নেপালের প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন

চন্দ্রদ্বীপ ডেক্স: বাংলা বসন্ত  এবার আছড়ে পরেছে হিমালয় কন্যার ঘাড়ে, আর তাতেই লন্ডভন্ড নেপাল  , জেন -জিদের বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি। তার সহকারী প্রকাশ সিলওয়াল এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি পদত্যাগ করেছেন।  রাজধানী কাঠমান্ডুতে ব্যাপক সহিংস দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভের দুই দিন পর মঙ্গলবার তিনি পদত্যাগ করলেন।  এই বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত হয়েছে।

‘জেন জেড প্রোটেস্ট’ বা জেন-জি বিক্ষোভ নামে পরিচিত এই আন্দোলনের একটি প্রধান দাবি ছিল ওলির পদত্যাগ।  বিক্ষোভকারীদের নেপালির পার্লামেন্ট ভবনে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ওলির পদত্যাগের ঘোষণা আসলো।

তিনি আরও বলেন, ‘রাজধানীসহ সারা দেশে সোমবারের বিক্ষোভ ও পরবর্তী ঘটনাগুলো আমাকে দুঃখিত করেছে। কোনো ধরনের সহিংসতা দেশের স্বার্থে ভালো নয়। শান্তিপূর্ণ ও আলোচনাভিত্তিক সমাধানই এখন প্রয়োজন।’




নেপালে উত্তাল বিক্ষোভ: নেতাদের বাড়িতে হামলা-আগুন, কারফিউ জারি

নেপালে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে রাস্তায়। দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে হাজারো জেন-জি তরুণ রাস্তায় নেমে রাজনৈতিক নেতাদের বাড়ি ও দপ্তরে হামলা চালান। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) কাঠমান্ডুসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীরা অগ্নিসংযোগ ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা রাজধানীর সানেপায় নেপালি কংগ্রেস পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী পৃথ্বী সুব্বা গুরুংয়ের ললিতপুরের বাড়ি ও উপপ্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী বিষ্ণু পাউডেলের ভৈসেপাতির বাড়িতে হামলা হয়। সোমবার পদত্যাগ করা সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখকের বাড়িও আক্রমণের শিকার হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও নেপালি কংগ্রেসের প্রধান শের বাহাদুর দেউবার বুধানিলকণ্ঠার বাসভবনে হামলার চেষ্টা হলেও পুলিশ আগেই তা প্রতিহত করে। বিরোধী দল সিপিএন (মাওবাদী কেন্দ্র) চেয়ারম্যান পুষ্প কমল দহলের খুমলতার বাড়িতেও ইটপাটকেল ছোড়া হয়।

এর আগে সোমবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ১৯ জন তরুণ নিহত হওয়ার পর ক্ষোভ আরও বিস্তৃত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিভিন্ন এলাকায় কারফিউ জারি করা হয়েছে।

যদিও সরকার আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়, তবুও বিক্ষোভকারীরা কারফিউ ভেঙে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী, প্রাদেশিক মন্ত্রীসহ বহু রাজনৈতিক নেতার বাড়িঘর বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে সরকার। তবে উত্তেজনা থামার কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




নেপালে বিক্ষোভে সহিংসতা, নিহত বেড়ে ১৬

নেপালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষেধাজ্ঞা এবং সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন শত শত বিক্ষোভকারী।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি সরকার ২৬টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর রাজধানী কাঠমান্ডুতে ছাত্র ও জনগণের বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভ ধীরে ধীরে দেশটির অন্যান্য এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন এলাকায় কারফিউ জারি এবং সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভ দমনে রাবার বুলেট, টিয়ার গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করেছে। ন্যাশনাল ট্রমা সেন্টারের চিকিৎসক ডা. দীপেন্দ্র পাণ্ডে জানিয়েছেন, হাসপাতালে সাতজন মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে, আরও ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বানেশ্বরের এভারেস্ট হাসপাতালে অন্তত পাঁচজন এবং সিভিল হাসপাতালে দুইজন মারা গেছেন। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর।

স্থানীয় এক বিক্ষোভকারী জানান, কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী আন্দোলনে উসকানি দিচ্ছে। তবে বিক্ষোভকারীরা বলছে, তারা ইতোমধ্যে জয়ের দিকে এগোচ্ছে।

নেপালের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছেন, বানেশ্বর এলাকায় পুলিশের গুলিতে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বহুজনের মাথা ও বুকে গুলির আঘাত রয়েছে। চিকিৎসাধীনরা হাসপাতালে অবস্থার উন্নতির জন্য তৎপর চিকিৎসা পাচ্ছেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




নেপালে জেন জি আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত ১৪, আহত শতাধিক

নেপালে জেন জি আন্দোলনের সময় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা ১৪-এ পৌঁছেছে। স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালের বরাত দিয়ে নেপালি সংবাদমাধ্যম দ্য হিমালয়ান টাইমস এ তথ্য জানিয়েছে।

সংঘর্ষে শতাধিক বিক্ষোভকারী, সাংবাদিক এবং নিরাপত্তাকর্মীও আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। নিহতদের মধ্যে ছয়জন ন্যাশনাল ট্রমা সেন্টারে, তিনজন সিভিল হাসপাতালে, তিনজন এভারেস্ট হাসপাতালে, একজন কাঠমান্ডু মেডিকেল কলেজে এবং একজন ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় টিচিং হাসপাতালে মারা গেছেন।

আহতদের সংখ্যা এখনও নির্দিষ্ট নয়। হাসপাতালগুলোর চাপ বেড়ে যাওয়ায় কিছু রোগীকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মৃত ও আহতদের মধ্যে অনেকের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে যখন বিক্ষোভকারীরা সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে পার্লামেন্ট প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জলকামান, টিয়ারগ্যাস এবং গুলি ছুড়ে। এতে বহু বিক্ষোভকারী আহত হন।

নেপালের তরুণরা মূলত সরকারের দুর্নীতি ও ২৬টি অনিবন্ধিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মের—যার মধ্যে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, ইউটিউব এবং স্ন্যাপচ্যাট রয়েছে—নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছে।

সংঘর্ষের পর কাঠমান্ডু জেলা প্রশাসন শহরের বিভিন্ন এলাকায় কারফিউ জারি করেছে। এ আন্দোলন দেশের অন্যান্য বড় শহরেও ছড়িয়ে পড়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




নেপালে বিক্ষোভে সহিংসতা, কাঠমান্ডুতে সেনা মোতায়েন : নিহত ৬

নেপালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও দুর্নীতির প্রতিবাদে তীব্র বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাজধানী কাঠমান্ডুতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে সরকার। এ পর্যন্ত সহিংসতায় অন্তত ৬ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানায়, সম্প্রতি ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, এক্সসহ ২৬টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সরকারিভাবে নিষিদ্ধ করা হয়। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রথমে বাণেশ্বর এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয় এবং দ্রুত পুরো রাজধানীতে ছড়িয়ে পড়ে।

বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিচ্ছে শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্ম। তারা দুর্নীতি বন্ধ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছে। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা আরও বাড়ে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী টিয়ারশেল, জলকামান ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছে। অপরদিকে বিক্ষোভকারীরা লাঠি, গাছের ডাল ও পানির বোতল নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন। অনেকেই সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে দিতে জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরেও প্রবেশ করেন।

সহিংসতার কারণে কাঠমান্ডু জেলা প্রশাসন দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করেছে। তবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কারফিউ অমান্য করে হাজারো মানুষ সড়কে নেমে আসেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছে সেনা ও পুলিশ বাহিনী।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকায় দেশজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক মহল গভীরভাবে ঘটনাপ্রবাহ পর্যবেক্ষণ করছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস আজ

দারিদ্র্য নিরক্ষরমুক্ত হতে বড় বাধা

চন্দ্রদীপ নিউজ  সাত বছর বা তার বেশি বয়সী ২২ শতাংশ মানুষ এখনো নিরক্ষর

বছরের ব্যবধানে ৪ হাজার বেসরকারি প্রাইমারি বিদ্যালয় ও ২ লাখ শিক্ষার্থী বাড়লেও ঝরে পড়ার হার বেড়েছে ৩ শতাংশ ।

স্বাধীনতার পর থেকে দেশে সাক্ষরতার হার বেড়েছে। তবে শতভাগ সাক্ষরতা নিশ্চিতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দারিদ্র্য। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, দেশের দারিদ্র্যের হার যত কমেছে, সাক্ষরতার হার তত বেড়েছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের দারিদ্র্যের হার ছিল ৮০ শতাংশের বেশি আর সাক্ষরতার হার ছিল মাত্র ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ। বর্তমানে দেশে দারিদ্র্যের সেই হার নেমে দাঁড়িয়েছে ২৮ শতাংশে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ প্রতিবেদন ‘বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২৪’ অনুযায়ী দেশের সাত বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর মধ্যে বর্তমানে সাক্ষরতার হার ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশ। সেই হিসাবে ২২ দশমিক ১ শতাংশ জনগোষ্ঠী এখনো নিরক্ষর। ২০১০ সালে দেশে সাক্ষরতার হার ছিল ৫৯ দশমিক ৮২ শতাংশ। দেড় দশকে সাক্ষরতার হার বেড়েছে ১৮ দশমিক ০৮ শতাংশ। এদিকে এক বছরের ব্যবধানে ৪ হাজার বেসরকারি প্রাইমারি বিদ্যালয় ও ২ লাখ শিক্ষার্থী বাড়লেও ঝরে পড়ার হার বেড়েছে ৩ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাক্ষরতার হার নিয়ে সরকারি ও বেসরকারি তথ্যে বড় ধরনের ফারাক রয়েছে। সাক্ষরতার আন্তর্জাতিক সংজ্ঞার সঙ্গেও আমাদের কার্যক্রমের মিল নেই। এ কারণে দেশকে নিরক্ষরমুক্ত করার পরিকল্পনা দিনদিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায়ই বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো দেশেও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় আজ পালিত হবে ‘আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস-২০২৫’। ইউনেসকো নির্ধারিত এবারের আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের প্রতিপাদ্য ‘প্রযুক্তির যুগে সাক্ষরতার প্রসার’।

আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। বাণীতে তিনি বলেন, সাক্ষরতা একটি জাতির উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য অতি প্রয়োজনীয় উপাদান। প্রযুক্তিনির্ভর এই আধুনিক পৃথিবীতে সাক্ষরতার ধারণা আজ শুধু পড়ালেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডিজিটাল জ্ঞান, তথ্য ব্যবহারের দক্ষতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় অংশগ্রহণের সক্ষমতা। এখন তথ্য খুঁজে বের করা, বিশ্লেষণ করা, অনলাইনে শেখা ও দৈনন্দিন সমস্যার সমাধান খোঁজা—এ সবই কার্যকর সাক্ষরতার অংশ। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারে যারা পিছিয়ে পড়ছে, তারা কেবল শিক্ষাবঞ্চিতই নয়, বরং সমাজ ও অর্থনীতির মূল স্রোত থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘প্রযুক্তির যুগে সাক্ষরতার প্রসার’ সময়োপযোগী ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়েছে বলে আমি মনে করি। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকার জন্য কর্মমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম।

উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের জন্য তাদের সাক্ষরজ্ঞান ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরিত করা অত্যন্ত জরুরি।

১৮টি জেলায় এখনো ২৫ শতাংশের বেশি মানুষ লিখতে বা পড়তে পারে না: এক জরিপে দেখা গেছে, দেশের ১৮টি জেলায় এখনো ২৫ শতাংশের বেশি মানুষ লিখতে বা পড়তে পারে না। এ ২৫ শতাংশের সিংহভাগের নিরক্ষতার পেছনে দায়ী দারিদ্র্য। পাশাপাশি রয়েছে অবকাঠামো ও জনবল ঘাটতি, মাঠপর্যায়ের দুর্বলতা ও সমন্বয়হীনতা। শে নিরক্ষরতার হারের দিক থেকে শীর্ষে পার্বত্য জেলা বান্দরবান। আবার দারিদ্র্যের হারের দিক থেকেও শীর্ষে থাকা জেলাগুলোর অন্যতম বান্দরবান। বান্দরবানের পর নিরক্ষরতার হারে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে—ময়মনসিংহ বিভাগের দারিদ্র্যপ্রবণ জেলা জামালপুর, শেরপুর ও নেত্রকোনা এবং উত্তরাঞ্চলের দারিদ্র্যপ্রবণ জেলা কুড়িগ্রাম। দারিদ্র্যের কারণে দেখা যায়, অভিভাবকরা সন্তানদের স্কুলে না পাঠিয়ে কর্মে নিয়োজন করেন। এতে একদিকে অসচ্ছল পরিবারগুলোকে শিক্ষায় ব্যয় করতে হয় না, অন্যদিকে উপার্জন আসে। দারিদ্র্যপ্রবণ এলাকাগুলোয় সাক্ষরতার হার বাড়াতে সরকারি উপবৃত্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু বর্তমানে শিক্ষার্থীদের যে পরিমাণ উপবৃত্তি দেওয়া হয়, দেশে দীর্ঘদিন ধরে বিরাজমান মূল্যস্ফীতি ও শিক্ষার্থীদের পরিবারগুলোর আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় তা যৎসামান্য। উপবৃত্তির অর্থের পরিমাণ বাড়ানো উচিত

দেশে প্রতি চার জনের একজন এখন গরিব: দেশে বিগত তিন বছরে দারিদ্র্য বেড়েছে। প্রতি চার জনের এক জন এখন গরিব। আরও অনেক মানুষ এমন আর্থিক অবস্থায় রয়েছেন যে, অসুস্থতা বা অন্য কোনো সংকটে তারা গরিব হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। ২০২০ সালে করোনা মহামারির আগে তিন দশক ধরে বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার কমছিল। এখন দেখা যাচ্ছে, সেটা বাড়ছে। এটা বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অগ্রযাত্রা পিছিয়ে যাওয়ার লক্ষণ।

 




ক্যানসার ভ্যাকসিনে রাশিয়ার যুগান্তকারী সাফল্য

প্রাণঘাতী ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এক ঐতিহাসিক অগ্রগতি অর্জন করেছে রাশিয়া। দেশটির তৈরি নতুন ভ্যাকসিন “এন্টারোমিক্স” ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে ব্যাপক সাফল্য দেখিয়েছে এবং এখন রোগীদের ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত বলে ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়ার ফেডারেল মেডিকেল অ্যান্ড বায়োলজিক্যাল এজেন্সি (এফএমবিএ)।

রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) ইস্টার্ন অর্থনৈতিক ফোরামে এফএমবিএর প্রধান ভেরোনিকা স্কভোর্টসোভা এ তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, বহু বছর ধরে চলা গবেষণা এবং তিন বছরের প্রাক-ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে এই ভ্যাকসিন নিরাপদ ও কার্যকর।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এন্টারোমিক্স ভ্যাকসিনটি তৈরি হয়েছে এমআরএনএ প্রযুক্তি ব্যবহার করে, যে প্রযুক্তি বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন তৈরির মাধ্যমে। তবে ক্যানসারের ক্ষেত্রে এর ব্যবহার চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।

এই ভ্যাকসিন দুর্বল ভাইরাস ব্যবহার না করে মানব শরীরের কোষগুলোকে প্রোটিন তৈরির নির্দেশনা দেয়। ওই প্রোটিনগুলো শরীরে প্রবেশের পর ক্যানসার কোষ শনাক্ত করে সেগুলোকে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়। পরীক্ষায় দেখা গেছে, বারবার ডোজ দেওয়ার পরেও এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ। সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো—ভ্যাকসিন নেওয়া রোগীদের মধ্যে অনেকের টিউমারের আকার ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছোট হয়েছে অথবা টিউমারের বৃদ্ধি অনেকাংশে কমে গেছে।

এছাড়া, ভ্যাকসিন গ্রহণকারীদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ক্যানসার চিকিৎসার ক্ষেত্রে এটি এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে।

প্রাথমিকভাবে এ ভ্যাকসিনটি কোলন ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহার করা হবে। তবে গবেষকরা জানিয়েছেন, একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তারা গ্লিওব্লাস্টোমা (এক ধরনের মস্তিষ্কের ক্যানসার) এবং বিভিন্ন ধরনের মেলানোমা (গুরুতর ত্বকের ক্যানসার, যার মধ্যে চোখের মেলানোমাও রয়েছে) মোকাবিলায় নতুন ভ্যাকসিন তৈরির কাজও এগিয়ে নিচ্ছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ উদ্যোগ ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন যুগের সূচনা করতে পারে। কারণ দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসার চিকিৎসা জটিল, ব্যয়বহুল এবং ঝুঁকিপূর্ণ হলেও এই ভ্যাকসিন সেটিকে সহজ ও কার্যকর করার সম্ভাবনা জাগিয়েছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার পদত্যাগে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা

জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা পদত্যাগ করেছেন। দলের ভেতরে ভাঙন ও চাপ সামাল দিতে না পেরে রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি। সকাল থেকেই তার পদত্যাগের গুঞ্জন রাজনৈতিক অঙ্গনে ছড়িয়ে পড়েছিল।

সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, ইশিবার পদত্যাগের মধ্য দিয়ে বিশ্বের চতুর্থ বৃহৎ অর্থনীতির দেশ জাপান আবারও নতুন রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল।
তার সরকারের সময় জাপানে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়া, চাল নীতি সংস্কার, আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতির প্রভাব নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছিল।

গত বছর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) এই নেতা। কিন্তু তার নেতৃত্বে দলটি নির্বাচনে পরপর হেরে সংসদের উচ্চ ও নিম্নকক্ষ উভয় ক্ষেত্রেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়। জুলাইয়ের উচ্চকক্ষের ঐতিহাসিক পরাজয় ও মূল্যস্ফীতি তার প্রতি আস্থা আরও কমিয়ে দেয়। বিশেষ করে দলের ডানপন্থি রাজনীতিকরা তার পদত্যাগের দাবি জোরালো করেন।

এলডিপি, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী দীর্ঘ সময় ধরে জাপানে সরকার পরিচালনা করেছে, গত সপ্তাহে সিদ্ধান্ত নেয়—দলে আমূল পরিবর্তন আনা জরুরি। এ সিদ্ধান্তের পর থেকেই ইশিবার ওপর পদত্যাগের চাপ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়।

পদত্যাগের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করেন ইশিবা। চুক্তির আওতায় জাপান যুক্তরাষ্ট্রে ৫৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দেয়। এর বিনিময়ে মার্কিন বাজারে জাপানি অটোমোবাইল শিল্প শুল্ক সুবিধা পাবে। তবে চুক্তি বাস্তবায়নের দায়িত্ব নতুন নেতৃত্বের হাতে যাবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




খসে পড়ল যুক্তরাষ্ট্রের আসল মুখোশ: ট্রাম্পের প্রতিরক্ষা বিভাগকে যুদ্ধ বিভাগে রূপান্তর

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিরক্ষা বিভাগের নাম পরিবর্তন করে ‘যুদ্ধ বিভাগ’ করার নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। এর ফলে ১৯৪৭ সালের আগে ব্যবহৃত ঐতিহাসিক নামটি আবার ফিরল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যান প্রতিরক্ষা বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যা এখন ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে পূর্বাবস্থায় ফিরল।

সমালোচকরা বলছেন, ‘প্রতিরক্ষা’র নামে যুক্তরাষ্ট্রই পরিচালনা করেছে কোরিয়া, ভিয়েতনাম, ইরাক ও আফগানিস্তানের মতো ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ। পেন্টাগনের রেকর্ডে গোপন অভিযান, শাসন পরিবর্তন ও আক্রমণাত্মক যুদ্ধের দীর্ঘ তালিকা রয়েছে। ট্রাম্পের নতুন আদেশ মিত্রদের কাছে আমেরিকার সামরিক অবস্থানকে প্রকাশ্যে স্বীকার করার ইঙ্গিত বহন করছে।

নতুন নামের কারণে মার্কিন সেনাবাহিনীর ইউনিফর্ম, স্থাপনা, ওয়েবসাইটসহ বিভিন্ন স্থাপনায় পরিবর্তন আনতে কোটি কোটি ডলার খরচ হতে পারে। সমালোচকরা বলছেন, এই পরিবর্তন চীন বা রাশিয়ার ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না, বরং শত্রুরা যুক্তরাষ্ট্রকে “যুদ্ধবাজ রাষ্ট্র” হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ পাবে।

ডেমোক্র্যাট সিনেটর অ্যান্ডি কিম এই পদক্ষেপকে “শিশুসুলভ” বলেছেন। সিনেটর জিন শাহীন এটিকে অগ্রাধিকার বিভ্রান্ত করার প্রচেষ্টা বলে উল্লেখ করেছেন। এমনকি রিপাবলিকান নেতা মিচ ম্যাককনেলও সমালোচনা করে বলেছেন, যুদ্ধ বিভাগ বললে সেনাবাহিনীকে যুদ্ধ প্রতিরোধ ও জয়ের জন্য যথাযথভাবে প্রস্তুত করতে হবে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ‘যুদ্ধ বিভাগ’ নাম পুনঃপ্রবর্তনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নীতির আসল চরিত্র প্রকাশ পেয়েছে। প্রতিরক্ষা নয়, বরং বৈশ্বিক আধিপত্যই তাদের মূল লক্ষ্য। কয়েক দশক ধরে যেসব হস্তক্ষেপকে প্রতিরক্ষা বলে আখ্যায়িত করা হয়েছিল, সেগুলো প্রকৃতপক্ষে ছিল আক্রমণ ও দখলদারিত্ব।

চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত বিশ্বে আমেরিকার আধিপত্যবাদী অবস্থানকে স্পষ্ট করেছে। কংগ্রেস স্থায়ীভাবে এ পরিবর্তন অনুমোদন করুক বা না করুক, এই প্রতীকী নাম পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রের আসল চেহারা উন্মোচন করেছে—বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী আসলে প্রতিরক্ষার জন্য নয়, বরং ক্ষমতার আধিপত্য কায়েমের জন্য।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




মোদির নীতি নিয়ে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, কড়া সতর্কবার্তা যুক্তরাষ্ট্রের

ভারতের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কড়া অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উদ্বেগজনক।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক সতর্ক করেছেন—রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি আমদানি অব্যাহত রাখলে ভারতের জন্য বড় ধরনের বাণিজ্যিক ঝুঁকি তৈরি হবে।

তিনি বলেন, “আগামী এক-দুই মাসের মধ্যে ভারত আলোচনায় বসতে বাধ্য হবে এবং শেষ পর্যন্ত ক্ষমা চাইতে হবে। এরপর তারা ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে নতুন চুক্তির চেষ্টা করবে।”

মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন না করলে ভারতের রপ্তানি পণ্যে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হবে।”

এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিকমাধ্যমে মন্তব্য করেছিলেন, “দেখে মনে হচ্ছে আমরা গভীর অন্ধকারে চীনের কাছে ভারত ও রাশিয়াকে হারাচ্ছি।”

লুটনিকের দাবি, ভারত এখনো রাশিয়ার জ্বালানি আমদানি, ব্রিকসে অবস্থান ও বাজার খোলার বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মতো সবচেয়ে বড় বাজারের সঙ্গে সম্পর্ক অবহেলা করলে ভারতকেই তার মূল্য চুকাতে হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫