ইজরায়েলে টানা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে ইরান

ইরান থেকে ইসরায়েলের দিকে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। শুক্রবার স্থানীয় সময় ভোর থেকে এই হামলা শুরু হয়েছে বলে জানায় সংস্থাটি।

শুক্রবার সকালে এক বিবৃতিতে আইডিএফ জানায়, “ভোর থেকে ইসরায়েলজুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে উঠছে। ইরান থেকে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হচ্ছে, যা ঠেকাতে আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।”

আইডিএফ আরও জানিয়েছে, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি নাগরিকদের দ্রুত নিকটবর্তী বোমা আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তবে ঠিক কতগুলো ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান— সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি আইডিএফ।

এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।




সাইবার হামলার শঙ্কা: দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রেখেছে ইরান

সাইবার হামলার আশঙ্কায় দেশজুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে ইরান। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে দেশটির যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। ইরানের আধাসরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে ইরানের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জানায়, দেশের গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবসাইটগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ‘টার্গেটেড’ ব্যক্তিদের ওপর সম্ভাব্য নজরদারি রুখতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, “শত্রু পক্ষ একটি সাইবার বাহিনী গঠন করেছে—যার লক্ষ্য ইরানের অনলাইন অবকাঠামো ধ্বংস করা। তারা যেন দেশের যোগাযোগ নেটওয়ার্ক অপব্যবহার করতে না পারে, সেজন্যই ইন্টারনেট আংশিকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।”

তবে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইন্টারনেট পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের জন্য সীমিত পরিসরে কিছু সংযোগ এখনও চালু রয়েছে।

এদিকে, দেশটির সাধারণ জনগণ অভিযোগ করছেন, বৃহস্পতিবার থেকে তারা মোবাইল ডিভাইস কিংবা ব্রডব্যান্ডের মাধ্যমে কোনো ধরনের ইন্টারনেট সংযোগ পাচ্ছেন না। অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মেসেজিং অ্যাপে প্রবেশ করতে পারছেন না বলেও জানিয়েছেন।

ইরানে এর আগেও রাজনৈতিক উত্তেজনা বা নিরাপত্তা হুমকির সময় এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে এবারের ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নতা সরাসরি সাইবার হামলার হুমকির সঙ্গেই যুক্ত বলে জানিয়েছে দেশটির প্রশাসন।




ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ‘সম্মানিত মানুষদের’ আনন্দিত করেছে: খামেনি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দাবি করেছেন, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বিশ্বের ‘সম্মানিত ও মর্যাদাবান’ মানুষদের আনন্দিত করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা একটি ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

শুক্রবার (২০ জুন) এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, খামেনির সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট এক্স (সাবেক টুইটার)-এ বৃহস্পতিবার একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। ভিডিওটির শুরুতে গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলা এবং সাধারণ মানুষের ওপর চালানো সহিংসতার দৃশ্য দেখানো হয়।

এরপরই ভিডিওতে ইরানের নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরায়েলে আঘাত হানার দৃশ্য এবং হামলার পর মানুষের আনন্দ-উল্লাসের মুহূর্তগুলো তুলে ধরা হয়। ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা হয়: “এমন ক্ষেপণাস্ত্র, যা বিশ্বের সম্মানিত ও মর্যাদাবান মানুষদের আনন্দ দিয়েছে।”

বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির এই বার্তা মূলত ইসরায়েলবিরোধী মনোভাব পোষণকারী জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে ফিলিস্তিন, লেবানন ও অন্যান্য মুসলিম দেশের মানুষের আবেগ উসকে দিতেই দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এটিকে ইরানের পক্ষ থেকে একটি ‘ন্যায্য প্রতিক্রিয়া’ হিসেবেও তুলে ধরা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এমন একটি সময়ে ভিডিওটি প্রকাশিত হলো, যখন ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক উত্তেজনা নতুন করে সংঘাতের দিকে মোড় নিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্য জুড়েই এ মুহূর্তে স্নায়ুচাপ তীব্র আকার ধারণ করেছে।




কেউ আল জাজিরা দেখলে তাকে পুলিশে ধরিয়ে দিন: ইসরায়েলি মন্ত্রী

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-কে নিয়ে আবারও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির।

বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বেন-গভির বলেন, “আল জাজিরাকে যদি ইসরায়েলে সংবাদ প্রচারের অনুমতি দেওয়া হয়, তাহলে তা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।”

তিনি আরও দাবি করেন,“ইসরায়েলে কেউ আল জাজিরার সম্প্রচার দেখলে, তার বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।”

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের মে মাসে ইসরায়েল সরকার আল জাজিরা আরবি, আল জাজিরা মুবারাশ-সহ তাদের রিপোর্টার, ক্যামেরাপারসন ও প্রযোজকদের বিরুদ্ধে কার্যত নিষেধাজ্ঞা জারি করে। তবে সেই নিষেধাজ্ঞার পরেও আল জাজিরার কিছু সীমিত কার্যক্রম এখনো ইসরায়েলে চালু আছে, বিশেষ করে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সীমিত রিপোর্টিংয়ের মাধ্যমে।

আন্তর্জাতিকভাবে এই নিষেধাজ্ঞা ও বেন-গভিরের বক্তব্যকে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর চাপ বলে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল আল জাজিরার সম্প্রচারে নিয়ন্ত্রণ আরোপের মাধ্যমে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বার্তা প্রবাহের ওপর প্রভাব বিস্তারে আগ্রহী।

ইতামার বেন-গভিরের সর্বশেষ মন্তব্যে স্পষ্ট, ইসরায়েল সরকারের পক্ষ থেকে আল জাজিরার প্রতি আরও কঠোর পদক্ষেপ আসতে পারে। একই সঙ্গে এটি মিডিয়ার স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের অধিকারের প্রশ্নকেও সামনে নিয়ে এসেছে।




হাসপাতালে হামলা একটি গুরুতর অপরাধ: ইসরায়েল

ইরানের হামলাকে ‘ইচ্ছাকৃত’ এবং ‘অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ইসরাইলের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী শারেন হাসকেল। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (পূর্বে টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, যে স্থাপনাটি ইরানের হামলার লক্ষ্য হয়েছিল, সেটি কোনো সামরিক ঘাঁটি নয়—বরং এটি একটি হাসপাতাল, যা ইসরাইলের নেগেভ অঞ্চলের প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্র।

হাসকেল তার পোস্টে হাসপাতালের ভেতরের ক্ষয়ক্ষতির ভিডিওও শেয়ার করেছেন। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্দেশে বলেন, “বিশ্বের উচিত এ বিষয়ে স্পষ্টভাবে অবস্থান নেওয়া।”

শুক্রবার থেকে ইসরাইল ধারাবাহিকভাবে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা চালাচ্ছে। এসব হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৩৯ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ১,৩২০ জন। এই তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস।

সংস্থাটি জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ২৬৩ জন ছিলেন বেসামরিক নাগরিক এবং ১৫৪ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। বাকিদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

তবে ইরান সরকার এখন পর্যন্ত হতাহতের বিষয়টি নিয়মিতভাবে প্রকাশ করেনি। ইরানের সর্বশেষ সরকারি হিসাবে, ইসরাইলি হামলায় ২২৪ জন নিহত এবং ১,২৭৭ জন আহত হয়েছেন।

 

 

 

 

 




রাশিয়ার মধ্যস্থতার প্রস্তাবে আগ্রহ দেখাচ্ছে না ইসরায়েল

ইরান ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতার আগ্রহ দেখালেও ইসরায়েল সেই প্রস্তাবে সাড়া দিচ্ছে না বলে জানিয়েছে রাশিয়া। মঙ্গলবার (১৭ জুন) নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানান, শান্তি প্রতিষ্ঠায় রাশিয়া প্রস্তুত থাকলেও ইসরায়েল তাতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।

পেসকভ বলেন, “প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন স্পষ্ট করেছেন, সংঘাত থামাতে প্রয়োজন হলে রাশিয়া মধ্যস্থতার জন্য প্রস্তুত। কিন্তু আমরা দেখছি, ইসরায়েল কোনো ধরনের বাইরের মধ্যস্থতা গ্রহণ করতে চাইছে না এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথেও তারা রাজি নয়।”

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার থেকে ইরানের বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। দেশটির দাবি, ইরানের পরমাণু অস্ত্র অর্জনের সক্ষমতা ধ্বংস করতেই এই অভিযান। তবে তেহরান তা অস্বীকার করেছে। পাল্টা জবাবে ইরানও ইসরায়েলের সামরিক ও সরকারি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।

ইরান জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় গত পাঁচদিনে অন্তত ২২৪ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও শত শত মানুষ। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন সামরিক কমান্ডার, পরমাণু বিজ্ঞানী ও বেসামরিক নাগরিকরা। রোববারের পর থেকে হতাহতের সংখ্যা আর হালনাগাদ করেনি তেহরান।

অন্যদিকে, ইরানের পাল্টা হামলায় ইসরায়েলে অন্তত ২৪ জন নিহত ও বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর।

এদিকে, রাশিয়ার মধ্যস্থতা প্রশ্নে ভিন্নমত জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তিনি বলেন, ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক আগ্রাসনের কারণে রাশিয়া এখন কোনো সংঘাতে নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বিবেচিত হওয়ার যোগ্য নয়।

গত কয়েক বছরে ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছে রাশিয়া। পাশাপাশি, ইসরায়েলের সঙ্গেও কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে মস্কো। এই দ্বিমুখী সম্পর্কের কারণে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে রাশিয়া মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিতে পারছে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।




ইসরায়েল-ইরান সংঘাতে গভীর উদ্বেগ চীনের

ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক সংঘাতকে কেন্দ্র করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি জিনপিং। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে হঠাৎ উত্তেজনা বৃদ্ধি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ।

মঙ্গলবার (১৭ জুন) কাজাখস্তানের রাজধানী আস্তানায় দ্বিতীয় চীন-মধ্য এশিয়া শীর্ষ সম্মেলনের এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে চীনা প্রেসিডেন্ট এ মন্তব্য করেন। তিনি জানান, চীন সব সময় অন্য দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘনের বিরোধিতা করে।

সি জিনপিং বলেন, “সামরিক সংঘাত কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়। এটি কেবল আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ায় এবং আন্তর্জাতিক শান্তির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত স্বার্থে সব পক্ষকে দ্রুত সংঘাত প্রশমনের পথে আসা উচিত।”

তিনি আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে চীন গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে চায় এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।

উল্লেখ্য, ইরানের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক মিত্র হিসেবে চীন দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রেখে চলেছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ফের শেয়ার কারসাজি, আবুল খায়েরসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে কোটি টাকার জরিমানা

ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্সে অবৈধ লেনদেন ও শেয়ার কারসাজির অভিযোগে সমবায় বিভাগের বিতর্কিত কর্মকর্তা আবুল খায়ের হিরু ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আবারও বড় অঙ্কের জরিমানা আরোপ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর মোট ২ কোটি ৪৬ লাখ টাকার জরিমানা করা হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তদন্তে উঠে আসে, গত ১৬ জুলাই থেকে ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত মাত্র দুই মাসে ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারের মূল্য ১০৭ শতাংশ বেড়ে যায়। তদন্তে জানা যায়, সিরিয়াল ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে চাহিদা বাড়িয়ে দাম বাড়ানো হয়। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ভ্রান্ত ধারণা তৈরি হয় এবং বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়।

মূল অভিযুক্ত ও সহযোগীরা:
আবুল খায়ের ছাড়াও তার বাবা আবুল কালাম মাতব্বর, স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসান, ব্যবসায়িক অংশীদার ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানসহ পরিবারের সদস্যদের একাধিক বিও অ্যাকাউন্ট থেকে সমন্বিত লেনদেনের মাধ্যমে এই কারসাজি চালানো হয়।

জরিমানার পরিমাণ:

  • আবুল খায়ের: ৩৭ লক্ষ টাকা
  • কনিকা আফরোজ: ৫৯ লক্ষ টাকা
  • কাজী সাদিয়া হাসান: ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা
  • আবুল কালাম মাতব্বর: ৩ লক্ষ টাকা
  • সাকিব আল হাসান: ৩ লক্ষ টাকা
  • হুমায়ুন কবির, মোঃ জাহেদ কামাল, মোঃ আশফাকুজ্জামান: মোট ৬ লক্ষ টাকা
  • প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে:
    • এশাল কমিউনিকেশন: ৮৫ লক্ষ টাকা
    • মোনার্ক এক্সপ্রেস: ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকা
    • মোনার্ক মার্ট: ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা
    • লাভা ইলেকট্রোডস ইন্ডাস্ট্রিজ: ৩ লক্ষ টাকা

আগের বিতর্কিত রেকর্ড:
এর আগেও আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে অন্তত ২৫টি কোম্পানির শেয়ার কারসাজির প্রমাণ মিলেছে। ২০২১ সালে চার কোম্পানির শেয়ার কৃত্রিমভাবে বাড়ানোর দায়ে ১৩৫ কোটি টাকা এবং ২০২২ সালে আরও ১৪ কোটি টাকার জরিমানা করা হয়। সাকিব আল হাসানকেও একই অভিযোগে জরিমানা করা হয়েছিল। নতুন কমিশনের মুখপাত্র আবুল কালাম জানিয়েছেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে শেয়ারবাজারে এমন অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনায় আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /

 




ইরানে ইসরায়েলি হামলার নিন্দা ও যুদ্ধ বিরতির আহ্বান মুসলিম দেশগুলোর

ইরানে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে মিসরসহ ২১টি মুসলিম রাষ্ট্র। সোমবার এক খোলা চিঠির মাধ্যমে এই দেশগুলো শুধু নিন্দাই জানায়নি, বরং চলমান উত্তেজনা হ্রাস ও যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি তারা মধ্যপ্রাচ্যকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত অঞ্চল হিসেবে দেখতে চায় বলেও উল্লেখ করেছে।

চিঠিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে—মিসর, আলজেরিয়া, বাহরাইন, ব্রুনেই, চাদ, কোমোরোস, জিবুতি, গাম্বিয়া, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, লিবিয়া, মৌরিতানিয়া, ওমান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, সুদান, সোমালিয়া, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।

চিঠিতে বলা হয়, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাত গোটা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে। এ অবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে একটি যুদ্ধবিরতির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। পাশাপাশি দেশগুলো জাতিসংঘের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি—‘নন-প্রোলিফারেশন অব নিউক্লিয়ার উইপনস (এনপিটিতে)’ সকল রাষ্ট্রকে স্বাক্ষর করার আহ্বান জানিয়েছে।

গত ১৩ জুন ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ইসরায়েলি বিমান হামলার মাধ্যমে শুরু হয় ইরান-ইসরায়েল সামরিক উত্তেজনা। এ পর্যন্ত এই সংঘাতে দুই দেশ মিলিয়ে প্রায় ৩০০ জন নিহত এবং অন্তত এক হাজার মানুষ আহত হয়েছেন।

সংঘাত শুরুর পর এই প্রথমবার একসঙ্গে এতগুলো মুসলিম দেশ যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে যৌথ বিবৃতি দিল।




ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা; পুড়ছে ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় তেল শোধনাগার

ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের হাইফা শহরে অবস্থিত দেশের সবচেয়ে বড় তেল শোধনাগার বিধ্বস্ত হয়েছে। এ হামলায় এখন পর্যন্ত তিনজন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

সোমবার (১৬ জুন) সন্ধ্যায় হাইফা শহরে ইরান ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। শুরুতে হামলার বিষয়টি গোপন রাখা হলেও পরে প্রাণহানির তথ্য সামনে আসায় বিষয়টি স্বীকার করে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।

হাইফার মেয়র ইয়োনা ইয়াহাভ স্থানীয় সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-কে জানান, হামলার সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় কাজ করছিলেন নিহত তিন ব্যক্তি। যদিও শুরুতে তেল শোধনাগারের নাম প্রকাশ করেননি, পরে সরকারের অনুমতি মিললে জানা যায়—বিপর্যস্ত স্থাপনাটি ছিল বাজান তেল শোধনাগার কমপ্লেক্স।

হামলার পরপরই শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কয়েক ঘণ্টা চেষ্টার পরও আগুনের ভয়াবহতার কারণে তা ব্যাহত হয়। আহত চারজনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, তবে তারা শঙ্কামুক্ত।

হামলায় শহরের আরও কয়েকটি বাড়িঘর ও বাণিজ্যিক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সরাসরি সম্প্রচার বন্ধ করে এলাকাটি থেকে সাংবাদিকদের সরিয়ে নেয় পুলিশ। উপকূলীয় অঞ্চলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, হাইফায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর, একটি নৌঘাঁটি ও তেল শোধনাগারসহ একাধিক সংবেদনশীল স্থাপনা রয়েছে। শক্তিশালী ‘আয়রন ডোম’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকার পরও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র তা ফাঁকি দিয়ে শহরে আঘাত হানে, যা ইসরায়েলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।