মার্কিন শিক্ষা বিভাগ ভেঙে দিতে নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর ট্রাম্পের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগ (ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশন) ভেঙে দিতে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এই আদেশে স্বাক্ষর করেন তিনি।

মূলত নির্বাচনের আগে এই ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ প্রচারণার পাশাপাশি প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন ট্রাম্প। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে মূলত শিক্ষা সংক্রান্ত ক্ষমতা অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সরকারের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

শুক্রবার (২১ মার্চ) পৃথক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও বিবিসি।

আল জাজিরা বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শিক্ষা বিভাগ বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে নির্বাচনী প্রচারণার সময়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছেন। যদিও তার এই প্রচেষ্টা আদালতের চ্যালেঞ্জ এবং সাংবিধানিক বাধার সম্মুখীন হতে পারে।

বৃহস্পতিবার রিপাবলিকান এই প্রেসিডেন্ট একটি বিস্তৃত অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ওই নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন যা মার্কিন এই বিভাগটির পতনকে গতিশীল করবে।




এখন ঢাকাতেই হবে অস্ট্রেলিয়ার ভিসা প্রক্রিয়া

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক ফিরে দেখা ২০২৪ সমগ্র বাংলাদেশ বিশ্ব ক্রিকেট খেলা বাণিজ্য হ্যালো গ্লিটজ লাইফস্টাইল টেক সব খবর

এখন ঢাকাতেই হবে অস্ট্রেলিয়ার ভিসা প্রক্রিয়া
এতদিন বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা আবেদন দিল্লিতে অস্ট্রেলিয়া হাই কমিশনে প্রক্রিয়া করা হত।

এখন থেকে ঢাকায় অস্ট্রেলিয়া হাই কমিশনের মাধ্যমেই বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া করা হবে বলে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় জানিয়েছে।

সরকারপ্রধানের দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সঙ্গে ফোনালাপে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

পরে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর করবে অস্ট্রেলিয়া।

গত বছরের অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বার্কের বাংলাদেশ সফরের সময় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ঢাকায় ভিসা প্রক্রিয়া চালুর অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

এতদিন বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা আবেদন দিল্লিতে অস্ট্রেলিয়া হাই কমিশনে প্রক্রিয়া করা হত।




রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে ১৭৫ বন্দিবিনিময়

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে ১৭৫ বন্দিবিনিময় হয়েছে। সমঝোতার ভিত্তিতে এই বন্দিবিনিময় করে উভয় দেশ।

বুধবার (১৯ মার্চ) তারা যুদ্ধের এক অন্যতম বৃহৎ বন্দিবিনিময় করেছে। খবর সিয়াসাত নিউজের।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে গুরুতর আহত সেনা ও যোদ্ধা ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে রাশিয়ায় আটক রাখা হয়েছিল।

তিনি বলেন, আমরা সেনা, সার্জেন্ট এবং কর্মকর্তা ফিরিয়ে এনেছি— যারা আমাদের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছেন, যারা সশস্ত্র বাহিনী, নৌবাহিনী, জাতীয় রক্ষীবাহিনী, আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনীতে নিযুক্ত ছিলেন।

 

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুভেচ্ছার নিদর্শন হিসাবে আমরা আরও ২২ জন গুরুতর আহত ইউক্রেনীয় বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে।

 

জেলেনস্কি জানান, তাদের আলাদা আলোচনা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

মঙ্গলবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্ভাব্য আংশিক যুদ্ধবিরতি সম্পর্কে কথা বলার সময় যে ২৩ জন আহত যুদ্ধবন্দিকে মুক্তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তার মধ্যে একজনকে মুক্তি দেয়নি রাশিয়া। সেই সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি রাশিয়া।

তিন বছরের যুদ্ধের মধ্যে বন্দিবিনিময় বিভিন্ন সময়ে ঘটেছে। বুধবারের বিনিময়টি সেই আলোচনার আগেই পরিকল্পিত ছিল।

মুক্তিপ্রাপ্ত ইউক্রেনীয় সেনারা বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বন্দি হন, যেমন মারিউপোল, আজোভস্টাল স্টিল প্ল্যান্ট, দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন, খারকিভ, মিকোলাইভ, জাপোরিজঝিয়া, সুমি ও কুরস্ক।

জেলেনস্কি একটি বিবৃতিতে বলেছেন, যারা ফিরেছেন, তারা অবিলম্বে চিকিৎসা এবং মনোবৈকল্য সহায়তা পাবেন। তিনি বন্দিবিনিময়ে কাজ করা ইউক্রেনীয় দলের এবং আন্তর্জাতিক সহযোগী, বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন, যারা এই বিনিময়টি সুষ্ঠু করতে সহায়তা করেছে।

তিনি বলেন, ইউক্রেন তার প্রতিটি যুদ্ধ নায়ককে মনে রাখে এবং আমরা সবার বাড়ি ফিরিয়ে আনব।




পরমাণু চুক্তি : খামেনিকে ২ মাসের আল্টিমেটাম দিয়ে চিঠি ট্রাম্পের




বাংলাদেশ সরকারের পদক্ষেপকে স্বাগত জানাল যুক্তরাষ্ট্র




গাজার উত্তরে ইসরায়েলি হামলায় সাংবাদিকসহ ৯ ফিলিস্তিনি নিহত

গাজার উত্তরে বাইত লাহিয়া এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় তিনজন সাংবাদিকসহ কমপক্ষে ৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ হামলায় আরো বেশ কিছু মানুষ আহত হয়েছেন।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে জানা গেছে, শনিবার (১৫ মার্চ) এই হামলাটি ঘটে। হামলাটি একটি ত্রাণ দলকে লক্ষ্য করে করা হয়েছিল, যারা সাংবাদিক ও আলোকচিত্রীদের সঙ্গে গাজার মানুষের সহায়তায় মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। এতে তিনজন ফিলিস্তিনি সাংবাদিকসহ ৯ জন নিহত হন।

ফিলিস্তিনি সাংবাদিক সুরক্ষা কেন্দ্র এক বিবৃতিতে জানায়, সাংবাদিকরা ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ত্রাণ কার্যক্রম নথিভুক্ত করছিলেন। হামাস এ হামলাকে ‘ভয়াবহ গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করে এবং ইসরায়েলের যুদ্ধাপরাধের ধারাবাহিকতা বলে উল্লেখ করেছে।

অন্যদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে যে, তারা ওই এলাকায় দুজন সন্ত্রাসীকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল, যারা ইসরায়েলি সেনাদের জন্য হুমকি সৃষ্টি করে ড্রোন পরিচালনা করছিল। তবে এই দাবি সম্পর্কিত কোনো প্রমাণ এখনও উপস্থাপন করা হয়নি।

এদিকে, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৪৮ হাজার ৫৪৩ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ১১ হাজার ৯৮১ জন আহত হয়েছেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েলি হামলায় ৯৮ ফিলিস্তিনি নিহত

চলমান যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় হামলা চালিয়ে চলেছে ইসরায়েল, যার ফলে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে হামাস ও ইসরায়েল মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ইসরায়েলি বাহিনী নিয়মিতভাবে গাজার বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

সম্প্রতি গাজা সিটিতে ইসরায়েলি বাহিনী বিমান হামলা চালায়, যার ফলে চার ফিলিস্তিনি নিহত হন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের হামলায় মোট ৪৮ হাজার ৫২৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং এক লাখেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

এদিকে, হামাস ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে যুদ্ধবিরতির সফল বাস্তবায়নে ভীত বলে অভিযোগ করেছে। তাদের দাবি, ইসরায়েলের অবরোধের কারণে ইসরায়েলি বাসিন্দা এবং বন্দিরা অনাহারে রয়েছেন।

এছাড়া, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ গাজায় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে এই প্রস্তাবের বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। নতুন প্রস্তাবের আওতায়, হামাস গাজায় আরও মানবিক সহায়তা প্রবাহিত করার পাশাপাশি বাকি জিম্মিদের মুক্তি দিতে সম্মত হবে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




থাইল্যান্ডের কর্মকর্তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিষেধাজ্ঞা

থাইল্যান্ডে আশ্রয় নেওয়া উইঘুর মুসলিমদের মধ্যে অন্তত ৪০ জনকে চীনে ফেরত পাঠানোর ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। শুক্রবার (১৫ মার্চ) এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

এ ব্যাপারে এক দাফতরিক বিবৃতিতে মার্কো রুবিও বলেন, “২৭ ফেব্রুয়ারি, ৪০ জন উইঘুরকে জোরপূর্বক চীনে ফেরত পাঠানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাবেক ও বর্তমান থাই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমি এই সিদ্ধান্ত শিগগিরই কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছি।” তিনি আরও জানান, চীনের সরকার দীর্ঘদিন ধরে উইঘুর মুসলিমদের ওপর অত্যাচার, নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে, যুক্তরাষ্ট্র অন্যান্য দেশের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যাতে তারা উইঘুরদের চীনে ফেরত না পাঠায়।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, চীন প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর চাপ প্রয়োগ করছে, যেখানে উইঘুর মুসলিমরা আশ্রয় নিয়েছে, তাদের চীনে ফেরত পাঠানোর জন্য। যুক্তরাষ্ট্র এই চীনের তৎপরতা ঠেকাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

থাইল্যান্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্র রাষ্ট্র হলেও, এর আগে কখনও থাই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি। ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্কট্যাংক সংস্থা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের বিশেষজ্ঞ মারি হিবার্ট জানান, এটি একটি বিরল ঘটনা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইউএস কর্তৃপক্ষ এ পদক্ষেপটি গ্রহণ করেছে যাতে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নেওয়া উইঘুর মুসলিমদের চীনে ফেরত পাঠানো নিরুৎসাহিত হয়। তবে, কতজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে তা প্রকাশ করা হয়নি, তবে বলা হয়েছে যে, নিষেধাজ্ঞার আওতায় শুধু কর্মকর্তারা নয়, তাদের পরিবারও আসতে পারে।

প্রসঙ্গত, গত ফেব্রুয়ারিতে, থাইল্যান্ড কর্তৃপক্ষ এই উইঘুর মুসলিমদের চীনে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যা যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার পক্ষ থেকে আপত্তি উঠেছিল। দুটি দেশ থাইল্যান্ডকে উইঘুরদের পুনর্বাসনে সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল, তবে ব্যাংকক তাদের প্রস্তাবে সাড়া না দিয়ে উইঘুরদের চীনে ফেরত পাঠিয়ে দেয়।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




শপথ নিলেন কানাডার নতুন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি

কানাডার নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন মার্ক কার্নি

শুক্রবার (১৪ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে কানাডার রাজধানী অটোয়ার রিডো হলে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেন তিনি।

কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরা তাদের সরাসরি সম্প্রচারে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে মার্ক কার্নি‘র সাথে তার মন্ত্রিসভার সদস্যরাও শপথ নেন।

এর আগে, গত ১০ মার্চ, মার্ক কার্নি লিবারেল পার্টির দলীয় প্রধান নির্বাচিত হন এবং সংবিধান অনুযায়ী দলীয় প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রিত্ব গ্রহণের দায়িত্ব পান, যা আজ আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছেন তিনি।

এদিকে, মার্ক কার্নি কানাডার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য যুদ্ধ নিয়ে কথা বলেন। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প‘র আরোপিত ২৫ শতাংশ শুল্ককে কানাডার জন্য ‘সবচেয়ে বড় সংকট’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

মার্ক কার্নি বলেন, “আমরা এই (বাণিজ্য) লড়াই চাইনি। কিন্তু কানাডিয়ানরা সবসময় প্রস্তুত থাকে যখন কেউ তার হাতের গ্লাভস ফেলে দেয়। হকি খেলার মতো বাণিজ্য লড়াইয়েও কানাডা জিতবে।”

এছাড়া, ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হিসেবে অভিহিত করলেও, মার্ক কার্নি এই মন্তব্যের জবাব কিছুটা ঘুরিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “আমেরিকা কানাডা নয়। এবং কানাডা কখনো, কোনোদিন কোনোভাবে আমেরিকার অংশ হবে না।”


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




গাজা খালি করার পরিকল্পনা বাদ দিলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন। তিনি বলেছেন, গাজা থেকে কোনো ফিলিস্তিনিকে সরানো হবে না। তার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে হামাস।

১২ মার্চ, বুধবার, ওভাল অফিসে আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক বৈঠকে ট্রাম্প তার এই বক্তব্য দেন। হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেমি এক বিবৃতিতে বলেন, “যদি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্য গাজার জনগণকে বাস্তুচ্যুত করার পরিকল্পনা থেকে সরে আসার প্রতিফলন হয়, তবে হামাস তা স্বাগত জানায়।”

এদিকে, দোহায় পাঁচ আরব রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফকে মিশরের নেতৃত্বে গাজার পুনর্গঠন পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে, যেখানে ট্রাম্পের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে শক্ত বিরোধিতা করা হয়েছে।

ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এর আগে গাজাকে ‘দখল’ করে ‘নিজস্বভাবে পরিচালনা’ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সে সময় সৌদি আরব, চীন, রাশিয়া, স্পেনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংগঠন এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করে। গত ৪ ফেব্রুয়ারি হোয়াইট হাউজে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক শেষে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, “আমরা গাজা দখল করবো এবং নতুনভাবে গড়ে তুলবো। সেখানে অবিস্ফোরিত বোমা ও অস্ত্র নিষ্ক্রিয় করা হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে এর নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হবে।”

বিশ্লেষকরা বলেন, ট্রাম্পের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি। গাজার জনগণকে উচ্ছেদ করা ও মার্কিন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা জোরপূর্বক দখল হিসেবে গণ্য হবে, যা আন্তর্জাতিক আইন ও জেনেভা কনভেনশন এর গুরুতর লঙ্ঘন।

গাজার অধিকাংশ বাসিন্দা ১৯৪৮ সালের ‘নাকবা’ বা মহাবিপর্যয়ের সময় বাস্তুচ্যুত হওয়া ফিলিস্তিনিদের বংশধর, যারা ইসরায়েলের সৃষ্টি ও দখলদারিত্বের শিকার হয়েছিলেন। ফলে তাদের জন্য আরেক দফা উচ্ছেদ মেনে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন হবে।

এর আগে, ট্রাম্প গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের বারবার জোরপূর্বক উচ্ছেদের আহ্বান জানিয়েছিলেন, তবে এবার তিনি তার সেই পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম