গন্তব্য জাপানে পৌঁছেছেন ড.মুহাম্মদ ইউনুস

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাপানে পৌঁছেছেন। বুধবার (২৮ মে) স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৫ মিনিটে নির্ধারিত সময়ের ২৫ মিনিট আগেই তিনি টোকিওর হানেদা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।

বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত দাউদ আলী। এ তথ্য প্রধান উপদেষ্টার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার (২৭ মে) বাংলাদেশ সময় রাত ২টা ১৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে জাপানের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন তিনি।

ড. ইউনূস টোকিওতে অনুষ্ঠিতব্য ৩০তম নিক্কেই ফোরাম: ফিউচার অব এশিয়া সম্মেলনে অংশ নেবেন।

প্রেস উইং সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেল ৫টায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লীগের সভাপতি ও সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী টারো আসো

সাক্ষাতের পর তিনি নিপ্পন ফাউন্ডেশনের সভাপতি ইয়োহেই সাসাকাওয়া আয়োজিত এক নৈশভোজে অংশ নেবেন। নৈশভোজ শেষে জাপানের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করবেন তিনি।




জানা গেলো সৌদি সব বেশ কয়েকটি দেশের ঈদুল আজহার তারিখ

সৌদি আরবে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় দেশটিতে আগামী ৬ জুন (শুক্রবার) ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। সৌদি আরবের তামির অঞ্চলে মঙ্গলবার (২৭ মে) চাঁদ দেখা যাওয়ার পর সৌদি সুপ্রিম কোর্ট এই ঘোষণা দেয়।

ঘোষণা অনুযায়ী, পবিত্র জিলহজ মাস শুরু হবে ২৮ মে (বুধবার) থেকে। সেই হিসেবে পবিত্র হজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ‘আরাফাহ দিবস’ পালিত হবে ৫ জুন (বৃহস্পতিবার), আর পরদিন ৬ জুন অনুষ্ঠিত হবে ঈদুল আজহা।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ সৌদি কর্তৃপক্ষের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।

এর আগে ব্রুনাই, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ওমান ইতোমধ্যে ঈদুল আজহার তারিখ ঘোষণা করেছে। এসব দেশেও জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে ঈদ উদযাপিত হবে বলে জানা গেছে।




লালমনিরহাট বিমানবন্দর চালু হলে পাল্টা পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি ভারতের

বাংলাদেশ লালমনিরহাট বিমানবন্দর চালু করলে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কৈলাশহর এলাকায় তিন দশক আগের একটি পরিত্যক্ত বিমানঘাঁটি পুনরায় সচল করতে পারে—এমন দাবি করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

মঙ্গলবার (২৭ মে) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এনডিটিভির বিশেষ প্রতিনিধি রত্নদ্বীপ চৌধুরী জানিয়েছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার লালমনিরহাট বিমানবন্দরটি চীনের সহায়তায় পুনরায় চালুর পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ।

এ প্রসঙ্গে গতকাল সোমবার (২৬ মে) সেনাসদরে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মিলিটারি অপারেশন্স অধিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজিম-উদ-দৌলা বলেন, দীর্ঘদিন অকার্যকর থাকা বিমানবন্দরটি কেবল প্রয়োজনের ভিত্তিতে সচল করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, চীনা কোনো সংস্থা সেখানে যুক্ত আছে কি না, সে বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।

তবে এনডিটিভির দাবি, চীনের সামরিক সহযোগিতায় বিমানবন্দরটি পুনরায় চালু করা হচ্ছে—এমন আশঙ্কায় ভারতীয় প্রশাসনে সতর্কতা তৈরি হয়েছে। কারণ, লালমনিরহাট ভারতের সীমান্ত থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে এবং এই এলাকায় রয়েছে ভারতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘চিকেন নেক’, যার মাধ্যমে মূল ভূখণ্ড থেকে উত্তরপূর্বাঞ্চলের সেভেন সিস্টার্স অঞ্চলে যোগাযোগ রাখা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত আশঙ্কা করছে—যদি চীনের সহায়তায় বিমানবন্দরটি চালু হয়, তাহলে সেখানে চীন যুদ্ধবিমান, রাডারসহ নজরদারি সরঞ্জাম স্থাপন করতে পারে। এই সম্ভাব্য পরিস্থিতির জবাবে ভারত ত্রিপুরার পুরোনো কৈলাশহর বিমানঘাঁটি সচল করার পরিকল্পনা করছে। প্রাথমিকভাবে এটি বেসামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হলেও ভবিষ্যতে এর কাঠামো এমনভাবে উন্নয়ন করা হবে, যাতে যুদ্ধকালীন সময়ে যুদ্ধবিমান চলাচল ও জ্বালানি সরবরাহ করা সম্ভব হয়।

প্রতিবেদনটিতে আরও দাবি করা হয়, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার ভারতের প্রতি আগের মতো বন্ধুত্বপূর্ণ নয় এবং চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী। ফলে ভারতের কূটনৈতিক উদ্বেগ বেড়েছে।

এর মধ্যেই ২৬ মে একটি ভারতীয় প্রতিনিধি দল কৈলাশহর বিমানঘাঁটি পরিদর্শনে যায় এবং বিমানবন্দরটির বর্তমান অবস্থা মূল্যায়ন করে। প্রতিনিধি দলটি পরে জানায়, বিমানবন্দর নিয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।




প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জাপান সফরে সম্ভাব্য ১ বিলিয়ন ডলার সহায়তা ও ৫টি চুক্তি

সবকিছু ঠিক থাকলে আসছে ২৭ মে (মঙ্গলবার) জাপানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সফরের অংশ হিসেবে জাপান বাংলাদেশকে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বাজেট সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিতে পারে। এ সফরে পাঁচটি সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার মধ্যে একটি চুক্তি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সংক্রান্ত।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, সফরের সমন্বয় করছেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী। সফরসূচি অনুযায়ী, ড. ইউনূস ২৯ মে টোকিওতে অনুষ্ঠিতব্য নিক্কেই ফোরামে অংশ নেবেন এবং ৩০ মে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। বৈঠকের পর পাঁচটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা রয়েছে।

এই চুক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা
  • অর্থনৈতিক অঞ্চলে জাপানি বিনিয়োগ
  • জ্বালানি খাতে সমঝোতা
  • বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সক্ষমতা বৃদ্ধি
  • জনশক্তি রপ্তানি, বিশেষ করে নার্স ও কেয়ারগিভার নিয়োগ

এ সফরে জাপান থেকে আরও সহজ শর্তে ঋণ সহায়তা এবং ঋণ পরিশোধের সময়সীমা বাড়ানো নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। এছাড়াও, বঙ্গোপসাগরীয় উদ্যোগ (বিগ-বি) ও ইন্দো-প্যাসিফিক সহযোগিতা, এবং নতুন কিছু উন্নয়ন প্রকল্পের ঘোষণা আসার সম্ভাবনাও রয়েছে।

সফরকালে ড. ইউনূস জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, জাইকা এবং জেট্রো-র প্রেসিডেন্টদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। একইসঙ্গে তিনি একটি বিজনেস সেমিনারে অংশ নেবেন এবং সেখানে বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানাবেন।

  1. সম্প্রতি টোকিওতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-জাপান পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকে সফর নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বাংলাদেশ পক্ষ থেকে অফিশিয়াল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্স (ওডিএ) ঋণ বৃদ্ধি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। জাপানও এ বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিইচি জানিয়েছেন, তিনি আশা করছেন এই সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।




 পাকিস্তানে ঘূর্ণিঝড়-বৃষ্টিতে প্রাণ গেল ১৩ জনের, আহত ৯২

প্রবল বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৩ জন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৯২ জন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহু কাঁচা ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো।

রবিবার (২৫ মে) পাকিস্তানি গণমাধ্যম ডন-এর বরাতে জানা গেছে, প্রদেশজুড়ে ভারী বর্ষণের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ও আহতের ঘটনা ঘটেছে ঘরবাড়ি ধসে পড়ার কারণে।

পাঞ্জাব প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (PDMA) জানিয়েছে, সকল নাগরিককে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা পর্যায়ের সব জরুরি সেবা সংস্থাকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নাগরিকদের বিদ্যুৎ লাইন, খুঁটি ও ঝুলন্ত তার থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 ঘরধসে প্রাণহানি বেশিস্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পুরনো ও কাঁচা ঘরবাড়িগুলোই ঝড়ের ধকল সহ্য করতে না পেরে ধসে পড়ে। বেশিরভাগ মৃত্যুই ঘটেছে এসব ঘরের নিচে চাপা পড়ে। আহতদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

পাঞ্জাব সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আর্থিক সহায়তারও ঘোষণা দিয়েছে। দুর্যোগ পরবর্তী পুনর্বাসন এবং ঘরবাড়ি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




মাত্র ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে ভারতকে পাকিস্তানের কাছে বিক্রি!

ভারত

ভারতের গুজরাট রাজ্যে এক স্বাস্থ্যকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে ভারতীয় বিমান বাহিনী (IAF) ও বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (BSF)-সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাচারের অভিযোগে। শনিবার (২৫ মে) গুজরাট অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াড (ATS) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম সাহদেব সিং গোহিল (২৮)। তিনি গুজরাটের কচ্ছ জেলার বাসিন্দা এবং পেশায় একজন স্বাস্থ্যকর্মী। গুজরাট ATS-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কে সিদ্ধার্থ জানান, গোহিল ২০২৩ সালে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে “আদিতি ভরদ্বাজ” নামের এক নারীর সঙ্গে যোগাযোগে আসেন, যিনি পরবর্তীতে পাকিস্তানি এজেন্ট হিসেবে চিহ্নিত হন।

সিদ্ধার্থ বলেন, “ওই নারী গোহিলকে ভারতীয় বিমান বাহিনী এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নবনির্মিত ও নির্মাণাধীন স্থাপনাগুলোর ছবি ও ভিডিও পাঠাতে বলেন। গোহিল সেই অনুরোধ অনুযায়ী তথ্য সরবরাহ করতেন।”

গোহিল তার নিজের আধার কার্ড ব্যবহার করে ২০২৩ সালের শুরুতে একটি সিম কার্ড সংগ্রহ করেন, যা ওই নারী এজেন্টের ব্যবহারের জন্য হোয়াটসঅ্যাপে রেজিস্ট্রেশন করা হয়। এই নম্বরের মাধ্যমেই বিএসএফ ও আইএএফ-এর স্থাপনাসমূহের ভিডিও ও ছবি পাঠানো হতো।

পরে ফরেনসিক বিশ্লেষণে জানা যায়, এই তথ্য পাঠানোর জন্য ব্যবহৃত নম্বরগুলো পরিচালিত হতো পাকিস্তান থেকে। এ ছাড়াও, গোহিলের কাছে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি নগদ ৪০,০০০ টাকা সরবরাহ করেন, যা গোয়েন্দা সংস্থার সন্দেহকে আরও ঘনীভূত করে।

ATS জানায়, পহেলা মে গোহিলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হলে তিনি তথ্য পাচারের কথা স্বীকার করেন। সম্প্রতি জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনার পর ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার মধ্যেই এই গ্রেফতারের ঘটনা ঘটল।

গোহিলের সঙ্গে মিলে আরও অন্তত ১০ জনকে গত কয়েক সপ্তাহে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে রয়েছেন একজন ইউটিউবার, একজন ব্যবসায়ী এবং একজন নিরাপত্তারক্ষী। নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, এসব ঘটনা ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির অংশ হিসেবে গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।




বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তিতে নিষেধাজ্ঞা: ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে হার্ভার্ডের মামলা

বিশ্বখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। মামলাটি করা হয়েছে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি বন্ধের সরকারি নির্দেশনার বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (২২ মে), মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানায়, এখন থেকে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে পারবে না। পাশাপাশি বর্তমানে অধ্যয়নরত বিদেশি শিক্ষার্থীদের ট্রান্সফার না করলে তাদের ভিসা বৈধতা বাতিল হবে বলেও জানানো হয়।

এর প্রতিবাদে শুক্রবার (২৩ মে) বোস্টনের ফেডারেল আদালতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয় হার্ভার্ড।

হার্ভার্ড তার অভিযোগে বলে,“আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ছাড়া হার্ভার্ড, হার্ভার্ড নয়।”

মামলায় দাবি করা হয়, সরকারের সিদ্ধান্ত ৭ হাজারেরও বেশি বিদেশি শিক্ষার্থী এবং পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর তাৎক্ষণিক ও ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থীর এক-চতুর্থাংশকে কার্যত বাদ দেওয়া হচ্ছে এই সিদ্ধান্তে।

হার্ভার্ড আরও জানায়, তারা শিগগিরই এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন থেকে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারির আবেদন জানাবে।

গত ১৬ এপ্রিল হোমল্যান্ড সিকিউরিটির মন্ত্রী ক্রিস্টি নোয়েম হার্ভার্ড কর্তৃপক্ষকে একটি চিঠিতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের তথ্য এবং তাদের পাঠক্রম সংক্রান্ত বিস্তারিত চায়। এই তথ্য না দিলে ভর্তি নিষিদ্ধ করার হুমকি দেওয়া হয়।

ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে “বেআইনি ও বৈষম্যমূলক” হিসেবে আখ্যায়িত করে হার্ভার্ড জানায়, এটি শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের ক্ষতিগ্রস্ত করবে না, বরং বৈশ্বিকভাবে শিক্ষা ও গবেষণার মানেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।


 




ভারতীয় প্রতিরক্ষা কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করলো বাংলাদেশ

ভারতীয় কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করল বাংলাদেশ

বাংলাদেশ সরকার ভারতের পশ্চিমবঙ্গের একটি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে করা ২ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলারের একটি চুক্তি বাতিল করেছে। শুক্রবার (২৩ মে) ভারতের একাধিক শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম এ তথ্য প্রকাশ করে।

খবরে জানানো হয়, কলকাতা-ভিত্তিক গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড (জিআরএসই)-এর কাছ থেকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য একটি টাগ বোট (৮০০ টন ওজন) কেনার জন্য এই চুক্তি হয়েছিল। চুক্তির আর্থিক মূল্য ছিল প্রায় ১৮০ কোটি রুপি।

চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত আসে এমন এক সময়ে, যখন ভারত বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্যের তাদের স্থলবন্দর ব্যবহার করে পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ভারতের এই পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়াতেই বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে টাগ বোট কেনার আদেশ বাতিল করা হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির বরাতে বলা হয়েছে, জিআরএসই কর্তৃপক্ষ পুঁজিবাজারকে জানিয়েছে—বাংলাদেশ সরকার তাদের ক্রয়াদেশ বাতিল করেছে। এদিকে, হিন্দু বিজনেস লাইন জানায়, চুক্তি বাতিল হয়েছে বাংলাদেশ সরকার ও প্রতিষ্ঠানটির মধ্যে আলোচনার মাধ্যমেই।

এ বিষয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো আরও দাবি করেছে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় “সেভেন সিস্টার্স” অঞ্চলকে স্থলবেষ্টিত বলে উল্লেখ করেন এবং চীনের প্রতি আহ্বান জানান ওই অঞ্চল ব্যবহার করে বাণিজ্য সম্প্রসারণের। এমন মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই ভারত তাদের সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশি পণ্য পরিবহনে বাধা দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।




ভারত থেকে বাংলাদেশি ফেরত পাঠাতে তৎপরতা বাড়িয়েছে দিল্লি

ভারতে অবস্থানরত বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানোর প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে দেশটির সরকার। এ বিষয়ে বাংলাদেশকে জাতীয়তা যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে ভারত। বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জসওয়াল জানান, বর্তমানে ভারতের কাছে ২ হাজার ৩৬০ জন ব্যক্তির একটি তালিকা রয়েছে, যাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে চায় তারা। এদের বেশিরভাগই বিভিন্ন অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন। তবে কয়েকজনের জাতীয়তা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া ২০২০ সাল থেকে স্থগিত রয়েছে বলে জানান তিনি।

জসওয়াল আরও বলেন, “শুধু বাংলাদেশি নয়, ভারতে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশকারী যেকোনো নাগরিককে আইন অনুযায়ী নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।”

সম্প্রতি ভারত সরকার অবৈধ বিদেশিদের গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করেছে। গত মাসে গুজরাটে এক হাজারের বেশি বিদেশিকে আটক করা হয়, যাদের মধ্যে অনেকেই বাংলাদেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এছাড়া সীমান্তপথে বাংলাদেশি নাগরিকদের ‘পুশ-ইন’ বা জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর ঘটনাও বাড়ছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এর সহায়তায় শুধু গত কয়েক সপ্তাহেই প্রায় ৩০০ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইন করা হয়েছে। এদের মধ্যে কিছু রোহিঙ্গা নাগরিকও রয়েছেন। বিশেষ করে ৭ থেকে ৯ মে-র মধ্যে প্রত্যন্ত সীমান্ত অঞ্চল দিয়ে এসব মানুষকে ফেরত পাঠানো হয়।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের কাছে কূটনৈতিক চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।




“পুশ-ইন ইস্যুতে দিল্লিকে কড়া বার্তা দিয়েছে ঢাকা”

নভারত থেকে বাংলাদেশে পুশ-ইন বন্ধে দেশটির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে বাংলাদেশ সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন জানিয়েছেন, এভাবে পুশ-ইন করাটা সঠিক নয়—এমন বার্তা দিল্লিকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।

বুধবার (২১ মে) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “দিল্লির সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি যেন নিয়ম বহির্ভূত কিছু না ঘটে।”

তৌহিদ হোসেন আরও জানান, ভারত সরকার বাংলাদেশে অবস্থানকারীদের একটি তালিকা দিয়েছে। বর্তমানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেই তালিকা যাচাই-বাছাই করছে।

ভারতীয় ও রোহিঙ্গা নাগরিকদের পুশব্যাক বিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “আমার কাছে এ বিষয়ে এখনো কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। আমরা সাধারণত পুশব্যাক করি না। তবে যাদের ভারতীয় নাগরিক হিসেবে প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের অবশ্যই ফেরত নিতে হবে।”

এছাড়া ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে অতীতে হওয়া বিভিন্ন চুক্তি বাতিল বা পর্যালোচনা নিয়ে তিনি বলেন, “ছোট ছোট অনেক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) হয়েছে। সেগুলোর কিছু দুই পক্ষের সম্মতিতে, আবার কিছু নির্দিষ্ট শর্তে বাতিল করা যায়। তবে এই মুহূর্তে আমরা কোনো চুক্তি বাতিল করিনি। আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে সবকিছু নিয়ম মেনেই এগিয়ে নেওয়া।”

ভারত সরকার কি নিয়ম লঙ্ঘন করছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “নিয়মকে বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। কেউ সরাসরি স্বীকার করে না যে সে নিয়ম ভাঙছে। আমাদেরকেই সবদিক বিবেচনায় রেখে এগোতে হয়।”

এদিকে ভারত স্থলপথে বাংলাদেশি পণ্যে আমদানি নিষিদ্ধ করায় বাংলাদেশের অবস্থান জানতে চাইলে তৌহিদ হোসেন জানান, “বাণিজ্য উপদেষ্টা বিষয়টি দেখছেন এবং আমরা বিষয়টি দিল্লির সঙ্গে টেকআপ করছি। ইতোমধ্যে চিঠিও পাঠানো হয়েছে।”

অস্ট্রেলিয়ার ৪১ জন এমপি ও সিনেটরের স্বাক্ষরিত একটি চিঠি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে বাংলাদেশে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তৌহিদ হোসেন বলেন, “চিঠিটি এখনো আমার নজরে আসেনি। সামাজিক মাধ্যমে অনেক কিছু আসে—আমরা বিষয়টি পরে দেখব।”

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের শতাধিক চুক্তি রয়েছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, “আমরা এখনো কোনো চুক্তি বাতিলের উদ্যোগ নেইনি। তবে প্রতিটি চুক্তি পর্যালোচনার চেষ্টা করছি এবং সময়মতো সেগুলো ভারতের সঙ্গে আলোচনায় তোলা হবে।”