থালাপতি বিজয়ের সমাবেশে পদদলিতে ৩১ জন নিহত, আহত অর্ধশতাধিক

ভারতের তামিলনাড়ুতে অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ থালাপতি বিজয়ের সমাবেশে পদদলিত হয়ে অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৬ জন শিশু। এছাড়া অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।

এই তথ্য শনিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের বরাতে জানা গেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে রাজ্যের কারুর-ইরোড মহাসড়কের ভেলুসামিপুরম এলাকায়, যেখানে থালাপতি বিজয়ের ‘ভেলিচাম ভেলিয়েরু’ প্রচারণা সভায় হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, সমাবেশে অংশ নিতে সমর্থকরা ছয় ঘন্টারও বেশি সময় ধরে অপেক্ষা করছিলেন।

সন্ধ্যা ৭.৪৫ টার দিকে, বিজয়কে এক ঝলক দেখার জন্য জনতার একটি বিশাল অংশ মঞ্চের ব্যারিকেডের দিকে ছুটে আসে। এতে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং অনেকজন অজ্ঞান হয়ে পড়ে। জনতার চাপের কারণে অনেক শিশু পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়।

পদদলিত হওয়া মানুষদের সহায়তার জন্য থালাপতি বিজয় তাঁর বক্তৃতা সংক্ষিপ্ত করেন এবং পুলিশের কাছে সহায়তা চেয়ে আবেদন জানান। কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

এ ঘটনায় তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি রোববার কারুর সফর করার ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া হতাহত পরিবারকে ত্রাণ ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয় বিবেচনা করছে সরকার।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




থালাপতি বিজয়ের পদযাত্রায় ভারতে পদদলিত হয়ে নিহত অন্তত ২৯

চন্দ্রদ্বীপ ডেক্স: অভিনেতা ও তামিলাগা ভেত্রি কাজগম (টিভিকে) সভাপতি থালাপতি বিজয়ের সমাবেশে পদদলিত হয়ে অন্তত ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। তামিলনাড়ুর করুর জেলায় শনিবার এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। খবর দ্য হিন্দুর।

তামিল নাড়ুর স্বাস্থ্যমন্ত্রী মা সুব্রামানিয়াম হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন বলে জানিয়েছে ভারতের প্রভাবশালী এই সংবাদমাধ্যম।বিজয়ের চলমান রাজ্য সফরের অংশ হিসেবে ওই সমাবেশে বিপুল জনসমাগম হয়। সমাবেশ চলাকালে হঠাৎ ভিড়ের মধ্যে অনেকে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তাদের করুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ আশপাশের বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়।

দ্য হিন্দু-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে করুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডিন আর. শান্তিমালার বলেন, এখন পর্যন্ত সাতজন প্রাপ্তবয়স্ক এবং তিনজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নতুন রোগী আসছে এবং অ্যাম্বুলেন্স এখনও হাসপাতালে পৌঁছাচ্ছে। সঠিক পরিসংখ্যান জানাতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।




দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা বাস্তবায়নের আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ:  পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

২৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে নয়টার দিকে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮০তম অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দেন তিনি।ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘আমি সবসময় মানুষকে আশার বাণী শুনিয়েছি, কখনও ভয় দেখিয়ে কিছু করা সমর্থন করিনি। কিন্তু আজ আমাকে সেখান থেকে সরে এসে ভয়ঙ্কর কিছু কথা বলতে হচ্ছে। চরম জাতীয়তাবাদ, অন্যের ক্ষতি হয় এমন ভূরাজনীতি এবং অন্যের দুর্ভোগ ও পীড়নের প্রতি উদাসীন্য বহু দশকের পরিশ্রমে অর্জিত অগ্রগতিকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এর সবচেয়ে মর্মান্তিক চিত্র আমরা দেখছি গাজায়। শিশুরা না খেয়ে অকাল মৃত্যুবরণ করছে, বেসামরিক জনগোষ্ঠীকে নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে, হাসপাতাল, স্কুলসহ গোটা জনপদ নিশ্চিহ্ন করা হচ্ছে। জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশনের সঙ্গে আমরাও একমত যে, আমাদের চোখের সামনেই একটি নির্বিচার গণহত্যা সংঘটিত হচ্ছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে মানবজাতির পক্ষ থেকে এর অবসানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে না। এ অবস্থা চলতে থাকলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না।

বাংলাদেশের জনগণ ও বিশ্বের বিবেকবান নাগরিকদের পক্ষ থেকে ড. ইউনূস জোরালোভাবে বলেন, ‘পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান এখনই বাস্তবায়ন করতে হবে। শুধু ১৯৬৭ সালের পূর্বের সীমারেখার ভিত্তিতে, যেখানে ইসরাইল ও ফিলিস্তিন শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে থাকবে, তখনই ন্যায়বিচার সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হবে।’




বিশ্বকাপের ভেন্যু বদলের হুমকি ট্রাম্পের

চন্দ্রদ্বীপ ডেক্স : যুক্তরাষ্ট্রের যে, যেসব শহরে উগ্র বামপন্থী আছে, সেসব শহরকে বিশ্বকাপের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী বছর ফিফা বিশ্বকাপের কিছু ম্যাচ তিনি সেসব শহর থেকে সরিয়ে নেবেন, যেগুলোকে তিনি ঝুঁকিপূর্ণ বা অনিরাপদ মনে করেন।

২০২৬ সালের ১১ জুন ৪৮ দল নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার ১৬ শহরে হবে বিশ্বকাপের ২৩তম আসর। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভেন্যু ১১টি। বিশ্বকাপের সূচি অনুযায়ী, সান ফ্রান্সিসকোর লেভিস স্টেডিয়াম ও সিয়াটলের লুমেন ফিল্ডে ছয়টি করে ম্যাচ হওয়ার কথা।

এই দুই ভেন্যুর নাম উল্লেখ করে ট্রাম্প আজ বলেছেন, ‘এই শহরগুলোতে উগ্র বামপন্থী আছে, যারা জানে না  যে তারা কি করছে। যদি কোনো শহর সামান্য হলেও বিপজ্জনক মনে হয়, আমরা সেখানে ম্যাচ হতে দেব না। প্রয়োজনে অন্য শহরে সরিয়ে নেব।

বিশ্বকাপের আগে ট্রাম্প শিকাগোতে ফেডারেল সেনা পাঠানোর হুমকিও দিয়েছেন। যদিও শিকাগোতে বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচ নেই। তবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ফুটবলের বৈশ্বিক আসরটি সফলভাবে আয়োজন করতেই তিনি সেনা পাঠাতে চাইছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে আগামী ৫ ডিসেম্বর বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠিত হবে।




উত্তপ্ত লাদাখ আন্দোলনের নেপথ্য নায়ক সোনম ওয়াংচুক, গ্রেপ্তার

চন্দ্রদ্বীপ ডেক্স: লাদাখ ভারতের উত্তর সীমান্তে অবস্থিত শান্ত ও মনোরম  শহর বলে খ্যাত যা বর্তমানে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা এবং সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের আওতাভুক্তির দাবিকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সরকারের দাবি, লাদাখকে অশান্ত করতে মুখ্য ভূমিকায় আছেন শিক্ষাবিদ ও পরিবেশ কর্মী সোনম ওয়াংচুক। আন্দোলনকারীদের উস্কানি দেয়ার অভিযোগে শুক্রবার তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর আগে বিদেশি আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তার ‘স্টুডেন্ট এডুকেশন অ্যান্ড কালচারার মুভমেন্ট অব লাদাখ’ (এসইসিএমওএল)- এর লাইসেন্স বাতিল করে সরকার। পৃথক রাজ্য গঠন ও লাদাখকে সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলভুক্ত করার দাবিতে আন্দোলনকারী জনতার সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীদের সংঘর্ষে বুধবার লেহতে চারজন নিহত ও আহত হন ৮০ জন। আন্দোলন শুরুর দুই দিন পর ওয়াংচুককে গ্রেপ্তার করলো লাদাখ পুলিশ। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।

১৯৬৬ সালে জম্মু ও কাশ্মীর (বর্তমানে লাদাখ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল)-এর লেহ জেলার আলচি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সোনম। একজন শিক্ষাবিদ হিসেবে তার সবচেয়ে বড় অবদান হলো লাদাখের ছাত্র শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন প্রতিষ্ঠা। ১৯৮৮ সালে একদল ছাত্রকে সঙ্গে নিয়ে তিনি এই আন্দোলন শুরু করেন। তার নেতৃত্বে লাদাখের সরকারি স্কুল শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার আনা হয়, যা ‘অপারেশন নিউ হোপ’ নামে পরিচিত। এর ফলে বহু পিছিয়ে পড়া ছাত্রছাত্রী শিক্ষার মূল স্রোতে ফিরে আসে। তার এই কাজই তাকে ২০১৮ সালে ম্যাগসেসে পুরস্কার এনে দেয়। বলিউড চলচ্চিত্র ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর কেন্দ্রীয় চরিত্র র‌্যাঞ্চো আংশিকভাবে তার জীবন ও কাজ থেকে অনুপ্রাণিত।

লাদাখকে ভারতীয় সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের অন্তর্ভুক্ত করে আদিবাসী মর্যাদা এবং ভূমি ও কর্মসংস্থান সুরক্ষা নিশ্চিত করা। লাদাখের জন্য রাজ্যের মর্যাদা প্রদান করা। এই দাবিগুলো নিয়ে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি অনশন কর্মসূচি শুরু করেন।

এই অনশন চলাকালীন, লাদাখকে রাজ্য এবং ষষ্ঠ তফসিলের দাবিতে হওয়া আন্দোলনে উত্তেজনা ছড়ায়। সম্প্রতি লেহ শহরে প্রতিবাদ হিংসাত্মক রূপ নিলে চারজনের মৃত্যু এবং বহু মানুষ আহত হন। সরকারের পক্ষ থেকে এই সহিংসতার জন্য সরাসরি সোনম ওয়াংচুকের ‘উস্কানিমূলক বক্তব্য’ এবং অনশনকেই দায়ী করা হয়েছে। অন্যদিকে ওয়াংচুক এই ঘটনাকে বিজেপি’র প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ফল এবং যুবসমাজের স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ বলে অভিহিত করেছেন।




গাজায় যুদ্ধবিরতির নতুন ২১ দফা পরিকল্পনা দিলেন ট্রাম্প

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় দীর্ঘদিন ধরে চলমান সংঘাত নিরসনে নতুন উদ্যোগ নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার নিউইয়র্কে আরব ও মুসলিম নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি গাজা যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত ২১ দফা পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ।

উইটকফ জানান, বৈঠকে ট্রাম্প প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, “আমরা খুব ফলপ্রসূ আলোচনা করেছি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হলে একদিকে গাজায় সহিংসতা বন্ধ হবে, অন্যদিকে ইসরায়েল এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর উদ্বেগও কমবে।” তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই পরিকল্পনার অগ্রগতি সম্পর্কে ঘোষণা আসতে পারে।

ট্রাম্পের পরিকল্পনার মূল বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে— গাজায় আটক সব জিম্মিকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া, স্থায়ী যুদ্ধবিরতির ব্যবস্থা করা, গাজার প্রশাসনকে হামাসের প্রভাবমুক্ত করা এবং ধাপে ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করা।

বৈঠকে উপস্থিত আরব নেতারা পরিকল্পনাটিকে সমর্থন করলেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব যোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন। সেগুলো হলো— পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের দখল বন্ধ করা, জেরুজালেমের বর্তমান স্থিতাবস্থা বজায় রাখা, গাজায় যুদ্ধের দ্রুত অবসান, বন্দি সব ইসরায়েলি জিম্মির মুক্তি নিশ্চিত করা এবং মানবিক ত্রাণ কার্যক্রমে অবাধ প্রবেশাধিকার দেওয়া।

বৈঠকে অংশ নেওয়া এক কূটনীতিক সিএনএনকে বলেন, “এটি ছিল একটি অসাধারণ ও কার্যকর বৈঠক। আমরা মনে করি, এই প্রক্রিয়া শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।”

এর আগে, সোমবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের বৈশ্বিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ফ্রান্স ও সৌদি আরব আয়োজিত সেই সম্মেলনের ধারাবাহিকতায়ই ট্রাম্প এই বৈঠকে যোগ দেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতির ইন্তিকালে জামায়াত আমীরের শোক প্রকাশ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি এবং সর্বোচ্চ ওলামা পরিষদের প্রধান শায়খ আবদুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আলে শায়খের ইন্তিকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।

মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে এক শোকবাণী প্রদান করেন তিনি।

প্রদত্ত শোকবাণীতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শায়খ আবদুল আজিজ ১৯৯৯ সালে সৌদি আরবের প্রধান মুফতি পদে নিযুক্ত হন এবং সর্বোচ্চ ওলামা পরিষদের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। প্রধান মুফতির দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন আইনি, সামাজিক ও ধর্মীয় বিষয়ে ফতোয়া প্রদান, যা সৌদি আরবের আদালত ব্যবস্থায় ব্যাপক প্রভাব ফেলে। তিনি ১৯৮১ সাল থেকে টানা ৩৫ বছর হজের খুতবা দিয়েছেন, যা ইসলামের ইতিহাসে মসজিদে নামিরার দীর্ঘকালীন খতিব হিসেবে রেকর্ড গড়েছে। ২০১৬ সালে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি অবসর গ্রহণ করেন।

শায়খের মৃত্যু মুসলিম উম্মাহর জন্য এক বিশাল ক্ষতি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনি একজন আলেমে দ্বীন, ইসলামী চিন্তাবিদ ও অভিভাবক ছিলেন, যিনি দীর্ঘ ৩৫ বছর হজের খুতবার মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহর বিশাল খেদমত করেছেন। তাঁর ইন্তিকালে সৌদি আরবসহ মুসলিম বিশ্বে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

শোকবাণীতে তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছেন, শায়খের জীবনের সকল খেদমত কবুল হোক, তাঁর গুনাহসমূহ ক্ষমা করা হোক এবং তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউসের আলা দারাজা নসীব হোক।

ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।




ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোর বিরোধী ট্রাম্প

চন্দ্রদ্বীপ ডেক্স: ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া হামাসকে পুরস্কৃত করার শামিল বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮০তম সাধারণ অধিবেশনে ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।

সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে আসার একাধিক দেশের সরকারপ্রধান ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এরই মধ্য দিয়ে গাজা যুদ্ধ শুরুর প্রায় দুই বছর পর এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সাক্ষী হয়েছে জাতিসংঘ।

গতকাল সৌদি আরবের যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালামানকে সঙ্গে এক বৈঠকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ ঘোষণা দেন, ফ্রান্স ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেবে। তিনি বলেন, ‘দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনা ধরে রাখতে আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করতে হবে।’

একই বৈঠকে ইউরোপের দেশ লুক্সেমবার্গ, মাল্টা, মোনাকো ও বেলজিয়ামও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির ঘোষণা দেয়। এর আগে এই সপ্তাহে কানাডা, ব্রিটেন, পর্তুগাল ও অস্ট্রেলিয়াও একই ঘোষণা দিয়েছে।

জাতিসংঘের ভাষণে একের পর এক দেশ কর্তৃক ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার পদক্ষেপকে ‘ভুল বার্তা’ আখ্যা ট্রাম্প। তার মতে, এমন পদক্ষেপ কেবল সহিংসতাকে উৎসাহিত করবে এবং শান্তি প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

 




পশ্চিমাদের মধ্যপ্রাচ্য নীতির পুনর্মূল্যায়ন জরুরি

ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র স্বীকৃতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা দেশগুলোর নীতি পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। রবিবার অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও যুক্তরাজ্য একযোগে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি ঘোষণা করেছে। এর সঙ্গে ফ্রান্স, আন্দোরা, বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ, পর্তুগাল, মাল্টা ও সান মারিনোও স্বীকৃতি প্রদানের পরিকল্পনা করেছে।

ফিলিস্তিনি স্বীকৃতির এই নতুন ধারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী অবস্থানের বিপরীতে এসেছে। ১৮ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব আটকে দেওয়ার জন্য আমেরিকা তার ভেটো ব্যবহার করেছে। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে ফিলিস্তিনি ইস্যুতে ক্রমবর্ধমান বিভাজন লক্ষ্য করা গেছে।

দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা দেশগুলি ইসরায়েলের প্রতি সহানুভূতিশীল অবস্থান গ্রহণ করলেও, গাজায় ক্রমবর্ধমান মানবিক সংকট এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর আক্রমণের কারণে ইউরোপীয় জনমত ও আন্তর্জাতিক আন্দোলন ফিলিস্তিনি স্বীকৃতির পক্ষে শক্তিশালী হচ্ছে। গত দুই বছরে বিশ্বজুড়ে ফিলিস্তিনি সমর্থনে বিক্ষোভ ও সমাবেশের ঢেউ দেখা গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য ‘দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান’ অপরিহার্য। কিন্তু ইসরায়েল পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে, যা ফিলিস্তিনি বসতি ও নিরাপত্তাকে আরও সীমিত করেছে। গাজায় সাম্প্রতিক ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের কারণে ৬৫,০০০ এরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং দুই মিলিয়নেরও বেশি মানুষ স্থানান্তরিত হয়েছে।

বিশ্বের বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ঐকমত্য ও কার্যকর মধ্যস্থতা ছাড়া এই সংকট সমাধান সম্ভব নয়। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা আনতে পশ্চিমা দেশগুলোকে তাদের নীতি পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে। যুদ্ধবিরতি ও মানবিক সাহায্যের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে আরও প্রাণহানি ও সংকট সৃষ্টি হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




ফ্রান্স ও সৌদি আহ্বানে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা নিয়ে বিশ্ব সম্মেলন

ফ্রান্স ও সৌদি আরবের আহ্বানে সোমবার নিউ ইয়র্কে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং দুই রাষ্ট্র সমাধান বিষয়ক একটি বৈশ্বিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে কয়েক ডজন বিশ্বনেতা অংশ নিচ্ছেন এবং সম্ভাবনা রয়েছে যে কিছু দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে পারে। তবে এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের তীব্র প্রতিক্রিয়া ডেকে আনতে পারে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রবিবারই ব্রিটেন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও পর্তুগাল ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। সোমবার ফ্রান্সসহ আরও অন্তত পাঁচটি দেশ একই ঘোষণা দিতে পারে। যদিও ইউরোপের অধিকাংশ দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে, জার্মানি ও ইতালি এখনো এ পদক্ষেপ থেকে বিরত।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সম্মেলন বয়কট করেছে। ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন এটি ‘সার্কাস’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ইসরায়েলি সরকার জানিয়েছে, প্রতিক্রিয়ায় তারা পশ্চিম তীরের কিছু অংশ সংযুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং ফ্রান্সের বিরুদ্ধে দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থা নেয়ার হুমকিও দিয়েছে।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর নেতৃত্বে এই উদ্যোগকে ইউরোপীয় কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাঁ-নোয়েল ব্যারো বলেছেন, “যদিও পদক্ষেপটি প্রতীকী, তাৎক্ষণিকভাবে রাজনৈতিক বার্তা দিচ্ছে। আমরা দুই রাষ্ট্র সমাধানে অঙ্গীকারবদ্ধ।”

জার্মানি সতর্ক করেছে যে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার শেষ ধাপ হওয়া উচিত। ইতালি বলেছে, এখনই স্বীকৃতি দেওয়া উল্টো ফল বয়ে আনতে পারে। সংযুক্ত আরব আমিরাতও সম্ভাব্য ইসরায়েলি প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপেন বার্থ আইডে বলেন, “যতটা আন্তর্জাতিক সমর্থন আছে, বাস্তব পরিস্থিতি তার চেয়ে আরও কঠিন।”

গাজা সিটিতে ইসরায়েল নতুন স্থল অভিযান শুরু করেছে এবং পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বাড়ছে। গাজার বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা স্বীকৃতিকে খুব বেশি সান্ত্বনা হিসেবে দেখছেন না। নাবিল জাবের নামের এক বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি বলেন, “ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া বা কানাডা ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিলেও ইসরায়েলের ওপর প্রকৃত চাপ আসবে বলে আমি বিশ্বাস করি না।”

অন্যদিকে তেল আবিবের ২৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থী তামারা রাভেহ বলেন, “ফিলিস্তিনিরা বহুবার শান্তির সুযোগ হারিয়েছে। তারা কখনোই শান্তি বেছে নেয়নি, তাই আমরা কেন শান্তি বেছে নেব?”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫