ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের পরিকল্পনা চূড়ান্ত ইসরায়েলের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাল্টা জবাব দিতে দেশটিতে হামলার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে ইসরায়েল। তবে কবে বা কীভাবে হামলা হবে সে বিষয়ে কিছুই জানা যায়নি।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।

সূত্রটি জানায়, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ ইসরায়েলি কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রকে আশ্বস্ত করেছেন, তেল ও পারমাণবিক স্থাপনার পরিবর্তে বরং ইরানের সামরিক স্থাপনায় সীমিত পরিসরে পাল্টা হামলা চালানো হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন আরও জানিয়েছে, ইসরায়েল আগামী ৫ নভেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগেই ইরানে হামলা চালাতে পারে। চলতি মাসেই এ হামলা হতে পারে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা ধারণা করছেন।

১ অক্টোবর ইসরায়েলে প্রায় ২০০ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। লেবাননের হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরুল্লাহ ও ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ সংগঠন হামাসের রাজনৈতিক শাখার প্রধান ইসমাইল হানিয়াকে হত্যার জবাবে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে জানায় তেহরান।

এরপর থেকে ওই হামলার জন্য ইরানকে পরিণতি ভোগ করতে হবে হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছেন ইসরায়েলে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। গত সপ্তাহে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট বলেন, ইরানে ইসরায়েলের হামলা হবে ‘মারাত্মক, সুনির্দিষ্ট এবং চমকে দেওয়ার মতো।’

এদিকে আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, পাল্টা হামলা চালালে ইসরায়েলকে কঠিন জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। গত মঙ্গলবার ফোনালাপে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ইসরায়েল যদি তার দেশে হামলা চালায়, তাহলে ‘কঠিন ও বেদানাদায়ক’ জবাব দিতে তেহরান প্রস্তুত।




লেবানন সংকট: অর্ধশত বাংলাদে‌শিকে দিয়ে প্রত্যাবর্তন শুরু করবে সরকার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : লেবানন চলমান যুদ্ধ প‌রি‌স্থি‌তি‌র কার‌ণে দে‌শে ফিরতে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৮০০ বাংলাদেশি নিবন্ধন করেছে। প্রথম দফায় আগামী ২১ অক্টোবর ৫৩ জন বাংলা‌দে‌শির দে‌শে প্রত্যাবর্তন করার কথা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে বা‌কি‌দের দে‌শে প্রত্যাবর্তন করা হ‌বে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূ‌ত্রে এসব তথ্য জানা গে‌ছে। মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহায়তায় লেবানন থে‌কে দে‌শে ফেরার জন্য বৈরুতের বাংলা‌দেশ দূতাবাসে নিবন্ধন ক‌রে‌ছেন প্রায় ১ হাজার ৮০০ বাংলাদেশি। তা‌দের পর্যায়ক্রমে ফেরত আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। খুব দ্রুতই প্রথম দফায় ৫০ এর বে‌শি বাংলা‌দে‌শি‌কে দে‌শে প্রত্যাবর্তন করার কথা রয়েছে।

ঢাকার এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক ব‌লেন, সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী ২১ অক্টোবর প্রথম দফায় ৫৩ জন বাংলাদেশি ফেরত আসবে। পর্যায়ক্রমে বা‌কি‌দের দে‌শে আনা হ‌বে।

বাংলাদেশিদের ফেরা‌নোর প্রক্রিয়া সম্প‌র্কে এ কূটনী‌তিক ব‌লেন, সম্ভাব্য যে কটি প‌থে বাংলা‌দে‌শি‌দের ফেরত আনা যায় সেই প্রচেষ্টা করা হ‌চ্ছে। প্রথম দফায় যে দলটি ফিরবে তা‌দের লেবানন থেকে জেদ্দায় নেওয়া হ‌বে। প‌রে জেদ্দা থেকে ঢাকায় আনা হবে।

জানা গে‌ছে, লেবানন থে‌কে বাংলা‌দে‌শি‌দের প্রত্যাবর্তনের ক্ষে‌ত্রে প্রথমে আহত, অসুস্থ, নারী ও শিশুরা আসবে। পরে পর্যায়ক্রমে সবাইকে নিয়ে আসা হবে।

বৈরুতের বাংলাদেশ দূতাবাসের এক‌টি সূত্র জানায়, লেবানন চলমান যুদ্ধ প‌রি‌স্থি‌তি‌র কার‌ণে দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১১ জন বাংলাদেশি নাগ‌রিক আহত হ‌য়ে‌ছেন। আহত বাংলা‌দে‌শিরা হাসপাতা‌লে চি‌কিৎসারত অবস্থায় র‌য়ে‌ছেন।




ইসরাইলকে সামরিক সহায়তা বন্ধের হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ৩০ দিনের মধ্যে ফিলিস্তিনের গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের সুযোগ বাড়াতে ইসরাইলকে চিঠি দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সেটি না করলে কিছু মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ওয়াশিংটন।

এটি ইসরাইলের প্রতি বাইডেন প্রশাসনের সবচেয়ে কঠোর লিখিত সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরাইল গত এক মাসে উত্তর ও দক্ষিণ গাজার মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ মানবিক চলাচল বন্ধ বা সীমাবদ্ধ করেছে।

উত্তর গাজায় ইসরাইলের চালানো আক্রমণের ফলে দক্ষিণ গাজায় বেসামরিক মানুষ ব্যাপকভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। তার মাঝেই এমন চিঠি পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে চিঠি পাওয়ার পর ইসরাইল তা পর্যালোচনা করছে।

একজন ইসরাইলি কর্মকর্তা বলেছে যে ‘আমাদের দেশ এই বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখে’। যুক্তরাষ্ট্র যে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে তার সমাধানও করতে চায় তারা।

ইসরাইল অবশ্য এর আগে বলেছে তাদের মূল লক্ষ্য হামাসকে নির্মূল। তারা কোথাও মানবিক সাহায্য প্রবেশ করতে বাঁধা দিচ্ছে না।

সোমবার ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, বিশ্ব খাদ্য সংস্থার খাদ্য ভর্তি ৩০টি লরি উত্তর গাজায় প্রবেশ করেছে।

গত সপ্তাহে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্র বলেছিল, ইসরাইলকে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনি বেসামরিকদের মধ্যে ‘বিপর্যয়কর পরিস্থিতি’ সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে এবং সহায়তা সরবরাহ সীমিত করার মাধ্যমে ‘দুর্ভোগ বাড়ানো’ বন্ধ করতে হবে।

দখলকৃত ফিলিস্তিন এলাকায় বিশ্ব খাদ্য সংস্থার প্রধান আন্তোইনি রেনার্ড বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, উত্তর গাজা এলাকার মানুষ ‘পুরোপুরি খাদ্য সহায়তার’ ওপর নির্ভরশীল। জাতিসঙ্ঘ সংস্থাগুলোর বিতরণ করা খাবার ছাড়া তাদের আর কোনো মাধ্যমে খাবার পাওয়ার উপায় নেই।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত ইসরাইলের সবচেয়ে বড় অস্ত্র সরবরাহকারী। দেশটি ইসরাইলি সামরিক বাহিনীকে গত এক বছরে গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য নানা ধরনের সহযোগিতা করে আসছে।

দুদিন আগে পাঠানো ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন সেক্রেটারি অব স্টেট অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন ও ডিফেন্স সেক্রেটারি লয়েড অস্টিন। চিঠিতে ‘অবনতিশীল মানবিক পরিস্থিতি’ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করা হয়েছে।

এতে আরো বলা হয়েছে, বাড়িঘর ছেড়ে যাওয়ার আদেশের কারণে ১৭ লাখ মানুষকে একটি সংকীর্ণ উপকূলীয় এলাকায় আশ্রয় নিতে হয়েছে যেখানে তারা ‘মারাত্মক সংক্রামণের উচ্চ ঝুঁকিতে’ রয়েছেন।




ইরানের তেল বা পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা নেই : ইসরায়েল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবের কাছের বেন গুরিওন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও মোদিন শহরের মধ্যবর্তী স্থানে আগুন জ্বলছে। ১ অক্টোবর, ২০২৪
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবের কাছের বেন গুরিওন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও মোদিন শহরের মধ্যবর্তী স্থানে আগুন জ্বলছে। ১ অক্টোবর, ২০২৪ছবি: এএফপি
ইরানের সাম্প্রতিকতম হামলার জবাবে দেশটিতে শুধু সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ কয়েকজন কর্মকর্তা ওয়াশিংটনকে এ ব্যাপারে আশ্বস্ত করেছেন যে তেহরানের তেল বা পারমাণবিক স্থাপনায় তাঁরা হামলা চালাবেন না।

দুপক্ষের মধ্যে এ–সংক্রান্ত আলোচনায় যুক্ত এক ব্যক্তি এই তথ্য জানিয়েছেন।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইসরায়েলে ইরানের হামলার জবাবে দেশটির তেল ও পারমাণবিক স্থাপনায় তেল আবিবের সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে খোলাখুলি বিরোধিতা করেন। পরে গত সপ্তাহে এক ফোনালাপে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে ইরানে ইসরায়েলি হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে আলাপ করেন বলে ওই সূত্র জানায়।

সূত্র বলেছে, ফোনালাপে নেতানিয়াহু বাইডেনকে ইরানের শুধু সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাবেন l




ইসরায়েলকে ভুলে গেলে চলবে না, তাদের সৃষ্টি জাতিসংঘের সিদ্ধান্তে’

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্বরত শান্তিরক্ষীদের ওপর ইসরায়েলের গোলাবর্ষণের নিন্দা জানিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো। জাতিসংঘের একটি সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই যে ইসরায়েল সৃষ্টি হয়েছিল বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর এটা ভুলে যাওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

এলিসিতে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকের সময় প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রো ১৯৪৭ সালের নভেম্বরে ফিলিস্তিনকে একটি ইহুদি রাষ্ট্র এবং একটি আরব রাষ্ট্রে বিভক্ত করার বিষয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ কর্তৃক গৃহীত একটি প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করে এই মন্তব্য করেন।

ম্যাক্রো এর আগে গাজা এবং লেবাননে আগ্রাসনের জন্য ইসরায়েলে অস্ত্র রপ্তানি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, এখন জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করার সময় নয়।




মেসির ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিসহ ৫ গোলে বলিভিয়াকে হারালো আর্জেন্টিনা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্তালে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে বলিভিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৬–০ গোলে জয়ের নায়ক মেসি। নিজে করেছেন হ্যাটট্রিক, সতীর্থদের দিয়ে গোল করিয়েছেন আরও দুটি।

দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ইতিহাসে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় জয়ের এই ম্যাচে আসলে ৫ গোলে অবদান মেসির। দক্ষিণ আমেরিকার বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে তিনটি হ্যাটট্রিকের গৌরবও এখন ৩৭ বছর বয়সী এই কিংবদন্তির। এই মহাদেশের বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে সর্বশেষ কোনো খেলোয়াড় হ্যাটট্রিকের সঙ্গে ২টি গোল করিয়েছিলেন ১৫ বছর আগে। ২০০৯ সালের ১ এপ্রিল এই আর্জেন্টিনার বিপক্ষেই হ্যাটট্রিকের সঙ্গে ২টি গোল করিয়েছিলেন হোয়াকিন বোতেরো। কোন দলের খেলোয়াড়? এই বলিভিয়ারই!

সে যা হোক, মনুমেন্তালে আর্জেন্টিনার ‘সিক্স স্টার’ ম্যাচে ফেরা যাক। গ্যালারির বেশির ভাগ দর্শকের আনন্দে ভেসে যাওয়ার শুরুটাও কিন্তু হয়েছে মেসির কল্যাণে। ১৯ মিনিটে মার্তিনেজের পাস পেয়ে কোনোকুনি দৌড়ে বলিভিয়া গোলকিপার গিয়ের্মো ভিসকারাকে একা পেয়ে গিয়েছিলেন মেসি। গোল করতে ভুল করেননি। আর্জেন্টিনা এরপর প্রথমার্ধে আরও দুটি গোল পেয়েছে। সেখানেও উৎস সেই ৩৭ বছর বয়সী কিংবদন্তি।

১০ ম্যাচে ২২ পয়েন্ট নিয়ে দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্ব টেবিলে শীর্ষে আর্জেন্টিনা। সমান ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় কলম্বিয়া। ১০ ম্যাচ খেলা উরুগুয়ে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয়। মন্টিভিডিওতে ইকুয়েডরের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছে উরুগুয়ে। চিলিকে ৪–০ গোলে হারিয়েছে কলম্বিয়া। ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে ২–১ গোলে জিতেছে প্যারাগুয়ে।

 




এখন পর্যন্ত ৬টি ব্যর্থ কৌশল ইসরাইল বেছে নিয়েছে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: গাজা যুদ্ধের শুরুতে ইহুদিবাদী শাসক গোষ্ঠী পশ্চিমা মিডিয়া সাম্রাজ্যের ব্যাপক সমর্থন নিয়ে এবং কিছু সময়ের জন্য নিপীড়ক হওয়ার ভান করে তার পরিকল্পনাকে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছিল এবং নিজেকে বিজয়ী এবং নৃশংস যুদ্ধের দৃশ্যের অধিকারী হিসাবে উপস্থাপন করেছিল।কিন্তু তারপর তার ভয়াবহ অপরাধযজ্ঞ ও বর্বরতার মাত্রা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তাদের সমর্থনকারী চরমপন্থি মিডিয়াও তাদের সমর্থন কমিয়ে দিয়েছে।

৭ অক্টোবরের অভিযানের বার্ষিকী পেরিয়ে গেছে কয়েকদিন। কেউ কেউ গত বছরের যুদ্ধের জয় বা পরাজয়ের দিকটি মূল্যায়ন করার চেষ্টাা করছেন। দৃশ্যত কিছু কৌশলী পদক্ষেপ যেমন অবকাঠামো ধ্বংস করা,পেজার বিস্ফোরিত করা, কিছু কমান্ডার এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের শহীদ করা এবং কিছু জায়গায় আক্রমণ করা কিছু লোকের জন্য এই মানসিকতা তৈরি করেছে যে ইসরাইলি সরকার এই যুদ্ধে অনেক কিছু অর্জন করে ফেলেছে। পার্সটুডের মতে জম জম পত্রিকার একটি সম্পাদকীয়তে আন্তর্জাতিক বিষয়ে বিশ্লেষক “আসগর জাবরজাদি” ​​এই ক্ষেত্রে ইসরাইলের কৌশলগত ৬টি ব্যর্থতার কথা তুলে ধরেছেন।

প্রথম কৌশল হল জয়ের ভান করা। কিছু চিন্তাবিদ আজকের বিশ্বকে মিডিয়ার মাধ্যমে প্রভাবিত জগত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। যুদ্ধের শুরুতে ইহুদিবাদী শাসক পশ্চিমা মিডিয়া সাম্রাজ্যের ব্যাপক সমর্থন নিয়ে এবং কিছু সময়ের জন্য নিপীড়ক হওয়ার ভান করে তার পরিকল্পনাকে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছিল এবং নিজেকে বিজয়ী এবং নৃশংস যুদ্ধের দৃশ্যের অধিকারী হিসাবে উপস্থাপন করেছিল। কিন্তু তারপরে তার ভয়াবহ অপরাধযজ্ঞ ও নৃশংসতার মাত্রা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তাদের সমর্থনকারী চরমপন্থি মিডিয়াও তাদের সমর্থন কমিয়ে দিয়েছে এবং কার্যত ইসরাইলের বিরুদ্ধে তারা আগের চেয়ে সরব হয়েছে এবং আজ বিশ্ব জনমতের কাছে শাসনটি সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে।

দ্বিতীয় কৌশল হল প্রতিরোধ নেটওয়ার্কের নেতাদের নির্মূল করা। বিক্ষোভকারী এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর নেটওয়ার্কগুলোর সঙ্গে মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে নেতাদের অপসারণ করা হলে আন্দোলন দুর্বল হতে পারে এবং এটি একসময় ধ্বংস হতে পারে তবে প্রতিরোধ আন্দোলনের ক্ষেত্রে এটি একটি চরম ভুল ধারনা। প্রতিরোধের একটি উচ্চ আধ্যাত্মিক মূল্য রয়েছে যার জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক অনুপ্রেরণা রয়েছে এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটি পরিকল্পিতভাবে সুসংগঠিত হয়েছে। এর একটি উদাহরণ হচ্ছে বিগত বছর হামাসকে সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করতে এবং এর বিভিন্ন স্তরের নেতা ও কমান্ডারদের নির্মূল করার ক্ষেত্রে সরকারের ব্যর্থতা এবং এই ব্যর্থ কৌশলের ফলে নতুন নেতাদের পুনরুত্থান হয়েছে।

তৃতীয় কৌশলটি হল দখলকৃত অঞ্চলের আশপাশের ভূমিতে একটি বাফার জোন তৈরি করা। প্রতিরোধকামী বাহিনীগুলোর সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করে তাদেরকে দমন করার নীতি ইসরাইলের ব্যর্থ হয়েছে।

চতুর্থ কৌশলটি হ’ল যুদ্ধের ব্যয় অন্যদের সাথে ভাগ করে নেওয়ার জন্য অঞ্চল এবং বিশ্বে সংকট জিইয়ে রাখা। এই সিদ্ধান্ত একটি কৌশল কিন্তু স্ট্রেটিজি নয়। হয়ত শুরুতে দেশগুলো সংকট রোধ করতে ব্যর্থ হয়, কিন্তু নিঃসন্দেহে এটি তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং কৌশলগত সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় এবং তারা মৌলিকভাবে এটি সমাধানের জন্য কাজ করতে বাধ্য হয়। এখন পর্যন্ত কৃত্রিম শান্তির পদ্ধতিগুলো অঞ্চল দ্বারা গৃহীত হয়নি এবং মনে হচ্ছে এই কৌশলের প্রভাব ভবিষ্যতে এই শাসনের অবসানই হবে দেশগুলোর একমাত্র ঐক্যমত্য সমাধান।

ইসরাইলের পঞ্চম কৌশল হল মানুষকে প্রতিরোধের বিরুদ্ধে দাঁড় করানো এবং বিভিন্ন বৈষম্যমূলকনীতি তৈরি করা। ইসরাইল প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করছে এবং এই অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তার অভাব প্রবর্তন করতে চাইছে এবং প্রতিরোধ অক্ষ ধ্বংস করতে চাইছে কিন্তু তার শিকড় জনগণের গভীরে প্রথিত। ইসরাইল এটা অস্বীকার করার চেষ্টা করছে যে অতীত সম্পর্কে জনগণের সচেতনতা অনেক আলাদা এবং তারা ঠিক জানে যে এই অঞ্চলের সংকটের মূল ক্যান্সারের টিউমার কুখ্যাত ইহুদিবাদী শাসন। এই কৌশলটি বেছে নেওয়ার ফলে ইসরাইলি শাসনের বিরুদ্ধে বিশ্ব অঞ্চলে জনপ্রিয় আন্দোলন গড়ে উঠেছে এবং এই আন্দোলনগুলো গতি এত বেশি যে আরব শাসকরা তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর নাগরিক বিক্ষোভ সৃষ্টির কারণে উদ্বিগ্ন।

ষষ্ঠ কৌশল হলো যুদ্ধ সম্প্রসারণ করা। এই ইসরাইলি শাসক গোষ্ঠীর অবশ্যই জানা উচিত যে এর কৌশলগত গভীরতার উপাদানের অভাব রয়েছে। তবে প্রতিরোধের ফ্রন্ট প্রশস্ত এবং ইরান থেকে ইয়েমেন পর্যন্ত বিস্তৃত কৌশলগত গভীরতা রয়েছে। অতএব, বিমান বাহিনীর উপর নির্ভর করে নেতানিয়াহু কৌশলগত অপারেশন পরিচালনা করছেন। তাই তাকে খুব ভাল করেই জানতে হবে যে মূল যুদ্ধটি স্থলভাগে এবং তিনি এখনও স্থলে কাজ করেননি এবং তিনি সব সময় স্থল যুদ্ধের ভয় পান। প্রতিরোধের বিভিন্ন ফ্রন্টের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব তথ্য, অস্ত্র ও রাজনীতির দিক থেকে ইসরাইলি শাসনকে নিঃশেষ করে দিয়েছে।




বাংলাদেশের সংস্কার কার্যক্রমে সহায়তায় প্রস্তুত ইইউ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেছেন, ইইউ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কর্মসূচি এগিয়ে নিতে সহায়তায় প্রস্তুত রয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাইকেল মিলার আজ পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো: তৌহিদ হোসেনের সাথে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ কথা বলেন।

সাম্প্রতিক ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণ-অভ্যুত্থানকে পরিবর্তনের অভূতপূর্ব সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করে, রাষ্ট্রদূত মানবাধিকার ও সুশাসনের পাশাপাশি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াসহ এই পরিবর্তন ও সংস্কারে ইইউ’র সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

তিনি আরো বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্য সম্পর্কে বৈচিত্র্য আনতে এবং এলডিসি থেকে উত্তরণে ইইউ বাংলাদেশকে সহায়তা করবে উল্লেখ করেন।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ইইউ’র সহায়তার প্রস্তাবকে স্বাগত জানান এবং বাংলাদেশ-ইইউ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারে একটি উত্তম ব্যবসায়িক পরিবেশ তৈরির আশ্বাস দেন।

তৌহিদ হোসেন বাংলাদেশ ও ইইউর মধ্যকার সম্পর্ককে প্রাণবন্ত ও গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের উন্নতির ওপর বিশেষ জোর দিয়ে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে ইইউ’র সহায়তার অনুরোধ জানান।

তিনি বাংলাদেশের কিছ নাগরিকের বিদেশে পাচার করা সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনতে সহায়তার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

ইইউ রাষ্ট্রদূত এ বিষয়ে প্রযুক্তিগত সহায়তার প্রস্তাব দেন।

রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে রেল, জ্বালানি, পানি ও স্বাস্থ্য খাতে ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের (ইআইবি) চলমান ৯০০ মিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগের কথা উলেলখ করেন।

তিনি বাংলাদেশে ইআইবির বিনিয়োগ পোর্টফোলিও বাড়ানোর প্রস্তুতির কথাও ব্যক্ত করেন।

উপদেষ্টা ও ইইউ রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় উন্নীত করতে ‘অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা চুক্তি’র ওপর আসন্ন আলোচনার প্রশংসা করেন।

রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ও কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য জন্য ইইউ’র অব্যাহত সহায়তার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ও ইইউ রাষ্ট্রদূত রোহিঙ্গাদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে মিয়ানমারে তাদের মাতৃভূমিতে প্রত্যাবর্তনই এই দীর্ঘায়িত সঙ্কটের একমাত্র টেকসই সমাধান বলে উল্লেখ করেন।

সূত্র : বাসস




যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কতা: গাজায় মানবিক সহায়তা না বাড়ালে ইসরায়েলের সামরিক সহযোগিতা কমবে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: গাজা উপত্যকায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের অনুমতি দ্রুত না বাড়ালে ইসরায়েলের সামরিক সহযোগিতা কমানো হবে বলে যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করেছে। মার্কিন প্রশাসন ইসরায়েলকে ৩০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে, যার মধ্যে মানবিক সহায়তার প্রবেশাধিকারে উন্নতি করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ম্যাথু মিলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ইসরায়েলের প্রতি এই বার্তা গোপন কূটনৈতিক মাধ্যমে পাঠানো হলেও সংবাদমাধ্যমে এ প্রসঙ্গ উঠে আসার পর তা নিশ্চিত করা হয়েছে। বর্তমানে গাজায় যে পরিমাণ সহায়তা প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের মতে খুবই অপ্রতুল।




তিন সপ্তাহে লেবাননের ৪ লাখ শিশু বাস্তুচ্যুত, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিয়ে সতর্কতা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকায় গত তিন সপ্তাহে ৪ লাখেরও বেশি শিশু বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যা লেবাননের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য হুমকিস্বরূপ। জাতিসংঘের শিশু-বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর টেড চাইবান এই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ১২ লাখেরও বেশি মানুষ তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে, যার মধ্যে বেশিরভাগই রাজধানী বৈরুত ও দেশের উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দা।

ইউনিসেফের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, ফলে ১২ লাখ শিশু শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। চাইবান আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “শুধু লেবাননের শিশুরা নয়, সিরীয় ও ফিলিস্তিনি শিশুরাও এই পরিস্থিতির শিকার।”

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ২,৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, যার মধ্যে শতাধিক শিশু।