দোহায় ইসরাইলি হামলায় বেঁচে যাওয়া হামাসের শীর্ষ কর্মকর্তা গাজী হামাদ প্রকাশ্যে আসলেন

চন্দ্রদ্বীপ ডেক্স: কাতারে হামাসের শীর্ষ নেতাদের ওপর গত সপ্তাহে ইসরায়েলি হামলার পর এই প্রথম সংগঠনটি এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা প্রকাশ্যে এসেছেন। তিনি বুধবার টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দোহার ওপর চালানো এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। দোহা-ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরায় হাজির হয়ে গাজী হামাদ সেই ঘটনার মুহূর্তগুলোর বর্ণনা দিয়েছেন। ইসরায়েলি ওই হামলায় পাঁচজন নিম্ন-পর্যায়ের হামাস সদস্য এবং একজন কাতারি নিরাপত্তা কর্মকর্তাসহ অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন।

হামাসের এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, বিস্ফোরণগুলো যে ইসরায়েলি হামলার ফল, তা তারা ‘অবিলম্বে বুঝতে পেরেছিলেন’, কারণ তারা গাজায় বসবাস করেছেন এবং এর আগেও ইসরায়েলি গোলাবর্ষণ প্রত্যক্ষ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাদের।

তিনি বলেন, ‘‘গোলাবর্ষণ এতটাই তীব্র ছিল, পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ এবং রকেটগুলো অবিরাম চলতে থাকে। এক মিনিটেরও কম সময়ে প্রায় ১২টি রকেট ছোড়া হয়েছিল, কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছায়, আমরা এই আগ্রাসন থেকে রক্ষা পেয়েছি।’’

হামাস নেতা খলিল আল-হায়া, জাহের জাবরিন, মুহাম্মদ ইসমাইল দারবিশ এবং খালেদ মাশাল প্রাথমিকভাবে তাদের ওপরই এই হামলা চালানো হয়। সংগঠনটির এই শীর্ষ নেতারা গত কয়েক মাস ধরে ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি এবং বন্দী চুক্তি আলোচনায় জড়িত রয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে আল-হায়ার কার্যালয়ের পরিচালক জিহাদ লাবাদ এবং তার ছেলে হুমাম রয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া আবদুল্লাহ আব্দুল ওয়াহিদ, মোমেন হাসুনা এবং আহমেদ আব্দুল মালিক নামে তিনজন সহযোগীকেও হত্যা করা হয়েছে।নিহত কাতারি নিরাপত্তা কর্মকর্তার পরিচয় ল্যান্স কর্পোরাল বদর সাদ আল-হুমাইদি আল-দোসারী বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

সাক্ষাৎকারে হামাদ কাতারের রাজধানীতে ইসরায়েলের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই বোমা হামলা ‘‘বিশ্বের সকল স্বাধীন মানুষের প্রতি সুস্পষ্ট এবং নির্লজ্জ বার্তা বহন করেছে: দখলদার রাষ্ট্রটি শান্তি চায় না, আলোচনা চায় না, সহাবস্থান চায় না এবং মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর ঘোষিত ও দখলদার রাষ্ট্রের গৃহীত নিয়ম আরোপ করা ছাড়া তারা আর কিছুই চায় না।’’

তিনি আরও বলেন, ইসরায়েল কেবল শক্তির মাধ্যমে শান্তি এবং নিরাপত্তা চায় – অর্থাৎ, দেশটি ভয় দেখানো, গণহত্যা এবং একটি অনড় বাস্তবতা চাপিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে এটি চায়।

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, দোহার ওপর এই হামলা সকলের প্রতি একটি সুস্পষ্ট বার্তা যে, অন্যান্য আরব রাজধানীও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।হামাস মার্কিন আলোচকদের সঙ্গে তার অভিজ্ঞতাকে ‘তিক্ত’ বলে বর্ণনা করেছেন এবং যুদ্ধবিরতি আলোচনার সময় তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা না থাকা এবং ইসরায়েলের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করার জন্য অভিযুক্ত করেছেন।

তিনি সাম্প্রতিক হামলায় ইসরায়েলের সঙ্গে যোগসাজশ করার জন্যও ওয়াশিংটনকে অভিযুক্ত করেছেন।

 




যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক হামলায় নিহত তিন পুলিশ কর্মকর্তা

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় এক বন্দুকধারীর সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে তিন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুই পুলিশ কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন। পরে পুলিশের গুলিতে হামলাকারীও নিহত হন।

পেনসিলভানিয়া রাজ্য পুলিশের কমিশনার কর্নেল ক্রিস্টোফার প্যারিস জানিয়েছেন, নিহত কর্মকর্তারা আগের দিনের একটি তদন্তের কাজে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। যদিও তিনি তদন্তের বিস্তারিত প্রকাশ করেননি, তবে এটি পারিবারিক কলহ সম্পর্কিত ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

হামলার সময় আহত দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের অবস্থা গুরুতর হলেও স্থিতিশীল বলে হাসপাতাল সূত্র নিশ্চিত করেছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, কর্মকর্তারা পারিবারিক কলহ সম্পর্কিত মামলার তদন্তে তল্লাশি চালাতে গেলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত ও আহতদের সঙ্গে হামলাকারীর মुठোফাইটের পর পুলিশ তাকে হত্যা করে। হামলাকারীর পরিচয় এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জোশ শাপিরো হাসপাতাল পরিদর্শন করে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, “আজ ইয়র্ক কাউন্টি এবং পুরো রাজ্যের জন্য এক ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক দিন।” নিহত ও আহত কর্মকর্তাদের পরিবারের জন্য সকলের কাছে প্রার্থনার আহ্বান জানান।

নিহত তিন কর্মকর্তার সম্মানে গভর্নর রাজ্যের সব সরকারি ভবন ও স্থাপনায় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পাকিস্তান ও সৌদির প্রতিরক্ষা চুক্তি, অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার

পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তান এবং মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ দেশ সৌদি আরব বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) একটি যুগান্তকারী প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তি দুই দেশের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করবে এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

দুই দেশের রাষ্ট্রীয় মিডিয়ার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই চুক্তির লক্ষ্য হলো প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানো এবং যে কোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরোধ গড়ে তোলা। চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো একটি দেশের ওপর আক্রমণকে উভয় দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে।

সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, চুক্তিটি দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক অংশীদারিত্ব এবং অভিন্ন কৌশলগত স্বার্থের ভিত্তিতে করা হয়েছে। চুক্তির মধ্য দিয়ে উভয় দেশ নিজেদের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত সহযোগিতা আনুষ্ঠানিকভাবে বৃদ্ধি করেছে।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের মধ্যে রিয়াদে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, নিরাপত্তা বিষয়ক সহমতের গুরুত্ব এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করার উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বৈঠকে উভয় দেশ তাদের অভিন্ন স্বার্থের প্রতি প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

একজন জ্যেষ্ঠ সৌদি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এই চুক্তি বহু বছরের আলোচনার ফল। এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের প্রতি প্রতিক্রিয়া নয়, বরং দুই দেশের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার উদ্যোগ। পরমাণবিক অস্ত্র সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তরে তিনি উল্লেখ করেছেন, চুক্তি বিস্তৃত প্রতিরক্ষামূলক কাঠামোর মধ্যে সব ধরনের সামরিক প্রক্রিয়াকে অন্তর্ভুক্ত করে।

এই চুক্তি আরব লীগ ও ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)-এর যৌথ বৈঠকের দুই দিন পর স্বাক্ষরিত হয়েছে। সম্প্রতি কাতারের দোহায় ইসরায়েলের হামলার পর আঞ্চলিক দেশগুলো বৈঠক আহ্বান করেছিল। ওই হামলায় হামাসের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করা হলেও, বৈঠকে মার্কিন-সমর্থিত যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বিষয়ক আলোচনা হয়েছিল।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী প্রতিরক্ষা সমঝোতার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এছাড়া, এটি দু’দেশের সামরিক ও কৌশলগত সক্ষমতাকে আরও দৃঢ় করবে এবং আঞ্চলিক সংঘাত ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সহায়ক হবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




গাজায় ইসরাইলের ভয়াবহ স্থল অভিযান শুরু যুক্তরাষ্ট্রকে দুষলেন হামাস

চন্দ্রদ্বীপ ডেক্স:দুই বছর ধরে চলমান সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক নিন্দা উপেক্ষা করেই গাজা সিটিতে স্থল অভিযান শুরু করেছে ইসরাইল। এমনকি সশস্ত্র হামাসের হাতে আটক ইসরাইলি জিম্মিদের পরিবারের পক্ষ থেকেও এর বিরোধিতা উঠেছে। তাদের এই অভিযানের বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে গাজার শাসক গোষ্ঠি হামাস।

হামাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গাজা সিটিতে ইসরাইলি আগ্রাসন ‘অভূতপূর্ব’ এবং ‘বর্বরতাপূর্ণ’। সশস্ত্র সংগঠনটি জানিয়েছে, ‘শহরে প্রত্যক্ষ করা অভূতপূর্ব বর্বর জায়নিস্ট আগ্রাসন ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে চলমান ‘পদ্ধতিগত গণহত্যার’ নতুন অধ্যায় ছাড়া আর কিছু নয়।’ খবর সিএনএনের।

হামাস আরও বলেছে, এ হামলার সম্পূর্ণ দায়ভার যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বর্তায়। এইসব অপরাধ আন্তর্জাতিক সব নিয়ম ও আইন লঙ্ঘন করেছে। এগুলো যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের প্রকাশ্য রাজনৈতিক ও সামরিক ছত্রচ্ছায়ায় সংঘটিত হচ্ছে। আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে গাজায় সংঘটিত গণহত্যা ও জাতিগত নির্মূলের মূল সহযোগী হিসেবে বিবেচনা করি।

ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গাজা সিটিতে তারা নতুন ও সম্প্রসারিত স্থল অভিযান শুরু করেছে। ইসরাইলি কর্মকর্তাদের মতে, এটি হামাসের শেষ কয়েকটি ঘাঁটির একটি। অবরুদ্ধ গাজার এ অঞ্চলে এতদিন ইসরাইল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) পুরোপুরি প্রবেশ করেনি।




স্থান কাল পাত্র বিবেচনা করা হবে না হামাস যেখানেই থাকুক হামলা করা হবে নেতানিয়াহু

চন্দ্রদ্বীপ ‍ডেক্স:ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হামাস নেতাদের বিরুদ্ধে বিদেশে আরো হামলার হবে বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন । গত সপ্তাহে কাতারে হামলার পর তিনি বলেন, হামাস নেতারা ‘যেখানেই থাকুক না কেন’ তারা কোনোভাবেই নিরাপদ নয়।

জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু বলেন, প্রত্যেক দেশেরই ‘নিজের সীমানার বাইরে গিয়েও আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে।’ খবর আল জাজিরার।

নেতানিয়াহুর এ মন্তব্য আসে এমন এক সময়ে, যখন হোয়াইট হাউস জানিয়েছিল যে ট্রাম্প কাতারকে আশ্বস্ত করেছেন, ‘তাদের মাটিতে এমন ঘটনা আর ঘটবে না।’

কাতার যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র। হামাস নেতাদের লক্ষ্য করে কাতারে ইসরায়েলের হামলার সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক ক্ষোভের জন্ম দেয়। এ কারণে ইসরায়েল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনার মুখে পড়ে।

হামাস জানায়, ওই হামলায় ছয়জন নিহত হলেও তাদের শীর্ষ নেতারা বেঁচে গেছেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র এই হামলায় কোনোভাবে যুক্ত ছিল কিনা জানতে চাইলে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরাই করেছি। একেবারে একা।’

 




ইসলামি জোট গঠনের আহ্বান ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর

চন্দ্রদ্বীপ ডেক্স:অবশেষে মনে হয় ঘুম ভাংগলো  ইসলামি বিশ্বের ,কাতারের রাজধানী দোহায় ইসরায়েলি হামলার পর ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানি ইসলামি দেশগুলোর মধ্যে একটি রাজনৈতিক, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক জোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন।

আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আল-সুদানি কাতারে ইসরায়েলি বোমা হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতির লঙ্ঘন এবং উপসাগরীয় অঞ্চল ও কাতারের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসলামি দেশগুলোর যৌথ প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠনে কোনো বাধা নেই। তিনি আরও বলেন, “আমাদের হাতে এমন অনেক উপায় আছে যার মাধ্যমে এই আগ্রাসনের মোকাবিলা করা সম্ভব, যা কাতারে থেমে থাকবে না।”

এদিকে, শাফাক নিউজকে একটি সরকারি সূত্র জানায়, আল-সুদানি ১৪-১৫ সেপ্টেম্বর দোহায় অনুষ্ঠিতব্য আরব-ইসলামি সম্মেলনে ইরাকের প্রতিনিধিত্ব করবেন। এতে সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমাদ আল-শারাআ এবং অন্যান্য আরব নেতারাও অংশ নেবেন।

ইসরায়েল এই বিমান হামলা চালায় হামাসের রাজনৈতিক নেতাদের লক্ষ্য করে, যারা কাতারে অবস্থান করছিলেন।

এই হামলায় হামাসের ঊর্ধ্বতন আলোচকরা লক্ষ্যবস্তু হন এবং ছয়জন শহীদ হন, যাদের মধ্যে ছিলেন হামাস নেতা খালিল আল-হাইয়ার ছেলে হুমাম আল-হাইয়া। ইসরায়েল হায়োম-এর তথ্য মতে, দোহায় হামাসের অফিসে হামলার আগে ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারকে অবহিত করেছিল।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ কাতারে ইসরায়েলি বিমান হামলার নিন্দা জানিয়েছে। কাতারেই হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে গাজা যুদ্ধ অবসানে পরোক্ষ আলোচনা চলছিল।

এই বিমান হামলার বিরুদ্ধে জাতিসংঘ, আরব লীগ এবং অঞ্চলজুড়ে বিভিন্ন দেশ কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনপুষ্ট এক বিবৃতিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ হামলার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং কাতারের সার্বভৌমত্ব পুনরায় নিশ্চিত করে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস একে “মারাত্মক লঙ্ঘন” বলে অভিহিত করেন। আরব লীগের প্রধান আহমেদ আবুল গেইত হামলাকে “বিপজ্জনক উত্তেজনা” বলে মন্তব্য করেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইরান, ওমান, আলজেরিয়া, জর্ডান, কুয়েত, মিশর, তুরস্ক ও লেবানন—সবাই এই হামলার তীব্র নিন্দা জানায় এবং সতর্ক করে দেয় যে, এই আগ্রাসন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে।

ফিলিস্তিনের বিভিন্ন দলও হামলার নিন্দা জানিয়েছে। প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এটিকে “ভ্রাতৃপ্রতিম কাতারের ওপর হামলা” বলে অভিহিত করেন, আর ইসলামিক জিহাদ আন্দোলন একে “অপরাধমূলক কাজ” বলে অভিহিত করে, যা দোহা’র মধ্যস্থতা প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করার লক্ষ্যে চালানো হয়েছে।




কঙ্গোতে এক দিনের ব্যবধানে একাধিক নৌ-দুর্ঘটনায় নিহত ১৯৩

চন্দ্রদ্বীপ ‍ডেক্স:  সময়ের চেয়ে জীবনের মুল্য বেশী তা আমরা কেবলে মুখেই বলতে অভ্যস্ত , অথচ  আমরা সময়কে পেছনে ফেলতে জীবনের ঝুকি নেই প্রতিনিয়ত, তারই প্রতিফলন হচ্ছে অতিরিক্ত যাত্রী বহন ।  যার  কারণে  ডি আর কঙ্গোতে এক দিনের ব্যবধানে পৃথক দুই নৌকা দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ১৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, নিখোঁজ রয়েছেন বহু মানুষ।

বুধবার ও বৃহস্পতিবার দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একুয়েতার প্রদেশে দুর্ঘটনাগুলো ঘটে। দুই দুর্ঘটনাস্থলের দূরত্ব প্রায় ১৫০ কিলোমিটার। খবর  ইনডিপেন্ডেন্টের।

ডি আর কঙ্গোর মানবিক সহায়তা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রদেশের লুকোলেলা এলাকায় প্রায় ৫০০ যাত্রী নিয়ে একটি নৌকা আগুন ধরে উলটে যায়।

মালাঞ্জে গ্রামের কাছে কঙ্গো নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ওই হোয়েলবোট থেকে ২০৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

এর একদিন আগে প্রদেশের বাসাঙ্কাসু এলাকায় একটি মোটরচালিত নৌকা উলটে কমপক্ষে ৮৬ জনের মৃত্যু হয়।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী ছিলেন। এখনো বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন, যদিও সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, রাতের যাত্রায় অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করার কারণে বুধবারের দুর্ঘটনাটি ঘটে। তবে উভয় দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান এবং উদ্ধার তৎপরতা চলছে কি না তা স্পষ্ট নয়।

স্থানীয় এক নাগরিক সংগঠন দুর্ঘটনার জন্য সরকারকে দায়ী করেছে এবং দাবি করেছে যে, মৃতের

এসব নৌযানে সাধারণত জীবন রক্ষাকারী লাইফ জ্যাকেট পাওয়া যায় না, অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে বেশিরভাগ নৌযান চলে রাতের বেলা।

ইনডিপেন্ডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাতে দুর্ঘটনা ঘটলে উদ্ধার অভিযান জটিল হয়ে পড়ে এবং অনেক লাশের খোঁজ পাওয়া যায় না।

গত বছর অতিরিক্ত যাত্রী বহনের বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন সরকারি কর্মকর্তারা। বলেছিলেন, যারা নৌপরিবহণের নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন করবে, তাদের শাস্তি পেতে হবে।




নেপালের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি

অবশেষে নেপালের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন ইতিহাস রচিত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার পর দেশটির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি। শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় রাত ৯টায় প্রেসিডেন্ট ভবনে তিনি শপথ নেবেন বলে প্রেসিডেন্ট দপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, সম্প্রতি দেশজুড়ে চলমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পাউডেল, সেনাপ্রধান অশোক রাজ সিগদেল এবং বিক্ষোভকারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে সর্বসম্মত মতামতের ভিত্তিতে সুশীলা কার্কিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেতৃত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তার নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া এই সরকার হবে আকারে ছোট ও কার্যকর। শুক্রবার রাতেই তিনি প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। বৈঠক থেকে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার প্রস্তাব উপস্থাপন করবেন তিনি। এর মাধ্যমে একটি নতুন রাজনৈতিক কাঠামো গঠনের পথ খুলে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধের প্রতিবাদে দেশব্যাপী আন্দোলনে নামে নেপালের তরুণ প্রজন্ম জেন-জিরা। সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) আন্দোলনকারীরা পার্লামেন্ট ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে কয়েকজন নিহত হন। সেই ঘটনার পর বিক্ষোভ আরও তীব্র আকার ধারণ করে এবং দেশজুড়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং নতুন রাজনৈতিক সমাধানের পথে হাঁটার জন্যই সুশীলা কার্কির নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হচ্ছে। নেপালের জনগণও তার প্রতি ব্যাপক আস্থা রাখছেন এবং আশা করছেন তিনি দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




অবৈধ বাংলাদেশিদের বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত আরো কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে ভারতে সরকার

চন্দ্রদ্বীপ ‍ডেক্স:  ভারতে বসবাসকারী অবৈধ বাংলাদেশিদের বহিষ্কার ত্বরান্বিত করতে বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আসামের বিজেপি সরকার। আসাম মন্ত্রিসভা বিদেশিদের বহিষ্কারের জন্য একটি নতুন স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং পদ্ধতি অনুমোদন করেছে। এর ফলে, মাত্র ১০ দিনের বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সরাসরি অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত ও বহিষ্কার করতে পারবেন।

আসাম সরকার সূত্রে খবর, সরকার নিজে বিদেশিদের বহিষ্কারের এ কাজ করবে না, সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী বিএসএফ’কে এই দায়িত্ব দেয়া হবে। অবৈধ অভিবাসী হিসেবে সন্দেহভাজন ব্যক্তি তার ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণ করার জন্য ১০ দিনের সময় বেঁধে দেয়া হবে। এরমধ্যে শুনানির মাধ্যমে ডেপুটি কমিশনার যদি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে ব্যক্তিটি একজন বিদেশি, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে আদেশ জারি করা হবে।

মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বাস শর্মা এসব জানান। ডিসির আদেশের পর, সরকার ওই ব্যক্তিকে ডিটেনশন ক্যাম্পে নিয়ে যাবে। তারপর বিএসএফের সহায়তায় তাদের বিদেশে নির্বাসন দেয়া হবে।

যদি জেলা প্রশাসক কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পারেন, তাহলে সেক্ষেত্রে মামলাটি আরও বিচারের জন্য ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হবে। এই প্রক্রিয়ার ফলে আসাম সরকারের পক্ষে বিদেশিদের খুঁজে বের করা এবং তাদের শনাক্ত করার পর তাদের দেশে ফেরত পাঠানো অনেক সহজ হবে।

যেসব ক্ষেত্রে ডিসি বিভ্রান্ত হবেন বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে অসামর্থ হবেন, বিশেষ করে ১৯৭১ সালের পরে নাগরিকত্বের বিষয়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে, তখন বিষয়টি ট্রাইব্যুনালে যাবে। যদি ট্রাইব্যুনাল নির্ধারণ করে যে ব্যক্তিটি আসলে বাংলাদেশ বা পাকিস্তানের নাগরিক, তাহলে তাকে অবিলম্বে নির্বাসিত করা হবে।




নেপালের দায়িত্ব নিতে আলোচনায় যারা

চন্দ্রদ্বীপডেক্স:নেপালের সংবিধানবিশেষজ্ঞ ভিমার্জুন আচার্য বলেন, আমাদের সামনে এমন একটি পরিস্থিতি এসেছে, যার জন্য আমরা প্রস্তুত ছিলাম না। কেবল সর্বদলীয় আলোচনার মাধ্যমে এর একটি সমাধান বের করা সম্ভব। কিন্তু এর জন্য আগে বিক্ষোভের অবসান হতে হবে এবং স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। মানুষের জীবন ও অধিকারের সুরক্ষা জরুরি।

অনেকের মতো ভিমার্জুন আচার্যও মনে করেন, ১০ বছর আগে রচিত নেপালের বর্তমান সংবিধান কার্যত এখন অকার্যকর। অন্তর্বর্তী ব্যবস্থাই এখন পরবর্তী পদক্ষেপ হওয়া উচিত।

সে ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কে অলির জায়গা নিতে চলেছেন? সবচেয়ে কঠিন প্রশ্ন এখন এটা। কারণ, নেপালের রাস্তায় বিক্ষোভের যে ঝড় বয়ে গেছে, সে ঝড়ে সব দলের নেতারাই রোষের লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন।

নেপালের সুপ্রিম কোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি সরকারের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তরুণদের এ আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।

এবং জেন-জির বিভিন্ন দলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছেন।অন্তর্বর্তী সরকারের সম্ভাব্য প্রধান হিসেবে কার্কি অথবা তার পূর্বসূরি কল্যাণ শ্রেষ্ঠার নাম শোনা যাচ্ছে। তাদের দুজনের বয়সই ৭০ পেরিয়ে গেছে এবং আলোচনায় বালেন্দ্র শাহ রয়েছেন।

যদিও অনেকে ইতিমধ্যে বলতে শুরু করেছেন, এই দুজনের যে কাউকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান করা হলে ৩০ বছরের কম বয়সিদের এ আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হয়ে যাবে।

অলির কট্টর সমালোচক বালেন শাহ জনসমক্ষেই তাকে বারবার দুর্নীতিবাজ বলেছেন। তিনিও জেন-জিদের এ বিক্ষোভে সমর্থন দিয়েছেন।

আরও একটি নাম জোরেসোরে উচ্চারিত হচ্ছে। তিনি হলেন কাঠমুন্ডুর  মেয়র বালেন শাহ। তার বয়স ৩৫ বছর। তিনি স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে লেখাপড়া করেছেন এবং একজন রেপার।

অলি সরকারের পতনের পর জেন-জিরা বালেন শাহকে দেশের নেতৃত্বে আসার অনুরোধ করেছিল বলে শোনা যাচ্ছে। কিন্তু তিনি তরুণদের ওই আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং তরুণদেরই সরকার পরিচালনায় আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে নেপালের সেনাবাহিনী জনগণ ও জেন-জি বিক্ষোভকারীদের শান্ত থাকার, শান্তি বজায় রাখার এবং ব্যক্তিগত ও সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছে।

সেনাবাহিনী থেকে আরও বলা হয়েছে, নাগরিকদের জীবন ও মর্যাদা রক্ষা করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে তারা শান্তি ও পারস্পরিক ঐক্যের মাধ্যমে দেশে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করার ইঙ্গিতও দিয়েছে।