ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার মিশনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু

ঢাকায় তিন বছরের জন্য জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের একটি মিশন আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে। মানবাধিকার সুরক্ষা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ও জাতিসংঘ হাইকমিশনের মধ্যে সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) সই হয়েছে।

শুক্রবার (১৮ জুলাই) জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনের প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মানবাধিকার প্রচার ও সুরক্ষায় সহযোগিতার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ও জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশন তিন বছরের মিশন খোলার সিদ্ধান্ত নেয়। এ চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং জাতিসংঘের হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক স্বাক্ষর করেন।

হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক বলেন, “এই সমঝোতা স্মারক মানবাধিকারের প্রতি উভয় পক্ষের অঙ্গীকারের একটি শক্ত বার্তা বহন করে। এটি আমাদের সুপারিশ বাস্তবায়ন এবং বাংলাদেশে মৌলিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় সক্রিয় সহযোগিতা করার সুযোগ এনে দেবে।”

তিনি আরও বলেন, “নতুন মিশন সরকারের পাশাপাশি নাগরিক সমাজ ও অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে সরাসরি মাঠপর্যায়ে কাজ করতে পারবে। এতে তথ্য, প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তার মাধ্যমে মানবাধিকার বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।”

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, চুক্তিটি আনুষ্ঠানিক বৈঠকে নয়, বরং প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সই করা হয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম ঢাকা থেকে চুক্তিতে স্বাক্ষর করে জেনেভায় পাঠান, যেখানে হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক স্বাক্ষর করেন।

প্রাথমিকভাবে মিশনটির কার্যকাল তিন বছর হলেও পরে চুক্তি নবায়নের সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।

জাতিসংঘ মানবাধিকার অফিস জানিয়েছে, নতুন এই মিশন সরকারের বিভিন্ন সংস্থাকে প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি মানবাধিকার রক্ষায় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও কাজ করবে।




“চীন সফর শেষে ঢাকায় জামায়াত নেতারা, বিমানবন্দরে চীনা রাষ্ট্রদূতের অভ্যর্থনা”

চীন সফর শেষে মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) রাতে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তার নেতৃত্বে ৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গত ১১ জুলাই চীন সরকারের আমন্ত্রণে দেশটি সফরে যান।

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে জামায়াত আমিরকে স্বাগত জানায় ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাসের একটি প্রতিনিধি দল। চীনের রাষ্ট্রদূত মি. ইয়াও ওয়েনের নেতৃত্বে দলটি জামায়াত নেতাকে ফুলের তোড়া দিয়ে অভ্যর্থনা জানায়।

বিমানবন্দরের বাইরে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তবে তারা সফর নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তখন প্রকাশ করেননি।

জামায়াতের অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারাও এসময় বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন সংগঠনের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, অ্যাডভোকেট মোয়াযযম হোসাইন হেলাল ও এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ মো. সাহাবুদ্দিন, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মো. সেলিম উদ্দিন ও দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন প্রমুখ।

সফরের উদ্দেশ্য ও অর্জন বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে জামায়াত শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে বিবৃতি দেবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।




“ড. ইউনূসকে রোম সফরের আমন্ত্রণ আর্চবিশপের”

ক্যাথলিক চার্চের দূত ও অ্যাপোস্টলিক নুনসিও আর্চবিশপ কেভিন এস. র‌্যান্ডাল আন্তঃধর্মীয় সংলাপ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন আর্চবিশপ র‌্যান্ডাল। এ সময় তিনি আগামী ৬ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য আন্তঃধর্মীয় সংলাপে অধ্যাপক ইউনূসকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

আর্চবিশপ র‌্যান্ডাল এই অনুষ্ঠানে একদিকে একাডেমিক আলোচনা এবং অন্যদিকে বাস্তব সংলাপের মাধ্যমে সমাজের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্প্রীতির বার্তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে “সহনশীলতা, সম্প্রীতি ও বন্ধুত্বের সংস্কৃতি গড়ে তোলা।”

সাক্ষাৎকালে তিনি প্রধান উপদেষ্টাকে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে রোমে অনুষ্ঠিতব্য ফ্রাতেল্লি তুত্তি ফাউন্ডেশনের এক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণও জানান।

আমন্ত্রণের জন্য অধ্যাপক ইউনূস আর্চবিশপ র‌্যান্ডালকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “এটি একটি বড় উদ্যোগ। আমি আপনাদের সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করি।”




নারায়ণগঞ্জে ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন: মেঝেতে উপদেষ্টা, চেয়ারে শহীদ পরিবার—শ্রদ্ধার ব্যতিক্রমী নজির

নারায়ণগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে নির্মিত দেশের প্রথম ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’-এর উদ্বোধন। তবে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল—মঞ্চে শহীদদের মা-বাবা ও স্বজনেরা বসেছিলেন চেয়ারে, আর মেঝেতে বসেছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পাঁচ উপদেষ্টা, রাজনৈতিক নেতা এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারা। শহীদ পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের এই অনন্য উদ্যোগ অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবার মাঝে দাগ কেটে যায়।

সোমবার (১৪ জুলাই) বিকেলে নগরীর হাজীগঞ্জ এলাকায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করতে নানা আয়োজনের পাশাপাশি ছিল বক্তব্যপর্ব। বক্তব্যে বিভিন্ন উপদেষ্টা ও বক্তারা শহীদদের আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং বিচার নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বিচার হবে এই সরকারের আমলেই: আসিফ নজরুল

স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনের পর বক্তব্য রাখেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, “জুলাই আন্দোলনের গণহত্যার বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পূর্ণ গতিতে চলছে। এই সরকারের শাসনামলেই সেই বিচার সম্পন্ন হবে—এ বিষয়ে আমি দৃঢ়ভাবে আশাবাদী।”

শহীদ পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনাদের চোখের সামনে আপনাদের ভাইদের চোখ তুলে নেওয়া হয়েছে, অঙ্গহানি করা হয়েছে। এই নির্মম, জঘন্য গণহত্যার বিচার হবেই।”

ফ্যাসিবাদবিরোধী জাদুঘর করার উদ্যোগ: আদিলুর রহমান খান

শিল্প এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান জানান, দেশের বিভিন্ন জেলায় ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গণভবনকে একটি ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী জাদুঘর’ হিসেবে গড়ে তোলার কাজও এগিয়ে চলছে। তিনি বলেন, “৫ আগস্টের আগেই এটির উদ্বোধন করা হবে। এটা স্বৈরাচারের ঠিকানা ছিল—এখন আমরা সেটিকে ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবে রূপান্তর করতে চাই।”

তিনি আরও জানান, শহীদদের কবরগুলো সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। “সংগ্রামের ধারা আমরা শেষ করতে পারব না, সেটা আপনাদের হাতে তুলে দিচ্ছি,”—বলেন তিনি।

“৫৬ জন শহীদের মধ্যে ২১ জন ছিলেন নারায়ণগঞ্জের”: রিজওয়ানা হাসান

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “আমাদের ছাত্র-জনতা এ দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করেছে। ৫৬ জন শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা এই অর্জন পেয়েছি, যার ২১ জনই ছিলেন নারায়ণগঞ্জের সন্তান।”

তিনি বলেন, “এই আত্মত্যাগ আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা। জুলাই যেন কখনো ভুলে না যাই।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শহীদ পরিবারের সদস্যরা, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা, পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।




গ্লোবাল সুপার লিগে বড় ব্যবধানে হারের স্বাদ সাকিবদের

গ্লোবাল সুপার লিগের (জিএসএল) দ্বিতীয় আসরের দ্বিতীয় ম্যাচেই বড় ব্যবধানে হারের মুখ দেখেছে সাকিব আল হাসানের দল দুবাই ক্যাপিটালস। গায়ানার প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বৃষ্টি বিঘ্নিত এই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ান ফ্র্যাঞ্চাইজি হোবার্ট হ্যারিকেন্স ৭ উইকেট ও ১৮ বল হাতে রেখেই জয় তুলে নেয়।

টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৪১ রান তোলে দুবাই ক্যাপিটালস। ব্যাট হাতে এদিন হতাশ করেন বাংলাদেশের তারকা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। তিনি ৫ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ১০ বলে মাত্র ৭ রান করে মোহাম্মদ নবির বলে জ্যাক দোরানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন। সাকিবের উইকেট পতন ঘটে দলের ৫৫ রানে।

দুবাই ক্যাপিটালসের হয়ে সর্বোচ্চ ৩১ রান করেন অধিনায়ক গুলবাদিন নাইব, তিনি ২৭ বল মোকাবিলা করেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৫ রান আসে আফগান ব্যাটার সেদিকুল্লাহ আতালের ব্যাট থেকে।

১৪২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল হোবার্ট হ্যারিকেন্স। ম্যাকঅ্যালিস্টার রাইট করেন ৪৭ বলে ৫০ রান। অধিনায়ক বেন ম্যাকডারমট খেলেন ২৪ বলে ৪৮ রানের ঝোড়ো ইনিংস। শেষদিকে জ্যাক দোরান অপরাজিত ২৩ বলে ২৩ রান করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন।

বল হাতেও এদিন সাফল্য পাননি সাকিব। বাঁহাতি এই স্পিনার ৪ ওভারে ৩৪ রান খরচ করলেও কোনো উইকেট তুলতে পারেননি।

প্রসঙ্গত, জিএসএলের এবারের আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই সাকিবের নেতৃত্বে জয়ে শুভ সূচনা করেছিল দুবাই ক্যাপিটালস। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে এসে তাদের পারফরম্যান্সে ছন্দপতন ঘটে।




ট্রাম্পের নতুন শুল্ক, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আয় ৩০ হাজার কোটি ডলারে উঠতে পারে

চলতি বছর এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ১০০ বিলিয়ন বা ১০ হাজার কোটি ডলার শুল্ক আয় করেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্কের কারণে ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ এই আয় ৩০০ বিলিয়ন বা ৩০ হাজার কোটি ডলারে উঠতে পারে।

হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বক্তব্য দিতে গিয়ে স্কট বেসেন্ট বলেন, ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতির কল্যাণে মূল আয় শুরু হয়েছে বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে। অর্থাৎ গত ২ এপ্রিল পাল্টা শুল্ক আরোপের পর ৯ এপ্রিল তা স্থগিত করে যখন ১০ শতাংশ অতিরিক্ত ন্যূনতম শুল্ক আরোপ করেন, তার পর থেকে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও গাড়িতেও শুল্ক আরোপ করেন তিনি।

স্কট বেসেন্ট বলেন, তাই ধারণা করা যায়, বছরের শেষে শুল্ক আয়ের পরিমাণ ৩০০ বিলিয়ন বা ৩০ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। দেশটির অর্থ বিভাগের একজন মুখপাত্র বলেন, এই ৩০ হাজার কোটি ডলারের লক্ষ্যমাত্রা ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়া পঞ্জিকা বছরের জন্য ধরা হয়েছে, সরকারের অর্থবছরের (যা শেষ হয় ৩০ সেপ্টেম্বর) জন্য নয়।

সংবাদে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালেই যদি ৩০০ বিলিয়ন বা ৩০ হাজার কোটি ডলারে উঠে যায়, তাহলে বোঝা যাবে আগামী দিনগুলোতে শুল্ক আদায়ের গতি অনেক বেড়ে যাবে। অর্থাৎ এখনকার তুলনায় শুল্ক আদায় অনেকটা বেড়ে যাবে।

বেসেন্ট আরও বলেন, কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের অনুমান, আগামী ১০ বছরে শুল্ক থেকে আয় হবে প্রায় ২ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন বা ২ লাখ ৮০ হাজার কোটি ডলার। কিন্তু তাঁর অনুমান, এই হিসাব বাস্তবতার তুলনায় অনেক কম, অর্থাৎ রক্ষণশীল হিসাব

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগ জানায়, মে মাসে রেকর্ড পরিমাণ শুল্ক আদায় হয়েছে। এই সময় মোট ২২ দশমিক ৮ বিলিয়ন বা ২ হাজার ২৮০ কোটি ডলার আয় হয়েছে। এই অঙ্ক আগের বছরের মে মাসের তুলনায় প্রায় চার গুণ। সেবার শুল্ক আদায় হয়েছিল ৬২০ কোটি ডলার।

২০২৫ অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে মোট শুল্ক আদায় হয়েছে ৮৬ দশমিক ১ বিলিয়ন বা ৮ হাজার ৬১০ কোটি ডলার। আর ২০২৫ পঞ্জিকা বর্ষের প্রথম ৫ মাসে আদায় হয়েছে ৬৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন বা ৬ হাজার ৩৪০ কোটি ডলার।

আগামী শুক্রবার জুন মাসের বাজেট দেবে দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়। ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে শুল্ক আদায়ে বড় প্রবৃদ্ধির তথ্য উঠে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ৩০ জুন পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, অর্থবছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত শুল্ক ও আবগারি শুল্ক মিলিয়ে মোট আদায় হয়েছে ১২২ বিলিয়ন বা ১২ হাজার ২০০ কোটি ডলার।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, তামার ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে—আবাসন, ইলেকট্রনিকস, যানবাহন, বিদ্যুৎব্যবস্থা ও সামরিক সরঞ্জামে এই ধাতু বহুল ব্যবহৃত। ট্রাম্প আরও জানান, সেমিকন্ডাক্টর ও ওষুধের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আসছে।




নেতানিয়াহুর সঙ্গে আবারও বৈঠকে ট্রাম্প, যুদ্ধবিরতি নিয়ে আশাবাদী

গাজায় যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বৈঠকে বসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক ঘিরে নতুন করে আশাবাদ দেখা দিয়েছে কূটনৈতিক মহলে।

বৈঠকটি গণমাধ্যমের জন্য উন্মুক্ত না থাকলেও সূত্র বলছে, গাজায় চলমান সংঘাত, যুদ্ধবিরতি এবং জিম্মিদের মুক্তি নিয়ে দুই নেতা গভীর আলোচনা করেছেন। এদিকে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, “ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে চুক্তি নিয়ে যে ব্যবধান ছিল, তা কমে এসেছে। এখন আমরা একটিমাত্র মূল ইস্যুতে অবস্থান করছি।”

এর আগে একই দিনে নেতানিয়াহু দেখা করেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে। সোমবার (৮ জুলাই) নেতানিয়াহু প্রথমবারের মতো ট্রাম্পের সঙ্গে নৈশভোজে মিলিত হন। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এটি নেতানিয়াহুর তৃতীয় যুক্তরাষ্ট্র সফর।

বৈঠকের পর নেতানিয়াহু বলেন, “আমি মনে করি না গাজায় আমাদের সামরিক অভিযান শেষ হয়েছে। আমাদের এখনো কাজ শেষ করতে হবে। সব জিম্মিকে মুক্ত করতে হবে এবং হামাসের সামরিক ও প্রশাসনিক শক্তি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করতে হবে।”

বিশেষ দূত উইটকফের ভাষ্যমতে, “আগে চারটি বড় বাধা ছিল চুক্তির পথে। এখন আমরা সেগুলো সংকুচিত করে একটিতে এনেছি। আশা করছি, খুব শিগগিরই দুই পক্ষ একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হবে।”

এই আলোচনাকে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজাবাসীর জন্য আশার আলো হিসেবেই দেখছেন মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক বিশ্লেষকরা। যদিও সামরিক অভিযান ও কূটনীতির দ্বৈতচাপে এই প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত নয়।

এস এল টি / আন্তর্জাতিক নিউজ২৪.কম




অবশেষে জনসম্মুখে আসলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা

ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষ শুরুর পর দীর্ঘ ১২ দিন জনসমক্ষে অনুপস্থিত থাকার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে উপস্থিত হয়েছেন। শনিবার (৫ জুলাই) পবিত্র আশুরার আগের দিন তেহরানের ইমাম খোমেইনি মসজিদে আয়োজিত এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে তাকে দেখা যায়। এই উপস্থিতি ইরানি জনগণের মধ্যে ব্যাপক আবেগঘন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে প্রচারিত হয়।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, খামেনি প্রবীণ শিয়া ধর্মীয় নেতা মাহমুদ কারিমিকে অনুরোধ করছেন দেশাত্মবোধক গান “ও ইরান” পরিবেশনের জন্য, যা সাম্প্রতিক সংঘর্ষে বিশেষ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এই গান এবং খামেনির উপস্থিতি, উভয়ই ইরানিদের মনে সাহস ও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

১৩ জুন শুরু হওয়া ইরান-ইসরায়েল সংঘর্ষে ইরানের উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা ও পরমাণু বিজ্ঞানীদের নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে, ইরান ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা চালায়। এরপর ২২ জুন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইসরায়েলের পক্ষে যুদ্ধে অংশ নেয় এবং ইরানের ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু স্থাপনায় আঘাত হানে। অভিযানে অংশ নেয় ১২৫টি মার্কিন যুদ্ধবিমান। এই যুদ্ধে ইতোমধ্যে ৯০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানের বিচার বিভাগ।

যুদ্ধ চলাকালীন খামেনিকে জনসমক্ষে দেখা না যাওয়ায় বিভিন্ন মহলে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে তিনি গোপন বাংকারে আশ্রয় নিয়েছেন। যদিও তিনি এ সময়ের মধ্যে তিনটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন, তবুও সরাসরি তার দেখা না পাওয়ায় উদ্বেগ দেখা দেয়। অবশেষে আশুরার আগের দিন তার সরাসরি উপস্থিতি সেই সকল গুজব ও শঙ্কার অবসান ঘটিয়েছে।

প্রতিবছর আশুরার ধর্মীয় অনুষ্ঠানে খামেনির উপস্থিতি নিয়মিত ঘটনা হলেও এবার যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি ভিন্ন মাত্রা তৈরি করেছিল। তবে এবারও তিনি উপস্থিত থেকে তার নেতৃত্ব ও মনোবলের বার্তা দিয়েছেন। আশুরা মুসলমানদের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ দিন, যেদিন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র ইমাম হোসেইন (রা.) কারবালার প্রান্তরে শহীদ হন। শোকাবহ এই দিনে খামেনির উপস্থিতি ইরানি সমাজে আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিকভাবে গভীর প্রভাব ফেলেছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




বিশ্বের ১২ দেশের ওপর শুল্ক আরোপ; চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র প্রথম দফায় বিশ্বের ১২টি দেশের জন্য নতুন শুল্ক হার নির্ধারণ করেছে। এ সংক্রান্ত একটি সরকারি চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

শনিবার (৫ জুলাই) নিউজার্সিতে যাওয়ার পথে প্রেসিডেন্টের বিমান সফরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প জানান, শুল্ক নির্ধারণ সংক্রান্ত চিঠিতে তিনি ইতোমধ্যেই স্বাক্ষর করেছেন এবং আগামী সোমবার (৭ জুলাই) প্রকাশ করা হবে কোন কোন দেশের পণ্যে নতুন হারে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, “এই সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য—না হয় প্রত্যাখ্যানযোগ্য। এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান কঠোর।”

এর আগে গত এপ্রিল মাসে ট্রাম্প প্রশাসন ঘোষণা দেয়, যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর বেশি শুল্ক আরোপ করছে, তাদের জন্য পারস্পরিক শুল্ক আরোপ করা হবে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার নির্দিষ্ট ১২টি দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক বসানো হলো।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সব দেশের জন্য ন্যূনতম ১০ শতাংশ এবং কিছু কিছু দেশের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এমন সিদ্ধান্তের ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের মন্তব্য।

তবে চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ৯০ দিনের জন্য শুল্ক কার্যকরের সময়সীমা স্থগিত করেছিল। আগামী ৯ জুলাই সেই সময়সীমা শেষ হচ্ছে। এরপর থেকে শুল্ক কার্যকর হতে শুরু করবে। ট্রাম্প সতর্ক করে দিয়েছেন, কিছু দেশের ক্ষেত্রে এই হার ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে এবং তা আগামী ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হতে পারে।

ট্রাম্প জানান, ১২টি দেশের প্রতিটির জন্য পৃথকভাবে শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। কারও ওপর বেশি, আবার কারও ওপর তুলনামূলক কম হারে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

তবে শুল্ক আরোপের বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাপানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা এখনও প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি বলে জানা গেছে। বাকিদের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে বলেও জানায় হোয়াইট হাউস।




তিস্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ভারতকে সঙ্গে নিয়ে সমাধানের চেষ্টা চলছে; পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন নিয়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো টালবাহানা চলছে না বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, এই সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমেই অগ্রসর হচ্ছে এবং ইতিবাচক সমাধানের চেষ্টা করছে।

বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সম্প্রতি কুড়িগ্রামের ঘোষপাড়ায় আয়োজিত এক পথসভায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেন, তিস্তা প্রকল্প নিয়ে কোনো ধরনের টালবাহানা মেনে নেওয়া হবে না। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “টালবাহানার কিছু নেই। আমরা গত ১৫-২০ এমনকি ৩০ বছরেও ভারত থেকে খুব বেশি ইতিবাচক অগ্রগতি পাইনি। বহু বছর আগে একবার ইতিবাচক মতামত এসেছিল, তখন আমরা গ্রহণ করিনি। এখনো আলোচনা চলমান আছে।”

তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের বিষয় কেবল দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান সম্ভব। আমরা চেষ্টা করছি, কতটা সফল হতে পারি সেটা সময় বলবে।”

এ সময় মালয়েশিয়ায় গ্রেপ্তার ৩৬ বাংলাদেশির বিষয়ে জানতে চাইলে উপদেষ্টা জানান, এখনো তাদের ব্যাপারে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি।

মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসী শ্রমিকদের দুর্ভোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিশেষ করে ওমানে আমাদের উদ্যোগ ছিল শ্রমিকদের পাসপোর্ট হাতে দেওয়া, যেন তারা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থেকে কষ্ট না পায়। অন্য দূতাবাসগুলোকে এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “চিঠি দেওয়া হয়েছে, প্রয়োজনে ফলোআপ করা হবে। এটিকে আক্ষেপ হিসেবে নয়, প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখছি।”

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গত এক বছরে সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সংস্কার নিয়ে সন্তুষ্ট হওয়া উচিত নয়, কারণ তৃপ্ত হলে আর কিছু করার থাকে না। আমরা চেষ্টা করছি মন্ত্রণালয়টিকে যতটা সম্ভব জনবান্ধব করে তোলার।”