অবশেষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জিতল পিএসজি

প্যারিস সেইন্ট জার্মেইন (পিএসজি) ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে রচনা করল নতুন ইতিহাস। মিউনিখে অনুষ্ঠিত ২০২৪–২৫ মৌসুমের উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে ইতালিয়ান ক্লাব ইন্টার মিলানকে ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো এই প্রতিযোগিতার শিরোপা জিতেছে ফরাসি জায়ান্টরা।

মিউনিখে খেলা মানেই নতুন চ্যাম্পিয়ন—১৯৯৩ সালে অলিম্পিক মার্শেইর পর এবার পিএসজির সাফল্যে যেন সেই অলিখিত নিয়ম আবারও সত্যি হলো। বিশাল জয় দিয়ে কেবল ইউরোপ সেরা হওয়ার তৃপ্তিই নয়, একই সঙ্গে লিগ ও কাপ মিলিয়ে ট্রেবল (তিনটি শিরোপা) নিশ্চিত করল ক্লাবটি।

শুরুর বাঁশি বাজতেই আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে লুইস এনরিকের দল। বল দখলে আধিপত্য রেখে একের পর এক আক্রমণে দিশেহারা করে তোলে ইন্টার মিলানকে। ম্যাচের প্রথম ১৫ মিনিটেই পিএসজির বল দখলের হার ছিল ৬৩ শতাংশের বেশি।

১২তম মিনিটে ভিতিনহার দুর্দান্ত পাস থেকে গোলের সূচনা করেন সাবেক ইন্টার তারকা আশরাফ হাকিমি। এর মাত্র আট মিনিট পর দ্বিতীয় গোলটি করেন ম্যাচে প্রথম গোলের অ্যাসিস্ট দেওয়া ডুজুয়ে। ডেম্বেলের সঙ্গে বোঝাপড়ায় দুর্দান্ত এক গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এই উইঙ্গার।

প্রথমার্ধের বাকি সময়টাতে কিছুটা সামলানোর চেষ্টা করলেও কোনো উল্লেখযোগ্য আক্রমণ গড়তে পারেনি ইন্টার মিলান। উল্টো পিএসজির আক্রমণ রুখতেই ব্যস্ত থাকতে হয় তাদের। প্রথমার্ধ শেষ হয় ২-০ ব্যবধানে।

বিরতির পর কিছুটা গোছানো শুরু করলেও গোল মুখে জোরালো কিছু করতে পারেনি ইতালিয়ান ক্লাবটি। বরং দ্বিতীয়ার্ধে আরও বিধ্বংসী রূপে দেখা যায় পিএসজিকে। ৬৩ মিনিটে ডেম্বেলের ব্যাকহিল থেকে ভিতিনহার পাসে গোল করেন দিজেরে দুয়ে। ৭৩ মিনিটে ডেম্বেলের আরেকটি অ্যাসিস্ট থেকে চতুর্থ গোলটি করেন কাভারাত্সখেলিয়া।

শেষের দিকে আরও এক গোল যোগ করে পিএসজি। ৮৬ মিনিটে বারকোলার পাস থেকে সেনি মায়ুলু স্কোরলাইন দাঁড় করান ৫-০ তে। ফাইনালের ইতিহাসে এটি অন্যতম বড় ব্যবধানের জয় হিসেবে রেকর্ডে জায়গা করে নিয়েছে।

একসময় মেসি, নেইমার ও এমবাপে নিয়ে ইউরোপ সেরা হবার স্বপ্ন দেখলেও সে পথে সফল হয়নি পিএসজি। এবার নতুন প্রজন্মের তারকা ডেম্বেলে, ভিতিনহা, হাকিমি, কাভারাত্সখেলিয়া ও মায়ুলুর অসাধারণ পারফরম্যান্সে সেই স্বপ্নপূরণ হলো।

ইতিহাস গড়ে ইউরোপ সেরার মুকুট জয়ে উল্লসিত প্যারিসিয়ানরা। এখন ফুটবলবিশ্ব চেনে নতুন রাজাকে—প্যারিস সেইন্ট জার্মেইন।




নিবন্ধন ও প্রতীক নিয়ে আপিলের রায় আজ: সুপ্রিম কোর্টের দিকে তাকিয়ে জামায়াত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন ও নির্বাচনী প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ ফিরে পাওয়ার বিষয়ে আপিল বিভাগের বহুল প্রত্যাশিত রায় আজ ১ জুন (রোববার) ঘোষণা করা হবে। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে চার সদস্যের বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করবেন। সুপ্রিম কোর্টের কার্যতালিকায় মামলাটি ১ নম্বরে রয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় পরিবর্তন আসে। সেই প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন ও প্রতীক ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। দলটি হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে, যেখানে সংবিধান সংশ্লিষ্ট গুরুতর আইনি প্রশ্ন উত্থাপিত হয়। শুনানি শেষে এখন রায় ঘোষণার অপেক্ষায়।

এদিকে নির্বাচন কমিশন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নির্ধারিত সময়সূচি এখনও ঘোষণা না করলেও, দেশের বড় রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। জামায়াত ইসলামীও পিছিয়ে নেই। দলটি ইতোমধ্যেই ৩০০ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। তবে নিবন্ধন ও নির্বাচনী প্রতীক পুনরুদ্ধার না হওয়ায় দলটি এক ধরনের আইনি অনিশ্চয়তায় রয়েছে।

দলটির আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির জানিয়েছেন, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে এখন শেষ পর্যায়ে এসেছে বিষয়টি। তিনি আশাবাদী যে আজকের রায়ে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে।

নিবন্ধন ও প্রতীক ফিরে পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কর্মসূচি চালিয়ে এসেছে জামায়াত। দলে হতাশা থাকলেও শীর্ষ নেতারা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আশাবাদী ছিলেন। আজকের রায় সে প্রত্যাশার ফলাফল নিয়ে আসবে কি না, তা জানতে চোখ এখন দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দিকে।

জামায়াতে ইসলামীসহ রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ মানুষের দৃষ্টি এখন আপিল বিভাগের রায়ের দিকে। এই রায়ের মাধ্যমে পরিষ্কার হবে—নিবন্ধন ও প্রতীক ফিরে পাচ্ছে কি না জামায়াতে ইসলামী।




চীনা বাণিজ্যমন্ত্রীর ঢাকা সফর: বিদেশি বিনিয়োগে স্বস্তির আভাস

দীর্ঘদিনের বিদেশি বিনিয়োগ খরা কাটিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারে বাংলাদেশ। অন্তর্বর্তী সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে এমনই আশাবাদ। আজ (৩১ মে) শনিবার ঢাকা সফরে আসছেন চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াং ওয়েনতাও, সঙ্গে থাকছে শতাধিক ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীর বিশাল প্রতিনিধি দল। এ সফর থেকেই আসতে পারে উল্লেখযোগ্য কিছু বিনিয়োগ ঘোষণাও।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, চীনা বাণিজ্যমন্ত্রীর সফরের মূল উদ্দেশ্য বাংলাদেশ-চীন যৌথ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য কমিশনের বৈঠকে অংশগ্রহণ। তবে এর পাশাপাশি গঠনমূলক বিনিয়োগ আলোচনাও হবে। শনিবার বিকেলে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন ওয়েনতাও। রোববার পাঁচটি সেশনে বাংলাদেশের ব্যবসায়ী ও সরকারি প্রতিনিধিদের সঙ্গে ‘ম্যাচমেকিং’ বৈঠকেও অংশ নেবেন চীনা প্রতিনিধি দল, যেখানে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস উপস্থিত থাকবেন।

চীনা প্রতিনিধি দলের সফরকালে গাজীপুরের একটি তৈরি পোশাক কারখানা পরিদর্শনের পাশাপাশি গার্মেন্টস খাতেও পৃথক বৈঠক রয়েছে। সোমবার যৌথ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য কমিশনের মূল বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) জানায়, সফরে ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এবং আমদানি-রপ্তানিতে প্রতিবন্ধকতা দূর করতে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিডার এক কর্মকর্তা বলেন, “চীনা প্রতিনিধিরা কিছু বিনিয়োগের ঘোষণা দেবেন বলে আশা করছি। তবে পরিমাণ এখনই বলা সম্ভব নয়।”

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বিদেশি বিনিয়োগে বাংলাদেশ পিছিয়ে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) নিট বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে মাত্র ৮৬ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৬ শতাংশ কম।

অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবির বলেন, “বিদেশি বিনিয়োগ থমকে আছে। গ্যাস সংকট, উচ্চ ব্যবসায় খরচ এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বড় বাধা। বিনিয়োগ বাড়াতে হলে গ্যাস সরবরাহ এবং ব্যয় হ্রাস করতে হবে।”

এদিকে, চীনা বিনিয়োগে সরকারের আশাবাদ থাকলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া নিয়েও সতর্কতা রয়েছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, চীনা বিনিয়োগের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপড়েন তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে বাণিজ্য যুদ্ধ ও কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার পটভূমিতে এমন বিনিয়োগ স্পর্শকাতর হয়ে উঠতে পারে।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার ইতিমধ্যে বিনিয়োগ, শ্রম ও বাণিজ্য খাতে সংস্কার চালিয়েছে। এছাড়া বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সমস্যা সমাধানে হটলাইন এবং কল সেন্টার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চীনা কোম্পানিগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম ও মোংলায় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগে আগ্রহ রয়েছে। সেই সঙ্গে কিছু প্রতিষ্ঠান ইভি (ইলেকট্রিক ভেহিকেল), লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি, বায়ু বিদ্যুৎ ও সৌর বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

চীনা বাণিজ্যমন্ত্রীর সফর বাংলাদেশে বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে কিনা, তা নির্ভর করছে কার্যকর চুক্তি ও ঘোষণার ওপর। তবে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী, এই সফর অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য একটি বড় সফলতা হয়ে উঠতে পারে।




নৌবাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে জাপানের উপহার পাঁচটি পেট্রোল বোট

বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে পাঁচটি পেট্রোল বোট উপহার হিসেবে দেবে জাপান। শুক্রবার (৩০ মে) জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর এই তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রেস সচিব জানান, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় জাপান আগামীতেও পাশে থাকবে বলে আবারও আশ্বাস দিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জাপান সরকার বাজেট সহায়তা, শিক্ষাবৃত্তি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নসহ একাধিক খাতে বাংলাদেশকে ১.০৬ বিলিয়ন ডলারের ঋণ সহায়তা দেবে।

এ সময় প্রেস সচিব আরও জানান, অন্তর্বর্তী সরকার কক্সবাজারের মহেশখালী ও মাতারবাড়িকে ঘিরে একটি মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের লক্ষ্য—এই অঞ্চলকে একটি আধুনিক লজিস্টিকস, পোর্ট, এনার্জি এবং ফিশারিজ হাবে রূপান্তর করা। প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস এই অঞ্চলে ‘নিউ সিঙ্গাপুর’ গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন। এই প্রকল্প বাস্তবায়নেও বাংলাদেশের পাশে থাকবে জাপান—বৈঠকে এমন আশ্বাস মিলেছে বলে জানান তিনি।

এই বৈঠককে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যকার সহযোগিতা আরও গভীর হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।




জাপানি কোম্পানিগুলোর প্রতি বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগের আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

“নতুন বাংলাদেশ” গঠনে জাপানি কোম্পানিগুলোর সহায়তা চেয়ে এবং আরও বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

শুক্রবার (৩০ মে) জাপানে চলমান সফরের তৃতীয় দিনে টোকিওতে এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এ আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনাকারী বিভিন্ন জাপানি কোম্পানির শীর্ষ নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে জানানো হয়।

ড. ইউনূস বলেন, “আপনাদের এখানে দেখে আমরা আশ্বস্ত হয়েছি। গত ১০ মাসে আমরা নতুন বাংলাদেশ গঠনের ভিত্তি তৈরি করছি, এবং এই প্রক্রিয়ায় জাপানের সহযোগিতা অত্যন্ত মূল্যবান।”

তিনি আরও বলেন, “স্বৈরশাসনের অবসান আমাদের নতুন জীবনের সূচনা এনে দিয়েছে। এই মুহূর্তে আমাদের সবচেয়ে বেশি দরকার আন্তর্জাতিক বন্ধুদের সহযোগিতা। আমরা একটি নতুন, উদ্যমী বাংলাদেশ নির্মাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে পুরোনো ত্রুটিগুলো দূর করে একটি সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাব।”

ড. ইউনূস আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বাংলাদেশের বিদ্যমান সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান হবে এবং তা অতীতের বিষয় হয়ে উঠবে। “এটি জাতির জন্য একটি বড় সুযোগ,” বলেন তিনি, “আমরা কঠিন সময় পার করেছি এবং চাই তা পেছনে ফেলতে।”

আলোচনার শুরুতে জেট্রোর চেয়ারম্যান ও সিইও নোরিহিকো ইশিগুরো বলেন, “বাংলাদেশ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা প্রদর্শন করেছে।”

জাপান-বাংলাদেশ বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা কমিটি (জেবিসিসিইসি) এর চেয়ারম্যান এবং মারুবেনি কর্পোরেশনের বোর্ড সদস্য ফুমিয়া কোকুবু বলেন, বাংলাদেশে কর্মরত ৮৫% জাপানি কোম্পানি প্রত্যাশা করছে, এ বছরই বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (EPA) সই হবে। একইসঙ্গে তিনি কর নীতিতে সংস্কারেরও আশা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত শিনিচি সাইদা বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার অর্থনীতিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। কোনও প্রকল্প বন্ধ হয়নি, কোনও ব্যবসা স্থগিত হয়নি – এটি ইতিবাচক বার্তা।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন:

  • সুমিতোমো কর্পোরেশনের সিইও শিঙ্গো উয়েনো
  • ইউগলেনা কোং লিমিটেডের সিইও মিতসুরু ইজুমো
  • জেরা-এর প্রধান বৈশ্বিক কৌশলবিদ স্টিভেন উইন
  • জেবিআইসির সিনিয়র ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজুনোরি ওগাওয়া
  • ওনোডা ইনকর্পোরেটেডের প্রেসিডেন্ট শিগেয়োশি ওনোদা
  • জেট্রোর নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজুয়া নাকাজো
  • আইডিই-জেট্রোর নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট মায়ুমি মুরায়ামা

সমাপনী বক্তব্য রাখেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী।




বর্তমান সভ্যতা ধ্বংসের দিকে এগোচ্ছে : ড. মুহাম্মদ ইউনুস

বর্তমান সভ্যতাকে আত্মবিধ্বংসী আখ্যা দিয়ে তরুণদের প্রতি ‘থ্রি জিরো ক্লাব’ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

শুক্রবার (৩০ মে) জাপানের টোকিওতে সোকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বক্তৃতায় তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি সভ্যতা তৈরি করেছি, যা ধ্বংসের পথে এগোচ্ছে। পরিবেশের ওপর চলমান নিপীড়ন মানবজাতির টিকে থাকার জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে।”

ড. ইউনূসের ‘থ্রি জিরো ক্লাব’ ধারণাটি তিনটি প্রধান লক্ষ্যকে ঘিরে—

  1. শূন্য দারিদ্র্য
  2. শূন্য বেকারত্ব
  3. শূন্য কার্বন নিঃসরণ

তিনি বলেন, পাঁচজন ব্যক্তি মিলে একটি থ্রি জিরো ক্লাব গঠন করতে পারেন, যেখানে তারা অঙ্গীকার করবেন জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার পরিহার করার।

ড. ইউনূস আরও বলেন, “বর্তমানে বিশ্বের অধিকাংশ সম্পদ অল্প কিছু মানুষের হাতে কেন্দ্রীভূত, যা একটি অভিশাপ। সবাই কেবল মুনাফা অর্জনের দিকেই মনোযোগী। এর বিপরীতে নতুন প্রজন্মকে সৃজনশীল হয়ে পৃথিবী রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে।”

চাকরিকে সৃজনশীলতার অন্তরায় আখ্যা দিয়ে তিনি তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার পরামর্শ দেন। “মানুষ জন্মগতভাবে উদ্যোক্তা,”—উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যদি তোমার মধ্যে সৃজনশীলতা না থাকে, তবে তুমি কিছুই না। প্রত্যেক মানুষের মাঝেই সৃজনশীলতা আছে।”

তিনি ছাত্রছাত্রীদের আহ্বান জানান একটি নতুন পৃথিবীর কল্পনা করতে—“কারণ কল্পনা মানুষকে নিজের ভেতর লুকিয়ে থাকা শক্তি উন্মোচনের সুযোগ দেয়।”

বক্তৃতায় তিনি স্মরণ করেন কীভাবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করার সময় তিনি পাশের একটি গ্রামে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম শুরু করেছিলেন।

অনুষ্ঠানে ড. ইউনূসকে সোকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করা হয়। সামাজিক উদ্ভাবন ও বৈশ্বিক উন্নয়নে অবদানের জন্য তাকে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট সুজুকিও বক্তব্য রাখেন।




 চীনের বাজারে প্রবেশ করলো বাংলাদেশের তাজা আম

বাংলাদেশের রপ্তানির ইতিহাসে নতুন এক মাইলফলক যুক্ত হলো — প্রথমবারের মতো চীনের বাজারে প্রবেশ করলো দেশের উৎপাদিত তাজা আম। বৃহস্পতিবার (২৯ মে) বাংলাদেশ থেকে পাঠানো তিন টন আমের একটি চালান চীনের হুনান প্রদেশের চাংশা শহরে পৌঁছায় এবং তা সাফল্যের সঙ্গে খালাস হয়।

চীনের চাংশা হুয়াংহুয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের শুল্ক ও কাস্টমস কর্মকর্তারা চালানটি গ্রহণের সময় প্রয়োজনীয় শুল্ক প্রক্রিয়া, ফাইটোস্যানিটারি (উদ্ভিদ-স্বাস্থ্য বিষয়ক) সার্টিফিকেট যাচাই এবং ফলের মান যাচাই করেন। ফলের গুণগত মানে কোনো অস্বাভাবিকতা না থাকায় দ্রুততম সময়ে চালানটি ছাড় করে দেওয়া হয়।

বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের আম

বাংলাদেশের আম আন্তর্জাতিকভাবে স্বাদ, সুবাস ও উচ্চ চিনির পরিমাণের জন্য প্রশংসিত। এতদিন মূলত মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপীয় বাজারে রপ্তানি হতো, এবার চীনও যুক্ত হলো সেই তালিকায়।

আমদানিকারক চীনা প্রতিষ্ঠান হুনান বাবাইলি হোল্ডিং গ্রুপ জানিয়েছে, বাংলাদেশের আম তারা ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম, সুপারমার্কেট এবং সারা চীনজুড়ে তাজা ফল সরবরাহ চেইনের মাধ্যমে বাজারজাত করবে। প্রথম বছরেই তারা ১০০ টনের বেশি আম আমদানি করার পরিকল্পনা নিয়েছে।

রপ্তানির পেছনে চীনা প্রযুক্তি ও সহায়তা

বাংলাদেশের আম উৎপাদনে নিরাপদ ও আন্তর্জাতিক মান রক্ষা করতে সম্প্রতি চীনা ব্যাগিং প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেছেন অনেক কৃষক, বিশেষ করে আমের রাজধানী হিসেবে খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলে।

চীন-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দুই দেশের মধ্যে কৃষিপণ্য রপ্তানিতে এ ধরণের অগ্রগতি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের দৃঢ়তার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী:

  • ২০২৫ সালে বাংলাদেশের আম উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা: ২.৭ মিলিয়ন টন
  • রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা: ৫ হাজার টন

চীনের বিশাল ফল আমদানি বাজারে (২০২৪ সালে যার আকার ছিল প্রায় ১৯.৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বাংলাদেশের আমের প্রবেশ সম্ভাব্য একটি বড় বাণিজ্যিক সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিল।


এই সফল রপ্তানি শুধু কৃষিখাতে নয়, বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য এবং রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণের এক যুগান্তকারী ধাপ। এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে মান ও সরবরাহ শৃঙ্খলা বজায় রেখে এই বাজারে স্থায়ী অবস্থান গড়ে তোলা।




সুইজারল্যান্ডে ভয়াবহ হিমবাহ ধস: সম্পূর্ণ বিলীন ব্লাটেন গ্রাম

হিমবাহ ধস

সুইজারল্যান্ডে আল্পস পর্বতমালার পাদদেশে অবস্থিত ব্লাটেন গ্রামে ভয়াবহ হিমবাহ ধসের ঘটনা ঘটেছে, যা পুরো গ্রামকে তছনছ করে দিয়েছে।

দুই সপ্তাহ আগে পাহাড়ের বিভিন্ন স্থানে ছোট আকারে ভূমিধস শুরু হলে স্থানীয় প্রশাসন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে প্রায় ৩০০ বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। এ সিদ্ধান্ত প্রাণহানি ঠেকাতে সহায়তা করলেও ভয়াবহ হিমবাহ ধসে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে গ্রামটি। বরফ, কাদা এবং পাথরের বিশাল স্রোতে ভেঙে পড়েছে বসতবাড়ি, অবকাঠামো এবং স্থানীয়দের জীবনের মূল ভিত্তিগুলো।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ করেই এক ভয়ানক গর্জনের সঙ্গে বিশাল বরফ ও কাদার ঢল নেমে আসে, মুহূর্তেই গ্রামটি ঢেকে যায় ধবধবে সাদা ধ্বংসস্তূপে। এখন গ্রামটির বেশিরভাগ এলাকা বরফ ও পাথরের স্তূপে পরিণত হয়েছে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলেই এই ধরনের বিপর্যয়ের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়ায় পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিধসের প্রবণতা বেড়ে গেছে। আল্পস অঞ্চলে এরকম ঘটনা এখন আর ব্যতিক্রম নয়—বরং প্রায় নিয়মিত হয়ে উঠছে।

সুইস সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে আর্থিক সহায়তা এবং পুনর্বাসন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে দেশজুড়ে চলছে শোকের আবহ।

এই বিপর্যয় আবারও স্পষ্ট করে দিল—জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব শুধু ভবিষ্যতের আশঙ্কা নয়, এটি এখনকার বাস্তবতা। এবং বিশ্বের কোনো কোণাই আজ আর একে থেকে পুরোপুরি নিরাপদ নয়।




বাংলাদেশে দ্রুত নির্বাচনের পক্ষে ভারত

বাংলাদেশে দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন দেখতে চায় ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার (২৯ মে) এ বিষয়ে তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধির জয়সওয়াল বলেন, “বাংলাদেশের প্রয়োজন এমন একটি নির্বাচন, যা দ্রুততম সময়ে অনুষ্ঠিত হবে এবং জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা সবসময় বলে এসেছি—বাংলাদেশে এমন নির্বাচন প্রয়োজন, যেখানে সব পক্ষ অংশগ্রহণ করবে এবং যা হবে অবাধ ও নিরপেক্ষ।”

অন্যদিকে, জাপানের টোকিওতে আয়োজিত ‘৩০তম নিক্কেই ফোরাম’-এ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসও নির্বাচন প্রসঙ্গে বক্তব্য দেন। তিনি জানান, “আমরা এমন একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি, যা ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা ও মানুষের মর্যাদা রক্ষা করবে।”

ড. ইউনূস বলেন, “এই নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও কার্যকর গণতান্ত্রিক রূপান্তরের সূচনা করবে। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জনগণের ক্ষমতায়ন ও তৃণমূল নেতৃত্ব আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “অনেক চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে আমরা এখন দায়িত্বে আছি। সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা।”

এ সময় তিনি রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকা এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে দেশের সক্রিয় অংশগ্রহণের কথাও তুলে ধরেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




জাপানে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হচ্ছে বাংলাদেশীদের

আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশ থেকে এক লাখ শ্রমিক নেবে জাপান—এমন ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ীরা। শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ মে) টোকিওতে ‘বাংলাদেশ সেমিনার অন হিউম্যান রিসোর্সেস’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানানো হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, “জাপানে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সরকারের অগ্রাধিকার। এটি শুধু কাজের সুযোগ নয়, জাপানকে জানারও একটি দ্বার উন্মোচন করবে।”

সেমিনারে দুটি সমঝোতা স্মারক সই হয়:

  1. বিএমইটি ও কাইকম ড্রিম স্ট্রিট (জাপান-বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগ)
  2. বিএমইটি, এনবিসিসি (জাপানের ৬৫টি কোম্পানির ফেডারেশন), ও জেবিবিআরএ (জাপান-বাংলাদেশ রিক্রুটিং এজেন্সি)

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “১৮ কোটির বেশি মানুষের এই দেশে অর্ধেকই ২৭ বছরের নিচে। সরকারের দায়িত্ব হলো তাদের সম্ভাবনার দরজা খুলে দেওয়া।”

জাপানি প্রতিনিধি মিতসুরু মাতসুশিতা বলেন, “বাংলাদেশি তরুণদের মধ্যে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে এবং জাপানি কোম্পানিগুলো তাদের নিয়ে আগ্রহী।”

এনবিসিসি চেয়ারম্যান মিকিও কেসাগায়ামা জানান, তাদের ফেডারেশন আগামী পাঁচ বছরে এক লাখ বাংলাদেশি শ্রমিককে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।

ওয়াতামি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট মিকি ওয়াতানাবে বলেন, তারা বাংলাদেশে পরিচালিত স্কুলে প্রতিবছর ১৫০০ শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ দেন এবং ভবিষ্যতে এই সংখ্যা ৩০০০-এ উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

জেইটিসিও চেয়ারম্যান হিরোআকি ইয়াগি বলেন, বাংলাদেশিদের জাপানে কাজের সুযোগ বাড়ছে, তবে ভাষাশিক্ষায় ঘাটতি রয়েছে।

জাপানের শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নিকি হিরোবুমি জানান, “জাপানে জনসংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে, শ্রমিক সংকট বাড়ছে। বাংলাদেশ এই সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে।”

বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী বলেন, ২০৪০ সালের মধ্যে জাপানে শ্রমিক সংকট ১ কোটি ১০ লাখে পৌঁছাতে পারে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ আরও দক্ষ কর্মী পাঠাতে পারে।