বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ-বাহরাইন

বাহরাইনের বিদ্যুৎ ও পানিবিষয়ক মন্ত্রী ইয়াসির বিন ইব্রাহিম হুমাইদানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. রইস হাসান সরোয়ার।

রোববার (২৭ জুলাই) বাহরাইনের রাজধানী মানামায় মন্ত্রীর দপ্তরে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত ও মন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের আরও উন্নয়ন, বিশেষ করে বিদ্যুৎ, পানি এবং জ্বালানির ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

মানামা দূতাবাস জানায়, রাষ্ট্রদূত রইস হাসান সরোয়ার বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা এবং এই খাতে সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দু’দেশই উপকৃত হতে পারে।

বাহরাইনের মন্ত্রী রাষ্ট্রদূতের সুস্বাস্থ্য ও সফল দায়িত্ব পালনের কামনা জানান। একইসঙ্গে তিনি বাংলাদেশ ও বাহরাইনের মধ্যকার ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্ক আরও গভীর ও সমৃদ্ধ হোক—এই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন।

দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বন্ধুত্ব ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন উভয়পক্ষ।




যুক্তরাষ্ট্রে ১ আগস্ট থেকেই শুল্ক কার্যকর, ছাড় নেই

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লাটনিক জানিয়েছেন, আগামী ১ আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্র নির্ধারিত নতুন শুল্ক কার্যকর করবে এবং এতে কোনো গ্রেস পিরিয়ড বা অতিরিক্ত সময় দেওয়া হবে না। রোববার (২৭ জুলাই) ফক্স নিউজের “সানডে” অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

লাটনিক বলেন, “আর কোনো সময় নয়, কোনো ছাড় নয়—১ আগস্ট থেকেই কাস্টমস নতুন হারে অর্থ সংগ্রহ শুরু করবে এবং আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাবো।” তবে তিনি জানান, শুল্ক কার্যকর হওয়ার পরও আলোচনার দরজা খোলা থাকবে এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনায় আগ্রহী।

বিশ্ববাজারে বাণিজ্যচুক্তির দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন চুক্তি চায়, তবে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। “আমরা আলোচনার ভিত্তি গড়ে তুলেছি। এখন সিদ্ধান্তের পালা,” মন্তব্য করেন তিনি।

এই পর্যন্ত পাঁচটি দেশ—যুক্তরাজ্য, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও জাপান—যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছেছে। এই দেশগুলোর জন্য আরোপিত শুল্ক হার তুলনামূলকভাবে কম হলেও, সেটি এপ্রিল থেকে কার্যকর ১০ শতাংশ হার থেকেও বেশি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, চুক্তিবদ্ধ দেশগুলো তুলনামূলক নমনীয় শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশাধিকার পেলেও, যারা চুক্তিতে আসেনি, তাদের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত উচ্চ হার কঠোরভাবে কার্যকর হবে।

যুক্তরাষ্ট্র এ শুল্ক কার্যক্রমের মাধ্যমে বৈশ্বিক মুক্ত বাণিজ্য কাঠামো পুনর্গঠন করতে চায়। সেইসঙ্গে, যেসব দেশ অন্যায্য বাণিজ্য চর্চায় জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার বার্তা দিচ্ছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ত্রাণ ও মানবাধিকার ইস্যুতে যুক্তরাজ্যের কঠোর বার্তা: গাজায় দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি

গাজা উপত্যকায় চলমান মানবিক বিপর্যয়কে “অবর্ণনীয় ও অযৌক্তিক” বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার। তিনি বলেন, “গাজার জনগণের দুর্ভোগের যে মাত্রা, তা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।” বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এই মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

স্টারমার বলেন, “এই সংকট বহুদিন ধরেই চলছিল, তবে বর্তমানে এটি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। আমরা এক অবর্ণনীয় মানবিক বিপর্যয়ের সাক্ষী হচ্ছি।”

তিনি জানান, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফ্রান্স ও জার্মানির নেতাদের সঙ্গে জরুরি আলোচনা করবেন তিনি। আলোচনার মূল লক্ষ্য হবে—নিহতের সংখ্যা কমানো এবং বেসামরিক নাগরিকদের জন্য জরুরি খাদ্য ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা।

উল্লেখযোগ্যভাবে, গাজায় প্রতিদিনই বহু ফিলিস্তিনি ত্রাণের লাইনে দাঁড়িয়ে প্রাণ হারাচ্ছেন। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সহায়তায় গঠিত বিতর্কিত ত্রাণ ব্যবস্থাপনা সংস্থা গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) কার্যকরভাবে ব্যর্থ হয়েছে, যার ফলে খাদ্য ও ওষুধ সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, গাজার অন্তত এক-চতুর্থাংশ মানুষ বর্তমানে দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে গত সোমবার যুক্তরাজ্যসহ ২৮টি দেশ এক যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েলকে ত্রাণ সরবরাহে সবধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানায়। তারা অভিযোগ করে, ইসরায়েলের ত্রাণ নীতিমালা “বিপজ্জনক” এবং তা গাজাবাসীদের মানবিক মর্যাদাকে পদদলিত করছে।

ব্রিটিশ লেবার পার্টির বেশ কয়েকজন এমপি প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তিনি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আরও কড়া অবস্থান নেন এবং ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেন।

স্টারমার জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্য তখনই ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেবে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে একটি টেকসই রাজনৈতিক সমাধান প্রতিষ্ঠিত হবে। তবে তিনি বলেন, “ফিলিস্তিনিদের রাষ্ট্রের অধিকার মৌলিক ও অপরিবর্তনযোগ্য। যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নই হবে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রথম ধাপ।”

বৃহস্পতিবার রাতে দেওয়া আরেক বিবৃতিতে স্টারমার ইসরায়েলকে “পথ পরিবর্তনের” আহ্বান জানান এবং হামাসের হাতে আটক সকল জিম্মির শর্তহীন মুক্তি দাবি করেন।

এদিকে, একই দিনে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ঘোষণা দিয়েছেন, সেপ্টেম্বরেই ফ্রান্স আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবে। অন্যদিকে, কাতারে চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনায় অংশ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের প্রতিনিধি দল সরিয়ে নিয়েছে, ফলে আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে।

গাজার পরিস্থিতি দিন দিন মানবিক বিপর্যয়ের দিকেই এগোচ্ছে—এমনটাই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো।




ফিলিস্তিনকে সেপ্টেম্বরে স্বীকৃতি দেবে ফ্রান্স: ম্যাক্রোঁর ঐতিহাসিক ঘোষণা

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ফিলিস্তিনকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেবে ফ্রান্স। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) ফরাসি সময় রাত সাড়ে ৯টায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ ঘোষণা দেন।

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক (এক্স) পেজে পোস্ট করা বিবৃতিতে ম্যাক্রোঁ বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তির ঐতিহাসিক প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে, আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি—ফ্রান্স ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেবে।”

তিনি আরও বলেন, “এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো গাজায় চলমান যুদ্ধ বন্ধ করা এবং বেসামরিক মানুষের জীবন রক্ষা করা।” শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রতি গুরুত্বারোপ করে ম্যাক্রোঁ জানান, অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি, সব জিম্মির মুক্তি এবং বৃহৎ পরিসরে মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট জানান, একটি কার্যকর ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনই এখন সময়ের দাবি। তিনি বলেন, “ফিলিস্তিনকে এমন একটি রাষ্ট্রে পরিণত করতে হবে, যা নিরস্ত্রীকরণের পথ অনুসরণ করবে, ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেবে এবং গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তায় অবদান রাখবে।”

এসময় তিনি জোর দিয়ে বলেন, “ফরাসি জনগণ শান্তি চায়। এ লক্ষ্যে ইসরায়েলি, ফিলিস্তিনি, ইউরোপীয় এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।”

ম্যাক্রোঁ আরও জানান, ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পরই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন তিনি। শান্তি অর্জনের বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের দরকার বিশ্বাস, স্বচ্ছতা ও অঙ্গীকার—এই চেতনায় আমি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতির প্রতিশ্রুতি দিয়েছি।”




গাজায় ইসরায়েলি হামলায় মৃত্যু ছাড়াল ৫৯ হাজার, একদিনেই নিহত ৮৯

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের অব্যাহত বিমান ও স্থল হামলায় মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ইসরায়েলি আগ্রাসনে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৯ হাজার ৫৮৬ জনে। বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) রাত পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৮৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৪৫৩ জন।

ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে বার্তাসংস্থা আনাদোলু জানায়, বাস্তুচ্যুতদের উপর পরিচালিত এ আক্রমণকে ‘গণহত্যামূলক’ হিসেবে উল্লেখ করেছে কর্তৃপক্ষ। তারা আরও জানিয়েছে, এখনও বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন বা রাস্তায় পড়েছেন, যাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

এ সময়ের মধ্যে আরও ২৭৯ জনের পরিচয় শনাক্ত করে তাদের তালিকাভুক্ত করা হয়, ফলে মোট মৃতের সংখ্যা হঠাৎ করেই উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া মানবিক সহায়তা সংগ্রহ করতে গিয়েও ইসরায়েলি হামলার শিকার হয়েছেন বহু মানুষ। গত ২৭ মে থেকে এখন পর্যন্ত শুধু ত্রাণ সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১ হাজার ৮৩ জন এবং আহত হয়েছেন ৭ হাজার ২৭৫ জনেরও বেশি।

চলতি বছরের ১৮ মার্চ থেকে ইসরায়েল পূর্ণমাত্রায় হামলা শুরু করলে জানুয়ারির যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময়ের চুক্তি কার্যত ভেঙে পড়ে। এরপর থেকে নতুন করে নিহত হয়েছেন আরও ৮ হাজার ৪৪৭ জন এবং আহত হয়েছেন ৩১ হাজার ৪৫৭ জন।

এ পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আইনি প্রক্রিয়াও এগিয়ে চলেছে। গত বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। পাশাপাশি, হেগের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতেও (আইসিজে) ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে মামলা চলমান রয়েছে।

এছাড়াও, ইসরায়েলের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। কাতারে শান্তি আলোচনার জন্য নিযুক্ত মধ্যস্থতাকারীদের ফিরিয়ে এনেছে তেল আবিব, এবং পশ্চিম তীর দখলের প্রতীকী প্রস্তাব অনুমোদন করেছে ইসরায়েলি পার্লামেন্ট। একইসঙ্গে, আগামী সেপ্টেম্বরে ফ্রান্স ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।

গাজার মানবিক পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আহ্বান সত্ত্বেও সেখানে যুদ্ধ ও নিপীড়ন অব্যাহত রয়েছে।




আন্দোলন দমন করতে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ: হাসিনার ফোনালাপ ফাঁস

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমনে নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন—এমন দাবি করেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। তাদের ইনভেস্টিগেটিভ ইউনিট (আই-ইউনিট) শেখ হাসিনার একাধিক ফোনালাপ ফাঁস করে বলেছে, এসব নির্দেশ তিনি প্রকাশ্যেই দিয়েছিলেন এবং ফোনালাপে তা স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) প্রকাশিত আল জাজিরার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের কোটা আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনা নিরাপত্তা বাহিনীকে যে কোনো স্থানে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অনুমতি দিয়েছিলেন। ফোনালাপে তাকে বলতে শোনা যায়, “আমি সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ্যে আদেশ দিয়েছি। এখন তারা প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করবে, যেখানেই পাবে গুলি চালাবে।”

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, শেখ হাসিনার সঙ্গে ওই সময়কার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের ফোনালাপে হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।

যদিও সরকার পক্ষ এই অডিওর সত্যতা অস্বীকার করেছে, আল জাজিরার দাবি—ফোনালাপগুলো ফরেনসিকভাবে যাচাই করা হয়েছে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি নয় বলেই বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেছেন। ভয়েস-ম্যাচিংয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্তও করা হয়েছে।

আল জাজিরা আরও জানায়, আন্দোলনের সময় চিকিৎসকরা বিক্ষোভকারীদের শরীরে অস্বাভাবিক গুলির ক্ষত দেখতে পান। রাজধানীর পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শাবির শরীফ জানান, “হেলিকপ্টার থেকে হাসপাতালের প্রবেশপথ লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়।”

রংপুরে আন্দোলনকারী আবু সাঈদের মৃত্যুর পর ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পরিবর্তনের চাপের কথাও উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। সেখানে দাবি করা হয়, পুলিশের চাপে এক চিকিৎসককে পাঁচবার রিপোর্ট বদলাতে বাধ্য করা হয়।

আসন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় শেখ হাসিনার এসব ফোনালাপ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। ইতোমধ্যে গত ১০ জুলাই শেখ হাসিনা ও তার দুই ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। আগামী আগস্টে বিচার শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে।

আল জাজিরার দাবি, শেখ হাসিনা নিজেও জানতেন তার ফোনালাপ রেকর্ড হচ্ছে। এক জায়গায় তাকে বলতে শোনা যায়, “হ্যাঁ, আমি জানি, রেকর্ড হচ্ছে। কোনো সমস্যা নেই।”

এ প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, “তিনি (হাসিনা) অন্যদের জন্য গর্ত খুঁড়েছিলেন, এখন নিজেই তাতে পড়ে গেছেন।”

তবে আওয়ামী লীগের একজন মুখপাত্র এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “শেখ হাসিনা কখনও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেননি। ফোনালাপগুলো বিকৃত বা খণ্ডিতভাবে প্রচার করা হয়েছে।”

২০২৪ সালের কোটা বিরোধী আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থী আবু সাঈদের পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে যান বলে দাবি করেছে আল জাজিরা।




রাশিয়ায় যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত, ৪৯ আরোহীর সকলেই নিহত

রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যে একটি যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে বিমানে থাকা ৪৯ জন আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা পোড়া ধ্বংসাবশেষের একটি ভিডিও ইতোমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরটি দুর্ঘটনার পর প্রকাশিত একটি আট সেকেন্ডের ভিডিওতে গভীর জঙ্গলের মধ্যে ঘন ধোঁয়ায় মোড়ানো বিমানের ধ্বংসাবশেষ দেখা যায়।

বিধ্বস্ত বিমানটি সাইবেরিয়াভিত্তিক ‘আঙ্গারা’ এয়ারলাইন্স পরিচালিত আনটোনভ-২৪ মডেলের একটি যাত্রীবাহী বিমান। এটি ব্লাগোভেশচেনস্ক শহর থেকে উড্ডয়ন করে চীনের সীমান্তবর্তী টাইন্দা শহরের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। মাঝপথে বিমানটি রাডার থেকে হারিয়ে যায়।

রাশিয়ার আমুর অঞ্চলের গভর্নর ভ্যাসিলি অরলভ জানান, বিমানে ৫ শিশুসহ ৪৩ জন যাত্রী এবং ৬ জন ক্রু ছিলেন। তিনি নিশ্চিত করেছেন, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় সকল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে।

নিখোঁজ বিমানের খোঁজে তল্লাশির সময় আমুর অঞ্চলের একটি দুর্গম বনাঞ্চলে বিমানের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়। দেখা যায়, ফিউসেলাজে আগুন জ্বলছিল।

পরে জরুরি বিভাগের হেলিকপ্টার ও রাশিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষসহ একাধিক উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

তবে এখনও পর্যন্ত দুর্ঘটনার কারণ স্পষ্ট নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।




আফগানিস্তানে কয়লা খনি ধসে ৬ শ্রমিক নিহত

আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় বাগলান এলাকায় কয়লা খনি ধসে ছয় শ্রমিক নিহত এবং ১৮ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় প্রাদেশিক তথ্য ও সংস্কৃতি কার্যালয়ের প্রধান সৈয়দ মুস্তাফা হাশিমি জানান, খনির একটি অংশ হঠাৎ ধসে পড়ার ফলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বাগলান এলাকায় ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসেও কয়লা খনি ধসে অন্তত ১০ শ্রমিক নিহত হয়েছিল। আফগানিস্তানে কয়লা ছাড়াও মার্বেল, সোনা, লিথিয়ামসহ মূল্যবান খনিজ রয়েছে, কিন্তু খনি সুরক্ষায় তেমন তদারকি না থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। শ্রমিকরা সাধারণত সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়াই কাজ করেন।

এছাড়া ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে সামাঙ্গান প্রদেশে একটি কয়লা খনি ধসে ২২ শ্রমিক আটকা পড়েছিলেন, যাদের কিছুক্ষণ পর উদ্ধার করা হয়।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




ওবামার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ, গ্রেপ্তারের দাবি ট্রাম্পের




উত্তরার বিমান দুর্ঘটনায় মোদির শোক, বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস

রাজধানীর উত্তরায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একইসঙ্গে তিনি বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা ও সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন।

সোমবার (২১ জুলাই) এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে দেওয়া এক শোকবার্তায় নরেন্দ্র মোদি বলেন, “ঢাকায় মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় গভীরভাবে মর্মাহত। যেখানে মৃতদের মধ্যে অনেকেই তরুণ শিক্ষার্থী—এই ট্র্যাজেডি হৃদয়বিদারক। নিহতদের পরিবারগুলোর প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা ও শোক। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।”

ভারতের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “ভারত এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশের পাশে রয়েছে এবং যেকোনো সম্ভাব্য সহায়তা ও সহযোগিতা প্রদানে প্রস্তুত রয়েছে।”

উল্লেখ্য, সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি এফ-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২০ জন নিহত এবং অন্তত ১৭১ জন আহত হয়েছেন, যাদের অনেকেই শিক্ষার্থী। আহতদের ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।