দুই ঘণ্টায় বাড়ি ফিরেছেন দুই লাখ ফিলিস্তিনি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: অপেক্ষার প্রহর শেষ। অবশেষে নিজ ঘরে ফিরতে শুরু করছেন ফিলিস্তিনিরা। ইসরাইলি ছয় জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার পর উত্তর গাজায় ফিরে যাচ্ছে তারা। এ সময় মিশ্র অনুভূতি দেখা গিয়েছে বাড়ি ফেরা গাজাবাসীর মধ্যে। একদিকে মুক্তির আনন্দ, অন্যদিকে প্রিয়জন ও সহায়-সম্বল হারানোর বেদনা।

কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, সোমবার প্রথম ২ ঘণ্টায় উত্তর গাজায় প্রবেশ করেছে ২ লাখ ফিলিস্তিনি। সোমবার সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গত শনিবার হামাস তাদের হাতে জিম্মি চার ইসরাইলি নারী সেনাকে মুক্তি দেয়। এর বিনিময়ে ২০০ ফিলিস্তিনি কারাবন্দিকে মুক্তি দেয় ইসরাইল। তবে এরপর ইসরাইল ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠনটির বিরুদ্ধে চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে। গাজা যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উত্তর গাজা। যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসাবে ওই এলাকার অধিবাসীরা তাদের আবাসস্থলে ফেরার সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু হামাস ওই নারী জিম্মিকে মুক্তি না দেওয়ায় তাদের ঘরে ফেরা আটকে যায়।

ইসরাইল বলছে, হামাসের হাতে জিম্মি বেসামরিক ইসরাইলি আরবেল ইয়াহুদের মুক্তির যে পরিকল্পনা, সেটি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত গাজার বাসিন্দাদের উত্তর দিকে যেতে দেওয়া হবে না।

পরে রোববার আরও ছয় ইসরাইলি জিম্মিকে মুক্তির নিশ্চয়তা দিয়েছে। এরপরই ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, সোমবার থেকে ফিলিস্তিনিরা গাজার উত্তরাঞ্চলে ফেরা শুরু করতে পারবেন। যুদ্ধবিরতির পরই গাজার উত্তরাঞ্চল থেকে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা নিজ নিজ বাড়িঘরে ফিরতে চাইছেন। এ জন্য তাদের নেৎজারিম করিডর পার হয়ে আসতে হবে। কিন্তু ইসরাইল সেখানে উপকূলীয় একটি মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছিল। তারা উত্তর গাজায় ফিরতে চাওয়া ফিলিস্তিনিদের মহাসড়ক পার হতে দিচ্ছিল না।

তবে সোমবার ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে ফিলিস্তিনিদের পায়ে হেঁটে আল-রশিদ এবং সকাল ৯টা থেকে যানবাহনে সালাহ আল-দিনের করিডর অতিক্রম করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এরইমধ্যে অনেকে এসব করিডর অতিক্রম করেছে।

আল জাজিরার সংবাদদাতা জানিয়েছেন, উত্তর গাজায় ফিরতে বাধা দেওয়া হবে না ইসরাইলের এমন ঘোষণার পর নেৎজারিম করিডরের কাছে অপেক্ষারত হাজারো ফিলিস্তিনিরা আনন্দে ফেটে পড়েন। বাস্তুচ্যুত বাসিন্দারা এই মুহূর্তটিকে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেন। তাদের মতে, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মতোই আজকের দিনটি গুরুত্বপূর্ণ। দিনটিকে ‘বিজয়ের দিন’ উল্লেখ করে উত্তর গাজায় ফিরে আসা বাস্তুচ্যুত এক ফিলিস্তিনি বলেন, ‘আমি আমার ঘর পুনর্নির্মাণ শুরু করব। আমরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আবার নতুন করে তৈরি করব।’

আরও এক ফিলিস্তিনি নারী বলেন, তার মনে হচ্ছে যে, তিনি এক নতুন জীবন পেয়েছেন। তিনি উত্তর গাজায় নিজের বাড়িতে ফিরে যাচ্ছেন। ওই নারী বলেন, আমরা খুবই আনন্দিত যে আমরা নিজেদের ভূমি, আমাদের মাতৃভূমি গাজায় ফিরে যেতে পারছি। উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে এই নারী বলেন, সব প্রশংসা আল্লাহর, এটা সত্যি যে আমরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা বিজয়ী হয়েছি। যোদ্ধাদের ধন্যবাদ… আল্লাহকে ধন্যবাদ। মনে হচ্ছে আমি যেন আবার জন্মগ্রহণ করেছি এবং আমরা আবার বিজয়ী হয়েছি।’

যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম ছয় সপ্তাহের ধাপে হামাস ৩৩ জন নারী, শিশু, বৃদ্ধ, অসুস্থ ও আহত বন্দিকে মুক্তি দেবে, যেখানে প্রতি বেসামরিক জিম্মির জন্য ইসরাইল ৩০ জন বন্দি এবং প্রতি সেনার জন্য ৫০ জন বন্দি মুক্তি দেবে।




বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি করতে আগ্রহী ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বাংলাদেশের সঙ্গে চলমান সহযোগিতা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি নতুন দিক অন্বেষণের মাধ্যমে অংশীদারিত্ব বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

সম্প্রতি, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে পাঠানো এক চিঠিতে উরসুলা ভন ডার লেয়েন বাংলাদেশের সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও গভীর সহযোগিতা এবং অংশীদারিত্ব বাড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, “বিস্তৃত অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা চুক্তির মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে চাই।”

উরসুলা ভন ডার লেয়েনের এই উদ্যোগ বাংলাদেশের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে আরও কার্যকরী সহযোগিতা প্রতিষ্ঠা করার সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




টানা ৭ম বারের মতো বেলারুশের প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন লুকাশেঙ্কো

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  টানা সপ্তমবারের মতো বেলারুশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্দার লুকাশেঙ্কো। রোববার বেলারুশে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়েছে, সোমবার তার ফলাফল প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন।

রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল বেল্টা-কে বেলারুশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ইগর কারপেঙ্কো সোমবার সকালের দিকে জানান, মোট ভোটের ৮৬ দশমিক ৮২ শতাংশ নিজের বিজয় নিশ্চিত করেছেন লুকাশেঙ্কো। তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের কেউই ৫ শতাংশের বেশি ভোট পাননি।

১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বেলারুশ। স্বাধীনতার পর দেশটির অস্থায়ী সরকারপ্রধান ছিলেন সাবেক সোভিয়েত বেলারুশ অঙ্গরাজ্যের চেয়ারম্যান স্তানিস্লাভ শুশকেভিচ। ১৯৯৪ সালে প্রথমবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয় বেলারুশে এবং তাতে জয়ী লুকাশেঙ্কো। তারপর থেকে এ পর্যন্ত মোট ৭ বার প্রেসিডেন্ট নির্বচন হয়েছে বেলারুশে, প্রতিবারই জয় পেয়েছেন তিনি।

বেলারুশের সংবিধান অনুসারে দেশটির প্রেসিডেন্টের মেয়াদ ৫ বছরের। সেই হিসেবে সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে স্বাধীনতা লাভের পর গত ৩৩ বছরের মধ্যে ৩০ বছরই দেশটির সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের পদে রয়েছেন লুকাশেঙ্কো। সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে জয়ের মাধ্যমে তার রাষ্ট্রের শীর্ষপদে থাকার মেয়াদ আরও ৫ বছর বাড়ল; অর্থাৎ আগামী ২০৩০ সাল পর্যন্ত বেলারুশের প্রেসিডেন্ট পদে থাকছেন তিনি।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র হওয়ায় আলেক্সান্দার লুকাশেঙ্কোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের দেশগুলোর জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ক তেমন ভালো নয়।  ২০২০ সালের নির্বাচনে যখন জয় পান, সে সময় তার বিরুদ্ধে কারচুপির অভিযোগ তুলেছিলেন বেলারুশের বিরোধীদলীয় নেত্রী এসভেতলানা তিখানোভস্কায়া। ইউরোপপন্থী এই নেত্রীর সে অভিযোগ সমর্থন করেছিল ইউরোপীয় ইউনিয়নও। তবে লুকাশেঙ্কো এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলো প্রায়ই লুকাশেঙ্কোকে বর্ণবাদী বলে অভিযোগ করে। গত নভেম্বরে এ অভিযোগ স্বীকার করে এক বিবৃতিতে তিনি বলেছিলেন, “হ্যাঁ, আমি একজন স্বৈরাচার। বেলারুশের স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা, আইনের শাসন, সহানুভূতি এবং আতিথেয়তার ঐতিহ্য রক্ষা করার জন্য আমাকে এ ভূমিকায় আসতে হয়েছে।”

১৯৯৯ সাল থেকে বেলারুশ রাশিয়ার কৌশলগত অংশীদার। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বাঁধার পর থেকে দু’দেশেল সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। ইউরোপজুড়ে মার্কিন বাহিনীর টহল বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে গত বছর মস্কো এবং মিনস্ক একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে যার আওতায় বেলারুশের ভূখণ্ডে ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করার জন্য মস্কোকে অনুমতি দেয় মিনস্ক।

রোববার নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে লুকাশেঙ্কো বলেন, “চলতি ২০২৫ সালের যে কোনো দিন বেলারুশে ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্রের মোতায়েন করা হতে পারে। বেলারুশকে সুরক্ষা প্রদানের জন্য একই ওরেশনিকই যথেষ্ট।”

 




দিল্লি নির্বাচনে জিতলে দুই বছরের মধ্যে অবৈধ বাংলাদেশী মুক্ত করার ঘোষণা অমিত শাহের

ভারতের রাজধানী দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি জয়ী হলে দুই বছরের মধ্যে দিল্লিকে অবৈধ বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে জানা যায়, রবিবার (২৬ জানুয়ারি) প্রজাতন্ত্র দিবসে নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে তিনি ক্ষমতাসীন আম আদমি পার্টিকে (আপ) ‘অবৈধ আমদানিওয়ালি পার্টি’ আখ্যা দেন। তার অভিযোগ, আম আদমি পার্টি অবৈধ অভিবাসীদের ভোটের ভিত্তিতে নির্বাচন জিতে এসেছে।

অমিত শাহ বলেন, “দিল্লিতে আম আদমি পার্টির ১০ বছরের শাসন দুর্নীতি ও মিথ্যা প্রচারে পরিপূর্ণ। বিজেপি দিল্লিকে বিশ্বের সেরা রাজধানী বানানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। বিজেপি নির্বাচনে জয়ী হলে অবৈধ অভিবাসীদের উচ্ছেদ করা হবে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, আম আদমি সরকার অবৈধ বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিচ্ছে। এর ফলে দিল্লির শাসনব্যবস্থা আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে।

প্রসঙ্গত, দিল্লি বিধানসভার ৭০ আসনে আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে এবং ফলাফল ঘোষণা করা হবে ৮ ফেব্রুয়ারি।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




রোহিঙ্গা সহায়তা অব্যাহত থাকবে, ট্রাম্পকে ধন্যবাদ প্রধান উপদেষ্টার : উপ-প্রেস সচিব

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর নির্বাহী আদেশে আগামী ৯০ দিনের জন্য সব মার্কিন বৈদেশিক সহায়তা কর্মসূচি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে, এ অবস্থায় বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে জানান প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব অপূর্ব জাহাঙ্গীর।

রোহিঙ্গাদের জন্য মার্কিন সহায়তা অব্যাহত আজ রোববার, রাজধানী ঢাকার হেয়ার রোডে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সুইজারল্যান্ডের দাভোস সফর সম্পর্কে আয়োজিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানানো হয়। অপূর্ব জাহাঙ্গীর বলেন, “রোহিঙ্গাদের জন্য মার্কিন সহায়তা বন্ধ হবে না।” তিনি আরও বলেন, এই বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

মার্কিন দূতাবাসের সাথে আলোচনা মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তারা প্রধান উপদেষ্টার প্রতিনিধি ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে রোহিঙ্গাদের সহায়তা অব্যাহত রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এই বৈঠকের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের জন্য মার্কিন সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে এই বছরই একটি বড় আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ সম্মেলনে ১৭০টি দেশ অংশগ্রহণ করবে, এবং জাতিসংঘ এর সহ-আয়োজক হিসেবে অংশগ্রহণ করবে।

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




হামাস যোদ্ধাদের হাতে অত্যাধুনিক ইসরায়েলি তাভর রাইফেল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় হামাসের হাতে বন্দি থাকা চার ইসরায়েলি নারী সেনা সদস্যকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পর এ নিয়ে দ্বিতীয় দফায় চার বন্দিকে মুক্তি দিলো হামাস।

শনিবার গাজা শহরের প্রাণকেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ইসরায়েলি চার বন্দিকে নিয়ে আসা হয়। হামাসের সশস্ত্র সদস্যরা সেখানে ছিলেন এবং সেখানেই ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র এই গোষ্ঠীর এলিট যোদ্ধাদের হাতে অত্যাধুনিক ইসরায়েলি তাভর রাইফেল দেখা যায়।

রোববার (২৬ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু।

বার্তাসংস্থাটি বলছে, ক্ষমতার এক নাটকীয় প্রদর্শনীতে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠী হামাসের অভিজাত যোদ্ধারা গাজা শহরে চারজন নারী ইসরায়েলি সৈন্যকে হস্তান্তরের সময় ইসরায়েলি তাভর রাইফেল নিয়ে হাজির হয়েছিলেন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে নজিরবিহীন হামলার সময় গাজার কাছে অবস্থিত ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটি এবং বসতিগুলোতে আক্রমণের সময় হামাস এসব রাইফেলগুলো জব্দ করেছিল বলে মনে করা হচ্ছে। যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে চার সৈন্যকে হস্তান্তর করার জন্য গাজা শহরের প্যালেস্টাইন স্কোয়ারে স্থাপিত মঞ্চে আনা হলে তাদের পাশে থাকা হামাসের যোদ্ধাদের এই অস্ত্রও কর্যত সবার নজরে আসে। মূলত ইসরায়েলের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে হামলা করার পর যাদের আটক করে নিয়ে এসেছিল হামাস, তাদের মধ্যে এই চারজনও ছিলেন।

ইসরায়েলি সংবাদওয়েব ওয়ালার সামরিক সংবাদদাতা আমির বোহবোট একটি সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে বলেছেন, “ইসরায়েলের নারী সৈন্যদের হস্তান্তর প্রক্রিয়ার সময় সেখানে অবস্থানের জন্য ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অভিজাত ইউনিটের তাভর রাইফেল বহনকারী অভিজাত ইউনিটের যোদ্ধাদের অন্তর্ভুক্ত করে হামাস। এই রাইফেলগুলো সম্ভবত ২০২৩ সালের অক্টোবরে জব্দ করা হয়েছিল।”

ইসরায়েলের সাথে যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় চুক্তির প্রথম পর্যায়ে শনিবার ভোরে হামাস চার নারী ইসরায়েলি সৈন্যকে মুক্তি দিয়েছে। মুক্তিপ্রাপ্ত সৈন্যরা নাহাল ওজ ঘাঁটির ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর নজরদারি ইউনিটের সদস্য।

ইসরায়েলি সামরিক ইউনিফর্ম পরা চার মুক্তিপ্রাপ্ত সৈন্য স্কোয়ারে স্থাপিত একটি মঞ্চে হাসিমুখে জনতার উদ্দেশ্যে হাত নাড়েন এবং পরে তাদের ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেড ক্রসের (আইসিআরসি) প্রতিনিধিদের কাছে স্থানান্তর করে হামাস।

ইসরায়েলি চ্যানেল ১২ বলেছে, “ইসরায়েলি সৈন্যদের মুক্তির দেওয়ার জন্য আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি গাজা শহরের প্যালেস্টাইন স্কোয়ারে খুব সূক্ষ্মভাবে পরিকল্পিত এবং কার্যকর করেছে হামাস। হামাস এই নাটকীয় মুহূর্তটিকে প্রচারের বার্তা দেওয়ার জন্য কাজে লাগিয়েছে।”

ইসরায়েলি চ্যানেল জানিয়েছে, “নিয়ন্ত্রণ ও শ্রেষ্ঠত্বের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে হামাস এই স্কোয়ারের ডিজাইনে উল্লেখযোগ্য সম্পদ বিনিয়োগ করেছে। নারী সৈন্যদের মঞ্চে আনা হয়েছিল, যেখানে তারা একে অপরের হাত ধরেছিলেন, হাসছিলেন এবং জনতার উদ্দেশ্যে হাত নাড়ছিলেন।”

এদিকে গাজায় আটক বেসামরিক বন্দি আরবেল ইয়েহুদকে মুক্তি না দেওয়ায় হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে ইসরায়েল। এর জবাবে ইসরায়েল বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের গাজার উত্তরাঞ্চলে ফিরতে এখনও অনুমতি না দেওয়ার কথা জানিয়েছে।

হামাস বলছে, ফিলিস্তিনিদের উত্তরাঞ্চলে ফিরতে না দিতে গুরুত্বপূর্ণ করিডোর বন্ধ রাখার মধ্য দিয়ে ইসরায়েল নিজেই তার পায়ের নিচে মাটি খুঁড়ছে। সমঝোতা বাস্তবায়নে বাধার জন্য ইসরায়েলই দায়ী থাকবে।




গাজায় এতিম হয়েছে ৩৮ হাজার শিশু, বিধবা হয়েছেন ১৪ হাজার নারী

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  দীর্ঘ ১৫ মাসের বেশি সময় পর সম্প্রতি ফিলিস্তিনের গাজায় কার্যকর হয়েছে বহুল আকাঙ্ক্ষিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি। বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা ফিরছেন নিজ নিজ এলাকায়। আর এরপরই ক্রমান্বয়ে বের হয়ে আসছে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের ভয়াবহ চিত্র।

গাজায় দীর্ঘ ১৫ মাস ধরে চালানো নিরলস এই আগ্রাসনে এতিম হয়ে গেছে ভূখণ্ডটির ৩৮ হাজারেরও বেশি শিশু। আর স্বামীহারা হয়ে বিধবা হয়েছেন প্রায় ১৪ হাজার নারী। গত বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু।

বৃহস্পতিবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের গণহত্যামূলক আগ্রাসনে ৩৮ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি শিশু এতিম হয়ে গেছে। জাহের আল-ওয়াহিদি নামের ওই কর্মকর্তা আনাদোলুকে বলেছেন, “ইসরায়েলি এই বর্বরতায় কমপক্ষে ১৩ হাজার ৯০১ জন নারীও বিধবা হয়েছেন।”

ফিলিস্তিনি এই কর্মকর্তা বলেছেন, দীর্ঘ এই আগ্রাসনে প্রায় ৩২ হাজার ১৫১ জন শিশু তাদের বাবাকে হারিয়েছে। এছাড়া ৪ হাজার ৪১৭ জন শিশু তাদের মাকে হারিয়েছে এবং ১ হাজার ৯১৮ জন শিশু তাদের মা-বাবা উভয়কেই হারিয়েছে।

তিনি বলেন, “এই পরিসংখ্যানগুলো গাজার জনগণের যন্ত্রণার মাত্রা কতটা তীব্র সেটিকেই প্রতিফলিত করে। আর এই কারণে এতিম এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দুঃখকষ্ট দূর করতে এবং তাদের জীবন পুনর্গঠনের জন্য সকলকে জরুরিভাবে কাজ করতে হবে।”

গাজায় ছয়-সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম পর্যায় গত ১৯ জানুয়ারি কার্যকর হয়েছে। সেদিন থেকেই গাজায় বন্ধ হয়েছে ইসরায়েলি আগ্রাসন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে চলা এই আগ্রাসনে গাজায় ৪৭ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী এবং শিশু। এছাড়া আরও ১ লাখ ১১ হাজার ১৬০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

তিন-পর্যায়ের এই যুদ্ধবিরতি চুক্তির মধ্যে বন্দি বিনিময় এবং স্থায়ী শান্তি, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহারের লক্ষ্যমাত্রাও রয়েছে।

এদিকে গাজায় ইসরায়েলের বর্বর আগ্রাসনের আপাতত অবসান ঘটলেও ভূখণ্ডটিতে ইসরায়েলি আক্রমণে নিখোঁজ রয়েছেন ১১ হাজারেরও বেশি মানুষ। মূলত গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডে তার নৃশংস আক্রমণ অব্যাহত রেখেছিল।

জাতিসংঘের মতে, ইসরায়েলের বর্বর আক্রমণের কারণে গাজার প্রায় ৮৫ শতাংশ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন। এছাড়া অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডের ৬০ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। ইসরায়েল ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছে।




পাকিস্তানের সঙ্গে সরাসরি ফ্লাইট চালুর ঘোষণা বাংলাদেশ হাইকমিশনারের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  পাকিস্তানের সঙ্গে সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ ইকবাল হুসেইন। এতে করে উভয় দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।

রোববার (২৬ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ ইকবাল হুসেইন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি বিমান পরিষেবা চালু করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন।

শনিবার দেশটির কাইবার-পাখতুনখাওয়া প্রদেশের রাজধানী পেশোয়ারে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তৃতাকালে ইকবাল হুসেইন দুই দেশের মধ্যে গভীর ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের ওপর জোর দেন এবং ভ্রমণ ও যোগাযোগের সুবিধার্থে সরাসরি ফ্লাইট চালু করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন।

তিনি উল্লেখ করেছেন, এই ধরনের পদক্ষেপ উভয় দেশের মধ্যে পর্যটন, শিক্ষা এবং বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াবে। হাইকমিশনার বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন এবং এই সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে বলে উল্লেখ করেন।

তিনি মত প্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতির ওপর জোর দেন এবং উল্লেখ করেন, কীভাবে সোশ্যাল মিডিয়া তরুণ প্রজন্মকে তাদের অধিকারের কথা বলার ক্ষমতা দিয়েছে এবং সেটি দেশে বাকস্বাধীনতার শক্তিশালী সংস্কৃতিতে অবদান রেখেছে।

হাইকমিশনার ইকবাল হুসেইন খাইবার পাখতুনখাওয়াতে বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা এবং শিল্প খাতে বিনিয়োগের বিশাল সুযোগের কথাও উল্লেখ করেছেন। তিনি পাকিস্তানে বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদার কথাও উল্লেখ করেন এবং এর পাশাপাশি চট্টগ্রাম এবং করাচিকে সংযুক্তকারী শিপিং রুটের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য চলছে বলেও জানান।

হাইকমিশনার বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন এবং প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে অর্থনৈতিক উন্নয়নে তার দেশের ফোকাস রয়েছে বলেও পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি প্রতিরক্ষা খাতে ব্যতিক্রমী সক্ষমতার জন্য পাকিস্তানের বিমানবাহিনীর প্রশংসাও করেন।




ভয়ংকর চ্যালেঞ্জে ইসরায়েল, ফিলিস্তিনের গোপন তথ্য ফাঁস

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামীদের সংগঠন হামাসের গোপন তথ্য ফাঁস করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সূত্র। ফলে ইসরায়েলের সামনে ভয়ংকর চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জানুয়ারি) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

দুটি সূত্রের বরাতে মার্কিন গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর হামাস ১০ থেকে ১৫ হাজার সেনা যুক্ত করেছে। ফলে গোষ্ঠীটি এখনো ইসরায়েলের জন্য হুমকি হিসেবে রয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, নতুন সেনা যুক্ত করলেও যুদ্ধ চলাকালে প্রায় একইসংখ্যক সেনা নিহত হয়েছে। যদিও এর আগে এমন কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি মার্কিন গোয়েন্দারা।

বাইডেন প্রশাসনের শেষ সময়ে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যমতে, হামাস সফলভাবে নতুন সদস্য নিয়োগ করেছে। তবে নতুন নিয়োগ পাওয়া সেনাদের অনেকেই তরুণ এবং অপ্রশিক্ষিত। ফলে সাধারণ নিরাপত্তার উদ্দেশ্যে তাদের ব্যবহার করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের কার্যালয় এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

এর আগে গত ১৪ জানুয়ারি তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাস, ফিলিস্তিনের এ উপত্যকায় হামাস যত সংখ্যক যোদ্ধা হারিয়েছে প্রায় সমান সংখ্যক নতুন যোদ্ধা নিয়োগ করেছে। এটিকে তিনি স্থায়ী বিদ্রোহ এবং দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রস্তুতি বলেও সতর্ক করেন।

ব্লিঙ্কেন এমন সতর্কবার্তা দিলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি। তবে ইসরায়েলি পরিসংখ্যান অনুসারে গাজায় ২০ হাজারের কাছাকাছি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।

এর আগে গত জুলাইয়ে হামাসের সশস্ত্র শাখার মুখপাত্র আবু উবাইদা বলেন, তারা হাজার হাজার নতুন যোদ্ধা নিয়োগ করতে সক্ষম হয়েছে।




যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের এলএনজি চুক্তি

বাংলাদেশ সরকার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানাভিত্তিক আর্জেন্ট এলএনজির সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে। এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ প্রতি বছর আর্জেন্ট এলএনজির কাছ থেকে ৫ মিলিয়ন টন এলএনজি আমদানি করবে। এটি একটি নন-বাইন্ডিং চুক্তি হলেও ভবিষ্যতে এনার্জি সেক্টরে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান এনে দিতে পারে।

আর্জেন্ট এলএনজি বর্তমানে লুইজিয়ানায় বার্ষিক ২৫ মিলিয়ন টন এলএনজি উৎপাদনের অবকাঠামো তৈরি করছে। এ চুক্তি শুধুমাত্র জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করবে না বরং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের কৌশলগত সম্পর্ককেও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেছেন, এই চুক্তি বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান শিল্প খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। “এটি শিল্প, কর্মসংস্থান এবং দীর্ঘমেয়াদি গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে,” তিনি উল্লেখ করেন।

চুক্তির বিষয়ে আর্জেন্ট এলএনজি একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসনের জ্বালানিবান্ধব নীতির প্রতি শিল্পের আস্থা প্রদর্শন করে।

এলএনজির ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করার চেষ্টা করছে। তবে, দেশটি দামের প্রতি সংবেদনশীল। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় এলএনজির মূল্যবৃদ্ধি বাংলাদেশকে সস্তা কয়লা ব্যবহারের দিকে ঠেলে দিয়েছিল।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ এর আগে কাতার এনার্জি ও এক্সিলারেট এনার্জির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করেছে, যার আওতায় তারা ২০২৬ সাল থেকে বছরে ১ মিলিয়ন টন এলএনজি সরবরাহ করবে।

বাংলাদেশের এই পদক্ষেপ শিল্প খাতের উন্নয়ন ও জ্বালানি চাহিদা পূরণে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম