বৈশ্বিক বাণিজ্য যুদ্ধ এড়াতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সতর্কতা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সতর্ক করেছে যে, বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতিগুলো বড় ধরনের বাণিজ্য যুদ্ধে জড়িয়ে গেলে বৈশ্বিক জিডিপির বড় ধরনের সংকোচন হতে পারে। এই সংকোচনের পরিমাণ ইউরোপের দুই বড় দেশ ফ্রান্স ও জার্মানির সম্মিলিত জিডিপির সমান হতে পারে।

নভেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবার নির্বাচনে জয়লাভ করলে এই উদ্বেগ বাড়ছে। ট্রাম্প ইতিমধ্যে নির্বাচনী প্রচারণায় জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের আমদানিকৃত পণ্যের ওপর সর্বজনীন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে, যা সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ হতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতিমধ্যে এ বিষয়ে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

গত সপ্তাহে ট্রাম্প বলেন, “শুল্ক হলো অভিধানের সবচেয়ে সুন্দর শব্দ।” তাঁর এই মন্তব্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ট্রাম্পের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু হয়েছিল এবং বাইডেন প্রশাসনও তা অব্যাহত রেখেছে।

আইএমএফের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক গীতা গোপীনাথ জানান, ট্রাম্পের বাণিজ্য পরিকল্পনার প্রভাব এখনো স্পষ্ট নয়। তিনি বলেন, “বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিচ্ছিন্নতা তৈরি হলে বা বড় পরিসরে শুল্ক আরোপ করা হলে বিশ্ব জিডিপি প্রায় ৭ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে।” এই পরিমাণ সংকোচন ফ্রান্স ও জার্মানির অর্থনীতির সমান হবে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হবে।

গীতা গোপীনাথ আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকারের ঋণ বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ রয়েছে এবং দেশগুলোর উচিত হবে, আপৎকালের জন্য আর্থিক প্রস্তুতি নেওয়া। সংকট এখনও শেষ হয়নি, ভবিষ্যতে আরও সংকট আসার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, “অতীতে মূল্যস্ফীতি কমানোর চেষ্টা করতে গিয়ে প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানে প্রভাব পড়েছে, তবে এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন।”




এবার যুদ্ধজাহাজ নিয়ে ওমান সাগরে সৌদি-ইরান

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের চলমান আগ্রাসন ও উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ওমান সাগরে যৌথ মহড়া চালিয়েছে সৌদি আরব ও ইরান। দীর্ঘদিনের শত্রুতা ও কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন থাকার পর, এ দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন ঐক্য গড়ে উঠেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তনের দিকে ধাবিত করছে।

বুধবার (২৩ অক্টোবর) এএফপির বরাত দিয়ে টাইমস অব ইসরায়েল জানায়, সৌদি আরব ও ইরান সম্প্রতি ওমান সাগরে সফল একটি যৌথ নৌ-মহড়ায় অংশ নিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমান পরিস্থিতিতে এ মহড়া দুই দেশের সামরিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সৌদি আরব ও ইরানের এ ঐক্য ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।

সৌদি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তুর্কি আল-মালকি মহড়া বিষয়ে বলেন, রাজকীয় সৌদি নৌবাহিনী সম্প্রতি ওমান সাগরে ইরান ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে একটি যৌথ নৌ-মহড়া শেষ করেছে।

মহড়াটি শুরু হয় যখন ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ জানায়, দুই দেশ লোহিত সাগরে যৌথ সামরিক মহড়ার পরিকল্পনা করছে। তখন ইরানের নৌবাহিনীর কমান্ডার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি জানান, সৌদি আরব আমাদের লোহিত সাগরে যৌথ মহড়ার আয়োজন করতে বলেছে।

উল্লেখ্য, সৌদি আরব ও ইরান দীর্ঘদিন ধরেই শিয়া-সুন্নি সম্প্রদায়ের মধ্যে দ্বন্দ্বের প্রতীক হয়ে উঠেছে। ২০১৬ সালে সৌদি আরবের হাতে একজন শিয়া ধর্মগুরুর মৃত্যুদণ্ডের পর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক ভেঙে যায়। তবে গত বছর গাজার গণহত্যার প্রেক্ষাপটে চীনের মধ্যস্থতায় তারা আবার সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের আগ্রাসন বৃদ্ধি পেলে সৌদি আরব ও ইরানের এ নতুন সম্পর্ক আরও জোরালো হতে পারে। চলতি মাসের শুরুতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রিয়াদ সফর করেন এবং সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

এই পরিবর্তনের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও সামরিক সমীকরণে নতুন দিকনির্দেশনা আসতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌদি আরব ও ইরানের ঐক্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছে, যা উভয় দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

মধ্যপ্রাচ্যের এ দুই প্রধান শক্তির মধ্যে গড়ে ওঠা এ নতুন ঐক্য সাম্প্রতিক ঘটনার প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ, যা ভবিষ্যতে এ অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।




স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র চাইলেন পুতিন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকটের অবসানে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কোনও বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার রাশিয়ার কাজান শহরে বিশ্বের বৃহৎ পাঁচ উদীয়মান অর্থনীতির জোট ব্রিকসের শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিশ্ব নেতাদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তৃতায় এমন মন্তব্য করেছেন তিনি।

রুশ প্রেসিডেন্ট বলেছেন, গাজায় এক বছর আগে শুরু হওয়ার সামরিক পদক্ষেপ বর্তমানে লেবানন পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। ওই অঞ্চলের অন্যান্য দেশও এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

‘‘ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘর্ষের মাত্রা তীব্রভাবে বেড়েছে। এই ঘটনা একটি ধারাবাহিক প্রতিক্রিয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দেয় যে, পুরো মধ্যপ্রাচ্য পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে।’’

ব্রিকসের এবারের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে রাশিয়ার কাজান শহরে। এই সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস-সহ অন্যান্য নেতারা অংশ নিয়েছেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসও সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বিশ্বনেতাদের অংশগ্রহণে শুরু হওয়া সম্মেলনে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধ, লেবানন সংকট, ইউক্রেনের সাথে রাশিয়ার যুদ্ধ ও বিশ্বের আঞ্চলিক বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কথা বলেছেন পুতিন।

ফিলিস্তিনের বিষয়ে তিনি বলেছেন, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন না হওয়া পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে সহিংসতার অবসান হবে না। রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘‘ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রধান শর্ত জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এবং সাধারণ পরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত দ্বি-রাষ্ট্রীয় ফর্মুলার বাস্তবায়ন।’’

তিনি বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি ঐতিহাসিক যে অবিচার হয়েছে, দ্বি-রাষ্ট্রীয় ফর্মুলা বাস্তবায়নের মাধ্যমে তার সুবিচার করতে হবে। এই প্রশ্নের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সহিংসতার দুষ্ট চক্র ভাঙা সম্ভব হবে না।’’

সূত্র: এএফপি, রয়টার্স।




ইসরায়েলি ৭০ সেনাকে হত্যার দাবি হিজবুল্লাহর

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ৭০ হত্যার দাবি করেছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। হিজবুল্লাহর অভিযান পরিচালনা কেন্দ্র (অপারেশনস রুম) গতকাল বুধবার এ দাবি করে। তবে কখন এসব সেনাকে হত্যা করা হয়েছে তা জানানো হয়নি।

এর আগে গত সপ্তাহে ৫৫ জন ইসরায়েলি সেনাকে হত্যার দাবি করেছিল হিজবুল্লাহ। সর্বশেষ দাবি অনুযায়ী, সংখ্যা বেড়ে ৭০ জনে পৌঁছেছে।
এদিকে ইসরায়েল বলেছে, লেবাননে স্থল অভিযান শুরুর পর থেকে সেখানে তাদের প্রায় ২০ জন সেনা নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া উত্তর ইসরায়েলে ৩০টির বেশি হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহ।
গত বছরের ৭ অক্টোবর গাজা যুদ্ধ শুরু হয়। এর পর থেকেই ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের সমর্থনে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়ছে হিজবুল্লাহ। লম্বা সময় ধরে লেবানন ও ইসরায়েল সীমান্তে উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করছে। গত মাসে লেবাননে বোমা হামলা জোরদার করেছে ইসরায়েল। এ মাসের শুরুতে সেখানে স্থল অভিযান শুরু করে ইসরায়েল।




যুক্তরাষ্ট্রে ১৫ বছরের কিশোরের গুলিতে পাঁচজন নিহত

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটেলের এক বাড়িতে গুলির ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ১৫ বছরের এক কিশোরকে আটক করেছে স্থানীয় পুলিশ। মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে দেশটির সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট এ তথ্য জানায়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কিং কাউন্টির শেরিফ দফতর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গুলির এ ঘটনায় তিন শিশু ও দু’জন প্রাপ্তবয়স্ক নিহত হয়েছেন। এছাড়া, ওই বাড়িতে থাকা এক বালিকাও আহত হয়েছে।

মুখপাত্র মাইক মেলিস সাংবাদিকদের জানান, শেরিফের ডেপুটিরা কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই সন্দেহভাজনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছেন।

এ ঘটনায় নিহতরা সবাই একই পরিবারের সদস্য কি না, তা এখনও পরিষ্কার নয়। কী কারণে এই সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, শেরিফ দফতর তা তদন্ত করছে।

 




ইরানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে ইসরায়েলে ৭ জন গ্রেফতার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: ইরানের হয়ে ইসরায়েলে গুপ্তচরবৃত্তি করার অপরাধে ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে ইসরায়েলের নিরাপত্তা বিভাগ। অভিযোগ রয়েছে, তারা ইসরায়েলের সামরিক ঘাঁটি ও জ্বালানি অবকাঠামোর তথ্য সংগ্রহ করছিলো। মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি নিউজ এ তথ্য জানায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় সোমবার, ইসরায়েলের মুখ্য গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেট ও পুলিশ এই তথ্য জানিয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মোট সাত ইসরায়েলিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এই সাতজন উত্তর ইসরায়েলের বাসিন্দা। তাদের মধ্যে, কেউ কেউ থাকতেন হাইফা শহরে। তদন্তে জানা যায়, এ সাতজন ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটি, জ্বালানি ও বন্দর অবকাঠামোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করে ইরানের কাছে সরবরাহ করছিলেন।

ইসরায়েলি তদন্তে দেখা গেছে, এই গোষ্ঠীটি দুই বছর ধরে ‘আলখান ও ওরখান’ নামে পরিচিত দুই ইরানি এজেন্টের নির্দেশে বিভিন্ন মিশন পরিচালনা করেছে।




আইএসের ইরাক শাখার প্রধান নেতা নিহত

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের ইরাক শাখার প্রধান আবু আবদুল কাদেরসহ গোষ্ঠীটির ৮ জন জ্যেষ্ঠ কমান্ডার। মঙ্গলবার ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মেদ শিয়া আল সুদানি এবং মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) পৃথক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় ইরাকের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসের ইরাক শাখার তথাকথিত প্রধান আবু আবদুল কাদের এবং গোষ্ঠীটির ৮ জন জ্যেষ্ঠ কমান্ডার নিহতের ঘটনাকে স্বাগত জানাই। যারা এই অভিযানে সংশ্লিষ্ট ছিলেন, তাদের সবাইকে অভিনন্দন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র-ইরাক যৌথ বাহিনীর (জয়েন্ট অপারেশেন কমান্ড-জিওসি) নেতৃত্বে ইরাকের উত্তরপূর্বে হারমিন পার্বত্য অঞ্চল অভিযান শুরু করে ইরাক পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট এবং জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। তাদের এই অভিযানের জেরে রোববার নিহত হয়েছেন আবু আবদুল কাদের এবং আইএস ইরাক শাখার ৮ জ্যেষ্ঠ কমান্ডার।

মোহাম্মদ শিয়া আল সুদানি বলেন, “ইরাকে সন্ত্রাসবাদ ও সন্ত্রাসীদের কোনো স্থান নেই। যতদিন পর্যন্ত ইরাকের ভূমি এসব সন্ত্রাসী এবং তাদের ঘৃণ্য কাজকর্ম থেকে মুক্ত না হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত আমাদের অভিযান চলবে।”

ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে উৎখাত করতে ২০০৩ সালে যে অভিযান পরিচালনা করেছিল মার্কিন বাহিনী, তার পর দেশটিতে সৃষ্ট ব্যাপক বিশৃঙ্খলার মধ্যে ২০১৩ সালে গঠিত হয় ইসলামিক স্টেট। সৌদিভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী আলকায়দা থেকে সরে আসা একদল কমান্ডার ও যোদ্ধা গোষ্ঠীটি প্রতিষ্ঠা করেন। পরে ২০১৫ সালের মধ্যে ইরাক এবং সিরিয়ার বেশ কিছু এলাকা দখল করে পৃথক রাষ্ট্র ঘোষণা করে আইএস।




ইসরায়েলি বাহিনীর গোয়েন্দা বিভাগে হামলা হিজবুল্লাহর

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র ইসলামি রাজনৈতিক গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর যোদ্ধারা ইসরায়েলের বাহিনীর গ্লিলট ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। এই ঘাঁটিতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর গোয়েন্দা বিভাগ বলে পরিচিত ৮২০০ ইউনিটের সদর দপ্তর অবস্থিত।

এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের বাণিজ্যিক রাজধানী তেল আবিবে কাছে অবস্থিত গ্লিলট ঘাঁটিটি লক্ষ্য করে মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত মুহুর্মুহু রকেট নিক্ষেপ করেছে গোষ্ঠীটির যোদ্ধারা।

হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে কিছু জানায়নি ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। তবে দেশটির সংবাদমাধ্যম ইয়েনেত নিউজ জানিয়েছে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী মাত্র ২টি দূরপাল্লার রকেট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া রকেটের আঘাতে মধ্যাঞ্চলীয় শহর হারজলিয়ায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও জানিয়েছে ইয়েনেত।

প্রসঙ্গত, ইসরায়েল এবং লেবানন প্রতিবেশী দেশ। ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তের অপর পাশেই লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল। হিজবুল্লাহর প্রধান ঘাঁটি এবং সামরিক স্থাপনাগুলোর অবস্থানও ইসরায়েলের সীমান্তঘেঁষা দক্ষিন লেবাননের গ্রামগুলোতে।

ইরানের প্রত্যক্ষ মদত ও সমর্থনপুষ্ট হিজবুল্লাহ সামরিক স্থাপনা, যোদ্ধার সংখ্যা এবং মজুতকৃত অস্ত্রের পরিমাণের হিসেবে বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম সশস্ত্র ইসলামি রাজনৈতিক গোষ্ঠী। ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এ গোষ্ঠীটি শুরু থেকেই ইসরায়েলকে ধ্বংসের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।




লেবাননে সরকারের পরিবর্তন চান নেতানিয়াহু

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ইসরায়েলের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে লেবাননের সরকার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার পরিবর্তন চেয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। মঙ্গলবার ইসরায়েলের রাজধানী জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেনের সঙ্গে বৈঠকের সময় এই দাবি জানিয়েছেন তিনি।

গত সপ্তাহে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাসের প্রধান নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার হওয়ার পর গাজায় যুদ্ধবিরতি ইস্যুটি ফের আলোচনায় আসে। গাজায় শিগগির যুদ্ধবিরতি ঘোষণায় ইসরায়েলকে রাজি করানোর জন্য মঙ্গলবার জেরুজালেমে পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন। ওই দিনই বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

বৈঠকে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেন, লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র ইসলামি গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর হামলার কারণে গত কয়েক দশকে উত্তর ইসরায়েলের অনেক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। তারা নিজ দেশ ইসরায়েলে ফিরতে চান; কিন্তু ইসরায়েলে ফেরার পর যেন ফের তাদের এমন পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে না হয়, সেজন্যই লেবাননের সরকার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।

গাজায় যুদ্ধবিরতি ইস্যুতে ব্লিনকেনকে নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েলের সেনাবাহিনী হামাসের কব্জায় থাকা জিম্মিদের উদ্ধারে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং হামাস নেতা সিনওয়ারের নিহত হওয়ার ঘটনা সেই প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। তাই এখন যদি গাজায় যুদ্ধবিরতি ঘোষনা করা হয়, সেটি জিম্মিদের উদ্ধারের ক্ষেত্রে নেতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

নেতানিয়াহুর দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের ব্যাপ্তিকাল ছিল প্রায় দুই ঘণ্টা। বন্ধুত্ব ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে বৈঠকটি হয়েছে বলেও দাবি করেছেন কর্মকর্তারা।

প্রসঙ্গত, ইসরায়েল এবং লেবানন প্রতিবেশী দেশ। ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তের অপর পাশেই লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল। হিজবুল্লাহর প্রধান ঘাঁটি এবং সামরিক স্থাপনাগুলোর অবস্থানও ইসরায়েলের সীমান্তঘেঁষা দক্ষিন লেবাননের গ্রামগুলোতে।

উল্লেখ্য, ইরানের প্রত্যক্ষ মদত ও সমর্থনপুষ্ট হিজবুল্লাহ সামরিক স্থাপনা, যোদ্ধার সংখ্যা এবং মজুতকৃত অস্ত্রের পরিমাণের হিসেবে বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম সশস্ত্র ইসলামি রাজনৈতিক গোষ্ঠী। ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এ গোষ্ঠীটি শুরু থেকেই ইসরায়েলকে ধ্বংসের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

লেবাননের সরকার কিংবা সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে হিজবুল্লাহর সরাসরি কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই, তবে আড়ালে থেকে দেশটির ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে গোষ্ঠীটি।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে উত্তর ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে চোরাগুপ্তা হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহ, তবে সেই হামলার মাত্রা ব্যাপকভাবে গোষ্ঠীটি বাড়িয়েছে ২০২৩ সালে গাজায় হামাস এবং ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে যুদ্ধ বাঁধার পর থেকে।

হামাসের প্রতি সংহতি জানিয়ে ৭ অক্টোবরের পর থেকে ইসরায়েলে রকেট-ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া শুরু করে হিজবুল্লাহ, পাল্টা জবাব দেওয়া শুরু করে ইসরায়েলও। উভয়পক্ষের সংঘর্ষে গত এক বছরে নিহত হয়েছেন আড়াই হাজারেরও বেশি মানুষ। নিহতদের মধ্যে সামরিক, বেসামরিক উভয়ই আছেন। সংঘাতের ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে সে সময় উত্তর ইসরায়েলের অনেক বাসিন্দা নিজেদের বাসভবন ও পরিচিত এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন।

গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে লেবাননে অভিযান শুরু করে ইসরায়েলের বিমানবাহিনী। প্রায় ১০ দিনের সেই অভিযানে নিহত হন হিজবুল্লাহর প্রধান নেতা ও সেক্রেটারি জেনারেল হাসান নাসরুল্লাহসহ বেশ কয়েক জন শীর্ষ কমান্ডার। এতে গোষ্ঠীটির চেইন অব কমান্ডের সর্বোচ্চ স্তর কার্যত ভেঙে পড়ে।

বিমান অভিযান পর্বের পর গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে দক্ষিণ লেবাননে অভিযান শুরু করে আইডিএফের স্থল বাহিনী। এর আগে এক বিজ্ঞপ্তিতে আইডিএফ বলেছিল, ইসরায়েলের সীমান্তবর্তী দক্ষিণ লেবাননের গ্রামগুলোতে সীমিত ও স্থানীয় পর্যায়ে অভিযান চালানো হবে। তবে কতদিন এ অভিযান চলবে, সে সম্পর্কিত কোনো তথ্য বা ইঙ্গিত এখনও দেয়নি আইডিএফ।

ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে ইতোমধ্যে লেবাননে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষ।

সূত্র : রয়টার্স




বাংলাদেশ আমাদের বন্ধু: মমতা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: সমুদ্রসীমা অতিক্রম করে বাংলাদেশে ঢুকে পড়ার অভিযোগে তিন দফায় পশ্চিমবঙ্গের ৮৪ জন মৎস্যজীবীকে গ্রেপ্তার করেছে বাংলাদেশের নৌ বাহিনী। এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মমতা বলেন, “শেখ হাসিনার পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই অবস্থায় জেলের পরিবারগুলো উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। তবে পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা মৎস্যজীবীদের সঙ্গে পরিচয়পত্র রয়েছে। আশা করি, বাংলাদেশ সরকার তাদের সহযোগিতা করবে।”

তিনি আরও জানান, “কয়েক দিন আগে বাংলাদেশের একটি ট্রলার আমাদের উপকূলে ঢুকে পড়েছিল, তাদের আমরা ছেড়ে দিয়েছি কারণ তাদের কাছে যথাযথ নথিপত্র ছিল। আমাদের যাঁরা গিয়েছেন, তাঁদেরও আধার কার্ড রয়েছে।”

মমতা বলেন, “বাংলাদেশ আমাদের বন্ধু দেশ। আমাদের মধ্যে সাংস্কৃতিক আদানপ্রদান রয়েছে এবং আমরা এক ভাষায় কথা বলি। আশা করি, দু’দেশের সম্পর্ক আবার উন্নতি করবে। সীমান্তবর্তী দেশগুলো যদি একে অপরের সঙ্গে সদ্ভাব বজায় রেখে চলে, তাহলে সকলেরই উপকার হবে।”