ছাত্রলীগের সাবেক নেতা পান্নার মরদেহ আজ হস্তান্তর করবে ভারত

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: ভারতের মেঘালয়ে উদ্ধার হওয়া ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসহাক আলী খান পান্নার মরদেহ আজ শনিবার বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হতে পারে। খবর ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি।

মেঘালয়ের একজন শীর্ষ কর্মকর্তার বরাতে এনডিটিভি জানিয়েছে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতা, আজ বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের কাছে পান্নার মৃতদেহ হস্তান্তর করা হবে। এজন্য তার মৃতদেহ ডাউকি-তামাবিল আন্তর্জাতিক সীমান্ত চেক পোস্টে নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।

পশ্চিম জৈন্তিয়া পাহাড়ের ডাউকি স্থলবন্দর হয়ে বাংলাদেশের পিরোজপুর জেলায় তার বাড়িতে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে, বলে ওই কর্মকর্তা জানান।

বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) আনুষ্ঠানিকভাবে ইসহাক আলী খান পান্নার মৃতদেহ পাওয়ার কথা জানায় মেঘালয় পুলিশ।

ওইদিন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৬ আগস্ট পূর্ব জৈন্তিয়া পাহাড়ের দোনা ভোই গ্রামের একটি সুপারি বাগান থেকে পান্নার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই এলাকাটি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে।

মরদেহের সঙ্গে পাওয়া পাসপোর্ট থেকে পান্নার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে শ্বাসরোধের কথা বলা হয়েছে। শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্নও রয়েছে।

কপালে ছুলে যাওয়া ও ক্ষতচিহ্নের কথা বলা হয়েছে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে। পরে তার মরদেহ ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।

পান্নার কাছে প্রায় দুই কোটি ডলার ছিল বলে দাবি করেছেন তার স্বজনেরা । তবে মৃতদেহ উদ্ধারের সময় কোনো মুদ্রা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন পূর্ব জৈন্তিয়া পাহাড় জেলা পুলিশের প্রধান গিরি প্রসাদ।




ভারত কি শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দিতে বাধ্য?




রাওয়ালপিন্ডি টেস্ট : বাংলাদেশের লিড, ডাবল সেঞ্চুরির ঘ্রাণ নিয়ে চা বিরতিতে মুশফিক

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: পাকিস্তানের বিপক্ষে নিজের ইচ্ছেমত ইনিংস সাজাচ্ছেন মুশফিকুর রহিম। সেঞ্চুরি হাঁকানোর পর দেড়শ রানের ঘর পেরিয়ে মুশফিক পা বাড়িয়েছেন ডাবল সেঞ্চুরির পথে। এ পথে তাকে সাহায্য করছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এই ব্যাটারও এরইমধ্যে ফিফটি তুলে নিয়েছেন। এক ইনিংসে যা বাংলাদেশের পঞ্চম ফিফটি।

চতুর্থ দিনের চা বিরতি পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৪৯৫ রান। ১৭৩ রানে উইকেটে আছেন মুশফিক। অন্যদিকে ৫০ রানে ব্যাট করছেন মিরাজ। দু’জনেই দলকে বড় লিডের পথে নিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশকে। কোথায় গিয়ে বাংলাদেশ ইনিংস ঘোষণা করে সেটায় এখন দেখার বিষয়।

এর আগে, ১৩২ রানে পিছিয়ে থেকে চতুর্থ দিনে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় বাংলাদেশ। আগের দিনের সঙ্গে মাত্র ৪ রান যোগ করে ৫৬ রানে সাজঘরের পথ ধরেন লিটন দাস। ফিরতে পারতেন মুশফিকও। তবে আম্পায়ারের লেগ বিফোরের সিদ্ধান্তে রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান তিনি।

এরপর মিরাজকে সঙ্গে নিয়ে সেঞ্চুরি আদায় করে বাংলাদেশকে পথ দেখান মুশফিক। সেঞ্চুরি আদায় করে মুশফিক টপকে যান তামিম ইকবালকে। তামিমের ১০ টেস্ট সেঞ্চুরির বিপরীতে মুশফিকের সেঞ্চুরির সংখ্যা এখন ১১টি। এছাড়াও বিদেশের মাটিতে তামিমের ৪ সেঞ্চুরি ছাড়িয়ে মুশফিকের সেঞ্চুরির সংখ্যা এখন ৫টি।

এদিন মুশফিককে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন মিরাজ। মুশফিকের সঙ্গে জুটি গড়ে তুলে দলকে বড় সংগ্রহের পথে টানছেন তিনি। তার সঙ্গ পেয়ে তৃতীয় চতুর্থ ডাবল সেঞ্চুরির পথে রয়েছেন মুশফিক।




হামাসের কাছে নতুন প্রস্তাব পৌঁছে দেবে মিসর




মুশফিক-লিটনে স্বস্তির তৃতীয় দিন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : সকালে নতুন বলের ফাঁড়া কাটাতে পারেননি ওপেনার জাকির আলী। অধিনায়ক নাজমুল শান্ত বল পুরনো বানালেও রান পাননি। আবার মুমিনুল হক সাবলীল খেললেও ফিফটি করেই সাজঘরে ফেরেন। হতাশা আরও বেড়ে যায় সাদমান ইসলাম সেঞ্চুরি মিস করলে। তবে শেষ বিকেলে মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাস ফিফটি করে এবং দলের রান তিনশ’র উপরে নিয়ে স্বস্তি এনে দিয়েছেন।

রাওয়ালপিন্ডিতে সিরিজের প্রথম টেস্টে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৯২ ওভার ব্যাটিং করে ৫ উইকেট হারিয়ে ৩১৬ রান করেছে। দলের সেরা টেস্ট ব্যাটার মুশফিকুর রহিম ৫৫ রান নিয়ে চতুর্থ দিন শুরু করবেন। তিনি ১২২ বল খেলে ৭ চারের শটে ওই রান করেছেন। লিটন দাস কর্তৃত্ব করে ৫৮ বলে ৫২ রান করে অপরাজিত আছেন। তার ব্যাট থেকে আটটি চার ও একটি ছক্কা এসেছে। পাকিস্তানের চেয়ে বাংলাদেশ ১৩২ রানে পিছিয়ে আছে।

বাংলাদেশ ১২ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে ২৭ রান তুলে দিন শেষ করে। সকালে জাকির ৫৮ বলে ১২ রান করে ফিরে যান। শান্ত ৪২ বলে ১৬ রান যোগ করেন বোল্ড হন। এরপর ওপেনার সাদমান ও চারে নামা মুমিনুল হক ৯৪ রানের জুটি গড়েন। মুমিনুল ৭৬ বলে ৫ চারের শটে ৫০ রান করে বোল্ড হন। মুশফিকের সঙ্গে ৫২ রান যোগ করে সাজঘরে ফেরেন সাদমান। তিনি ১৪ টেস্টের ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় সেরা ৯৩ রানের ইনিংস খেলেন। বাংলাদেশ ১৯৯ রানে হারায় চতুর্থ উইকেট।

পরেই ক্রিজে এসে আউট হন বাঁ-হাতি অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। তিনি ১৬ বলে ১৫ রান যোগ করেন। দলের রান তখন ২১৮। ওই জায়গা থেকে ধসে যাওয়ার সুযোগ ছিল বৈকি। কিন্তু মুশফিক ও লিটন ৯৮ রান যোগ করে শুধু দিন শেষ করেননি দলে স্বস্তি এনে দিয়েছেন। চতুর্থ দিন ওই জুটি জমলে সহজে লিডের আশা করতে পারে বাংলাদেশ।

এর আগে পিন্ডি টেস্টে টস হেরে ব্যাট করে প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট হারিয়ে ৪৪৮ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে পাকিস্তান। ১৬ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর সূদ শাকিল ও মোহাম্মদ রিজওয়ান দুর্দান্ত জুটি গড়ে ওই রান করেন। শাকিল খেলেন ২৬১ বলে ১৪১ রানের ইনিংস। রিজওয়ান ২৩৯ বল খেলে ১৭১ রান করেন। এছাড়া সাইম আইয়ূব ৫৬ রান যোগ করেন। বাংলাদেশের হাসান মাহমুদ ও শরিফুল দুটি করে উইকেট নেন। পাকিস্তানের খুররম শাহজাদ দুই উইকেট নিয়েছেন। মোহাম্মদ আলী, নাসিম শাহ ও সাইম একটি করে উইকেট নিয়েছেন।




বাংলাদেশ সফর বাতিল করল নিউজিল্যান্ড দল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ক্ষমতার পালাবদলের পর সৃষ্ট অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাংলাদেশ থেকে সরিয়ে নিয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। এবার বাংলাদেশে নিজেদের নির্ধারিত সফর বাতিল করেছে নিউজিল্যান্ড এ দল।

আগামী সেপ্টেম্বরে দুটি চারদিনের ম্যাচ ও তিন ওয়ানডে খেলতে বাংলাদেশ সফর করার কথা ছিল কিউই এ দলের। ম্যাচগুলো হবার কথা ছিল চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম ও কক্সবাজারের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।

তবে বাংলাদেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে নাগরিকদের ভ্রমণে সতর্কতা দিয়েছে নিউজিল্যান্ড সরকার। তাই সফরটি বাতিল করেছে নিউজিল্যান্ড এ দল।

বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স ইনচার্জ শাহরিয়ার নাফিস সিরিজে বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ভ্রমণে সতর্কতা থাকায় বোর্ডের কিছু করার থাকে না। এটি রাষ্ট্রীয় বিষয়। ওদের সঙ্গে আলাপ করছি। আশা করছি, অন্য কোনো সুবিধাজনক সময়ে সিরিজ আয়োজন করতে পারব।




অবশেষে বাংলাদেশের পাসপোর্ট পেলেন লেস্টার সিটির ফুটবলার হামজা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : বাংলাদেশের জার্সিতে খেলার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব লেস্টার সিটির ফুটবলার হামজা চৌধুরী। বাংলাদেশও তাকে খেলানোর ব্যাপারে সদিচ্ছা জানিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক হামজা চৌধুরী পাসপোর্টের আবেদন করে বিড়ম্বনায় পড়েছেন বলে তাঁর বাবা জানিয়েছিলো।

অবশেষ বাংলাদেশের হয়ে খেলতে আর বাধা থাকছে না হামজা চৌধুরীর। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই ইংলিশ ফুটবলারের বাংলাদেশের পাসপোর্ট পেয়েছেন। শুক্রবার গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হামজা চৌধুরীর বাবা মোরশেদ দেওয়ান।

এর আগে হামজা বাংলাদেশি পাসপোর্টের আবেদন করেছিলেন গত জুন মাসে। লন্ডনের বাংলাদেশ হাইকমিশনে তাঁর পাসপোর্ট এসে গিয়েছিল মাসখানেক আগেই। কিন্তু লেস্টার সিটির হয়ে প্রাক্‌–মৌসুম প্রস্তুতিতে ব্যস্ত থাকার কারণে বাংলাদেশি পাসপোর্টটা গ্রহণ করতে পারছিলেন না হামজা। অবশেষে শুক্রবার হামজার পক্ষে পাসপোর্টটি গ্রহণ করেছেন তাঁর মা রাফিয়া চৌধুরী।

হামজা চৌধুরী বাংলাদেশের হয়ে খেলবেন—এ কথা আগেই জানিয়েছিলেন। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনও (বাফুফে) হামজাকে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলে খেলানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এ প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ হামজার বাংলাদেশি পাসপোর্ট করানো। এখন ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এফএ) অনুমতির প্রক্রিয়া শুরু হবে। এরপর লাগবে তাঁর ক্লাব লেস্টার সিটির অনুমতি।




বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন : শেখ মুজিব ছাড়াও বিশ্বে যে ক্ষমতাবানদের ভাস্কর্য ভাঙা হয়েছে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙার এবং জুতোর মালা পরিয়ে দেওয়ার দৃশ্য দেখেছে গোটা বিশ্ব। তবে বাংলাদেশে যে চিত্র দেখা গিয়েছে তা বিরল নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সেই সমস্ত ব্যক্তিত্বদের ভাস্কর্য বা মূর্তিকে এভাবে নিশানা করা হয়েছে যাদের কোনো এক যুগে সেখানকার মানুষ অত্যন্ত সম্মান করতেন বা গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে ছিলেন।

কিন্তু ক্ষমতার পালাবদলের পর মানুষজনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ দেখা গেছে তাদের ভাস্কর্য বা মূর্তির ওপরে।

ইউক্রেনে ভূলুণ্ঠিত লেনিনের মূর্তি

২০১৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ইউক্রেনের খারকিভে প্রায় পাঁচ হাজার বিক্ষোভকারী ভ্লাদিমির লেনিনের একটা মূর্তি হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে মাটিতে ফেলে দেয়। এই পুরো কাজটা করতে তাদের সময় লেগেছিল প্রায় চার ঘণ্টা। ১৯৬৩ সালে তৈরি হয়েছিল এই মূর্তি যার নকশা করেছিলেন আলেকজান্ডার সিডোরেঙ্কো।

লেনিনের মূর্তি ভেঙে ভূলুণ্ঠিত করে দেওয়ার পর সেখানে জড়ো হওয়া জনতা মূর্তির টুকরোগুলো স্মারক হিসেবে সংগ্রহ করতে শুরু করে। সেখানে ইউক্রেনের পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপরই শুরু হয়ে যায় দেশজুড়ে লেনিনের মূর্তি ভাঙার প্রক্রিয়া।

ইথিওপিয়ায় একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি

লেনিনের ভাস্কর্যের অনুরূপ পরিণতি দেখা গিয়েছে ইথিওপিয়ায়। সেখানকার রাজধানী আদিস আবাবার পৌরসভার একটা গ্যারেজে রুশ নেতা লেনিনের একটা মূর্তি রয়েছে। পিঠের ওপর ভর করে পড়ে আছে সেই মূর্তি। তার চারপাশে অসংখ্য মাকড়সার জাল আর পেট্রোলের খালি করা পিপে। খুব কম মানুষই সেই মূর্তি দেখতে আসেন। আর যারা আসেন তাদের সেখানে উপস্থিত কর্মীরা লেনিনকে ‘না জাগানোর’ জন্য সতর্ক করেন।

প্রসঙ্গত, লেনিনের এই মূর্তি শুধু বড়ই নয়, ভারীও। সেটা টেনে নামাতে গিয়ে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছিল। দড়ি বেঁধে এই মূর্তিকে সরানো সম্ভব হয়নি। এই মূর্তিকে তার জায়গা থেকে সরানোর জন্য যন্ত্রের সাহায্য নেওয়া হয়েছিল।

১৯৮৯ সালের নভেম্বরে বার্লিন প্রাচীর পতনের পর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এই একই দৃশ্য দেখা গিয়েছে। বারেবারে ভেঙে ফেলা হয়েছে লেনিনের মূর্তি। ঠিক একই চিত্র দেখা গিয়েছিল আলবেনিয়ায়। সেখানে ৪০ বছর ধরে ওই দেশ শাসন করা এনভার হোক্সার বেশ কয়েকটা মূর্তিও ভেঙে ফেলা হয়।

ফেলিক্স জেরনস্কির মূর্তি সরিয়ে ফেলা

১৯৯১ সালে রাশিয়ায় প্রেসিডেন্ট মিখাইল গর্বাচেভকে উৎখাতের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর মস্কোর লুবিয়াঙ্কা স্কয়ারে সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রথম গুপ্ত পুলিশ সংস্থা ‘চেকা’র প্রতিষ্ঠাতা ফেলিক্স জেরনস্কির মূর্তি সরিয়ে ফেলা হয়। কমিটি অফ স্টেট সিকিউরিটি যার রুশ ভাষায় সংক্ষিপ্তকরণ ‘কেজিবি’, সেই সংস্থার বিরুদ্ধে হাজার হাজার মানুষকে অপহরণ, নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়।

১৯৯১ সালের ২২ আগস্টের সন্ধ্যায় হাজার হাজার মানুষ লুবিয়াঙ্কা স্কয়ারে অবস্থিত কেজিবি ভবনের সামনে জড়ো হয়। তারা জেরনস্কির মূর্তির গায়ে লিখে দেন ‘খুনি’। সেখানে উপস্থিত বিক্ষোভকারীরা মূর্তির উপরে উঠে দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল মূর্তিকে ট্রাকের সঙ্গে বেঁধে টান দিয়ে উপড়ে ফেলা। কিন্তু পার্শ্ববর্তী লুবিয়ানকা মেট্রো স্টেশনের ইমারতের পক্ষে তা ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সেই সময় মস্কো সিটি কাউন্সিলের ডেপুটি চেয়ারম্যান সের্গেই স্টানকেভিচ উপস্থিত জনতাকে জানান তিনি নিজেই মূর্তিটি অপসারণে নেতৃত্ব দেবেন। এরপর ক্রেনের সাহায্যে সেখান থেকে ওই মূর্তি সরিয়ে ফেলা হয়। সেই মূর্তির স্থান হয় ‘ফলেন মনুমেন্ট পার্কে’।

তৃতীয় জর্জের লোহার মূর্তি ভেঙে বুলেট

আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় নিউইয়র্কে ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় জর্জের একটা লোহার মূর্তিও ভেঙে ফেলা হয়েছিল। স্বাধীনতার জন্য লড়াইয়ে সামিল আমেরিকানরা এই মূর্তিকে ব্রিটিশ অত্যাচারের প্রতীক হিসাবে বিবেচনা করতেন। এই মূর্তি শুধুমাত্র ভেঙে ফেলাই হয়নি তারপর সেটা গলিয়ে ৪২০০০ বুলেটও বানানো হয়েছিল। উল্লেখযোগ্যভাবে সেই বুলেটই ব্যবহার করা হয়েছিল ব্রিটিশ সৈন্যদের বিরুদ্ধে।

ব্রিটেনের অনুগত কিছু ব্যক্তি অবশ্য ভেঙে ফেলা সেই মূর্তির কিছু অংশ বাঁচানোর চেষ্টা করেন। মূর্তির ভাঙা অংশ তাদের মাটিতে পুঁতে ফেলেন। আজও খননকার্যের সময় সেই মূর্তির কিছু অংশ বেরিয়ে আসে।

মুসোলিনির মূর্তিরও একই পরিণতি

১৯৪৫ সালে ইতালির স্বৈরশাসক মুসোলিনির পতন হয়। সেই সময় তার মূর্তিরও একই পরিণতি দেখা গিয়েছিল। তার ক্ষমতাচ্যুতির পর তার কিছু সমর্থক এবং তার বান্ধবী ক্লারা পিটাচিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। একটা ভ্যানে করে তাদের মৃতদেহ মিলানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটা খুঁটি থেকে উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখা হয় তাদের দেহগুলো। এরপর শুরু হয় মুসোলিনির মূর্তি ভাঙার প্রক্রিয়া। স্বৈরাচারের প্রতীক হিসাবে বিবেচিত হওয়া সমস্ত স্মারক, ভবন এবং মূর্তি ভেঙে দেওয়া হয়। বেশ কয়েক মাস ধরে চলেছিল এই একই প্রক্রিয়া।

মুসোলিনির মূর্তিরও একই পরিণতি দেখা যায়।

সরানো হয় পঞ্চম জর্জের মূর্তি

১৯৪৭ সালে ভারত যখন স্বাধীন হয়, তখন দিল্লির অনেক জায়গায় ব্রিটিশ শাসনের সঙ্গে সম্পর্কিত কর্তা ব্যক্তিদের মূর্তি ছিল। এই মূর্তিগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটা যুক্তরাজ্যে ফেরত পাঠানো হয়েছিল এবং কিছু স্থানান্তরিত করা হয় দিল্লিতে। উত্তর দিল্লির করোনেশন পার্কে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল সেই মূর্তিগুলো। যে কয়টা মূর্তি সরিয়ে ফেলা হয়েছিল তার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল দিল্লির ইন্ডিয়া গেটে পঞ্চম জর্জের মূর্তি। ৭০ ফুট উঁচু ছিল এই মূর্তি।

প্রসঙ্গত, ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত কিন্তু ব্রিটিশ রাজা পঞ্চম জর্জের মূর্তি তার পুরানো জায়গাতেই ছিল। কিন্তু পরে বিবেচনা করে স্থির করা হয়, দিল্লির এমন এক বিশিষ্ট স্থানে এই মূর্তি থাকার কোনও যুক্তি নেই। তাই তা সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পঞ্চম জর্জের মূর্তি ধ্বংস করা হয়নি বরং রাখা হয়েছিল ঠিক সেই স্থানে যেখানে ১৯১১ সালে তিনি দিল্লি দরবারে গিয়েছিলেন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ইন্ডিয়া গেটের কাছে যেখানে পঞ্চম জর্জের মূর্তি আগে রাখা ছিল, সেখানেই ২০২২ সালে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তি বসানো হয়।




নেপালে ভারতীয় পর্যটকবাহী বাস খাদে পড়ে ১৪ জনের মৃত্যু

চন্দ্রদ্বীপ আন্তর্জাতিক :: নেপালে নদীতে পড়ে গেছে যাত্রীবোঝাই একটি বাস।বাসে যে ৪০ জন যাত্রী ছিলেন, তারা প্রত্যেকেই ভারতীয় বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যেই অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে ১৬ জন।

আজ শুক্রবার সকালে নেপালের তনহুঁ জেলার মারশিয়াংড়ি নদীতে বাসটি পড়ে যায় বলে নেপাল পুলিশকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএনআই। তবে বাসটি কিভাবে দুর্ঘটনার কবলে পড়ল, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

পুলিশের তরফে জানা গেছে, বাসটি ভারতীয় যাত্রীদের নিয়ে পোখরা থেকে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর উদ্দেশে যাচ্ছিল।

নেপাল পুলিশের তরফে তনহুঁ জেলার ডিএসপি দীপকুমার রায়া জানান, বাসটি উত্তরপ্রদেশ থেকে নেপালে গিয়েছিল। বাসটির নম্বরপ্লেটেও ‘ইউপি’ লেখা রয়েছে।

উত্তরপ্রদেশের এক সরকারি কর্মকর্তা জানান, গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর খতিয়ে দেখে সেটির মালিকের নাম এবং রাজ্যের কোনো বাসিন্দা দুর্ঘটনার কবলে পড়েছেন কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই বাসের ভারতীয় যাত্রীরা পোখরা শহরের একটি রিসোর্টে ছিল। শুক্রবার সকালে তাদের নিয়ে বাসটি কাঠমান্ডুর উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। রাস্তাতেই ঘটে দুর্ঘটনা।

গত জুলাই মাসে নেপালের ত্রিশূলি নদীতে ভেসে গিয়েছিল দু’টি বাস। দু’টি বাস মিলিয়ে মোট ৬৫ জন যাত্রী ছিল। গত কয়েক দিন ধরেই ভারী বৃষ্টি হচ্ছে নেপালে। ফুঁসছে পাহাড়ি নদীগুলো। চলতি বর্ষার মৌসুমে নেপালে এখন পর্যন্ত ৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ৯০ জন।




পাকিস্তানে পুলিশের গাড়িতে হামলা, নিহত ১২

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: পাকিস্তানে একটি পুলিশ ভ্যানে চালানো রকেট হামলায় অন্তত ১২ জন পুলিশ নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। গতকাল বৃহস্পতিবার এই হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ।

সংবাদমাধ্যমটি জানায়, সম্ভাব্য ডাকাত দলের উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশের একটি দল ওই এলাকায় টহলে বের হয়। রহিম ইয়া খান এলাকার মাচকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানিয়েছে, দুটি ভ্যানে অন্তত ২০ জন পুলিশ ছিলেন। তারা বৃষ্টির পানিতে আটকা পড়েছিলেন। তখনই হামলা চালানো হয়।

পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ পুলিশ সদস্যদের শহীদ হিসেবে অভিহিত করে এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, পুলিশদের আত্মত্যাগ সর্বদা স্মরণ করা হবে। সে সঙ্গে ওই এলাকায় দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন তিনি।