রোহিঙ্গা, বিনিয়োগ ও যুব উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ

বাংলাদেশে বিনিয়োগ, রোহিঙ্গা সংকটে মানবিক সহায়তা এবং যুব উন্নয়ন—বিশেষ করে শিক্ষাবৃত্তি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধিতে জাপানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাইকার নির্বাহী সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মিয়াজাকি কাতসুরার সঙ্গে এক বৈঠকে এ আহ্বান জানান তিনি।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “জাপান সবসময় বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু। আমি সম্প্রতি জাপান সফরে গিয়ে আতিথেয়তা ও আন্তরিকতায় অভিভূত হয়েছি। আমরা জাপানের সঙ্গে আরও গভীর সহযোগিতা চাই।”

তিনি জাপানে শিক্ষাবৃত্তির সংখ্যা বাড়ানো এবং বাংলাদেশি তরুণদের কর্মসংস্থানে সহায়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। “অনেক তরুণ জাপানে কাজ করতে আগ্রহী, তবে ভাষা একটি বড় বাধা,”—উল্লেখ করে তিনি প্রস্তাব দেন যে, জাপানি ভাষা ও আচরণ শেখাতে শিক্ষক পাঠানো বা অনলাইন দূরশিক্ষার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “হাজার হাজার তরুণ এখন ক্যাম্পে বেড়ে উঠছে কোনো ভবিষ্যৎ আশা ছাড়াই। এ অবস্থায় তারা হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে।” তিনি বিষয়টিকে মানবিক ও নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরেন।

এছাড়া, মাতারবাড়ি প্রকল্পকে দেশের জন্য “ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল” হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি জাপানের চলমান বিনিয়োগকে আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।

জবাবে জাইকার ভাইস প্রেসিডেন্ট মিয়াজাকি কাতসুরা বলেন, “বাংলাদেশ জাপানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।” তিনি জানান, জাইকা ইতোমধ্যে বিচার ব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, স্বাস্থ্য ও আইসিটি খাতে সহায়তা দিচ্ছে এবং ২০২৬ সালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিতে বাংলাদেশকে সমর্থন অব্যাহত থাকবে।

নারী খেলোয়াড়দের উন্নয়ন প্রসঙ্গে ড. ইউনূস বলেন, “আমাদের মেয়েরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য পাচ্ছে। আমরা হোস্টেল সুবিধা বাড়াচ্ছি, তবে আরও সহায়তা দরকার।” মিয়াজাকি জানান, জাপান এরইমধ্যে বিভিন্ন দেশে শিক্ষা ও খেলাধুলায় স্বেচ্ছাসেবক পাঠাচ্ছে এবং বাংলাদেশে এ খাতেও সহযোগিতার কথা বিবেচনায় নেবে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী অর্থনৈতিক সংস্কার, রেলপথ নির্মাণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে জাপানের ১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সেই সঙ্গে ভবিষ্যতে উন্নয়ন সহযোগিতা বাড়িয়ে ৪৫০ বিলিয়ন ইয়েনে উন্নীত করার অনুরোধ জানান।

ড. ইউনূস বলেন, “বাংলাদেশ সবসময় জাপানের বন্ধুত্ব ও অবদানের কথা মনে রাখবে।”




আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের অনুপ্রবেশ; তীব্র নিন্দা ফিলিস্তিনিদের

ইসরায়েল অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত আল-আকসা মসজিদ চত্বরে ঢুকে পড়েছে কয়েক ডজন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার বরাতে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) এসব বসতি স্থাপনকারী অতর্কিতভাবে মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, এসব বসতি স্থাপনকারীরা ইসরায়েলের নাগরিক, যারা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের জমিতে অবৈধভাবে বসতি গড়ে তুলেছে। ইসরায়েলি বাহিনীর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ছায়ায় তারা আল-আকসা মসজিদ চত্বরে প্রবেশ করে এবং সেখানে ধর্মীয় আচারও পালন করে।

আল-আকসা মসজিদ ইসলাম ধর্মের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান। ঐতিহাসিকভাবে মসজিদ চত্বরটি কেবল মুসলিমদের উপাসনার জন্য নির্ধারিত— এমন চুক্তি আছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে। এমনকি জেরুজালেমের প্রধান রাব্বির দপ্তর থেকেও ইহুদিদের এই স্থানে উপাসনা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

তবে দেশটিতে উগ্র জাতীয়তাবাদী ইহুদি গোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান চাপ এই চুক্তির বিরোধিতা করছে। তারা আল-আকসা প্রাঙ্গণের একাংশে সিনাগগ নির্মাণের দাবি জানিয়েছে, যা ফিলিস্তিনিদের তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। পূর্বেও এ ধরনের দাবি ও অনুপ্রবেশ নিয়ে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।




ইরানের ইউরেনিয়ামের অবস্থান অজানা: জাতিসংঘের পরমাণু সংস্থা

ইরানের মজুত রাখা ৪০০ কেজিরও বেশি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বর্তমানে কোথায় রয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে জানে না জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সি (আইএইএ)। রোববার (২৯ জুন) কানাডিয়ান টেলিভিশন নেটওয়ার্ক সিবিএস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য জানিয়েছেন সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসি।

তিনি বলেন, “ইরানের ইউরেনিয়াম কোথায় আছে কিংবা ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের ১২ দিনে তা ধ্বংস হয়েছে কি না— সেটা আমরা বলতে পারি না।”

গ্রসি জানান, ১৩ জুন ইসরায়েল ইরানে বিমান হামলা শুরু করার সময় ইরানের কাছে কমপক্ষে ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম মজুত ছিল, যার বিশুদ্ধতার মাত্রা ছিল ৬০ শতাংশ। উল্লেখ্য, পরমাণু বোমা তৈরির জন্য অন্তত ৯০ শতাংশ বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম প্রয়োজন হয়। তার মতে, ৬০ শতাংশ থেকে ৯০ শতাংশে উন্নীতকরণ খুব কঠিন নয়।

আইএইএ প্রধান আরও বলেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের পারমাণবিক প্রকল্পের কিছুটা ক্ষয়ক্ষতি হলেও তা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়েছে— এমনটা মনে করার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, “সংঘাত শুরুর পর ইসরায়েলের এক সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে আমার কথা হয়। তিনি জানান, ইরান তাদের ইউরেনিয়াম মজুত সরিয়ে ফেলার মতো সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। আমাদের ধারণা, সংঘাতের শুরুর দিকেই ফার্দো থেকে বড় একটি অংশ সরিয়ে ফেলা হয়েছে।”

গ্রসির মতে, ইরান যদি ইউরেনিয়াম মজুত রাখতে সক্ষম হয়ে থাকে, তাহলে কয়েক মাসের মধ্যেই তাদের পরমাণু প্রকল্প ফের সচল হতে পারে। আর যদি সেই মজুত ধ্বংস হয়ে গিয়ে থাকে, তাহলেও নতুনভাবে প্রকল্প চালুর সক্ষমতা ইরানের রয়েছে।

তিনি বলেন, “ইরান জানে কীভাবে পরমাণু বোমা তৈরি করতে হয়। কাজেই তাদের প্রকল্প বন্ধ হয়ে গেলেও তা আবার চালু হবে— এমনটাই আমাদের ধারণা।”




ভারতের বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা: ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বাংলাদেশি বস্ত্র খাত

বাংলাদেশ থেকে কাপড়, পাট ও সুতার পণ্যের আমদানিতে বড় ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ভারত। শুক্রবার (২৭ জুন) দেশটির বৈদেশিক বাণিজ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এক বিবৃতিতে জানান, এসব পণ্য আর স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে পারবে না।

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, “বাংলাদেশ থেকে পাটজাত পণ্য, একাধিক ভাঁজের বোনা কাপড়, একক শণ সুতা, ব্লিচ না করা পাটের কাপড়সহ নির্দিষ্ট কিছু পণ্য শুধুমাত্র মহারাষ্ট্রের নহভা শেভা সমুদ্রবন্দর দিয়ে আমদানি করা যাবে। স্থলবন্দর দিয়ে এসব পণ্য প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।”

এর আগে গত মে মাসেও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল ভারত। সেসময় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক আমদানিতে স্থলবন্দরের পথ বন্ধ রেখে শুধুমাত্র নহভা শেভা ও কলকাতা বন্দরের মাধ্যমে আমদানির অনুমতি দেয় দেশটি। বাংলাদেশ থেকে বছরে প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক ভারতে রপ্তানি হয়ে থাকে। ওই সিদ্ধান্তে তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

তবে নতুন নিষেধাজ্ঞায় নেপাল ও ভুটানে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি রপ্তানি হওয়া পণ্যের ওপর এই বিধিনিষেধ কার্যকর হবে না বলে জানায় ভারতের বাণিজ্য দপ্তর। যদিও এ ক্ষেত্রে শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে— এসব পণ্য যেন পুনরায় ভারতে প্রবেশ করতে না পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, সম্প্রতি ভারত-বাংলাদেশ রাজনৈতিক সম্পর্কে টানাপড়েন এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দিল্লি এই ধরনের বাণিজ্যিক কড়াকড়ি আরোপ করছে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণআন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করে ভারত পালিয়ে যান বলে রাজনৈতিক মহল সূত্রে জানা যায়। এরপর থেকেই নয়াদিল্লি বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে শীতল এবং শত্রুভাবাপন্ন অবস্থানে রয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহল মনে করছে।




ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক বাতিল, পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ

ইরান জানিয়েছে, পারমাণবিক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে কোনো আলোচনা বা বৈঠকের পরিকল্পনা নেই। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, “আমরা যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ছিলাম, তখন তারা ইসরায়েলকে সমর্থন দিয়ে আমাদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা চালানোর সুযোগ করে দেয়। এমন আচরণ কূটনীতির পরিপন্থী এবং এটি আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।”

বার্তাসংস্থা আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আরাগচি আরও অভিযোগ করেন, “সম্প্রতি আলোচনার সময়ে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের জাতীয় অধিকার খর্ব করতে চেয়েছিল এবং ইচ্ছাকৃতভাবে যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়। এমনকি ইসরায়েলি দখলদার শক্তিকে হামলার জন্য উস্কে দেয়।”

তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ঘটনা ঘটেছে, যা ইরানের ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করবে। তবুও তিনি বলেন, “আমরা কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ করছি না। এখনও অনেক দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি।”

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি মন্তব্য করেছিলেন, “আগামী সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।” তবে আরাগচি তা পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, “এ ধরনের কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা বা উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যে পরস্পরবিরোধিতা রয়েছে।”

প্রসঙ্গত, গত ১৩ জুন ইসরায়েল ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও বেসামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর বিমান হামলা চালায়। এতে দুই দেশের মধ্যে টানা ১২ দিন ধরে সংঘর্ষ চলে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এতে ৬০৬ জন নিহত ও ৫ হাজার ৩৩২ জন আহত হন।

উল্টোভাবে, ইরানও ইসরায়েলে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাবে এতে ২৯ জন নিহত এবং আহত হন প্রায় ৩ হাজার ৪০০ জন।

পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাওয়ার আগেই গত ২৪ জুন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় উভয় দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্পন্ন হয়। তবে পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতিকে সাময়িক শান্ত করলেও কূটনৈতিক সমাধান এখনও অনিশ্চিত।




ভারতে মুসলিম নির্যাতন, আতঙ্কে বাংলা ভাষাভাষী মুসলমানেরা

ভারত থেকে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের বিনা বিচারে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। মানবাধিকার সংগঠন ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর দাবি—এই বিতাড়ন প্রক্রিয়া আইনবহির্ভূত ও ধর্মীয় বিদ্বেষপ্রসূত। ইতোমধ্যে দুই দেশের কর্মকর্তারাও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন হিন্দু জাতীয়তাবাদী সরকার দীর্ঘদিন ধরেই অভিবাসন ইস্যুতে, বিশেষ করে বাংলাদেশি মুসলমানদের ব্যাপারে কঠোর নীতি অনুসরণ করছে। বিভিন্ন সময় সরকারি ভাষ্যে অভিবাসীদের ‘উইপোকা’ ও ‘অনুপ্রবেশকারী’ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

এমন অবস্থার প্রেক্ষাপটে ভারতজুড়ে প্রায় ২০ কোটির মতো মুসলমান, বিশেষ করে বাংলা ভাষাভাষী মুসলমানদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

মুসলমানরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে

ভারতের বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী হর্ষ মন্দার বলেন, “দেশের পূর্বাঞ্চলে বসবাসরত মুসলমানদের মধ্যে ভীষণ ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তাদের অনেকেই মনে করছেন, তারা যেন এখন নিজের দেশেই অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে গেছেন।”

তিনি বলেন, “এই বিতাড়ন প্রক্রিয়া শুধু বেআইনিই নয়, এটি একটি সুপরিকল্পিত জাতিগত টার্গেটিং, যেখানে ধর্মীয় পরিচয়কে প্রধান বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।”

কাশ্মির হামলার পর দমন-পীড়ন জোরদার

গত ২২ এপ্রিল ভারতশাসিত কাশ্মিরে এক হামলায় ২৬ জন নিহত হন, যাদের বেশিরভাগই হিন্দু তীর্থযাত্রী। ভারত এই হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করলেও ইসলামাবাদ তা সরাসরি অস্বীকার করে। এরপর থেকেই ভারতজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা অভিযান শুরু হয়।

এই অভিযানে হাজার হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অনেক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুসলিমকে সীমান্তে নিয়ে গিয়ে বন্দুকের মুখে জোর করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ভারত সরকারের দাবি: ‘অবৈধ অভিবাসী’

ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, যাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে তারা ‘অবৈধ অভিবাসী’। তবে মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবীদের মতে, কোনো প্রকার বিচার বা আইনানুগ প্রক্রিয়া ছাড়াই মানুষদের এভাবে বিতাড়ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের সামিল।

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে টানাপোড়েন

২০২৪ সালে বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের পর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। অতীতে ভারত ঘনিষ্ঠ মিত্র থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কেও অস্বস্তির সুর দেখা দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও জাতিগত উত্তেজনার প্রভাবে ভারতের এই ধরণের পদক্ষেপ দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।




“গাজায় আমাদের সামরিক অভিযান ব্যর্থ হয়েছে” — ইসরায়েলের বিরোধী নেতা

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদ। তিনি বলেছেন, “এই যুদ্ধ কেবল একটি অচলাবস্থার দিকে ঠেলে দিয়েছে,”— এবং দ্রুত এই অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে।

বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে লাপিদ বলেন, “গাজায় আমরা যা করছি, তা আর কাজ করছে না। এটি আর কোনো সমাধান দিচ্ছে না। এখন সময় এসেছে এই সামরিক অভিযান থামানোর। যখন কোনো কৌশল ব্যর্থ হয়— তখন তা পরিত্যাগ করাই যুক্তিসংগত।”

হামাস হামলার জবাবে অভিযান, প্রাণ গেল ৫৬ হাজারের বেশি

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের যোদ্ধারা ইসরায়েলে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ১ হাজার ২০০ জনকে হত্যা করে এবং আরও ২৫১ জনকে জিম্মি করে নিয়ে যায়। এর জবাবে সেদিন থেকেই গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত গাজায় নিহত হয়েছেন ৫৬,৩৬৫ জন, আহত হয়েছেন ১,৩২,২৩৯ জন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, নিহতদের মধ্যে বিপুল সংখ্যক নারী ও শিশুও রয়েছে।

যুদ্ধবিরতির পরও ফের হামলা, বাড়ছে মানবিক সংকট

চলমান চাপের মুখে ২০২৫ সালের ১৯ জানুয়ারি গাজায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেও, মাত্র দুই মাসের মাথায় গত ১৮ মার্চ আইডিএফ আবারও হামলা শুরু করে। এর পাশাপাশি গাজায় খাদ্য ও জরুরি ত্রাণসামগ্রী প্রবেশেও বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ, যার ফলে সেখানে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।

ইসরায়েলের দাবি, হামাসের হাতে যেসব জিম্মি রয়েছে, তাদের উদ্ধারের লক্ষ্যেই নতুন করে অভিযান চালানো হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এখনো অন্তত ৩৫ জন ইসরায়েলি নাগরিক জীবিত অবস্থায় গাজায় বন্দি রয়েছেন।

“জিম্মিদের উদ্ধারই এখন অগ্রাধিকার হওয়া উচিত”

গাজায় ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে কোনো লাভ হচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন লাপিদ। তিনি বলেন, “আমাদের নাগরিকরা এখনও গাজায় বন্দি। এই যুদ্ধ থেকে আমরা আর কী পাচ্ছি, তা কেউই স্পষ্টভাবে বলতে পারছে না। বরং এখন জিম্মিদের উদ্ধারে পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া উচিত।”

আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে

ইসরায়েলের চলমান অভিযানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় একাধিকবার প্রতিবাদ জানিয়েছে। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)-তে মামলাও দায়ের করা হয়েছে।

মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র, মিসর ও কাতার। তারা একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিলেও, এখন পর্যন্ত তেল আবিব কিংবা হামাস কেউই সেই প্রস্তাবে আনুষ্ঠানিক সম্মতি দেয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এবং আন্তর্জাতিক চাপের ফলে এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলেও ফলাফল এখনও অনিশ্চিত।




ইরানের প্রতি সংহতি প্রকাশে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা, কৃতজ্ঞতা জানাল তেহরান

ইসরায়েল ও তার মিত্রদের সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সরকার, জনগণ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অবস্থানকে স্বাগত জানিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে ঢাকায় অবস্থিত ইরান দূতাবাস। বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে এ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণ, শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মী এবং সরকারের পক্ষ থেকে যে সহানুভূতিপূর্ণ বিবৃতি, বক্তৃতা ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে সংহতি জানানো হয়েছে, তা মানবিকতা, ন্যায়বিচার ও জাতীয় মর্যাদার প্রতি গভীর অঙ্গীকারের প্রতিফলন।”

“সংহতি একটি নৈতিক দায়িত্ব” — ইরান

ইরানি দূতাবাসের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “ইরানি জনগণের প্রতিরোধ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি জাতীয় ইচ্ছাশক্তির প্রকাশ। আমাদের বিশ্বাস, আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় প্রতিরোধ শুধু বৈধ অধিকারই নয়, এটি এক ধরনের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব।”

ইসরায়েল ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে ইরানের চলমান অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘনের প্রতিবাদে বাংলাদেশের অবস্থান যে বার্তা দিয়েছে, তা বিশ্ববাসীর কাছে এক স্পষ্ট ও শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া বলেও উল্লেখ করা হয়।

“বাংলাদেশের সংহতি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে”

ইরান দূতাবাস জানায়, “বিশ্বব্যাপী সহিংসতা, আগ্রাসন ও সম্প্রসারণবাদের মোকাবিলায় পারস্পরিক সংহতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন সময়ে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানো একটি মূল্যবান পদক্ষেপ।”

বিজ্ঞপ্তির শেষাংশে বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আবারও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলা হয়, “বাংলাদেশ ও ইরান দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বন্ধনে আবদ্ধ। এই সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও দৃঢ় হবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।”




ভারতের ‘স্বার্থ অনুযায়ী’ গঙ্গা চুক্তির নতুন খসড়া, উদ্বেগে বাংলাদেশ

আগামী বছর মেয়াদ শেষ হতে চলেছে বাংলাদেশ-ভারত গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির। এর আগে চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন বার্তা দিয়েছে ভারত। নয়াদিল্লি জানিয়েছে, তারা ‘নিজেদের স্বার্থ অনুযায়ী’ নতুন একটি গঙ্গা চুক্তির ব্যাপারে চিন্তা করছে। বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ইকোনোমিক টাইমস একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু নদ পানি চুক্তি পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ-ভারত গঙ্গা চুক্তিও নতুন করে পর্যবেক্ষণে নিচ্ছে ভারত সরকার। এতে বর্তমান চুক্তির বিকল্প, পরিবর্তন বা সম্পূর্ণ নতুন কাঠামোর চিন্তা করছে তারা। ভারতের যুক্তি, দেশটির কৃষি, সেচ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ উন্নয়নমূলক খাতে পানির চাহিদা অনেক বেড়েছে। ফলে বর্তমান চুক্তি তাদের প্রয়োজন মেটাতে পারছে না।

৩০ বছরের গঙ্গা চুক্তি শেষ হবে ২০২৬-এ

১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ভারতের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি হয়। এটি ছিল একটি ৩০ বছরের চুক্তি, যার মেয়াদ শেষ হবে ২০২৬ সালে। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ফারাক্কা বাঁধে পানি প্রবাহ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করে ভারত।

বিশেষ করে ১১ মার্চ থেকে ১১ মে পর্যন্ত সময়ে, দুই দেশ প্রতি ১০ দিনের জন্য ৩৫ হাজার কিউসেক হারে পানি পাবে বলে চুক্তিতে উল্লেখ ছিল। কিন্তু ভারতের বর্তমান পরিকল্পনায় এই পরিমাণ আরও ৩০-৩৫ হাজার কিউসেক বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।

কৃষি ও সেচের জন্য বাড়তি পানি দাবি

ইকোনোমিক টাইমস জানিয়েছে, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার উভয়ই নতুন পানি বণ্টন কাঠামোতে সম্মত। তারা বলছে, সেচ, নদী নৌচলাচল ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রয়োজনে তাদের আরও বেশি পানির দরকার।

ফারাক্কা বাঁধ এবং বাংলাদেশের উদ্বেগ

উল্লেখ্য, গঙ্গা নদীর ফারাক্কা বাঁধটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত এবং এটি বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে। বাঁধটি ১৯৭৫ সালে চালু করে ভারত, যার মাধ্যমে গঙ্গার পানি হুগলি নদীতে প্রবাহিত করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল কলকাতা বন্দরের নৌ চলাচল সচল রাখা।

বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, শুষ্ক মৌসুমে ফারাক্কা বাঁধে পানি আটকে রাখার ফলে দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে পানি সংকট দেখা দেয়, যা কৃষি ও পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

চুক্তি নিয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার দাবি

বিশ্লেষকরা বলছেন, পানিবণ্টনের মতো স্পর্শকাতর ইস্যুতে একতরফা সিদ্ধান্ত না নিয়ে উভয়পক্ষের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে সমঝোতার ভিত্তিতে নতুন চুক্তির আলোচনা হওয়া উচিত। অন্যথায় বিষয়টি দুই দেশের সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।




ইরানি জনগণের প্রতিরোধ জাতীয় ঐক্য ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতীক: বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

ইরানি জনগণের প্রতিরোধকে দেশের জাতীয় ইচ্ছাশক্তির প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেছে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান। এক সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই প্রতিরোধ ইরানের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় জনগণের দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রকাশ, যা আধিপত্যবাদ ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে একটি স্পষ্ট ও শক্ত বার্তা বহন করে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরান দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ শুধু একটি বৈধ অধিকার নয়, বরং একটি নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। এ ধরনের প্রতিরোধ বিশ্বে ন্যায়বিচার ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য।

ইরান আরও জানিয়েছে, সহিংসতা, আগ্রাসন এবং সম্প্রসারণবাদী নীতির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জাতিসমূহের মধ্যে সংহতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রসঙ্গে ইরান বাংলাদেশের জনগণের মূল্যবান সমর্থন ও সংহতি প্রদর্শনের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে এবং এই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫