বাংলাদেশি পর্যটক না থাকায় ধুঁকছে কলকাতা, বিক্রি কমেছে ৬০ শতাংশ : বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন

বাংলাদেশি পর্যটক না থাকায় ধুঁকছে কলকাতা, বিক্রি কমেছে ৬০ শতাংশ

  • বাংলাদেশি পর্যটক কমায় কলকাতার নিউ মার্কেটে বিক্রি কমেছে প্রায় ৬০ শতাংশ
  • গত এক মাসে আগের তুলনায় এক তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে রোগির সংখ্যাও

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : জুলাই মাসের আগেও বাংলাদেশি পর্যটকদের পদচারণায় মুখর ছিলো পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার নিউ মার্কেট, মার্কুইস স্ট্রিটসহ বিভিন্ন স্থানগুলো। তবে গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকেই ভাটা পড়েছে কলকাতার পর্যটনে। খবর বিবিসি বাংলা।

বাংলাদেশের আওয়ামী লীগ সরকারের পতন পর থেকে ভারতে কমে গেছে বাংলাদেশি পর্যটক। জুলাই মাস থেকে ভারতে বাংলাদেশিদের যাওয়া কমে গেলেও আগস্ট থেকে তা একরকম বন্ধই হয়ে গেছে।

আগস্ট জুড়ে যারা কলকাতায় গেছেন তার অধিকাংশই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী। শেখ হাসিনার মতো তারাও নিজেদের রক্ষা করতে দেশটিতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। তবে ৫ আগস্টের পর থেকে কলকাতা একরকম বাংলাদেশি পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে।

বর্তমানে শুধু মাত্র মেডিক্যাল ভিসা নিয়ে অথবা আগে থেকে যাদের ভিসা নেওয়া ছিল সেসব বাংলাদেশি কলকাতা যেতে পারছেন। বাংলাদেশি পর্যটক একেবারে কমে যাওয়ায় বিশাল ধাক্কা খেয়েছে কলকাতার কিছু এলাকার ব্যবসা। এসব এলাকায় হোটেল রুম প্রায় ফাঁকা থাকছে, ব্যবসায় ভাটা পড়েছে, কমেছে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যাও। এতে হুমকির মুখে পড়েছে এসব খাতের সঙ্গে যুক্ত মানুষের জীবিকা। নিউ মার্কেট এলাকায় বিক্রি কমে গেছে প্রায় ৬০ শতাংশ।

ভারতে বাংলাদেশিদের যাওয়া কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে ভারতীয় ভিসা সেন্টার অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এরপর এখনও বাংলাদেশে ভিসা দেওয়ার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ চালু করেনি। সে কারণে যারা আগে থেকে ভিসা নিয়ে রেখেছেন এবং জরুরি চিকিৎসা করাতে যাচ্ছেন, তারাই ভারতে যাওয়ার অনুমতি পাচ্ছেন।

হোটেলের ঘর প্রায় ফাঁকা

মার্কুইস স্ট্রিট এলাকাটি বাংলাদেশি পর্যটকদের কাছে অতি পরিচিত এলাকা। এই এলাকার বহু হোটেল রেস্তোরাঁ মূলত বাংলাদেশি পর্যটকদের ওপরে নির্ভর করেই ব্যবসা করে থাকে। তবে জুলাই মাস থেকে বাংলাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকে ভারতে বাংলাদেশিদের আসা কমে গিয়েছিল। আর অগাস্ট থেকে তা একরকম বন্ধই হয়ে গেছে।

মার্কুইস স্ট্রিটের হোটেল মালিকদের সংগঠনের নেতা মনোতোষ সরকার বলেন, “কয়েক মাস আগেও কলকাতার হোটেলগুলির ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ অকুপেন্সি রেট ছিল। এখন সেটা নেমে এসেছে মাত্র ৩০ শতাংশে। অর্থাৎ হোটেলগুলিতে ১০০টি ঘর থাকলে এখন মাত্র ৩০টি ঘরে পর্যটক থাকছেন।

কতদিন এই অবস্থা চলবে, তা অনিশ্চিত। তাই অন্য কোনও অঞ্চলের ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা যায় কী না, সে ব্যাপারে ভাবনা চিন্তা শুরু করছেন মার্কুইস স্ট্রিটের হোটেল ব্যবসায়ীরা।

ফাঁকা নিউ মার্কেট, বিক্রিতে মন্দা

কলকাতার এসএস হগ মার্কেট, যা মূলত নিউ মার্কেট বলে পরিচিত। এই মার্কেটের এবং আশপাশের দোকানগুলোতে সারা বছরই বাংলাদেশি পর্যটকদের ভিড় লেগে থাকে। বেড়াতে গেলে বা চিকিৎসার জন্য গেলে, যে কারণেই হক বেশিরভাগ বাংলাদেশি পর্যটকই কলকাতায় গেলে নিউ মার্কেটে কেনা কাটা করতে যান

কিন্তু এক মাস ধরে বাংলাদেশি পর্যন্ত প্রায় না আসায় এসব দোকানগুলোর ৬০ শতাংশ বিক্রি কমে গেছে বলে জানিয়েছেন নিউ মার্কেটের দোকান মালিকদের সংগঠনের প্রধান অশোক গুপ্তা।

নিউ মার্কেটের কাছাকাছি আরও যে কয়টি বড় শপিং মল বা বড় বড় দোকান আছে, সেখানেও একই পরিস্থিতি বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে কমেছে পর্যটক। আবার কলকাতায় আরজি করের ঘটনার পর থেকে সেখানেও চলছে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ। যার ফলে স্থানীয় ক্রেতার সংখ্যাও কম। যার কারণে এবারের কেনাকাটার মৌসুম পুরোই লস বলে জানান তিনি।

রোগী কমেছে হাসপাতালেও

বাংলাদেশ থেকে একটা বড় অংশই ভারতে যান চিকিৎসার কারণে। কলকাতা, ভেলোর, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু, দিল্লি, মুম্বাইয়ের অনেক বেসরকারি হাসপাতালে বাংলাদেশের বহু মানুষ চিকিৎসার উদ্দেশ্যে যান। এমনকি এসব হাসপাতালে বাংলাদেশিদের জন্য আলাদা সার্ভিস-ডেস্কও থাকে।

তবে কলকাতার যেসব বেসরকারি হাসপাতালে বাংলাদেশি রোগীরা বেশী সংখ্যায় আসেন, সেই হাসপাতালগুলো বলছে গত একমাসে খুব কম রোগী সেদেশ থেকে এসেছেন। যদিও ভারতের হাইকমিশনগুলোতে মেডিক্যাল ভিসা দেওয়া হচ্ছে, তা সত্ত্বেও আগের তুলনায় অনেক কম সংখ্যক রোগী যাচ্ছেন কলকাতার হাসপাতালগুলিতে।

মনিপাল হসপিটালসের অধীনস্থ হাসপাতালগুলোতে প্রতি মাসের গড়ে ২১০০ জন বাংলাদেশি রোগী আসেন। কিন্তু গত এক মাসে সেই সংখ্যা প্রায় এক তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে। গত দু মাস আগে যত রোগী আসতেন এই সংখ্যাটা তার থেকে অনেক কম বলে জানিয়েছে হাসপাতালটির কর্মকর্তারা।

কলকাতার ইস্টার্ন বাইপাস সংলগ্ন এলাকার হাসপাতালগুলোতে বাংলাদেশি রোগীদের ভিড় সবথেকে বেশি দেখা যায়। সেখানে বাংলাদেশীদের কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে থাকা-খাওয়ার হোটেল, ওষুধের দোকান– সব মিলিয়ে প্রায় লাখ খানেক মানুষের রোজগার চলে ওই হাসপাতালগুলিকে কেন্দ্র করে।

কলকাতার রোগীদের ভিড় সেখানে স্বাভাবিক থাকলেও এদের একটা বড় অংশ নির্ভর করে বাংলাদেশি রোগীদের ওপরে। তাই বাংলাদেশ থেকে পর্যটক বা রোগী আসা যতক্ষণ না স্বাভাবিক হচ্ছে, ততদিন এই বিরাট সংখ্যক মানুষের অনিশ্চয়তা কাটছে না।




ইতালির মোনফ্যালকনে বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে রীতিমতো যুদ্ধে নেমে পড়েছেন ইতালির একটি শহরের মেয়র। ৩০ হাজার বাসিন্দার শহর মোনফ্যালকন, ইতালির অন্য যে কোনো নগরীর চেয়ে অনন্য। কেননা শহরের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জনগোষ্ঠী বিদেশি। যাদের মধ্যে অধিকাংশই আবার বাংলাদেশি মুসলিম।

নব্বইয়ের দশকে বড় বড় প্রমোদতরী বানানোর জন্য এই বাংলাদেশিরা মোনফ্যালকন শহরে পাড়ি দেন। আর এতেই নাকি মোনফ্যালকনের সাংস্কৃতিক নির্যাস হুমকির মুখে পড়েছে বলে দাবি করেছেন শহরটির নারী মেয়র অ্যানা মারিয়া সিসিন্ত।

অভিবাসনবিরোধী মনোভাবকে উসকে দিয়েই ক্ষমতায় এসেছিলেন চরম ডানপন্থি লিগ পার্টির এই নেত্রী। এখন তিনি নেমেছেন নতুন মিশনে। ‘শহর সুরক্ষা’ নামের এই মিশনের আওতায় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে খ্রিস্টান মূল্যবোধকে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন মেয়র অ্যানা মারিয়া।

ইতালীয় নাগরিকরা যেখানে পশ্চিমা সংস্কৃতিতে বিশ্বাসী- পোশাকও পরেন তেমন, সেখানে বাংলাদেশি নারীদের দেখা যায় সেলোয়ার, কামিজ আর হিজাবে। শহরটিতে আরও রয়েছে বাংলাদেশিদের হালাল দোকান ও রেস্টুরেন্ট। এসবই দৃষ্টিকটু, চক্ষুশূল মেয়রের কাছে।

শহরের যে অংশে অধিকাংশ বাংলাদেশি বসতেন, সেখান থেকে বেঞ্চগুলো সরিয়ে ফেলেছেন অ্যানা মারিয়ার প্রশাসন। সমুদ্রের তীরে মুসলিম নারীরা যে পোশাক পরেন, তার বিরুদ্ধেও আওয়াজ তুলেছেন তিনি। শহরের দুটি ইসলামিক সেন্টারে জামাতে নামাজ আদায় নিষিদ্ধের পর মোনফ্যালকনে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।

ইতালির আইনে যে কটি ধর্মের কথা বলা হয়েছে, তাতে ইসলামের কোনো উল্লেখ নেই। আর সে সুযোগটাই কাজে লাগাতে চাইছেন অ্যানা মারিয়া। তবে মোনফ্যালকনে বসবাসরত বাংলাদেশিরা বলছেন, মেয়রের এই সিদ্ধান্ত স্থানীয় মুসলিমদের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে।

ইতালি, ইউরোপের সবচেয়ে কম জন্মহারের দেশগুলোর মধ্যে একটি। গেল বছর সেখানে মাত্র ৩ লাখ ৭৯ হাজার শিশু জন্মেছে। শ্রমিকের সংখ্যাও কম দেশটিতে। ধারণা করা হয়, ২০৫০ সাল নাগাদ ইতালিতে প্রতি বছর ২ লাখ ৮০ হাজার শ্রমিকের প্রয়োজন হবে। তা সত্ত্বেও অভিবাসনবিরোধী মনোভাব প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির।

 

 

ইতালিতে বিদেশিদের আনাগোনা কমানোর কথা বলেছেন এই মেয়র। যদিও দেশটিতে অ-ইউরোপীয় কর্মীদের পারমিট বাড়ানো হয়েছে।




ফিলিস্তিনের এক শহর থেকে সেনা প্রত্যাহার ইসরায়েলের




জাতিসংঘের অধিবেশনে প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী ৭ জন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: জাতিসংঘের ৭৯তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে ৭ সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে নিউইয়র্কে যাবেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আগামী ২২-২৭ সেপ্টেম্বর এ সফর করবেন তিনি।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

সাত সদস্যের প্রতিনিধি দলের মধ্যে রয়েছেন- ড. ইউনূসের মেয়ে দিনা আফরোজ ইউনূস, এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ, অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত বাংলাদেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক অবস্থার শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রধান দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, দৃকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহিদুল আলম, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম, প্রধান উপদেষ্টার একান্ত সচিব শাব্বীর আহমদ, বেসরকারি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আয়েশা সিদ্দিকা তিথি।

এর আগে আওয়ামী লীগ সরকার বড় বহর নিয়ে সফর করলেও এবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সবচেয়ে ছোট দল নিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেবেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই হবে তার প্রথম বিদেশ সফর।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশন আগামী ১০ সেপ্টেম্বর শুরু হবে। উচ্চ পর্যায়ের সাধারণ আলোচনা শুরু হবে ২৪ সেপ্টেম্বর। আর সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন কারণে বৈশ্বিক সুশাসনে যে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে আগামী ২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বর ‘সামিট অব দ্য ফিউচার’-এ যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে শীর্ষ নেতাদের।




তিস্তার পানিবণ্টন সমস্যার সমাধান হতে হবে, কঠোর বার্তা ড. ইউনূসের




বাংলাদেশ নিয়ে যে সুসংবাদ জানাল ইকোনমিস্ট

চন্দ্রদ্বীপ আন্তর্জাতিক :: বহুল প্রচারিত সপ্তাহিক ইকোনমিস্ট সাময়িকীর চলতি সংখ্যায় ‘পুনরায় যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রচ্ছদ নিবন্ধ প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, নানা কঠিন সমস্যা সত্ত্বেও বেশ কিছু সুবিধাও রয়েছে বাংলাদেশের। দেশটি এখন নৈতিকতার বলে বলীয়ান ড. ইউনূসের মতো একজন নেতা পেয়েছে।

আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ও বহুল পঠিত সাপ্তাহিক ম্যাগাজিনটি ‘বাংলাদেশ গুরুত্ব বহন করে, এ দেশটিকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যায় না’ উল্লেখ করে বলেছে, সুসংবাদ হচ্ছে যে, দেশটির অর্থনীতি কঠিন পরিস্থিতি দ্রুত কাটিয়ে উঠতে সক্ষম এবং দেশটির সুশীল সমাজ দৃঢ়চেতা।

নিবন্ধে বলা হয়, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার রাজপথে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে বিতাড়িত করার পর নোবেল শান্তি বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃতে সেনাবাহিনী সমর্থিত একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব গ্রহন করেছে। তার মতো অনেক বাংলাদেশী এটিকে স্বাধীনতা লাভের অর্ধ শতাব্দী পর ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’ বলছেন।

ম্যাগাজিনটি লিখেছে, এই মুহূর্তের অঙ্গীকার পূরণ করতে বাংলাদেশকে এখন পুরনো স্বৈরাচারীকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর আরো অনেক কিছু করতে হবে: অবশ্যই নষ্ট রাজনৈতিক ব্যবস্থা পরিচ্ছন্ন করতে হবে। সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে শিরায় শিরায় ছড়িয়ে থাকা রাজনৈতিক গোষ্ঠীতন্ত্র ও দুর্বল প্রতিষ্ঠানসমূহ, যেগুলোর কারণে দেশটি দাঁড়াতে ব্যর্থ হয়েছে, নেতৃত্বের শীর্ষ পর্যায়ে আড়ষ্টতা রাজনীতিকে বিষিয়ে তুলেছে।

ড. ইউনূসের লক্ষ্য হওয়া উচিত একটি যুক্তিসঙ্গত সময়সীমার মধ্যে সঠিকভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠান করা। কিন্তু প্রথমে তাকে শেখ হাসিনার দখলকৃত প্রতিষ্ঠানগুলো, যেমন নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ ও আদালতগুলোকে পরিচ্ছন্ন করতে হবে।

দেশটিকে গণতান্ত্রিক পথে নিয়ে আসার জন্য ড. ইউনূসের কাছে সময় খুবই কম উল্লেখ করে নিবন্ধে বলা হয়, তার সাফল্য বা ব্যর্থতা ১৭৩ মিলিয়ন বাংলাদেশীর জীবনযাত্রার সফলতা নির্ধারণ করবে এবং চীন, ভারত, রাশিয়া ও পশ্চিমের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রভাব বিস্তার করবে।

এতে বলা হয়, ড. ইউনূস একটি অত্যন্ত কঠিন কাজের সম্মুখীন। তার অগ্রাধিকার হওয়া উচিত শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার এবং প্রতিশোধমূলক সহিংসতার ঢেউ প্রতিরোধ করা, যা অতীতে বাংলাদেশের রাজনীতিকে ধ্বংস করেছে। এর মানে হচ্ছে যে, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি এবং আওয়ামী লীগসহ সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করে টেকনোক্র্যাট দ্বারা পরিচালিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

নিবন্ধে আরও বলা হয়েছে, “যখন অর্থনীতির কথা আসে, তখন সরকারের উচিত ব্যালেন্স-অফ-পেমেন্ট ঝুঁকির উৎকণ্ঠা কমাতে বাইরে থেকে আরও তহবিল জোগাড় করা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন বাণিজ্য চুক্তির জন্য চেষ্টা করা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, ইউনুস সাহেবকে অবশ্যই দেশের তরুণ সমাজ, ক্রমবিকাশমান এবং ক্রমবর্ধমান শহুরে জনসংখ্যার আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং নেতাদের কাছে নতুন ধারণার ব্যাপারে নিজেকে উন্মুক্ত করার আহ্বান জানাতে হবে।

ম্যাগাজিনটি অবশ্য বাংলাদেশে কর্তত্ববাদী শাসনকে সহায়তা করার জন্য ভারতকে দায়ী করে বলেছে যে, যদি দেশটি একটি স্থিতিশীল প্রতিবেশী চায় তবে কিছু কাজ করার দরকার হবে: দেশটির উচিত হবে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার আহ্বান জানানো এবং আর্থিক সহায়তা দেওয়া।

 




যুদ্ধে ব্যর্থ হয়েছেন নেতানিয়াহু, বললেন মিসরের কর্মকর্তা




ড. ইউনূসের সরকারের প্রতি ১৯৮ বিশ্বনেতার দৃঢ় সমর্থন




হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে হবে, তা না হলে বাংলাদেশের মানুষ শান্তিতে থাকবে না: ড. ইউনূস

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ছাত্র-জনতার ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর ভারতে বসে দেশ সম্পর্কে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বক্তব্য-বিবৃতিকে অবন্ধুসুলভ আচরণ বলে বর্ণনা করেছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

বাংলাদেশে তাকে প্রত্যর্পণ না করা পর্যন্ত হাসিনাকে ভারতে চুপ থাকতে হবে বলেও জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। ভারতীয় বার্তাসংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস এই মন্তব্য করেন।

বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করেছে পিটিআই।

বুধবার পিটিআইকে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে ইউনূস আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশ অনুরোধ না করা পর্যন্ত ভারত যদি হাসিনাকে নিজের দেশে রাখতে চায়, তাহলে তাকে (হাসিনাকে) আরও মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

এছাড়া হাসিনা ছাড়া সবাইকে ইসলামপন্থি হিসেবে তুলে ধরার জন্য তিনি ভারতের সমালোচনাও করেন।

হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ঢাকায় নিজের সরকারি বাসভবনে পিটিআই-কে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে ইউনূস জোর দিয়ে বলেন, ভারতের সাথে শক্তিশালী সম্পর্ককে বাংলাদেশ সম্মান করে এবং এই কারণে নয়াদিল্লিকে অবশ্যই এমন ধারণা বাইরে যেতে হবে যেটাতে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য সব রাজনৈতিক দলকে ইসলামপন্থি হিসেবে চিত্রিত করে এবং শেখ হাসিনা ছাড়া দেশ আফগানিস্তানে পরিণত হবে বলে মনে করা হয়।

ড. ইউনূস বলেন, ‘ভারতে হাসিনা অবস্থান করায় কেউই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না। কারণ বিচার করার জন্য আমরা তাকে ফেরত আনতে চাই। তিনি (হাসিনা) ভারতে রয়েছেন এবং সেখান থেকেই মাঝে মাঝে তিনি কথা বলছেন, এটি সমস্যা তৈরি করছে। যদি তিনি চুপ থাকতেন, তাহলে আমরা ভুলে যেতাম; মানুষও এটা ভুলে যেত যদি তিনি তার নিজের জগতেই থাকতেন, কিন্তু তিনি ভারতে বসে কথা বলছেন এবং দিক-নির্দেশনা দিচ্ছেন, কেউই এটা পছন্দ করছে না।’

এই মন্তব্যের মাধ্যমে ড. ইউনূস স্পষ্টতই গত ১৩ আগস্ট হাসিনার বক্তব্যের কথাই উল্লেখ করেন। সেসময় হাসিনা ‘ন্যায়বিচার’ দাবি করেছিলেন এবং বলেছিলেন, সাম্প্রতিক ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’, হত্যা ও ভাঙচুরের সাথে জড়িতদের অবশ্যই তদন্ত, চিহ্নিত এবং শাস্তি দিতে হবে।

ড. ইউনূস পিটিআইকে বলেন, ‘এটা আমাদের বা ভারতের জন্য ভালো নয়। এটি নিয়ে অস্বস্তি রয়েছে।’

পিটিআই বলছে, ছাত্র-জনতা অভূতপূর্ব সরকার বিরোধী বিক্ষোভের মুখে গত ৫ আগস্ট হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং ভারতে পালিয়ে যান। এরপর প্রায় চার সপ্তাহ ধরে ভারতে তার উপস্থিতি বাংলাদেশে অনেক জল্পনাকেই উসকে দিয়েছে।

হাসিনার চুপ থাকার বিষয়ে বাংলাদেশ তার অবস্থান ভারতের কাছে জানিয়ে দিয়েছে কি না জানতে চাইলে ড. ইউনূস বলেন, মৌখিকভাবে এবং বেশ দৃঢ়ভাবে জানানো হয়েছে যে– তার চুপ থাকা উচিত।

নোবেলজয়ী এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘সবাই এটা বোঝে। আমরা বেশ দৃঢ়ভাবে বলেছি যে– তার চুপ থাকা উচিত। এটি আমাদের প্রতি অবন্ধুসুলভ অঙ্গভঙ্গি; তাকে সেখানে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে এবং সেখান থেকে তিনি প্রচারণা চালাচ্ছেন। তিনি যে স্বাভাবিক নিয়মেই সেখানে (ভারতে) গেছেন তা নয়। জনগণের অভ্যুত্থান এবং জনরোষের কারণে তিনি পালিয়ে গেছেন।’

ইউনূস বলেন, (হাসিনা সরকারের আমলে হওয়া) নৃশংসতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং ন্যায়বিচারের জন্যই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।’

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘হ্যাঁ, তাকে (হাসিনাকে) ফিরিয়ে আনতে হবে, তা না হলে বাংলাদেশের মানুষ শান্তিতে থাকবে না। হাসিনা যে ধরনের নৃশংসতা করেছেন, তাকে এখানে সবার সামনে বিচার করতে হবে।’

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যত নিয়ে কথা বলার সময় ড. ইউনূস ভারতের সাথে সুসম্পর্কের আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেন। কিন্তু তিনি জোর দিয়ে বলেন, নয়াদিল্লিকে এই মনোভাব ত্যাগ করতে হবে যে শুধুমাত্র হাসিনার নেতৃত্বই বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে।




গাজায় যুদ্ধবিরতি-জিম্মি মুক্তি চুক্তির ৯০ শতাংশ কাজ শেষ