সুরের মুর্ছনায় টরন্টো মাতাবেন রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা

চন্দ্রদ্বীপ ‍নিউজ :  টরন্টোতে শীতের শুরুতেই গানে গানে দর্শক মাতাবেন রবীন্দ্রসংগীতের প্রখ্যাত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। ২৩শে নভেম্বর ‘মোমেন্টস উইথ রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা’ শিরোনামের এই আয়োজনে বন্যার গানের সঙ্গে বাড়তি চমক হিসেবে থাকবে তাপস-নাহিদ জুটির নাচের বাহার। অনুষ্ঠানটি হবে টরন্টো শহরের স্বনামধন্য চাইনিজ কালচারাল সেন্টারে। মনোমুগ্ধকর এই আয়োজনে কালচারাল সেন্টারটিতে শিল্পী বন্যা পরিবেশন করবেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নির্বাচিত গান। তার গানের গভীরতা, নিখুঁত উচ্চারণ আর অনবদ্য আবেগের মিশেলে এই সন্ধ্যা হয়ে উঠবে কানাডার টরন্টো এবং আশপাশের শহরগুলোর প্রবাসী বাঙালিদের এক সাংস্কৃতিক পুনর্মিলন। এমনটাই মনে করছেন আয়োজন সংশ্লিষ্টরা। বন্যার গানের পাশাপাশি থাকবে নৃত্যের ছন্দও। মঞ্চে উঠবেন টরন্টোর জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পী নাহিদ নাসরীন নয়ন ও তাপস দেব। তাদের নৃত্যে রবীন্দ্রসংগীতের সুর ও তালের সঙ্গে মিলবে এক মোহনীয় দৃষ্টিনন্দন রূপ। দারুণ এ আয়োজনের আয়োজক নাহিদ নাসরীন নয়ন এবং তাপস ড্যান্স গ্রুপের তাপস দেব। আয়োজক ও নৃত্যশিল্পী নাহিদ নাসরীন নয়ন বলেন, এই আয়োজন শুধু একটি সংগীতানুষ্ঠান নয়, এটি এক সাংস্কৃতিক উদ্‌যাপন। প্রবাসে থেকেও বাঙালির আত্মপরিচয়ের যে শেকড়, রবীন্দ্রনাথ সেই শেকড়েরই প্রতীক। আর বন্যার কণ্ঠ সেই শেকড়কে আবার জাগিয়ে তুলবে এই প্রবাসে। আমি নিশ্চিত, টরন্টোর শিল্পপ্রেমীরা ইতিমধ্যে অপেক্ষায় দিন গুনছেন, কবে তারা প্রিয় শিল্পীর কণ্ঠে শুনবেন ‘আজি ঝর ঝর মুখর বাদল দিনে’ কিংবা ‘আমার মাথা নত করে দাও’- এর মতো গান। এই বিশেষ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন নৃত্যশিল্পী ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের সভাপতি লায়লা হাসান। পুরো আয়োজনটি উপস্থাপনায় থাকছেন অজন্তা চৌধুরী ও শাকিলা নাজ। অনুষ্ঠানটিতে বাঁশি বাজাবেন জাহাঙ্গীর হোসেন।




পেরুতে সড়ক দূর্ঘটনায় বাস খাদে পড়ে নিহত ৩৭

চন্দ্রদ্বীপ ডেক্স:দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুতে যাত্রীবাহী একটি বাস খাদে পড়ে অন্তত ৩৭ জন নিহত হয়েছেন এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন। বুধবার (১২ নভেম্বর) ভোরের দিকে আরেকুইপার ওকোনা জেলায় প্যানআমেরিকানা সুর মহাসড়কে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। খবর রয়টার্সের।

আরেকুইপার আঞ্চলিক স্বাস্থ্যপ্রধান ওয়ালথার ওপোর্তো বলেছেন, বাস দুর্ঘটনায় ৩৬ জন ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের প্রাণহানি ঘটেছে। দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত দমকলকর্মীদের বরাত দিয়ে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বাসটি প্রথমে একটি ভ্যানের সঙ্গে ধাক্কা খায়, এরপর রাস্তা থেকে ছিটকে গভীর খাদে পড়ে যায়।

আরেকুইপার আঞ্চলিক সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় আহত ২৬ জনকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

তবে দুর্ঘটনার পরপরই দেশটির হাইওয়ে পুলিশের প্রাথমিক এক প্রতিবেদনে ১৬ জনের প্রাণহানির তথ্য জানানো হয়েছিল।




ইতিহাসে দীর্ঘতম অচলাবস্থা নিরসনে বিলে স্বাক্ষর করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট

চন্দ্রদ্বীপ ডেক্স :  প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল বুধবার,  যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘ অচলাবস্থার (শাটডাউন) অবসান ঘটিয়ে একটি বিলে স্বাক্ষর করেছেন।

এর কয়েক ঘণ্টা আগে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে খাদ্যসহায়তা আবার চালু, লক্ষাধিক সরকারি কর্মচারীর বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং উড়োজাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের পক্ষে ভোট দেন কংগ্রেস সদস্যরা।

রিপাবলিকান–নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদে ২২২–২০৯ ভোটে প্রস্তাবটি পাস হয়। ট্রাম্পের সমর্থন তাঁর দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছে। অবশ্য কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা তীব্রভাবে প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন। তাঁরা ক্ষুব্ধ, কারণ সিনেটে দীর্ঘ অচলাবস্থা সত্ত্বেও ফেডারেল স্বাস্থ্যবিমা ভর্তুকি বৃদ্ধির ব্যাপারে কোনো চুক্তি করা যায়নি।

সপ্তাহের শুরুতেই সিনেটে পাস হওয়া বিলটিতে ট্রাম্পের স্বাক্ষরের ফলে আজ বৃহস্পতিবার থেকেই সরকারি কর্মচারীরা কাজে ফেরার সুযোগ পাবেন। অচলাবস্থার কারণে তাঁদের ৪৩ দিনের বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছিল। তবে আইনটিতে ট্রাম্পের স্বাক্ষরের পরও সরকারি সেবা ও কার্যক্রম পুরোদমে কবে স্বাভাবিক হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

হোয়াইট হাউসে বুধবার রাতে আইনটিতে স্বাক্ষর করার সময় ট্রাম্প বলেন, এটা আর কখনো ঘটতে দেওয়া যাবে না। এভাবে কোনো দেশ চালানো যায় না।

খাদ্যসহায়তা আবার চালু হলে লাখ লাখ পরিবার কিছুটা আর্থিক স্বস্তি পাবে। বড়দিনের কেনাকাটা মৌসুমে ভোক্তা ব্যয় বাড়াতে এটি সহায়তা করবে।




তিনদেশের সীমান্তে উচ্চ সতর্কতা জারি ভারতের

 চন্দ্রদ্বীপ ডেক্স :  দিল্লির লাল কেল্লার কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় নয়জনের মৃত্যু এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার পর ভারত সরকার সোমবার রাতে আন্তর্জাতিক সীমান্তগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে।

ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী (বিএসএফ) পাঞ্জাবের ভারত-পাকিস্তান সীমান্তজুড়ে নজরদারি বাড়িয়েছে, পাশাপাশি উত্তর প্রদেশ-নেপাল সীমান্ত এবং অন্যান্য সেনা চৌকিগুলোতেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

এছাড়া, সব ধরনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি এবং দিল্লি পুলিশ।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐহিতাসিক পর্যটন স্থাপনা লাল কেল্লার পাশের বিস্ফোরণ ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৫২ মিনিটে লাল কেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে একটি হুন্দাই আই২০ গাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটেছে। বিস্ফোরণে আশপাশে ছড়িয়ে ছিন্ন-ভিন্ন মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। এছাড়া একেবারে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে কয়েকটি গাড়ি।

ঘটনাস্থলের ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, রাস্তায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে ছিন্ন-ভিন্ন মরদেহ। দিল্লির উপপ্রধান অগ্নিনির্বাপক কর্মকর্তা একে মালিক বলেন, আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেছি। সন্ধ্যা ৭টা ২৯ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

বিস্ফোরণের পর লাল কেল্লা ও এর আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় এই পর্যটন স্থাপনার কাছে বিস্ফোরণের ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বছরের পুরো সময়জুড়েই ওই এলাকা পর্যটকে পরিপূর্ণ থাকে।

একই দিনে রাজধানী দিল্লি থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে হরিয়ানার ফরিদাবাদে ২ হাজার ৯০০ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। দেশটির বিহার রাজ্যের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের আগের দিন বিস্ফোরণের এই ঘটনা ঘটেছে।




৯ মাসে ৮০ হাজার ভিসা বাতিল করলো ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর গত ৯ মাসে প্রায় ৮০ হাজার নন–ইমিগ্র্যান্টের (অভিবাসনপ্রত্যাশী) ভিসা বাতিল করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য জানিয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত ২০ জানুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি ‘যুক্তরাষ্ট্রকে অবৈধ অভিবাসীমুক্ত’ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং ক্ষমতায় এসে সে লক্ষ্যে নির্বাহী আদেশেও সই করেন।

যে ৮০ হাজার মানুষের ভিসা বাতিল করা হয়েছে, তাদের সবাই নথিবিহীন অভিবাসী নন; অনেকে বৈধ খণ্ডকালীন ভিসাধারীও ছিলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাতিল হওয়া ভিসাধারীদের মধ্যে ১৬ হাজার জনের ভিসা বাতিল হয়েছে ‘মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর’ কারণে, ১২ হাজার জনের ‘হামলা বা সহিংসতার’ অভিযোগে, আর ৮ হাজার জনের ভিসা ‘চুরির’ অভিযোগে বাতিল করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, ‘যাদের ভিসা বাতিল হয়েছে, তাদের অর্ধেকই এই তিন ধরনের অপরাধের সঙ্গে যুক্ত।’ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র আরও জানান যে, গত আগস্টে ৬ হাজার বিদেশি শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল করা হয়েছে। ভিসার মেয়াদ পার হয়ে যাওয়ার পরও থাকার পাশাপাশি আইনভঙ্গ ও ‘সন্ত্রাসবাদে সমর্থন’ দেওয়ার অভিযোগ ছিল তাদের বিরুদ্ধে।

গত মে মাসে এক অনুষ্ঠানে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছিলেন, মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই হাজার হাজার নন–ইমিগ্র্যান্টের ভিসা বাতিল করেছে এবং এই প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। তিনি বলেন, ‘যাদের কর্মকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকারগুলোর সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়, তাদের ভিসা বাতিল করা হচ্ছে।’

নির্বাহী আদেশের পর প্রথমে ওয়াশিংটনে এবং পরবর্তীতে দেশজুড়ে অভিযান শুরু হয়, যেখানে পুলিশ, কাস্টমস পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যরা অংশ নিয়ে হাজার হাজার নথিবিহীন অভিবাসীকে আটক করে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠায়।

সূত্র: রয়টার্স




পাকিস্তানে টিটিপির হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে বাংলাদেশি দুই তরুণ নিহত

তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে দেশটির যৌথ নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে দুই বাংলাদেশি তরুণ নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন রতন ঢালীর (২৯) বাড়ি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায়। তবে আরেকজন নিহত ফয়সাল হোসেনের (২২) ঠিকানা জানা যায়নি।

নিহতদের বিষয়টি পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স (সিটিটিসি) ইউনিট নিশ্চিত করেছে।

সিটিটিসি বিশেষ পুলিশ সুপার রওশন সাদিয়া আফরোজ জানান, আমরা শতভাগ নিশ্চিত- রতন ঢালী টিটিপির সঙ্গে যুক্ত হয়ে পাকিস্তানে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রতন ও ফয়সাল ২০২৪ সালের ২৭ মার্চ বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন এবং সেখান থেকে অবৈধভাবে আফগানিস্তান হয়ে পাকিস্তানে পৌঁছে টিটিপিতে যোগ দেয়।

রতন ঢালী ঢাকার খিলগাঁওয়ের একটি মেডিকেল সেন্টারে কাজ করতেন। তার বাবা আনোয়ার ঢালী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালক, মা সেলিনা বেগম। পরিবারের সঙ্গে শেষবার রতন যোগাযোগ করেন ২০২৪ সালের ১০ এপ্রিল রোজার ঈদে। সে তখন জানিয়েছিলেন, ভারতে আছেন এবং শিগগিরই দুবাই যাবেন।

তার মা সেলিনার প্রশ্নের উত্তরে রতন জানিয়েছিলেন, কাজের স্থান থেকে টাকা ব্যবস্থা করা হয়েছে। এরপর আর তিনি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি।

রতনের বাবা আনোয়ার ঢালী বলেন, রতন গ্রামের বাড়ি থেকে সমস্ত কাগজপত্র নিয়ে গিয়েছিল। দুবাই যাওয়ার জন্য এটি প্রয়োজন ছিল। আমরা দেখার চেষ্টা করেছি, কিন্তু সে বলেছিল এতে তার যাত্রায় সমস্যা হবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, রতন পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন, তারপর পড়াশোনা বন্ধ করে মোবাইল সার্ভিসিং শিখতে শুরু করেন।

সিটিটিসি ও গোয়েন্দা সূত্র জানায়, চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল পাকিস্তানিরা ওয়াজিরিস্তানে টিটিপির ৫৪ যোদ্ধাকে হত্যা করার পর অনুসন্ধান শুরু করে। নিহতদের মধ্যে সাভারের আহমেদ জুবায়েরও ছিলেন। এরপরের তদন্তে রতন ও ফয়সালের নাম শনাক্ত করা হয়।

স্থানীয়রা জানায়, রতন ঢালী ও ফয়সালের প্রাথমিক জীবন থেকে সাধারণ ছিল, কিন্তু শেষ কয়েক বছর ধরে তারা বিদেশে যাওয়ার কথা বলতেন।

গোয়েন্দা ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রতন ও ফয়সাল টিটিপির সঙ্গে যুক্ত হয়ে বাংলাদেশি যুবকদের প্ররোচনা এবং বিদেশে যোগদানের পথ প্রশস্ত করার কাজেও জড়িত ছিল।

এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন সতর্কতা জারি করেছে এবং পরিবারকে নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিতে পরামর্শ দিয়েছে। দেশের যুবকদের বিদেশে চরমপন্থী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হওয়া থেকে বিরত রাখতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।




ঘূর্ণিঝড় টিনোর তাণ্ডবে মৃতের সংখ্যা ৬৬, লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত

চন্দ্রদ্বীপ ডেক্স :  ফিলিপাইন একটি দূরযোগ পুর্নদেশ । প্রতি বছর ফিলিপাইন প্রায় ২০টি টাইফুন ও ঘূর্ণিঝড়ের মুখোমুখি হয়। এ বছর এর আগে সুপার টাইফুন রাগাসা (নানডো) ও টাইফুন বুয়ালই (ওপং) আঘাত হানে। এ ছাড়া গত মাসেই কেন্দ্রীয় ফিলিপাইনে ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে বহু মানুষ নিহত হন, যার মধ্যে সেবুই সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল ছিল।

এবার ফিলিপাইনের মধ্যাঞ্চলে ভয়াবহ তাণ্ডব চালিয়েছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় কালমেইগি (স্থানীয় নাম: টিনো) এ পর্যন্ত অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং প্রায় ৪ লাখ মানুষকে ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেবু দ্বীপ। সেখানে তীব্র বন্যা, পাহাড়ি ঢল ও প্রবল বাতাস ঘরবাড়ি, রাস্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত করেছে।

সেবু দ্বীপ দেশের সবচেয়ে জনবহুল অঞ্চলের একটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা গেছে—

অসংখ্য মানুষ ঘরের ছাদে আশ্রয় নিয়েছেন,রাস্তা নদীতে পরিণত হয়েছে,গাড়ি ও কন্টেইনার ভেসে যাচ্ছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অধিকাংশ মৃত্যুর কারণ ডুবে যাওয়া। আকস্মিক বন্যায় ছোট ছোট ঘরবাড়ি ভেসে গেছে। পানি নামার পর জায়গায় জায়গায় জমেছে ঘন কাদার স্তর। উদ্ধারকর্মীরা নৌকায় করে আটকা পড়া মানুষদের সরিয়ে নিচ্ছেন।

দুর্গত এলাকায় উদ্ধার অভিযানে অংশ নিতে যাওয়ার পথে একটি সামরিক হেলিকপ্টার নর্থ মিন্দানাওয়ের আগুসান ডেল সুর এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। এতে ফিলিপাইন এয়ার ফোর্সের (PAF) ছয় জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিহত হয়েছেন।

সেবুর গভর্নর পামেলা বারিকুয়াত্রো জানান,

“আমরা ভেবেছিলাম প্রবল বাতাসই সবচেয়ে বড় হুমকি হবে, কিন্তু ভয়ঙ্কর বন্যাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে। পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় মানুষ পালাতে পারেনি।”




যুদ্ধে ইসরায়েলের বিপুল ব্যয়

চন্দ্রদ্বীপ ডেক্স : ইসরায়েলের অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে গত দুই বছরে যুদ্ধ ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৭৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার । মঙ্গলবার ইসরায়েলি সম্প্রচার সংস্থা জানিয়েছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা প্রতিরক্ষা খাতকে রিজার্ভ বাহিনীর দায়িত্বহীন ব্যবস্থাপনার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন। ফলে রিজার্ভ সৈন্যদের ভাতা বাবদ কয়েক বিলিয়ন অর্থ অপচয় হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচ বলেন, আগামী বছরগুলোতে ইসরায়েলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি টিকিয়ে রাখতে প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানো জরুরি।

যুদ্ধ ব্যয়ের এ হিসাব কোন কোন সংঘাতকে অন্তর্ভুক্ত করেছে, তা বিস্তারিত জানায়নি রিপোর্টটি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, গত দুই বছরে গাজা, লেবানন ও ইরানে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানগুলোই ই ব্যয়ের অন্তর্ভুক্ত।




হিমালয়ে তুষারধসে সাত পর্বতারোহী নিহত

নেপালের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে হিমালয়ের ইয়ালুং রি পর্বতে তুষারধসে অন্তত সাতজন পর্বতারোহী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও আটজন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন বিদেশী ও দুইজন নেপালি গাইড রয়েছেন। আহতদের রাজধানী কাঠমান্ডুতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে

দুর্ঘটনা সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে দোলাখা জেলার ইয়ালুং রি বেস ক্যাম্পের কাছে ঘটে। অভিযাত্রী সংস্থা সেভেন সামিট ট্রেক্স জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছে। বর্তমানে উদ্ধারকারীরা দুটি মরদেহ উদ্ধার করেছেন। বাকি পাঁচজনের মরদেহ ১০–১৫ ফুট তুষারের নিচে চাপা থাকতে পারে, যার কারণে উদ্ধারকাজে সময় লাগছে।

নিহতদের মধ্যে ইতালীয় দুইজন, কানাডীয় একজন, জার্মান একজন, ফরাসি একজন এবং দুইজন নেপালি গাইড রয়েছেন। উদ্ধার হেলিকপ্টার দোলাখার না গাঁও এলাকায় অবতরণ করেছে। ইয়ালুং রি বেস ক্যাম্প থেকে স্থানটি প্রায় পাঁচ ঘণ্টার হাঁটার পথে অবস্থিত। তবে খারাপ আবহাওয়া ও দুর্গম পার্বত্য অবস্থার কারণে উদ্ধারকাজ জটিল হয়ে পড়েছে।

এদিকে, পশ্চিম নেপালের প্যানবারি পর্বতে নিখোঁজ দুই ইতালীয় পর্বতারোহীর উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। স্টেফানো ফাররোনাতো ও আলেসান্দ্রো কাপুতো তিন সদস্যের দলে ছিলেন। গত সপ্তাহে স্থানীয় গাইডসহ আটকা পড়ার পর তাদের উদ্ধারের প্রচেষ্টা চলছে। দলের তৃতীয় সদস্য ভেলটার পারলিনোকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




কেনিয়ায় ভয়াবহ ভূমিধসে ১৩ জনের মৃত্যু

আফ্রিকার দেশ কেনিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় রিফট ভ্যালি অঞ্চলে ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনায় অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার ভোরে প্রবল বর্ষণের পর আকস্মিকভাবে এই ভূমিধসের ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।

কেনিয়ার এলগেয়ো-মারাকওয়েট কাউন্টির পুলিশ কমান্ডার পিটার মুলিঙ্গে জানান, এখন পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ১৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও কতজন নিখোঁজ রয়েছেন তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সেনাবাহিনী ও পুলিশের উদ্ধারকারী দলগুলো কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। কেনিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিপচুমবা মুরকোমেন এক বিবৃতিতে জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য সামরিক ও পুলিশ হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে।

এ ঘটনায় বহু ঘরবাড়ি মাটির নিচে চাপা পড়েছে এবং সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। উদ্ধারকর্মীরা জানাচ্ছেন, ভারী বৃষ্টির কারণে দুর্গম এলাকায় প্রবেশ করতেও চরম সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে।

কেনিয়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃষ্টিপাতের অনিয়ম, তাপমাত্রার পরিবর্তন ও পাহাড়ি এলাকায় বন ধ্বংসের কারণে ভূমিধসের ঘটনা বেড়েছে কয়েকগুণ।

গত বছর কেনিয়ার মধ্যাঞ্চলে ভয়াবহ কাদা ধস ও আকস্মিক বন্যায় ৬১ জন প্রাণ হারান। একই সময় প্রতিবেশী উগান্ডার পূর্বাঞ্চলেও চলতি সপ্তাহে ভূমিধসে ১৩ জন নিহত হওয়ার খবর দিয়েছে উগান্ডা রেড ক্রস।

মানবিক সংগঠনগুলো আশঙ্কা করছে, অতিবৃষ্টি অব্যাহত থাকলে এ অঞ্চলে আরও বড় দুর্যোগ দেখা দিতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন জনগণকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে কাজ করছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম