ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সরব অ্যাঞ্জেলিনা জোলি

হলিউড তারকা অ্যাঞ্জেলিনা জোলি আবারও মানবাধিকার ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে মুখ খুললেন। এবার তিনি সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনায় সোচ্চার হয়েছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে স্পেনের সান সেবাস্তিয়ান চলচ্চিত্র উৎসবে নিজের নতুন ছবি কাউচার প্রচারণায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, “আমি আমার দেশকে ভালোবাসি, কিন্তু এখন যা ঘটছে তার সঙ্গে আমি একমত হতে পারছি না। মত প্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করা অত্যন্ত বিপজ্জনক।”

জোলি অভিযোগ করেন, ট্রাম্প প্রশাসন গণমাধ্যম ও সমালোচকদের দমনে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। বিশেষ করে কৌতুক অভিনেতা জিমি কিমেলের অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া এবং রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড নিয়ে মতামত সীমিত করার ঘটনায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

৫০ বছর বয়সী অস্কারজয়ী এই অভিনেত্রী আরও বলেন, “যেকোনো কিছু যা ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকে সংকুচিত করে, তা সমাজের জন্য হুমকিস্বরূপ। এই সময়টা সবার জন্য কঠিন।”

উৎসবে জোলির অভিনীত কাউচার ছবিটি প্রতিযোগিতা বিভাগে রয়েছে। ফরাসি নির্মাতা অ্যালিস উইনোকুর পরিচালিত এ ছবিতে তিনি একজন আমেরিকান চলচ্চিত্র পরিচালকের চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যিনি ব্যক্তিগত সংকট ও নতুন সম্পর্কের মধ্যে জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যান।

নিজের জীবনের অভিজ্ঞতার সঙ্গেও চরিত্রটির মিল খুঁজে পান জোলি। তিনি জানান, ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে ২০১৩ সালে তাকে জটিল অস্ত্রোপচার করতে হয়েছিল। মা ও দাদির মৃত্যুর অভিজ্ঞতা তাকে নারীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে আরও সরব করেছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিল আয়ারল্যান্ড, যুদ্ধবিরতির আহ্বান

ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে আয়ারল্যান্ড। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ঘোষণায় গাজা থেকে সব ধরনের দখলদার শক্তি প্রত্যাহারের আহ্বান জানান এবং অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ করে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন।

এই স্বীকৃতি এসেছে যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই। সম্প্রতি দেশগুলোও ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশন শুরুর আগে বিষয়টি ফিলিস্তিন প্রশ্নে আন্তর্জাতিক সমর্থনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এছাড়া ফ্রান্স, লুক্সেমবার্গ ও মাল্টা ঘোষণা করেছে, তারাও জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল মনে করছে, এই স্বীকৃতি ফিলিস্তিনের ন্যায়সঙ্গত অধিকার প্রতিষ্ঠায় বৈশ্বিক ঐক্যের নতুন দিক উন্মোচন করছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

ট্যাগ

#ফিলিস্তিন #আয়ারল্যান্ড #যুদ্ধবিরতি #জাতিসংঘ #আন্তর্জাতিকসমর্থন
#Palestine #Ireland #Ceasefire #UNGeneralAssembly #GlobalSupport

 




একযোগে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিল কানাডা, ব্রিটেন ও অস্ট্রেলিয়া

আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনলো কানাডা, ব্রিটেন ও অস্ট্রেলিয়া। রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) একযোগে এই তিন দেশ ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই ঘোষণা ইসরাইলের তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

লন্ডন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় বলেন, “আজ ফিলিস্তিনি ও ইসরাইলিদের শান্তির আশায় এবং দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের লক্ষ্যে যুক্তরাজ্য ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিচ্ছে।”

একইদিন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানান, কানাডা এখন থেকে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, “আমরা উভয় রাষ্ট্রের শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজও ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রস্তাবিত ফিলিস্তিন রাষ্ট্রে হামাসের কোনো ভূমিকা থাকবে না।

এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপকে ফিলিস্তিনিদের জন্য দশকের পর দশক ধরে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষার মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি–সেভেনের মধ্যে যুক্তরাজ্য ও কানাডা প্রথমবারের মতো এই স্বীকৃতি দিলো। আগামীকাল সোমবার নিউইয়র্কে শুরু হতে যাওয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের দাবি আমাদের অস্তিত্বকে বিপন্ন করবে এবং সন্ত্রাসবাদ ছড়াবে।” পাশাপাশি তিনি জাতিসংঘে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দেন।

এরই মধ্যে পর্তুগাল জানিয়েছে, তারাও নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবে। পর্তুগিজ প্রেসিডেন্ট বলেন, “দুটি রাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখতে এখনই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।”

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১৯৩ সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ইতোমধ্যেই ১৪০টির বেশি দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এর ফলে ফিলিস্তিনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আরও সুদৃঢ় হলো।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




স্বাধীন ফিলিস্তিন – যুক্তরাজ্য-কানাডা-অস্ট্রেলিয়ার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি

চন্দ্রদ্বীপ ডেক্স: যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া রবিবার ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে। তিন দেশের পক্ষ থেকে পৃথক বিবৃতির মাধ্যমে এ স্বীকৃতির কথা জানানো হয়।

পর্তুগালও রবিবার ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেবে।

যুক্তরাজ্য ও কানাডা প্রথম জি৭ দেশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নিল এবং সোমবার নিউইয়র্কে শুরু হতে যাওয়া জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনে ফ্রান্সসহ অন্যান্য দেশ একই পথে হাঁটবে বলে আশা করা হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিয়ে এক্সে এক বার্তায় বলেন, ‘আজ ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলিদের শান্তির আশা এবং দুই রাষ্ট্র সমাধানের জন্য যুক্তরাজ্য আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিচ্ছে।’

এদিকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি রবিবার ঘোষণা করেছেন, তার দেশ গাজায় যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য ইসরায়েলের ওপর চাপ বৃদ্ধিতে অন্যান্য প্রধান পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে যোগ দিয়েছে।

কার্নি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফরম এক্সে লিখেছেন, ‘কানাডা ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিচ্ছে এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ইসরায়েল রাষ্ট্র উভয়ের জন্য একটি শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি তৈরিতে আমাদের অংশীদারির প্রস্তাব দিচ্ছে।

অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী এন্থনি আলবানিজ জানিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়াস্বাধীন সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে।

স্বীকৃতি ফিলিস্তিনিদের জন্য এবং তাদের দশকব্যাপী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষার জন্য এক মাইলফলক, যেখানে সবচেয়ে শক্তিশালী পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে যুক্তি দিয়ে এসেছে, এটি কেবল ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনাভিত্তিক শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবেই হওয়া উচিত।




দুর্নীতি কেলেঙ্কারিতে উত্তাল ফিলিপাইন

ফিলিপাইনে ভুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পে বিপুল অর্থ অপচয়ের ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে সাধারণ মানুষ। রাজধানী ম্যানিলাসহ দেশজুড়ে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছে।

আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানা যায়, প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ অর্থ অপচয় হয়েছে এসব প্রকল্পে। জনগণের অভিযোগ, কাগজে-কলমে যেসব প্রকল্প দেখানো হয়েছে, বাস্তবে তার কোনো অস্তিত্ব নেই। স্থানীয়ভাবে এগুলোকে বলা হচ্ছে “ঘোস্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রজেক্ট”।

বিক্ষোভকারীরা হাতে জাতীয় পতাকা ও বিভিন্ন স্লোগান লেখা ব্যানার নিয়ে রাস্তায় নামেন। তাদের ব্যানারে লেখা ছিল, “আর নয়, যথেষ্ট হয়েছে বাড়াবাড়ি, এবার ওদের কারাগারে পাঠাও।” আন্দোলনকারীরা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে বিচারের দাবি তুলেছেন।

উল্লেখ্য, গত জুলাইয়ে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র বার্ষিক ভাষণে এই দুর্নীতির বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রায় ৯ হাজার ৮৫৫টি বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পে অনিয়ম ধরা পড়েছে, যেগুলোর মোট মূল্য প্রায় ৫৪৫ বিলিয়ন পেসো (৯ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)।

প্রেসিডেন্ট মারকোস এক বিবৃতিতে জানান, জনগণ শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যেতে পারে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীকে “রেড অ্যালার্টে” রাখা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভুয়া প্রকল্পে বিপুল অর্থ লোপাটের অভিযোগ ফিলিপাইনের রাজনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনরোষ দিন দিন আরও তীব্র হচ্ছে, যা দেশটির রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ট্রাম্পের ভিসা ফি বাড়ানোয় ভারত উদ্বিগ্ন: মানবিক সংকটের আশঙ্কা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এইচ-১বি ভিসার আবেদন ফি ১ লাখ ডলার (প্রায় ৮৮ লাখ টাকা) করার ঘোষণা দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করতে আগ্রহী দক্ষ বিদেশি শ্রমিকদের জন্য এই সিদ্ধান্ত বড় ধাক্কা হতে পারে বলে জানিয়েছে ভারত। দেশটির মতে, হঠাৎ নেওয়া এ পদক্ষেপ মানবিক সংকট তৈরি করতে পারে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বলেছে, “এ ধরনের সিদ্ধান্ত অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে, যার ফলে মানবিক পরিণতি ডেকে আনবে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি এবং আশা করছি যুক্তরাষ্ট্র গঠনমূলক উদ্যোগ নেবে।”

বর্তমানে এই ভিসার আবেদন ফি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার ডলারের মধ্যে থাকলেও হোয়াইট হাউস দাবি করছে, নতুন ফি কার্যকর হলে কেবল উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন জনশক্তি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে এবং স্থানীয় কর্মীদের চাকরি সুরক্ষিত থাকবে। হোয়াইট হাউস একে ‘সবচেয়ে অপব্যবহৃত ভিসা কর্মসূচি’ বলেও উল্লেখ করেছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মনে করছে, দুই দেশের সম্পর্ক প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তাই নীতিনির্ধারকদের উচিত উভয় দেশের জন্য লাভজনক সমাধান খোঁজা।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসাধারীদের মধ্যে ৭১ শতাংশই ভারতীয়, যাদের সংখ্যা প্রায় তিন লাখ। ভারতীয় আইটি কোম্পানিগুলোর অনশোর প্রকল্প মূলত এই ভিসার ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে টিসিএস, ইনফোসিস ও উইপ্রোর মতো কোম্পানিগুলো এ ভিসার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। বিশ্লেষকদের মতে, ফি বাড়ানো হলে এসব প্রতিষ্ঠানের খরচ কয়েক বিলিয়ন ডলার বেড়ে যাবে, যা নিয়োগ কমানো বা প্রজেক্ট ভারতে ফিরিয়ে আনার মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




সিনাই উপত্যকা নিয়ে নেতানিয়াহুর নতুন কুটচাল

চন্দ্রদ্বীপ ডেক্স:   আরব ভুমিতে ইসরাইল একটা বিষফোড়া । জবর দখল যাদের প্রধান হাতিয়ার ,এবার শকুনের দৃষ্টি পরেছে মিশরের সিনাই উপত্যকার উপর। সিনাই উপত্যকা নিয়ে মিসরকে চাপ দিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অনুরোধ জানিয়েছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলি কর্মকর্তারা জানান, সিনাই উপত্যকায় মিসরের সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার কারণে এখন দুই দেশের মাঝে বড় ধরনের টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া গাজায় যুদ্ধ অব্যাহত থাকায় বিষয়টি ইসরাইলের উপর আরো চাপ সৃষ্টি করেছে।

দুই ইসরাইলি কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে বলেন, ১৯৭৯ সালে ইসরাইল ও মিসরের মাঝে একটি চুক্তি হয়েছে। ওই চুক্তি অনুযায়ী কিছু এলাকায় ভারী ধরনের অস্ত্র মোতায়েনের সুযোগ নেই। কিন্তু ওই চুক্তি ভঙ্গ করে মিসরীয়রা কিছু স্থানে এমন সামরিক বাঙ্কার নির্মাণ করছে, যেগুলোকে হামলার কাজে ব্যবহার করা যাবে।

একটি মার্কিন সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইসরাইলে সফরে গেলে নেতানিয়াহু তার কাছে একটি মানচিত্র পেশ করেন, যেখানে সিনাই উপত্যকায় মিসরীয়দের তৎপরতার স্থান নির্দেশ করা হয়েছে।

ইসরাইলি সূত্র দুটি বলেছে, ‘মিসর সিনাই উপত্যকায় বিমানঘাঁটির রানওয়ে সম্প্রসারিত করেছে, যেন যুদ্ধবিমান তা ব্যবহার করতে পারে। এমনিভাবে মাটির নিচে বাঙ্কার নির্মাণ করেছে, যেখানে সেখানে ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণ করা যায়।’ তারা অভিযোগ করেন যে এই বিষয়ে কূটনৈতিক ও সামরিক চ্যানেলে মিসরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেনি।

তারা আরো জানান, এ বিষয়ে মিসরীয়দের সাথে সরাসরি সমঝোতায় ব্যর্থ হয়ে ট্রাম্প প্রশাসনকে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ।

তবে মিসরীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ট্রাম্পের সাথে তাদের এই বিষয়ে সম্প্রতি কোনো আলোচনা হয়নি।




আরব আমিরাতের ভিসা নিষেধাজ্ঞার কবলে বাংলাদেশসহ ৯ দেশ

চন্দ্রদ্বীপ ‍নিউজ: দিন দিন  সংকুচিত হচ্ছে বাংলাদেশীদের শ্রমবাজার।আর তারই ধারাবাহিকতায়  বাংলাদেশসহ নয়টি দেশের ওপর পর্যটন ও কর্ম ভিসার উপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে এই নির্দেশনা।

শ্রমিক, পর্যটক এবং ব্যবসায়িক উদ্দেশে প্রবেশ করতে ইচ্ছুক এই ৯ দেশের নাগরিকরা এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবেন।

বাংলাদেশিদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে  ছিল  সংযুক্ত আরব আমিরাত   আর সেখানে  ভ্রমণ, কাজ বা ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে প্রবেশ করতে ইচ্ছুক বিদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা একটি অপরিহার্য নথি। যদিও বেশিরভাগ নাগরিক সংযুক্ত আরব আমিরাতের পর্যটন ভিসা বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাজের ভিসার জন্যই আবেদন করেন।

তবে এবার বেশ কিছু দেশের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করলো আমিরাত। এই বিধিনিষেধের অর্থ হলো- পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই দেশগুলোর নাগরিকরা শ্রমিক, পর্যটক এবং ব্যবসায়িক উদ্দেশে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন না।

দেশটির অভিবাসন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলো হলো- আফগানিস্তান, লিবিয়া, ইয়েমেন, সোমালিয়া, লেবানন, বাংলাদেশ, ক্যামেরুন, সুদান এবং উগান্ডা।

এই নিষেধাজ্ঞা সাময়িক বলে মনে করা হচ্ছে এবং আরব আমিরাতের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য মূল্যায়ণের ওপর নির্ভর করে তা পর্যালোচনা করা হবে। তবে যারা বৈধ ভিসা নিয়ে এরই মধ্যে আমিরাতে বসবাস করছেন, তারা এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ছেন না।




ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিচ্ছে পশ্চিমারা, বাস্তবে কী বদলাবে?

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত ফিলিস্তিন প্রশ্ন আবারও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। আগামী সোমবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকের আগে অস্ট্রেলিয়া, বেলজিয়াম, যুক্তরাজ্য, কানাডাসহ প্রায় ১০টি দেশ ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, আবার অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন এটি ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে।

ফিলিস্তিন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও) ১৯৮৮ সালে স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণা করার পর থেকেই বিশ্বের দক্ষিণাঞ্চলীয় দেশগুলো দ্রুত স্বীকৃতি দেয়। বর্তমানে জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্য দেশের মধ্যে ১৪৭টি দেশ ফিলিস্তিনকে ইতোমধ্যেই স্বীকৃতি দিয়েছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে মেক্সিকো এ তালিকায় যুক্ত হয়। তবে জাতিসংঘে পূর্ণ সদস্যপদ পেতে হলে নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন দরকার, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ভেটো শক্তিই সবচেয়ে বড় বাধা।

ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের বিরোধিতা করে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সরাসরি বলেছেন, পৃথিবীতে কখনোই ফিলিস্তিন নামে কোনো রাষ্ট্র গঠনের অনুমতি দেওয়া হবে না। ফলে কূটনৈতিক স্বীকৃতি পাওয়া সত্ত্বেও বাস্তবে ফিলিস্তিনিদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় খুব বেশি পরিবর্তন আসে না। সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, পণ্য প্রবাহ, বিনিয়োগ, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ সবকিছুই ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

বর্তমানে ফিলিস্তিন অথরিটি (পিএ) পশ্চিমতীরের কিছু অংশে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছে। প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এর নেতৃত্বে থাকা এই সংস্থা পাসপোর্ট, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাত পরিচালনা করে। অন্যদিকে গাজা উপত্যকা ২০০৭ সাল থেকে হামাসের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এতে ফিলিস্তিনিদের অভ্যন্তরীণ বিভাজন আরও গভীর হয়েছে।

তবুও পশ্চিমাদের এই স্বীকৃতি কেবল প্রতীকী নয় বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক। যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত হুসাম জমলত বলেছেন, এই স্বীকৃতি সমতার ভিত্তিতে নতুন অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। অন্যদিকে জেরুজালেমে সাবেক ব্রিটিশ কনসাল-জেনারেল ভিনসেন্ট ফিন মনে করেন, এ উদ্যোগ দেশগুলোকে ইসরায়েলের দখলদার নীতির বিরুদ্ধে আরও দৃঢ় অবস্থান নিতে বাধ্য করতে পারে।

ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিলে পশ্চিমাদের ওপর চাপ বাড়বে ইসরায়েলের নীতি পুনর্বিবেচনার জন্য। উদাহরণ হিসেবে বলা হচ্ছে, দখলকৃত ভূমির বসতিগুলো থেকে আসা পণ্যের ওপর যুক্তরাজ্য নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে। যদিও এসব পদক্ষেপ ইসরায়েলি অর্থনীতিতে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলবে না, তবে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এক নতুন বার্তা ছড়িয়ে দেবে—ফিলিস্তিন প্রশ্ন আর উপেক্ষিত রাখা সম্ভব নয়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




গাজায় নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে পুনরায় ভেটো দিল যুক্তরাষ্ট্র

চন্দ্রদ্বীপ ডেক্স: গাজায় যুদ্ধ বিরতি হোক যুক্তরাষ্ট্র তা কখনোই চায়নি আর তাই  জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে উত্থাপন করা ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধবিরতির একটি খসড়া প্রস্তাবে পুনরায় ভেটো দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে ৬ বারের মতো গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে ভেটো দিল ওয়াশিংটন।

বৃহস্পতিবারের (১৮ সেপ্টেম্বর)  বৈঠকে উত্থাপিত সর্বশেষ প্রস্তাবটির খসড়ায় গাজায় অবিলম্বে নিঃশর্ত ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতির কথা বলা হয়েছিল। সেই সঙ্গে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা থেকে ইসরাইলকে সব ধরণের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং ত্রাণ সরবরাহ করতে দেওয়ার কথাও বলা ছিল। এর বিপরীতে খসড়া প্রস্তাবটিতে গাজায় জিম্মি অবস্থায় থাকা ইসরাইলিদের অবিলম্বে সম্মানজনক মুক্তির শর্তও ছিল।

স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলে ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদের নির্বাচিত ১০ সদস্যদেশ এ খসড়া প্রস্তাব তুলেছিল। স্থায়ী সদস্য যুক্তরাষ্ট্র ভেটো দিয়েছে। বাকি ১৪ সদস্য দেশ খসড়া প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দিয়েছে।

গাজায় প্রায় দু বছর ধরে আগ্রাসন চালাচ্ছে ইসরাইল। এ সময়ের মধ্যে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের শর্ত যুক্ত করে নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপিত ছয়টি প্রস্তাবের ভোটাভুটিতে ভেটো দিল ওয়াশিংটন।