ভারতের বিমান দুর্ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ পাকিস্তানের

ভারতের আহমেদাবাদে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। একই সঙ্গে ভারতের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও।

বৃহস্পতিবার এক্স (সাবেক টুইটার)–এ দেওয়া এক বার্তায় পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, “আজ আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান ভেঙে পড়ার ঘটনায় আমি গভীরভাবে বিষণ্ণ। আহত ও নিহতদের পরিবারগুলোর এই অপূরণীয় ক্ষতির সময় আমরা তাদের পাশে রয়েছি এবং সমবেদনা জানাচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, “এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনার প্রভাব যাদের ওপর পড়েছে, তাদের জন্য আমাদের প্রার্থনা রইল।”

এদিকে, দুর্ঘটনার পর এক বিবৃতিতে মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঘটনাকে “বিমান চলাচলের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, “কেউ বুঝতেই পারেনি কী ঘটল। বাইরে থেকে দেখে মনে হচ্ছিল, বিমানটি ঠিকভাবেই উড়ছিল।”

এর আগে ভারতীয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঘটনাস্থল থেকে গণমাধ্যমকে তিনি জানান, বিধ্বস্ত হওয়া এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানটিতে ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার লিটার জ্বালানি। তিনি বলেন, “অত্যধিক তাপমাত্রার কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয় এবং কাউকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।”

প্রসঙ্গত, আহমেদাবাদের আকাশে মাঝপথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এয়ার ইন্ডিয়ার ওই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে ভারতের বেসামরিক বিমান পরিবহন কর্তৃপক্ষ।




সহিংসতার আতঙ্কে উত্তপ্ত মণিপুর, চলছে কারফিউ ও ইন্টারনেট বন্ধ

জাতিগত সহিংসতায় বিপর্যস্ত ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুর নতুন করে আরও বড় ধরনের দাঙ্গার আশঙ্কায় রয়েছে। হিন্দু মেইতেই ও খ্রিস্টান কুকি জনগোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে রাজ্যজুড়ে টানটান পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এ অবস্থায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে রোববার রাজ্যপাল অজয় কুমার ভাল্লা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন।

ইতিমধ্যে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় কারফিউ জারি রয়েছে। কিন্তু তাতেও অস্থিরতা কমেনি। শনিবার চরমপন্থি গোষ্ঠী আরামবাই তেংগোল (এটি)-এর কয়েক সদস্যকে গ্রেপ্তারের জেরে রাজ্যের বিভিন্ন অংশে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তির দাবিতে উগ্রবাদীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায় এবং জনতা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।

পরে রাজ্যপাল বিজেপি, এনপিপি ও কংগ্রেসের ২৫ জন বিধায়কের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রতিনিধিরা রাজ্যের সংকটাপন্ন পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত সমাধানের দাবি জানান। রাজ্যপাল আশ্বস্ত করেন যে, স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে রাজ্যের বিষ্ণুপুর জেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করা হয়েছে। এছাড়া ইম্ফাল পূর্ব, ইম্ফাল পশ্চিম, কাকচিং ও থৌবাল জেলায় চার বা ততোধিক ব্যক্তি একত্রে সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সরকারি নির্দেশে এসব এলাকায় পাঁচ দিনের জন্য ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শনিবার রাত ৯টা ৪০ মিনিটে এনআইএ ও মণিপুর পুলিশের যৌথ অভিযানে ‘এটি’-র কথিত সেনাপ্রধান কানন মেইতেই-কে গ্রেপ্তার করা হয়। এর পরপরই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ইম্ফাল পশ্চিম জেলার কোয়াকিথেল এলাকায় শত শত মানুষ পুলিশের গাড়িবহর থামিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশ তখন বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গুলি ছোড়ে।

২০২৩ সালের ৩ মে রাজ্যে জাতিগত সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর আরামবাই তেংগোল (এটি) গোষ্ঠী সক্রিয় হয়ে ওঠে। সশস্ত্র এই মেইতেই গোষ্ঠী কুকি সম্প্রদায়ের জনগণের ওপর একাধিক হামলা ও নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তৎকালীন সময়ে ভারতীয় প্রশাসনের ‘পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ’ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বারবার সহিংসতার পুনরাবৃত্তি রোধে এখন প্রয়োজন রাজনৈতিক সংলাপ, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং নিরপেক্ষ প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ। রাজ্যপাল অজয় কুমার ভাল্লার নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকারের সহায়তায় পরিস্থিতি স্থিতিশীল করা না গেলে, মণিপুরের সংকট আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।




আধিপত্যের খেলায় চীনের নতুন ট্রাম্প কার্ড!

চীনের দুটি ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান প্রকল্পের মধ্যে বৃহত্তমটির নতুন একটি ছবি সম্প্রতি প্রকাশ পেয়েছে, যা এ পর্যন্ত পাওয়া বিমানের সবচেয়ে স্পষ্ট সামনের দৃশ্য তুলে ধরেছে। অজ্ঞাতনামা এই যুদ্ধবিমানটির ছবি দূর থেকে দীর্ঘ লেন্সে ধারণ করা হয়েছে, যেখানে এর তিনটি উন্মুক্ত নিচের দিকের অস্ত্র বহনকারী বেলি দেখা যাচ্ছে। এই অস্ত্র কক্ষগুলো সম্মিলিতভাবে ফিফথ জেনারেশনের যুদ্ধবিমান যেমন এফ-৩৫ বা জে-২০ এর তুলনায় বহুগুণ বেশি সংখ্যক অস্ত্র বহন করতে সক্ষম বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিমানটির নাকের বিশাল কন যেটি আশপাশে থাকা মানুষদের তুলনায় স্পষ্ট বোঝা যায়, তা প্রায় নিশ্চিত করে যে, এতে বিশ্বের যেকোনো যুদ্ধবিমানের তুলনায় অনেক বড় এবং শক্তিশালী রাডার ব্যবহৃত হচ্ছে। ছবিতে আরও দেখা গেছে, মূল অস্ত্র কক্ষের উভয় পাশে দুটি ছোট অস্ত্র কক্ষও রয়েছে, যেগুলোতে নতুন প্রজন্মের পিএল-১৬ এয়ার-টু-এয়ার মিসাইলের মতো হালকা অস্ত্র বহনের জন্য ব্যবহার করা হতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিমানটির নিচের অংশে আরও অস্ত্র কক্ষ থাকতে পারে, যেখানে রোটারি অস্ত্র র‍্যাকের ব্যবস্থা থাকতেও পারে, যা অতিরিক্ত গোলাবারুদ বহনের সুযোগ তৈরি করবে।

এই যুদ্ধবিমানে বড় অভ্যন্তরীণ অস্ত্র কক্ষ, উন্নত সেন্সর ব্যবস্থা এবং প্রচুর পরিমাণে জ্বালানি ধারণের সক্ষমতা রয়েছে— যা সাধারণ আকারের যুদ্ধবিমানের তুলনায় অনেক বেশি সুবিধা দেয়। অনেকে মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নির্মাণাধীন ষষ্ঠ প্রজন্মের এফ-৪৭ যুদ্ধবিমানও আকারে বিশাল হবে, তবে এখন পর্যন্ত কেবল চীনের প্রকল্পগুলোর প্রোটোটাইপ বিমানগুলোই পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের পর্যায়ে পৌঁছেছে।

সাম্প্রতিক ছবিতে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, এই নতুন যুদ্ধবিমানটি একটি টুইন-সিটার বা দ্বৈত পাইলট কনফিগারেশন ব্যবহার করছে, যেখানে পাইলটরা পাশাপাশি বসে। দুটি আলাদা হেডস-আপ ডিসপ্লের সবুজ প্রতিফলন এটি নিশ্চিত করে। এই ধরনের ককপিট ডিজাইন চীনের বর্তমান J-20, J-16, J-10C ও JF-17 ব্লক ৩ যুদ্ধবিমানেও দেখা যায়।

এই দ্বৈত পাইলটের নকশা এমন সব বিমান মিশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, যেগুলো দীর্ঘ সময় ও দূরত্বের উপর ভিত্তি করে পরিচালিত হবে। যদিও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি এবং এআই ব্যবহারে অগ্রগতি হচ্ছে, তবুও ষষ্ঠ প্রজন্মের এসব বিমানের জটিল অপারেশন পরিচালনায় একটি পাইলটের একার পক্ষে তা সম্ভব নয় বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন এই বিমানটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে (Pacific Theatre) দীর্ঘ পাল্লার গমনক্ষমতা ও স্ট্রাইক ক্ষমতার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে, যা ফার্স্ট আইল্যান্ড চেইনের বাইরেও কার্যক্রম চালাতে পারবে। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্রদের জন্য এ অঞ্চলে শক্তি প্রদর্শন ও প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করা আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

এই নতুন যুদ্ধবিমানটিকে অনেকেই J-36 নামে অভিহিত করছেন, যদিও সরকারিভাবে এখনও এর নাম বা শ্রেণি ঘোষণা করা হয়নি। তবে প্রযুক্তি, অস্ত্র ও আকারের দিক থেকে এটি যে চীনের সামরিক বিমানবাহিনীর এক যুগান্তকারী সংযোজন হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

 

 

 




বিশ্ব মুসলিমকে ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শুক্রবার (৬ জুন) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে তিনি এই শুভেচ্ছা জানান।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের দপ্তর ক্রেমলিন-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ঈদুল আজহাকে ‘কুরবান বায়রাম’ বলে উল্লেখ করেন পুতিন। এতে তিনি বলেন, “এই উৎসব মুসলিমদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় দিন, যা পূর্বপুরুষদের শিক্ষা, করুণা এবং সহানুভূতির চেতনায় ভরপুর। মুসলিম সম্প্রদায় সেই শিক্ষা ধারন করে পরবর্তী প্রজন্মে তা ছড়িয়ে দিচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “রাশিয়ায় মুসলিম সম্প্রদায় বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। তারা নিজেদের সংস্কৃতি, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে রাশিয়ার সার্বিক উন্নয়ন এবং জনগণের কল্যাণে অবদান রাখছে। এসব অবদান বিশেষ স্বীকৃতি এবং প্রশংসার দাবি রাখে।”

রাশিয়ায় সরকারিভাবে চারটি ধর্ম—খ্রিস্টান, ইসলাম, ইহুদি ও বৌদ্ধধর্ম—স্বীকৃত। প্রায় ১৪ কোটি ৬০ লাখ জনসংখ্যার এই দেশে মুসলিমরা দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃত, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ।

ঈদুল আজহার এই বার্তায় পুতিন মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে শান্তি, সম্প্রীতি এবং পারস্পরিক সহাবস্থানের বার্তা দেন।




সাসটেইনেবল প্লাস্টিক ব্যবহারে বৈশ্বিক ঐক্যের ডাক

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় সাসটেইনেবল প্লাস্টিক ব্যবহারে বৈশ্বিক ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, কার্বন নিরপেক্ষ ও শূন্য-কার্বন উন্নয়নের পথে বিশ্বকে একযোগে এগিয়ে যেতে হবে।

দক্ষিণ কোরিয়ার জেজু প্রদেশে আয়োজিত ‘সার্কুলার ইকোনমির পথে উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রী পর্যায়ের গোলটেবিল আলোচনা ও বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৫’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজওয়ানা হাসান বলেন, “বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চায় এবং ইতোমধ্যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, প্লাস্টিক নিয়ন্ত্রণ ও বন সংরক্ষণে বিভিন্ন কার্যকর প্রকল্প গ্রহণ করেছে।”

আলোচনার ফাঁকে উপদেষ্টা দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন জেজু প্রদেশের গভর্নর ও দক্ষিণ কোরিয়ার পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ভাইস মিনিস্টারের সঙ্গে। বৈঠকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বন পুনর্বাসন এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ নিয়ে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ও ভবিষ্যৎ অংশীদারত্বের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। কোরিয়ার পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।

উল্লেখ্য, ৩ থেকে ৬ জুন ২০২৫ পর্যন্ত সরকারি সফরে দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থানকালে উপদেষ্টা ‘গ্রিন ট্রানজিশন ইনিশিয়েটিভ (GTI)’-এর সাধারণ অধিবেশন ও প্লাস্টিক নীতি বিষয়ক সেমিনারে অংশ নেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তৌফিক ইসলাম শতিল, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মির্জা শওকত আলী এবং এনডিসির প্রতিনিধিরা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




আরাফায় হজের মূল পর্ব আজ, নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় নজিরবিহীন প্রস্তুতি

আজ বৃহস্পতিবার ( ৬ জুন ) সৌদি আরবের আরাফাতের ময়দানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে পবিত্র হজের প্রধান পর্ব। হিজরি ১৪৪৬ সনের হজ পালন করছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত লাখো মুসল্লি। হজের অন্যতম প্রধান রোকন ‘ওকুফে আরাফা’ পালনের জন্য হাজিরা আজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতে অবস্থান করবেন।

হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছিল মিনায় রাত যাপনের মধ্য দিয়ে। আজ ভোরে মিনায় রাত কাটিয়ে হজযাত্রীরা আরাফার উদ্দেশে যাত্রা করেন। মিনার ১৫ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত এই পবিত্র ভূমিতে দাঁড়িয়ে তারা মহান আল্লাহর দরবারে মোনাজাতে রত থাকবেন। সূর্যাস্তের পর তারা ৯ কিলোমিটার দূরের মুজদালিফার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন, যেখানে তারা রাতযাপন করবেন এবং শয়তানকে পাথর মারার জন্য পাথর সংগ্রহ করবেন।

আরাফাতের ময়দানে আজ জোহর ও আসরের নামাজ একত্রে আদায় করা হবে এবং মসজিদে নামিরা থেকে হজের খুতবা প্রদান করা হবে, যা হাজিরা গভীর মনোযোগে শুনবেন।

সৌদি হজ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ১৫ লাখেরও বেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। হজের সময় ঘন ঘন তাপপ্রবাহের সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে সৌদি সরকার ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

সৌদি হজমন্ত্রী তৌফিক রাবিয়া জানিয়েছেন, এ বছর ২ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি কর্মী হজ ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত রয়েছেন। পাশাপাশি ৫০ হাজার বর্গমিটার ছায়াযুক্ত এলাকা তৈরি, হাজার হাজার চিকিৎসাকর্মীর মোতায়েন এবং ৪০০-এরও বেশি শীতলীকরণ ইউনিট চালু করা হয়েছে।

আনাদোলু বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, গত বছর (১৪৪৫ হিজরি / ২০২৪ সাল) বিশ্বজুড়ে ১৮ লাখ ৩৩ হাজার ১৬৪ জন হজ পালন করেন। এর মধ্যে ২ লাখ ২১ হাজার ৮৫৪ জন ছিলেন সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ হজযাত্রী।

এ বছর হজের নিয়মাবলিতে বেশ কিছু কঠোরতা দেখা গেছে। ১২ বছরের নিচের শিশুদের হজে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি, অনুমতিপত্র ছাড়া কেউ হজ পালনের চেষ্টা করলে তাকে ৫ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা এবং পরবর্তী ১০ বছরের জন্য সৌদি আরবে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে হবে।

হজমন্ত্রী আরও জানান, গত বছর হজে অংশ নিয়ে যাঁরা মৃত্যুবরণ করেন, তাঁদের ৮০ শতাংশই ছিলেন অবৈধ বা নিবন্ধনবিহীন। তারা পর্যাপ্ত আবাসন, পরিবহন ও চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। অনেকের মৃত্যুর কারণ ছিল চরম তাপদাহ, যা ৫১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছেছিল। মৃতদের মধ্যে শত শত মিশরীয় ও ইন্দোনেশীয়ও ছিলেন।

ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের অন্যতম হজ, মুসলিমদের জীবনে শারীরিক ও আর্থিক সামর্থ্য থাকলে একবার হলেও তা পালন করা ফরজ। হজের বিভিন্ন ধাপে পুরুষরা ইহরাম পরিধান করেন—সাদা দুটি কাপড়, আর নারীরা পরেন শালীন পোশাক ও মাথা ঢাকা থাকে। হাজিরা কাবা শরিফ তাওয়াফ করেন, সাফা-মারওয়া সাঈ করেন, মিনায় রাত কাটান এবং আরাফায় অবস্থান করেন।

আজ সেই আরাফার দিন—যেদিন নবী মুহাম্মদ (সা.) বিদায় হজে তাঁর ঐতিহাসিক খুতবা দিয়েছিলেন। ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত এখন আরাফার পবিত্র ভূমি, যেখানে লাখো মুসলিম মহান স্রষ্টার নিকট প্রার্থনায় নিবিষ্ট।

সৌদি আরবের আরাফাতের ময়দানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে পবিত্র হজের প্রধান পর্ব। হিজরি ১৪৪৬ সনের হজ পালন করছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত লাখো মুসল্লি। হজের অন্যতম প্রধান রোকন ‘ওকুফে আরাফা’ পালনের জন্য হাজিরা আজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতে অবস্থান করবেন।

হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছিল মিনায় রাত যাপনের মধ্য দিয়ে। আজ ভোরে মিনায় রাত কাটিয়ে হজযাত্রীরা আরাফার উদ্দেশে যাত্রা করেন। মিনার ১৫ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত এই পবিত্র ভূমিতে দাঁড়িয়ে তারা মহান আল্লাহর দরবারে মোনাজাতে রত থাকবেন। সূর্যাস্তের পর তারা ৯ কিলোমিটার দূরের মুজদালিফার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন, যেখানে তারা রাতযাপন করবেন এবং শয়তানকে পাথর মারার জন্য পাথর সংগ্রহ করবেন।

আরাফাতের ময়দানে আজ জোহর ও আসরের নামাজ একত্রে আদায় করা হবে এবং মসজিদে নামিরা থেকে হজের খুতবা প্রদান করা হবে, যা হাজিরা গভীর মনোযোগে শুনবেন।

সৌদি হজ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ১৫ লাখেরও বেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। হজের সময় ঘন ঘন তাপপ্রবাহের সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে সৌদি সরকার ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

সৌদি হজমন্ত্রী তৌফিক রাবিয়া জানিয়েছেন, এ বছর ২ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি কর্মী হজ ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত রয়েছেন। পাশাপাশি ৫০ হাজার বর্গমিটার ছায়াযুক্ত এলাকা তৈরি, হাজার হাজার চিকিৎসাকর্মীর মোতায়েন এবং ৪০০-এরও বেশি শীতলীকরণ ইউনিট চালু করা হয়েছে।

আনাদোলু বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, গত বছর (১৪৪৫ হিজরি / ২০২৪ সাল) বিশ্বজুড়ে ১৮ লাখ ৩৩ হাজার ১৬৪ জন হজ পালন করেন। এর মধ্যে ২ লাখ ২১ হাজার ৮৫৪ জন ছিলেন সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ হজযাত্রী।

এ বছর হজের নিয়মাবলিতে বেশ কিছু কঠোরতা দেখা গেছে। ১২ বছরের নিচের শিশুদের হজে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি, অনুমতিপত্র ছাড়া কেউ হজ পালনের চেষ্টা করলে তাকে ৫ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা এবং পরবর্তী ১০ বছরের জন্য সৌদি আরবে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে হবে।

হজমন্ত্রী আরও জানান, গত বছর হজে অংশ নিয়ে যাঁরা মৃত্যুবরণ করেন, তাঁদের ৮০ শতাংশই ছিলেন অবৈধ বা নিবন্ধনবিহীন। তারা পর্যাপ্ত আবাসন, পরিবহন ও চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। অনেকের মৃত্যুর কারণ ছিল চরম তাপদাহ, যা ৫১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছেছিল। মৃতদের মধ্যে শত শত মিশরীয় ও ইন্দোনেশীয়ও ছিলেন।

ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের অন্যতম হজ, মুসলিমদের জীবনে শারীরিক ও আর্থিক সামর্থ্য থাকলে একবার হলেও তা পালন করা ফরজ। হজের বিভিন্ন ধাপে পুরুষরা ইহরাম পরিধান করেন—সাদা দুটি কাপড়, আর নারীরা পরেন শালীন পোশাক ও মাথা ঢাকা থাকে। হাজিরা কাবা শরিফ তাওয়াফ করেন, সাফা-মারওয়া সাঈ করেন, মিনায় রাত কাটান এবং আরাফায় অবস্থান করেন।

আজ সেই আরাফার দিন—যেদিন নবী মুহাম্মদ (সা.) বিদায় হজে তাঁর ঐতিহাসিক খুতবা দিয়েছিলেন। ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত এখন আরাফার পবিত্র ভূমি, যেখানে লাখো মুসলিম মহান স্রষ্টার নিকট প্রার্থনায় নিবিষ্ট।




পাকিস্তানের সেনা অভিযানে ১৪ ভারতীয় সন্ত্রাসী নিহত!

উত্তর ওয়াজিরিস্তানে পরিচালিত সাম্প্রতিক এক সেনা অভিযানে ১৪ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। বুধবার (৪ জুন) এক বিবৃতিতে দেশটির আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ বিভাগ (আইএসপিআর) এ তথ্য নিশ্চিত করে।

বিবৃতিতে জানানো হয়, “গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উত্তর ওয়াজিরিস্তানের দাত্তা খেল এলাকায় একটি লক্ষ্যবস্তুতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে ভারতীয় মদতপুষ্ট ১৪ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে।”

আইএসপিআরের বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, ভারত পাকিস্তানে ‘প্রক্সি সন্ত্রাস’ চালিয়ে যাচ্ছে এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের যৌথ অভিযান চলমান থাকবে যতক্ষণ না তা সম্পূর্ণ নির্মূল হয়।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের দপ্তর থেকেও এ অভিযানের প্রশংসা করে আলাদা বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়, “যারা সন্ত্রাসবাদের সমর্থক এবং মানবতার শত্রু— তাদের এভাবেই নির্মূল করা হবে।”

এর আগে, পাঁচ দিন আগেও বেলুচিস্তানের কাছি জেলায় আরেকটি অভিযান চালায় সেনা ও পুলিশ বাহিনী। সেসময় পাঁচ বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হন। ওই অভিযানের ক্ষেত্রেও সেনাবাহিনী দাবি করেছিল, নিহতরা সবাই ভারতের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত সংগঠনের সদস্য।

প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের চারটি প্রদেশ ও তিনটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মধ্যে খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তান— এই দুই প্রদেশে বিগত কয়েক বছরে সন্ত্রাসী তৎপরতার উল্লম্ফন দেখা গেছে। খাইবার পাখতুনখোয়া মূলত তালেবানপন্থী তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত, আর বেলুচিস্তানে সক্রিয় রয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বালোচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। উভয় গোষ্ঠীই পাকিস্তান থেকে স্বতন্ত্র রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সশস্ত্র তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলার সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২4 সালকে দেশটির ইতিহাসে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ বছর হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে, যেখানে মোট ৪৪টি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা গত এক দশকের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি।

 

 




করোনাভাইরাসের নতুন ধরন এনবি.১.৮.১ ছড়িয়ে পড়ছে যুক্তরাজ্যে: টিকাও কার্যকর নয় বলে আশঙ্কা

করোনাভাইরাসের একটি নতুন ও উদ্বেগজনক সাবভ্যারিয়েন্ট NB.1.8.1 যুক্তরাজ্যে ছড়িয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা। অন্যান্য ধরনগুলোর তুলনায় এই নতুন ধরনটি বেশি সংক্রামক এবং টিকার প্রতিরোধ ক্ষমতা ভেঙে দিতে সক্ষম, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (NHS) জানায়, নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে ইতোমধ্যে অন্তত ৭ জন এনবি.১.৮.১ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে দেশটিতে উদ্বেগ বাড়ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) বলছে, NB.1.8.1 এখন পর্যন্ত চিহ্নিত করোনাভাইরাসের তুলনায় চারগুণ দ্রুত ছড়ায় এবং এটিকে তারা “Variant Under Monitoring” (নজরদারির তালিকাভুক্ত ধরন) হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এর বিপক্ষে বর্তমানে প্রচলিত টিকাগুলোর কার্যকারিতা সীমিত, বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এই সাবভ্যারিয়েন্ট কেবল যুক্তরাজ্যেই নয়, হংকং, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, মিসর এবং মালদ্বীপেও শনাক্ত হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সূত্রে জানা গেছে।

অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজিস্ট ড. লারা হেরেরো ব্রিটিশ দৈনিক দ্য মিররকে বলেন,

“NB.1.8.1 অন্যান্য সাবভ্যারিয়েন্টের মতোই ছড়ায়, তবে এটি আরও দ্রুত সংক্রমিত হয় এবং টিকা-উৎপন্ন রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে এড়িয়ে যেতে পারে।”

এই ভাইরাসের লক্ষণগুলো: দীর্ঘ সময় ধরে কাশি, যা এক ঘণ্টার বেশি স্থায়ী হতে পারে, দিনে তিনবার বা তার বেশি কাশির দমক, স্বাদ ও ঘ্রাণশক্তি লোপ, শ্বাসকষ্ট ও ক্লান্তি, গা ও মাথাব্যথা, গলা ব্যথা, নাক বন্ধ হওয়া

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণ এড়াতে এখনও মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। নতুন এই ধরন বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য একটি নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

সূত্র: দ্যা মিরর




গাজায় মানবিক সহায়তার নামে মৃত্যুর ফাঁদ?—ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ভয়াবহ অভিযোগ

গাজা সরকারের মিডিয়া অফিস এক তীব্র বিবৃতিতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে “ভয়াবহ ও ইচ্ছাকৃত অপরাধ” সংঘটনের অভিযোগ এনেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী খাদ্য সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষুধার্ত ফিলিস্তিনিদের নির্দয়ভাবে ফাঁদে ফেলে গুলি চালাচ্ছে।

টেলিগ্রামে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে জানানো হয়, ২৭ মে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত গাজা এইড ফাউন্ডেশন সহায়তা কার্যক্রম শুরু করার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ১০২ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং প্রায় ৫০০ জন আহত হয়েছেন।

মিডিয়া অফিসের বক্তব্য অনুযায়ী, “এগুলো কোনো সাহায্য কেন্দ্র নয়—এগুলো এখন মৃত্যুকূপ। এগুলো স্থাপন করা হয়েছে এমন উন্মুক্ত ও বিপজ্জনক এলাকায়, যেগুলো দখলদার বাহিনীর সরাসরি নিয়ন্ত্রণে। ভয়াবহ খাদ্য সংকটে থাকা সাধারণ মানুষদের সেখানে টেনে নিয়ে গিয়ে তাদের উপর নির্বিচারে গুলি চালানো হচ্ছে।”

গাজা কর্তৃপক্ষ এসব ঘটনাকে “সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড” আখ্যা দিয়ে বলেছে, “এই সহায়তা বিতরণ কেন্দ্রের নামে চালানো হামলার নৃশংসতা এবং এর প্রকৃত উদ্দেশ্য এখন স্পষ্ট—এটি মানবিক সঙ্কটকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে জনগণকে নিঃশেষ করার অপচেষ্টা।”

তারা জাতিসংঘ, নিরাপত্তা পরিষদ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে অবিলম্বে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। একইসঙ্গে তারা গাজার সীমান্ত ক্রসিংগুলোকে ইসরায়েলি শর্ত ছাড়াই পুরোপুরি খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে, যাতে অবরুদ্ধ জনগণের মাঝে নিরাপদে সহায়তা পৌঁছানো যায় এবং আরও প্রাণহানি ঠেকানো যায়।

গাজায় গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মানবিক সহায়তা বিতরণ কেন্দ্রগুলোর আশপাশে বহু সহিংসতা ঘটেছে। এসব ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অনেক বেসামরিক মানুষ। জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজার ৯০ শতাংশের বেশি মানুষ এখন চরম খাদ্য সংকটে দিন পার করছেন—বিশেষ করে শিশুরা রয়েছে ভয়াবহ ঝুঁকিতে।

আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখেও ইসরায়েল এ ধরনের অভিযানের পক্ষে যুক্তি দাঁড় করাচ্ছে যে তারা কেবলমাত্র “আত্মরক্ষার” ব্যবস্থা নিচ্ছে।

এদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো সতর্ক করে বলেছে, ইসরায়েলের এই কৌশল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘন করছে এবং গাজায় যে মানবসৃষ্ট দুর্ভিক্ষ (man-made famine) তৈরি হচ্ছে, তা আন্তর্জাতিক অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

বর্তমানে গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা প্রায় সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়েছে। অধিকাংশ হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্র ওষুধ, সরঞ্জাম ও বিদ্যুৎ সংকটে অচল হয়ে পড়েছে, যেখানে আহতদের চিকিৎসা দেওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠেছে।

এই অবস্থাকে “জরুরি মানবিক বিপর্যয়” আখ্যা দিয়ে বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে—নীরবতা নয়, পদক্ষেপই পারে রক্ষা করতে হাজারো নিরপরাধ জীবন।




ভারত থেকে পুশইনের সংখ্যা বেড়ে চলছে, মৌলভীবাজারে অনুপ্রবেশে উদ্বেগ

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) গত এক মাসে মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ৩৩৭ জন বাংলাদেশিকে অবৈধভাবে পুশইন করেছে। ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে এই অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

সবচেয়ে বেশি অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে বড়লেখা উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর, দক্ষিণ শাহবাজপুর ও পাল্লথল সীমান্ত দিয়ে। এছাড়া জুড়ী উপজেলার রাজকি, কুলাউড়ার মুরইছড়া এবং কমলগঞ্জ উপজেলার ধলই, বাগীছড়া ও চাম্পাছড়া সীমান্ত দিয়েও পুশইনের ঘটনা ঘটে।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ মে থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৩৩৭ জনকে সীমান্ত পেরিয়ে প্রবেশের সময় আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে বড়লেখা উপজেলায় ২৫১ জন, জুড়ীতে ১০ জন, কুলাউড়ায় ২১ জন এবং কমলগঞ্জে ৫৫ জনকে আটক করা হয়। তবে আরও কয়েক শতাধিক ব্যক্তি সীমান্ত অতিক্রম করলেও তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে পুরুষ, নারী ও শিশু রয়েছে। এদের অধিকাংশের বাড়ি নড়াইল, চট্টগ্রাম, কুড়িগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। আটক ব্যক্তিদের অনেকেই জানিয়েছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে ভারতের আসামে বসবাস করছিলেন। হঠাৎ করে ভারতীয় পুলিশ তাদের বাড়িঘর ভেঙে হেলিকপ্টারে করে ত্রিপুরার মানিকভান্ডারে নিয়ে গিয়ে বিএসএফের হাতে তুলে দেয়। পরে বিএসএফ তাদের সীমান্ত গেট খুলে ধলই দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠায়।

স্থানীয়রা অনেকে জানান, সীমান্ত দিয়ে এক হাজারের বেশি মানুষ বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। যদিও বিজিবি কয়েকশ লোককে আটক করতে সক্ষম হয়েছে, বাকিরা স্থানীয় দালালদের সহায়তায় বা বিভিন্ন যানবাহনে করে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছে গেছে। অনুপ্রবেশকারীদের কেউ কেউ বিকাশের মাধ্যমে ভাড়া পরিশোধ করেছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া তাদের মধ্যে কয়েকজন রোহিঙ্গাও ছিলেন, যারা পরে চট্টগ্রামে চলে গেছেন।

এ বিষয়ে ৫২-বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী হাসান ও ৪৬-বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ এস এম জাকারিয়া জানান, আটককৃতদের সবাই বাংলাদেশি নাগরিক। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং পুলিশ পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।