বরিশালে ডেঙ্গুতে আরও দু’জনের মৃত্যু

মৃতরা হলেন- পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার শাওন (২৬) ও বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার পারভিন (৩৪)।

ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল  জানান, মৃত দুজনই শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বিভাগে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৭৭ জন। এরমধ্যে বরিশালে ৫২ জন, ভোলায় আটজন, বরগুনায় পাঁচজন ও পিরোজপুরে সাতজন ও পটুয়াখালীতে পাঁচজন।

তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু রোধে সচেতনতাই জরুরি। মানুষ সচেতন না হলে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কমানো যাবে না। বিভাগের সব সরকারি হাসপাতালগুলোতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের ছয় জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ৩৮১ রোগী। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি বরিশালে ১১৩ জন, পটুয়াখালীতে ৯৫ জন, পিরোজপুরে ৭০ জন, ভোলায় ৩২ জন, বরগুনা ৬৩ জন ও ঝালকাঠিতে ৮ জন।

এছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ২০ হাজার ১৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এরমধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১৮ হাজার ৮২৩ জন। এখনো বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এক হাজার ১১৫ জন।




বরিশালে ডেঙ্গুতে আরও তিনজনের মৃত্যু, এক দিনে হাসপাতালে ভর্তি ৪৫৮

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ডেস্ক: গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে বিভাগে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ৭৫ জনে।

একই সময়ে ৪৫৮ জন ডেঙ্গু রোগী বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে বিভাগের ছয় জেলায় ১ হাজার ২২৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

রোববার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর থেকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

ডেঙ্গুতে মারা ব্যক্তিরা হলেন- বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার পিয়ারা বেগম (৭০), পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার মমতাজ বেগম (৬০) ও ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার তারিকুল ইসলাম (৬৫)। এর মধ্যে পিয়ারা বেগম ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। শনিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) তিনি মারা যান। মমতাজ বেগম আজ  রোববার নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। আর তারিকুল ইসলাম ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার (১৫ সেপ্টেম্বর) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৪৫৮ জন ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬৮, পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬১, বরিশাল জেলার অন্যান্য হাসপাতালে ৮৪, পটুয়াখালীতে ৪৫, ভোলায় ৪৯, পিরোজপুরে ৬৪, বরগুনায় ৭৫ ও ঝালকাঠিতে ১২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত বরিশাল বিভাগের হাসপাতালগুলোতে ১৯ হাজার ৬৩৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৮ হাজার ৩৩৪ জন। এদিকে চলতি বছর গোটা বিভাগে ৭৫ জন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। যার মধ্যে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪৮ জন, পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩ জন, বরিশাল জেলার অন্যান্য হাসপাতালে ২ জন, বরগুনায় ৫ জন, পটুয়াখালীতে ২ জন, পিরোজপুরে ৭ জন এবং ভোলায় হাসপাতালে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে ঝালকাঠি হাসপাতালে কোনো ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়নি।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ দাস জানান, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য বিভাগের সকল সরকারি হাসপাতালগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রধান কাজ সচেতনতা। সচেতনতা ছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব নয়।




ডেঙ্গু আক্রান্ত কোনো রোগীকে ঢাকায় স্থানান্তর না করার নির্দেশ

অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর বলেছেন, ডেঙ্গু বিষয়ে যে গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে তা প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছেছে। ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু আক্রান্ত কোনো রোগীকে যেন ঢাকায় পাঠানো না হয়।

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ঢাকার তুলনায় ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু সংক্রমণ বেড়েছে। আমরা ঢাকার বাইরে সব জায়গায় ডেঙ্গুরোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। সারাদেশের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি।

রোববার (১৭ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

 

তিনি বলেন, কিছু ক্লিনিক এবং হাসপাতাল রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। রোগীদের হাসপাতালে রাখছে এবং আইসিইউতে নিচ্ছে। এসব হাসপাতাল ও ক্লিনিকের বিরুদ্ধে এবং যেসব হাসপাতাল ও ক্লিনিকের নিবন্ধন নেই বা মেয়াদোত্তীর্ণ সেসব হাসপাতালের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান পরিচালিত হবে।

ডা. আহমেদুল আরও বলেন, আমরা আমাদের রোগীদের জিম্মি করে কোনো অসাধু চক্রকে লাভবান হতে দেবো না। যারা এ ধরনের কাজ করছে তারা দেশপ্রেমিক না।

 




পটুয়াখালীতে হাসপাতালে রোগীদের খাবারের অভাব

 

বরিশাল অফিস : পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি থাকা সব রোগী হাসপাতালের খাবার পাচ্ছে না। ২৫০ শয্যার হাসপাতালে রোগী ভর্তি থাকে শয্যা সংখ্যার প্রায় দ্বিগুণ।

এই বাড়তি রোগীদের খাবারের জন্য অর্থ বরাদ্দ পায় না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ফলে তাদের বাইরের খাবার কিনে খেতে হয়। সরকারি বরাদ্দ না পেলে এ বিষয়ে কিছু করার নেই বলে জানান হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক।

২৫০ শয্যা হাসপাতালের অবকাঠামো এবং সুযোগ সুবিধা নিয়ে গড়ে উঠেছে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। তবে বর্তমানে হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৫শ’ থেকে ৬শ রোগী ভর্তি থাকছে। শয্যা না পেয়ে তাদের চিকিৎসা চলে বারান্দায় মেছেতে। এই বাড়তি রোগীরা হাসপাতাল থেকে তিন বেলা খাবার পায় না।

রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতাল থেকে দেয়া খাবারের মানও ভালো নয়। খাবার সরবরাহের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের বিরুব্ধে রোগীদের সাথে খারাপ ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক দিলরুবা ইয়াসমীন লিজা জানান, শয্যা সংখ্যা অনুযায়ী রোগীর খাবার বরাদ্দ আসে। বাড়তি রোগীদের খাবার দিতে না পারা তাদের জন্যও বিব্রতকর।
হাসপাতালটি ৫শ’ শয্যার প্রশাসনিক অনুমোদনের জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।




বরিশালে ডেঙ্গুতে আরও এক নারীর মৃত্যু, এক দিনে হাসপাতালে ভর্তি ৩৮৩

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ডেস্ক: গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ময়না বেগম (৬৫) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে বিভাগে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ৭২ জনে।

একই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৩৮৩ জন বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে বিভাগের ছয় জেলার সরকারি বিভিন্ন হাসপাতালগুলোতে ১ হাজার ২৮৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শনিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর থেকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

মারা যাওয়া ময়না বেগম বরিশাল জেলার মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তিনি শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। শুক্রবার (১৫ সেপ্টেম্বর) তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৩৮৩ জন ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে ৫৩ জন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং ৩৭ জন পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া বরিশাল জেলার অন্যান্য হাসপাতালে ৬১ জন, পটুয়াখালীতে ৪৮ জন, ভোলায় ৪৪ জন, পিরোজপুরে ৬২, বরগুনায় ৭৩ ও ঝালকাঠিতে ৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত বরিশাল বিভাগের হাসপাতালগুলোতে ১৯ হাজার ১৭৬ ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৭ হাজার ৮১৯ জন। এদিকে চলতি বছর গোটা বিভাগে ৭২ জন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। যার মধ্যে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪৭ জন, পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩ জন, বরিশাল জেলার অন্যান্য হাসপাতালে ২ জন, বরগুনায় ৫ জন, পটুয়াখালীতে ২ জন, পিরোজপুরে ৬ জন এবং ভোলায় হাসপাতালে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে ঝালকাঠি হাসপাতালে কোনো ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়নি।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ দাস জানান, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য বিভাগের সকল সরকারি হাসপাতালকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রধান কাজ সচেতনতা। সচেতনতা ছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব নয়।




সারাদেশে ডেঙ্গুতে ১২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২১২৯

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত (একদিনে) সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ২১২৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮৪৩ জন আর ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১২৮৬ জন। একইসঙ্গে এই সময়ে ডেঙ্গুতে আরও ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (১৫ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে মোট ৯ হাজার ৮৯১ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। ঢাকার সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে বর্তমানে ৪ হাজার ১৬ জন এবং অন্যান্য বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৫ হাজার ৮৭৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন।

চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৬১ হাজার ৯৬৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকায় ৭১ হাজার ৫০৩ জন এবং ঢাকার বাইরে চিকিৎসা নিয়েছেন ৯০ হাজার ৪৬১ জন।

আক্রান্তদের মধ্যে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৫১ হাজার ২৮৩ জন। ঢাকায় ৬৬ হাজার ৯৪০ এবং ঢাকার বাইরে ৮৪ হাজার ৩৪৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।




বরিশালে ডেঙ্গুতে আরও দুজনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ২৫৪

ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া দুজন হলেন বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাহাদুরপুর এলাকার হাফিজুল (২০) ও পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার পবন মল্লিক (৫৫)।

শুক্রবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এতথ্য জানানো হয়।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল জানান, ওই দুজন শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের ছয় জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ২৫৪ জন। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি পিরোজপুরে ৭৬ জন, বরিশালে ৬৭ জন, পটুয়াখালীতে ৬৩ জন, ভোলায় ৩৬ জন, বরগুনায় ছয়জন ও ঝালকাঠিতে ছয়জন রয়েছেন।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ১৮ হাজার ৭৯৩ ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এরমধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১৭ হাজার ৫৩৮ জন। এখনো বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক হাজার ১৮৪ জন।

ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল জাগো নিউজকে জানান, বিভাগে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৭১ জন। এরমধ্যে বরিশালে ৪৮ জন, ভোলায় সাতজন, বরগুনায় পাঁচজন, পিরোজপুরে ছয়জন ও পটুয়াখালীত পাঁচজন রয়েছেন।




ডেঙ্গু জ্বর কমে গেলেও মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে!

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ডেঙ্গি থেকে সেরে উঠলেই যে পুরোপুরি সুস্থ, বিষয়টি তেমন নয়। জ্বর কমে যাওয়ার পরে ফের অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। থাকে মৃত্যুর ঝুঁকিও। কোন বিষয়গুলি মাথায় রাখবেন?

বর্ষার মরসুমে ডেঙ্গি বাড়ছে শহরে। শুধু কলকাতা নয়, শহরতলিতেও আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ ঊর্ধ্বগামী। গত বছরও ডেঙ্গিতে আক্রান্তের সংখ্যা চিন্তায় ফেলেছিল রাজ্যকে। তবে চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, এ বছর যেন পরিস্থিতি ক্রমশ হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে। সাধারণ ভাইরাল জ্বরের সঙ্গে ডেঙ্গিকে গুলিয়ে ফেলে অবহেলা করেই অনেক সময়ে রোগীর অবস্থা আরও গুরুতর হচ্ছে। শিশু থেকে বয়স্ক— বিভিন্ন বয়সের মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন ডেঙ্গিতে। গত কয়েক দিনে ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যাটিও চিন্তার কারণ হয়ে উঠছে। পাশাপাশি, সুস্থতার হারও নেহাত কম নয়।

সাধারণত জ্বর, মাথাযন্ত্রণা, হাত-পায়ের সঙ্গে সারা শরীরে ব্যথা, বমি বমি ভাব, মুখে অরুচি, মলের সঙ্গে রক্তপাত— ডেঙ্গি রোগের অন্যতম লক্ষণ। এই লক্ষণগুলি প্রকাশ পেলে রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া অবশ্যই জরুরি। ডেঙ্গি সেরে গেলেই যে আপনি সুস্থ, এমনটি ভাবার কোনও কারণ নেই। সেরে উঠে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পর ফের অসু্স্থ হয়ে পড়েছেন, এমন উদাহরণও কম নেই। তাই সেরে ওঠার পর রোগীর যত্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই মত চিকিৎসক সুর্বণ গোস্বামীরও। তিনি বলেন, ‘‘ডেঙ্গির জ্বর বেশি দিন থাকে না। ফলে জ্বর চলে যাওয়ার পরে অনেকেরই মনে হয় সুস্থ হয়ে গিয়েছেন। কিন্তু আসল বিপদের শুরু হচ্ছে সেই সময় থেকেই। জ্বর কমে যাওয়ার ২-৭ দিন পর ডেঙ্গির সঙ্কটজনক অবস্থা তৈরি হয়। তাই এই সময়টিতে অত্যন্ত সাবধানে থাকতে হবে।’’ অতিরিক্ত দুর্বলতা, বমি, পাতলা পায়খানা, পেটে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা— জ্বর কমে যাওয়ার পরেও যদি এই লক্ষণগুলি দেখা দিতে শুরু করে তা হলে অবশ্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া জরুরি। এই বিষয়টি নিয়ে সতর্ক থাকলে মৃত্যু এড়ানো যাবে। তেমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসক।

ডেঙ্গি জ্বর কমে যাওয়ার পরে আর কোন বিষয়গুলি মেনে চললে সঙ্কট এড়ানোর সম্ভাবনা বাড়ে?

১) জ্বর কমে যাওয়ার ৪৮-৭২ ঘণ্টার মধ্যে রোগীকে বাড়তি নজরে রাখতে হবে। রোগীর নিজেরও খানিক সতর্ক থাকা জরুরি। কোনও সমস্যা হলে তা চেপে না রেখে চিকিৎসককে জানাতে হবে।

২) ডেঙ্গি হলে শরীরে জলের ঘাটতি তৈরি হয়। তাই জলের ঘাটতি কতটা কমেছে সেটা মাপার জন্য দিনে ‘পিসিভি’ পরীক্ষা করা জরুরি। এ ছাড়াও প্লেটলেট পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। জ্বর চলে যাওয়ার ২-৩ দিন এই পরীক্ষাগুলি প্রতি দিন করাতে হবে।

৩) ডেঙ্গি শরীর ভিতর থেকে দুর্বল করে দেয়। তাই এই সময় পর্যাপ্ত পুষ্টির প্রয়োজন। সঠিক ডায়েট মেনে চললে দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। তরল খাবার বেশি করে খাওয়া জরুরি। ঘন ঘন জল খেতে হবে। শরীরে জলের পরিমাণ কমতে দেওয়া যাবে না। সেই সঙ্গে কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার, ভিটামিন সি, আয়রন, ভিটামিন ই-তে সমৃদ্ধ খাবার বেশি করে খেতে হবে।




ঢাকা মেডিকেলে প্রথম টেস্টটিউব শিশুর জন্ম

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ডেস্ক: সরকারি ব্যবস্থাপনায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে এই প্রথম টেস্টটিউব বেবির (ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন) জন্ম দিয়ে অসাধারণ এক অর্জন করলেন হাসপাতালের বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। জন্মের পর শিশুটি সুস্থ আছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজমুল হক।

তিনি বলেন, হাসপাতালের বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞদের প্রচেষ্টায় বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো সরকারি ব্যবস্থাপনায় জন্ম নিয়েছে টেস্টটিউব শিশু। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে জন্ম নেয় শিশুটি। বর্তমানে শিশুটি অধ্যাপক ফাতেমা রহমানের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারি কোনো হাসপাতালে এই প্রথম কোনো টেস্টটিউব বেবির জন্ম হলো। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. জাহিদ মালেক এ বিষয়ে পরে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানাবেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক জানান, বন্ধ্যা নারীর মা হওয়ার আধুনিক পদ্ধতি হলো ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন। স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সন্তান না হওয়ার কারণে অনেক স্বামী-স্ত্রী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। অনেকে অনেকভাবে সন্তান জন্মদানের চেষ্টা করেন। বহু দম্পতি প্রতিবেশী দেশ ভারতে যান বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসার জন্য। দেশে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বা ভারতে টেস্টটিউব শিশুর জন্য ব্যয় অনেক বেশি। কোনো নিম্নবিত্তের পক্ষে সেই ব্যয় বহন করা সম্ভব নয়। ঢাকা মেডিকেলের মতো সরকারি প্রতিষ্ঠানে এই সুযোগ তৈরি হওয়ায় অনেক নিম্নবিত্ত দম্পতিও নতুন করে সন্তান জন্ম দেওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করবেন বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ১৯৭৮ সালের ২৫ জানুয়ারি ইংল্যান্ডে প্রথম টেস্টটিউব শিশুর জন্ম হয়। এরপর ২০০১ সালে বাংলাদেশে প্রথম টেস্টটিউব শিশুর জন্ম হয়।‌ এরপর বেসরকারিভাবে কিছু হাসপাতালে ধারাবাহিকভাবে এটি হলেও সরকারিভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজে এটি প্রথম শিশু।




বরিশালে যুব সদস্যদের জলবায়ু সড়ক অবরোধ

বরিশাল অফিস: বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশের ক্ষতিগ্রস্ততার মাত্রা বিবেচনায় উপযুক্ত ক্ষতিপুরণের দাবীতে পৃথিবীর প্রায় ১৫০টি দেশের সাথে সংহতি জানিয়ে নগরীর প্রাণ কেন্দ্র সদররোড সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করে ক্লাইমেট ষ্ট্রাইক আয়োজন কমিটি।

আজ শুক্রবার (১৫) সেপ্টেম্বর সকাল ১টায় এলায়েন্স ফর ইয়ূত এন্ড ডেভেলপমেন্ট এওয়াইডির আয়োজনে ও উন্নয়ন সংস্থা আভাষের সহযোগীতা একর্মসূচি পালিত হয়।

জাতীয় যুব কাউন্সিল বরিশাল বিভাগীয় প্রতিনিধি এওয়াইডি কর্তৃক ক্লাইমেট স্ট্রাইক আয়োজন কমিটির আহবায়ক কিশোর চন্দ্র বালার সভাপতিত্বে অবরোধ কর্মসূচিতে অংশ গ্রহন করে বক্তব্য রাখেন বীর প্রতীক কে এস এ মহিউদ্দিন মানিক, উন্নয়ন সংগঠক আনোয়ার জাহিদ,উন্নয়ন সংস্থা আভাষের নির্বাহী পরিচালক রহিমা সুলতানা কাজল,যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক প্রিন্স বাহাউদ্দিন তালুকদার,বরিশাল বিভাগীয় (বাপা) সমন্বয়ক রফিকুল আলম ও বরিশাল ট্রেড ইউনিয়ন নেতা এ্যাড. একে আজাদ প্রমুখ।

এ সময় বিভিন্ন বক্তরা বলেন, উন্নত দেশসমূহের বিলাসী জীবনের দায় আমাদের নিতে হচ্ছে কারণ পৃথিবী একটাই আমরা সবাই মানুষ একি আলো বাতাসে লালিত হই তাই এ বায়ুকে যারা দূষিত করে তাদেরকেই দায় নিতে হবে। জল ও বায়ুর প্রতিনিয়ত ত’ষণের ফলে কতটা ভয়াবহ রুপধারন করেছে তা ইতিমধ্যে দৃশ্যমান।

অদূর ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে সচেতন পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে পৃথিবী হতে পারে জীবনের অস্তিত্ব শুন্য। এর পর্বে বরিশালের ৪১টি সংগঠনের দুই শতাধিক সদস্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গন থেকে বিভিন্ন প্লেকার্ড নিয়ে এক মিছিল সহকারে সদররোড এসে তারা সড়কে বসে অবরোধ কর্মসূচি পালন করে।