আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়েছে। বিচার কার্যক্রম শিগগিরই শুরু হবে। সোমবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর প্রয়োজন হলে সরকার তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে। আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমরা হাইকোর্টের দুজন বিচারপতি এবং একজন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজকে নিয়ে মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠনের কাজ সম্পন্ন করেছি।’ নতুন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের চেয়ারম্যান হিসেবে হাইকোর্টের বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদার দায়িত্ব পালন করবেন। সদস্য হিসেবে থাকবেন হাইকোর্টের বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

আইন উপদেষ্টা জানান, ‘এর মাধ্যমে আইন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিচার কাজ শুরু করার ব্যাপারে একটি বড় ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। আমরা আশা করি খুব শিগগির বিচার কাজ শুরু হয়ে যাবে।’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানকালে যে নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল, তাতে এক হাজারেরও বেশি মানুষ হত্যা হয়েছে। হাজার হাজার ছাত্র-জনতাকে আহত করা হয়েছে। এই অপরাধের বিচারের জন্য এটি একটি শক্তিশালী ফোরাম।’

এছাড়া, অধস্তন আদালতের বিচার কাজের স্থবিরতা দূরীকরণে আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে সারা দেশের অধস্তন আদালতে জিপি-পিপি নিয়োগের কাজ শেষ করার চেষ্টা করবেন বলেও জানান তিনি।




ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অবশেষে জানা গেল ইসরায়েলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: গত ১ অক্টোবর ইসরায়েলি ভূখণ্ডে ইরান প্রায় ২০০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। সোমবার ব্লুমবার্গ ও জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে ওই হামলায় বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরা হয়। তবে সামরিক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি এখনও প্রকাশ করেনি ইসরায়েল সরকার।

জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের ওপর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আনুমানিক ৪ কোটি থেকে ৫ দশমিক ৩ কোটি ডলারের ব্যক্তিগত সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছে। এই হিসাব খোদ ইসরায়েলের কর কর্তৃপক্ষের। ফলে এক বছর আগে যুদ্ধ শুরুর পর এটি সবচেয়ে ব্যয়বহুল হামলায় পরিণত হয়েছে।

ইরানের হামলার পর দুই সপ্তাহে প্রায় ২ হাজার ৫০০টি ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতির দাবি জমা দেওয়া হয়েছে কর্তৃপক্ষের কাছে। ক্ষয়ক্ষতির অর্ধেকেরও বেশি ইসরায়েলের প্রাণকেন্দ্র উত্তর তেল আবিবে। সেখানে অ্যাপার্টমেন্ট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আক্রান্ত হয়েছে। তবে হামলার কেন্দ্রস্থল ছিল হড হাশারন শহর। সেখানে ১ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত আরেকটি হলো উত্তর তেল আবিবের উপকূলের কাছে একটি বাণিজ্যিক ও আবাসিক কমপ্লেক্স।  যেখানে কয়েক ডজন অ্যাপার্টমেন্ট এবং একটি রেস্তোরাঁ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইসরায়েলের অন্যান্য অংশেও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে তেল নোফ এবং নেভাটিমের ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর ঘাঁটির ক্ষতি এর অন্তর্ভুক্ত নয়।

গত বছর গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসন শুরু হলে হামাসের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে হামলা শুরু করে লেবাবনের হিজবুল্লাহ। এর ফলে ৬০ হাজার ইসরায়েলি উত্তরাঞ্চলে তাদের বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে গেছে।  কবে তারা বাড়িতে ফিরতে পারবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

বৈরুতে ইসরায়েলি হামলায় হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরাল্লাহ এবং তেহরানে হামাসপ্রধান ইসমাইল হানিয়াহকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইরান গত ১ অক্টোবর চিরশত্রু ইসরায়েলে ২০০ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এর আগে গত এপ্রিলে ৩০০টি ড্রোন এবং ১০০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা চালানো হয়। তবে ১ অক্টোবরের আঘাত ছিল ইসরায়েলের ওপর ইরানের দ্বিতীয় সরাসরি আঘাত।

ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবার ইরান উন্নত অস্ত্র ব্যবহার করেছে এবং তার বেশির ভাগ ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছে। হামলায় পশ্চিম তীরের জেরিকো শহরের কাছে একজন নিহত এবং অন্যত্র বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।

ইসরায়েল ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রিসভা গত সপ্তাহে বৈঠকে মিলিত হয়। তবে ইসরায়েলের জবাব নিয়ে এখনও ভোটাভুটি হয়নি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি চান ইরানের তেল এবং পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা থেকে ইসরায়েল বিরত থাকুক।




ইসরায়েলকে নিজেদের সবচেয়ে শক্তিশালী সমরাস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ইসরায়েলকে নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী সমরাস্ত্র টার্মিনাল হাই অল্টিচিউড এরিয়া ডিফেন্স সিস্টেম (থাড) দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অস্ত্রভাণ্ডারে অত্যন্ত কার্যকর এবং বিশেষ যেসব সমরাস্ত্র রয়েছে, সেসবের মধ্যে থাড অন্যতম।

থাডের সার্বিক পরিচালনার জন্য শতাধিক মার্কিন সেনাও পাঠানো হচ্ছে সেখানে। রোববার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তর পেন্টাগন।

এক বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, ইসরায়েলকে আত্মরক্ষার সহায়তা হিসেবে পাঠানো হচ্ছে এই থাড। তিনি আরও বলেছেন, গত ০১ অক্টোবর ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ইরানের ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন।

গত ১ অক্টোবর রাতজুড়ে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ১৮০টিরও বেশি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল ইরান। পরে ৩ অক্টোবর ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এক ব্রিফিংয়ে বলেন, ইসরায়েল যদি গাজা এবং লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধ না করে, তাহলে অদূর ভবিষ্যতে ফের এ ধরনের হামলা হতে পারে।

পেশেকিয়ানের এই হুঁশিয়ারিরর পর কার্যত বিশ্বজুড়ে ইরান-ইসরায়েল সম্ভাব্য যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দেয়। এ আশঙ্কার মধ্যেই ইসরায়েলকে থাড প্রদানের ঘোষণা দিলো পেন্টাগন।




লেবাননে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে পেজেশকিয়ান-ম্যাক্রোঁর ফোনালাপ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: লেবাননে ইসরাইলের সামরিক অভিযান বন্ধ এবং অতিদ্রুত যুদ্ধবিরতি নিশ্চিতের প্রচেষ্টায় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

ফোনালাপে দুই শীর্ষনেতা দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের চলমান অভিযান থামানো এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করেছেন। এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে ইরানের সরকারী বার্তা সংস্থা ইরনা।

তেহরানের বিভিন্ন নীতি নিয়ে ফ্রান্সের মতবিরোধ থাকলেও লেবানন প্রসঙ্গ দুদেশকে একসঙ্গে কথা বলার উপলক্ষ্য তৈরি করে দিয়েছে। কারণ লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহকে বছরের পর বছর ধরে অর্থনৈতিক এবং সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে ইরান।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান নিশ্চিত করেছেন ইরান একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল অঞ্চল চায়। যুদ্ধ ও উত্তেজনা থেকে মুক্ত, ইরান শান্তি প্রতিষ্ঠার পক্ষে। এ জন্য যুদ্ধবিরতি এবং আঞ্চলিক সংঘাতের অবসানের লক্ষ্যে যে কোনো উদ্যোগকে সমর্থন করবে।




বাংলাদেশ চীনের সঙ্গে সামরিক যোগাযোগ বাড়াতে চায়: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: বাংলাদেশ অন্তর্বর্তী সরকার চীনের সঙ্গে সামরিক যোগাযোগ জোরদার করতে চায় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। সোমবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

তৌহিদ হোসেন বলেন, “বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক ইতোমধ্যে একটি নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে, এবং সামনের দিনগুলোতে এই সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার লক্ষ্যে সামরিক যোগাযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।”

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে চীনের সক্রিয় সহযোগিতা প্রত্যাশা করে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, “রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোই এই সংকটের একমাত্র সমাধান, এবং এ ক্ষেত্রে আমরা চীনের আরও জোরালো ভূমিকা চাই।”

চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, চীন সবসময় বাংলাদেশের পাশে ছিল এবং থাকবে। কোভিড-১৯ মহামারি ও জুলাই আন্দোলন চলাকালেও চীনা কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তারা বাংলাদেশ ছেড়ে যাননি।




ইসরায়েলি সেনা ক্যাম্পে হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলা, নিহত ৩, আহত ৬৭

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ইসরায়েলের হাইফার দক্ষিণে বেনইয়ামিনা এলাকায় দেশটির সামরিক বাহিনীর গোলানি ব্রিগেড ক্যাম্পে ড্রোন হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহ। হামলায় নিহত হয়েছেন তিনজন। লেবাননের ইরান–সমর্থিত হিজবুল্লাহ গোষ্ঠী এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।ইসরায়েলের হাইফার দক্ষিণে বেনইয়ামিনা এলাকায় দেশটির সামরিক বাহিনীর গোলানি ব্রিগেড ক্যাম্পে ড্রোন হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহ। হামলায় নিহত হয়েছেন তিনজন। লেবাননের ইরান–সমর্থিত হিজবুল্লাহ গোষ্ঠী এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলার প্রতিক্রিয়ায় হাইফার বেনইয়ামিনায় ইসরায়েলি সামরিক ক্যাম্পে হামলা চালান l
ইসরায়েলের সামরিক রেডিওতে হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলায় তিনজন নিহত হওয়ার খবর প্রচার করা হয়েছে। দেশটির অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস বলছে, আহতের সংখ্যা ৩৯।

যদিও পরবর্তীতে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলায় আহত হয়েছেন অন্তত ৬৭ জন।




যুদ্ধকে আমরা ভয় পাই না: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ‘যুদ্ধকে আমরা ইরানিরা ভয় পাই না। আমার দেশ ‘যুদ্ধ পরিস্থিতির’জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।’

ইরাক সফরে গিয়ে এসব কথা বলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। খবর বিবিসির।

লেবানন ও সিরিয়ায় হামলা এবং হামাস, হিজবুল্লাহ ও আইআরজিসির কমান্ডারদের হত্যার জবাবে গত ১ অক্টোবর ইসরাইলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। এরপরই প্রতিশোধের হুঙ্কার দেন ইসরা l
এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়ে ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ শুরু করেছে বলে জানা যায়।

এদিকে লেবানন ও সৌদি আরবের পর আজ রবিবার ইরাক সফরে যান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। রাজধানী বাগদাদে ইরাকি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুয়াদ হোসেনের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর এক যৌথ বিবৃতিতে অংশ নেন তিনি।

আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। আমরা যুদ্ধকে ভয় পাই না। তবে আমরা যুদ্ধ চাইও না। আমরা চাই শান্তি এবং আমরা গাজা ও লেবাননে ন্যায়সঙ্গত শান্তির জন্য কাজ করব। ’

এর আগে ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইসরাইলের প্রতিশোধমূলক হামলার বিষয়ে ইরানের জনগণ ও এর স্বার্থ রক্ষায় ‘কোনো রেডলাইন’ বিবেচনায় নেয়া হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন আব্বাস আরাগচি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে করা একটি পোস্টে তিনি লেখেন, ‘সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যদিও আমরা এই অঞ্চলে সর্বাত্মক যুদ্ধের আশঙ্কা রুখে দিতে ব্যাপক চেষ্টা করেছি। তবে এখন আমি স্পষ্টভাবে বলছি, আমাদের জনগণ ও স্বার্থরক্ষায় আমরা কোনও রেডলাইন মানবো না।’




শিশুদের উপর ড্রোন হামলা: গাজায় ইসরায়েলি আক্রমণ অব্যাহত

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: উত্তর গাজায় ইসরায়েলি বাহিনী ড্রোন ব্যবহার করে ফিলিস্তিনি শিশুদের ওপর হামলা চালিয়েছে, resulting in at least five children’s deaths. রোববার (১৩ অক্টোবর) ফিলিস্তিনের ওয়াফা বার্তা সংস্থা এই তথ্য জানিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি ইসরায়েলি ড্রোন শাতি শরণার্থী শিবিরের কাছাকাছি খেলতে থাকা শিশুদের ওপর গুলি ছোড়ে। হামলায় বেশ কয়েকজন শিশু আহত হয়েছে, যারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

গাজার সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ জানায়, আল-ফালুজা এলাকায় পৃথক হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি বাহিনী গত ১০ দিন ধরে উত্তর গাজায় নতুন করে আক্রমণ চালাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তৈরি করেছে।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা জানাচ্ছে, প্রায় চার লাখ মানুষ উত্তর গাজায় আটকা পড়েছে, কারণ তারা দক্ষিণ দিকে পালানোর চেষ্টা করলে তাদের ওপর গুলি করা হচ্ছে। নিরাপদ এলাকা না থাকায় যারা দক্ষিণে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাদের ওপরও হামলা চলছে।

এ পরিস্থিতিতে মানবিক সাহায্য ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে।

 




বাবা সিদ্দিকির খুনের পর সালমানের বাড়ির চারপাশে কড়াকড়ি বৃদ্ধি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: ভারতের সাবেক মন্ত্রী ও এনসিপির নেতা বাবা সিদ্দিকিকে খুনের ঘটনায় মুম্বাইয়ের গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের সংশ্লিষ্টতার তথ্য উঠে এসেছে। এই ঘটনার পর বলিউড সুপারস্টার সালমান খানের গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, সালমান খানের বাসভবনের বাইরে অতিরিক্ত সুরক্ষা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। শনিবার গভীর রাতে লীলাবতী হাসপাতালে গিয়ে বাবার পরিবারকে সমবেদনা জানান সালমান খান।

শনিবার সন্ধ্যায় হামলাকারীরা বাবাকে গুলিতে হত্যা করে। ঘটনার সময় তিনি বান্দ্রায় তার ছেলে জিশানের অফিসের বাইরে ছিলেন। এই ঘটনায় পুলিশ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে, তারা হলেন—হরিয়ানার গুরমাইল বলজিৎ সিং ও উত্তরপ্রদেশের ধর্মরাজ রাজেশ কাশ্যপ। তৃতীয় অভিযুক্ত শিব কুমারের খোঁজে অভিযান চলছে।

লরেন্স বিষ্ণোইয়ের গ্যাং এই হত্যার দায় স্বীকার করেছে এবং তারা জানায়, বাবা সিদ্দিকির হত্যার পিছনে সালমানের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার দায় রয়েছে। এই ঘটনার পর সালমান খানের বাড়িতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, খুনের মূল পরিকল্পনাকারীকে শনাক্ত করা হয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, এই হত্যা পূর্বপরিকল্পিত এবং অভিযুক্তদের আগাম টাকা দেয়া হয়েছিল।




মধ্যপ্রাচ্য এশিয়ার যেসব দেশ দখলে নিতে চায় ইসরায়েল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ সাম্প্রতিক এক ডকুমেন্টারিতে ইহুদি রাষ্ট্রের সীমানাবৃদ্ধির একটি পরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরেছেন। সেখানে তিনি ইসরায়েলি সীমান্ত ভবিষ্যতে জর্ডান নদী পর্যন্ত বিস্তৃত হবে বলে মন্তব্য করেন। তার এই মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।

স্মোট্রিচের মতে, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডকে ঘিরে রেখেছে যেসব অঞ্চল তা বৃহত্তর ইসরায়েলের অন্তর্ভুক্ত হবে। সে হিসেবে ইসরায়েল রাষ্ট্র সম্পূর্ণ ফিলিস্তিন, লেবানন, জর্ডান এবং মিসর, সৌদি আরব, ইরাক ও সিরিয়ার বিশাল অংশ পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।

ফ্রান্স-জার্মান ভিত্তিক নিউজ ম্যাগাজিন আর্টে রিপোর্টেজ থেকে নির্মিত ‘ইন ইসরায়েল : মিনিস্টারস অব কেয়াস’ নামের ডকুমেন্টারিটি এই মাসে মুক্তি পেয়েছে। সেখানে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এবং অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ ইহুদি রাষ্ট্রের বিস্তৃতি নিয়ে কথা বলেন।

ডকুমেন্টারিতে স্মোট্রিচ একটি ‘ইহুদি রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠার জন্য তার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন এই বলে, ‘এটি লেখা আছে যে জেরুজালেমের ভবিষ্যৎ দামেস্কে প্রসারিত হবে।’ ‘বৃহত্তর ইসরায়েল’ মতবাদ নিয়ে ধর্মীয় ব্যাখ্যাও দাঁড় করিয়েছেন চরম ডানপন্থি এই মন্ত্রী।

‘বৃহত্তর ইসরায়েল’ জায়নিস্ট ইহুদিদের একটি মতবাদ যেখানে তারা দাবি করে, তাদের পবিত্রভূমি ইসরায়েলের বিস্তার মিসরের নীলনদ থেকে ইরাকের ফোরাত নদী পর্যন্ত। এই এলাকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে সম্পূর্ণ ফিলিস্তিন, লেবানন, জর্ডনা এবং মিসর, সৌদি আরব, ইরাক ও সিরিয়ার বিশাল অংশ। জায়নিস্ট ইহুদিদের দাবি, পবিত্র বাইবেলে এই অঞ্চল ইহুদিদের ভূমি হিসেবে বর্ণিত আছে।

এই প্রসঙ্গে, ইসরায়েলি সাংবাদিক ওদেদ ইয়েনন বলেছেন, পশ্চিম এশীয় অঞ্চলের জন্য তেলআবিবের পরিকল্পনা ইহুদিবাদের প্রতিষ্ঠাতা থিওডোর হার্জলের দৃষ্টিভঙ্গির উপর ভিত্তি করে যেটি ইসরায়েল লেবানন, সিরিয়া, জর্ডান, ইরাক, মিসর এবং সৌদি আরবের বিশাল অংশকে সংযুক্ত করে গঠন করা হবে।

ডকুমেন্টারিতে ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী দাবি করেন, অনেকের কাছে এই দৃষ্টিভঙ্গি চরমপন্থি বলে মনে হতে পারে। তবে এটি ইতোমধ্যেই ইসরায়েলের জনসাধারণের বক্তৃতার অংশ হিসেবে গৃহীত হয়েছে।

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড এবং আনাদোলু এজেন্সি