বরিশালে ডেঙ্গুতে যুবকের মৃত্যু, এক দিনে হাসপাতালে ভর্তি ৩৬১

বরিশাল অফিস : বরিশাল বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোহাম্মদ হোসেন (২৩) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে বিভাগে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ১০৭ জন মারা গেছেন। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩৬১ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।




ডেঙ্গুতে ১১ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ২৫৯৬

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ:  রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত (একদিনে) ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নতুন করে আরও ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৭ জনে।



বর্ষার পানি ও ঘাম দুয়ে মিলে বারোটা বাজায় ত্বকের: হতে পারে ফাংগাল ইনফেকশন

বৃষ্টির পানি আর ঘাম, মিলেমিশে ফাংগাল ইনফেকশনের সম্ভাবনা বাড়ায়। তাই এই আবহাওয়ায় খুব সতর্ক থাকগে হবে। ভারতীয় এসএসকেএম হাসপাতালের ডার্মাটোলজিস্ট ডা. অলিম্পিয়া রুদ্রের পরামর্শ অবলম্বনে লিখেছেন মোহাম্মদ খান।

বর্ষাকাল মানেই বৃষ্টি। আর বৃষ্টি মানেই শরীর-মনে একটা শান্তির সুর। গরম থেকে স্বস্তি, রোদের চোখরাঙানি থেকে মুক্তি। তবে, কথায় আছে না, ভালর আড়ালে কালো। তেমনই বেশ কিছু সমস্যাও আছে বর্ষার স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায়। নানা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। বিশেষত ত্বকের জন্য বর্ষা মোটেই ভরসাযোগ্য নয়।

এই সময় বিভিন্ন ফাংগাস ত্বকের আনাচে-কানাচে বাসা বাঁধে। কারণ ভেজা বা আধভেজা জায়গাই এদের মোক্ষম বাসস্থান। তাই এই সময়টা ত্বকের বিশেষ যত্ন নেওয়া জরুরি।

চিন্তার উপসর্গ: সাধারণত ত্বকে যে কোনও স্থানেই লালচে গোল গোল চাকাচাকা দাগ দেখা দেয়। এগুলো চুলকায়, হালকা চামড়া উঠতে থাকে। অনেকের চুলকাতে থাকে। শরীরে যে কোনও স্থানে এই ফাংগাস ইনফেকশন হতে পারে। বিশেষত শরীরের ভাঁজে এমন হয়। অনেকের যৌনাঙ্গে, স্তনের নিচে, পশ্চাৎ অংশে এই সমস্যা বেশি হয়। প্রথমে চুলকানি দিয়ে সমস্যা শুরু হয়। তারপর চাকাচাকা দাগ দেখা দেয়। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে যদি না চিকিৎসা করানো হয়।

ভুলটা হয় যেখানে: সাধারণত এই ধরনের সমস্যা অধিকাংশ রোগীই এড়িয়ে যান। আর খুব সমস্যা হলে ওষুধের দোকান থেকে ওভার দ্যা কাউন্টার ড্রাগ কিনে লাগাতে শুরু করেন। এইভাবে নিজের ডাক্তারি নিজে করতে গিয়ে এই সমস্যা আরও জটিল হয়। প্রথম চোটে এই ধরনের ওষুধে সমস্যা কমে, তারপর আবার কয়েকদিন পর শুরু হয়। কারণ, এই ধরনের ওষুধে স্টেরয়েড থাকে। এইভাবে ফেলে রাখতে রাখতে ফাংগাস ইনফেকশন আরও বেড়ে যায়।

ফাংগাল ইনফেকশন কি ছোঁয়াচে? এই ধরনের সংক্রমণ এমন নয় যে হাত দিলেই অন্যের হয়ে যাবে। কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। বিশেষ কিছু পরিচ্ছন্নতা মানতে হবে। শরীরের যে স্থানে ঘাম বেশি জমে সেই স্থানগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা দরকার। নিত্য তোয়ালে, গামছা কেচে নেওয়া প্রয়োজন। এগুলো কারও সঙ্গে শেয়ার না করাই ভাল। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল ত্বকের যে কোনও স্থানে এই ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের সুপরামর্শ নেওয়া। নিজে থেকে কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া এই অসুখে মারাত্মক। প্রয়োজনে টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রত্যন্ত গ্রামে থাকলেও এইভাবে চিকিৎসা করে এই রোগ প্রতিহত করা যায়।

বারবার ঘুরে আসে: অসমাপ্ত ট্রিটমেন্ট এক্ষেত্রে দায়ী। রিক্যালসিট্রেন্ট ফাংগাল ইনফেকশন হল, যে ফাংগাল ইনফেকশন বারবার ফিরে আসে। কী হয়, রোগী কিছু দিন ওষুধ ব্যবহার করেন। তারপর যে-ই সমস্যা একটু ঠিক হয় তখন আর নিয়মিত ওষুধ খান না বা লাগান না। নিজের মতোই বন্ধ করে দেন। কিছুদিন পর আবার সেই সমস্যা ফিরে আসে। এই করে রোগ সারার বদলে রোগ আরও বেড়ে যায়। এক্ষেত্রে মেন্টেনেন্স থেরাপি খুব প্রয়োজনীয়। অর্থাৎ চিকিৎসক যখন ওষুধ শেষ হলে আবার পরামর্শ নিতে আসতে বলেন তখনই যেতে হবে, প্রতি ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ মাফিক ত্বকের যত্ন নিতে হবে। তাহলেই ধীরে ধীরে রোগ সারবে। না হলে ধীরে ধীরে সারা শরীরে এই ফাংগাল ইনফেকশন ছড়িয়ে যেতে পারে। বর্তমানে এমন রোগীর সংখ্যাটাও বেশ বেড়েছে।




ঘরের স্যাতঁসেঁতে ভাব দূর করবেন যেভাবে

এই বৃষ্টি, এই রোদ। কখনো কখনো টানা বৃষ্টি এমন অবস্থায় ঘরের ভিতর সব সময়ই একটা স্যাঁতসেঁতে গন্ধ। বুঝতেই পারছেন না কীভাবে দূর হবে। গন্ধ দূর করতে রুম স্প্রে ব্যবহার করেও লাভ হচ্ছে না। চিন্তা নেই। নিচের টোটকাগুলো অনুসরণ করলেই খুব সহজে ঘরোয়া উপায়ে দূর করতে পারবেন বর্ষার গন্ধ। ইন্টারনেট অবলম্বনে লিখেছেন মোহাম্মদ খান।

১) স্যাতঁসেঁতে গন্ধ দূর করতে ঘরের একটি উঁচু জায়গায় বাটিতে কিছুটা ভিনিগার ঢেলে রেখে দিন। দেখবেন ভিনিগার ঘরের গন্ধ শুষে নেবে। ঘরে একটা ফ্রেশভাব আসবে।

২) বাজারে সুগন্ধি মোমবাতি কিনতে পাওয়া যায়। সেই মোমবাতি জ্বালিয়ে রাখুন। দেখবেন ঘর থেকে গন্ধ দূর হবে।

৩) বৃষ্টির সময়ে জানলা বন্ধ রাখলেও থেমে গেলে জানলা খুলে দিন। ঘরে মুক্ত হাওয়া আসতে দিন। এতে বাইরের ঠান্ডা হাওয়া এসে ভ্যাপসা ভাবটা অনেকটা কেটে যাবে।

৪) জানলা-দরজার পর্দা থেকেও গন্ধ ছড়াতে পারে। বর্ষায় সপ্তাহে এক বার করে পর্দা কেচে নিন। প্রয়োজনে পর্দায় রুম স্প্রে ব্যবহার করুন। দেখবেন ঘরে সুন্দর গন্ধ খেলা করবে।




চিকিৎসায় নোবেল জিতলেন দুই বিজ্ঞানী

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ:  ২০২৩ সালে চিকিৎসাশাস্ত্রে নোবেল পুরস্কার পেলেন ক্যাটালিন কারিকো এবং ড্রু উইসম্যান। কোভিড-১৯’র বিরুদ্ধে কার্যকর এমআরএনএ টিকার বিকাশে সহায়ক নিউক্লিওসাইড বেস পরিবর্তনের বিষয়ে আবিষ্কারের জন্য এই পুরস্কার পেলেন তারা।

সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে বাংলাদেশ সময় সোমবার (২ অক্টোবর) দুপুরে চিকিৎসায় সর্বোচ্চ পুরস্কার বিজয়ী হিসেবে তাদের নাম ঘোষণা করেছে নোবেল কমিটি।

ঘোষণার আগে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান বা সংক্ষিপ্ত তালিকা সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি। বরাবরের মতোই পুরো প্রক্রিয়া অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে সম্পন্ন করেছে নোবেল কমিটি।

এ বছর ২ অক্টোবর থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত ধাপে ধাপে ঘোষণা করা হবে নোবেল বিজয়ীদের নাম। সোমবার (২ অক্টোবর) জানা যাবে চিকিৎসাশাস্ত্রে নোবেল বিজয়ী বা বিজয়ীদের নাম। মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) পদার্থে, বুধবার (৪ অক্টোবর) রসায়নে নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে। এরপর বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) সাহিত্যে এবং শুক্রবার (৬ অক্টোবর) শান্তিতে নোবেল বিজয়ীর নাম জানা যাবে। দুদিন বিরতি দিয়ে ৯ অক্টোবর ঘোষণা করা হবে অর্থনীতিতে নোবেলজয়ীর নাম।

 

তার আগের বছর (২০২১ সাল) তাপমাত্রা ও স্পর্শের রিসেপ্টর আবিষ্কারের জন্য চিকিৎসা বিজ্ঞানে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পান মার্কিন বিজ্ঞানী ডেভিড জুলিয়াস ও আর্ডেম প্যাটাপৌসিয়ান।

ডিনামাইট আবিষ্কারক সুইডেনের বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেলের ১৮৯৫ সালে করে যাওয়া একটি উইল অনুযায়ী নোবেল পুরস্কার প্রচলন করা হয়। প্রথম পুরস্কার দেওয়া শুরু হয় ১৯০১ সালে। সেময় সারা পৃথিবীর বিভিন্ন ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকে সফল, অনন্যসাধারণ গবেষণা, উদ্ভাবন ও মানবকল্যাণমূলক কার্যক্রমের জন্য পাঁচটি বিষয়ে পুরস্কার প্রদান করা হয়। বিষয়গুলো হলো পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসাশাস্ত্র, সাহিত্য ও শান্তি। যদিও অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া শুরু হয় ১৯৬৯ সাল থেকে।

এ বছর অর্থমূল্য বাড়ছে নোবেল পুরস্কারের। গতবারের চেয়ে এ বছরের বিজয়ীরা ১০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা বেশি পেতে চলেছেন।

নোবেল ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, ২০২৩ সালে নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য বাড়িয়ে ১ কোটি ১০ লাখ ক্রোনা করা হচ্ছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি ৯০ লাখ টাকা।




সফলতার জন্য ‘টার্গেট’ নাকি ‘হ্যাবিট’ কোনটা গুরুত্বপূর্ণ?

লতিফুর রহমান: ছোটবেলায় পড়েছিলাম নির্দিষ্ট লক্ষ্য না থাকা মানে হচ্ছে লক্ষ্যহীন নৌকার মতো। অর্থাৎ ‘এইম ইন লাইফ’ ছাড়া জীবনে সফলতা সম্ভব না। অথচ লেখক জেমস ক্লিয়ার এটা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন। তিনি বললেন,

১. একই লক্ষ্য থাকার পরও খেলাধুলায় কেউ বিজয়ী ও কেউ পরাজিত হয়। তাহলে নির্দিষ্ট লক্ষ্য ছাড়াও আরও কিছু রয়েছে যা সফলতার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে।

২. লক্ষ্য অর্জনের পর মানুষ হতাশায় ভুগে। কারণ লক্ষ্য অর্জনের পর কী করবে সেটা বুঝতে পারে না। অলিম্পিকে সোনা জিতে অনেকের নাকি এমন দশা হয়েছে।

৩. অনেক সময় লক্ষ্য অর্জনের পর সেটা ধরে রাখা সম্ভব হয় না। যেমন- পরীক্ষার আগে রাতদিন পড়াশোনা করি কিন্তু পরীক্ষা শেষে বই আর ছুয়েও দেখি না। বিপদ থেকে উদ্ধারের জন্য নামাজ পড়ি। বিপদ কেটে যেতেই আল্লাহকে ভুলে যাই।

৪. প্রতিবার আমার লক্ষ্য থাকে ঘর পরিস্কার রাখা। তাই কিছুদিন পরপর সময় নিয়ে পরিশ্রম করি। এর মানে হচ্ছে রেজাল্টকে সমস্যা মনে করছি। অথচ যেই অপরিস্কার অভ্যাসের কারণে ঘর নোংরা হয় সেটাকে সমস্যা মনে করা উচিত।

এজন্য লক্ষ্য অর্জনের চাইতে অভ্যাসকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন লেখক জেমস ক্লিয়ার।

এদিকে আরেক জনপ্রিয় লেখক সাইমন সিনেক বলেন, Goal বা লক্ষ্য থাকার যে সীমাবদ্ধতা রয়েছে সেটার সমাধান হচ্ছে ‘ভিশন’।

গোল হচ্ছে এমন বিষয় যেটার নির্দিষ্ট মাইলস্টোন রয়েছে। কিন্তু ভিশনের কোনো মাইলস্টোন নেই। যেমন ডাক্তার হয়ে মানুষের উপকার করা। দোকানদারের ভিশন হচ্ছে ক্রেতার কাছে সর্বদা কোয়ালিটি পণ্য বিক্রি করা। অর্থাৎ মরণের আগ পর্যন্ত ভিশনের পেছনে মানুষ ছুটবে।

তাই আগামী একমাসে ৩ কেজি ওজন কমাবো এটা হচ্ছে গোল। কিন্তু ভিশন হচ্ছে সর্বদা সুস্থ থাকা। ফলে ওজন টার্গেটের মধ্যে এলেও সর্বদা স্বাস্থ্যকর ও পরিমিত খাওয়ার অভ্যাস তৈরি হবে।

তাদের কথাবার্তা থেকে যেটা বুঝেছি সেটা হচ্ছে গোল, ভিশন ও অভ্যাস সবই গুরুত্বপূর্ণ। একেক বিষয় একেক রকম উপকারের জন্য।

শেষ করছি জেমস ক্লিয়ারের একটা কথা থেকে। তিনি বলছেন, মানুষ যদি প্রতিদিন শতকরা এক ভাগ উন্নতি করে তাহলে বছর শেষে তার ৩৭ গুণ উন্নতি হবে।

তাই আসুন, নিজের ভিশন ঠিক করি। সেটাকে ভেঙে ছোট ছোট টার্গেট সেট করি এবং দিনে দিনে কিছু ভালো অভ্যাস গড়ে তুলি।




আইভি স্যালাইন সংকটে বরিশাল

বরিশাল অফিস : সরবরাহ কম ও চাহিদা বেশি থাকায় বরিশাল নগরীতে আইভি স্যালাইন গত দুই মাস ধরে সংকট থাকলেও বর্তমানে চরম আকার ধারণ করেছে ।

ঔষধ ব্যবসায়ী আরিফুর রহমান সোহেল বলেন, বরিশালে বর্তমানে ডেঙ্গু রোগের প্রকোপ ও রোগী বেশি। এছাড়াও অস্ত্রপচার ছাড়াও অর্থপেডিক্স, গাইনী ও শিশু ওয়ার্ডের চিকিৎসাধীন রোগীদের জন্য আইভি স্যালাইন প্রয়োজন। প্রতিদিন অন্তত ৬/৭ হাজার ব্যাগ স্যালাইন প্রয়োজন হয়। কিন্তু ২/৩ হাজারের বেশি স্যালাইন সরবরাহ নেই। বড় বড় ফার্মেসী ছাড়াও স্যালাইন পাওয়া যায় না। ৮৫ থেকে ৯০ টাকা দামের স্যালাইন ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি করা হয়।

নিজাম নামে রোগীর এক স্বজন জানান, রবিবার সকালে নগরীর সদর রোডের এ প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত সকল ফার্মেসীতে ঘুরেও এনএস স্যালাইন পাইনি । শুধু ডেঙ্গু রোগীই নয়। হাসপাতালে কোন রোগী এলে সকলকে প্রথমে স্যালাইন দেয়া হয়। প্রতিদিন গড়ে শেবাচিম হাসপাতালে দেড় থেকে দুই হাজার রোগী থাকে। এসব রোগীদের প্রত্যেকদিন কম হলেও দুই থেকে তিনটি স্যালাইন প্রয়োজন। হাসপাতাল থেকে প্রতিদিন একটি করে দিলেও বাকী প্রয়োজনীয় স্যালাইন বাইর থেকে কিনতে হয়। কিনতে এসেই বিপাকে পড়তে হয় ।

এ বিষয়ে বরিশাল জেলা সিভিল সার্জন ডা. মারিয়া হাসান জানান, সরকারী হাসপাতালে স্যালাইনের কোন সংকট নেই। বাইরের সংকট থাকলে সেটা ঔষধ প্রশাসন ভালো বলতে পারবে।




ঘরে ঘরে জ্বর, কীভাবে সাবধান থাকবেন : চিকিৎসকদের পরামর্শ

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : একে তো অদ্ভুত আবহাওয়া। সকালে বৃষ্টি তো দুপুরে ভ্যাপসা গরম। তার উপর আবার ডেঙ্গু ম্যালেরিয়ার দাপট। ফলে প্রায় সব ঘরে কেউ না কেউ জ্বরে ভুগছে৷ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল একজন আক্রান্ত হলে গোটা পরিবারের সকলেই একে-একে জ্বরের কবলে পড়ছেন।

কিন্তু প্রশ্ন হল এই জ্বরটা আসলে কোন জ্বর,  সাধারণ মানুষতো বটেই যেন-তেন চিকিৎসকদেরও বুঝতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।  রক্ত পরীক্ষা ছাড়া উপায় থাকছে না। তাই তাঁদের পরামর্শ, প্যারাসিটামল ছাড়া জ্বরের জন্য অন্য কোনও ওষুধ খেয়ে বিপদ না-বাড়ানোই ভাল৷ প্যারাসিটামলে জ্বর না কমলে জলপট্টি, মাথা ধোয়া, গা মুছিয়ে দেওয়ার মতো চিরকালীন টোটকায় ভরসা রাখার পাশাপাশি অবিলম্বে ডাক্তার দেখানোর কথাও বলছেন তাঁরা।

তবু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তাঁদের অভিজ্ঞতাকে সম্বল করে কিছু বিষয় তুলে ধরেছেন। এগুলো পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো:

ফ্লু-র লক্ষণ: সর্দি-কাশি-জ্বর অথবা জ্বর-জ্বর ভাব, পেশিতে ব্যথা, সঙ্গে মাথাব্যথা বা মাথা ভারী থাকা
গলা খুশখুশ, নাক বন্ধ, নাক দিয়ে কাঁচা জল, চোখ জ্বালা, স্বাদহীনতা, সাধারণ জ্বরের স্থায়িত্ব বাড়ছে, তাপমাত্রা নামার প্রক্রিয়াও মন্থর। ১০৪ ডিগ্রি পর্যন্ত জ্বরও উঠে যাচ্ছে, প্যারাসিটামলেও ৯৯-এর নিচে নামছে না।

ডেঙ্গুর লক্ষণ: অন্তত ৩-৫ দিন টানা জ্বর থাকে, সহজে কমতে চায় না। মাথা ও চোখের চারপাশ-সহ শরীরে মারাত্মক ব্যথা (মূলত গাঁটে)। দুর্ববলতার পাশাপাশি ত্বকে র‍্যাশ, বমি, ডায়েরিয়া হতে পারে । সর্দি-কাশি-হাঁচি থাকে না। হেমারেজিক ডেঙ্গুতে মাড়ি ও নাক থেকে রক্তপাত। বমি, প্রস্রাব ও মলের সঙ্গেও রক্ত বেরোতে পারে। জ্বর আসার ৫ দিন পর পর্যন্ত এনএস-১ এলাইজা টেস্ট এবং ৫ দিন পেরিয়ে গেলে ডেঙ্গির আইজিএম পরীক্ষা করালে ধরা পড়ে ডেঙ্গু।

ম্যালেরিয়ার লক্ষণ: আচমকা কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে
মাথা ও গাঁটে ব্যথা, বমি, দুর্বলতার মতো উপসর্গও দেখা যায়। বাড়াবাড়ি হলে খিঁচুনিও হয়। ম্যালেরিয়ার ডুয়াল কিট (ভাইভ্যাক্স ও ফ্যালসিপেরাম) অ্যান্টিজেন পরীক্ষায় জ্বরের ২-৩ দিনের মাথাতেই সংক্রমণ চিহ্নিতকরণ সম্ভব।

চিকুনগুনিয়ার লক্ষণ: ২-৫ দিন জ্বর, দুর্বলতা, গা-বমি ভাব, কনজাংটিভাইটিস, স্বাদহীনতা। হাড়ে ও গাঁটে মারাত্মক যন্ত্রণা। ৪-৫ দিন পরে চিকুনগুনিয়ার আইজিএম অ্যান্টিবডি টেস্টে ধরা পড়ে।

টাইফয়েডের চিহ্ন: ৫-১৪ দিন ধুম জ্বর, জ্বরটা ওঠে ১০৩-১০৬ ডিগ্রি পর্যন্ত, নামে ধীরে, এবং তাপমাত্রা পাল্লা দিয়ে বাড়ে। পেটে ও মাথায় ব্যথা, পেটের গোলমাল, গা গুলানো ও বমি। জ্বরের অন্তত পাঁচ দিন পরে ‘ওয়াইডাল টেস্ট’ করলে ধরা পড়ে।

কী করণীয়: প্রচুর পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম। প্যারাসিটামল ছাড়া জ্বর বা ব্যথার অন্য কোনও ওষুধ নয়।চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বা অ্যান্টিভাইরাল (অ্যাসাইক্লোভির জাতীয়) ওষুধ নয়।

কী বর্জনীয়: অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রোফেনের মতো ওষুধ। অসুস্থতা উপেক্ষা করে কায়িক পরিশ্রম
বিড়ি সিগারেট ও তামাক জাতীয় নেশা, মদ্যপান বন্ধ রাখতেই হবে।




রক্তের এক নমুনা দিয়ে ৫০ জটিল রোগ নির্ণয়

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : এখন থেকে গতানুগতকি পরীক্ষার বাইরে প্রথমবারের মত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) রক্তের এক নমুনা দিয়ে জটিল ৫০টি রোগের পরীক্ষা করা যাবে। এ পরীক্ষার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ইনফ্লামেটোরি বায়োমার্কার কর্নারের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বহির্বিভাগ-২ এর বায়োকেমিস্ট্রি ও মলিকুলার বায়োলজি বিভাগে ভিসি অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ এর উদ্বোধন করেন। এর ফলে মাত্র ৫ এমএল রক্তের নমুনা ব্যবহার করে একসঙ্গে ৫০টি জটিল রোগের পরীক্ষার ফল পাওয়া যাবে। বাংলাদেশে প্রথমবারের মত এ পরীক্ষা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে যুক্ত হল।

ইনফ্লামেটোরি বায়োমার্কার কর্নারের মধ্যে রয়েছে Thrombosis Panel, Rheumatology Panel, Vasculitis Panel, Gastroenterology Panel. এর মাধ্যমে অনেক জটিল ও বিরল রোগ সনাক্তকরণ আরও অনেক সহজ হবে এবং হাজার হাজার রোগী উপকৃত হবে।




চা না কফি, কোনটি স্বাস্থ্যের জন্য বেশি ভালো?

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : চা ও কফি প্রায় সবারই পছন্দের পানীয়। সময় অসময়ে কেউ চা পান করেন, আবার কেউ কফিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। আর এই চা ও কফির মধ্যে বিশাল ব্যবধান রয়েছে। তবে প্রায়ই আড্ডা মহলে কিংবা মনের মাঝে প্রশ্ন জাগে—চা নাকি কফি, কোনটি বেশি স্বাস্থ্য উপকারী।

ব্যক্তিভেদে পছন্দ যেটাই হোক, কম-বেশি দুটোরই উপকারিতা রয়েছে। এ নিয়ে কলকাতার পুষ্টিবিদ কোয়েল পাল চৌধুরী ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন। আলোচনায় চা ও কফি পানের স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে জানিয়েছেন। এবার তাহলে চা ও কফির স্বাস্থ্য উপকারিতা জেনে নেয়া যাক।

কফি : কফি হচ্ছে ক্যাফেইনের ভাণ্ডার। এতে প্রচুর পরিমাণে ক্যাফেইন থাকে। যা কফির অ্যাকটিভ ইনগ্রেডিয়েন্ট। এই উপাদান স্বাস্থ্যের উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এছাড়াও কফির অনেক গুণাগুণ রয়েছে।

নিয়মিত কফি পানে হার্টের অসুখ, টাইপ ২ ডায়াবেটিস, গলস্টোন এবং পার্কিনসনের মতো জটিল অসুখ প্রতিরোধ হয়। এছাড়া মুড বুস্ট করতে দারুণ ভূমিকা রাখে কফি। স্ট্রেস বা দুশ্চিন্তা এড়াতেও এই পানীয় অবদান রাখে। নিয়মিত কফি পানে শরীর ও মন দুটোই চাঙা থাকে।

চায়ের বিকল্প নেই : চা ও কফি, কোনোটি কারও থেকে কম নয়। চায়েও অনেক গুণাগুণ রয়েছে। এতেও ক্যাফেইন থাকে। এছাড়া চায়ে উপকারী কিছু অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে। নিয়মিত চা পানে কার্ডিওভাস্কুলারসহ নানা সমস্যাকে হটিয়ে ফেলা যায়। আবার উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে ওজন কমানো এবং প্রাথমিক পর্যায়ের ক্যানসার প্রতিরোধে অবদান রাখে।

কফির মতোই অনেকটা মুড ভালো করার ক্ষমতা রয়েছে চায়ে। এ কারণেই চা পানের পর কাজে সহজেই মন বসে।