আফগানিস্তানে ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ১৪১১, আহত ৩২৫১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আফগানিস্তানে সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৪১১ জনে। তালেবান সরকারের মুখপাত্র মঙ্গলবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া অন্তত ৩,২৫১ জন আহত এবং ৮,০০০-এর বেশি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে।

ভয়াবহ এই ভূমিকম্প রবিবার রাত ১১টা ৪৭ মিনিটে আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৬। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল মাত্র ৮ কিলোমিটার গভীরে। বিশেষভাবে কুনার প্রদেশের কয়েকটি গ্রাম মাটির নিচে চাপা পড়ে। এতে সড়ক ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

ধ্বংসস্তূপে রাস্তা বন্ধ থাকায় এবং পাহাড়ি ভূখণ্ডের কারণে স্থলপথে উদ্ধার কার্যক্রম কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনের মতো আকাশপথে উদ্ধার অভিযান চালিয়েছে।

এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়, খাদ্য ও চিকিৎসা সরবরাহ করা প্রয়োজন বলে আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলি সতর্ক করেছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ইউরোপের সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষুব্ধ ইরান, প্রতিক্রিয়া দিতে প্রস্তুত তেহরান

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের ক্বালিবাফ জানিয়েছেন, ইউরোপীয় ট্রায়ো—যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি—পরমাণু চুক্তি (জেসিপিওএ) বা স্ন্যাপব্যাক মেকানিজম সক্রিয় করার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ইরান শিগগিরই প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ ঘোষণা ও বাস্তবায়ন করবে।

মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) পার্লামেন্টে ক্বালিবাফ বলেন, ইউরোপীয় তিন দেশ জেসিপিওএ-এর শর্ত পালন করতে ব্যর্থ হওয়ার পরও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যা ইরানের মতে অবৈধ। তিনি আরও বলেন, রাশিয়া ও চীনের মতো স্থায়ী সদস্যরা ইতিমধ্যেই এ ধরনের পদক্ষেপকে স্বীকৃতি দেয়নি।

ক্বালিবাফ উল্লেখ করেন, “ইউরোপীয় দেশগুলো স্ন্যাপব্যাক সক্রিয় করার অধিকার রাখে না। তবুও তারা এই প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সেক্ষেত্রে ইরানকে প্রয়োজন প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নিতে, যাতে অবৈধ এই উদ্যোগের খরচ বৃদ্ধি পায় এবং তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে বাধ্য করা যায়। ইসলামী প্রজাতন্ত্রের ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত শিগগিরই কার্যকর করা হবে।”

এর আগে, ইউরোপীয় তিন দেশ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়ে স্ন্যাপব্যাক মেকানিজম সক্রিয় করার ঘোষণা দিয়েছে। এর মাধ্যমে ইরানের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র জেসিপিওএ থেকে সরে আসার পর এটি ইরানের বিরুদ্ধে ইউরোপের সবচেয়ে কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ইরান এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও অবৈধ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে। তেহরান সতর্ক করেছে, ইউরোপ নিজেই চুক্তি ভঙ্গ করেছে, তাই স্ন্যাপব্যাক সক্রিয় করার কোনো অধিকার নেই। এ ধরনের পদক্ষেপের পর ইরান পাল্টা কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবে, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-র সঙ্গে সহযোগিতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




গাজায় ইসরায়েলি হামলা : একদিনে নিহত অন্তত ৬১

ইসরায়েলি সেনাদের টানা বোমাবর্ষণে আবারও রক্তাক্ত হলো গাজা নগরী। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলা হামলায় অন্তত ৬১ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৯ জন মানবিক সহায়তার খোঁজে বের হওয়া সাধারণ মানুষ।

গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কেবল অনাহার ও অপুষ্টিজনিত কারণে ওইদিন আরও চারজন প্রাণ হারান, যাদের মধ্যে দু’জন শিশু। এ নিয়ে চলমান যুদ্ধে ক্ষুধা-সংক্রান্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১৭-তে, যার মধ্যে ১২১ শিশু।

বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, গাজার পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুধু জায়তুন এলাকার দক্ষিণাংশেই ১,৫০০-টির বেশি বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে গেছে। স্থানীয়দের মতে, বহু পরিবার ঘর ছেড়ে উপকূলের দিকে পালাতে বাধ্য হয়েছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গাজা নগরীতে ইসরায়েলের এই অভিযানকে যুদ্ধের “নতুন ও ভয়াবহ ধাপ” আখ্যা দিয়ে বলেন, “এটি বেসামরিক মানুষের জন্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনবে এবং লক্ষাধিক বাস্তুচ্যুত মানুষ আরও গভীর সংকটে পড়বে।”

এদিকে ফিলিস্তিনি বার্তাসংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে খান ইউনিসে একটি তাঁবু শিবিরে আশ্রয় নেওয়া এক নারী ও তার শিশুও রয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা খাবারের সন্ধানে যাওয়া মানুষদের ‘গুম’ হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

ইসরায়েলি সেনারা দাবি করেছে, তারা গাজায় হামাস যোদ্ধাদের ঘাঁটি লক্ষ্য করে অভিযান চালাচ্ছে এবং কয়েকজন যোদ্ধাকে হত্যা করেছে। তবে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

গাজার পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ হয়ে উঠছে। খাদ্য, পানি ও চিকিৎসার সংকটে লাখো মানুষ মরিয়া হয়ে পড়েছে। আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “মানুষজন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও খাবার পাচ্ছে না। অনেকেই জীবন বাজি রেখে বিতরণকেন্দ্রে ছুটছে।”




থালাপতি বিজয়ের বিরুদ্ধে মামলা, বিজেপির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা নিয়ে বিতর্ক

ভারতের দক্ষিণি সিনেমার সুপারস্টার থালাপতি বিজয়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে নিজের রাজনৈতিক দল তামিলাগা ভেটরি কাজাগমের (টিভিকে) সমাবেশে এক ভক্তকে তার দেহরক্ষীদের মাধ্যমে নির্যাতনের চেষ্টা করেছেন। কুন্নাম থানায় দায়ের করা মামলায় থালাপতি বিজয় এবং তার দেহরক্ষীদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির তিনটি ধারায় মামলা করা হয়েছে।

২০২৪ সালে টিভিক গঠন করেন থালাপতি বিজয়। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি মাদুরাই পূর্ব আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন। সমাবেশে তিনি বিজেপিকে প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন এবং তামিলনাডুর ক্ষমতাসীন দল ডিএমকেকে সরাসরি টার্গেট করেছেন।

থালাপতি বিজয়ের সমাবেশে হাজার হাজার সমর্থকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। তিনি জানিয়েছেন, টিভিক হবে স্বচ্ছ ও আপসহীন এক শক্তি, জনগণকে প্রতারণা বা সমঝোতার মাধ্যমে প্রতিহত করা হবে না। সমাবেশে কাচাথিভু দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ ফেরানো ও তামিল জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকারও করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার কুন্নাম থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ দায়েরের প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। থালাপতি বিজয়ের রাজনীতিতে অভিষেক হলেও তার চলচ্চিত্রজীবনের জনপ্রিয়তা তাকে শক্তিশালী রাজনৈতিক ভূমিকা রাখতে সাহায্য করছে।




ট্রাম্পের হুমকি: চীনা পণ্যে শুল্ক বাড়িয়ে ২০০ শতাংশ করার সতর্কবার্তা

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান বাণিজ্য বিরোধ ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এবার চীনা পণ্যের ওপর ২০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে আরও বেশি দুর্লভ খনিজ ও ম্যাগনেট সরবরাহ করতে হবে চীনকে। নইলে তাদের রপ্তানিপণ্যে ২০০ শতাংশ কিংবা তারও বেশি শুল্ক বসানো হবে।

এ বিষয়ে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈশ্বিক ম্যাগনেট বাজারের প্রায় ৯০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে চীন। এসব খনিজ উপাদান সেমিকন্ডাক্টর চিপ, স্মার্টফোনসহ নানা প্রযুক্তিপণ্যে অপরিহার্য। গত এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক বাড়ানোর পর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে চীন এসব খনিজ রপ্তানিতে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছিল।

ট্রাম্পের নতুন এই হুঁশিয়ারি এসেছে এমন সময়, যখন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইন্টেল করপোরেশনে ১০ শতাংশ শেয়ার নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। কোম্পানিটি বিরল খনিজ উপাদানের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

এদিকে চীনের রপ্তানি খাতে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। দেশটির কাস্টমস তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে বিরল খনিজের রপ্তানি জুনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক টানাপোড়েনকে আরও জটিল করছে।

সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক কার্যকরের সময়সীমা আরও ৯০ দিন বাড়ান, যাতে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়। অন্যথায় বিদ্যমান শুল্কহার ১৪৫ শতাংশে পৌঁছাত। এর আগে মে মাসে দুই দেশ শুল্কহার কমিয়ে আনার বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছালেও সর্বশেষ হুঁশিয়ারি আবারও দ্বন্দ্বকে ঘনীভূত করেছে।




গাজায় আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্ভিক্ষের ঘোষণা জাতিসংঘের

অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ভয়াবহ মানবিক সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। জাতিসংঘের বৈশ্বিক ক্ষুধা ও খাদ্য নিরাপত্তা বিশ্লেষণকারী সংস্থা আইপিসি নিশ্চিত করেছে যে, গাজা সিটি ও এর আশপাশের এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্ভিক্ষ শুরু হয়েছে। সংস্থাটির সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়, গাজার মানুষ বর্তমানে খাদ্যের জন্য চরম হাহাকার ও অমানবিক দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে।

শুক্রবার প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়, গাজা গভর্নরেটের মানুষ এখন কার্যত অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন। খাদ্য সংকট পরিমাপের আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে গাজা সিটি ও আশপাশের অঞ্চলকে “পঞ্চম ধাপে” উন্নীত করা হয়েছে। এই ধাপটি হলো সর্বোচ্চ সতর্কতা, যার অর্থ হলো মানুষ খাবার পাচ্ছে না, অনাহারে মৃত্যুর ঝুঁকিতে রয়েছে এবং সর্বনাশা দারিদ্র্যের শিকার হচ্ছে।

আইপিসির পূর্বাভাস অনুযায়ী, গাজার দেইর এল-বালাহ এবং খান ইউনুসেও একই পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ এই দুই শহরেও দুর্ভিক্ষ শুরু হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর ফলে গাজা উপত্যকার অন্তত পাঁচ লাখের বেশি মানুষ সরাসরি দুর্ভিক্ষে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজার মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫৪ শতাংশ অর্থাৎ এক কোটি সাত হাজার মানুষ বর্তমানে চরম খাদ্য সংকটে রয়েছেন। তারা আইপিসির “চতুর্থ ধাপের” আওতায় আছেন, যেখানে মানুষ খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। এ ছাড়া আরও প্রায় চার লাখ মানুষ “তৃতীয় ধাপে” রয়েছে, যাদের পরিস্থিতিও ক্রমেই ভয়াবহ আকার নিচ্ছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের দফায় দফায় বিমান হামলা, গোলাবর্ষণ ও অবরোধের ফলে এ দুর্ভিক্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অবরোধের কারণে খাদ্য, ওষুধ এবং মানবিক সহায়তা কার্যত গাজায় প্রবেশ করতে পারছে না। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বিষয়টিকে “মানবসৃষ্ট দুর্ভিক্ষ” হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

একই সময়ে, ইসরায়েলি বাহিনী গাজা সিটির ওপর আরও বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাদের পক্ষ থেকে সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়েছে, গাজা সিটিকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হবে। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক মহল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেও এখনো কার্যকর কোনো সমাধান দেখা যাচ্ছে না।

এটি প্রথমবারের মতো কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে গাজায় দুর্ভিক্ষ শুরু হওয়ার ঘোষণা দিল। ফলে বৈশ্বিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে, আর মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য চাপ বাড়ছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ইতালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনির ঢাকা সফর বাতিল

বাংলাদেশসহ এশিয়ার পাঁচটি দেশে নির্ধারিত সফর বাতিল করেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে চলমান আলোচনা ও ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের ব্যস্ততার কারণেই এই সফর স্থগিত করা হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, মেলোনি ৩০ আগস্ট দুই দিনের সফরে ঢাকায় আসার কথা ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আমন্ত্রণে এ সফর ঘিরে ঢাকা প্রায় সব ধরনের প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেছিল। ৩১ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। এমনকি সফরে মেলোনি তার মেয়েকেও সঙ্গে আনার পরিকল্পনা করেছিলেন।

এক কূটনৈতিক সূত্র জানায়, বাংলাদেশ সফর দিয়েই তার এশিয়া সফরের সূচনা হওয়ার কথা ছিল। এরপর তিনি সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান ভ্রমণ করতেন। কিন্তু ইউক্রেন পরিস্থিতি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে আলোচনায় ন্যাটো জোটের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে ইতালির প্রধানমন্ত্রীকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এ কারণেই আপাতত এশিয়া সফর বাতিল করেছেন তিনি।

এদিকে বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইন, ২০২১ এর ধারা ২(ক)-এর ক্ষমতাবলে জর্জিয়া মেলোনিকে আগামী ৩০ ও ৩১ আগস্ট বাংলাদেশ সফরকালীন ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ (ভিভিআইপি) হিসেবে ঘোষণা করা হয়।


আল-আমিন



গাজায় মানবিক বিপর্যয়: আকাশপথে খাদ্য পাঠাল সাত দেশ

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় বিমানে করে ত্রাণ সরবরাহ করেছে ইন্দোনেশিয়াসহ সাত দেশ। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (২০ আগস্ট) জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স ও সিঙ্গাপুরের সঙ্গে মিলে ইন্দোনেশিয়া মোট ১৫৪ প্যালেট ত্রাণ ফেলে।

প্রতিটি প্যালেটে কয়েকশ কেজি খাদ্যসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় দ্রব্য ছিল বলে জানানো হয়েছে। তবে মানবিক এই উদ্যোগ সত্ত্বেও স্থানীয়রা বলছেন, ত্রাণ গাজার মানুষের জন্য যথেষ্ট নয়। বরং প্যালেট পড়ে কয়েকজন প্রাণ হারিয়েছেন এবং সীমিত সহায়তা পেতে মানুষকে দৌড়াদৌড়ি করতে দেখা গেছে।

দীর্ঘ অবরোধ ও খাদ্য সরবরাহ বন্ধ থাকায় গাজায় ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। গত ২৬ জুলাই থেকে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে সীমিতভাবে বিমান থেকে ত্রাণ ফেলার অনুমতি দেয় ইসরায়েল। এর আগে টানা দুই মাস গাজায় কোনো খাদ্যশস্য প্রবেশ করতে পারেনি। এ সময় শত শত মানুষ অপুষ্টি ও অনাহারে ভুগেছেন এবং অন্তত ৩০০ জন মারা গেছেন।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর হিসাব অনুযায়ী, গত ২৪ জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় বিমান থেকে ৪১৫ টন ত্রাণ ফেলা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে এর চেয়ে বহু গুণ বেশি সহায়তা প্রয়োজন।




ভারতের মাটিতে আ. লীগের কার্যালয় বন্ধে ঢাকার দাবি, দিল্লির পাল্টা জবাব

ভারতের মাটিতে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যালয় অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। তবে দিল্লি জানিয়েছে, দেশটিতে আওয়ামী লীগ সমর্থিতদের মাধ্যমে বাংলাদেশবিরোধী কোনো কার্যকলাপের বিষয়ে তারা অবগত নয়।

বুধবার (২০ আগস্ট) বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ প্রতিক্রিয়া জানান। বিষয়টি দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।

ঢাকার বিবৃতিতে বলা হয়, দিল্লি ও কলকাতায় নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের কার্যালয় স্থাপনের বিষয়টি সরকারের নজরে এসেছে। এ ধরনের কার্যক্রম বাংলাদেশের জনগণ ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবমাননা এবং দুই দেশের সম্পর্কের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মন্তব্য করে ঢাকা।

তবে মুখপাত্র জয়সওয়াল জানান, ভারত তার ভূখণ্ডে অন্য দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কার্যকলাপ পরিচালনার অনুমতি দেয় না। সেই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশে জনগণের আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত করতে অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন দ্রুত অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশের অভিযোগে বলা হয়েছে, মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ও ফৌজদারি মামলায় পলাতক আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বর্তমানে ভারতের ভূখণ্ডে অবস্থান করছেন এবং সেখান থেকে বাংলাদেশবিরোধী প্রচারণা চালাচ্ছেন। সম্প্রতি দিল্লি প্রেসক্লাবে এমন কার্যক্রমেরও অভিযোগ করে ঢাকা।

এ বিষয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনেও এ দলের ক্রমবর্ধমান তৎপরতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার বলছে, বিষয়টি দুই প্রতিবেশীর সুসম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।




দুই বছরে গাজায় শিশু নিহত প্রায় ১৯ হাজার: আল জাজিরা

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের লাগাতার হামলায় মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। প্রায় দুই বছর ধরে চলা এই আগ্রাসী যুদ্ধে এখন পর্যন্ত নিহত ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা ৬২ হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ১৮ হাজার ৮৮৫ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে।

গাজার সরকারি গণমাধ্যম কার্যালয়ের বরাত দিয়ে বুধবার (২০ আগস্ট) এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা

জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ) জানিয়েছে, গাজায় শিশুদের জন্য আর কোনো নিরাপদ আশ্রয় নেই। ইসরায়েলের অবরোধের কারণে তীব্র খাদ্য ও চিকিৎসা সংকটে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘ পরিচালিত স্কুলগুলোতে লাখো বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিলেও সেই কেন্দ্রগুলোও হামলার শিকার হচ্ছে।

ইউনিসেফের তথ্য উদ্ধৃত করে ইউএনআরডব্লিউএ জানিয়েছে, ইসরায়েল একতরফাভাবে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করার পর গত পাঁচ মাসে গড়ে প্রতি মাসে ৫৪০ জনের বেশি শিশু নিহত হয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবার ভোর থেকে গাজার বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৫১ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে আটজন খাদ্যসাহায্যের লাইনে দাঁড়ানো অবস্থায় প্রাণ হারান। মে মাস থেকে এভাবে খাদ্য সংগ্রহের লাইনে নিহতের সংখ্যা প্রায় দুই হাজারে দাঁড়িয়েছে।

গাজার হাসপাতালগুলোর তথ্যে জানা যায়, খান ইউনিস, দেইর আল-বালাহ ও গাজা সিটির বিভিন্ন স্থানে বিমান ও গোলাবর্ষণে বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক মহলের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে ইসরায়েলি সেনারা বাড়িঘর ধ্বংস ও বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে।