থাইল্যান্ডে ডাবল-ডেকার বাস দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত

থাইল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলীয় প্রাচীন বুরি প্রদেশে একটি ভয়াবহ ডাবল-ডেকার বাস দুর্ঘটনায় ১৮ জন যাত্রী নিহত হয়েছে। আজ (২৬ ফেব্রুয়ারি) জানানো হয়েছে, বাসটি পাহাড় থেকে নামার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঘটনাস্থলে ১৭ জন নিহত হয় এবং পরে হাসপাতালে আরও একজন মারা যান। এছাড়া, আরও ৩১ জন আহত হয়েছে।

স্থানীয় পুলিশ লেফটেন্যান্ট কর্নেল সিওয়াপাস ফুরিপাচাইবুনচু জানান, বাসটির চালক জানিয়েছেন যে, পাহাড় থেকে নামার সময় ব্রেক ফেল করার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার সময় বাসে মোট ৪৯ জন যাত্রী ছিল এবং যারা বেঁচে গেছেন, তাদের দুটি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে।

থাইল্যান্ডে সড়ক দুর্ঘটনা খুবই সাধারণ, এবং দেশটি বিশ্বের সর্বোচ্চ সড়ক দুর্ঘটনা মৃত্যুর হার ধারণ করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রতি বছর প্রায় ২০ হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়।

গত বছর অক্টোবরে ব্যাংককের শহরতলীতে একটি স্কুল বাস দুর্ঘটনায় ২৩ জন নিহত হয়েছিল, যার বেশিরভাগই ছিল শিশু। এছাড়া, ২০১৪ সালে একটি ১৮ চাকার ট্রাকের সাথে বাসের সংঘর্ষে ১৫ জন প্রাণ হারিয়েছিল, অধিকাংশই স্কুল শিক্ষার্থী ছিল।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




অ্যাপল যুক্তরাষ্ট্রে ৫০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা

বিশ্ববিখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। এই বিশাল বিনিয়োগের মাধ্যমে অ্যাপল কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি দেশের প্রযুক্তি খাতেও বড় ধরণের পরিবর্তন আনবে।

তারা জানায়, আগামী চার বছরে এই বিনিয়োগের মাধ্যমে ২০ হাজার নতুন কর্মী নিয়োগ দেয়া হবে এবং টেক্সাসে নতুন একটি সার্ভার কারখানা প্রতিষ্ঠা করা হবে।

এর পাশাপাশি, অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) টিম কুক ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে একটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রতিষ্ঠানটি তার উৎপাদন কার্যক্রম মেক্সিকো থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরিত করবে। এমন সিদ্ধান্তের পেছনে ট্রাম্পের শুল্ক নীতির প্রভাব রয়েছে, যা বিদেশে তৈরি পণ্যগুলোর দাম বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে, অ্যাপল বাধ্য হয়ে উৎপাদন প্রক্রিয়া মার্কিন মুলুকে নিয়ে আসছে।

অ্যাপলের এই পদক্ষেপ দেশটির অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত, যা দীর্ঘমেয়াদী ব্যবসায়িক উন্নতি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ইউক্রেনের ন্যাটো সদস্যপদের সম্ভাবনা ফের বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ইউক্রেনের ন্যাটো সদস্যপদ পাওয়ার সম্ভাবনা ফের বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোতে ইউক্রেনের প্রবেশের বিনিময়ে ক্ষমতা ছাড়তে প্রস্তুত বলে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সম্প্রাত প্রস্তাব দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অবস্থান স্পষ্ট করা হলো।

সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু।

বার্তাসংস্থাটি বলছে, মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়াল্টজ সোমবার ইউক্রেনের ন্যাটো জোটে প্রবেশের সম্ভাবনা প্রত্যাখ্যান করেছেন। যদিও প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তার দেশকে এই জোটে সদস্যপদ দেওয়া হলে প্রেসিডেন্টের পদ থেকে পদত্যাগ করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

ফক্স নিউজের সাথে এক সাক্ষাৎকারে ওয়াল্টজ বলেছেন, “আমি এমন কিছু দেখতে পাচ্ছি না যে, ইউক্রেনকে ন্যাটোতে প্রবেশ করানো এবং তারপরে মার্কিন সৈন্যদের অপরিহার্যভাবে ও বাধ্যতামূলকভাবে আর্টিকেল ফাইভের পরিপ্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিকভাবে (প্রতিরক্ষায়) যুক্ত হতে বা ইউক্রেনের প্রতিরক্ষার জন্য সরাসরি মার্কিন সৈন্যদের মোতায়েনের কোনও সম্ভাবনা আছে।”

তিনি ন্যাটোর আর্টিকেল ফাইভকে পারস্পরিক-প্রতিরক্ষা ধারা বলে উল্লেখ করেন, যা সদস্যদের কোনো মিত্রের প্রতিরক্ষায় সবাই আসতে বাধ্য যদি কোনও রাষ্ট্র আক্রমণের শিকার হয় এবং সাহায্যের অনুরোধ করে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র শুধুমাত্র একবারই তেমন আহ্বান জানিয়েছিল।

এর আগে ইউক্রেন পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য পদ পেলে দেশটির প্রেসিডেন্ট পদ থেকে পদত্যাগ করতে রাজি হন ভলোদিমির জেলেনস্কি। গত রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।

মূলত সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেলেনস্কিকে ‘স্বৈরশাসক’ আখ্যায়িত করার পর তার এমন আগ্রহের কথা সামনে আসে। সেদিন জেলেনস্কি বলেন, “আপনারা যদি আমাকে এই চেয়ার থেকে সরে যেতে বলেন, তা করতে আমি প্রস্তুত রয়েছি। আর ন্যাটোতে ইউক্রেনের সদস্যপদের বিনিময়েও আমি তা করতে পারি।”

এদিকে ফক্স নিউজের সাথে ওই সাক্ষাৎকারে ওয়াল্টজ আরও বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন কিয়েভের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের খনিজ সম্পদের উৎপাদনে যোগদানের বিষয়ে একটি চুক্তি “খুব অল্প সময়ের মধ্যে” সম্পন্ন হবে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র যে ইউক্রেনে তার বিনিয়োগ রক্ষা করতে ইচ্ছুক, সেই ইঙ্গিতও দেওয়া হবে।




ইউক্রেনের বিষয়ে জাতিসংঘের প্রস্তাবে রাশিয়ার পাশে যুক্তরাষ্ট্র

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যকার যুদ্ধ ৩ বছর পূর্ণ হতে চলেছে। এই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘে ভোটাভুটি হয়েছে এবং জাতিসংঘে দুটি ভিন্ন ভোটে রাশিয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইউক্রেন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান মার্কিন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও এদিন ইউরোপ সমর্থিত একটি প্রস্তাব জাতিসংঘে গৃহিত হয়েছে। ইউক্রেনের ভূখণ্ড থেকে রাশিয়া যেন সেনা প্রত্যাহার করে নেয়, প্রস্তাবে সেই দাবিও করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের তৃতীয় বার্ষিকী উপলক্ষ্যে জাতিসংঘে ভোটাভুটিতে যুক্তরাষ্ট্র দুবার রাশিয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান টানা তিন বছর ধরে চলা এই যুদ্ধের বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানের পরিবর্তনের বিষয়টিই তুলে ধরছে।

প্রথমে দুটি দেশ মস্কোর কর্মকাণ্ডের নিন্দা এবং ইউক্রেনের আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে সমর্থন করে একটি ইউরোপীয় খসড়া প্রস্তাবের বিরোধিতা করে। তারপরও ওই প্রস্তাটি নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে পাস হয়।

সংবাদমাধ্যম বলছে, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ৩ বছর সম্পন্ন হয়েছে। এই আবহে জাতিসংঘে সোমবার ইউরোপ সমর্থিত একটি প্রস্তাব গৃহিত হয়েছে। সেই প্রস্তাবে দাবি করা হয়েছে, ইউক্রেনের ভূখণ্ড থেকে যেন সেনা প্রত্যাহার করে নেয় রাশিয়া। এই প্রস্তাব জাতিসংঘে গৃহিত হওয়াটা মস্কোর জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে জাতিসংঘের মঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আরও একটি প্রস্তাব সামনে আনা হয়। সেখানে যুদ্ধের সমাপ্তির কথা বলা হয়েছে। তবে স্পষ্ট করে রাশিয়ার আগ্রাসনের কথা উল্লেখ ছিল না। সেই প্রস্তাব জাতিসংঘের সাধারণ সভায় প্রত্যাখ্যাত হয়। এটা নিঃসন্দেহে ট্রাম্প সরকারের জন্য বড় ধাক্কা বলেই মনে করা হচ্ছে।

এছাড়া ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের নিন্দা প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এক্ষেত্রে ভোটাভুটিতে রাশিয়ার সঙ্গেই এক সুর ছিল আমেরিকার। এই প্রস্তাবে রাশিয়ার সঙ্গে শুধু আমেরিকাই ছিল না, রাশিয়া পাশে পেয়েছে বেলারুশ, উত্তর কোরিয়া এবং সুদানকেও।

এদিকে জাতিসংঘের সাধারণ সভায় মার্কিন প্রস্তাবের পাশে থাকতে ইউক্রেনকে তার প্রস্তাব তুলে নেওয়ার আহ্বান জানান জাতিসংঘে নিযুক্ত আমেরিকার প্রতিনিধি। তবে নিজের অবস্থানে অনড় ছিল ইউক্রেন। এছাড়া মার্কিন প্রস্তাবের খসড়ায় ইউরোপ পক্ষের কিছু সংস্কারের দাবিকেও মেনে নেওয়ার কথা বলা হয়। যেখানে উল্লেখ করা ছিল— প্রতিবেশী দেশে হামলা করে জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন করেছে রাশিয়া।

অন্যদিকে জাতিসংঘে এদিনের ভোটাভুটিতে ইউক্রেনের পক্ষে সমর্থন ছিল বেশ কম। ভোটাভুটিতে ৯৩ টি দেশ তাদের প্রস্তাবের সমর্থন করে। ১৮ টি দেশ বিরোধিতা করে। আর ৬৫ টি দেশ ভোটাভুটি থেকে বিরত ছিল।

প্রসঙ্গত, এর আগে জাতিসংঘে ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন নিয়ে বৈশ্বিক সমর্থন ছিল চোখে পড়ার মতো। এর আগে বিশ্বের ১৪০ টি রাশিয়ার আগ্রাসনের নিন্দা করেছিল। সেই জায়গা থেকে সর্বশেষ এই ভোটাভুটিতে কিয়েভের পক্ষে পড়া ভোটের সংখ্যা কমে যাওয়াকে বেশ তাৎপর্যের বলে মনে করা হচ্ছে।




ইলন মাস্কের স্টারলিংক নিয়ে কাজ করছে বিটিআরসি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: শীর্ষ মার্কিন ব্যবসায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের প্রভাবশালী ব্যক্তি স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইলন মাস্কের স্টারলিংকের বিষয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) কাজ করছে।

সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে ‘রিকমেন্ডেশনস বাই দ্য টাস্কফোর্স অন রিস্ট্র্যাটেজাইজিং দ্য ইকোনমি’ শীর্ষক শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে এ কথা জানান বিটিআরসি চেয়ারম্যান মো. এমদাদ উল বারী।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। সম্মেলনের প্রথম দিনের দ্বিতীয় অধিবেশনে ‘ডিজিটাল রূপান্তর এবং এমএসএমই বৃদ্ধির মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক উন্নয়ন’ বিষয়ে আলোচনা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, অনেকগুলো ধাপ পার হয়ে ভোক্তাদের কাছে ইন্টারনেট-সেবা পৌঁছায়। প্রতিটি ধাপেই ভালো অঙ্কের অর্থ কেটে রাখা হয়। ইন্টারনেটের দাম না কমার পেছনে এটি অন্যতম বাধা। আশা করছি মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে এ বিষয়ে কিছু অগ্রগতি দেখা যাবে।

১৩ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্টারলিংকের প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্কের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন।

পরে ১৯ ফেব্রুয়ারি ইলন মাস্ককে পাঠানো আনুষ্ঠানিক চিঠিতে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশে স্টারলিংক চালু করার বিষয়ে আগ্রহের কথা উল্লেখ। প্রধান উপদেষ্টা তাকে বাংলাদেশ সফরে আসার আমন্ত্রণ এবং আগামী ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন।




জার্মানিতে নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে জয়ী সিডিইউ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: জার্মানিতে ফেডারেল নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে জয়ী হয়েছে দেশটির খ্রিস্টান ডেমোক্র্যাটস (সিডিইউ/সিএসইউ)। রোববারের (২৩ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনে প্রায় ২৯ শতাংশ ভোট পাওয়ার পর জার্মান বিরোধীদলীয় নেতা ফ্রেডরিখ মার্জ বিজয় ঘোষণা করেছেন।

অন্যদিকে প্রায় ২১ শতাংশ ভোট পেয়েছে এএফডি। এই ফলাফলের মাধ্যমে বুথ ফেরত সমীক্ষার ফলও মিলে গেছে। সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) পৃথক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু ও সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে।

সংবাদমাধ্যম বলছে, ভোট গণনার শেষে প্রাথমিক ফলাফলে সিডিইউ এবং সিএসইউ পেয়েছে ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট। মূলত ভোটগ্রহণের পর বুথ ফেরত সমীক্ষার ফলাফলেও এমনই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কট্টর ডানপন্থি দল এএফডি। দলটি পেয়েছে ২০ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট।

অন্যদিকে বর্তমান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎসের দল এসপিডির ভোট ব্যাপকভাবে কমেছে। আগের তুলনায় প্রায় ৯ শতাংশ ভোট কমে তারা পেয়েছে ১৬ দশমিক চার শতাংশ ভোট।

এই পরিস্থিতিতে কোনও দলের পক্ষেই এককভাবে সরকার গঠন করা সম্ভব নয়। করতে হবে জোট সরকার। সিডিইউ আগেই জানিয়ে দিয়েছিল, তারা এএফডির সঙ্গে সরকার গঠন করবে না। ফলে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হয়েও সরকারে থাকতে পারবে না অতি কট্টরপন্থিরা।

এদিকে দুটি জোট তৈরির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এক এসপিডিকে সঙ্গে নিয়ে নতুন সরকার তৈরি করবে সিডিইউ। অথবা তারা গ্রিন পার্টি বা সবুজ দলকেও জোটসঙ্গী করতে পারে। তবে সিডিইউ নেতা ইতোমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন, জোট নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হবে।

অন্যদিকে এএফডি জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিটি দল যে ‘ফায়ার ওয়াল’ তৈরি করেছিল, ভোটাররা তার বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে। পার্লামেন্টে দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে তারা তাদের ভূমিকা পালন করবে।

উল্লেখ্য, নিজেদের মধ্যে বিরোধ থাকলেও রক্ষণশীল এবং ডেমোক্র্যাট সমস্ত দলই এবারের নির্বাচনের আগে জানিয়েছিল, তারা কোনোভাবেই অতি ডানপন্থি এএফডিকে সমর্থন করবে না। যা ‘ফায়ার ওয়াল’ রাজনীতি হিসেবে আলোচিত হয়েছিল।

এমন অবস্থায় যে পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে তাতে জার্মানির নতুন চ্যান্সেলর হতে পারেন সিডিইউ নেতা ফ্রেডরিখ মার্জ। তিনি ইতোমধ্যেই জানিয়েছেন, ইউরোপকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইলন মাস্কের ছত্রছায়া থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

ম্যার্ৎসকে অভিনন্দনবার্তা পাঠিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। শক্তিশালী ও সার্বভৌম ইউরোপীয় ব্লক গড়ে তোলার কথা বলেছেন মার্জ। ম্যাক্রোঁ তার বার্তায় সেই বিষয়টির উল্লেখ করেছেন।

এছাড়া যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারও অভিনন্দন জানিয়েছেন মার্জকে। স্টারমার বলেছেন, “জার্মানির সঙ্গে আমাদের বরাবরই শক্তিশালী সম্পর্ক। নতুন সরকারের আমলে সেই সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে বলে আশা করছি।”

প্রসঙ্গত, এবারের পার্লামেন্ট নির্বাচনে মোট ভোটার প্রায় ৬ কোটি। এছাড়া রোববারের এই নির্বাচনে ৮৩-৮৪ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জার্মানির সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে এটি রেকর্ড।

গত নভেম্বেরে এসপিডির নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ভেঙে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশটিতে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো।




বাংলাদেশে উগ্র বাম কমিউনিস্টদের ভোট দিতে দেওয়া হয় ২৯ মিলিয়ন ডলার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : রাজনৈতিক পরিমণ্ডল শক্তিশালীকরণে বাংলাদেশের অজ্ঞাত একটি ফার্মকে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা ইউএসএইডের ২ কোটি ৯০ লাখ ডলার দেওয়া নিয়ে আবারও বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শনিবার ওয়াশিংটনে কনজারভেটিভ পলিটিক্যাল অ্যাকশন কনফারেন্সের (সিপিএসি) শেষ দিনে ওই মন্তব্য করেছেন তিনি।

সিপিএসিতে দেওয়া বক্তৃতায় ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডল শক্তিশালীকরণের বিষয়টি ব্যবহার করা হয়েছে উগ্র বামপন্থি কমিউনিস্টদের ক্ষমতায় আনতে। বাংলাদেশে ২৯ মিলিয়ন ডলার গেছে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলকে শক্তিশালীকরণ ও তাদের সহায়তা করতে; যাতে তারা উগ্র বাম কমিউনিস্টদের ভোট দিতে পারেন।




মালয়েশিয়ায় ৮৫ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধরপাকড় অভিযান শুরু করেছে মালয়েশিয়ার অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। শনিবার ভোরের দিকে দেশটির ক্লাং এলাকার মেরু মার্কেট ভবনে অভিযান চালিয়ে ৮৫ বাংলাদেশিসহ অন্তত ৫৯৮ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের উপ-মহাপরিচালক (অপারেশনস) জাফ্রি এমবোক তাহা বলেছেন, ভোর সাড়ে ৫ টায় শুরু হওয়া এই অভিযানে সন্দেহভাজন ৬৩০ অভিবাসীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পরে তাদের মধ্যে থেকে ৫৯৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বয়স ১৭ থেকে ৫৭ বছর।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে কয়েকজন জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই-কমিশনারের (ইউএনএইসসিআর) কার্ডধারী বলে দাবি করেছেন। তবে তারা গ্রেপ্তার এড়ানোর জন্য এই দাবি করেছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা।

মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা বারনামা বলেছে, অভিবাসন কর্তৃপক্ষের অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া অভিবাসীদের মধ্যে ৫৩০ জন মিয়ানমারের, ৮৫ জন বাংলাদেশের, সাতজন ইন্দোনেশিয়ার, পাঁচজন ভারতের ও একজন নেপালের নাগরিক। বিস্তারিত তদন্ত এবং আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য গ্রেপ্তার অভিবাসীদের দেশটির সেমেনিহ ইমিগ্রেশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে বৈধ নথিপত্র না থাকা, ভিসার মেয়াদ শেষের পর অতিরিক্ত সময় ধরে অবস্থান, ভিসার শর্ত মানতে ব্যর্থ হওয়া, ভুয়া পরিচয়পত্রের ব্যবহার এবং অভিবাসন আইনের অন্যান্য শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

বারনামার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল সাতটার দিকে শেষ হওয়া এই অভিযানে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ, জেনারেল অপারেশন ফোর্স (জিওএফ), এমবিডিকে এবং জাতীয় নিবন্ধন বিভাগের (জেপিএন) মোট ১৫৩ কর্মকর্তা অংশ নিয়েছেন।

জাফ্রি বলেছেন, গ্রেপ্তার এড়ানোর জন্য কিছু অভিবাসী ‘‘গেরিলা কৌশল’’ ব্যবহার করেছিলেন।

সূত্র: বারনামা।




ইসরাইলে নতুন মরদেহ পাঠাল হামাস

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ইসরাইলে হামাসের পাঠানো ‘অজ্ঞাত’ মরদেহ নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এরইমধ্যে শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে ইসরাইলের কাছে হঠাৎ করে একটি মরদেহ পাঠিয়েছে হামাস। রেডক্রস গাজার খান ইউনিস থেকে হামাসের কাছ থেকে মরদেহটি নিয়ে সেটি ইসরাইলি সেনাদের কাছে হস্তান্তর করে। হামাস জানিয়েছে, মরদেহটি ইসরাইলি জিম্মি সিরি বিবাসের।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ও ইসলামিক জিহাদ ইসরাইলকে চার জিম্মির মরদেহ ফেরত দেয়। তবে ইসরাইল পরবর্তীতে জানায়, চার জিম্মির মধ্যে তিনজন তাদের নাগরিক। কিন্তু অপরজন গাজার অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ। যেটিকে হামাস সিরি বিবাস নামে এক জিম্মির মরদেহ উল্লেখ করে ইসরাইলকে দিয়েছিল।

আর এই ‘অজ্ঞাত’ মরদেহ নিয়ে হামাস ও দখলদার ইসরাইলের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। শঙ্কা তৈরি হয়েছে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও যুদ্ধ বেধে যেতে পারে। এমন অনিশ্চয়তার মধ্যেই শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে দখলদার ইসরাইলের কাছে হঠাৎ করে একটি মরদেহ পাঠিয়েছে হামাস। রেডক্রস গাজার খান ইউনিস থেকে হামাসের কাছ থেকে মরদেহটি নিয়ে সেটি ইসরাইলি সেনাদের কাছে হস্তান্তর করে। হামাস জানিয়েছে, এই মরদেহটি ইসরাইলি জিম্মি সিরি বিবাসের।

সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরাইল জানিয়েছে, রেডক্রসের কাছ থেকে সেনারা একটি মরদেহ গ্রহণ করেছে। এটি তেলআবিবের আবু কারিম ফরেনসিক ইনস্টিটিউটে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে মরদেহটি সত্যিই সিরি বিবাসের কি না।

হামাসের সিনিয়র কর্মকর্তা মাহমুদ মার্দাওয়াই সংবাদমাধ্যম আল-আকসা টিভিকে বলেছেন, তারা সিরি বিবাসের মরদেহ ফেরত পাঠিয়েছেন।

দখলদার ইসরাইলি বাহিনী যখন জানায় হামাস সিরি বিবাসের বদলে অন্য কোনো নারীর মরদেহ দিয়েছে; তখন একটি বিবৃতি দেয় ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীটি। তাদের দাবি, সিরি বিবাস ইসরাইলের বিমান হামলায় প্রাণ হারান। আর হামলার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, সেটির আঘাতে তার দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। তাই তারা হয়ত ভুলে সিরির জায়গায় অন্য আরেকজনের মরদেহ পাঠিয়ে দিয়েছে। হামাস গাজার ‘অজ্ঞাত’ ওই নারীর মরদেহও ফেরত চায়




মালয়েশিয়ায় ৮৫ বাংলাদেশি গ্রেফতার

মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত ধরপাকড় অভিযানে ৮৫ বাংলাদেশি নাগরিক গ্রেফতার হয়েছেন।

শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, মালয়েশিয়ার ক্লাং এলাকার মেরু মার্কেট ভবনে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন দেশের অন্তত ৫৯৮ অভিবাসীকে গ্রেফতার করা হয়।

মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের উপ-মহাপরিচালক (অপারেশনস) জাফ্রি এমবোক তাহা এই গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অভিযানের শুরু হয় ভোর সাড়ে ৫ টায়, যখন ৬৩০ সন্দেহভাজন অভিবাসীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং তাদের মধ্যে ৫৯৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের বয়স ১৭ থেকে ৫৭ বছরের মধ্যে।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে কয়েকজন নিজেদের জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই-কমিশনার (ইউএনএইসসিআর) কার্ডধারী বলে দাবি করেছেন। তবে মালয়েশিয়ার কর্মকর্তারা জানান, তারা গ্রেফতার এড়ানোর জন্য এই দাবি করেছেন।

মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা বারনামা জানায়, গ্রেফতার হওয়া ৫৯৮ অভিবাসীর মধ্যে ৫৩০ জন মিয়ানমারের, ৮৫ জন বাংলাদেশি, ৭ জন ইন্দোনেশিয়ার, ৫ জন ভারতের এবং ১ জন নেপালের নাগরিক। তাদের বিরুদ্ধে বৈধ নথিপত্র না থাকা, ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া, ভিসার শর্ত লঙ্ঘন, ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার এবং অন্যান্য অভিবাসন আইনের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের সেমেনিহ ইমিগ্রেশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম