ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ইরানের, পাল্টা জবাব ইসরায়েলের

ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। পাল্টা জবাবে ইসরায়েলও তেহরানসহ ইরানের একাধিক স্থানে আঘাত হানে। মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি একপ্রকার যুদ্ধাবস্থার রূপ নিয়েছে।

সোমবার (২৩ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও ইরানি সংবাদ সংস্থা তাসনিমের বরাতে জানা যায়, ইরান থেকে উৎক্ষেপণ করা ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ইসরায়েলের অন্তত পাঁচটি শহরে আঘাত হানে। লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে সাফাদ, তেল আবিব, আশকেলন, আশদোদ এবং বেইসানের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকা রয়েছে।

হামলার সময় ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় সাইরেন বাজতে শুরু করে, যার ফলে আতঙ্কে মানুষজন তেল আবিবসহ বিভিন্ন শহরের ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটে যান। ইসরায়েলি সরকার নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে নির্দেশ দিয়েছে এবং নতুন করে বিমান হামলার সতর্কতা জারি করেছে।

তাসনিম সংবাদমাধ্যমের দাবি, হামলায় কঠিন ও তরল জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের পাশাপাশি এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে যা ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে সক্ষম।

এদিকে ইরানের হামলার কিছুক্ষণের মধ্যেই ইসরায়েল পাল্টা আঘাত হানে। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তেহরানের অধ্যাপক ফোয়াদ ইযাদি জানান, একটি হাসপাতালের পাশে ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে এবং সেখানে ধোঁয়া দেখা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত হতাহত সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে আরও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের আশঙ্কা রয়েছে এবং জনগণকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে।

এই সংঘাতে পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা আশঙ্কা করছেন, এ ধরনের পাল্টাপাল্টি হামলা পুরো অঞ্চলকে অনিয়ন্ত্রিত সংঘর্ষের দিকে ঠেলে দিতে পারে।




মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা: শান্তি রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা চায় বাংলাদেশ

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। রোববার (২২ জুন) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ উদ্বেগ জানিয়ে বলেছে, এই ধরনের হামলা মধ্যপ্রাচ্যের একটি ইতোমধ্যেই নাজুক অঞ্চলের স্থিতিশীলতা আরও বিপন্ন করার ঝুঁকি তৈরি করছে এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি স্বরূপ।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ বরাবরের মতোই যেকোনো আন্তর্জাতিক সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানে সংলাপ ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এ প্রসঙ্গে সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয়েছে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে এমন পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিরসনে ও অঞ্চলটিতে টেকসই শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ও কার্যকর ভূমিকার প্রত্যাশা করছে। বাংলাদেশের দৃঢ় বিশ্বাস, গঠনমূলক আলোচনা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং আন্তর্জাতিক নীতিমালা অনুসরণ করেই কেবল দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথ সুগম হতে পারে।




ট্রাম্প বিশ্বাসঘাতক: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর তীব্র অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তার দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুধু ইরানের সাথেই নয়, বরং নিজ দেশের জনগণের সাথেও বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।

বিবিসি’র প্রতিবেদনে জানা যায়, এক টেলিভিশন ভাষণে আরাগচি বলেন, “ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার সময় বলেছিলেন, তিনি মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার ব্যয়বহুল যুদ্ধ বন্ধ করবেন। কিন্তু বাস্তবে তিনি সেই প্রতিশ্রুতি ভেঙে দিয়েছেন এবং আমাদের সঙ্গে কূটনীতির নামে প্রতারণা করেছেন।”

তিনি আরও বলেন, “ট্রাম্প এমন একজন যুদ্ধাপরাধীর নির্দেশে কাজ করছেন, যিনি আমেরিকার অর্থ ও সেনাবাহিনী ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের স্বার্থে কাজ করে যাচ্ছেন। এতে আমেরিকার জনগণও প্রতারিত হয়েছে।”

এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের চালানো হামলার বিষয়ে এক বিবৃতিতে ট্রাম্প দাবি করেন, “এই হামলাগুলো ছিল অসাধারণ সামরিক সাফল্য। হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের গোপন পারমাণবিক কেন্দ্র—ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহান। আমরা সেগুলো সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করেছি।”

তিনি বলেন, “ইরান এখন বুঝে গেছে, শক্তির দম্ভ নিয়ে টিকে থাকা অসম্ভব। তাদের শান্তির পথে আসতে হবে।”

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং তাকে প্রকাশ্যে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান হেফাজতের

চলমান ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা দাবি করেছেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য “মহাযুদ্ধের” প্রস্তুতি নিতে হবে।

শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে হেফাজতের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান বলেন, “ইসরায়েল আজ শুধু একটি রাষ্ট্র নয়, বরং মানবতা ধ্বংসকারী এক দানব রূপে আবির্ভূত হয়েছে। এই অবৈধ রাষ্ট্রের আগ্রাসন ও গণহত্যা বৈশ্বিক শান্তির জন্য ভয়ানক হুমকি।”

হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বিবৃতিটি গণমাধ্যমে পাঠান। বিবৃতিতে নেতারা বলেন, মুসলিম বিশ্বকে আর নীরব থাকার সুযোগ নেই। অস্ত্রের পাশাপাশি জ্ঞান, কৌশল ও ঐক্যের লড়াইয়ের মাধ্যমে ইসরায়েল ও তার মিত্রদের মোকাবিলা করতে হবে। এ জন্য আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে মুসলিম বিশ্বের উৎকর্ষ অর্জন জরুরি হয়ে পড়েছে।

বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ সমর্থনে যুদ্ধাপরাধ চালিয়ে আসছে। বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা এবং গোয়েন্দা সহযোগিতার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি এবং ইউরোপের কয়েকটি প্রভাবশালী দেশ ইসরায়েলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

হেফাজতের নেতারা বলেন, “যখন ফিলিস্তিনে গণহত্যা চলে, তখন বিশ্ব মানবতা রক্ষার দাবিদার পশ্চিমা দেশগুলো নীরব থাকে। কিন্তু ইসরায়েল প্রতিরোধের মুখে পড়লেই তারা সক্রিয় হয়। এতে প্রমাণ হয়, তারা কখনোই শান্তি প্রতিষ্ঠায় আন্তরিক নয়; বরং বিশ্বব্যাপী সংঘাতের জন্ম দিয়েছে বারবার।”

বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, মুসলিম বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলোর বিরুদ্ধে এক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ইরানকে যুদ্ধে জড়ানো হয়েছে। হেফাজতের মতে, “আধুনিক রূপে আবারও একটি ক্রুসেড শুরু হয়েছে ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে। তবে ইনশাআল্লাহ, ইসরায়েলের পতনের সঙ্গেই আমেরিকা ও ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদের পতনও অনিবার্য হয়ে উঠবে।”




যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আগেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল পারমাণবিক উপকরণ: দাবি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার ঠিক আগে ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু কেন্দ্র থেকে সব পারমাণবিক উপকরণ সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

রোববার রাতে ইরানের ফর্দো, নাতানজ ও ইসফাহান পরমাণু স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, “আমরা ইরানে পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে সফলভাবে হামলা চালিয়েছি। অংশ নেওয়া সব বিমান এখন ইরানি আকাশসীমার বাইরে।”

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ফর্দো পরমাণু কেন্দ্রে মাটির ২৬২ ফুট গভীরে ভারী বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে এবং হামলায় ব্যবহৃত সব বিমান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসছে।

তবে ইরানের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের উপ-রাজনৈতিক পরিচালক হাসান আবেদিনি এক সরাসরি সম্প্রচারে জানান, “হামলার আগেই আমরা ফর্দো, নাতানজ ও ইসফাহান কেন্দ্রগুলো খালি করে ফেলেছিলাম। পারমাণবিক উপকরণ আগেই নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। ফলে বড় ধরনের কোনো ক্ষতির আশঙ্কা নেই।”

এই ঘটনাকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক মহলে চলমান আলোচনা ও কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।




ইরানে হামলায় তীব্র নিন্দা, ইসরায়েলকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার আহ্বান বাংলাদেশের

ইরানের ওপর ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক জবাবদিহিতার আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। শনিবার (২১ জুন) তুরস্কের ইস্তানবুলে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) আয়োজিত পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ৫১তম সম্মেলনে এ কথা বলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

বক্তব্যে তিনি ইরানে ইসরায়েলের চলমান হামলাকে ‘বেআইনি ও আগ্রাসী’ উল্লেখ করে বলেন, “এই হামলা আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ ও ইরানের সার্বভৌমত্বের মারাত্মক লঙ্ঘন।”

তিনি আরও বলেন, “ইসরায়েলের এ ধরনের বেপরোয়া কর্মকাণ্ড শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্যও হুমকি সৃষ্টি করছে। অবিলম্বে এসব উসকানিমূলক তৎপরতা বন্ধ করতে হবে।”

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মুসলিম দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, কূটনৈতিক উপায়ে ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে সম্মিলিতভাবে শান্তি নিশ্চিত করার জন্য। একইসঙ্গে তিনি বলেন, “ইসরায়েলকে অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।”

এ সময় তিনি ফিলিস্তিনে চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসনেরও কঠোর প্রতিবাদ জানান এবং আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালত (আইসিজে) ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) মাধ্যমে এর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে ওআইসিকে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান।

বক্তব্যে রোহিঙ্গা সংকটও তুলে ধরেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি ওআইসির আইনি উদ্যোগ ও ‘টেন ইয়ার প্রোগ্রাম অব অ্যাকশন’-এ রোহিঙ্গা ইস্যুকে কৌশলগত অগ্রাধিকারের অংশ করায় কৃতজ্ঞতা জানান এবং মিয়ানমারের ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়াতে ও আইসিজেতে চলমান মামলায় অর্থায়নে সহযোগিতার অনুরোধ জানান।

মুসলিম বিশ্বের অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও ইসলামভীতির মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ওআইসিকে আরও কার্যকর ও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, “ওআইসির প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, জবাবদিহিতা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করা এখন সময়ের দাবি।”

সম্মেলনের সাইডলাইনে তিনি মালয়েশিয়া, ইরাক, উজবেকিস্তান ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।

উল্লেখ্য, ওআইসির এই দুদিনব্যাপী পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্মেলনের উদ্বোধন করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় ইরানে ইসরায়েলের আগ্রাসন ইস্যুতে একটি বিশেষ অধিবেশন।




ইজরায়েলকে নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা প্রায় অসম্ভব : এরদোয়ান

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে সবচেয়ে বড় বাধা ইসরায়েল। ইরানের পরমাণু প্রকল্প ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংলাপ বানচাল করতেই ইসরায়েল ইরানে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শনিবার (২১ জুন) ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)-এর সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এরদোয়ান ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “ইরানে ইসরায়েল যা করছে, তা পুরোপুরি গুন্ডামি। নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকার চায় না যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার পরিবেশ তৈরি হোক। সেই কারণেই তারা এই হামলা চালাচ্ছে।”

এরদোয়ান মুসলিম দেশগুলোকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, “বিশ্বের মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আমার আহ্বান— আপনারা যেন জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় থেকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।”

উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন থেকে ইরানে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েল। এ পর্যন্ত ওই অভিযানে অন্তত ৪৩০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ইরানের সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল মোহাম্মদ বাঘেরি ও আরও কয়েকজন সামরিক কমান্ডার। অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে।




সম্ভাব্য ৩ উত্তরসূরির নাম ঘোষণা করলেন খামেনি

ইসরাইলের সম্ভাব্য হত্যাচেষ্টা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি তার সম্ভাব্য তিনজন উত্তরসূরির নাম ঘোষণা করেছেন।

নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানি ধর্মীয় ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, খামেনি ৮৬ বছর বয়সে এমন পদক্ষেপ নিয়েছেন যুদ্ধাবস্থায় উত্তরাধিকারের বিষয়টি দ্রুত ও সুরক্ষিত করতে।

মূল তথ্য:

  • ইসরাইল বা যুক্তরাষ্ট্র তাকে হত্যার চেষ্টা করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন খামেনি।
  • তিনি তার মৃত্যুকে ‘শহীদ’ হওয়ার সম্ভাবনা হিসেবেই দেখছেন।
  • এই প্রেক্ষিতে তিনি বিশেষজ্ঞ পরিষদ (যারা সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করে) কে তার পছন্দের তিনজন ধর্মীয় নেতার নাম দিয়েছেন।
  • যদিও তিনজনের নাম প্রকাশ করা হয়নি, তবে কর্মকর্তারা বলছেন, সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত উত্তরসূরি বাছাইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন খামেনি।
  • সাধারণত এ ধরনের নির্বাচন দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে হয়, কিন্তু বর্তমানে যুদ্ধাবস্থায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে চান তিনি।

এই সিদ্ধান্ত ইরানের নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ রূপ ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে।




ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র গবেষণা কেন্দ্রে হামলা, ইসরায়েলের দাবি

ইরানে ‘পারমাণবিক অস্ত্র প্রকল্পের গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র’ নামে পরিচিত একটি স্থাপনাসহ তেহরানের কয়েক ডজন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।

দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলার অষ্টম দিনে ওই হামলা হয় বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। এএফপি এ তথ্য দিয়েছে।

ইসরায়েলের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা তেহরানের কেন্দ্রস্থলে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- সামরিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র এবং ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র প্রকল্পের গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য প্রতিরক্ষামূলক উদ্ভাবন ও গবেষণা সংস্থার (এসপিএনডি) সদর দপ্তরসহ কয়েকটি স্থাপনা।

বিবৃতিতে বলা হয়, এসপিএনডি সদর দপ্তর ইরান সরকারের সামরিক সক্ষমতা সমর্থনকারী উন্নত প্রযুক্তি এবং অস্ত্রের গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য ব্যবহৃত হয়।

ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর দাবি, বৃহস্পতিবার রাতে ৬০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান কয়েক ডজন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল ক্ষেপণাস্ত্রের উপাদান তৈরির স্থাপনা ও ক্ষেপণাস্ত্র ইঞ্জিন ঢালাইয়ে ব্যবহৃত কাঁচামাল তৈরির স্থাপনা।

রাতভর ইরান থেকে উৎক্ষেপিত চারটি ইউএভিকে প্রতিরোধ করেছে বলে বিবৃতি বলা হয়।

শুক্রবার এক পৃথক বিবৃতিতে সেনাবাহিনী জানায়, তারা ইরানের তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ধ্বংস করেছে।




রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান তারেক রহমানের

রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও সম্মানজনকভাবে নিজ দেশে প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশ সরকার, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং বিভিন্ন দাতা সংস্থার প্রতি সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বিশ্ব শরণার্থী দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এই আহ্বান জানান।

তারেক রহমান বলেন, “বিশ্ব শরণার্থী দিবস একটি আন্তর্জাতিক উপলক্ষ, যা জাতিসংঘের উদ্যোগে প্রতি বছর ২০ জুন পালিত হয়। এই দিনে বিশ্বব্যাপী শরণার্থীদের অবদান ও দুর্দশার প্রতি আন্তর্জাতিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে জাতিগত সহিংসতা এবং রাজনৈতিক নিপীড়নের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এ বাস্তবতায় বিএনপি এই দিবসের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছে এবং শরণার্থীদের মর্যাদাসম্পন্ন স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক উদ্যোগে সক্রিয় সমর্থন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার জানাচ্ছে।

বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, “বাংলাদেশের কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে গড়ে উঠেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী শিবির। সেখানে প্রায় ১৪ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে, যারা মিয়ানমারে জাতিগত নিপীড়নের শিকার হয়ে নিজেদের দেশ ছেড়ে পালিয়ে এসেছে। বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ মানবিক কারণে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। তবে দীর্ঘ আট বছর পরও এই সংকট সমাধানে কোনো স্থায়ী অগ্রগতি হয়নি।”

তারেক রহমান বলেন, “রোহিঙ্গা সংকট বর্তমানে একটি ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে পরিণত হয়েছে। এই সমস্যার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী বাংলাদেশ। তাই সরকারের উচিত সক্রিয় ও কার্যকর কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা, যেন তারা নিরাপদ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি করে।”

তিনি আরও বলেন, “বিশ্ববাসীকে এই সংকটের গভীরতা বোঝাতে হবে। মিয়ানমার কীভাবে রোহিঙ্গাদের বাস্তুচ্যুত করেছে, প্রত্যাবাসনের বিষয়ে বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে—এসব বিষয় আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরতে হবে।”

বিবৃতির শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, “রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে আমি বাংলাদেশ সরকার, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং দাতা সংস্থাগুলোর প্রতি আরও কার্যকর সহযোগিতা ও উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি। একইসঙ্গে আমি বিশ্ব শরণার্থী দিবস উপলক্ষে বিশ্বের সব শরণার্থীর প্রতি সংহতি প্রকাশ করছি।”