দীর্ঘ ৮ বছর পর বরিশাল শেবামেক এর ছাত্রলীগের কর্মী সভা অনুষ্ঠিত

বরিশাল অফিস: সাংগঠনিক গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দীর্ঘ ৮ বছর পর বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের কর্মী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার রাত ৮ টায় মেডিকেল কলেজের ২ নং গ্যালারীতে এ কর্মী অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মী সভায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি রাশেদ ফেরদৌস আকাশ’র সভাপতিত্বে ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপ-অটিজম বিষয়ক সম্পাদক এবং বরিশালের কৃতি সন্তান ডাঃ রাহাত আনোয়ার’র সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ সোলায়মান ইসলাম মুন্না, উপ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক সিথিমা সেন, উপ সমাজসেবা সম্পদাক রিমা আক্তার ডলি ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইরতিজা হাসান ফয়সাল প্রমুখ।

কর্মী সভায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রাশেদ ফেরদৌস আকাশ বলেন, সারাদেশের ছাত্রলীগের কর্মিদের ঐক্যবদ্ধ করে সাংগঠনিক গতিশীলতার লক্ষ্যে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নির্দেশনা মোতাবেক আজ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল ছাত্রলীগের এ কর্মী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই কর্মি সভার মধ্য দিয়ে আত্মগোপনে থাকা দূনীতিবাজ তারেক রহমানের সকল সরযন্ত্রকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ লাল কার্ড দেখালো।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা’র স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মানে মেধাবী ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অগ্রনী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। তাই কেন্দ্রিয় ছাত্রলীগের ঘোষনা অনুযায়ী দেশের ৩০টি কলেজে ছাত্রলীগের কর্মী সভার আয়োজনের মধ্যে দিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র হাতকে শক্তিশালি করতে আগামী নির্বাচনে আবারো আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করার অঙ্গিকার করতে হবে ছাত্রলীগকে।

কর্মি সভার ২য় পর্বে উপস্থিত কেন্দ্রিয় নেতৃবৃন্দ শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের কর্মীদের বক্তব্যে শুনেন এবং অচিরে এখানে কমিটি গঠনের আস্বাস প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ১৯ অক্টোবর বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করা হয়েছিলো। কিন্তু ওই কমিটি নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি মিছিলে উত্তেজনা ছড়ায় ক্যাম্পাসে। এরই পেক্ষিতে ৩১ অক্টোবর কমিটির কার্যক্রম স্থাগীত ঘোষনা করা হয়। এরপর থেকেই আর নতুন কমিটি গঠন করা হয় নি।




দুমকি বাজারে অভিযান চালিয়ে ২টি বেকারিকে জরিমানা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের আওতায় দুমকী’র পিরতলা বাজারে অভিযান চালিয়ে ২টি বেকারি প্রতিষ্ঠানকে ১৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য দ্রব্য উৎপাদন, পণ্যর মোড়কে উৎপাদনের তারিখ ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ সঠিকভাবে না থাকায়  পিরতলা বাজারের ভাই ভাই বেকারিকে ১৩ হাজার টাকা ও আশার আলো বেকারিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় পটুয়াখালী জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ শাহ সোয়াইব মিয়ার নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

এসময় পিরতলা বাজারের বিভিন্ন বেকারি, ফার্মেসি, মুদি, সবজি ও ফলের দোকানে পণ্যর মূল্য ও মান যাচাই করা হয়।




মশা বেশি কামড়ায় যাদের


মশা বেশি কামড়ায় যাদের

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ডেক্স:  সুযোগ পেলেই মশায় যে কাউকে কামড়ে রক্ত চুষে নেয়। তাই সবাই এটি থেকে নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করে থাকেন। কিন্তু তারপরও অনেকের অভিযোগ, অন্যদের তুলনায় তাদেরই নাকি মশা বেশি কামড়ায়। ফলে তাদের মনে ডেঙ্গুর ভয় আরও বেড়ে যায়।

১) ২০১৪ সালের একটি গবেষণা দেখা গিয়েছে, যাদের বেশি ঘাম হয়, তাদেরই মশা বেশি কামড়ায়। গবেষকদের মতে, ঘামের সঙ্গে নিঃসৃত ল্যাকটিক অ্যাসিড ও অ্যামোনিয়ার গন্ধ মশাদের বেশ প্রিয়। ঘামের সেই গন্ধের টানেই মশা বেশি কামড়ায়।

২) অন্তঃসত্ত্বাদের এই বিষয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হবে। অন্তঃসত্ত্বাদেরও তুলনায় বেশি মশা কামড়ায়। ওই সময়ে নারীদেহে ইস্ট্রোজেন হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়। সে কারণেই তাদের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয় মশারা।

৩) আপনার রক্তের টানেও মশা বেশি কামড়াতে পারে। কিছু নির্দিষ্ট রক্তের গ্রুপের মানুষকেও মশা বেশি কামড়ায়। যেমন ‘ও’ গ্রুপের রক্ত। ‘ও পজিটিভ’ এবং ‘ও নেগেটিভ’ গ্রুপের রক্তে বিশেষ ধরনের গন্ধ থাকে, যা মশাকে বেশি আকৃষ্ট করে।

৫) শরীরের তাপমাত্রা যাদের একটু বেশি, যারা বিয়ার জাতীয় অ্যালকোহল খান এবং শরীর থেকে বেশি ঘাম নির্গত হয়, তাদের প্রতিও মশা বেশি আকৃষ্ট হয়।

তবে সব গবেষণারই ব্যতিক্রম রয়েছে। তাই মশা বেশি কামড়াক বা কম, ডেঙ্গুর মৌসুমে সতর্ক থাকতে হবে সব সময়ে। তাই অসতর্ক হতে চলবে না। শরীর ঢেকে পোশাক পরতে হবে। ঘুমানোর সময়ে মশারি ব্যবহার করতেই হবে। বাড়ির আশপাশটা পরিষ্কার রাখতে হবে, কোথাও পানি জমতে দেওয়া চলবে না। জ্বর, মাথাব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রক্তপরীক্ষা করাতে হবে।




ক্যানসার শনাক্ত করবে এআই

চন্দ্রদ্বীপ ডেক্স:  এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সব জায়গায় বিকল্প হয়ে উঠছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এমন কোনো কাজ নেই যেটা করতে পারে না। এআই খবর পড়া থেকে শুরু করে রচনা লেখা, চাকরি বা ছুটির আবেদন, চুক্তিপত্র, কোনো ঘটনা সম্পর্কে ব্যাখ্যা, ছোটখাটো প্রতিবেদন তৈরি করে দিতে পারে।

এআই কম্পিউটার প্রোগ্রাম, গান বা কবিতাও লিখে দিতে পারে ব্যবহারকারীর জন্য। আবার আপনি চাইলে আপনার ভার্সিটির রিপোর্ট বা প্রেজেন্টেশন এই এআইয়ের মাধ্যমে লিখে নিতে পারবেন। এবার শোনা যাচ্ছে, এআই ক্যানসার শনাক্ত করতেও সক্ষম।

ডিজিটাল প্যাথলজি সংস্থা পাইজেনের সঙ্গে যৌথ ভাবে মাইক্রোসফট তৈরি করছে এক বিশেষ এআই মডেল। এটি হতে চলেছে ক্যানসার শনাক্তকরণের জন্য বিশ্বের বৃহত্তম ইমেজ-বেসড এআই মডেল। সংস্থা বলেছে, মডেলটিকে প্রশিক্ষণ দিতে প্রায় চার মিলিয়ন ডিজিটাইজড মাইক্রোস্কোপিক স্লাইড ব্যবহার করা হবে। সেখানে নানা ধরনের ক্যানসারের তথ্য পাওয়া যাবে, এই তথ্য ব্যবহার করা হবে পাইজেনের নিজস্ব সংগ্রহ থেকে।

পাইজেন এক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারবে মাইক্রোসফটের উন্নত সুপারকম্পিউটিং পরিকাঠামো। কৃত্রিম মেধাকে বিস্তারিত প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর সেই মডেল ব্যবহার করা হবে সারা বিশ্বের হাসপাতাল ও গবেষণাগারগুলোতে। সেখানেও কাজে লাগানো হবে মাইক্রোসফট আজউরকে। ২০২৪ সালের মধ্যেই এর কাজ শেষ করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। আর তা হলেই রোগ শনাক্তকরণ আরও সহজ হবে।

নতুন এআই মডেল চালু ইমেজ-বেসড এআই মডেলগুলোর মধ্য সবচেয়ে বড়। এই মডেল ক্যানসারের সূক্ষ্ম জটিলতাগুলো খুঁজে পেতে সহায়তা করবে। শুধু তাই নয়, পরবর্তী প্রজন্মের ক্লিনিকাল অ্যাপ্লিকেশন এবং কম্পিউটেশনাল বায়োমার্কারগুলোকে সাহায্য করবে। অঙ্কোলজি এবং প্যাথলজির পরিধি এতে অনেকখানি বিস্তৃত হবে বলে দাবি করছে সংস্থাটি।

পাইজেনের পক্ষ থেকে সংস্থার এসভিপি টেকনোলজি রাজিক ইউসুফি বলেন, ‘পাইজেন প্রথম থেকেই উদ্ভাবনী ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে। কৃত্রিম মেধা, প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল প্যাথলজিতে এর গভীর দক্ষতার সঙ্গে মাইক্রোসফটের বিপুল কম্পিউট শক্তি মিলে গেলে ক্যানসার ইমেজিং-এর প্রভূত উন্নতি সম্ভব। বিশ্বের লাখ লাখ মানুষ উপকৃত হবেন এর মাধ্যমে।’

সূত্র: সিএনবিসি




যে ছয়টি অভ্যাস আপনাকে সুস্থ রাখবে

এখন অসুস্থতার মৌসুম যাচ্ছে। কম বেশি সবাই অসুস্থ হচ্ছে। কেউ কেউ বেশ ভুগছেন। তাহলে কি সবার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেল? এটা হয়তো নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিৎসকেরা বের করতে পারেন। তবে ছয়টি অভ্যাস তৈরি করতে পারলে আমরা নিজেরাই কিন্তু অসুস্থতাকে বিদায় জানাতে পারি। এ নিয়েই লিখেছেন মো. লতিফুর রহমান

০১. ঘুমাতে হবে সঠিক সময়ে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, সবচেয়ে ভালো সময় রাত ১০টার পর। ঠিক সময়ে ঘুমালে প্রচুর কিলার সেল তৈরি হয় যা ক্ষতিকর ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে।

০২. সূর্যের আলো গায়ে লাগাতে হবে। এতে ভিটামিন-ডি ও মেলাটনিন তৈরি হয়। যা রোগ প্রতিরোধে দারুণ ভূমিকা রাখে।

০৩. শরীর চর্চা করতে হবে। খেয়াল করতে হবে, শরীর চর্চার সময় যেন শ্বাস প্রশ্বাস ও হার্টবিট বাড়ে। রিল্যাক্সে হাঁটলে প্রকৃত উপকার পাওয়া যায় না। এছাড়া বেশি হাঁটার চেয়ে জায়গায় দাঁড়ায়ে ব্যায়াম বেশি কার্যকর হতে পারে।

০৪. পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। ফাস্ট ফুড, কোল্ড ড্রিংস ইত্যাদি চিরতরে বাদ দিতে হবে। চিনি বাদ দিতে হবে। আর যত ভালো খাবারই খাই না কেনো সেটা যেন বেশি না খাই।

০৫. মাঝে মাঝে রোজা রাখতে হবে। রোজার সময় শরীরে অটোফেজি হয়। অর্থাৎ অবাঞ্চিত উপাদন খেয়ে ফেলে শরীর নিজেকে পরিস্কার রাখে।

০৬. মানসিক অস্থিরতা রোগের কারণ। এক্ষেত্রে ইবাদত পালন আপনাকে শান্ত থাকতে সাহায্য করে। এছাড়া পেট ভোরে শ্বাস নিয়ে ধীরে ধীরে ছাড়লে শরীর ও মন দুটোই আরাম পায়।

অল্প করে হলেও এই ছয়টি অভ্যাসের সমন্বয় লাগবে। তবে এগুলো মানতে হলে সুস্থ থাকার গুরুত্ব বুঝতে হবে। না হলে ধৈর্য হারিয়ে ফেলবেন।

বাস্তবতা হচ্ছে, অসুস্থ হলে আমরা কিছুই করতে পারি না। অন্যরা তাদের কাজ ফেলে আমাদের নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। আমি-সহ কতগুলো মানুষের কাজের ক্ষতি ও ভোগান্তি তৈরি হয়।

ডাক্তার ও ওষুধের পেছনে ভালো অঙ্কের খরচ হয়। অথচ সে তুলনায় সুস্থতার জন্য কম খরচ করলেই হতো। তাই আসুন অবহেলা না করি।




বগলের কালো দাগ দূর করবেন যেভাবে

লাইফস্টাইল ডেস্ক : অনেকেই বগলের নিচে কালচে দাগের কারণে লজ্জা এবং বিব্রত হন। অথচ সঠিক যত্ন এবং ঘরোয়া কিছু টোটকা মেনেই কিন্তু পালকের মতো কোমল আর মসৃণ আন্ডারআর্ম পাওয়া সম্ভব। চলুন এসম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিই:

এক্সফোলিয়েট: ত্বক থেকে মৃত কোষ অপসারণের প্রক্রিয়া এক্সফোলিয়েট। এক্সফোলিয়েট করলে ত্বকের ছিদ্রও বন্ধ হয়। ফলে ত্বক হয় সতেজ আর মসৃণ। হালকা স্ক্রাব ব্যবহার করতে চিনি আর নারকেল তেলে একসঙ্গে মিশিয়ে প্রাকৃতিক এক্সফোলিয়েটর তৈরি করে ব্যবহার করুন এই মিশ্রণ বৃত্তাকার গতিতে আন্ডারআর্মে আলতোভাবে স্ক্রাব করে ম্যাসাজ করুন। কিছুক্ষণ পর উষ্ণ গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

ময়শ্চারাইজ প্রতিদিন: মসৃণ ও সুন্দর ত্বক পেতে আন্ডারআর্মস ময়শ্চারাইজ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এক্সফোলিয়েট করার পরে, আন্ডারআর্মে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। এক্ষেত্রে শিয়া বাটার বা অ্যালোভেরার মতো হাইড্রেটিং ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন।

সঠিকভাবে শেভ: শেভিং করার সময় কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। ঠিকমতো শেভিং না করলে জ্বালাভাব বেশিদিন থাকতে পারে। তৈরি হতে পারে র‍্যাশেস, ইনগ্রাউন হেয়ার। শেভ করার সময় অবশ্যই ধারালো ও পরিষ্কার রেজার ব্যবহার করুন। সঠিক নিয়ম ব্যবহার করুন। তাছাড়া ত্বককে মসৃণ করতে ময়শ্চারাইজিং শেভিং ক্রিম বা জেল প্রয়োগ করতে পারেন। চুলের বৃদ্ধির যেদিকে সেদিকে শেভ করুন। শেভের পর রেজার অবশ্যই পরিষ্কার করে ধুয়ে ফেলুন। শেভ করার পরে আন্ডারআর্ম ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে শুকিয়ে নিতে ভুলবেন না যেন।




পাত্রে ফুঁ দেওয়া ইসলামে নিষেধ কেন?

ধর্ম ও জীবন ডেস্ক : প্রত্যেক বিষয়ে সুন্নতের অনুসরণে বরকত নিহিত। সুন্নতের অনুসরণ না করা হলে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। প্রিয়নবী (স.) আমাদের অনেক সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম বিষয়েও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। মুসলমানরা সেগুলো সুন্নত হিসেবেই পালন করেন। ফলস্বরূপ অজান্তেই বরকত লাভ করেন এবং নানা ক্ষতি থেকে বেঁচে থাকেন।

পানি পান করা ও পানপাত্র ব্যবহারেও সুন্নত পদ্ধতি রয়েছে। পাত্রে ফুঁ দিতে নিষেধ করেছেন নবীজি (স.)। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (স.) পানপাত্রে নিঃশ্বাস ফেলতে ও তাতে ফুঁ দিতে নিষেধ করেছেন। (ইবনে মাজাহ: ৩৪২৮)

এই হাদিসের সঙ্গে আধুনিক বিজ্ঞানও সহমত পোষণ করে। আমরা জানি, পানি পানের সময় পাত্রে নিঃশ্বাস ফেলার দরুন সেই পানি বিষাক্ত হয়ে যায়।

বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য নাক ও মুখ দিয়ে অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড ত্যাগ করে। নিঃশ্বাসে থাকে দেহের দূষিত বাষ্প ও রোগ-জীবাণুবাহী অপেক্ষাকৃত ভারী বায়বীয় পদার্থ কার্বন ডাই-অক্সাইড, যা খাবার কিংবা পানির সঙ্গে মিশে আবার মানুষের দেহের ভেতরে প্রবেশ করে। ফলে শরীরে বিভিন্ন রোগ-জীবাণুর আস্তানা গড়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়।

পানির অপর নাম জীবন। পানি ছাড়া জীবনের অস্তিত্ব কখনোই কল্পনা করা যায় না। বিশুদ্ধ পানির জন্য মানুষ কত কিছুই না করছে। উন্নত বিশ্বে এই খাতে খরচ করা হচ্ছে কোটি কোটি ডলার। ডিডাব্লিউর তথ্যমতে, জার্মানিতে চারজনের একটি পরিবার বিশুদ্ধ পানির জন্য দেড় হাজার ইউরো ব্যয় করে। যা বাংলাদেশি টাকায় হিসাব করলে এক লাখ ৪১ হাজার ৩৯৯ টাকা হয়।

এতকিছু করার পরও যদি কেউ পানি পান করার সময় রাসুল (স.)-এর এই হাদিসটির ওপর আমল না করে, তাহলে তার পুরো পরিশ্রমটাই বৃথা হয়ে যায়। প্রশ্ন জাগতে পারে, অনেকের এভাবে পানি পান করতে গেলে নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসতে পারে। কিংবা অতৃপ্তি থেকে যেতে পারে, তারা কী করবে? তার সমাধানও দিয়েছেন প্রিয়নবী (স.)।

আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (স.) পানীয় পানকালে তাতে ফুঁ দিতে নিষেধ করেছেন। একটি লোক নিবেদন করল, ‘পানপাত্রে (যদি) আমি খড়কুটো দেখতে পাই?’ তিনি বলেন, ‘তাহলে তা ঢেলে ফেলে দাও।’ সে নিবেদন করল, ‘এক শ্বাসে পানি পান করে আমার তৃপ্তি হয় না।’ তিনি বললেন, ‘তাহলে তুমি পেয়ালা মুখ থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে নিঃশ্বাস গ্রহণ করো।’ (রিয়াদুস সালেহিন: ৭৬৯)।




তাল কেন খাবেন

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : এখন তালের মৌসুম।  তাল পড়ার শব্দ কিংবা পাকা তালের ঘ্রাণ দুটোই এসময়ে বেশ পরিচিত।  বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে।

মিষ্টি স্বাদের এই ফল দিয়ে তৈরি করা যায় নানা পদের খাবার। তালের বড়া, তালের ক্ষীর, তালের ভাপা, তালের কেক- নানাভাবেই তৈরি করা যায়। অনেকে আবার তাল দিয়ে রুটি খেতেও পছন্দ করেন। নারিকেল ও তাল দিয়ে ভাত খাওয়ার প্রচলনও আছে আমাদের দেশে। সুস্বাদু এই ফলের রয়েছে অনেক উপকারিতা।

তালে থাকে ভিটামিন এ, বি, সি। এছাড়াও জিংক, পটাশিয়াম, আয়রন, ক্যালসিয়াম-সহ আরও অনেক খনিজ উপাদান। তার সঙ্গে আরও থাকে অ্যান্টি-অক্সিজেন ও অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি উপাদান। সব মিলিয়ে এই ফল পুষ্টিগুণে ঠাসা। আর এতোসব গুনাগুনের জন্যই আমাদের তাল খেতে হবে।

আমাদের শরীরের নানা ধরনের উপকার করতে পারে তালের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য। এটি ক্যান্সার প্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। সেইসঙ্গে স্বাস্থ্য রক্ষায়ও তাল নানা ধরনের উপকার করতে পারে। স্মৃতিশক্তি ভালো রাখতেও এটি কাজ করে।

তালে থাকে ভিটামিন বি, এটি এই ফলের সবচেয়ে বড় উপকারিতা। ভিটামিন বি-এর অভাবজনিত রোগ প্রতিরোধে তাল যথেষ্ট কার্যকরী। এই ভিটামিন রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়াতে কাজ করে। সেইসঙ্গে এটি শরীরের আরও নানা উপকার করে। তাই নিয়মিত তাল খাওয়া উপকারী।

তালে থাকে প্রচুর ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস আছে, যা হাড় ও দাঁতের ক্ষয় প্রতিরোধে সাহায্য করে। অন্ত্রের রোগ ও কোষ্ঠকাঠিন্য সারিয়ে তুলতে কাজ করে তাল। যারা এ ধরনের সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য তাল একটি উপকারী ফল হতে পারে।

তবে তালের বড়ায় তেলের ব্যবহার এসিডিটি বাড়াতে পারে। আবার তালে অতিরিক্ত চিনির মিশ্রণও ক্ষতিকর।




ডেঙ্গুতে ১০ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২৭৪৮ রোগী

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ:  ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭১৬ জনে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন দুই হাজার ৭৪৮ জন।

শনিবার (৯ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ মো. জাহিদুল ইসলামের সই করা ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, শুক্রবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ৭৪৮ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার বাসিন্দা ১ হাজার ৫১ জন ও ঢাকার বাইরের ১ হাজার ৬৯৭ জন।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ ৪৫ হাজার ৩৩৫ জন। তাদের মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ৬৬ হাজার ৬৫ জন আর ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন ৭৯ হাজার ২৭০ জন।

বছরের একই সময়ে আক্রান্তদের মধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন এক লাখ ৩৪ হাজার ৪২১ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার বাসিন্দা ৬১ হাজার ১৪১ জন এবং ঢাকার বাইরের ৭৩ হাজার ২৮০ জন।

এর আগে ২০২২ সালে ডেঙ্গুতে দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ২৮১ জন মারা যান। ওই বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে ডেঙ্গুতে ২৭ জনের মৃত্যু হয়। একই সঙ্গে আলোচ্য বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ৬২ হাজার ৩৮২ জন।

২০২০ সালে করোনা মহামারিকালে ডেঙ্গু সংক্রমণ তেমন একটা দেখা না গেলেও ২০২১ সালে সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হন ২৮ হাজার ৪২৯ জন। একই বছর দেশব্যাপী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১০৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল।




বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে আলমগীর?

  • স্ত্রী, নাবালক দুটো সন্তান আর মা ছাড়া কেউ নেই পোশাক শ্রমিক আলমগীরের।
  • দুটো কিডনির ৮০ ভাগ নষ্ট। যেখানে খাবার জোটানোই দায় সেখানে ব্যয়বহুল চিকিৎসা হবে কিভাবে?
  • তাহলে কী বিছানায় ধুকেঁ ধুকেঁই মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাবে ৩০-৩৫ বছরের এই যুবক?

মো. আল-আমিন হোসেন (পটুয়াখালী) : দুই সন্তানের জনক পোশাক শ্রমিক পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার চরগরবদী গ্রামের মো. আলমগীর হোসেন খান। এখনো বয়স ৩৫ না পেরোলে-ও রোগে-শোকে র্জীণ-শীর্ণ দেহে বার্ধক্য যেনো চেপে ধরেছে তাকে। বড় মেয়ে ৮ম শ্রেনী আর ছোটো ছেলে এখনো প্রাইমারির গন্ডি পেড়োয়নি।

জীবনের এমন-ই কর্মক্ষম সময়ে কয়েক মাস আগে ধরা পড়ে কিডনি জটিলতা। নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসক জানালেন, দুটো কিডনির-ই ৮০ শতাংশ অর্কাযকর হয়ে গেছে। কর্মক্ষেত্রের পরিবর্তে তার ঠাইঁ হয় বিছানা। চিকিৎসার ক্ষেত্রে এখন দুটো পথ খোলা- হয় ডায়ালাইসিস নয়তো ট্রান্সপ্লানটেশন। এ জন্য প্রয়োজন ৮ থেকে ১০ লাখ টাক। কিন্তু চাকুরী থাকা অবস্থায়ই যেখানে দিন আনতে পান্তা ফুরানোর মতো অবস্থা ছিল পরিবারটির। সেখানে এই ব্যয়বহুল চিকিৎসা করানোর কথা ভাবতেই পারছেনা স্বজনেরা। তবু-ও ধারদেনা–আর বাড়ির গাছপালা বিক্রি করে এতোদিন কোনোরকম চিকিৎসা চললে এখন তাও বন্ধ রয়েছে। এদিকে শরীরে তিন ব্যাগ রক্ত প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। কিন্তু তাও দেয়া সম্ভব হচ্ছেনা।

আলমগীরের মা সাহাভানু বেগম জানান, দুই ছেলেকে ছোটো অবস্থায় রেখে ওদের বাবা মারা যান। এরপর বছর কয়েক আগে বড় ছেলেও স্ট্রোক করে মারা যান। এখন ছোটো ছেলের এই অবস্থা। চোখের পানি মুছতে মুছতে তিনি জানালেন, আমার তো ছেলেটা ছাড়া আর কেউ নাই। আমি নিজের কিডনি দিতে প্রস্তুত কিন্তু এ জন্য যে ঢাকা যাওয়া-থাকা-খাওয়া এবং চিকিৎসা খরচ তা বহন করার ক্ষমতা আমার নাই। তিনি আরও জানান, দুই নাতি, ছেলে-ছেলের বউ নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটে তাঁর। এর মধ্যে চিকিৎসার জন্য ছেলেকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে নেয়ার মতো লোকজন-ও তাদের নেই।

‘বেঁচে থাকার আশা ক্রমশ. ক্ষীণ হয়ে আসছে’ জানিয়ে আলমগীরের স্ত্রী নুপূর দেশের সামর্থ্যবান মানুষের কাছে অবুঝ দুটি সন্তানের কথা ভেবে তাঁর স্বামীর চিকিৎসায় এগিয়ে আসার অনুরোধ জানিয়েছেন। কোনো ধরণের সহায়তা দিলে তাঁর বিকাশ একাউন্ট সংবলিত মোবাইল নাম্বারে (০১৭৭৫-২৪৮ ৭০১) পাঠানোর অনুরোধ করেছেন।