চীনা পণ্যে ১৪৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক আগামী তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হলেও এই তালিকা থেকে বাদ পড়েছে চীন। বরং চীনের বিরুদ্ধে নতুন করে শুল্ক বাড়িয়ে এর পরিমাণ ১২৫ শতাংশ করা হয়েছে বলে বুধবার ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

কিন্তু বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের একটি নথিতে চীনা পণ্যকে লক্ষ্য করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের উচ্চ শুল্ক আরোপের নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। এতে দেখা গেছে, চীনের ওপর ওয়াশিংটন শুল্ক বাড়িয়ে একেবারে ১৪৫ শতাংশ করেছে। হোয়াইট হাউসের নথিতে চীনের বিরুদ্ধে উচ্চ শুল্কের এই তথ্য নিশ্চিত হয়েছে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি।

হোয়াইট হাউসের নথিতে দেখা গেছে, কয়েক ডজন দেশের বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্প ৯০ দিনের জন্য পারস্পরিক শুল্ক আরোপের যে ঘোষণা দিয়েছিলেন, তা বৃহস্পতিবার থেকেই কার্যকর হয়েছে। তবে চীনের ওপর আরোপিত শুল্ক নতুন করে বৃদ্ধি করেছেন তিনি।




বারাক ওবামার সঙ্গে মিশেল ওবামা বিবাহবিচ্ছেদের গুঞ্জন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : জনসম্মুখে ও রাজনৈতিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিজের উপস্থিতি কমিয়ে দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা বলেছেন, তিনি নিজের কল্যাণের দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন এবং জীবনের ওপর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। একই সঙ্গে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে তার বিবাহবিচ্ছেদের গুঞ্জনের বিষয়েও কথা বলেছেন মিশেল ওবামা।

মার্কিন অভিনেত্রী সোফিয়া বুশের পডকাস্ট ওয়ার্ক ইন প্রোগ্রেসে অংশ নিয়ে এসব বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন সাবেক এই মার্কিন ফার্স্ট লেডি। পডকাস্টে কথা বলার সময় তিনি বারাক ওবামার সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়েছেন। পাশাপাশি আট বছর আগে হোয়াইট হাউস ছাড়ার পর থেকে তার জীবনের এই পরিবর্তন সম্পর্কেও মুখ খুলেছেন তিনি।

বারাক ওবামা ও মিশেল ওবামা দম্পতির দুই মেয়ে এখন প্রাপ্ত বয়স্ক। সাবেক এই ফার্স্ট লেডি বলেছেন, বর্তমানে তিনি নিজের অগ্রাধিকার পুনর্মূল্যায়ন করার স্বাধীনতা পেয়েছেন এবং নিজের ভালো থাকার ওপর মনোযোগ দিতে পারছেন।




যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘বাণিজ্যযুদ্ধে’ ভারতকে পাশে চায় চীন




ফিলিস্তিনিকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছে ফ্রান্স




পাইলটসহ বিমানবাহিনীর ৯৭০ জনকে বহিষ্কারের হুমকি ইসরায়েলের




ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানালেন ড. ইউনূস

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : বাঙলাদেশেসহ ৭৫টিরও বেশি দেশের ওপর শুল্ক আরোপ ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

আর বাংলাদেশের ওপর পারস্পরিক শুল্ক কার্যকর স্থগিত করায় মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) রাতে নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রধান উপদেষ্টা লিখেছেন, “শুল্ক কার্যকর ৯০ দিন স্থগিত করার আমাদের অনুরোধে ইতিবাচক সাড়া দেওয়ায় আপনাকে ধন্যবাদ মিস্টার প্রেসিডেন্ট। আপনার বাণিজ্য এজেন্ডাকে সহায়তা করতে আমরা আপনার প্রশাসনের সঙ্গে কাজ অব্যাহত রাখব।”

এদিকে চীন বাদে যেসব দেশের ওপর পারস্পরিক শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল সেগুলো ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করেছেন ট্রাম্প। বাংলাদেশের ওপর গত সপ্তাহে পারস্পরিক শুল্ক হিসেবে ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন তিনি। বুধবার তিনি এ ঘোষণা দেন।

অন্য দেশগুলোকে ছাড় দিলেও চীনা পণ্যের ওপর মোট শুল্কের পরিমাণ ১০৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ১২৫ শতাংশ করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।




চীন ছাড়া সকল দেশের ওপর নতুন শুল্ক স্থগিত করলেন ট্রাম্প

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : চীন বাদে যেসব দেশের ওপর পারস্পরিক শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল সেটি ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার তিনি এ ঘোষণা দিয়েছেন।

অন্য দেশগুলোকে ছাড় দিলেও চীনা পণ্যের ওপর মোট শুল্কের পরিমাণ ১০৪ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১২৫ শতাংশ করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

বাংলাদেশের ওপর গত সপ্তাহে পারস্পরিক শুল্ক হিসেবে ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন তিনি।

নিজের মালিকানাধীন সামাজিক মাধ্যম ট্রুথে এ ব্যাপারে ট্রাম্প লিখেছেন, “বিশ্ববাজারের প্রতি চীন যে অসম্মান দেখিয়েছে, সেটির ভিত্তিতে আমি চীনের ওপর শুল্কের পরিমাণ ১২৫ শতাংশে উন্নীত করছি। যা এ মুহূর্ত থেকে কার্যকর হবে।”

“একটা সময়ে, আশা করি দ্রুত চীন বুঝতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য দেশকে ‘শোষন’ করার সময় বিষয়টি আর মানা হবে না।”- যোগ করেন ট্রাম্প।

অন্যান্য দেশগুলোর ওপর আরোপ করা পারস্পরিক শুল্ক ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করার বিষয়টি জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, “বিপরীতভাবে, ৭৫টিরও বেশি দেশ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের বাণিজ্য, বাণিজ্য বাধা, শুল্ক, মুদ্রা জালিয়াতি, অ-আর্থিক শুল্ক নিয়ে আলোচনার জন্য ডেকেছে। এবং এই দেশগুলো আমার শক্তিশালী পরামর্শের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনো পাল্টা ব্যবস্থা নেয়নি। তাদের জন্য আমি শুল্ক ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করেছি এবং পারস্পরিক শুল্ক ১০ শতাংশে নামিয়ে এনেছি। যা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে। বিষয়টিতে মনযোগ দেওয়ায় আপনাকে ধন্যবাদ।”

তবে যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য সরবরাহে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেত। সেই সুযোগ রাখা হয়নি। বিশ্বের সব দেশকে নূন্যতম ১০ শতাংশ শুল্ক দিয়ে মার্কিনিদের কাছে পণ্য পাঠাতে হবে। বাংলাদেশি পণ্যে আগে থেকেই গড়ে ১৫ শতাংশ করে শুল্ক ছিল।




চীনের আশা, ট্রাম্পের মন পাল্টাবে শুল্ক নিয়ে

চীন আশা করছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুল্ক সংক্রান্ত নীতি পরিবর্তন করবেন। বিশেষ করে, ‘পারস্পারিক শুল্ক’ নীতি নিয়ে চীনের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনা করার ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া সূত্রে আল জাজিরা জানায়, আজ থেকে ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতি কার্যকর হয়েছে। এতে চীনের ওপর শুল্কের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৪ শতাংশ। এই নীতির আওতায়, দ্বিতীয় দফা শুল্ক বৃদ্ধির ফলে চীনের বিরুদ্ধে শুল্কের বোঝা আরও ভারি হয়েছে।

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, চীন আশা করছে, যুক্তরাষ্ট্র শীঘ্রই একতরফা এই শুল্ক প্রত্যাহার করবে এবং পারস্পারিক সহযোগিতার ভিত্তিতে উভয় দেশের মধ্যে কাজ করবে। তিনি আরও বলেন, চীন-যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্ক ভবিষ্যতে দৃঢ় ও টেকসই হবে বলে আশা করছে দেশটি।

এর আগে, গত ২ এপ্রিল ট্রাম্পের ঘোষণায় চীনের পণ্যের ওপর ৩৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়, যা চীনকে ক্ষুব্ধ করে তোলে। তিনদিন পর চীনও মার্কিন পণ্যের ওপর পাল্টা ৩৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। পরবর্তীতে, ৭ এপ্রিল ট্রাম্প চীনের ওপর অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন এবং ৮ এপ্রিল এর কার্যকরি সময়সীমা বেঁধে দেন।

এখন, চীনের ওপর মোট শুল্কের পরিমাণ ১০৪ শতাংশে পৌঁছেছে, যা বিশ্ববাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

এস এল টি “আন্তর্জাতিক ডেস্ক, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পণ্য রপ্তানিতে বাংলাদেশের জন্য ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল করল ভারত




“চুক্তি করতে চাওয়ায় ট্রাম্পের কূটক্তি: ‘দয়া করে চুক্তি করুন স্যার’”

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত বুধবার (৯ এপ্রিল ২০২৫) থেকে কার্যকর হয়েছে। বিশ্বের প্রায় সব দেশের ওপর এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যার মধ্যে চীনের শুল্ক হারও ১০৪ শতাংশে পৌঁছেছে। এটি গতকালই কার্যকর করা হয়েছে, যার ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর ট্রাম্পের শুল্ক নীতি আরও কঠোর হয়ে উঠেছে।

এদিকে, ট্রাম্প ওয়াশিংটনে এক রিপাবলিকান আয়োজিত অনুষ্ঠানে বলেন, কিছু দেশ শুল্ক প্রত্যাহারের জন্য চুক্তি করতে চাচ্ছে। তিনি বলেন, “এইসব দেশ আমার সাথে যোগাযোগ করছে, তারা আমাকে তাদের পাছায় (অ্যাশ) চুমু খেতে চাচ্ছে; কেবল একটি চুক্তি করার জন্য।”

এছাড়া, ট্রাম্প দাবি করেন, যে দেশগুলো পূর্বে নিশ্চুপ ছিল, তারা এখন তার কাছে চুক্তির জন্য সবকিছু করতে প্রস্তুত। “এখন তারা বলছে, ‘দয়া করে চুক্তি করুন স্যার’,” বলেন ট্রাম্প।

গত ২ এপ্রিল, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ১০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করার ঘোষণা দেন। তিনি নিজেকে শুল্ক আরোপের একমাত্র ব্যক্তি হিসেবে দাবি করে বলেন, “বাকিরা সবাই ভয় পেয়েছিল। তারা সমালোচনার ভয়ে কিছুই বলেনি।”

বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি হিসেবে, ট্রাম্প চীনের ওপর তার শুল্কের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, বছরের পর বছর ধরে চীন আমেরিকার উপর শোষণ করেছে এবং এর প্রতিশোধ হিসেবে ১০৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। “এখন আমাদের পালা পরিবর্তন করার,” বলেন তিনি।

এদিকে, হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট জানান, বর্তমানে বিশ্বের ৭০টি দেশ শুল্ক প্রত্যাহার ও নতুন চুক্তি করার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম