বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উন্নয়নে জার্মানির সহযোগিতার অঙ্গীকার

জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস জানিয়েছেন, তার দেশ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরে সহায়তা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডের ডাভোস শহরে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ফাঁকে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন।

ড. ইউনূস তার ছয়টি কমিশনের দাখিল করা সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, এ ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হলে রাজনৈতিক দলগুলো “জুলাই সনদে” স্বাক্ষর করবে, যা ১৯৭১ সালের গণতান্ত্রিক চেতনা বজায় রাখবে।

বৈঠকের মূল বিষয়বস্তু

জুলাই অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট: তরুণদের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণ এবং এক ১২ বছর বয়সী ছাত্রের আত্মত্যাগের হৃদয়বিদারক কাহিনী চ্যান্সেলরকে জানান ড. ইউনূস।

রোহিঙ্গা সংকট: জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের জন্য একটি নিরাপদ অঞ্চল তৈরির অনুরোধ জানান ড. ইউনূস।

বাংলাদেশ-জার্মানি সম্পর্ক: দুই দেশের মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে জার্মান বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আসার আহ্বান জানান ড. ইউনূস।

ব্যবসা ও বিনিয়োগ

বাংলাদেশের ব্যবসায়িক সম্ভাবনা তুলে ধরে ড. ইউনূস জার্মানির একটি বাণিজ্য প্রতিনিধিদলকে ঢাকায় পাঠানোর আহ্বান জানান।

ডাভোসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে সম্ভাব্য নানা দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বৈদেশিক সহায়তা কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা

সদ্য শপথ নেওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী ৯০ দিনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের বৈদেশিক সহায়তা কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন। সোমবার (২০ জানুয়ারি) শপথ গ্রহণের পর নির্বাহী আদেশ জারির মাধ্যমে তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন।

বৈদেশিক সহায়তা স্থগিত করার এই আদেশ মার্কিন তহবিলের ওপর কী প্রভাব ফেলবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। কারণ অনেক কর্মসূচি ইতোমধ্যে কংগ্রেসের তহবিল বরাদ্দ পেয়েছে এবং অর্থ ব্যয় বা বিতরণ করা হয়েছে।

ওয়াশিংটনের ক্যাপিটল ভবনে ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর ট্রাম্প একাধিক নির্বাহী আদেশে সই করেন। এসব আদেশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

মেক্সিকো সীমান্তে জরুরি অবস্থা ঘোষণা।

পানামা খালের পুনর্দখল।

বিদেশি পণ্যের আমদানিতে শুল্ক বৃদ্ধি।

 

বৈদেশিক সহায়তা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির উদ্দেশ্যগুলোর সঙ্গে মিল না থাকলে আমরা কোনো সহায়তা দেব না।” তবে তিনি ইসরায়েল, মিশর ও জর্ডানের মতো দীর্ঘস্থায়ী চুক্তি সম্পন্ন দেশগুলোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনবেন না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

 

নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বৈদেশিক সহায়তার ন্যায্যতা নির্ধারণে তিনটি প্রশ্ন তুলে ধরেছেন:

1. সহায়তা কর্মসূচি কি যুক্তরাষ্ট্রকে নিরাপদ করে তোলে?

2. এটি কি যুক্তরাষ্ট্রকে শক্তিশালী করে?

3. এটি কি যুক্তরাষ্ট্রকে সমৃদ্ধ করে?

 

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় বাজেটের প্রায় এক শতাংশ বৈদেশিক সহায়তায় ব্যয় হয়। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ২০৪টি দেশ ও অঞ্চলে ৬ হাজার ৮০০ কোটি ডলার সহায়তা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রধান প্রাপক দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে:

ইসরায়েল: বার্ষিক ৩৩০ কোটি ডলার।

মিশর: বার্ষিক ১৫০ কোটি ডলার।

জর্ডান: বার্ষিক ১৭০ কোটি ডলার।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে মার্কিন সামরিক সহায়তা নিয়ে ট্রাম্পের উদ্বেগ থাকলেও তিনি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারেন না।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪

 




যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সহায়তা সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করলেন ট্রাম্প




বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক: নতুন দিগন্তে যাত্রা

বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক দীর্ঘ সময় ধরে উত্তেজনাপূর্ণ ছিল, বিশেষ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে। তবে সম্প্রতি, তার পতনের পর দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নতির দিকে যাচ্ছে। পাকিস্তান সরকার ও ব্যবসায়ী গ্রুপগুলো আশাবাদী, আগামী এক বছরের মধ্যে দুই দেশের বাণিজ্য চারগুণ বেড়ে ৩ বিলিয়ন ডলার হতে পারে।

১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক অনেক সময়ই তিক্ত ছিল। তবে ২০১৪ সালে শেখ হাসিনার তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসার পর সম্পর্ক আরও খারাপ হয়। তবে তার পরবর্তী সময়ে, দুই দেশের মধ্যে পরিস্থিতি কিছুটা পরিবর্তিত হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বৈশ্বিক অনুষ্ঠানে দুইবার সাক্ষাৎ করেছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে, ১৪ জানুয়ারি, বাংলাদেশের উচ্চ পর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল এস এম কামরুল হাসান ইসলামাবাদ সফর করেন। তিনি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল অসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করেন। এই সময়, পাকিস্তানের চেম্বার অব কমার্স এবং ইন্ডাস্ট্রিজ (এফপিসিসিআই) একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করে। এটি গত এক দশকে পাকিস্তানের কোনো উচ্চ পর্যায়ের ব্যবসায়িক দলের প্রথম সফর ছিল।

পাকিস্তানি ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশের বাণিজ্যিক পরিবেশকে ইতিবাচক বলে মনে করছে। এফপিসিসিআই এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সাকিব ফাইয়াজ মাগুন জানিয়েছেন, বাংলাদেশ বর্তমানে পাকিস্তানি পণ্য আমদানির প্রতি আগ্রহী। বিশেষ করে, বাংলাদেশের খাদ্য শিল্পের জন্য পাকিস্তান থেকে চাল ও চিনি আমদানির সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়াও, পাকিস্তান থেকে খেজুর আমদানির ব্যাপারে আলোচনা চলছে। বর্তমানে, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ৭০০ মিলিয়ন ডলারে সীমাবদ্ধ রয়েছে। তবে ব্যবসায়িক সম্পর্কের উন্নতি ঘটলে আগামী এক বছরে বাণিজ্যের পরিমাণ ৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

দুই দেশের মধ্যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হলো চট্টগ্রাম এবং করাচির মধ্যে নতুন ম্যারিটাইম রুট চালু করা। যা গত ৫২ বছর ধরে বন্ধ ছিল। এর মাধ্যমে শুধু বাণিজ্য নয়, যাত্রীবাহী জাহাজ চলাচলেও সুবিধা হবে। এছাড়াও, সরাসরি ফ্লাইট চালু করার বিষয়েও আলোচনা চলছে, যা ২০১৮ সালের পর থেকে বন্ধ ছিল।

পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ১২ জানুয়ারি জানিয়েছেন, পাকিস্তানিদের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের হাইকমিশনার রফিউদ্দিন সিদ্দিক বলেন, শেখ হাসিনার আমলে দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে ছিল। তবে সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ডব্লিউএইচও থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নিলেন ট্রাম্প

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : জাতিসংঘের বিশেষ সংস্থা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় সোমবার (২০ জানুয়ারি) প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই এ সংক্রান্ত নির্বাহী আদেশ জারি করেন তিনি।

মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর ট্রাম্প সোমবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছেন। এটি এমন একটি পদক্ষেপ যা বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যখাতের নেতৃত্বস্থানীয় দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে দুর্বল করবে এবং পরবর্তী মহামারির বিরুদ্ধে লড়াই করা আরও কঠিন করে তুলবে বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

শপথ নেওয়ার প্রায় আট ঘণ্টা পর জারি করা একটি নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের বেশ কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে— ডব্লিউএইচও-এর “কোভিড-১৯ মহামারির ভুল ব্যবস্থাপনা” এবং “জরুরিভাবে প্রয়োজন এমন সংস্কারে ব্যর্থতা”।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক এই জনস্বাস্থ্য সংস্থাটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে “অন্যায়ভাবে বেশি অর্থপ্রদানের” দাবি করে। এছাড়া চীন এই সংস্থায় কম অর্থ প্রদান করে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপটি অপ্রত্যাশিত নয়। ট্রাম্প কার্যত ২০২০ সাল থেকেই ডব্লিউএইচও’র বিরুদ্ধে বিষোদগার করেছেন। সেসময় তিনি করোনভাইরাস মহামারি নিয়ে সংস্থাটিকে আক্রমণ করেছিলেন এবং এই সংস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের তহবিল বন্ধ করার হুমকিও দিয়েছিলেন।

এরই জেরে ২০২০ সালের জুলাই মাসে বৈশ্বিক এই সংস্থাটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করার জন্য আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন ট্রাম্প।




শান্তি স্থাপন ও সব যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি ট্রাম্পের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বিশ্বব্যাপী শান্তিস্থাপন ও যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রতি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল সোমবার শপথ গ্রহণের পর দীর্ঘ বক্তব্য দেন তিনি। সেখানে জানান, তার শাসনামল হবে শান্তিস্থাপন ও এককীকরণকারী হিসেবে। এছাড়া বিশ্বের যত যুদ্ধ আছে নিজেদের শক্তি ব্যবহার করে সেগুলো বন্ধ করবেন বলেও কথা দেন তিনি।

গাজা থেকে ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্ত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, “আমি আনন্দের সঙ্গে বলছি, গতকাল (রোববার) আমি দায়িত্ব নেওয়ার একদিন আগে, মধ্যপ্রাচ্যের জিম্মিরা তাদের পরিবারের কাছে ফেরা শুরু করেছে।”

ট্রাম্প আরও বলেন, “২০১৭ সালের মতো, আমরা আগের মতো ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী গঠন করব। আমরা আমাদের সাফল্য শুধুমাত্র যুদ্ধে জয়ের মাধ্যমে পরিমাপ করব না। আমরা আমাদের সাফল্য পরিমাপ করব যুদ্ধ বন্ধ করে। খুব সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে, যেগুলো আমরা শুরু করিনি।”

নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, “আমাদের শক্তি সব যুদ্ধ বন্ধ করবে এবং বিশ্বে নতুন বন্ধনের উদ্দীপনা আনবে। যে বিশ্ব ক্ষুব্ধ, সহিংস। যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”




যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হলেন ইসরায়েলপন্থি মার্কো রুবিও

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছেন মার্কো রুবিও। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তার নিয়োগের অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন সিনেট। সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, ৯৯ সিনেটরের সবাই তার পক্ষে ভোট দিয়েছেন।

মার্কো রুবিও কট্টর ইসরায়েলপন্থি হিসেবে পরিচিত। এছাড়া চীন বিরোধী হিসেবেও অনেকে জানেন তাকে। সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কাছেও তিনি সমাদৃত। এ কারণে দলটির কোনো সিনেটর তার বিরুদ্ধে ভোট দেননি। তাদের অনেকে মনে করেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের জন্য মার্কো রুবিও উপযুক্ত ব্যক্তি।

তিনি ২০১১ সাল থেকে ফ্লোরিডার রিপাবলিকান সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কয়েক বছর আগেও তিনি ট্রাম্পের বিরোধীতা করতেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এবার তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বটি পালন করতে যাচ্ছেন।




ক্যাপিটল হিলে দাঙ্গায় জড়িত ১৫০০ জনকে ক্ষমা করলেন ট্রাম্প

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের প্রতীক ক্যাপিটল হিলে দাঙ্গার ঘটনায় জড়িত ১৫০০ জনকে ক্ষমা করে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় সোমবার (২০ জানুয়ারি) প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই এ সংক্রান্ত পদক্ষেপ নেন তিনি।

এছাড়া দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প বড় ধরনের কিছু ঘোষণা দিয়েছেন, যার মধ্যে মেক্সিকো সীমান্তে জরুরি অবস্থা ঘোষণা, পানামা খাল ফেরত নেওয়া, বিদেশি পণ্যের আমদানিতে শুল্ক বৃদ্ধির মতো ঘোষণাও রয়েছে।

এর পাশাপাশি বাইডেন আমলের ৭৮টি নির্বাহী আদেশও বাতিল করেন তিনি। সোমবার এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারির ক্যাপিটল হিলে দাঙ্গায় যুক্ত থাকার অভিযোগে আটক হওয়া প্রায় ১৫০০ জনকে ক্ষমা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের শপথ গ্রহণের দিনের প্রায় পুরোটা সময় তার সমর্থকরা ডিসি জেলের বাইরে অপেক্ষা করছিলেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ক্যাপিটল ওয়ান অ্যারেনায় ভাষণ দেন, তখনই তিনি ঘোষণা করেন- ওভাল হাউসে পৌঁছেই তিনি ৬ জানুয়ারির ঘটনার জন্য অভিযুক্তদের ক্ষমা করবেন। সেসময় উপস্থিত জনতার মধ্য থেকে আনন্দধ্বনি শোনা যায়। একজন নারী চিৎকার করে বলেন, ‘ফ্রিডম!’ বা (স্বাধীনতা)।




বাইডেন আমলের ৭৮টি আদেশ বাতিল করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ইতিহাস ভেঙে দ্বিতীয় বারের মতো নির্বাচনে জয় পাওয়ার ৭৭ দিন পর বিশ্বের শীর্ষ ক্ষমতাধর দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সাদা বাড়ির মসনদে বসেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল ভবনে দেশটির ৪৭তম প্রেসিডেন্টের শপথ নিয়েছেন তিনি; যার মধ্য দিয়ে ২৪৮ বছরের মার্কিন ইতিহাসে দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসাবে এক মেয়াদের বিরতিতে দ্বিতীয় বারের মতো হোয়াইট হাউসের মসনদে বসলেন তিনি। তার আগে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন জেডি ভ্যান্স। শপথ নিয়ে ট্রাম্প বলেন যুক্তরাষ্ট্রে স্বর্ণযুগের সূচনা হয়েছে।

ক্যাপিটল হিলে দাঙ্গায় জড়িত ১৫০০ জনকে ক্ষমা করলেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের প্রতীক ক্যাপিটল হিলে দাঙ্গার ঘটনায় জড়িত ১৫০০ জনকে ক্ষমা করে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এছাড়া দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প বড় ধরনের কিছু ঘোষণা দিয়েছেন, যার মধ্যে মেক্সিকো সীমান্তে জরুরি অবস্থা ঘোষণা, পানামা খাল ফেরত নেওয়া, বিদেশি পণ্যের আমদানিতে শুল্ক বৃদ্ধির মতো ঘোষণাও রয়েছে।

এর পাশাপাশি বাইডেন আমলের ৭৮টি নির্বাহী আদেশও বাতিল করেছেন তিনি।

প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার আদেশে সই করলেন ট্রাম্প
জলবায়ু পরিবর্তন রুখতে গৃহীত ‘প্যারিস জলবায়ু চুক্তি’ থেকে বেরিয়ে আসার নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় সোমবার (২০ জানুয়ারি) প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই এই সংক্রান্ত নির্বাহী আদেশে সই করেন তিনি।

মূলত ট্রাম্পের এই নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে গত এক দশকের মধ্যে এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বের সর্ববৃহৎ কার্বন নির্গমনকারী এই দেশটিকে এই জলবায়ু চুক্তির বাইরে নিয়ে যাওয়া হলো। এর আগে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের প্রথম মেয়াদেও ট্রাম্প বিশ্বের সর্ববৃহৎ কার্বন নির্গমনকারী এই দেশটিকে বের করে নিয়েছিলেন।

বাইডেন আমলের আদেশ বাতিলসহ আরও যা করলেন ট্রাম্প

প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা গ্রহণ করেই সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বেশ কিছু আদেশ বাতিল করেছেন নতুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এছাড়া আরও কিছু আদেশ তিনি দিয়েছেন। গতকাল সোমবার (২০ জানুয়ারি) ওয়াশিংটন ডিসির ক্যাপিটলে শপথ গ্রহণ করেন ট্রাম্প। সেখানে আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে তিনি যান ক্যাপিটাল ওয়ান স্টেডিয়ামে। সেখানে হাজার হাজার সমর্থকের সামনে বেশ কিছু নির্দেশনায় স্বাক্ষর করেন তিনি। সেগুলো হলো—

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হলেন ইসরায়েলপন্থি মার্কো রুবিও

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছেন মার্কো রুবিও। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তার নিয়োগের অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন সিনেট। সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, ৯৯ সিনেটরের সবাই তার পক্ষে ভোট দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে গতকাল সোমবার শপথ নিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার শপথ অনুষ্ঠানে আনা হয়েছিল খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ বাইবেলের দুটি কপি। যার মধ্যে একটি ছিল ১৮৬১ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কনের শপথ অনুষ্ঠানের বাইবেল। আরেকটি ট্রাম্পের মায়ের দেওয়া। কথা ছিল, এ দুটি বাইবেলের ওপর হাত রেখে শপথ নেবেন ট্রাম্প। তবে তিনি শপথবাক্য পাঠ করার সময় সেগুলোতে হাত রাখেননি। যদিও তার স্ত্রী ম্যালানিয়া ট্রাম্প এগুলো নিয়ে তার পাশেই দাঁড়িয়েছিলেন। ট্রাম্প শুধুমাত্র তার ডান হাত উঁচু করে শপথ গ্রহণ করেন।

বাইডেনের আটকে দেওয়া বোমা ইসরায়েলকে দিতে যাচ্ছেন ট্রাম্প

গাজায় সাধারণ ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্বিচার হামলা চালানোয় দখলদার ইসরায়েলের জন্য তৈরি করা ‘২০০০ পাউন্ডের’ শক্তিশালী বোমার একটি চালান আটকে দিয়েছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তবে গতকাল সোমবার (২০ জানুয়ারি) দায়িত্ব নেওয়া নতুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এসব বোমা ইসরায়েলকে দিতে যাচ্ছেন। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই চালানটির ছাড় করার নির্দেশ দেবেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রে এখন থেকে লিঙ্গ হিসেবে শুধুমাত্র নারী ও পুরুষকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল সোমবার শপথ নেওয়ার পর তিনি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন তিনি। সেখানে ট্রান্সজেন্ডারদের বিষয়টি তোলেন ট্রাম্প। তবে এখন থেকে ট্রান্সজেন্ডারদের আর স্বীকৃতি দেওয়া হবে না বলে ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, “আজকে, এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের আনুষ্ঠানিক নীতি হবে এখানে (যুক্তরাষ্ট্রে) শুধুমাত্র দুই লিঙ্গের মানুষ আছেন— নারী ও পুরুষ।”




ট্রাম্পের অভিষেক ভাষণ: ‘আমেরিকার স্বর্ণযুগের সূচনা’

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণের পর অভিষেক ভাষণ দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া অভিষেক ভাষণে বলেছেন, “আজ থেকে আমেরিকার স্বর্ণযুগের শুরু।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমেরিকান জনগণ কথা বলেছে, অসম্ভবকে সম্ভব করাই আমার কাজ।”

ভাষণে দৃঢ় প্রত্যয়

অভিষেক ভাষণে ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম জাতি হিসেবে বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্ব দেবে। তিনি আরও বলেন, “আমাদের জয় কেউ রুখতে পারবে না। আমরা ব্যর্থ হব না।”

মঙ্গল অভিযানের প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, “মার্কিন মহাকাশচারীরাই প্রথম মঙ্গলের মাটিতে পা দেবেন। এটি হবে নতুন ইতিহাসের সূচনা।”

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণের পর অভিষেক ভাষণ দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণের পর অভিষেক ভাষণ দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

শপথে ঐতিহ্যের প্রতিফলন

ডোনাল্ড ট্রাম্প দুটি বাইবেলে হাত রেখে শপথ নেন। একটি তার মায়ের দেওয়া বাইবেল, আরেকটি ঐতিহাসিক লিংকন বাইবেল। স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প বাইবেল দুটি ধরে রেখেছিলেন।

ট্রাম্পের শপথ অনুষ্ঠানে ক্লিনটন, বুশ ও ওবামা
ট্রাম্পের শপথ অনুষ্ঠানে ক্লিনটন, বুশ ও ওবামা

ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানের সাক্ষী প্রাক্তন প্রেসিডেন্টরা

ট্রাম্পের শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিল ক্লিনটন, জর্জ ডব্লিউ বুশ ও বারাক ওবামা। তবে মিশেল ওবামা অনুপস্থিত ছিলেন। ক্যাপিটল হিলের এই অনুষ্ঠানে করপোরেট ও রাজনৈতিক জগতের নেতারা অংশগ্রহণ করেন।

হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পকে বাইডেনের অভ্যর্থনা
হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পকে বাইডেনের অভ্যর্থনা

হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের প্রবেশ

নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে হোয়াইট হাউসে প্রবেশের সময় বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তাকে স্বাগত জানান। ট্রাম্পের সঙ্গে ছিলেন তার স্ত্রী মেলানিয়া। এই ঐতিহ্যবাহী অভ্যর্থনা ‘টি মিটিং’-এর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।

মোটর শোভাযাত্রা নিয়ে হোয়াইট হাউসে যান ট্রাম্প
মোটর শোভাযাত্রা নিয়ে হোয়াইট হাউসে যান ট্রাম্প

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম