হিন্দুদের বাড়িঘর-মন্দিরে হামলা নিয়ে ব্যাপক প্রচার, রহস্য উন্মোচন করল বিবিসি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর থেকে যে সহিংসতা চলেছিল, তার মধ্যেই এমন বহু ভুয়া পোস্ট সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। যেখানে দাবি করা হয় বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপরে ব্যাপক অত্যাচার শুরু হয়েছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশের হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘু এবং সেদেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে একটি বিশেষ কমিটি গড়েছে ভারত সরকার। আবার বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় রোববার থেকে হটলাইন চালু করতে চাইছে সেদেশের সরকার।

তবে বাংলাদেশের হিন্দুদের ওপরে ‘ব্যাপক অত্যাচার’ হচ্ছে বলে যেসব ভুয়া পোস্ট সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল, তার বেশিরভাগই ভারতীয় বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা হয়েছিল বলে ফ্যাক্ট-চেকাররা নিশ্চিত করেছেন।

কিন্তু বাংলাদেশের অভ্যন্তর থেকেও এ ধরনের গুজব ছড়ানো হয়েছিল সামাজিক মাধ্যমে, এমনটাও ফ্যাক্ট-চেকাররা বলছেন।

তারা এটাও বলছেন যে, নিশ্চিতভাবেই বাংলাদেশের হিন্দুদের ওপরে কিছু আক্রমণ হয়েছে, বাড়িঘর জ্বালানো হয়েছে। কিন্তু তথ্য যাচাই করতে গিয়ে দেখা গেছে, মুসলমানদের বাড়িঘরও ভাঙচুর করা হয়েছে, জ্বালানো হয়েছে।

এক্ষেত্রে আক্রমণকারীদের লক্ষ্য ছিল আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বাড়িঘর, সম্পত্তি। ধর্মীয় পরিচয় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই গৌণ ছিল, তাদের রাজনৈতিক পরিচয়ের জন্যই তারা আক্রান্ত হয়েছেন।

বাংলাদেশ থেকে আওয়ামী লীগের যেসব স্থানীয় নেতা-কর্মী পালিয়ে ভারতে চলে এসেছেন অথবা আসার চেষ্টা করছেন, তারাও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যে হিন্দু আর মুসলমান– উভয় সম্প্রদায়ের আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বাড়িতেই হামলা হয়েছে।

কিন্তু ভারত থেকে সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট- বিষয়টিকে রাজনৈতিক না রেখে সাম্প্রদায়িক রঙ দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন একাধিক ফ্যাক্ট চেকার।

বিবিসির তথ্য যাচাইয়ের বিভাগ, ‘বিবিসি ভেরিফাই’-ও একই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে।

মন্দির পাহারায় মইনুল: হিন্দু মন্দিরে আক্রমণ হয়েছে বলে যে ধরনের পোস্ট ভাইরাল হয়েছিল, তার কয়েকটি চোখে পড়েছিল চট্টগ্রামের এক বিক্ষোভকারী মইনুলের।

বিবিসির তথ্য যাচাই বিভাগ ‘বিবিসি ভেরিফাই’ যখন তার সঙ্গে যোগাযোগ করে, তিনি সেসময়ে চট্টগ্রাম লাগোয়া ‘শ্রী শ্রী সীতা কালী মাতা মন্দির’ পাহারা দিচ্ছিলেন।

তার বেশ কয়েক ঘণ্টা আগেই দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন শেখ হাসিনা।

মইনুল বলেন, ‘তাদের রক্ষা করার দায়িত্ব তো আমাদের। আমরা সব সরকারি স্থাপনা, মন্দির, গির্জা– সব কিছুই রক্ষা করব।’

তার কথায়, যেসব পোস্ট ছড়াচ্ছে, সেগুলো কিন্তু ‘আমাদের চোখে দেখা বাস্তব ছবির সঙ্গে মিলছে না। ওই সব পোস্ট বিশ্বের সামনে বাংলাদেশ সম্বন্ধে একটা ভুল ছবি তুলে ধরছে।’

বিক্ষোভকারীদের ওপরে ব্যাপক নির্যাতন ও হত্যা শেষে যখন শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালালেন, বিক্ষোভকারী ও বিরোধী দলীয় সদস্যদের ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠা খুব আশ্চর্যের কিছু ছিল না।

অন্যদিকে, থানাগুলিতে আক্রমণ হওয়ার ফলে পুলিশ ছিল না পুরো বাংলাদেশেই। এই সময়েই সাবেক ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বাড়ি-ঘরে লুট চলে, সহিংসতা শুরু হয়।

তবে বাস্তবে দেখা গেছে, যে সাধারণ নাগরিকদের বাড়িতেও লুট চলেছে, তাদেরও কেউ কেউ সহিংসতার শিকার হয়েছেন। ‘বিবিসি ভেরিফাই’ মনে করছে, ব্যাপক সহিংসতার ফলেই সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মনে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

ভারত থেকে ছড়ানো হয় ভুয়া খবর: চারদিকে যখন একটা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি চলছিল, সেই সময়ে ভারতের অতি-দক্ষিণ-পন্থি ‘ইনফ্লুয়েন্সর’রা সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিভ্রান্তিকর ভিডিও শেয়ার করতে থাকেন, যাতে মনে হয় যে বাংলাদেশের হিন্দুদের ওপরে অত্যাচার হচ্ছে।

এ ছাড়া এরকম গুজবও ছড়ানো হয় যে ছাত্র-বিক্ষোভকারীরা ‘ইসলামি কট্টরপন্থি’।

সামাজিক মাধ্যমের ওপরে নজর রাখে ‘ব্র্যান্ডওয়াচ’ অ্যাপ। তারা খুঁজে পেয়েছে যে, ৪ আগস্টের পর থেকে ভুয়া কাহিনীগুলি ছড়ানো হয়েছে এমন একটি হ্যাশট্যাগ দিয়ে, যেটি সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) সাত লক্ষ বার মেনশন হয়েছে।

যেসব অ্যাকাউন্ট থেকে ট্রেন্ডিং পোস্টগুলি করা হয়েছিল, তার প্রায় সবই ভারতে অবস্থান করছে, এমনটাও জানা গেছে ‘ব্র্যাণ্ডওয়াচ’ থেকে।

বাংলাদেশ-ভিত্তিক ফ্যাক্ট-চেকাররাও গত কদিনের সামাজিক মাধ্যম বিশ্লেষণ করে অনেকটা একইরকম তথ্য পেয়েছেন যে, মূলত ভারতের বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকেই হিন্দুদের ওপরে আক্রমণের ভুয়া তথ্য ছড়ানো হয়েছে।

ইউনিভার্সিটি অফ লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ বা ইউল্যাবের অনুমোদনপ্রাপ্ত স্বাধীন তথ্য যাচাই করার উদ্যোগ ‘ফ্যাক্ট ওয়াচ’এর প্রধান, অধ্যাপক সুমন রহমান বলছিলেন, ‘কিছু ঘটনা ঘটেছে ঠিকই, যেখানে হিন্দুদের বাড়ি আক্রমণ করা হয়েছে। তবে প্রায় সব ক্ষেত্রেই ওই ব্যক্তিরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি।’

‘কিন্তু এমন একটা আখ্যান তৈরি করা হয়েছে, যাতে মনে হচ্ছে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হচ্ছে। এটা একেবারেই ভুল আখ্যান ছড়ানো হয়েছে। যেসব অ্যাকাউন্ট থেকে এই ভুয়া তথ্য ছড়ানো হয়েছে, সেগুলির বেশিরভাগই ভারতের,’ বলেন তিনি।

আবার ঢাকার ফ্যাক্ট চেকার রিদওয়ানুল ইসলাম বলছিলেন ভারতীয় অ্যাকাউন্টগুলি থেকেই বেশিরভাগ ভুয়া তথ্য ছড়ানো হয়েছে।

‘তবে বাংলাদেশের ভেতর থেকেও হিন্দুদের ওপরে আক্রমণের ভুয়া তথ্য ছড়ানো হয়েছে বলে আমাদের অনুসন্ধানে জানতে পারছি।’

হিন্দুদের বাড়ি, মন্দির ‘জ্বালানো’র ভুয়া খবর: সামাজিক মাধ্যমে একটা পোস্ট ভাইরাল হয়েছিল, যাতে দাবি করা হয়েছিল যে ‘হিন্দু ক্রিকেটার’ লিটন দাসের বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

অন্য অনেক অ্যাকাউন্ট থেকে সেই পোস্ট শেয়ার করে লেখা হয় যে, কট্টর ইসলামপন্থিরা তার বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে।

কিন্তু যে বাড়িটি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে ভুয়া তথ্য ছড়ানো হয়েছিল, সেটা যে আসলে বাংলাদেশের জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার, তা এখন সবার জানা।

আরেকটি ভাইরাল হওয়া পোস্টে দাবি করা হয়েছিল যে, ‘বাংলাদেশের ইসলামি জনতা’ একটা মন্দিরে আক্রমণ করেছে।

চট্টগ্রামের ‘নবগ্রহ মন্দির’এর কাছে আগুন লাগানোর ভিডিও ছড়ানো হয়েছিল। তবে দেখে বোঝা যাচ্ছিল যে মন্দিরে আগুন লাগেনি।

বিবিসি ভেরিফাইয়ের কাছে ছবি এসেছে যে, ওই মন্দিরের কোনও ক্ষতি হয়নি। তবে ওই মন্দিরের পিছনে আওয়ামী লীগের একটি কার্যালয়ই আসল লক্ষ্য ছিল বলে মনে হয়েছে।

মন্দিরের কর্মকর্তা স্বপন দাস বিবিসিকে জানিয়েছেন, ওই দলীয় কার্যালয় থেকে চেয়ার-টেবিল বার করে আগুন লাগানো হয়েছিল মন্দিরটির পিছন দিকে। এ ঘটনা ৫ আগস্ট দুপুরের।

অগ্নিকাণ্ডের পরের কয়েকটি ছবিতে দেখা গেছে যে, আওয়ামী লীগ নেতাদের ছবিসহ বেশ কিছু পোস্টারও পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।

তিনি আরও জানিয়েছেন, ২৪ ঘণ্টাই মন্দিরে পাহারা দিচ্ছেন মানুষ।

লক্ষ্য আওয়ামী লীগ, হিন্দুরা নয়: আরও দুটি ভাইরাল হওয়া পোস্টে দেখা গেছে যে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে দাবি করা হয়েছে যে হিন্দুদের ওপরে আক্রমণ হয়েছে। কিন্তু যাচাই করে দেখা গেছে যাদের ওপরে আক্রমণ করা হয়েছিল, তারা আসলে আওয়ামী লীগের নেতা এবং তারা মুসলমান।

এইসব পোস্টই ভারতীয় দক্ষিণ-পন্থি অ্যাকাউন্টগুলো থেকে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ‘সেভবাংলাদেশীহিন্দু’ হ্যাশট্যাগ দিয়ে সেসব শেয়ার করা হয় হিন্দুত্ববাদীদের ‘ভেরিফায়েড’ অ্যাকাউন্ট থেকে।

সম্প্রতি আরও একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে যে ‘ইসলামি জনতা’ হিন্দুদের গ্রাম আক্রমণ করেছে এবং একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী পুকুরে সাঁতার কেটে পালানোর চেষ্টা করছে। ভারতীয় ফ্যাক্ট-চেকাররাই খুঁজে বার করেছেন যে ওই ব্যক্তি মুসলমান।

ফ্যাক্ট-চেকার রিদওয়ানুল ইসলামের কথায়, ‘শুধু যে সামাজিক মাধ্যমে গুজব ছড়ানো হয়েছে, তা নয়। কয়েকটি টিভি চ্যানেল এবং পোর্টালও সামাজিক মাধ্যমের ওই সব গুজবের ওপরে ভিত্তি করে সংবাদ প্রতিবেদন পর্যন্ত বানিয়ে ফেলেছে।’

দুই সরকার যা ব্যবস্থা নিচ্ছে: বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপরে ব্যাপক আক্রমণ হচ্ছে, এই তথ্যের প্রেক্ষিতে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একটি কমিটি গড়ে দিয়েছেন, যারা বাংলাদেশে ভারতীয় নাগরিক, হিন্দু এবং অন্যান্য সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার বিষয়টি দেখভাল করবেন।

ওই কমিটির প্রধান করা হয়েছে বিএসএফের পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান, অতিরিক্ত মহাপরিচালক রভি গান্ধীকে। অন্য সদস্যরা হলেন- বিএসএফের দক্ষিণ বঙ্গ এবং ত্রিপুরা সীমান্ত অঞ্চলের দুই আইজি এবং ল্যান্ড পোর্ট অথরিটির দুই প্রতিনিধি।

অমিত শাহ এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, বাংলাদেশের হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘু এবং সেদেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বিশেষ কমিটি গড়ল ভারত সরকার। এই কমিটি বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে- যাতে সেখানে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিক, হিন্দু এবং অন্যান্য সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করবে। বিএসএফের পূর্ব কমান্ডের এডিজি এই কমিটির প্রধান হবেন।

ওই কমিটির একজন সদস্য বিবিসিকে জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেরকম টুইটে লিখেছেন, বাংলাদেশে কেউ সমস্যায় আছেন, এরকম খবর পেলে আমরা সেদেশে আমাদের কাউন্টারপার্ট, অর্থাৎ বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করে সমস্যা মেটানোর কাজ করব।

যেরকম শুক্রবার একটা সমস্যা তৈরি হয়েছিল কোচবিহারের শিতলখুচিতে। বাংলাদেশের দিকে বহু মানুষ ভারতে প্রবেশ করতে চেয়ে সীমান্তের অপর পাড়ে জড়ো হয়েছিলেন। আমরা বিজিবির সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করে তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করি। শনিবার কিন্তু এভাবে কেউ জড়ো হয়নি।

আবার বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারও হিন্দুদের সহায়তার জন্য রোববার থেকে একটা হটলাইন চালু করছে।

এক সংবাদ সম্মেলনে শনিবার এ কথা জানান অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন।

তিনি বলেন, কোথাও যদি সংখ্যালঘুদের ওপর কোনও হামলা বা সহিংসতার ঘটনা ঘটে হটলাইনে জানালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে ব্যবস্থা নেবেন তারা।

‘ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বাড়ি-ঘর, উপাসনালয়ে হামলার খবর আসছে’ মন্তব্য করে হোসেন বলেন, সরকারকে অস্থিতিশীল করার পায়তারা এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করার চেষ্টা চলছে।

আমরা ফাঁদে পা দেব না: চট্টগ্রামের ‘শ্রী শ্রী সীতা কালী মাতা মন্দির’-এর বাইরে মুসলমান আর হিন্দু ছাত্ররা কথা বলছিলেন সম্প্রীতি নিয়ে, ভবিষ্যৎ নিয়ে।

‘এই সব গুজব ছড়ানোর উদ্দেশ্য হলো একটা বিশৃঙ্খলা তৈরি করা, হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি করা,’ বলছিলেন মইনুল।

‘তবে আমরা ফাঁদে পা দেব না’,  জানালেন তিনি।

এলাকার আরেক বাসিন্দা ছোটন নিয়মিত ওই মন্দিরটিতে যান। তিনি তার মুসলমান পড়শিদের ধন্যবাদ দিচ্ছিলেন।

‘তাদের ধন্যবাদ। যতক্ষণ না এই কঠিন সময়টা আমরা পার করতে পারছি, ততক্ষণ যেন তারা এভাবেই পাশে থাকেন। স্বাধীন বাংলাদেশে ভবিষ্যতেও যেন আমরা এভাবেই একসঙ্গে কাটাতে পারি’, বললেন ছোটন।




আল-জাজিরার প্রতিবেদন : বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে বিভ্রান্তিকর খবর প্রচার, ‘আতংক ছড়াচ্ছে’ ভারতের গণমাধ্যম

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। তার দেশত্যাগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভারতের কয়েকটি গণমাধ্যম বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার খবর প্রচার শুরু করে।

সেসব খবরে বলা হয়, ‘ইসলামপন্থি নানা বাহিনী’ সংখ্যালঘু, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর হামলা চালাচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ ভারতের বেশকিছু গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও ‘আতঙ্ক ছড়ানো’ বিভিন্ন ভিডিও, ছবি ও সংবাদ প্রকাশ পেতে শুরু করে।

সম্প্রতি টাইমস গ্রুপের মালিকানাধীন মিরর নাও–এর ইউটিউব চ্যানেলে একটি ভিডিও প্রকাশ কর হয়। যেটির শিরোনাম ছিল, ‘বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলা? উত্তেজিত জনতার গণহত্যা, হত্যা’। ওই ভিডিওতে সহিংসতা এবং চারটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চিত্র দেখানো হয়। তবে আগুন দেওয়া চারটি বাড়ির মধ্যে দুটির মালিক আবার মুসলিম।

এ বিষয়ে আল–জাজিরার খবরে দাবি করে বলা হয়েছে, ভিডিওটির শিরোনাম পুরোপুরি বিভ্রান্তিকর। ওই সব ঘটনায় কোনো ধরনের গণহত্যা হয়নি। কোনো রকম প্রমাণ না দিয়েই চ্যানেলটির ওই ভিডিওতে আরও কিছু দাবি করা হয়। যেমন- ‘উত্তেজিত জনতা ২৪ জনকে জীবন্ত পুড়িয়ে দিয়েছে’, ‘হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছেন সংখ্যালঘুরা’। আসলে ভিডিওতে যে চারটি বাড়িতে আগুন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, তার একটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের।

স্বাধীনভাবে যাচাই করে দেখা হয়েছে দাবি করে আল–জাজিরা বলেছে, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশত্যাগের দিন দুজন হিন্দু নিহত হয়েছেন। তাদের একজন পুলিশ সদস্য এবং অপরজন হাসিনার দল আওয়ামী লীগের এক কর্মী।

এদিকে ভারতের বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে এ ধরনের দাবিও করা হয়, ‘শিগগিরই বাংলাদেশ থেকে এক কোটির বেশি শরণার্থী ভারতের পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করবে।’

ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতা শুভেন্দু অধিকারীর বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া এ ধরনের একটি খবর প্রকাশ করে।

ভারতের সরকার ঘনিষ্ঠ সংবাদ সংস্থা এএনআই ভারতের একজন ছাত্রনেতার বরাত দিয়ে বলেছে, প্রতিবেশি দেশের এই গণ–আন্দোলন ‘বাংলাদেশের শত্রুদের সাজানো চক্রান্ত’।

টাইমস অব ইন্ডিয়ায় এ বিষয়টি আরও স্পস্টভাবে তুলে ধরে বলা হয়, ‘জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটাতে’ এ আন্দোলন করেছে।

ভারতীয় গণমাধ্যমে এ ধরনের খবর পরিবেশন নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহেদ-উর-রহমান আল–জাজিরাকে বলেন, ওই সংবাদগুলো মূলত ‘ইসলামভীতির দৃষ্টিকোণ’ থেকে পরিবেশন করা হয়েছে।

এ রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলন একসময় গণ–আন্দোলনে পরিণত হয়। বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ওই আন্দোলনে যোগ দেন। কিন্তু ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো কোথাও না কোথাও পুরো বিষয়টিকে তাদের ‘ইসলামভীতির চোখ’ দিয়ে ব্যাখ্যা করছে।’

এদিকে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর ভারতের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে সেই খবর প্রকাশ করে বলা হয়, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার-সার্ভিস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই) বাংলাদেশের এ বিক্ষোভে উসকানি দিয়েছে। কারণ তারা চায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং তাদের রাজনৈতিক মিত্র জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসুক এবং দেশটি একটি ইসলামিক রাষ্ট্রে পরিণত হোক।

এমনকি কয়েকটি গণমাধ্যমে ভারত সরকারকে সম্ভাব্য শরণার্থী সংকট মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকতেও পরামর্শ দেওয়া হয়। দাবি করে বলা হয়, বাংলাদেশ থেকে হিন্দুদের তাড়িয়ে দেওয়া হবে।

দ্য ইকোনমিক টাইমস–এর কূটনীতিবিষয়ক সম্পাদক দীপাঞ্জন আর চৌধুরী তার এক্স হ্যান্ডলে এক পোস্টে লেখেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামীর সক্রিয় হওয়াটা না সে দেশের জন্য ভালো হবে, না ভারতের জন্য। সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াত সীমান্তে সন্ত্রাসকে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছে…।’

গুজরাটের টেলিভিশন স্টেশন চ্যানেল টিভি-নাইন বাংলাদেশের গণবিক্ষোভকে ‘অভ্যুত্থান’ বলেছে। সামাজিক মাধ্যম এক্স–এ তাদের ১০ লাখের বেশি অনুসারী রয়েছে। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছে, ‘বাংলাদেশে এ অভ্যুত্থানের পেছনে কি আইএসআই? সহিংস হামলার পেছনে কি জামায়াতে ইসলামী?’

তবে বাংলাদেশের আন্দোলন নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো যেভাবে খবর প্রকাশ করেছে, তা স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে জানিয়েছে আল–জাজিরা।

বাংলাদেশের গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের দিন (৫ আগস্ট) রাতে দেশটির ৬৪ জেলার মধ্যে প্রায় ২০টি জেলায় হিন্দুদের বাড়িতে হামলা ও লুটপাট হয়েছে।

যেসব জেলায় এ হামলা ও লুটের ঘটনা ঘটেছে, আল–জাজিরার প্রতিনিধিরা সেসব জেলার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারে যে, ‘ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে নয়, বরং রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেই ওই সব বাড়িতে হামলা ও লুটের ঘটনা ঘটেছে।’

অন্যদিকে শেখ হাসিনার পতনের পর তার ছেলে যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা সজীব ওয়াজেদ জয় ভারতীয় বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন এবং গুজব ছড়িয়ে চলেছেন বলে মনে করেন মোস্তাফিজুর। তিনি বলেন, তিনি কোনো প্রমাণ ছাড়াই হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা হওয়ার দাবি করছেন। বলছেন আইএসআই এর পেছনে রয়েছে।




ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে হাসিনা সরকারের পতন : যেভাবে পালালো ৯০ মন্ত্রী-এমপি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তার মন্ত্রী-এমপি ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের দেশ ছেড়ে পালানোর হিড়িক পড়েছে। কেউ দেশ ছাড়ছেন একা, কেউ আবার সপরিবারে।

সংবাদ মাধ্যম যুগান্তর আজ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে,  অনেকে ভয়ে দেশের অভ্যন্তরে আত্মগোপনে চলে গেছেন। শুধু মন্ত্রী-এমপি বা প্রভাবশালীই নয়, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতারাও ভয়ে আত্মগোপনে গেছেন।

এই তালিকায় আছেন আওয়ামী লীগ দলীয় প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলার সময় গত ১৪ জুলাই থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত ২৭ দিনে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন ৯০ জন সাবেক মন্ত্রী-এমপি ও রাজনৈতিক নেতা। এছাড়া বিমানবন্দরে আটক করা হয়েছে অন্তত ১০ জন মন্ত্রী-এমপি ও প্রভাবশালীদের।

বিমানবন্দরে এসেও পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ফিরে গেছেন কমপক্ষে ২৫ জন মন্ত্রী-এমপি, রাজনৈতিক নেতা ও দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তা। শাহজালাল বিমানবন্দরসহ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এদিকে সরকার পতনের একদিন পর থেকে ৬ আগস্ট শাহজালালসহ দেশের সবগুলো বিমানবন্দরে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ সব ইমিগ্রেশন চেক পয়েন্ট একাধিক তালিকা পাঠানো হয়। এই তালিকায় হাসিনা সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয়, মহানগর ও জেলা কমিটির নেতাদের নামও রয়েছে।

এছাড়া হাসিনা সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, জাতীয় সংসদের এমপি, সংসদীয় কমিটিগুলোর সভাপতি এবং প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা দলবাজ কর্মকর্তাদের নামও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে।

হাসিনা সরকারের পতনের পর ৬ আগস্ট দেশ ছেড়ে পালানোর সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটক হন সাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক। কিন্তু ওইদিন দেশ ছাড়েন সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। ইমিগ্রেশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

পদত্যাগ করে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান সোমবার দুপুরে। তার আগেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান আওয়ামী লীগের অনেক শীর্ষ নেতা, আইনপ্রণেতা ও মন্ত্রী।

রোববার রাতেই সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দেশ ছাড়েন বলে জানা গেছে। তিনি সদ্য সাবেক সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। রোববার সকালে বিমানের একটি ফ্লাইটে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন শেখ হাসিনার আত্মীয় ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস।

আন্দোলনের শুরু থেকেই নানা তৎপরতায় ব্যস্ত ছিলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। সোমবার সকাল থেকে তাকে দেখা যায়নি। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ। তিনিও দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন বলে জানা গেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ধানমন্ডির বাসভবন সোমবার ভাঙচুর করা হয়। তবে তিনি ঠিক কোথায় আছেন জানা যায়নি। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ।

সোমবার সারাদিন রাজধানীর বনানীর বাসায় অবস্থান করলেও শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী এদিন রাতে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন বলে জানা গেছে। তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাতের ফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে। তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ১৪ জুলাই ভোর ৬টা ৫০ মিনিটে টার্কিশ এয়ারলাইন্সে দেশ ছাড়েন নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ নজরুল ইসলাম বাবু।

ওইদিন বেলা ২টায় থাই এয়ারওয়েজের টিজি-৩২২ ফ্লাইটে ব্যাংকক যান কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুল আরেফিন। একই বিমানে ব্যাংকক যান সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য দেওয়ান জাহিদ আহমেদ মালেক।

পরের দিন ১৫ জুলাই রাত ১২টা ১৭ মিনিটে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের এসকিউ-৪৪৭ ফ্লাইটে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন। একই ফ্লাইটে আরও পালান দিনাজপুর-৬ আসনের শিবলী সাদিক, টাঙ্গাইল-৫ আসনের মো. সানোয়ার হোসাইন ও নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুল।

এদিন সকাল ৭টা ৩৯ মিনিটে বিমান বাংলাদেশের বিজি-৩৯১ ফ্লাইটে কলকাতা পাড়ি জমান ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মশিউর রহমান মোল্লা সজল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ১৪ জুলাই ভোর ৬টা ৫০ মিনিটে টার্কিশ এয়ারলাইন্সে দেশ ছাড়েন নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ নজরুল ইসলাম বাবু।

ওইদিন বেলা ২টায় থাই এয়ারওয়েজের টিজি-৩২২ ফ্লাইটে ব্যাংকক যান কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুল আরেফিন। একই বিমানে ব্যাংকক যান সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য দেওয়ান জাহিদ আহমেদ মালেক।

পরের দিন ১৫ জুলাই রাত ১২টা ১৭ মিনিটে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের এসকিউ-৪৪৭ ফ্লাইটে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন। একই ফ্লাইটে আরও পালান দিনাজপুর-৬ আসনের শিবলী সাদিক, টাঙ্গাইল-৫ আসনের মো. সানোয়ার হোসাইন ও নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুল।

এদিন সকাল ৭টা ৩৯ মিনিটে বিমান বাংলাদেশের বিজি-৩৯১ ফ্লাইটে কলকাতা পাড়ি জমান ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মশিউর রহমান মোল্লা সজল।

এছাড়া ১৬ জুলাই বেলা ১১টা ৩৭ মিনিটে এমিরেটাস এয়ারলাইন্সে (ইকে-৫৮৩) দুবাই চলে যান সাবেক রেলমন্ত্রী ও কুমিল্লা-১১ আসনের এমপি মুজিবুল হক। ওইদিন বেলা ১২টা ৫ মিনিটে বাংলাদেশ বিমান বিজি-৩০৮ ফ্লাইটে ম্যানচেস্টারের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা।

বেলা ১১টা ২৬ মিনিটে বিমানের বিজি-৩১৫ ফ্লাইটে মালয়েশিয়া যান সাবেক গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী রুমানা আলী। ওইদিন দুপুর আড়াইটায় দেশ ছাড়েন নোয়াখালী-২ আসনের এমপি মোরশেদ আলম, ১৭ জুলাই রাত আড়াইটায় ক্যাথে প্যাসেফিক এয়ারলাইন্সে (সিএক্স-৬৬২) হংকং যান ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য ফায়জুর রহমান।

একই তারিখ রাত ১১টা ৫০ মিনিটে চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্সে (সিজেড-৩৯১) চীনের গুয়াংজুর উদ্দেশে দেশ ছাড়েন কুমিল্লা-৮ আসনের আবু জাফর মোহাম্মদ শফিউদ্দিন। রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সে (এসকিউ-৪৪৭) সিঙ্গাপুর পালান ময়মনসিংহ-৮ আসনের মাহমুদুল হাসান সুমন।

১৮ জুলাই সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৫৮৪ ফ্লাইটে সিঙ্গাপুরে যান সাতক্ষীরা-৩ আসনের এমপি ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী এএফএম রুহুল হক।

বিসিবির প্রেসিডেন্ট, ক্রীড়ামন্ত্রী ও কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের এমপি নাজমুল হাসান পাপন গত ২০ জুলাই বেলা ১২টা ৫৫ মিনিটে শ্রীলংকান এয়ারলাইন্সে (ইএল-১৯০) দেশ ছাড়েন।

২১ আগস্ট রাত ১১টা ৪০ মিনিটে দেশ ছাড়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের এমপি সৈয়দ একেএম একরামুজ্জামন, ২২ আগস্ট বিজি ৫৮৪ যোগে সিঙ্গাপুর যান নোয়াখালী-২ আসনের এমপি মোরশেদ আলম, ২৫ জুলাই বেলা ১২টা ১০ মিনিটে ব্যাংককের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন কুমিল্লা-৫ আসনের এমপি এ এম তাহের। ওইদিন দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে ব্যাংককে যান ময়মনসিংহ-৭ আসনের এবিএম আনিসুজ্জামান। বিকাল ৬টা ১০ মিনিটে এমিরেটাস এয়ারলাইন্সে করে কানাডার উদ্দেশে দেশ ছাড়েন সংরক্ষিত নারী আসনের নীলুফার আনজুম।

সন্ধ্যা ৭টা ৪৮ মিনিটে এমিরেটাস এয়ারলাইন্সে করে কানাডা পালান অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়েশা খান। ২৬ জুলাই ভোর ৫টা ২০ মিনিটে কাতার এয়ারলাইন্সে (কিউআর-৬৪৩) গ্রিসে পালান কুমিল্লা-৪ আসনের আবুল কালাম আজাদ।

সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব ২৭ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এমিরেটাস এয়ারলাইন্সে ইকে-৫৮৭ ফ্লাইটে দুবাইয়ের উদ্দেশে দেশত্যাগ করেন। ৩ আগস্ট দেশ ছাড়েন ঢাকা-৪ আসনের এমপি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা।

৪ আগস্ট এমিরেটাস এয়ারলাইন্স ইকে ৫৮৫ যোগে দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে সাবেক এমপি নুর ই হাসনা চৌধুরী লিলির পরিবারের একজন সদস্য দুবাই যান। একইদিন সাবেক এমপি মোহাম্মদ হাবিব হাসানের মেয়ে বিজি ৫৮৪ যোগে দেশ ছাড়েন।

৫ আগস্ট দেশ ছাড়েন সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রীর স্ত্রী, সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, সাবেক স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলামের মেয়ে ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী আব্দুস শহীদ।

আলোচিত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ চৌধুরী ২৮ জুলাই ২টায় এমিরেটাস এয়ারে (ইকে-৫৮৫) নেদারল্যান্ডসে যান। তিনি আবার ৩ আগস্ট ফেরত আসেন। ৬ আগস্ট হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর দিয়ে দেশত্যাগের সময় তাকে আটক করা হয় বলে কোনো কোনো সংবাদমাধ্যমে খবর আসে। ২৮ জুলাই রাত সাড়ে ১০টায় ইউএস-বাংলার বিএস-৩০৭ ফ্লাইটে সিঙ্গাপুর যান কুমিল্লা-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর আলম।

২৯ জুলাই বেলা ১১টা ১০ মিনিটে এমিরেটাসে (ইকে-৫৮৩) তেহরান যান সাবেক বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু। ওইদিন বিকাল ৩টা ৪০ মিনিটে নভোএয়ারে কলকাতা যান যশোর-৩ আসনের কাজী নাবিল আহমেদ। একইদিন বিকাল ৫টা ৫০ মিনিটে বিমানের বিজি-৩৩৭ ফ্লাইটে মদিনা যান বরগুনা-৫ আসনের মো. মজিবুর রহমান মজনু।

৩০ জুলাই ২টা ৪০ মিনিটে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সে (এমএইচ-১৯৭) ইন্দোনেশিয়ার উদ্দেশে দেশত্যাগ করেন পটুয়াখালী-৩ আসনের এসএম শাহাজাদা। ৩১ জুলাই বেলা ২টায় এমিরেটাস এয়ারলাইন্সে (ইকে-৫৮৫) নিউইয়র্ক যান ঢাকা-১৮ আসনের খসরু চৌধুরী।

এদিন দুপুর ১টা ১৬ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৩৯৭ ফ্লাইটে দিল্লি পাড়ি দেন শরীয়তপুর-৩ আসনের নাহিম রাজ্জাক। একইদিন রাত ১১টা ২০ মিনিটে চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্সে (সিএস-৩৯২) চীনের গুয়াংজু যান কুমিল্লা-৮ আসনের আবু জাফর মো. শফিউদ্দিন।

২ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টা ২৩ মিনিটে টার্কিশ এয়ারের টিকে-৭১৩ ফ্লাইটে ইস্তাম্বুল যান ঝিনাইদহ-২ আসনের নাসের শাহরিয়ার জাহিদী। এদিন রাত ১০টা ৫০ মিনিটে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সে (বিএস-৩০৭ ফ্লাইটে) সিঙ্গাপুর যান সংরক্ষিত মহিলা আসনের পারুল আক্তার।

একইদিনে সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানে (বিজি-৫৮৪) সিঙ্গাপুর যান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস। ৪ আগস্ট বেলা ১২টায় বাংলাদেশ বিমানে (বিজি-৩৯৭) ঢাকা ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সাবেক সচিব নেত্রকোনা-৪ আসনের সাজ্জাদুল হাসান।

৫ আগস্ট রাত ১২টায় সিঙ্গাপুর এয়ারে (এসকিউ-৪৪৭) সিঙ্গাপুর গেছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল। একইদিন রাত ২টা ৩৫ মিনিটে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সে (এমএইচ-১৯৭) মালয়েশিয়া যান সাবেক প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। এদের মধ্যে কয়েকজন দেশে ফিরে আসার কথা থাকলেও জানা গেছে সরকার পতনের পর তাদের অনেকে আর ফিরে আসেননি।

এছাড়া দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। এছাড়া আওয়ামী লীগের প্রায় সব কেন্দ্রীয় নেতা ও এমপি-মন্ত্রীদের ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। কোনোভাবে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

ধারণা করা হচ্ছে, এদের অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য দেশ ত্যাগ করেছেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাদের মধ্যে কয়েকজন ইতোমধ্যে দেশ ছেড়েছেন বলেও জানা গেছে।

৬ আগস্ট বিকালে ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত ও ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াজ মাহমুদকে শাহজালাল বিমানবন্দরে আটক করা হয়।

দেশ ছেড়ে পালানোর পাশাপাশি আত্মগোপনে চলে গেছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের বেশির ভাগ প্রভাবশালী নেতা এবং এমপি-মন্ত্রীরা। অনেকেই চেষ্টাও করছেন দেশ ত্যাগের। দলের সহযোগী এবং ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীরাও গা-ঢাকা দিয়েছেন। সারা দেশে দলীয় নেতাকর্মীদের বাড়ি-ঘরে হামলা, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ অব্যাহত রয়েছে। হামলা-মামলার ভয়ে আত্মীয়স্বজনের কাছে আশ্রয় নিয়েছেন অনেকে।

সর্বশেষ ৪ আগস্ট পর্যন্ত ঢাকাসহ সারা দেশেই মাঠে ছিল আওয়ামী লীগ ও দলটির সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। দেশে বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টাও করেছিলেন তারা। সোমবার সকাল থেকে পালটে যায় দৃশ্যপট। ক্ষমতা থেকে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দিন সকাল থেকে দলটির নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে চলে যান।

শুধু তাই নয়, দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, দলীয় সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়, তেজগাঁওয়ের ঢাকা জেলার কার্যালয় ও ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু ভবনে হামলা, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটলেও দলের কাউকে তা প্রতিরোধ করতে দেখা যায়নি।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, শনিবার পর্যন্ত শতাধিক মন্ত্রী, এমপি ও নেতা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। তারা ভারত, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, চীন ও দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমান। অনেকেই নিজে যেতে না পারলেও পাঠিয়ে দিয়েছেন পরিবারের সদস্যদের।

সূত্রে জানা গেছে, এখনো দেশ ছাড়ার চেষ্টা করেছেন আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-মন্ত্রী। চট্টগ্রাম-৩ সন্দ্বীপ আসনের সাবেক এমপি মাহফুজুর রহমান মিতা সপরিবারে দেশ ছেড়ে অস্ট্রেলিয়া পালানোর জন্য শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গিয়েও ছাত্র-জনতার দৌড়ানি খেয়ে ফিরে আসেন। দ্বিতীয় দফা কলকাতা যাওয়া চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন।

এদিকে দলীয় প্রধান, দলের শীর্ষ নেতা এবং এমপি-মন্ত্রীদের দেশ ছাড়া ও আত্মগোপনের বিষয়টি ভালোভাবে নিচ্ছে না আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।




রোহিঙ্গাদের উপর ড্রোন হামলা, শতাধিক নিহতের শঙ্কা

চন্দ্রদ্বীপ আন্তর্জাতিক :: মিয়ানমারে সহিংসতা থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার সময় ড্রোন হামলায় বহু রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন। প্রায় শতাধিক রোহিঙ্গা নিহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। হামলা থেকে বেঁচে যাওয়াদের মধ্যে কয়েকজন গণমাধ্যমকে ২০০ জন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে আবার অপর এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছে ৭০-৮০ জনের নিহত হয়েছে।

শনিবার (১০ আগস্ট) ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স তাদের প্রতিবেদনে ড্রোন হামলায়ে বহু নিহতের কথা জানালেও নির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ করেনি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপর ড্রোন হামলা হয়। তারা জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসছিলেন। এছাড়া উল্লেখ করা হয় ড্রোন হামলার পর মরদেহের স্তূপ জমে গিয়েছিল। যারা বেঁচে গিয়েছিলেন তারা ওই সময় স্তূপে গিয়ে নিজেদের পরিবার-পরিজনের খোঁজ করছিলেন।

বিগত কয়েকদিন ধরেই রাখাইন রাজ্যের সব জায়গায় মিয়ানমারের জান্তা বাহিনী এবং বিদ্রোহীদের মধ্যে লড়াই হচ্ছিল। এই হামলা সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গাদের উপর হওয়া হামলার মধ্যে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী বলে উল্লেখ করেছে অনেকে।

তিনজন প্রত্যক্ষদর্শী গণমাধ্যমাকে জানিয়েছেন, বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি এই ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তবে আরাকান আর্মি অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তারা এর বদলে সেনাবাহিনীর উপর দায় চাপিয়েছে। অপরদিকে সেনাবাহিনীও ভয়াবহ এই হামলার দায় বিদ্রোহীদের উপর দিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে কর্দমাক্ত ভূমিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে মরদেহ। তাদের স্যুটকেস এবং ব্যাগও পাশেই পড়েছিল।

 




গাজায় যুদ্ধ বিরতির আহ্বানে সুইজারল্যান্ডের সমর্থন

চন্দ্রদ্বীপ আন্তর্জাতিক :: গাজা উপত্যকায় অবিলম্বে যুদ্ধ বিরতির যে আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কাতার এবং মিশর, সে আহ্বানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে সুইজারল্যান্ড। শুক্রবার দেশগুলি গাজায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানোর পর সুইজারল্যান্ড এ সমর্থনের কথা ঘোষণা করে।

শনিবার (১০ আগস্ট) সুইস কনভেডারেশনের প্রেসিডেন্ট ভিয়োলা আমহার্ডের ঘোষণার বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম ইয়েনি সাফাক এ খবর জানায়।

খবরে বলা হয়, সুইস কনভেডারেশনের প্রেসিডেন্ট ভিয়োলা আমহার্ড গাজা অঞ্চলের মানুষের চরম ভোগান্তির অবসানে জরুরিভিত্তিতে গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

খবরে আরো বলা হয়, মার্কিন যু্ক্তরাষ্ট্র, কাতার এবং মিশর যে গাজায় যুদ্ধবিরতির ডাক দিয়েছে, সুইজারল্যান্ড সে ডাকে সাড়া দিয়ে জানিয়েছে, অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির কার্যকর হোক।

ভিয়োলা আমহার্ড মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্সে (সাবেক টুইটার) এক বার্তায় লেখেন, আর দেরি না করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কাতার এবং মিশর যে গাজায় যুদ্ধবিরতির ডাক দিয়েছে, তার প্রতি সমর্থন জানাচ্ছে। ফিলিস্তিনিদের ভোগান্তির অবসান ঘটতে হবে। আটকদের মুক্তি দিতে হবে এবং মানবিক সহায়তার ব্যবস্থা করতে হবে। সেইসঙ্গে ভিয়োলা আমহার্ড বলেন, অনতিবিলম্বে সহিংসতার অবসান ঘটাতে হবে।

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ভেতরে হামাসের হামলার পর ইসরায়েলি হামলায় গাজায় এ পর্যন্ত নারী, শিশুসহ মোট ৪০ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এছাড়া ৯১ হাজার ৭শ আহত হয়েছেন।




১৫ আগস্ট ইসরায়েল-হামাস জরুরি বৈঠকের আহ্বান

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: গাজায় যুদ্ধবিরতি ও জিম্মিদের হস্তান্তরের জন্য আগামী ১৫ আগস্ট হামাস-ইসরায়েলকে জরুরি বৈঠকে বসার আহ্বান জানিয়েছে উভয় পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী তিন দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মিসর ও কাতার। পাশাপাশি যেসব ইস্যুতে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে বিরোধ রয়েছে, ১৫ আগস্টের বৈঠকে সেসব দূরত্ব মিটিয়ে ফেলার চুড়ান্ত আলোচনা করার আহ্বানও দু’পক্ষকে জানিয়েছেন দেশগুলো।

মধ্যস্থতাকারীদের এই আহ্বানকে স্বাগত জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তার দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই বৈঠকের বিষয়ে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত এই চুক্তির কাঠামো চুড়ান্ত কতে ইসরায়েলের প্রতিনিধিরা এই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন।

তবে হামাস থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি।

বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) মধ্যস্থতাকার তিন দেশের কর্মকর্তারা যৌথ বিবৃতিতে বলেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তির একটি কাঠামো গঠিত হয়েছে। তবে এর বিস্তারিত রূপ ও প্রয়োজনীয় শর্তগুলো এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। চুক্তিটি সম্পূর্ণ করতে হলে দুই পক্ষের আলোচনায় বসা প্রয়োজন।




বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে স্বাগত জানিয়েছে চীন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: চীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে যে, বেইজিং বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক বিনিময় ও সহযোগিতা জোরদার করার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে ব্যাপক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্বকে আরও এগিয়ে নিতে বাংলাদেশের সাথে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে।
শুক্রবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন, “চীন আরো উল্লেখ করেছে যে, বাংলাদেশ একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করেছে এবং তারা এটিকে স্বাগত জানায়।”
মুখপাত্র বলেন, চীন অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করে।
মুখপাত্র বলেন, “আমরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখন্ডতা এবং বাংলাদেশী জনগণের পছন্দ অনুযায়ী স্বাধীনভাবে উন্নয়নের পথযাত্রাকে সম্মান করি।”
চীন বাংলাদেশের সকল জনগণের সাথে তার প্রতিবেশীসুলভ ও বন্ধুত্বের সম্পর্কের নীতিতে দৃঢ়ভাবে অটল রয়েছে।
মুখপাত্র বলেন, চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে বন্ধুত্ব দীর্ঘ মেয়াদে গভীর হয়েছে এবং চীন বাংলাদেশের সঙ্গে তার সম্পর্ককে মূল্য দেয়।




ব্রাজিলে যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৬২

চন্দ্রদ্বীপ আন্তর্জাতিক :: ব্রাজিলের সাও পাওলো রাজ্যে একটি যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় বিমানটিতে থাকা ৫৮ যাত্রী ও চারজন ক্রুসহ ৬২ জন নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার (৯ আগস্ট) সংবাদ মাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রাজিলে বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় কেউ বেঁচে নেই। এতে চারজন ক্রু ও ৫৮ জন যাত্রী ছিল।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিমানটি ব্রাজিলের দক্ষিণাঞ্চলীয় পারানা রাজ্যের ক্যাসকাভেল থেকে সাও পাওলো শহরের দিকে যাওয়ার পথে ভিনহেদো শহরে এসে বিধ্বস্ত হয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত হওয়া ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, হঠাৎ করে একটি বিমান উলম্বভাবে অবতরণ করছে। পরে এটিতে আগুনের কুন্ডলী দেখা যায়।

কর্তৃপক্ষ বলছে, বিমানটি একটি আবাসিক এলাকায় বিধ্বস্ত হয়েছিল। এ ঘটনায় ওই এলাকার কেউ হতাহত হয়নি। তবে তারা এখনো দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে জানাতে পারেনি।

সাও পাওলো রাজ্যের দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে সাতটি উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে।

বিমান দুর্ঘটনায় ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।




বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত আছে জাতিসংঘ।

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও জনগণ প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো উপায়ে সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত আছে জাতিসংঘ। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সংস্থার মহাসচিবের উপমুখপাত্র ফারহান হক এ কথা বলেছেন।

ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, জাতিসংঘের মহাসচিব বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অভিনন্দন জানিয়েছেন কি না বা তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন কি না।

জবাবে জাতিসংঘ মহাসচিবের উপমুখপাত্র বলেন, ‘তিনি (মহাসচিব) তাঁর (ড. ইউনূস) সঙ্গে কথা বলেননি। তবে বাংলাদেশে নিযুক্ত আবাসিক সমন্বয়ক আজকের (বৃহস্পতিবার) শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া যেন শান্তিপূর্ণ হয়, তা নিশ্চি




অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে জাতিসংঘ: গোয়েন লুইস

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: শেখ হাসিনা সরকারের পতনের চার দিনের মাথায় বাংলাদেশে নবগঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে জাতিসংঘ সব ধরনের সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির আবাসিক প্রতিনিধি গোয়েন লুইস।

শুক্রবার (৯ আগস্ট) বিএনপির একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে বৈঠক শেষে তিনি এই কথা জানান।

এ সময় গোয়েন লুইস জানান, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সব ধরনের সহযোগিতা করবে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে দেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক বিষয়ে কীভাবে সহযোগিতা করা যায় সে বিষয়েও সব দল মতের মানুষের সঙ্গে কথা বলবেন তারা।

এ সময় বিএনপির প্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও শামা ওবায়েদ।