ফের গাজায় অনিশ্চয়তা, যুদ্ধ শুরু করতে পারবে ইসরায়েল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের সঙ্গে দখলদার ইসরায়েলর যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। গত ১৯ জানুয়ারি যুদ্ধবিরটি শুরু হওয়ার ১৬তম দিনে দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে আলোচনা শুরুর কথা ছিল। কিন্তু ইসরায়েল তা করেনি। ফলে এ ‍মুহূর্তে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে কোনো যুদ্ধ বিরতি নেই।
যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপের মেয়াদ ছিল ৪২ দিন। এটি শেষ হওয়ার পরই আজ রোববার (২ মার্চ) গাজায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া দখলদাররা গাজায় সব ধরনের পণ্য প্রবেশও বন্ধ করে দিয়েছে।
যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু হুমকি দিয়েছেন, হামাস যদি যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে রাজি না হয় তাহলে গাজায় ফের বর্বর হামলা শুরু করবেন তিনি। যদিও হামাসের সঙ্গে ইসরায়েলের যে যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি হয়েছিল, সেটির মাধ্যমে গাজায় সব ধরনের লড়াই বন্ধ এবং সব জিম্মির মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ইসরায়েলই এটি আটকে রেখেছে।




জেলেনস্কিকে অবশ্যই ট্রাম্পের সাথে সম্পর্ক সংশোধন করতে হবে: ন্যাটো




গাজায় বেড়েই চলেছে প্রাণহানি, ধ্বংসস্তূপে মিলল আরও ২৩ লাশ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে আরও ২৩ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর ফলে অবরুদ্ধ এই উপত্যকাটিতে নিহতের মোট সংখ্যা প্রায় ৪৮ হাজার ৪০০ জনে পৌঁছেছে।

দীর্ঘ ১৫ মাসের বেশি সময় পর গত জানুয়ারি মাসে ফিলিস্তিনের গাজায় কার্যকর হয়েছে যুদ্ধবিরতি চুক্তি। তবে এরপর থেকেই সেখানে ধ্বংসস্তূপের নিচে থেকে একের পর এক উদ্ধার হচ্ছে নিহতদের লাশ। আর এতে করে বেড়েই চলেছে প্রাণহানির সংখ্যা।

শনিবার (১ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু।

বার্তাসংস্থাটি বলছে, ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্যকর্মী ও উদ্ধারকর্মীরা গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে থেকে আরও ২৩ জনের লাশ উদ্ধার করেছেন। এর ফলে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধে নিহত ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা ৪৮ হাজার ৩৮৮ জনে পৌঁছেছে বলে শনিবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি গোলাবর্ষণে গত ৪৮ ঘণ্টায় দুজন ফিলিস্তিনি মারা গেছেন এবং তারাও প্রাণহানির এই সংখ্যার মধ্যে রয়েছেন। এছাড়া আরও ২৩ জন আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এতে করে ইসরায়েলি আক্রমণে আহতের সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ১১ হাজার ৮০৩ জনে পৌঁছেছে। অনেক মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং রাস্তায় পড়ে থাকলেও উদ্ধারকারীরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না।




জেলেনস্কিকে হোয়াইট হাউজ থেকে যেভাবে চলে যেতে বলা হয়

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রকাশ্যে বাকবিতণ্ডায় জড়ানোর পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি নির্ধারিত সময়ের আগে হোয়াইট হাউজ থেকে বেরিয়ে যান। এরপর জানা যায়, জেলেনস্কিকে বেরিয়ে যেতে বলা হয়।

ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা পরামর্শক মাইক ওয়াল্টজ ফক্স নিউজকে শনিবার (১ মার্চ) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তাকেই জেলেনস্কিকে কাছে পাঠানো হয়। ওই সময় তিনি ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টকে জানিয়ে আসেন, ‘তিনি এখানে আর স্বাগত না।’

মাইক ওয়াল্টজ বলেন, “বাক বিতণ্ডার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, আমি এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে পরামর্শ দেই, ওভাল অফিসে সেই অপমানের পর, আমরা আর আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কারণ দেখতে পারছিলাম না। ওই সময় যদি আলোচনা হতো তাহলে বিষয়টি আরও পেছন দিকে যেত।”

তিনি আরও বলেন, “আমি জেলেনস্কিকে বলি, এখানে সময় আপনার পক্ষে নেই। যুদ্ধক্ষেত্রে সময় আপনার পক্ষে নেই। বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সময় আপনার পক্ষে নেই। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, তাকে বলি, ‘মার্কিন করদাতাদের ধৈর্য্যও সীমিত নয়।”

ফক্স নিউজের উপস্থাপক তাকে জিজ্ঞেস করেন জেলেনস্কি কী ওই সময় পরিস্থিতি বুঝতে পারছিলেন। জবাবে ট্রাম্পের এই নিরাপত্তা পরামর্শক বলেন, “না তিনি বুঝতে পারেননি, সত্যি বলতে। তার দল বুঝতে পেরেছিল। তার রাষ্ট্রদূত এবং পরামর্শক বাস্তবতা বুঝতে পারে। আমি বোঝাচ্ছি, তারা রীতিমতো কাঁদছিল যেন আলোচনা সামনে এগিয়ে যায়। কিন্তু জেলেনস্কি তখনও তর্ক করছিল।”

এদিকে হোয়াইট হাউজে ‘অপদস্থ’ হলেও ইউরোপের নেতারা জেলেনস্কির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তারা আশ্বাস দিয়েছেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে তারা ইউক্রেনের পাশে থাকবেন।




উত্তেজনা-তর্কে পণ্ড ট্রাম্প-জেলেনস্কির বৈঠক, ফিরে গেলেন জেলেনস্কি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : যুদ্ধ বন্ধ সংক্রান্ত সংলাপ এবং খনিজ উপাদান হস্তান্তর সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য ওয়াশিংটন সফরে গিয়েছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের সঙ্গে বৈঠকেও বসেছিলেন তিনি।

কিন্তু উত্তেজনা ও উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়েছে সেই বৈঠক এবং ওয়াশিংটন থেকে জেলেনস্কি ফিরে গেছেন কোনো প্রকার চুক্তি স্বাক্ষর না করেই।

ওভাল অফিস সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবারের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের সঙ্গে প্রথম বিতর্ক বাঁধে জেলেনস্কির। বৈঠকের শুরুতে জে ডি ভ্যান্স বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর জন্য এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন কূটনৈতিক তৎপরতা।

ভ্যান্সের এই বক্তব্যের পর জেলেনস্কি তাকে প্রশ্ন করেন, “আপনি কোন ধরনের কূটনীতির কথা বলতে চাইছেন জেডি?”

সপাট উত্তরে ভ্যান্স বলেন, “আমি সেই ধরনের কূটনীতির কথা বলছি, যা আপনার দেশকে ধ্বংস হওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে পারে।”

এর উত্তরে জেলেনস্কি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে কটাক্ষ করে বলেন, “আমরা একজন খুনীর সঙ্গে কখনও সমঝোতায় যাব না।”

বক্তব্যের এই পর্যায়ে বিতর্কে অংশ নেন ট্রাম্প। জেলেনস্কিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “আপনি এখন ভালো অবস্থায় নেই। এই মুহূর্তে আপনার হাতে কোনো কার্ড (বিকল্প) নেই। যদি আপনি আমাদের সঙ্গে থাকেন, তাহলে আপনার হাতে কার্ড আসা শুরু করবে।”

জবাবে জেলেনস্কি বলেন, “আমি কোনো কার্ড খেলছি না এবং আমি খুবই সিরিয়াস, মিঃ প্রেসিডেন্ট।”

কিন্তু তার কথাকে আমল না দিয়ে ট্রাম্প বলেন, “আপনি কার্ড খেলছেন; শুধু তাই নয়, লাখ লাখ মানুষ এবং তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়েও জুয়া খেলছেন আপনি।”

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সমঝোতায় যাওয়ার জন্য জেলেনস্কিকে আহ্বান জানান ট্রাম্প। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আপনাকে (পুতিনের সঙ্গে) সমঝোতা করতে হবে। যদি আপনি তা না করেন, তাহলে আমরা সরে যাব এবং যদি আমরা সরে যাই— সেক্ষেত্রে এই যুদ্ধ আপনাকে একা লড়তে হবে। আমার মনে হয় না সেটি ভালো হবে।”

“একবার যদি আপনি সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেন, আপনার অবস্থান আগের চেয়ে অনেক দৃঢ় এবং শ্রেয়তর হবে; কিন্তু আপনার কথা-বার্তা, আচার-আচরণে মনে হচ্ছে না যে আপনি (আমাদের প্রতি) কৃতজ্ঞ। এটা ভালো নয়। সত্যি বলছি, এটা একেবারেই ভালো নয়।”

ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স জেলেনস্কিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনি এমনকি কখনও আমাদের ধন্যবাদও জানান নি।”

এই পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন জেলেনস্কি এবং ভ্যান্সের উদ্দেশে বেশ উচ্চকণ্ঠে বলেন, “আমি এর আগে অসংখ্যবার যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়েছি।”

ট্রাম্প-জেলেনস্কি ও জেডিভ্যান্স যখন বৈঠক করছেন সে সময় অতিথিদের দুপুরের খাবারের আয়োজন চলছিল ওভাল অফিসে। কিন্তু বৈঠকে উত্তেজনা-বাক বিতণ্ডা এক পর্যায়ে ট্রাম্প বৈঠকস্থল ত্যাগ করেন এবং তার দুই সহকারী জেলেনস্কিকে চলে যাওয়ার অনুরোধ জানান। তা মেনে নিয়ে জেলেনস্কিও ওভাল অফিস ত্যাগ করেন।

জেলেনস্কি চলে যাওয়ার কিছু সময় পর ফ্লোরিডায় নিজের বাসভবন মার-এ লাগোতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, “আজকের বৈঠকে তার বলা উচিত ছিল যে ‘আমি আর যুদ্ধ চাই না’ কিংবা ‘আমি শান্তি চাই’; কিন্তু তা না বলে তিনি পুতিনকে দোষারোপ করছেন এবং বিভিন্ন নেতিবাচক কথাবার্তা বলেছেন। তার এমনটা করা উচিত হয়নি।”

পাশাপাশি জেলেনস্কিকে ফের বৈঠকের জন্য আমন্ত্রণও জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে এ প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, “যেদিন তিনি শান্তির জন্য প্রস্তুত হবেন, সেদিন আবার (হোয়াইট হাউসে) ফিরে আসতে পারবেন।”




এনসিপির আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে আ.লীগ-জাপা বাদে সব দল আমন্ত্রিত

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ-জাপা বাদে সব দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদেরও যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে আনুষ্ঠানিকভাবে দলটির ঘোষণা দেওয়া হবে। প্রকাশ করা হতে পারে দলের লোগো-মনোগ্রাম-পতাকাও।

নতুন এই রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন জুলাই আন্দোলনে আহত ও নিহত পরিবারের সদস্যরা।

আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে বড় জমায়েতের প্রচেষ্টা রয়েছে দলটির। এজন্য আগের সিদ্ধান্ত বদল করে গতকাল দলের উদ্যোক্তারা ঢাকার বাইরে থেকেও নেতাকর্মীকে অনুষ্ঠানে আসার নির্দেশনা দেন।

দলটির অন্যতম প্রধান নেতা ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নামে আগামীকাল সারা বাংলাদেশ থেকে ব্যানার আসবে। এই নামে মুখরিত হোক বাংলাদেশ।

অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও উপদেষ্টাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় যমুনায় গিয়ে সরকারপ্রধানের হাতে আমন্ত্রণপত্র তুলে দেন এনসিপির নেতারা।

এদিকে, গণঅভ্যুত্থানের ছাত্রনেতাদের দল গঠনে সরকারের সহায়তার পাশাপাশি ছাত্রদের দলকে ‘কিংস পার্টি’ বলেও আখ্যা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে কিছু দলের। দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা বিধায় সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলার সুযোগ পেয়েছেন কেউ কেউ। তাই বিতর্ক এড়াতে উপদেষ্টাদের কেউ আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে থাকবেন না বলে জানা গেছে। এমনকি দুই ছাত্র উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াও যাচ্ছেন না অনুষ্ঠানে।

এদিকে, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের শরিক ৩৬ রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে অনুষ্ঠানে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদসহ জ্যেষ্ঠ নেতাদের আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে।

আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে ঢাকায় নিযুক্ত ৫১ দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও কূটনীতিকদের। তবে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের শরিক এবং জাতীয় পার্টিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি জাতীয় নাগরিক পার্টির এ আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে।




গাজায় ৩০ বছর ধরে ছেলের অপেক্ষায় এক মা ডয়চে ভেলে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ইসরায়েলের কারাগারে বন্দী ৭৫ বছর বয়সী নাজাত এল আঘার ছেলে দিয়া। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও হতাশাই জুটলো মায়ের কপালে। ছেলে ফিরে আসবে, সেই আনন্দে গাজার বিধ্বস্ত রাস্তাঘাট হাতড়ে বেড়াচ্ছিলেন নাজাত। যদি কিছু পাওয়া যায়, যা দিয়ে ছেলেকে স্বাগত জানাতে পারেন তিনি।

নাজাত বলেন, ‘‘আমি গাজার ওমার আল মুখতার স্ট্রিটে হাঁটতে হাঁটতে ভাবছিলাম, কীই বা দিতে পারি আমার ছেলেকে? জামা-কাপড়ে ভরে ফেলি ব্যাগ, টুথপিকও ভরেছিলাম ব্যাগে।’’

শনিবার ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী, ইসরায়েলি বন্দিদের বিনিময়ে যেসব ফিলিস্তিনি বন্দিকে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা ছিল, সেই তালিকায় ছিল দিয়ার নামও।

১২ ঘণ্টা ধরে গাজার ইউরোপিয়ান হাসপাতালে বন্দী বিনিময়ের স্থানে অপেক্ষা করেন নাজাত। কিন্তু ৬২০ জন ফিলিস্তিনি বন্দিকে ফেরত পাঠালেও নাজাতের ছেলে দিয়াকে পাঠায়নি ইসরায়েল। দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাকি বন্দিদের মুক্ত করার আগে ইসরায়েলি বন্দিদেরও মুক্ত করা হবে এমন নিশ্চয়তা চায় তারা।

এই খবর পাওয়ার মুহূর্ত থেকে নিজের আবেগ সামলাতে পারছেন না সদ্য ৫০ বছর পেরোনো দিয়ার মা নাজাত।

‘‘আমি সব কিছু তার জন্য প্রস্তুত করেছি, তবুও সে মুক্তি পেলো না। আমাকে তারা বাধ্য করে বাসায় ফিরে যেতে, কিন্তু আমি চাইছিলাম সেখানেই বসে থাকি, যত দিন না দিয়া মুক্তি পায়’’, বলেন তিনি।




অবশেষে ৬০২ ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দিচ্ছে ইসরায়েল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস গত শনিবার ছয় জীবিত জিম্মিকে মুক্তি দিলেও দখলদার ইসরায়েলের ৬০২ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেয়নি। চুক্তি ভঙ্গ করে তাদের মুক্তি আটকে রেখেছিল ইসরায়েল। অবশেষে আজ বুধবার তারা মুক্তি পেতে যাচ্ছেন। তবে এর আগে আরও চার ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহ ফেরত দেবে হামাস।

সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, তাসি ইদান, ওহাদ ইয়ালোমি, ইতজিক এলগারাত এবং সোলোমো মান্তজুর নামের চার ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহ প্রথমে মিসরের কাছে হস্তান্তর করবে হামাস। সেখান থেকে এই মরদেহগুলো ইসরায়েলে পাঠানো হবে। তবে এই চারটি মরদেহ হস্তান্তারের সময় হামাস মঞ্চে কোনো ধরনের অনুষ্ঠান করতে পারবে না।

প্রায় ১০ দিন আগে ইসরায়েলের চার জিম্মির মরদেহ ফেরত দেয় হামাস।

ওই সময় মঞ্চ তৈরি করে ওই মরদেহবাহী কফিন প্রদর্শন করে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি। এ নিয়ে আপত্তি জানায় দখলদার ইসরায়েল। এরপর শনিবার যখন ছয় জীবিত জিম্মির মুক্তির পরও ৬০২ ফিলিস্তিনি আটকে দেয় দখলদার ইসরায়েল।




সুদানে সামরিক বিমান বিধ্বস্ত, ৪৬ জন নিহত

সুদানের ওমদুরমান শহরে একটি সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে কমপক্ষে ৪৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এ ঘটনায় সামরিক কর্মকর্তা ছাড়াও বেশ কিছু বেসামরিক লোক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে রাজধানী খার্তুমের উপকণ্ঠে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রাথমিকভাবে ১৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও, বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দেশটির সরকার জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬ জনে পৌঁছেছে। এছাড়া, দুর্ঘটনায় আরও ১০ জন আহত হয়েছেন।

আহত ও নিহতদের প্রথমে ওমদুরমানের আল-নাও হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, তারা বিকট শব্দ শুনে আবাসিক এলাকায় বিমানটির বিধ্বস্ত হওয়ার দৃশ্য দেখতে পান, যা বেশ কয়েকটি বাড়ি ধ্বংস করে দেয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানটি উত্তর সুদান থেকে দক্ষিণ দিকে উড়ে যাওয়ার সময় ঘাঁটির কাছে বিধ্বস্ত হয়। তবে, দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




৫০ লাখ ডলারে কেনা যাবে মার্কিন নাগরিকত্ব, ট্রাম্পের নতুন প্রস্তাব