দোহায় ইসরাইলি হামলায় বেঁচে যাওয়া হামাসের শীর্ষ কর্মকর্তা গাজী হামাদ প্রকাশ্যে আসলেন

চন্দ্রদ্বীপ ডেক্স: কাতারে হামাসের শীর্ষ নেতাদের ওপর গত সপ্তাহে ইসরায়েলি হামলার পর এই প্রথম সংগঠনটি এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা প্রকাশ্যে এসেছেন। তিনি বুধবার টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দোহার ওপর চালানো এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। দোহা-ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরায় হাজির হয়ে গাজী হামাদ সেই ঘটনার মুহূর্তগুলোর বর্ণনা দিয়েছেন। ইসরায়েলি ওই হামলায় পাঁচজন নিম্ন-পর্যায়ের হামাস সদস্য এবং একজন কাতারি নিরাপত্তা কর্মকর্তাসহ অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন।
হামাসের এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, বিস্ফোরণগুলো যে ইসরায়েলি হামলার ফল, তা তারা ‘অবিলম্বে বুঝতে পেরেছিলেন’, কারণ তারা গাজায় বসবাস করেছেন এবং এর আগেও ইসরায়েলি গোলাবর্ষণ প্রত্যক্ষ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাদের।
তিনি বলেন, ‘‘গোলাবর্ষণ এতটাই তীব্র ছিল, পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ এবং রকেটগুলো অবিরাম চলতে থাকে। এক মিনিটেরও কম সময়ে প্রায় ১২টি রকেট ছোড়া হয়েছিল, কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছায়, আমরা এই আগ্রাসন থেকে রক্ষা পেয়েছি।’’
হামাস নেতা খলিল আল-হায়া, জাহের জাবরিন, মুহাম্মদ ইসমাইল দারবিশ এবং খালেদ মাশাল প্রাথমিকভাবে তাদের ওপরই এই হামলা চালানো হয়। সংগঠনটির এই শীর্ষ নেতারা গত কয়েক মাস ধরে ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি এবং বন্দী চুক্তি আলোচনায় জড়িত রয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে আল-হায়ার কার্যালয়ের পরিচালক জিহাদ লাবাদ এবং তার ছেলে হুমাম রয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া আবদুল্লাহ আব্দুল ওয়াহিদ, মোমেন হাসুনা এবং আহমেদ আব্দুল মালিক নামে তিনজন সহযোগীকেও হত্যা করা হয়েছে।নিহত কাতারি নিরাপত্তা কর্মকর্তার পরিচয় ল্যান্স কর্পোরাল বদর সাদ আল-হুমাইদি আল-দোসারী বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
সাক্ষাৎকারে হামাদ কাতারের রাজধানীতে ইসরায়েলের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই বোমা হামলা ‘‘বিশ্বের সকল স্বাধীন মানুষের প্রতি সুস্পষ্ট এবং নির্লজ্জ বার্তা বহন করেছে: দখলদার রাষ্ট্রটি শান্তি চায় না, আলোচনা চায় না, সহাবস্থান চায় না এবং মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর ঘোষিত ও দখলদার রাষ্ট্রের গৃহীত নিয়ম আরোপ করা ছাড়া তারা আর কিছুই চায় না।’’
তিনি আরও বলেন, ইসরায়েল কেবল শক্তির মাধ্যমে শান্তি এবং নিরাপত্তা চায় – অর্থাৎ, দেশটি ভয় দেখানো, গণহত্যা এবং একটি অনড় বাস্তবতা চাপিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে এটি চায়।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, দোহার ওপর এই হামলা সকলের প্রতি একটি সুস্পষ্ট বার্তা যে, অন্যান্য আরব রাজধানীও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।হামাস মার্কিন আলোচকদের সঙ্গে তার অভিজ্ঞতাকে ‘তিক্ত’ বলে বর্ণনা করেছেন এবং যুদ্ধবিরতি আলোচনার সময় তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা না থাকা এবং ইসরায়েলের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করার জন্য অভিযুক্ত করেছেন।
তিনি সাম্প্রতিক হামলায় ইসরায়েলের সঙ্গে যোগসাজশ করার জন্যও ওয়াশিংটনকে অভিযুক্ত করেছেন।








