মিয়ানমারে জনাকীর্ণ দোকানে জান্তার বোমা হামলা, নিহত ১৮

চন্দ্রদ্বীপ ডেক্স : ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জান্তা বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকে মিয়ানমার গৃহযুদ্ধে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গৃহযুদ্ধের ফলে ঘন ঘন বিমান হামলা হয়েছে। এর ফলে প্রায়শই বেসামরিক নাগরিক নিহত হচ্ছে।

মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চলের একটি শহরে জান্তার বিমান হামলায় ১৮ জন নিহত হয়েছে। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) স্থানীয় একজন কর্মকর্তা, একজন উদ্ধারকর্মী এবং দুইজন বাসিন্দা এএফপিকে এ কথা জানিয়েছেন।

স্থানীয় প্রশাসনের একজন কর্মকর্তার মতে, গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় সাগাইং অঞ্চলের তাবাইন শহরে দুটি বোমা ফেলা হয়। এর মধ্যে একটি ব্যস্ত চায়ের দোকানে আঘাত হানে। হামলায় ১৮ জন নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন।

তিনি এএফপিকে বলেন, হামলার ১৫ মিনিট পর ঘটনাস্থলে পৌঁছানো একজন উদ্ধারকর্মী জানান, ঘটনাস্থলেই সাতজন এবং পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও ১১ জন মারা যান।

তিনি বলেন, মিয়ানমারের একটি ঐতিহ্যবাহী সামাজিক কেন্দ্র – চায়ের দোকানটি এবং কাছাকাছি প্রায় এক ডজন বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।

বেঁচে যাওয়া একজন ব্যক্তি জানান, বোমাটি যখন আঘাত হানে, তখন তিনি চায়ের দোকানে টেলিভিশনে প্রচারিত একটি বক্সিং ম্যাচ দেখছিলেন।

তিনি বলেন, বিস্ফোরণের শব্দ কান ফাটিয়ে দেওয়ার মতো ছিল। বিমান উড়ে যাওয়ার শব্দ শোনার সঙ্গে সঙ্গেই আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়ি। আমি আমার মাথার ওপরে একটা বিরাট আগুন দেখতে পেলাম…। আমি ভাগ্যবান ছিলাম, বাড়ি ফিরে আসতে পেরেছি।

জান্তার একজন মুখপাত্র এএফপির একজন প্রতিবেদকের ফোনকলের জবাব দেননি। স্থানীয় এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, শনিবার নিহতদের শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়।




পাক-আফগান সীমান্তে ফের উত্তেজনা

চন্দ্রদ্বীপ ডেক্স : শুক্রবার ( ডিসেম্বর) গভীর রাতে দুপক্ষের সীমান্তে ভারি গোলাগুলি হয় বলে উভয় দেশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। 

সীমান্তে এই সংঘর্ষ এমন এক সময়ে ঘটল, যখন দুই দিন আগেই সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত নতুন একটি শান্তিআলোচনা কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়েছে। তবে দুপক্ষইভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকার্যকর রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তান বারবার তালেবান কর্তৃপক্ষকে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ করেছে। 

আফগানিস্তানের তালেবানের মুখপাত্র জবিহুল্লাহ মুজাহিদ অভিযোগ করেছেন যে, পাক সেনারা কান্দাহারের স্পিন বোলদাক জেলায় হামলা চালিয়েছে।

তবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দফতরের একজন মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেছেন, আফগান বাহিনী চামান সীমান্তেবিনা উসকানিতে হামলাচালিয়েছে। 

মোশাররফ জাইদি বলেন, আঞ্চলিক অখণ্ডতা নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাকিস্তান সম্পূর্ণ সতর্ক অবস্থায় আছে।

অন্যদিকে কাবুল ইসলামাবাদকে তার আকাশসীমা লঙ্ঘন এবং অযথা চাপ প্রয়োগের অভিযোগ করেছে। দুই দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনা ভেঙে পড়ায় একে অপরকে দোষারোপ করার ঘটনাও ঘটেছে। অক্টোবরের গোড়ার দিকে সীমান্ত সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন সৈন্য বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর সংলাপ প্রক্রিয়া শুরু হয়, এই সংঘর্ষের পর তুরস্ক এবং কাতার মধ্যস্থতা করার জন্য এগিয়ে আসে।




‘শান্তির দূত’ বলা হল ট্রাম্পকে: ফিফা শান্তি পুরস্কার

বিশ্বের ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা FIFA–র নতুন শান্তি পুরস্কার প্রথমবারের মতো ২০২৫ সালের ৫ ডিসেম্বর দেওয়া হয়েছে। এই পুরস্কার পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald J. Trump। পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান ছিল ২০২৬ সালের 2026 FIFA World Cup–এর গ্রুপ ড্র-এর সময়, যা করা হয় ওয়াশিংটন ডিসির John F. Kennedy Center for the Performing Arts–এ।

পুরস্কার দেওয়া হয়েছে ট্রাম্পের উপর “বিশ্বব্যাপী শান্তি ও ঐক্য বাড়ানোর” অবদানের স্বীকৃতিতে। পুরস্কার হিসেবে তিনি পান একটি সোনালি ট্রফি, একটি পদক এবং একটি সার্টিফিকেট। পুরস্কার গ্রহণের সময় ট্রাম্প বলেন, এটি তার জীবনের “একটি মহান সম্মান”।

FIFA–র প্রেসিডেন্ট Gianni Infantino বলেন, যুদ্ধ ও সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখা এমন ব্যক্তিদের উৎসাহিত করতে নতুন এই পুরস্কার চালু করা হয়েছে। তিনি ট্রাম্পকে ভূ­মিকা, উদ্যোগ ও দৃষ্টিভঙ্গার জন্য সম্মান জানিয়েছেন।

কিন্তু প্রতি বিভাজন ছিলই। পুরস্কার ঘোষণার পর থেকেই নানা মহলে প্রশ্ন ওঠেছে—যে ট্রাম্পকে শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়েছে, তার দাবি করা “সংঘাত নিরসন” কতটা বাস্তব। বিশেষ করে গাজা, মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য অঞ্চলের সাম্প্রতিক সংঘাত, এবং ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক নীতির প্রেক্ষিতে অনেকের মতে, এই পুরস্কার বিতর্কিত।

বিশ্ব ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই সিদ্ধান্ত কেবল ফুটবল বা খেলাধুলার বেশিবার্দ্ধ নয়; এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে, কূটনীতিতে এবং বিশ্ব শান্তি প্রক্রিয়ায় নতুন বিতর্ক–নব আলোড়নও তৈরি করেছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ইমরান খানকে ‘জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি’ ঘোষণা আইএসপিআর-এর

পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে দেশের সেনাবাহিনীর সাম্প্রতিক অবস্থান। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে এবার সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে দাবি করেছে দেশটির শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর। শুক্রবার রাওয়ালপিন্ডিতে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এক বিস্তৃত সংবাদ সম্মেলনে আইএসপিআর মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী এই কঠোর মন্তব্য করেন, যা পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

তিনি বলেন, ইমরান খান এমন এক অবস্থানে গিয়ে দাঁড়িয়েছেন যেখানে তিনি মনে করছেন রাষ্ট্র, নীতি, আইন—সবকিছুই তার চারপাশে আবর্তিত হয়। সামরিক বাহিনীকে লক্ষ্য করে তৈরি করা নানা বক্তব্য, বিদেশি শক্তির সঙ্গে সমন্বয়ের অভিযোগ এবং রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা এখন দেশের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জেনারেল চৌধুরীর দাবি, ইমরান খান দীর্ঘদিন ধরে সেনাবাহিনী-বিরোধী প্রচার চালাচ্ছেন, যা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

আইএসপিআর প্রধান অভিযোগ করেন, ইমরান খান সংঘটিত রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক ও সোশ্যাল মিডিয়া ট্রলিং-এর মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে ‘পরিকল্পিত প্রচার’ চালাচ্ছেন। তার দাবি, ইমরানের বক্তব্য বিদেশি কিছু গণমাধ্যম, বিশেষ করে ভারত ও আফগানিস্তানের মিডিয়া, সংগঠিতভাবে প্রচার করছে। তিনি বলেন, ইমরান খানের ব্যক্তিগত অহংকার তাকে এমন জায়গায় নিয়ে গেছে, যেখানে তিনি নিজেকে ছাড়া অন্য কাউকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন না।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, সেনাবাহিনীর নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে যেকোনো আক্রমণ দেশের নিরাপত্তা কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। সংবিধান, আইন ও রাষ্ট্রের নীতি উপেক্ষা করে বারবার সেনাবাহিনীকে টার্গেট করা হলে দেশ বিশৃঙ্খলার দিকে এগিয়ে যায়। জেনারেল চৌধুরীর দাবি, আদিয়ালা কারাগারে ইমরানের সঙ্গে প্রতিবার সাক্ষাতের পর পিটিআই নেতারা নতুন নতুন সেনাবাহিনী-বিরোধী বর্ণনা প্রচার করছেন।

তিনি ইমরান খানের সাম্প্রতিক বক্তব্য নিয়েও মন্তব্য করেন। তার দাবি, ইমরান এমন মন্তব্য করেছেন যাতে বোঝা যায়—পাকিস্তান রাষ্ট্র বা তার শক্তি কাঠামো তার বাইরে অচল। এমন মানসিকতা বিপজ্জনক এবং জাতীয় স্বার্থবিরোধী বলেও মন্তব্য করেন আইএসপিআর প্রধান।

আইএসপিআর প্রধান উল্লেখ করেন, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে পাকিস্তান প্রতিদিনই চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়াচ্ছে। খাইবার পাখতুনখোয়া অঞ্চলে প্রতিনিয়ত পুলিশ প্রাণ দিচ্ছে, অথচ ইমরান খান গোয়েন্দা অভিযান ‘বন্ধ রাখার’ মতো বক্তব্য দিচ্ছেন। তিনি বলেন, “যদি ভারত হামলা করত, ইমরান হয়তো ভিক্ষার থালা হাতে নিয়ে আলোচনার আহ্বান জানাতেন।”

তিনি জোর দিয়ে বলেন, পাকিস্তান রাষ্ট্র ও জনগণের ইচ্ছাই সর্বোচ্চ। সেনাবাহিনী সরকার ও সংবিধানের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান, এবং দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো প্রচার সহ্য করা হবে না। সংবাদ সম্মেলনের শেষে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র সফল হতে দেওয়া হবে না। পাকিস্তানের নিরাপত্তা কাঠামোকে ‘বুনিয়ান-উন-মারসুস’—এক অটল দেয়াল হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “পাকিস্তান থাকবে, পাকিস্তান সেনাবাহিনীও থাকবে।”


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




’কুদানকুলাম’ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ-ক্ষমতায় নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করবে রাশিয়া: পুতিন

চন্দ্রদ্বীপ ডেক্স : শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরের সময় নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে যৌথ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় উক্তসংবাদ সম্মেলন  রুশ নেতা  বলেন ভারতের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ‘কুদানকুলাম’ নির্মাণে নয়াদিল্লির সঙ্গে সহযোগিতা করছে মস্কো।

রুশ নেতা আরও বলেন, ‘আমরা ভারতের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র- কুদানকুলাম নির্মাণের জন্য একটি ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প পরিচালনা করছি। ছয়টি চুল্লি ইউনিটের মধ্যে দুটি ইতোমধ্যেই এনার্জি নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে এবং চারটি এখনো নির্মাণাধীন। এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটিকে পূর্ণ বিদ্যুৎ উৎপাদনে পরিণত করা ভারতের জ্বালানি চাহিদা পূরণে একটি চিত্তাকর্ষক অবদান রাখবে।’

এনডিটিভি জানিয়েছে, পুতিন দুই দিনের ভারত সফরে আছেন। সেখানে দুই দেশের নেতা জ্বালানি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন।

পুতিন বলেন, ‘আমরা ধরে নিচ্ছি যে, আমরা ছোট মডুলার চুল্লি এবং ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কথা বলতে পারি এবং পারমাণবিক প্রযুক্তির অ-শক্তি প্রয়োগের কথাও বলতে পারি। উদাহরণস্বরূপ: চিকিৎসা বা কৃষিতে।’

তিনি আরও বলেন, ভারতে তেল, গ্যাস, কয়লা এবং জ্বালানি উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছুর একটি নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী রাশিয়া। এটি দ্রুত বর্ধনশীল ভারতীয় অর্থনীতির জন্য জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন চালানের নিশ্চয়তা প্রদান করে।

 




ব্রিটেন যেন নারী শিকারিদের স্বর্গ রাজ্য

চন্দ্রদ্বীপ ডেক্স : যুক্তরাজ্যের রাস্তাঘাট এখন আরা নারীর জন্য নিরাপদ নয়।  নারী এখন একাকি পথ চলতে নিরাপদ বোধ করেন না বলে উঠে এসেছে নতুন এক তদন্ত প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের মার্চে ওয়েন কাজেন্স নামক লন্ডন পুলিশেরই এক অফিসার সারা এভারার্ড নামে এক তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন। ভয়াবহ এই ঘটনা গোটা ব্রিটেনকেই নাড়িয়ে দেয়। রাজপথে হয় ব্যাপক বিক্ষোভ।

কিন্তু চার বছর পার হয়ে গেলেও পরিস্থিতি এখনো খুব একটা বদলায়নি। সারা হত্যাকাণ্ডের তদন্তকারী দলের প্রধান স্কটল্যান্ডের বিখ্যাত আইনজ্ঞ এলিশ অ্যাঞ্জিওলিনি সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছেন, ‘ব্রিটেনে নারী-শিকারীরা এখনো খোলাখুলি ঘুরে বেড়াচ্ছে। তরুণী ও নারীরা প্রকাশ্য রাস্তায় আক্রান্ত হওয়ার ভয় নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।’

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের ঘটনার পর থেকে অসংখ্য নারী নানা ধরনের হামলার শিকার হয়েছেন।

এই প্রতিবেদনে ‘প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহে মৌলিক ব্যর্থতা এবং মেয়েদের বিরুদ্ধে হামলা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা না থাকার বিষয়টি’ হাইলাইট করা হয়েছে।

অ্যাঞ্জিওলিনির রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ব্রিটেনে প্রকাশ্য স্থানে নারীর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেই। এটি নিরাপত্তা নীতি ও পরিকল্পনায় বড় সমস্যা হিসেবে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ব্রিটেনের অনেক নারী যার মধ্যে ছাত্রী, কর্মজীবী, পুলিশ কর্মী রয়েছেন- তারা পাবলিক জায়গায় নিরাপত্তাহীনতার কারণে সর্বদা সতর্ক থাকেন। নারীদের কাছে রাস্তা বা পাবলিক জায়গায় হয়রানি এতটাই সাধারণ হয়ে গেছে যে, তারা সাধারণত শুধু বড় ধরনের ঘটনারই রিপোর্ট দেন।

প্রতিবেদনের একটি অংশে জাতিসংঘের সমীক্ষা থেকে জানা গেছে, ব্রিটেনের ৭১ শতাংশ নারী বলেছেন, তাদের জীবনে অন্তত একবার পাবলিক প্লেসে যৌন হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।

প্রতিবেদনটি আরও উল্লেখ করেছে, ব্রিটেনের পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের একাধিক মামলার পুনরাবৃত্তি দেখা গেছে। এই তথ্য ব্রিটেনের ব্যর্থ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেই নির্দেশ করে, যা নারীর বিরুদ্ধে হয়রানির সুযোগ তৈরি করে।

এদিকে, ব্রিটেনের কয়েকজন নারী সংসদ সদস্য জানিয়েছেন, বাইরে বের হলে তারা সহজে দৌড়াতে পারেন এমন জুতো পরে বের হন এবং সবসময় ফোনে বন্ধুর সঙ্গে কথা বলেন যাতে নিরাপদ বোধ হয়।

সামাজিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ব্রিটেনে নারী বিরোধী অপরাধ প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় পুলিশ ও বিচার বিভাগীয় কাঠামোতে গুরুতর ও দীর্ঘস্থায়ী দুর্বলতা রয়েছে।




ক্রমেই দূর্বল হচ্ছে ভারতীয় রুপি

চন্দ্রদ্বীপ ডেক্স : ভারতীয় রুপির পতন যেন থামছে না। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) প্রথমবারের মতো প্রতি ডলারের বিপরীতে ৯০ রুপি লেনদেন হয়।এদিন মার্কিন ডলারের বিপরীতে রুপির দর নেমে দাঁড়ায় ৯০.১৩, যা আগের দিনের রেকর্ড ৮৯.৯৪-কেও ছাড়িয়ে গেছে।

রুপির দরপতনের পেছনে রয়েছে কয়েকটি কারণ।

এর মধ্যে অন্যতম হলো দুর্বল বাণিজ্য পরিস্থিতি, পোর্টফোলিও বা বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহ কমে যাওয়া ও ভারত–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা।এই কারণগুলো পুরো সেশনে রুপিকে চাপের মধ্যে রেখেছে। রুপির তীব্র পতনের প্রভাব পড়েছে দেশটির শেয়ারবাজারেও।

দুর্বল রুপি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মূল্যস্ফীতি ও বিদেশি বিনিয়োগ কমে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, ভারত–মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হলে রুপির পতন থামবে, এমনকি উল্টো বাড়তেও পারে। আশা করা হচ্ছে, চুক্তিটি এই মাসেই হতে পারে। তবে চুক্তিতে ভারতের ওপর শুল্কসংক্রান্ত কী সিদ্ধান্ত আসছে- তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এদিকে বুধবার ভারতের শেয়ারবাজার তুলনামূলক শান্তভাবে লেনদেন শুরু করে, প্রধান সূচক দুটিতেই ছিল সীমিত ওঠানামা।




নিশি’র বাংলাদেশ প্রিমিয়ার আজ জার্মান কালচারাল সেন্টারে

যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদাপূর্ণ এনভায়রনমেন্টাল মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশন (এমা) অ্যাওয়ার্ড জয়ী প্রথম বাংলাদেশি চলচ্চিত্র ‘নিশি’র বাংলাদেশ প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রযোজনা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি অব ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইউরোপীয় চলচ্চিত্র উৎসবের অংশ হিসেবে ৬ ডিসেম্বর বিকেল ৩টায় ঢাকার জার্মান কালচারাল সেন্টারে এই প্রিমিয়ার আয়োজন করা হবে।

ছবিটির গল্প ও চিত্রনাট্য লিখেছেন গোলাম রাব্বানী। চলচ্চিত্র নির্মাণে সহযোগিতা করেছেন জহিরুল ইসলাম। নির্মাতা গোলাম রাব্বানী জানান, “ছবিটি বিভিন্ন দেশে প্রদর্শিত হয়েছে, পুরস্কার পেয়েছে এবং ভবিষ্যতেও পাবার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য এটি প্রদর্শন করা আমাদের জন্য আলাদা আনন্দের। অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে ছবিটি দেখার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন এবং এই প্রিমিয়ার সেই সুযোগ তৈরি করেছে।”

‘নিশি’ চলচ্চিত্রের গল্পে উঠে এসেছে এক চা-শ্রমিকের কন্যাসন্তানের পড়াশোনার বাধা পানির সংকটের কারণে। বাড়িতে টিউবওয়েল বসানোর প্রলোভন দেখিয়ে নাবালিকা নিশিকে বিয়ে করতে চায় কাঠ ব্যবসায়ী লালচাঁন। গল্পের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে প্রান্তিক এলাকার মানুষদের দৈনন্দিন চ্যালেঞ্জ ও জলবায়ু সংকটের প্রভাব।

ছবিটির চূড়ান্ত সম্পাদনা, রঙ ও সাউন্ড ডিজাইন সম্পন্ন হয়েছে পোল্যান্ডের লজ ফিল্ম স্কুলে। সেখানে চিত্রগ্রহণ পরিচালনা করেছেন প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তনী নাতালিয়া পুসনিক। শুটিং হয়েছে সিলেটের চা-বাগান ও আশপাশের এলাকায়। এতে অভিনয় করেছেন চা-বাগানের শ্রমিকের মেয়ে নিশি, চা শ্রমিক বিশ্বজিৎ, গণেশ ও ভারতী।

বাংলাদেশে ‘নিশি’র প্রিমিয়ার আয়োজন ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশ, গ্রিন ফিল্ম স্কুল অ্যালায়েন্স ও ইউনেসকো ঢাকার সহযোগিতায় করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানটি চলচ্চিত্রপ্রেমী দর্শকদের জন্য বিশেষ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হবে, যেখানে তারা সামাজিক ও পরিবেশগত বার্তাবহ গল্প উপভোগ করতে পারবেন।

“মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”

 




জাপানে এলো বিস্ময়কর মানব ওয়াশিং মেশিন

জাপান আবারও প্রযুক্তি দুনিয়ায় নতুন চমক দেখিয়েছে। বিশ্ব এক্সপোতে লাখো দর্শককে মুগ্ধ করার পর আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারে এসেছে মানুষের জন্য তৈরি অভিনব ‘মানব ওয়াশিং মেশিন’। জাপানি প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সায়েন্স এ যুগান্তকারী যন্ত্রটি বাজারে ছাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। টোকিও থেকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা থেকে শুরু করে এর ব্যবহার-পদ্ধতির নানা বিস্ময়কর তথ্য।

মানব ওয়াশিং মেশিনটি দেখতে অনেকটা আধুনিক ক্যাপসুল বা পডের মতো। ব্যবহারকারী ভেতরে শুয়ে ঢাকনা বন্ধ করলেই যন্ত্রটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সক্রিয় হয়ে শরীরকে সম্পূর্ণ পরিষ্কার করে দেয়। যন্ত্রটির সবচেয়ে বিশেষ দিক হলো—এটি কোনো ধরনের ঘূর্ণন ছাড়াই মানুষের শরীর পরিষ্কার করতে পারে। ধোয়ার পুরো প্রক্রিয়ায় চারপাশে বাজতে থাকে মনোমুগ্ধকর সুর, যা ব্যবহারকারীর মানসিক প্রশান্তিও বাড়িয়ে তোলে।

এই যন্ত্রের প্রোটোটাইপ প্রথম প্রদর্শিত হয় গত অক্টোবর পর্যন্ত ওসাকায় অনুষ্ঠিত ছয় মাসব্যাপী বিশ্ব এক্সপোতে। প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ দর্শনার্থী অংশ নেওয়া সেই এক্সপোতে ‘হিউম্যান ওয়াশার অব দ্য ফিউচার’-এর সামনে ছিল দীর্ঘ সারি। সায়েন্স কোম্পানিটি জানায়—এটি মূলত ১৯৭০ সালের ওসাকা এক্সপোতে প্রদর্শিত এক পুরোনো কনসেপ্টের আধুনিক সংস্করণ। কোম্পানির বর্তমান প্রেসিডেন্ট শৈশবে সেই প্রদর্শনী দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন এবং বহু বছর পর সেটিকে ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি হিসেবে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন।

কোম্পানির মুখপাত্র সাচিকো মায়েকুরা বলেন,
“এই মেশিন শুধু শরীর নয়, মনকেও পরিষ্কার করে। ব্যবহারকারীর হৃদস্পন্দনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক সংকেতও পর্যবেক্ষণ করে এটি কাজ করে।”

প্রতিষ্ঠানটির দাবি—এটি সম্পূর্ণ নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। শুধু পরিষ্কারই নয়, ব্যবহারকারীর রিল্যাক্সেশন, স্ট্রেস রিমুভাল ও নিরাপদ বায়োমেট্রিক মনিটরিংও নিশ্চিত করবে।

প্রথমবারের মতো ওসাকার একটি পাঁচতারকা হোটেল মেশিনটি কিনে নিয়েছে এবং অতিথিদের জন্য এই ব্যতিক্রমী সেবা চালুর প্রস্তুতি চলছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে সীমিত সংস্করণে প্রায় ৫০টি মেশিন বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে এর অনন্যতা বজায় থাকে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, মানব ওয়াশিং মেশিনটির সম্ভাব্য মূল্য ৬ কোটি ইয়েন, যা প্রায় ৩ লাখ ৮৫ হাজার মার্কিন ডলার সমমূল্যের। এর উচ্চমূল্য সত্ত্বেও বিলাসসেবামুখী প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে আগ্রহ দেখাচ্ছে।

বিশ্ব প্রযুক্তি বাজারে এই আবিষ্কার ভবিষ্যতের লাইফস্টাইল পরিবর্তনে নতুন ধারা তৈরি করবে—এমনটাই মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা। মানব ওয়াশিং মেশিন এখন শুধু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার যন্ত্র নয়, বরং আধুনিক স্বাস্থ্যের যত্ন ও মানসিক প্রশান্তির নতুন অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




লেবাননে ইসরায়েলি হামলা শীর্ষ কমান্ডারসহ নিহত ৫

চন্দ্রদ্বীপ ডেক্স : ইসরাইলের হত্যাযজ্ঞ থেমে নেই, তারা হিজবুল্লাহকে নেতৃত্ব শুন্য করতে বদ্ধপরিকর   তাই এবার   বিমান হামলা  চালিয়ে    হিজবুল্লাহর শীর্ষ সামরিক কমান্ডার হায়থাম আলী তাবাতাবাই কে হত্যা করেছে । রবিবার বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় দাহিয়াহ এলাকায় হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হারেত হরেইক অঞ্চলের একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে এই হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হন। আহত হয়েছেন আরো ২৮ জন। খবর আল জাজিরার।

এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তাদের কমান্ডার তাবাতাবাইকে ইসরায়েলি হামলায় হত্যা করা হয়েছে। যদিও বিবৃতিতে সংগঠনের ভেতরে তার আনুষ্ঠানিক পদ উল্লেখ করা হয়নি, তবে তিনি হিজবুল্লাহর সশস্ত্র শাখার চিফ অব স্টাফ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

তিনি ২০২৪ সালের নভেম্বরে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরায়েলের হাতে নিহত সবচেয়ে সিনিয়র হিজবুল্লাহ কমান্ডার।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে, তারা তাবাতাবাইকে নিষ্ক্রিয় করেছে এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে যে হামলার প্রকৃত লক্ষ্য ছিলেন তিনিই।

ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, গত বছরের যুদ্ধকালীন সময়ে তাকে হত্যার এটি তৃতীয় চেষ্টা।

হিজবুল্লাহর সিনিয়র কর্মকর্তা মাহমুদ ক্বোমাতি বলেন, এই হামলা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে রেডলাইন অতিক্রম করেছে, এবং সংগঠনের নেতৃত্ব প্রতিক্রিয়া দেওয়া হবে কি না তা বিবেচনা করছে।

তিনি বলেন, আজকের হামলা লেবাননের সর্বত্র আক্রমণের মাত্রা বাড়ানোর দরজা খুলে দিয়েছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই ইসরায়েলি হামলায় আহত হয়েছে ২৮ জন। সরকারি বার্তা সংস্থা এনএনএ (এনএনএ) জানিয়েছে, হারেত হরেইকের আল-আরিদ স্ট্রিটের ওই ভবনে দুইটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এতে ভবন, আশপাশের গাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।