের শপথ গ্রহণের পর প্রতিবাদে অংশ নিয়েছিলেন। সে সময়কার ব্যাপক জনসমাগমের কথা মনে করেছেন তিনি। তিনি আশা করেছিলেন ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে মানুষ এখনও রাস্তায় নামবে।

সুশি বলছিলেন, এবার অংশীদার বেড়েছে। ট্রাম্প আরও সাহসী। তিনি বিলিয়নিয়ার শ্রেণীতে এসেছেন এবং প্রযুক্তি শ্রেণি মাথা নত করেছে।

আন্নে বলছেন, তিনি বোঝেন যে প্রতিবাদকারীরা আমেরিকার অনেক বিষয় থেকে বাইরে আছেন। ট্রাম্প গত নভেম্বরে দোদুল্যমান সবকয়টি রাজ্যে জয় পেয়েছেন।

তারপরেও তিনি বলেন, এরপরেও আমরা এখানে আছি এবং আমরা প্রতিরোধ করবো।

সূত্র: বিবিসি




গাজায় যুদ্ধবিরতি শুরুর আগে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপের আলোচনা ভেস্তে গেলে তার বাহিনী ফের ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করতে প্রস্তুত, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন l

যুদ্ধবিরতি শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।

নেতানিয়াহু জোর দিয়ে বলেন, এই যুদ্ধবিরতি ‘স্বল্প সময়ের’ এবং ইসরায়েল গাজায় ফের হামলার অধিকার রাখে, তাতে পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনও থাকবে।

ভাষণে ইসরায়েলি এ প্রধানমন্ত্রী হামাস নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ারকে মারাসহ গেল ১৫ মাসের যুদ্ধে তার বাহিনীর ‘সফলতার গুণগানও’ করেন।

“আমরা মধ্যপ্রাচ্যের চেহারা বদলে দিয়েছি। হামাস এখন সম্পূর্ণ একা,” বলেন তিনি।

শনিবারের এ ভাষণের আগে নেতানিয়াহু চুক্তির শর্তের ব্যাপারে শক্ত অবস্থান নিয়ে বলেছিলেন, হামাস কোন কোন জিম্মিকে ছাড়বে তার তালিকা না পেলে ইসরায়েল চুক্তি বাস্তবায়ন করবে না।

“চুক্তির লংঘন বরদাস্ত করবে না ইসরায়েল,” বলেছিলেন তিনি।

প্রথম ধাপে হামাস যে ৩৩ জিম্মিকে মুক্তি দেবে তার একটি তালিকা এরই মধ্যে ইসরায়েলি গণমাধ্যমগুলো ছাপিয়েছে, তবে তালিকাটি সঠিক কিনা তেল আবিবের পক্ষ থেকে তা নিশ্চিত করা হয়নি।

রোববার কোন তিন জিম্মি মুক্তি পাবে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা এখন তার অপেক্ষায় আছে বলে জানিয়েছে। এদিন স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টায় গাজায় যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার কথা।

প্রথম ধাপে ইসরায়েলও এক হাজার ৮৯০ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার কথা। এর পাশাপাশি তাদেরকে গাজা থেকে বাহিনী প্রত্যাহারও শুরু করতে হবে।

রোববার কোন এলাকা দিয়ে হামাস তিন জিম্মিকে মুক্তি দেবে তা নিশ্চিত না হওয়ায় ইসরায়েল উত্তর, মধ্য ও দক্ষিণ গাজার সীমান্তে তিনটি অভ্যর্থনা কেন্দ্র বানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা।

প্রথম দিন হামাস যাদের ছেড়ে দেবে তারা সবাই নারী বলে গোষ্ঠীটির ঘনিষ্ঠ এক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে ফ্রান্সভিত্তিক একটি বার্তা সংস্থা।

এদিকে যুদ্ধবিরতি শুরুর ক্ষণগননার মধ্যেও গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলা অব্যাহত আছে। বুধবার চুক্তির ঘোষণা আসার পর এ পর্যন্ত হামলায় ১২০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন হামাসের কর্মকর্তারা।

শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় তেল আবিবে জড়ো হয়ে হাজারো মানুষ চুক্তির প্রথম ধাপে থাকা সব শর্ত ঠিকঠাক মেনে আরও জিম্মির মুক্তি নিশ্চিতে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছে।

“আমরা হয়তো আরও ২০০ সেনা ও ১০ জনেরও বেশি জিম্মিকে বাঁচাতে পারতাম। সরকার সময়মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি, তারা ট্রাম্পের জন্য অপেক্ষা করেছে,” বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন হোস্টেজেস অ্যান্ড মিসিং ফ্যামিলিস ফোরামের সদস্য গ্যাল এলকেলাই।

শনিবার তেল আবিবের কাছে এক রেস্তোরাঁয় ছুরি হামলায় একাধিক লোক আহত হয়েছে বলেও জানিয়েছে ইসরায়েলের পুলিশ।

বেসামরিক এক নাগরিকের গুলিতে হামলাকারী ঘটনাস্থলে নিহতও হয়েছে; সন্দেহভাজন ওই হামলাকারী দখলকৃত পশ্চিম তীরের তুলকারাম দিয়ে ‘অবৈধভাবে’ তেল আবিবে প্রবেশ করেছিল, জানিয়েছে ইসরায়েলি গণমাধ্যম।




জ্বালানি ট্যাঙ্কারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ,নাইজেরিয়ায় নিহত ৭৭

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ায় একটি জ্বালানি ট্যাঙ্কারে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৭৭ জন নিহত হয়েছেন। বিস্ফোরণের এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২৫ জন।

মূলত জ্বালানিবাহী এই ট্যাঙ্কারটি উল্টে যাওয়ার পর অনেকেই রাস্তায় ছড়িয়ে পড়া জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা করেন। আর সেই সময় ট্যাঙ্কারটিতে বিস্ফোরণ ঘটে। এতেই ঘটে হতাহতের ঘটনা।

রোববার (১৯ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।




গাজায় মুক্তির আশা, প্রহর গুণছেন ফিলিস্তিনিরা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ইসরায়েলের মন্ত্রিসভায় যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি বন্দিদের মুক্তির চুক্তি অনুমোদন পাওয়ায় স্বস্তির আশায় প্রহর গুণছেন ফিলিস্তিনিরা। দীর্ঘ ১৫ মাসের বেশি সময় ধরে চলমান বিধ্বংসী যুদ্ধের অবসানে অবশেষে রোববার সকাল থেকে গাজায় কার্যকর হতে যাচ্ছে বহুল আকাঙ্ক্ষিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি।

মিসর, কাতার ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় বুধবার গাজা উপত্যকার ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী হামাসের সঙ্গে ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছানোর ঘোষণা দেওয়া হয়। চুক্তিতে পৌঁছানোর ঘোষণা দেওয়ার পরও গাজায় ইসরায়েলি হামলা চলছে। শনিবার গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা উদ্ধার সংস্থা বলেছে, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের একটি তাঁবুতে ইসরায়েলি হামলায় একটি পরিবারের অন্তত পাঁচ সদস্য মারা গেছেন।

একই দিন সকালে সাইরেন বাজিয়ে বাসিন্দাদের সতর্ক করে দেওয়ার পর জেরুজালেমে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী বলেছে, জেরুজালেম লক্ষ্য করে ইয়েমেন থেকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা এই হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েল।




ইসরাইলে ইয়েমেনের ১,২৫৫ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ইয়েমেনি বাহিনী সম্প্রতি ইসরাইলবিরোধী অভিযানে ১,২৫৫টি ব্যালিস্টিক, ক্রুজ ও হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে।

শুক্রবার এক ভাষণে এসব তথ্য উল্লেখ করে ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ গোষ্ঠীর নেতা আবদুল-মালিক আল-হুথি জানিয়েছেন, গাজায় ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের গণহত্যামূলক অভিযান শুধু তাদের ব্যর্থতাই ডেকে এনেছে।

একই সঙ্গে আল-হুথি গাজায় যুদ্ধবিরতির চুক্তিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, ‘অবরুদ্ধ গাজায় কয়েক মাস ধরে চালানো ভয়াবহ অপরাধের পর দখলদার শত্রু ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে’।

এই চুক্তিকে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতা উল্লেখ করে আনসারুল্লাহ নেতা বলেন, ‘ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র গাজায় আক্রমণের জন্য স্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু তারা তাদের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। মার্কিন সহযোগিতায় ইসরাইল গাজায় ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানোর চেষ্টা করেছে এবং ৪,০৫০টির বেশি অপরাধ করেছে’।