যুদ্ধ-পরবর্তী প্রথম ভাষণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা খামেনির

ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর জাতির উদ্দেশে প্রথমবারের মতো ভাষণ দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এ ভাষণে তিনি দাবি করেন, “ভুয়া ইহুদিবাদী সরকার” পরাজিত এবং ধ্বংস হয়েছে। সেই সঙ্গে ইরানি জনগণের ঐক্য ও সাহসিকতার প্রশংসা করেন তিনি।

খামেনি বলেন, “আমি আপনাদের অভিনন্দন জানাচ্ছি সেই জয়ের জন্য, যেখানে ইহুদিবাদী সরকার চূর্ণবিচূর্ণ হয়েছে। তারা যতই উচ্চবাচ্য করুক, ইরানের ধাক্কায় পতনের মুখে পড়েছিল।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি জড়িত ছিল। তার ভাষায়, “মার্কিন সরকার বুঝতে পেরেছিল, তারা হস্তক্ষেপ না করলে ইসরায়েলের পতন অনিবার্য। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন কোনো ফল আনেনি। এখানে জয়ী হয়েছে ইরান। আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে চূড়ান্ত আঘাত হেনেছি।”

ইরানি জনগণের একতা ও সাহসিকতার প্রশংসা করে খামেনি বলেন, “৯ কোটির জনগণ আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর পাশে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরানিরা প্রমাণ করেছে, প্রয়োজন হলে তারা সবাই এক হয়ে দাঁড়াতে জানে।”

খামেনি আরও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “ইরানের বিরুদ্ধে কেউ আবার আগ্রাসনের চেষ্টা করলে তাকে চড়া মূল্য দিতে হবে। আমাদের সশস্ত্র বাহিনী শত্রুর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে প্রাণকেন্দ্রগুলোতে আঘাত হেনেছে, যা ইহুদিবাদীরা কল্পনাও করতে পারেনি।”

ভাষণে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় খামেনি বলেন, “ট্রাম্পের দাবি—ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্র ধ্বংস করা হয়েছে—তা সত্য নয়। যুক্তরাষ্ট্র কিছুই অর্জন করতে পারেনি। তারা কাতারের আল-উদেইদ ঘাঁটিতে ইরানের হামলার সত্যতা আড়াল করার চেষ্টা করেছে।”

তিনি জোর দিয়ে বলেন, “ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে আত্মসমর্পণ করতে হবে। কিন্তু আমি স্পষ্ট করে বলছি—আত্মসমর্পণের প্রশ্নই আসে না। আমাদের দেশ শক্তিশালী, আমাদের জনগণ সম্মানিত, এবং তারা বিজয়ী থাকবে ইনশাআল্লাহ।”

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এই ভাষণ ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। যুদ্ধ পরবর্তী সময়ের এ বক্তব্যে খামেনি তার দেশের শক্ত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করলেন।




নেতানিয়াহুকে রক্ষার আহ্বান ট্রাম্পের: “ইসরায়েলকে বাঁচিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র”

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, “আমেরিকাই ইসরায়েলকে বাঁচিয়েছে।” পাশাপাশি তিনি মন্তব্য করেছেন, দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমা করে দেওয়া উচিত এবং যুক্তরাষ্ট্রই তাকে রক্ষা করবে।

বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) এক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড জানায়, নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। তিনি লেখেন, “নেতানিয়াহুর বিচার অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত, অথবা তাঁকে ক্ষমা করা উচিত। কারণ তিনি একজন মহান নায়ক, যিনি ইসরায়েলের জন্য অনেক কিছু করেছেন।”

ট্রাম্প আরও জানান, তিনি খবর পেয়েছেন, আগামী সোমবার নেতানিয়াহুর আদালতে হাজিরার তারিখ রয়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই তিনি এই মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, “ইসরায়েলকে আমরা বাঁচিয়েছি, এবার নেতানিয়াহুকেও রক্ষা করব।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য শুধু একটি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রকাশ নয়, বরং ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক ঘনিষ্ঠ সামরিক সহযোগিতার প্রতিফলন।

বিশেষ করে ইরানের পরমাণু স্থাপনায় ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের নেপথ্য ভূমিকা এবং সরাসরি সহায়তা প্রসঙ্গে ইঙ্গিত করেছেন ট্রাম্প। এতে ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।

এদিকে, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতির মামলাগুলো ইসরায়েলে তীব্র আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। সমালোচকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্য ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তুলতে পারে।

ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ সংকট, গাজা যুদ্ধ, ইরান অভিযানের প্রতিক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে ট্রাম্পের এমন প্রকাশ্য সমর্থন রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




প্রকৃতি নয়, মানুষই পরিবেশ ধ্বংসের জন্য দায়ী : ড. মুহাম্মদ ইউনূস

পৃথিবীর পরিবেশ ধ্বংসের জন্য মানবজাতিই দায়ী বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, “পৃথিবীর সর্বনাশের জন্য যারা দায়ী, তারা আমরা সবাই। আমরা এই অপরাধের আসামি।”

বুধবার (২৫ জুন) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস, জাতীয় পরিবেশ মেলা ও বৃক্ষমেলা ২০২৫-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আজকের পৃথিবী নানা সংকটে জর্জরিত—যুদ্ধবিগ্রহ, প্রযুক্তির অপব্যবহারসহ নানা মানবসৃষ্ট দুর্যোগ সামনে চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। তবে সবচেয়ে বড় বিপর্যয় হচ্ছে জলবায়ু সংকট, যা অনেকেই এখনো উপলব্ধি করতে পারছে না। প্রকৃতির এই বিধ্বংসী রূপ প্রকৃতির দোষ নয়, এটা মানুষের সৃষ্টি। মানুষ প্রকৃতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার কথা, কিন্তু আমরা বরং উল্টো পথে হেঁটে চলেছি।”

তিনি সতর্ক করে বলেন, “জলবায়ু সংকট দৈত্যের মতো সামনে হাজির হচ্ছে। সে হুঙ্কার দিচ্ছে—হয় আমরা থাকব, না হয় তোমরা থাকবে। মানুষ আর প্রকৃতি একসঙ্গে থাকতে পারবে না।”

প্লাস্টিক ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, “প্লাস্টিক আজ পৃথিবীর জলবায়ু, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য—এই তিনটি স্তম্ভেই হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি এমন এক বস্তু যার জন্ম আছে, মৃত্যু নেই। পৃথিবীর সব কিছুর মৃত্যু আছে, কিন্তু প্লাস্টিক বেঁচে থাকে। প্লাস্টিক ব্যবস্থাপনার ঘাটতির কারণে জলাশয়গুলোতে এর ছড়াছড়ি দেখা যাচ্ছে, জীববৈচিত্র্য বিলুপ্তির পথে।”

তিনি বলেন, “প্লাস্টিক আমাদের অসহায়ত্ব দেখে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে হাসছে। আমাদের উদ্যোগহীনতা দেখে তারা জয়গান গাইছে। আমরা দিবস উদযাপন করি, তারপর যথারীতি ঘরে ফিরে প্লাস্টিকই ব্যবহার করি।”

লাইফস্টাইল পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা যদি আমাদের জীবনযাত্রার ধরণ না বদলাই, তাহলে এই যুদ্ধে মানবজাতির পরাজয় অনিবার্য। এই সংকট থেকে কীভাবে বের হব, সেটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।”




আইজিপির সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল এবং অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের প্রতিনিধি ম্যাথিউ ক্র্যাফট।

মঙ্গলবার (২৪ জুন) সকালে পুলিশ সদর দফতরে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ পুলিশ ও অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের মধ্যে **মানবপাচার, অর্থপাচার এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমন** সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করে।

আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, **বাংলাদেশ পুলিশ আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতায় কাজ করতে আগ্রহী এবং ইতিমধ্যে এ বিষয়ে বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।**

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত আইজি মো. গোলাম রসুল, অতিরিক্ত আইজি (অপরাধ ও অভিযান) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম, সিআইডির অতিরিক্ত আইজি মো. ছিবগাত উল্লাহসহ পুলিশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এই সাক্ষাৎ দুই দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করবে বলে আশা প্রকাশ করেন উভয় পক্ষ।




হিজরি নববর্ষে কাবার গিলাফ পরিবর্তন: ইতিহাস, প্রক্রিয়া ও ব্যয়বিবরণ

 

  • কাবার গিলাফ (কিসওয়া) প্রতি বছর হিজরি নববর্ষের রাতে, এশার নামাজের পর পরিবর্তন করা হয়।
  • এর আগে জিলহজ ৯ তারিখ (আরাফার দিন) গিলাফ বদলানো হতো।
  • ২০২২ সাল থেকে এই রীতি বদলে মহররমের ১ম দিনে করা হচ্ছে গিলাফ পরিবর্তন।

গিলাফ তৈরির কারিগরি বিবরণ

  • মোট আয়তন: ৬৫৮ বর্গমিটার
  • রেশম: ৬৭০ কেজি (কালো রঙের)
  • স্বর্ণ: ২১ ক্যারেটের ১২০ কেজি
  • রুপা: ১০০ কেজি
  •  সেলাই: ৪৭টি টুকরোতে ভাগ করা কাপড়
  • কারিগর: শতাধিক দক্ষ কারিগর এবং প্রযুক্তিবিদ অংশ নেন
  • বিশ্বের সবচেয়ে বড় সেলাই মেশিন (১৬ মিটার দৈর্ঘ্য) ব্যবহার করে সেলাই
  • সময় লাগে: গড় ৬-৮ মাস
  • ব্যয়: প্রায় ২৫ মিলিয়ন সৌদি রিয়াল (~৬.৫ মিলিয়ন USD)
  • ওজন: আনুমানিক ৮৫০ কেজি

 পরিবর্তন প্রক্রিয়া

  • বিশেষ সুসজ্জিত গাড়িতে গিলাফ আনা হয়।
  • পুরনো গিলাফ নিচে নামিয়ে নতুন গিলাফের চারটি দিক এবং দরজার অংশ বসানো হয়।
  • নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর পাহারায়, অত্যন্ত গোছানোভাবে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়।

 প্রচার ও ঐতিহ্য

  • অনুষ্ঠানটি মক্কা লাইভ চ্যানেল থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
  • এটি মুসলিম উম্মাহর কাছে গভীর ধর্মীয় অনুভূতির বিষয়।

 প্রশ্ন: পুরনো গিলাফ কী করা হয়?

  • পুরনো গিলাফ সংরক্ষণ করা হয়, কেটে কেটে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম নেতাদের উপহার হিসেবে দেওয়া হয়।
  • কিছু অংশ জাদুঘর বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও রাখা হয় প্রদর্শনীর জন্য।

 গিলাফের তাৎপর্য

  • এটি শুধু একটি কাপড় নয়, বরং মুসলিম বিশ্বের ঐক্য, শ্রদ্ধা ও ঐতিহ্যের প্রতীক।
  • পবিত্র কাবার গিলাফ পরিবর্তনের রীতি মুসলমানদের কাছে হিজরি নববর্ষের এক অনন্য স্মারক।



ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সম্মিলিত হামলায় গভীর উদ্বেগ জামায়াত আমিরের

ইরানের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান।

বিবৃতিতে জামায়াত আমির বলেন, “২১ জুন রাতে ইরানের ভূখণ্ডে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র অতর্কিত হামলা চালিয়ে দেশটির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন করেছে। এটি আন্তর্জাতিক আইন, রীতিনীতি ও জাতিসংঘ সনদের স্পষ্ট অবমাননা।”

তিনি আরও বলেন, “এই হামলা অবৈধ, অযৌক্তিক এবং সম্পূর্ণ আগ্রাসী। এর মাধ্যমে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে, যা বিশ্বশান্তির জন্য হুমকিস্বরূপ।”

বিবৃতিতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নীতিরও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “সম্প্রতি মার্কিন সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির শুনানিতে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড স্বীকার করেছেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না। অথচ সেই মিথ্যা অজুহাতে হামলা চালানো হয়েছে। এটি স্বাধীন রাষ্ট্রের ওপর ভিত্তিহীন ও সরাসরি হামলার উদাহরণ।”

জামায়াত আমির বলেন, “এই আগ্রাসন শুধু ইরান নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন সংঘাতের সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। বিশ্ববাসী এ ঘটনায় হতবাক।”

তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ইরানের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান জানিয়ে এই আগ্রাসন বন্ধে জাতিসংঘসহ বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে দ্রুত কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।”




ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনায় ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যের ১৪ ফ্লাইট বাতিল, বিপাকে যাত্রীরা

ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যের চারটি দেশ তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করায় ঢাকা থেকে অন্তত ১৪টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এতে করে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো যাত্রী, বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

সোমবার রাতে কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), কুয়েত ও বাহরাইন সাময়িকভাবে আগমন ও বহির্গমন—দুই ধরনের ফ্লাইট চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে।

এরপর রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে ঢাকা থেকে এসব গন্তব্যে সব ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দেয়। এর ফলে দোহা, দুবাই, আবুধাবি, কুয়েত ও মানামাগামী যাত্রীরা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হন।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা, কাতার এয়ারওয়েজ, এমিরেটস, ফ্লাইদুবাই, কুয়েত এয়ারওয়েজ ও গালফ এয়ারসহ একাধিক এয়ারলাইন্স তাদের নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল করেছে। যেসব ফ্লাইট যাত্রা শুরু করেছিল, সেগুলো নিরাপত্তার কারণে ঢাকায় ফিরে এসেছে।

যাত্রীদের অভিযোগ, ফ্লাইট বাতিলের তথ্য শেষ মুহূর্তে জানানো হওয়ায় হোটেল খোঁজা, খাবার ও যোগাযোগ নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়েছে তাদের। তবে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রীদের আপাতত ঢাকার বিভিন্ন হোটেলে রাখা হয়েছে এবং ফ্লাইট রিশিডিউলের কাজ চলছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দ্রুত ফ্লাইট চালু করা হবে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের প্রতি নির্ধারিত যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।




কাতারের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতিতে আগ্রহী ইরান: রয়টার্স

মার্কিন প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান, কাতারের মধ্যস্থতায় এই অগ্রগতি এসেছে বলে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে যুদ্ধবিরতিতে যেতে প্রস্তুত তারা। কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান আল থানির সঙ্গে ইরানি কর্মকর্তাদের ফোনালাপের মাধ্যমে এ সম্মতির ভিত্তি তৈরি হয়।

জানা গেছে, সোমবার (২৩ জুন) কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলার পরপরই কাতারের প্রধানমন্ত্রী ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কাতারের প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে ইরানকে যুদ্ধবিরতিতে আনতে আহ্বান জানান। তিনি জানান, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।

তবে এখন পর্যন্ত ইরান কিংবা ইসরায়েল কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়নি।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, দেশটির প্রবাসী মন্ত্রী আমিচাই চিকলি যুদ্ধবিরতি নিয়ে আশাবাদী মন্তব্য করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, “ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে সাহসী সিদ্ধান্তের জন্য ধন্যবাদ। এটি ইতিহাসে সাহস, বিশ্বাস ও নৈতিক স্পষ্টতার নিদর্শন হয়ে থাকবে।”

অন্যদিকে, এর আগে সিএনএনকে দেওয়া এক মন্তব্যে ইরানের একজন কর্মকর্তা বলেছিলেন, তারা যুদ্ধবিরতির কোনো প্রস্তাব পাননি এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রাখবেন।

এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো অনুপস্থিত, তবে কাতারের মধ্যস্থতায় এই সঙ্কট কিছুটা প্রশমিত হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।




পুতিনকে চিঠি দিলেন খামেনি, রুশ সহায়তা চাইল ইরান

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সহযোগিতা চেয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। সোমবার (২৩ জুন) মস্কো সফরে গিয়ে চিঠিটি পুতিনকে হস্তান্তর করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি।

খামেনির চিঠি পুতিনের কাছে পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের দপ্তর ক্রেমলিন। একই দিনে রুশ বার্তাসংস্থা তাস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে ইরান ও রাশিয়া একসঙ্গে অবস্থান সমন্বয়ের কাজ করছে।

মস্কো পৌঁছানোর পর পুতিন ও আরাগচির মধ্যে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে ওই বৈঠকের আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই চিঠি ইরান-রাশিয়ার কৌশলগত সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বিশেষ করে এমন একটি সময়ে যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং ইরান আন্তর্জাতিকভাবে চাপের মুখে রয়েছে।

ইরানি শাসকগোষ্ঠী ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর কখনোই সরাসরি অন্য রাষ্ট্রের কাছে সামরিক বা কৌশলগত সহযোগিতা চায়নি। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে খামেনির এই চিঠি এক যুগান্তকারী রাজনৈতিক ঘটনার ইঙ্গিত বহন করে।

উল্লেখ্য, ১৩ জুন থেকে ইরানে ইসরায়েলের বিমান হামলা শুরু হওয়ার পর থেকেই রাশিয়া এ হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অধিবেশনেও ইরানবিরোধী হামলার কঠোর সমালোচনা করে রাশিয়া। দু’দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় এবার ইরান প্রকাশ্যে মিত্র রাশিয়ার সহায়তা চাইল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।




ইরান কি তাহলে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করতে যাচ্ছে?

সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ স্যোশালে এক পোস্টে বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে এক সতর্কবার্তা দেন। যার কারণে আলোচনায় আসে ইরানের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করা নিয়ে ।

বিশ্বের শীর্ষ গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথগুলোর একটি এই হরমুজ প্রণালী। প্রতিদিন এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বন্দরে পৌঁছায় ২ কোটি ব্যারেল তেল এবং তার সমপরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস। প্রতিদিন বিশ্বজুড়ে যত তেল এবং তরলীকৃত গ্যাস সরবরাহ হয়, তার এক পঞ্চমাংশই যায় এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে।

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল প্রেস টিভি এক প্রতিবেদনে জানায়, দেশটির পার্লামেন্ট ‘হরমুজ প্রণালী বন্ধ’ সংক্রান্ত একটি বিল পাস করেছে। যদিও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।

এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি হুঁশিয়ার করে বলেন, মার্কিন হামলার জন্য ওয়াশিংটনকে ‘গুরুতর পরিণতি’ ভোগ করতে হবে। অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ রোধে বেইজিংয়ের সহযোগিতা চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, “যদি ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে, সেটি হবে তাদের জন্য অর্থনৈতিক আত্মহত্যার শামিল। কারণ, ওই পথ দিয়েই তাদের নিজের তেলও রপ্তানি হয়।”