মিয়ানমারে অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর, সেনাপ্রধানই থাকছেন নিয়ন্ত্রণে

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা আনুষ্ঠানিকভাবে বেসামরিক নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পরিবর্তন মূলত প্রতীকী; কারণ দেশটির প্রকৃত ক্ষমতা এখনো সেনাপ্রধান মিন অং হ্লেইংয়ের হাতেই রয়ে গেছে, যিনি বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্বও পালন করছেন।

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আনুষ্ঠানিক গঠনের পর ক্ষমতা হস্তান্তরের ঘোষণা আসে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ঘোষণায় বলা হয়েছে—২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের যে আদেশ দেওয়া হয়েছিল, তা বাতিল করে নতুন তত্ত্বাবধায়ক প্রশাসন গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচন তদারকির জন্য একটি বিশেষ কমিশন গঠনের কথাও জানানো হয়েছে।

তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, জান্তা সরকারের এই পদক্ষেপ প্রকৃত ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিবর্তে কৌশলগত পুনর্গঠন মাত্র। কারণ মিন অং হ্লেইং এখনো সেনাপ্রধান ও ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট—দুই ভূমিকায় থেকেই রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন।

সরকারের মুখপাত্র জ্য মিন তুন জানিয়েছেন, অভ্যুত্থানের পর কয়েক দফা বাড়ানো জরুরি অবস্থার মেয়াদ বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে। সেই সঙ্গে সেনা সরকার তা প্রত্যাহার করেছে। মিন অং হ্লেইং দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানান, আগামী ছয় মাস হবে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতির সময়।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অং সান সু চি-র নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে দিয়ে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করে। এরপর থেকেই মিয়ানমার গৃহযুদ্ধে জর্জরিত। বিদ্রোহীদের দমন করতে গিয়ে সেনাবাহিনী ব্যাপক সামরিক অভিযান চালিয়েছে, যাতে বহু হতাহতের পাশাপাশি মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও উঠেছে। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে জান্তা সরকার।

অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের ঘোষণা ও নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও পশ্চিমা দেশগুলো এই প্রক্রিয়াকে ‘প্রহসনমূলক’ নির্বাচন বলে অভিহিত করেছে। সমালোচকদের মতে, নির্বাচনে কেবল সেনাবাহিনীর মদদপুষ্ট প্রার্থীরাই অংশগ্রহণ করতে পারবে এবং বিরোধী দলগুলোর অংশগ্রহণের সুযোগ খুবই সীমিত হবে।

মিয়ানমার বিষয়ক বিশ্লেষক ডেভিড ম্যাথিসন বলেন, “এটি প্রকৃতপক্ষে ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং পুরোনো শাসকদের নতুন রূপে উপস্থাপন মাত্র। সেনাবাহিনী মূল নিয়ন্ত্রণে থেকেই আগের মতো দমননীতি অব্যাহত রাখবে।”

তিনি আরও বলেন, “এটি এমন একটি নির্বাচনের প্রস্তুতি, যার প্রকৃতি ও নিরপেক্ষতা নিয়ে আমরা এখনো অন্ধকারে।”




রাশিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্প, জাপানসহ ১৪ দেশে সুনামি সতর্কতা জারি

রাশিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর বিশ্বের অন্তত ১৪টি দেশ ও অঞ্চলে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ভূমিকম্পটি রিখটার স্কেলে ৮.৮ মাত্রার ছিল বলে জানায় মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল রাশিয়ার উপকূলবর্তী অঞ্চল। এর ফলে প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে সুনামির ঝুঁকি। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (NOAA) এই সতর্কতা জারি করে।

বিশেষ করে ওশেনিয়া অঞ্চলের তিনটি দেশ—পাপুয়া নিউ গিনি, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ ও ভানুয়াতুতে সরাসরি সুনামি সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। পাপুয়া নিউ গিনিতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস তাদের সতর্কবার্তায় জানায়, উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দারা যদি অস্বাভাবিক সমুদ্রস্রোত, শক্তিশালী বা দীর্ঘ সময় ধরে ভূকম্পন অনুভব করেন, তবে সঙ্গে সঙ্গে উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

সতর্কতায় আরও বলা হয়েছে, “পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকা, সমুদ্রসৈকত ও নদীর পাশে অবস্থান করা থেকে বিরত থাকুন। জরুরি প্রয়োজনে খাবার, পানি, ওষুধ ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র প্রস্তুত রাখুন।”

ভূমিকম্প ও সুনামির আশঙ্কায় বর্তমানে যেসব দেশ ও অঞ্চলে সতর্কতা জারি রয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—রাশিয়া, জাপান, তাইওয়ান, ফিলিপাইন, চীন, হাওয়াই, গুয়াম, ক্যালিফোর্নিয়া, আলাস্কা, ওরেগন, ওয়াশিংটন, ব্রিটিশ কলাম্বিয়া, মেক্সিকো, পেরু, ইকুয়েডর ও নিউজিল্যান্ড।

জাপানের চিবা প্রিফেকচারের সোসা সিটির কুজুকুরি উপকূলে ইতিমধ্যে সুনামির ঢেউ আছড়ে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।




ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে আরও দেশ, চাপ বাড়ছে ইউরোপে

ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছে ফ্রান্স। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ কয়েক দিন আগেই ফ্রান্সের পক্ষ থেকে একই ধরনের স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।

এর আগে ২০২৩ সালে আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে এবং স্পেন ফিলিস্তিনকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়। তবে এই স্বীকৃতির মাধ্যমে ইসরায়েলের নিরাপত্তা বা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের অধিকারে কোনো হুমকি সৃষ্টি হবে না বলেও তারা স্পষ্ট বার্তা দেয়।

বর্তমানে জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে প্রায় ১৪৪টি দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এসব দেশের বেশিরভাগই গ্লোবাল সাউথের অন্তর্ভুক্ত, যার মধ্যে রয়েছে রাশিয়া, চীন এবং ভারত।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭ সদস্য দেশের মধ্যে মাত্র হাতে গোনা কয়েকটি দেশ, যেমন সুইডেন, সাইপ্রাস এবং পূর্ব ইউরোপের কিছু সাবেক সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র—ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে।

২০১২ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত একটি প্রস্তাবের মাধ্যমে ফিলিস্তিনকে জাতিসংঘে পর্যবেক্ষকের মর্যাদা থেকে উন্নীত করে ‘অ-সদস্য রাষ্ট্র’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

কারা হতে পারে পরবর্তী স্বীকৃতি দানকারী?

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্টারমারের ঘোষণার ফলে এখন জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা এবং জাপানের মতো বড় ও প্রভাবশালী দেশগুলোর ওপর ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক চাপ বাড়বে।

তবে জার্মানি ইতোমধ্যেই জানিয়েছে, তারা শিগগিরই ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে না। অপরদিকে ইতালির অবস্থান কিছুটা আলাদা—তারা চায় ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনকে একযোগে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে।

বিশ্বজুড়ে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া দেশগুলোর সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে। আন্তর্জাতিক মহলের একাংশ বলছে, এটি ভবিষ্যতে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতের সমাধানে একটি কূটনৈতিক মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।




বাংলাদেশকে ড্রোন প্রযুক্তি দিতে আগ্রহী চীন: কৃষিতে যৌথ সহযোগিতার প্রস্তাব

বাংলাদেশের কৃষি খাতে অত্যাধুনিক ড্রোন প্রযুক্তি হস্তান্তরের আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন। বুধবার সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ে এক সৌজন্য সাক্ষাতে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এ আগ্রহের কথা জানান।

চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক করেন কৃষি ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে কৃষি পণ্য রপ্তানি, প্রযুক্তি হস্তান্তর, প্রশিক্ষণ এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়সহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকের শুরুতে উপদেষ্টা বলেন, “চীন বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগী। আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের ইতিহাস অর্ধশতাব্দির। ভবিষ্যতে এ সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।”

চলতি মৌসুমে আম আমদানির জন্য চীনকে ধন্যবাদ জানান উপদেষ্টা। পাশাপাশি আগামী মৌসুমে কাঁঠাল ও সুগন্ধি চালসহ অন্যান্য কৃষিপণ্য আমদানির অনুরোধ জানান তিনি।

বাংলাদেশের কৃষির আধুনিকায়নে যান্ত্রিকীকরণ, আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ এবং কৃষকদের প্রশিক্ষণ সহযোগিতার বিষয়ে চীনকে আহ্বান জানান উপদেষ্টা।

জবাবে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, “কৃষিখাতে বাংলাদেশকে সহায়তায় চীন প্রস্তুত। সার কারখানা স্থাপন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী চীন।”

সাক্ষাতে দুই দেশের ভবিষ্যৎ কৃষি সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করা হয়।




গাজায় সৌদি আরবের সহায়তা পৌঁছাল রাফা ক্রসিং হয়ে

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার ক্ষুধার্ত ও বিপর্যস্ত মানুষের জন্য মানবিক সহায়তা পাঠিয়েছে সৌদি আরব। বুধবার (৩০ জুলাই) সাতটি ত্রাণবাহী ট্রাক মিশর-গাজা সীমান্তের রাফা ক্রসিং দিয়ে উপত্যকায় প্রবেশ করে।

বার্তাসংস্থা সৌদি গ্যাজেট জানিয়েছে, সৌদি বাদশাহ সালমান মানবিক সহায়তা ও রিলিফ সেন্টারের (KSRelief) উদ্যোগে এই সহায়তা পাঠানো হয়েছে। ট্রাকগুলোতে প্রধানত খাদ্যসামগ্রী ছিল।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, গাজায় চলমান মানবিক সংকট মোকাবেলায় সৌদি আরব এ পর্যন্ত ৫৮টি বিমান ও ৮টি জাহাজে করে ত্রাণ পাঠিয়েছে। এসব ত্রাণে প্রায় ৭ হাজার ১৮৮ টন খাদ্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও আশ্রয় সামগ্রী রয়েছে। সেইসঙ্গে ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মাধ্যমে ২০টি অ্যাম্বুলেন্সও সরবরাহ করেছে সৌদি আরব।

ইসরায়েলি অবরোধ ও হামলার ফলে গাজায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। খাদ্য, ওষুধ ও জ্বালানির মারাত্মক ঘাটতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে সাধারণ মানুষ। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থার চাপের মুখে ইসরায়েল সম্প্রতি সীমিতভাবে ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশ করতে দিচ্ছে, যদিও তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।

মানবিক ত্রাণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সৌদি আরব জর্ডানের সহায়তায় বিমান থেকেও গাজায় খাদ্যসামগ্রী ফেলে দিয়েছে। তবে ত্রাণ কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের হামলায় এখন পর্যন্ত ৬০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন প্রায় দেড় লাখ মানুষ।




ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার পথে ব্রিটেন: সেপ্টেম্বরে আসতে পারে ঘোষণা

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার মানবিক সংকট নিরসনে ইসরায়েল উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ না নিলে আসন্ন সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাজ্য। দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার মঙ্গলবার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন।

স্টারমার বলেন, “ইসরায়েল যদি নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়, তবে জাতিসংঘের মঞ্চে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেবে যুক্তরাজ্য।” তার ঘোষণায় স্পষ্ট, ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত কৌশলগত ও মানবিক বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে, যা ইসরায়েলের ভূমিকায়ও পরিবর্তন আনবে বলে আশা করছে ব্রিটেন।

চারটি মূল শর্ত

যুক্তরাজ্য যে চারটি শর্ত সামনে রেখেছে সেগুলো হলো:

  • গাজায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি
  • গাজায় ত্রাণ সরবরাহে আরও প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা
  • পশ্চিম তীর দখল ও সংযুক্তির পরিকল্পনা থেকে ইসরায়েলের সরে আসার প্রতিশ্রুতি
  • দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি ইসরায়েলের প্রতিশ্রুতি, যার মাধ্যমে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত হবে

স্টারমার জোর দিয়ে বলেন, “ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে কোনও নীতিগত সমতা নেই। হামাসকে অবশ্যই জিম্মিদের মুক্তি দিতে, অস্ত্র ত্যাগ করতে ও গাজা শাসনে অংশ না নিতে হবে।”

রাজনৈতিক চাপ ও মানবিক উদ্বেগ

ব্রিটেনের পূর্ববর্তী সরকারগুলো দীর্ঘদিন ধরে বলেছে, ‘সঠিক সময়’ ও ‘উপযুক্ত প্রেক্ষাপটে’ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। স্টারমারের সরকারের অবস্থানও ছিল একই। তবে গাজায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ও দিন দিন বাড়তে থাকা চাপ—বিশেষ করে লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ চাপ—স্টারমারকে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ব্রিটিশ সরকার আশা করছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে গাজায় ত্রাণ প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে এবং ইসরায়েল শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে বাধ্য হবে।

কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও সম্ভাব্য ফল

মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জুলি নরম্যান বলেন, “ব্রিটেনের এই পদক্ষেপ প্রতীকী হলেও কূটনৈতিক ও নৈতিকভাবে এর গুরুত্ব অনেক।” ব্রিটেনে বর্তমানে ফিলিস্তিনের একটি প্রতিনিধি মিশন রয়েছে। স্বীকৃতি দেওয়া হলে সেটি পূর্ণাঙ্গ দূতাবাসে পরিণত হতে পারে। এমনকি ভবিষ্যতে ব্রিটেন পশ্চিম তীরে একটি নিজস্ব দূতাবাস স্থাপনও করতে পারে।

তবে এই স্বীকৃতির ফলে ব্রিটেন-ইসরায়েল সম্পর্ক নতুনভাবে পর্যালোচনার প্রয়োজন হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জেরুজালেমে নিযুক্ত ব্রিটেনের সাবেক কনসাল জেনারেল ভিনসেন্ট ফিন। তিনি বলেন, “ব্রিটেন চাইলে ইসরায়েলি অধিকৃত অঞ্চলের বসতিগুলো থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে, যা প্রতীকী হলেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করবে।”

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া

ইসরায়েল ইতোমধ্যেই ব্রিটিশ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, “ব্রিটেনের এই সিদ্ধান্ত হামাসকে পুরস্কৃত করার শামিল, যা ২০২৩ সালের হামলায় নিহতদের প্রতি অবিচার।”

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রাথমিকভাবে কোনও মন্তব্য না করলেও পরে সাংবাদিকদের বলেন, “ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া মানে হামাসকে পুরস্কৃত করা, যা ঠিক নয়।”

স্পষ্ট বার্তা: ফিলিস্তিনিরা হামাস নয়

ব্রিটেনের পরিবহনমন্ত্রী হেইডি আলেকজান্ডার এই সিদ্ধান্তকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “এটি হামাসকে পুরস্কার দেওয়ার বিষয় নয়। এটি ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি, বিশেষ করে গাজার শিশুদের জন্য নেওয়া একটি মানবিক সিদ্ধান্ত।”

বিশ্লেষকদের মতে, ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া হলে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়ায় যুক্তরাজ্যের ভূমিকা বাড়বে এবং পশ্চিমা বিশ্বের নীতিতে এক নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি হবে।




রাশিয়ায় ৮.৮ মাত্রার ভূমিকম্প, কুড়িল দ্বীপে সুনামির আঘাত

রাশিয়ায় আজ বুধবার স্থানীয় সময় ভয়াবহ এক ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে দেশটির কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৮। ভূমিকম্পের পরপরই সমুদ্রপৃষ্ঠে সৃষ্ট হয় বিশাল ঢেউ—যা সুনামির রূপ নিয়ে আঘাত হানে উপকূলে। এই ঘটনার প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্র, জাপানসহ আশপাশের আরও বেশ কয়েকটি দেশে জারি করা হয় সুনামি সতর্কতা।

বিশেষজ্ঞরা জানান, এমন ভয়াবহ ভূমিকম্পের মূল কারণ হলো টেকটোনিক প্লেটের আচমকা নড়াচড়া। পৃথিবীর পৃষ্ঠে থাকা এই প্লেটগুলো অনেকটা পাজলের টুকরোর মতো একটার সঙ্গে আরেকটা লেগে থাকে। বছরজুড়ে এগুলোর অবস্থান খুব ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হয়। কিন্তু যখন কোনো দুটি প্লেট আটকে যায়, তখন সেখানে জমতে থাকে বিপুল পরিমাণ শক্তি। এক পর্যায়ে এই শক্তি হঠাৎ মুক্তি পায়, আর তখনই ঘটে ভয়াবহ ভূমিকম্প।

যদি ভূমিকম্পটি সমুদ্রের নিচে হয়, তবে পানির স্তরেও ঘটে তীব্র পরিবর্তন। সেই পরিবর্তন থেকেই শুরু হয় সুনামি। সাগরের গভীরে সৃষ্ট ঢেউগুলো শুরুতে চোখে পড়ার মতো না হলেও উপকূলের দিকে আসতে আসতে এগুলোর উচ্চতা বেড়ে যায় ভয়ানকভাবে। তখনই এগুলো আছড়ে পড়ে উপকূলীয় শহরগুলোতে।

সুনামি শব্দটি এসেছে জাপানি ভাষা থেকে। এটি এমন এক ধরনের সামুদ্রিক ঢেউ, যা ভূমিকম্প বা সমুদ্রের নিচে ভূমিধসের কারণে সৃষ্টি হয়। গভীর সমুদ্রে এই ঢেউগুলো ঘণ্টায় ৪৫০ থেকে ৬০০ মাইল গতিতে চলতে পারে। যদিও খোলা সমুদ্রের মাঝখানে থাকা জাহাজগুলো এই ঢেউ সহজে টের পায় না। কারণ সেখানে ঢেউগুলো উচ্চতায় বড় হলেও পানির গভীরতা অনেক বেশি থাকায় তা ছাপিয়ে ওঠে না।

কিন্তু একবার উপকূলের কাছাকাছি চলে এলে ঢেউয়ের গতি কমে আসে এবং উচ্চতা বেড়ে যায় আশঙ্কাজনকভাবে। তখন মাত্র ১০ থেকে ২০ ফুট উচ্চতার ঢেউও হয়ে ওঠে মারাত্মক বিধ্বংসী। কেউ কেউ বলছেন, কিছু ঢেউ ১০০ ফুট উচ্চতায়ও পৌঁছাতে পারে। এসব ঢেউয়ের আঘাতে প্রাণহানি, গৃহহানি ও পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা থাকে চরমে।

বিশ্বজুড়ে সমুদ্র উপকূলীয় দেশগুলো এ ধরনের দুর্যোগ মোকাবেলায় এখন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে কাজ করছে। তবে ভূমিকম্প ও সুনামির ভয়াবহতা দেখে অনেকে ২০০৪ সালের ইন্দোনেশিয়া-কেন্দ্রিক ভয়াবহ সুনামির কথা স্মরণ করছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বঙ্গোপসাগরের দ্বীপ থেকে ‘প্রলয়’ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালাল ভারত

ভারত তাদের স্বল্পমাত্রার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘প্রলয়’-এর সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। গতকাল (২৮ জুলাই) ও আজ (২৯ জুলাই) ওড়িশা উপকূলের বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত ড. এপিজে আব্দুল কালাম দ্বীপ থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটির দুটি পৃথক উৎক্ষেপণ করা হয়।

ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও) এ ক্ষেপণাস্ত্রটি তৈরি করেছে। সংস্থাটির দাবি, প্রলয় একটি আধুনিক, আধা-ব্যালিস্টিক, ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, যা নির্ভুলভাবে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

ডিআরডিও জানায়, প্রলয় ক্ষেপণাস্ত্র ১৫০ থেকে ৫০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। এতে ব্যবহৃত হয়েছে কঠিন জ্বালানির মোটর, উন্নত ন্যাভিগেশন প্রযুক্তি এবং মাঝ আকাশে গতিপথ পরিবর্তনের ক্ষমতা—যা একে শত্রুপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়ার সক্ষমতা দেয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, পরীক্ষায় ক্ষেপণাস্ত্রটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হেনেছে এবং সব কার্যকরী লক্ষ্য অর্জন করেছে।

ক্ষেপণাস্ত্রটি ৩৫০ থেকে ৭০০ কিলোগ্রাম ওজনের কনভেনশনাল ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম। এটি মূলত শত্রুপক্ষের কমান্ড সেন্টার, লজিস্টিক হাব, এবং বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।

ভারতীয় প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যেন এটি প্রতিহত করতে না পারে, সেজন্যই প্রলয়কে বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে। সামরিক কৌশলে এই ক্ষেপণাস্ত্র ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।




ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগ কোনো পক্ষবিরোধী জোট নয়: চীনা রাষ্ট্রদূত

চীন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের চলমান ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগ কোনোভাবেই তৃতীয় কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে গঠিত কোনো জোট নয় বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। তিনি বলেন, এই উদ্যোগ অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও আঞ্চলিক সমৃদ্ধিকে কেন্দ্র করেই গঠিত হয়েছে, এবং এতে অন্য কোনো দেশের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত ‘ডিক্যাব টক’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশ, চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে যেই আলোচনাগুলো চলছে, তার কেন্দ্রে রয়েছে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও মানুষের জীবনমান উন্নয়ন। এটি কোনো সামরিক জোট নয়, বরং এটি উন্নয়নকেন্দ্রিক একটি কৌশলগত বোঝাপড়া। তৃতীয় কোনো পক্ষবিরোধী কোনো অভিপ্রায় এতে নেই। এমনকি দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দেশ এই উদ্যোগ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বেগও প্রকাশ করেনি।’’

ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগ নিয়ে কিছু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে গুঞ্জন ওঠার প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, ‘‘বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব আমরা শ্রদ্ধা করি। আমরা চাই একটি শান্তিপূর্ণ, উন্নয়নমুখী প্রতিবেশী পরিবেশ গড়ে উঠুক। এ জন্য আমাদের পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা বাড়াতে হবে।’’

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্কনীতি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে ইয়াও ওয়েন বলেন, ‘‘মার্কিন ট্যারিফ নীতি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) নিয়মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এসব পদক্ষেপ বৈশ্বিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে এবং অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।’’

তিস্তা নদী পুনঃবিন্যাস প্রকল্প নিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘‘চীন সরকার তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পালা বাংলাদেশের। আমরা চাই, বাংলাদেশ নিজস্ব স্বার্থ ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন চিন্তা করে এ বিষয়ে দ্রুত অগ্রসর হোক।’’

অনুষ্ঠানে কূটনৈতিক রিপোর্টারদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘‘ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’’


মো. আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




গাজায় খাদ্যকেন্দ্র খোলার ঘোষণা ট্রাম্পের, ৬ কোটি ডলার সহায়তা বরাদ্দ

ফিলিস্তিনের যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় একটি “মুক্ত খাদ্যকেন্দ্র” স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্কটল্যান্ডে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেইর স্টারমারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সময় সোমবার (২৮ জুলাই) ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, “আমরা খুব শিগগিরই গাজায় একটি খাদ্যকেন্দ্র খুলতে যাচ্ছি। কেন্দ্রটির নির্মাণ, তত্ত্বাবধান এবং খাদ্য বিতরণের পুরো বিষয়টি দেখভাল করবে যুক্তরাষ্ট্র। এটি হবে একটি মুক্ত কেন্দ্র— গাজার বাসিন্দারা যখন খুশি, তখনই সেখান থেকে প্রয়োজনীয় খাবার সংগ্রহ করতে পারবেন, কোনো বাধা থাকবে না।”

তিনি আরও জানান, গাজার মানবিক পরিস্থিতি বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্র এই খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির জন্য প্রাথমিকভাবে ৬ কোটি ডলার বরাদ্দ করেছে। ট্রাম্প বলেন, “এই মুহূর্তে গাজার মানুষের জন্য সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে খাদ্য নিরাপত্তা। কারণ সেখানে প্রচুর মানুষ না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন।”

ট্রাম্প প্রথমবারের মতো সরাসরি গাজার তীব্র খাদ্যসংকট স্বীকার করে বলেন, “কিছুদিন আগে টেলিভিশনে গাজার কিছু শিশুকে দেখলাম— তারা খুবই ক্ষুধার্ত ছিল। গাজায় সত্যিকারের খাদ্যসংকট শুরু হয়েছে এবং আপনি একে অস্বীকার করতে পারবেন না।”

সংঘাত নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “ইসরায়েল হামাসকে দমন করতে চাইলে আরও কঠোর লড়াই চালাতে পারে। তবে এখন গাজা ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছে এবং সেখানে খাদ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাটাই অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।”

স্টারমারের সমর্থন

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেইর স্টারমারও ট্রাম্পের অবস্থানকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, “গাজায় যা চলছে তা পুরোপুরি মানবসৃষ্ট সংকট এবং এটি এখন আর শুধু সংকট নয়, বরং এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়।”

তিনি বলেন, “গাজার প্রকৃত অবস্থা যদি ব্রিটেনের জনগণ নিজের চোখে দেখতে পেত, তাহলে তারা গভীরভাবে নাড়া খেত। এটি এখন সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে।”

স্টারমার আরও বলেন, “যদি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গাজায় মানবিক সহায়তায় এগিয়ে আসে, তবে এতে দুটি কাজ একসঙ্গে হবে— একদিকে খাদ্য সংকট কমবে, অন্যদিকে ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টি হবে যুদ্ধ থামানোর জন্য।”

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গাজা পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্পের এই অবস্থান তার পূর্ববর্তী মন্তব্যগুলোর তুলনায় এক নতুন ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির ইঙ্গিত দেয়। তবে এই খাদ্যকেন্দ্র কতটা কার্যকর হবে এবং তা কতটা স্বাধীনভাবে পরিচালিত হবে— তা সময়ই বলে দেবে।