সিরিয়ায় আসাদ অনুগতদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর ব্যাপক সংঘর্ষ, নিহত ৪১

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : সিরিয়ায় বিদ্রোহীদের আক্রমণের মুখে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের অনুগত যোদ্ধাদের সঙ্গে দেশটির বর্তমান প্রশাসনের নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৪১ জন।

নিহতদের মধ্যে সরকারি সৈন্যের সংখ্যা ১৩ জন। দেশটির লাতাকিয়া প্রদেশে সংঘর্ষের এই ঘটনায় ওই অঞ্চলে কারফিউ জারি করা হয়েছে। শুক্রবার (৭ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, দামেস্কের নতুন সরকারের প্রতি অনুগত সিরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি উপকূলীয় এলাকায় ক্ষমতাচ্যুত আসাদ সরকারের অবশিষ্টাংশের সাথে তীব্র লড়াইয়ে লিপ্ত হয়েছে।




শান্তিরক্ষা মিশন থেকে সেনাবাহিনীকে বাদ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল জাতিসংঘ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে জাতিসংঘ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে সতর্ক করেছিল যে, সেনাবাহিনী দমনের পথে গেলে শান্তিরক্ষা মিশনে তাদের অংশগ্রহণ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

বিবিসির হার্ডটকে সম্প্রতি এ কথা বলেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক।

সাম্প্রতিক মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং মানবিক সহায়তা নিয়ে এই হার্ডটক গত বুধবার প্রচার করে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস। বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত-সহিংসতা মানবাধিকারের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলে, তা জানাতে তিনি তখন সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ছিলেন। সেখান থেকে তিনি বিবিসির সাংবাদিক স্টিফেন স্যাকুরের সঙ্গে আলাপ করেন। শুরুতে উপস্থাপক বিশ্বজুড়ে সংঘাত বেড়ে যাওয়ার ঘটনা উল্লেখ করেন।

এক প্রশ্নের উত্তরে ভলকার তুর্ক জানান, এর ফলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা বারবার সংবাদের শিরোনাম হচ্ছে। বর্তমানে ৫৯টি দেশে সহিংস ঘটনা ঘটেছে। এসব সহিংসতার পেছনে ভূরাজনৈতিক কারণ দায়ী।

উপস্থাপক গাজা-ইউক্রেন-সুদানের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রাণহানির কথা স্বীকার করে ভলকার তুর্ক বলেন, হতাহতের সংখ্যা যতটা কমিয়ে আনা যায়, সেই চেষ্টা করে জাতিসংঘ। মুক্ত ও অবাধ গণতন্ত্র না থাকাকে তিনি দায়ী করেন।

উপস্থাপক জানান, ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর মানবাধিকার কাউন্সিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে গেছে। এর পর নিকারাগুয়া তার অবস্থান পাল্টিয়েছে। বড় দেশ থেকে ছোট দেশগুলোও যে প্রভাবিত হচ্ছে– এটাকে আপনি কীভাবে দেখেন?

এর উত্তরে ভলকার তুর্ক বলেন, ‘আমি আপনাকে বাংলাদেশের উদাহরণ দিতে চাই। আপনি জানেন, গত বছরের জুলাই-আগস্টে ব্যাপক আন্দোলন করেছিল শিক্ষার্থীরা। শেখ হাসিনার সরকার দমন-পীড়ন চালিয়েছিল। আশার কথা হলো, আমাদের কণ্ঠ তখন সোচ্চার ছিল। আমরা সেনাবিহিনীকে সতর্ক করেছিলাম, যদি তারা জড়িয়ে পড়ে তাহলে আর শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণকারী হিসেবে থাকতে পারবে না। ফলে আমরা পরিবর্তনটা দেখতে পেলাম। ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের দায়িত্ব নিলেন। ফলে স্পটলাইটে কী ব্যবস্থা নিতে হবে, তা আমরা এখানে দেখলাম।’




লন্ডনে জয়শঙ্করের ওপর হামলার চেষ্টা, ছেঁড়া হলো ভারতের পতাকা




আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মির : জয়শঙ্কর




অবৈধ বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠাবে যুক্তরাষ্ট্র




বিরল ঘটনা : ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি আলোচনা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ‘জিম্মি দূত’ অ্যাডাম বোহেলার কাতারের রাজধানী দোহায় হামাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস বুধবার (৫ মার্চ) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, হামাসের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এ আলোচনা ‘অভূতপূর্ব’ ঘটনা। কারণ দেশটি এর আগে কখনো সশস্ত্র এ গোষ্ঠীর সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসেনি। ১৯৯৭ সালে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী দলটিকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তকমা দিয়েছিল মার্কিন সরকার।

এই আলোচনার লক্ষ্য হলো হামাসের কাছে বন্দি থাকা মার্কিন জিম্মিকে মুক্ত করা। এছাড়া সঙ্গে দীর্ঘ যুদ্ধবিরতি নিয়েও আলোচনা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এক্সিওস। যেটির লক্ষ্য হলো সব জিম্মিকে মুক্ত করা এবং গাজায় যুদ্ধ বন্ধ করা। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র এক্সিউসকে জানিয়েছে, আলোচনা চললেও হামাস ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো ধরনের চুক্তি এখনো হয়নি।




মিসরের গাজা পুনর্গঠন তহবিলে জাতিসংঘ-আরব নেতাদের সমর্থন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : গাজা উপত্যকা পুনর্গঠনের জন্য মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি পাঁচ বছর মেয়াদী পাঁচ হাজার ৩০০ কোটি ডলারের তহবিল তৈরির প্রস্তাব তুলে ধরেছেন। সে প্রস্তাবে সমর্থন দিয়েছে আরব লীগ ও জাতিসংঘ।

এই তহবিলের লক্ষ্য হলো গাজায় ভবন, রাস্তাসহ সব অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ এবং ফিলিস্তিনিরা যেন নিজ ভূমিতেই থাকতে পারেন সে পরিস্থিতি তৈরি করা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি গাজাকে খালি করে সেখানে ভ্রমণ গন্তব্য তৈরির পরিকল্পনার কথা বলেন। এর বিপরীতে আরব লীগ এই প্রস্তাব গ্রহণ করে।

সিসির পাঁচ বছর মেয়াদী পরিকল্পনার প্রথম দুই বছর দুই লাখ আবাসিক ভবন তৈরির কথা বলা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে ২০৩০ সাল পর্যন্ত আরও দুই লাখ হাউজিং ইউনিট, একটি বিমানবন্দর, বাণিজ্যিক এলাকা, হোটেল ও পার্ক তৈরির কথা বলা হয়েছে। মোট ৩০ লাখ মানুষের থাকার জায়গা তৈরি করার কথা বলেছে।

জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই পরিকল্পনাকে সমর্থন করেছে। জাতিংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস তার পূর্ণ সমর্থনের কথা ব্যক্ত করেছেন।




জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের চিত্র

জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের বিক্ষোভের সময় সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ওপর একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়েছে। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত মানবাধিকার কাউন্সিলের ৫৮তম অধিবেশনে বুধবার (৫ মার্চ) এ প্রতিবেদন তুলে ধরেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক

তিনি বলেন, “জাতিসংঘ মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে নয়, তবে বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা জরুরি।”

জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণ

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক অধিকার, জবাবদিহিতা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। প্রতিবেদনটি সদস্য রাষ্ট্র ও নাগরিক সমাজের কাছে উপস্থাপন করা হয়, যেখানে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

ভলকার তুর্ক বলেন, “বাংলাদেশে গত বছরের ছাত্র আন্দোলন দমন করতে গিয়ে সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। এটি একটি ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে, যা এখনো চলমান।”

তিনি আরও বলেন, ফৌজদারি মামলার সঠিক বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা এবং সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক সহিংসতার তদন্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অধিবেশনে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, “বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার বিচার নিশ্চিত করতে কাজ করছে। ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি কমিশন গঠন করা হয়েছে।”

জাতিসংঘের প্রতিবেদনটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং এটি বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে ভাবনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : বিগত আওয়ামী সরকার এবং নিরাপত্তা ও গোয়েন্দদা সংস্থাগু‌লো গত বছরের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের সময় গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর সঙ্গে জড়িত ছিল। যা মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো উদ্বেগের পাশাপাশি জরুরিভাবে ফৌজদারি তদন্তের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে। একইসঙ্গে এসব অপরাধ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন।

জুলাই-আগস্টে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনাগুলোর তদন্ত শেষে বুধবার (৫ মার্চ) জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।

জেনেভায় তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলসহ বাংলাদেশ সরকারের একাধিক প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের পরিবার ও স্বজনদের পক্ষ থেকেও একাধিক প্রতিনিধি উপস্থিত থেকে ওই সময়ের ঘটনাগুলো বর্ণনা করেন। পাশাপাশি ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানের তত্ত্বাবধানে নির্মিত যাত্রাবাড়ীতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ওপর একটি ভিডিও চিত্র দেখানো হয়।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক উল্লেখ করেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার কার্যালয় থেকে বাংলাদেশে জুলাই-আগস্টে ঘটে যাওয়া মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো স্বাধীনভাবে অনুসন্ধান করা হয়। অনুসন্ধানে বাংলাদেশের প্রকৃত বাস্তব চিত্র উপস্থাপন করা হয়েছে। যা ঘটে যাওয়া মানবাধিকার লঙ্ঘনের জবাবদিহিতা, ক্ষতিপূরণ এবং এমন অবস্থান থেকে উত্তরণ ও সংস্কার কর্মসূচিকে সমর্থন করছে। যার মধ্যে ফৌজদারি মামলায় যথাযথ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা ও সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক সহিংসতার তদন্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।




প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফরে বেইজিং যাচ্ছেন ড. ইউনূস?

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস ইতোমধ্যে সাত মাস পার করেছেন। এই সময়ে তিনি চারটি বহুপক্ষীয় সফর করেছেন। তবে এখনো দ্বিপক্ষীয় কোনো সফর করেননি ড. ইউনূস। আশা করা হচ্ছে, চলতি মাসে প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফর শুরু করবেন তিনি। আর সেটি হতে পারে চীনে।

ঢাকা-বেইজিংয়ের নির্ভরযোগ্য কূটনৈতিক সূত্রগুলো এসব ইঙ্গিত দিয়েছে।

ঢাকার একটি কূটনৈতিক সূত্র জানায়, চলতি মাসের শেষের দিকে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সফরে ড. ইউনূসের বেইজিং সফরের কথাবার্তা চলছে। প্রধান উপদেষ্টার আগামী ২৭ থেকে ২৮ মার্চ চীন সফর করার সম্ভাবনা রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে দ্বিপক্ষীয় সফরে বেইজিংয়ের পাশাপাশি বাও ফোরাম ফর এশিয়ার (বিএফএ) সম্মেলনে যোগ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা।