আকাশ, নৌ ও স্থল অভিযানের প্রস্তুতি ইসরায়েলের, প্রতিরোধের ঘোষণা হিজবুল্লাহর

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: লেবাননে ইসরায়েলের স্থল আগ্রাসন মোকাবিলায় প্রস্তুত হিজবুল্লাহ। সশস্ত্র গোষ্ঠীটির উপপ্রধান নাঈম কাসেম আজ সোমবার দেওয়া ভাষণে এ কথা বলেছেন। একই সঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব সংগঠনের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ায় নতুন প্রধান নিয়োগ দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

গত শুক্রবার লেবাননের রাজধানী বৈরুতের উপকণ্ঠে হিজবুল্লাহর সদর দপ্তরে ইসরায়েলের হামলায় নিহত হন এই সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রধান হাসান নাসরুল্লাহ। ওই ঘটনার পর তাদের শীর্ষ পর্যায়ের কোনো নেতা প্রথমবারের মতো জনগণের উদ্দেশে ভাষণ দিলেন।




ইসরায়েলকে ইরানের নতুন হুমকি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ইসরায়েলের হামলায় হিজবুল্লাহপ্রধান হাসান নাসরুল্লাহর মারা গেছেন। তার সাথেই নিহত হয়েছেন ইরানের আইআরজিসির কুদস ফোর্স শাখার এক শীর্ষস্থানীয় কমান্ডার। এই হত্যাকাণ্ডের কড়া প্রতিশোধ নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, আগ্রাসী ইহুদি রাষ্ট্রের এই ভয়াবহ অপরাধের জবাব দেওয়া হবে।

ইরান তার রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সক্ষমতা দিয়ে অপরাধী ও তাদের সমর্থকদের জবাব দেবে।হিজবুল্লাহ প্রধান নাসরুল্লাহকে হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরান। ইরনার খবরে বলা হয়, ইরানের কৌশলগতবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট জাবেদ জাফরি বলেছেন, ‘যথাসময়ে জবাব দেওয়া হবে। এ

বিবিসির খবরে বলা হয়, এক বিবৃতিতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্বাস নিলফোরোওশানের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে আইআরজিসি। সেখানে নিলফোরোওশানকে আইআরজিসির ‘লেবাননের সামরিক উপদেষ্টা’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত মাসে ইরানের রাজধানী তেহরানে ইসরায়েলের বিমান হামলায় নিহত হন হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়া। ওই ঘটনার পর তাঁর হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েলকে কয়েক দফা হুমকি দেয় আইআরজিসি।

২০১৯ সালে আলী জাহেদির উত্তরসূরি হিসেবে নিলফোরোওশানকে আইআরজিসির অপারেশন বিভাগের ডেপুটি কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে তিনি আইআরজিসির কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ ইউনিভার্সিটির প্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া প্যারামিলিটারি বাজিস ফোর্সেসকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য ইমাম হোসেন হেডকোয়ার্টার্সের ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি কমান্ডার হিসেবেও কাজ করেছেন l




মাকে গাছে ঝুলিয়ে জীবন্ত পুড়িয়ে মারল দুই ছেলে!

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ভারতের ত্রিপুরায় ৬২ বছর বয়সী এক নারীকে গাছে ঝুলিয়ে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠেছে তারই দুই ছেলের বিরুদ্ধে। গত পুলিশ শনিবার রাতে চম্পকনগর থানা এলাকার খামারবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ওই দুই ছেলেকে আটক করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক বিরোধের জেরে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। প্রায় দেড় বছর আগে স্বামীকে হারানোর পর ওই নারী তার দুই ছেলেকে নিয়ে থাকতেন। তার আরেক ছেলে আগরতলায় থাকেন।

জিরানিয়ার সাব-ডিভিশনাল পুলিশ অফিসার কমল কৃষ্ণ বার্তা সংস্থা পিটিআইকে বলেন, একজন নারীকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারা হয়েছে, এমন খবর পাওয়ার পর সেখানে পুলিশের একটি দল গিয়ে দেখে, একটা পোড়া মরদেহ গাছের সঙ্গে বাঁধা। এরপর মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।

কমল কৃষ্ণ আরও বলেন, এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আমরা তার দুই ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছি। তাদের আজ সোমবার আদালতে হাজির করা হবে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চাওয়া হবে। ঘটনার পেছনে পারিবারিক কলহের কারণ হতে পারে।




নেতানিয়াহুর ওপর হামলা, ইসরাইলজুড়ে বিমান পরিবহণ বন্ধ ঘোষণা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: হিজবুল্লাহর মহাসচিব হাসান নাসরুল্লাহর হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইয়েমেন।এরই জেরে ইসরাইল সরকার তাদের আকাশসীমা ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে এবং ইউরোপের সঙ্গে সব ফ্লাইট বাতিল করেছে।

রোববার ইসরাইলি মিডিয়া জানিয়েছে, দখলকৃত অঞ্চলের আকাশসীমা বন্ধ রয়েছে এবং ইউরোপের সঙ্গে সবগুলো ফ্লাইট ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে।

এর আগে, এক বিবৃতিতে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, ইসরাইলের বেনগুরিয়ন বিমানবন্দরে একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ইয়েমেন থেকে তেলআবিবের ওই বিমানবন্দরে ‘প্যালেস্টাইন-২’ নামের একটি দেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। যখন ইসরাইলের অপরাধী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরে বিমানবন্দরে পা রাখেন।

বিবৃতিতে জেনারেল সারি বলেন, ‘আমরা নেতানিয়াহুর আগমনের সময় বেনগুরিয়ন বিমানবন্দরে প্যালেস্টাইন-২ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছি’।

হাসান নাসরাল্লাহর হত্যার বদলা হিসেবেই এই হামলা চালানো হয় বলেও জানান তিনি। আর এ ঘটনার পর থেকেই দখলকৃত অঞ্চল থেকে ইউরোপ এবং ইউরোপ থেকে দখলকৃত অঞ্চলে চলাচলকারী সব ফ্লাইট বাতিল করেছে ইসরাইল।

এ বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এভিয়েশন সেফটি এজেন্সি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইউরোপীয় কমিশন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন এভিয়েশন সেফটি এজেন্সি (EASA) পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের প্রভাব যথাযথ মনিটর করছে। ওই অঞ্চলের আকাশে আক্রমণ বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি লক্ষ্য করা গেছে। যা দখলকৃত ফিলিস্তিন এবং লেবাননের ওপর বিমান পরিবহনের নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করছে’।

এমন পরিস্থিতির কারণে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতে, এ অঞ্চলে যুদ্ধাবস্থা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা সিভিল এভিয়েশনের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক। সূত্র: মেহের নিউজ এজেন্সি




লেবাননে যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইসরায়েলের এবার ভিন্ন সুর 

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: হিজবুল্লাহর সঙ্গে লেবাননে ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ যেন কোনোভাবেই আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ না নেয়, তা নিশ্চিত করতে গতকাল বৃহস্পতিবার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স। কিন্তু ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তবে এক দিন যেতে না যেতেই সেই তিনিই আবার প্রস্তাব মেনে নেওয়ার পক্ষে কথা বলছেন।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় গতকাল গভীর রাতে নেতানিয়াহু বলেছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবিত অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির সঙ্গে একমত। এর আগে, তিনি গোপনে যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতিতে রাজি হলে তাঁর মন্ত্রিসভায় ভর্ৎসনার শিকার হন। পরে তিনি প্রকাশ্যে যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় যুদ্ধবিরতির বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের বিবৃতির পরে একটি বিবৃতি জারি করেছে। যেখানে ইসরায়েল ইঙ্গিত দিয়েছে, তারা বুধবার ওয়াশিংটন ও প্যারিসের প্রস্তাবিত ২১ দিনের যুদ্ধবিরতিকে সমর্থন করবে। তারা বলেছে, ইসরায়েলি ও আমেরিকার প্রতিনিধিদল মার্কিন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনার জন্য গতকাল গভীর রাতে সাক্ষাৎ করেছে। আগামী দিনে এসব আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

এই যুদ্ধবিরতি উদ্যোগটি মূলত গাজায় জিম্মি-বন্দী বিনিময় ও যুদ্ধবিরতি চুক্তির জন্য সময় বাড়ানোর লক্ষ্যে। গাজায় ইসরায়েল ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের সঙ্গে লড়াই করছে। একই সঙ্গে, লেবানন ফ্রন্টে হিজবুল্লাহ যেন আর ইসরায়েলে হামলা না চালায় তা নিশ্চিত করাও এই চুক্তির লক্ষ্য। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের রেজল্যুশন অনুসারে ইসরায়েল এরই মধ্যে উত্তর সীমান্ত থেকে বাহিনী দূরে সরিয়ে দিয়েছে।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বলেছেন, ‘মার্কিন নেতৃত্বাধীন যুদ্ধবিরতি উদ্যোগ নিয়ে ব্যাপক ভুল প্রতিবেদনের কারণে কয়েকটি পয়েন্ট স্পষ্ট করা গুরুত্বপূর্ণ। এই সপ্তাহের শুরুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সঙ্গে অন্যান্য আন্তর্জাতিক এবং আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে মিলে লেবাননে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সামনে রাখার ক্ষেত্রে আমাদের সঙ্গে আলোচনা করেছে।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ আমাদের উত্তর সীমান্তের লোকেদের নিরাপদে এবং সুরক্ষিতভাবে তাদের বাড়িতে ফিরে যেতে সক্ষম করতে মার্কিন নেতৃত্বে গৃহীত উদ্যোগও মেনে নিয়েছে।’ বিবৃতিতে ইসরায়েল যোগ করেছে, হিজবুল্লাহ কোনো উদ্যোগ নিলে তারাও লেবাননে গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে নতুন করে আক্রমণ চালাবে।

এর আগে, বৃহস্পতিবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স স্পষ্ট করেছিল যে নেতানিয়াহু ব্যক্তিগতভাবে যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনায় সম্মত হয়েছেন। ঠিক তারপরই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। বিষয়টি নিয়ে বিস্ময় ও হতাশা প্রকাশ করে ওয়াশিংটন ও প্যারিস।




ইরানি গুপ্তচরের বিশ্বাসঘাতকায় প্রাণ গেছে হাসান নাসরুল্লাহর




হাসান নাসরুল্লাহর পর হিজবুল্লাহর শীর্ষ গোয়েন্দা কমান্ডারও নিহত




৪৬ দিনে কী ঘটেছিল জানতে চায় জাতিসংঘ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: ছাত্র-জনতার আন্দোলন কেন্দ্র করে গত ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত ৪৬ দিনে বাংলাদেশে কী ঘটেছিল; কতসংখ্যক মানুষ হতাহত হয়েছিল; কেমন মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছিল এবং এ জন্য কারাই বা দায়ী- এসবের বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করছে জাতিসংঘ। এরই ধারাবাহিকতায় অন্তর্বর্তী সরকারের আমন্ত্রণে জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তরের প্রতিনিধিরা এখন বাংলাদেশে, চলছে তাদের নানামুখী তদন্ত। ইতোমধ্যে তাদের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন পুলিশ সদর দপ্তরে চিঠি দিয়ে একগুচ্ছ তথ্য জানতে চেয়েছে পুলিশের কাছে। জাতিসংঘের তদন্ত দলটি আন্দোলনকালে আইন প্রয়োগকারী বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যক্তি, ভুক্তভোগী, আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা, চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, সে সময়কালের ছবি ও ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহের পর তা বিশ্লেষণ করে একটি প্রতিবেদন তৈরি করবে।

জানা গেছে, ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন পুলিশ সদর দপ্তরে চিঠি দিয়ে ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে কতজন নিহত হয়েছেন, তাদের পেশাগত পরিচয় কী, কতজন আহত হয়েছেন, কতটি মামলা হয়েছে, কতজন গ্রেপ্তার হয়েছেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলন মোকাবিলায় পুলিশ মোট কত রাউন্ড গুলি করেছে, আন্দোলনকালে কোন কোন কর্মকর্তা মাঠ পুলিশকে গুলির নির্দেশ দিয়েছে, পুলিশের গুলিতে কতজন মারা গেছে, কোন কোন এলাকায় সর্বাধিক সহিংসতা ঘটেছে, কী ধরনের সহিংসতা হয়েছে- এমন আরও নানা তথ্য জানতে চেয়েছে। এ ছাড়া ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের দিন পর্যন্ত কতজন হতাহত হয়েছে এবং ৫ আগস্ট থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত কতজন হতাহত হয়েছে তা জানতে চেয়েছে পুলিশের কাছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের তদন্ত দলের চাহিদানুযায়ী ইতোমধ্যে সারাদেশ থেকে তথ্য আনতে পুলিশের সব ইউনিটে চিঠি দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। সদরদপ্তরের নির্দেশ অনুযায়ী বিভিন্ন ইউনিটের তথ্য সংগ্রহের কাজ শেষ পর্যায়ে। সব ইউনিট থেকে তথ্য-উপাত্ত পাওয়ার পর তা ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের তদন্ত দলের কাছে তা হস্তান্তর করবে পুলিশ সদর দপ্তর।

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) ইনামুল হক সাগর আমাদের সময়কে বলেন, জাতিসংঘের তদন্ত দলের চাহিদানুযায়ী বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার জন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছি।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে ১ জুলাই থেকে আন্দোলন শুরু হয়। মধ্য জুলাইয়ের পর এই আন্দোলন দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলপ্রয়োগ শুরু করে। এ সময় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বলপ্রয়োগে যুক্ত হয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা। কোথাও কোথাও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের দেখা গেছে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালাতেও। এর পর ছাত্রদের এ আন্দোলন সরকার পতনের একদফায় রূপান্তরিত হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, পেশাজীবী সংগঠন, সাংস্কৃতিক সংগঠন ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ যুক্ত হন। তখন ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমন করতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নির্বিচারে প্রাণঘাতী গুলি ব্যবহার করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ছাত্র-জনতার আন্দোলনের অপ্রতিরোধ্য স্রোতে ভেসে যায় শেখ হাসিনা সরকার। পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন গঠিত স্বাস্থ্যবিষয়ক কেন্দ্রীয় উপকমিটি এবং জাতীয় নাগরিক কমিটি যৌথভাবে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ১ হাজার ৫৮১ জন নিহতের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করেছে। সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া তথ্যমতে, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ৩১ হাজারের বেশি ছাত্র-জনতা আহত হয়েছেন। অনেক আহতের তথ্য একাধিকবার এসেছে এবং অনেকের নাম এখনো এ তালিকায় যুক্ত হয়নি বলেও জানান তারা।

জানা গেছে, গত ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করছে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন। ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং দলটি তথ্য প্রতিষ্ঠা, দায়িত্ব চিহ্নিত করা, মূল কারণ বিশ্লেষণ এবং অতীতের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার এবং এর পুনরাবৃত্তি রোধে বাংলাদেশের জন্য সুনির্দিষ্ট সুপারিশ পেশ করবে। ঘটনাস্থলের পরীক্ষা এবং তথ্য বিশ্লেষণের পর, জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর একটি বিশদ মানবাধিকার প্রতিবেদন প্রকাশ করবে যার মধ্যে মূল ফলাফল, উপসংহার ও সুপারিশ থাকবে। তাদের প্রতিবেদনে ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত ৪৬ দিনে বাংলাদেশে কী ঘটেছিল- এর একটি চিত্র উঠে আসবে।




ইসরাইলজুড়ে হিজবুল্লাহর রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

আল-মাসিরাহর রিপোর্ট অনুযায়ী, ইসরাইলি গণমাধ্যম জানিয়েছে যে, হিজবুল্লাহর এই রকেট হামলা অধিকৃত সাফাদ শহরে আঘাত হেনেছে, যা অধিকৃত ফিলিস্তিনের মধ্যে অবস্থিত। ইসরাইলি সেনাবাহিনীও স্বীকার করেছে যে, হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র সাফাদে আঘাত হেনেছে।

এদিকে, শনিবার জাফার পূর্বাংশে অবস্থিত বিভিন্ন বসতিতে সাইরেন বেজে ওঠে।

এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলাগুলো ইসরাইলি সেনাবাহিনীর লেবাননের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় দাহিয়া এবং লেবাননের পূর্বাঞ্চলীয় বেকায় হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে চালানো হয়। ইসরাইলি বাহিনী গত রাতে দাহিয়ায় ৩০টির বেশি বিমান হামলা চালিয়েছে।

ইসরাইলি সেনাবাহিনী আরও ঘোষণা করেছে যে, শনিবার সকালে লেবানন থেকে একটি ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলের কেন্দ্রের দিকে নিক্ষেপ করা হয়েছে। ইসরাইলি বাহিনী দাবি করেছে যে, ক্ষেপণাস্ত্রটি একটি খোলা এলাকায় আঘাত হেনেছে এবং এতে কেউ হতাহত হয়নি।

ইসরাইলি সূত্র জানিয়েছে, এই ক্ষেপণাস্ত্রটি তেল আবিবের কাছে আঘাত হানে। এছাড়া হাইফার নিকটবর্তী এলাকায় কমপক্ষে ৫টি বিস্ফোরণের শব্দ আঘাত হেনেছে l




আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে দেশের ভেতরে একটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। হিজবুল্লাহর প্রধান হাসান নাসরুল্লাহকে হত্যা করা হয়েছে—এমন খবর জানার পরই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তেহরানের সর্বশেষ খবর সম্পর্কে অবগত দুজন আঞ্চলিক কর্মকর্তা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইসরায়েলের হাতে হিজবুল্লাহর প্রধান নিহত হয়েছেন—এমন খবর জানার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করতে ইরান হিজবুল্লাহ ও ওই অঞ্চলটিতে সক্রিয় অন্য সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর (ইরানের সহায়তাপুষ্ট) সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখছে।

গতকাল শুক্রবার দক্ষিণ বৈরুতে এক বিমান হামলায় হাসান নাসরুল্লাহকে হত্যা করার দাবি করে ইসরায়েল। আজ শনিবার এক এক্স বার্তায় ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এ দাবি করা হয়। এতে বলা হয়, ‘হাসান নাসরুল্লাহ আর বিশ্বে সন্ত্রাসবাদ পরিচালনা করতে পারবেন না।’