গাজায় মৃত্যুর মিছিলে ৬১ হাজার ছাড়াল

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হামলায় মৃতের সংখ্যা ভয়াবহভাবে বেড়ে ৬১ হাজার ৩৬৯ জনে পৌঁছেছে। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় গাজার বিভিন্ন এলাকা থেকে আরও ৩৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, আহত হয়েছেন অন্তত ৪৯১ জন।
শনিবার (৯ আগস্ট) তুর্কি সংবাদ মাধ্যম আনাদোলুর খবরে বলা হয়, একই সময়ে মানবিক সহায়তা নিতে গিয়ে ইসরায়েলের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ২১ জন এবং আহত হয়েছেন আরও ৩৪১ জন। মে মাসের শেষ দিক থেকে এখন পর্যন্ত শুধু সহায়তা সংগ্রহের সময় নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৭৪৩ জনে দাঁড়িয়েছে, আহত হয়েছেন ১২ হাজার ৫৯০ জনের বেশি।
এছাড়া, খাবার ও চিকিৎসার অভাবে গত একদিনে মারা গেছেন ১১ জন, যাদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। চলমান অবরোধের কারণে অনাহারে প্রাণ হারানো মানুষের সংখ্যা এখন ২১২ জন, এর মধ্যে ৯৮ জন শিশু।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গাজার মানবিক বিপর্যয় দিন দিন আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। খাদ্য, ওষুধ ও নিরাপদ আশ্রয়ের তীব্র সংকট পরিস্থিতিকে চরমে নিয়ে গেছে। গত মার্চে স্বল্পকালীন যুদ্ধবিরতির পর ১৮ মার্চ থেকে আবারও বড় ধরনের অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। সেই থেকে নতুন করে প্রাণ হারিয়েছেন ৯ হাজার ৮৬২ জন এবং আহত হয়েছেন আরও ৪০ হাজার ৮০৯ জন।
এদিকে, চলমান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক আদালতগুলো ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতেও (আইসিজে) গণহত্যার অভিযোগে মামলা চলছে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এ সংঘাতে এখন পর্যন্ত আহত হয়েছেন ১ লাখ ৫২ হাজার ৮৫০ জনের বেশি। অনেকেই এখনও নিখোঁজ রয়েছেন, আর উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা অসংখ্য মরদেহ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারছে না।








