ডেঙ্গুতে ১৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ২০১৪

সোমবার (২৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ মো. জাহিদুল ইসলামের সই করা ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন মোট দুই লাখ ৫৭ হাজার ৬০ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার বাসিন্দা ৯৫ হাজার ৯৮৪ জন। আর ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ ৬১ হাজার ৭৬ জন।

এর আগে ২০২২ সালে ডেঙ্গুতে ২৮১ জন মারা যান। ওই বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে ডেঙ্গুতে ২৭ জনের মৃত্যু হয়। একই সঙ্গে আলোচ্য বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ৬২ হাজার ৩৮২ জন।

২০২০ সালে করোনা মহামারিকালে ডেঙ্গু সংক্রমণ তেমন একটা দেখা না গেলেও ২০২১ সালে সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হন ২৮ হাজার ৪২৯ জন। একই বছর দেশব্যাপী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১০৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

 




ডেঙ্গুতে নয়জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২০৫৬

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সারা দেশে আরও দুই হাজার ৫৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

রোববার (২২ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে দুই হাজার ৫৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

এর মধ্যে ঢাকাতে ৫শ’জন এবং সারা দেশে (ঢাকা সিটি ব্যতীত) এক হাজার ৫৫৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে মোট দুই হাজার ৪৮৪ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

এর মধ্যে ঢাকায় বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে ৬৫০ জন এবং সারা দেশের (ঢাকায় ব্যতীত) বিভিন্ন হাসপাতালে থেকে এক হাজার ৮৩৪ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।




বরিশালে ডেঙ্গুতে আরও ১ জনের মৃত্যু

বরিশাল অফিস: বরিশালে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোস্তাফিজুর রহমান (৫০) নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে নতুন করে আরও ২১৭ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। রোববার (২২ অক্টোবর) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

মোস্তাফিজুর রহমান জেলার নেছারাবাদ উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি গত ২১ অক্টোবর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে পিরোজপুর থেকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২২ অক্টোবর সকালে তার মৃত্যু হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বরিশালে ৮৪ জন, পটুয়াখালীতে ৪৪ জন, পিরোজপুরে ৫১ জন, ভোলায় ১২ জন, বরগুনায় ২০ জন আছেন ও ঝালকাঠিতে ৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। রোববার সকাল পর্যন্ত ছয় জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ৭২৯ ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি রয়েছেন।

ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত বরিশালের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ৩০ হাজার ৯২৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এরমধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৩০ হাজার ৫৯ জন। বিভাগে এখন পর্যন্ত ১৪০ জন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে বরিশালের দুই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ১০৬ জন, পটুয়াখালীর দুই হাসপাতালে সাতজন, ভোলা সদর হাসপাতালে নয়জন, বরগুনা সদর হাসপাতালে পাঁচজন, পিরোজপুর সদর হাসপাতালে ১২ জন ও ঝালকাঠি হাসপাতালে একজনের মৃত্যু হয়েছে।




বাউফলে কমিউনিটি ক্লিনিকের উদ্বোধন

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): জেলার বাউফল উপজেলার কাছিপাড়া ইউনিয়নের পাকডাল গ্রামে মোঃ জাহিদ হোসেন সরদার কমিউনিটি ক্লিনিকের উদ্বোধন করা হয়েছে।

শুক্রবার সকাল ৯ টায় খান বাড়ীর সামনে নবনির্মিত কমিউনিটি ক্লিনিকের উদ্বোধন করেন সাবেক চীফ হুইপ সংসদ সদস্য আ স ম ফিরোজ।

ক্লিনিক উদ্বোধন উপলক্ষে মতবিনিময় সভায় বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা পিকে সাহা এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ক্লিনিকের জমিদাতা মোঃ জাহিদ হোসেন সরদার, বাউফল উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন, বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোঃ আনিচুর রহমান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার মোঃ সাইফুল্লাহ, মহিলা আসনের উপজেলা  ভাইস চেয়ারম্যান মরিয়ম আক্তার নিশু তালুকদার, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ইউনিয়ন  সভাপতি  মোঃ রিয়াজ খানসহ অন্যান্যরা।

সাবেক চীফ হুইপ বলেন, এই কমিউনিটি ক্লিনিকের উদ্বোধনের ফলে বাউফলের সকল ক্ষেত্রে কমিউনিটি ক্লিনিক অগ্রণী ভূমিকা রাখবে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ২০৪১ সালের মধ্যেই আমরা বাংলাদেশকে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ হিসেবে গড়ে তুলব, ইনশাল্লাহ।’

কমিউনিটি ক্লিনিকের উদ্বোধনীয় অনুষ্ঠানের  উপস্থিত ও  সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান ‘কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে ইপিআই টিকা ও কোভিড ভ্যাকসিন প্রদানসহ সারাদেশের প্রান্তিক জনগণের স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা ও পুষ্টিসেবা প্রদানের জন্য বিনামূল্যে ৩০ ধরনের ঔষধ এবং স্বাস্থ্যসেবা সামগ্রী প্রদান করা হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমান অর্থবছরে ঔষধ ও স্বাস্থ্যসেবা সামগ্রী বাবদ বাৎসরিক সকল প্রকার সুবিধা ভোগ করবে সর্বস্তরের রোগীরা।

এই কমিউনিটি ক্লিনিকের উদ্বোধনের ফলে বাউফলের কাছিপাড়া ইউনিয়নের দরিদ্র রোগীরা  স্বল্প খরচে  উন্নত চিকিৎসা নিতে পারবেন।




ভূরিভোজ করলেও ওজন থাকবে নিয়ন্ত্রণে, কীভাবে জানুন

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : উৎসবের মাঝেও একটু নিয়ম মেনে খাওয়া-দাওয়া করলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। ভাবছেন কীভাবে? চলুন নিম্নে জেনে নেই-

১) পর্যাপ্ত পানি খাওয়া: দিনে কতখানি পানি খাচ্ছেন উৎসবের দিনগুলিতে তার হিসাব রাখা কঠিন। তবে ওজন বাগে রাখতে চাইলে পানি খাওয়ার ব্যাপারে কিন্তু বাড়তি নজর দিতেই হবে। দিনে অন্তত ১০ গ্লাস পানি খান।

শরীরে পর্যাপ্ত মাত্রায় পানি থাকলে খিদে কম পায়। তাই ভাজাভুজি, মিষ্টি খেতে ইচ্ছে করে না।

২) উৎসবের দিনগুলিতে জিমে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা শরীরচর্চা করার সময় হয় না। কিন্তু ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সারা দিনে মিনিট ১৫ কার্ডিয়ো করলেই হবে।

৩) অনেকেই রাতে শেষপাতে একটা মিষ্টি খেতে পছন্দ করেন। এটা একেবারেই ভুল। এভাবে মিষ্টি খাবেন না। এই সময় আমাদের বিপাকক্রিয়া খুব ধীর গতিতে হয়। তাই মিষ্টিতে থাকা চিনি খুব সহজে শরীরে মেদ হিসাবে জমে।

৫) উৎসবের মরসুমে নিমন্ত্রণ লেগেই থাকে। আর সেখানে গিয়েই একের পর এক লোভনীয় খাবার দেখে নিজেকে আটকে রাখা যায় না। চেষ্টা করুন কারও বাড়িতে যাওয়ার আগে এক বাটি স্যালাড বা স্যুপ খেয়ে যেতে। পেট ভরা থাকলে খুব বেশি ভুলভাল খাওয়ার ইচ্ছে করবে না।




বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পদের জন্য স্বজনপ্রীতির আশ্রয় নেননি সায়মা ওয়াজেদ

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের (এসইএআরও) আঞ্চলিক পরিচালক পদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদকে মনোনয়ন দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এসইএআরও সদস্যদেশগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত। এটি ডব্লিউএইচও’র ছয়টি আঞ্চলিক কার্যালয়ের মধ্যে একটি। তনি মনোনয়ন পেশ করেন গত ৪ সেপ্টেম্বর।

ডব্লিউএইচও’র এই পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কেননা কোটি কোটি মানুষের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত প্রশ্ন এতে জড়িত। সায়মা ওয়াজেদের পাশাপাশি পদের জন্য লড়ছেন নেপালের শম্ভু প্রসাদ আচার্য (৬৫)। জনস্বাস্থ্যের ওপর তার তিন দশকের বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে।

এই পদে নির্বাচন ঘিরে দেখা দিয়েছে কিছু অস্বাভাবিক প্রশ্নের। অনেকের দাবি সায়মা ওয়াজেদ হয়তো স্বজনপ্রীতির আশ্রয় নিচ্ছেন। কিন্তু তিনি এমনটা করেননি বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে নিক্কেই এশিয়া।

সায়মা ওয়াজেদ একজন লাইসেন্সপ্রাপ্ত মনোবিজ্ঞানী এবং মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক আইনজীবী। তিনি এ পর্যন্ত যথেষ্ট ভাল সমর্থন পেয়েছেন। তার পাশে দাঁড়িয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত চিকিৎসকদের অর্গানাইজেশনের প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট অমিত চক্রবর্তী।

অমিত চক্রবর্তী ভারতীয় গণমাধ্যমকে বলেন, সায়মার মনোনয়ন নিয়ে যারা কথা তুলছেন, তারা পক্ষপাতদুষ্ট। এর মধ্যে কোনও সারবত্তা নেই ও তারা খুব সচেতনভাবে ভুয়া খবর ছড়াতে চেষ্টা করছেন।’

অমিত সায়মা সম্পর্কে বলেন, ‘উনি এই পদের জন্য সেরা চয়েস। উনি যদি এই পদে আসেন তা হলে ডব্লিউএইচও আরও অনেক বেশি মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারবে।’

এই চিকিৎসক মানসিক স্বাস্থ্যের উপর জোর দিয়ে বলেন, ‘অতিমারীর পরে বিশ্বজুড়ে ৩০ কোটি মানুষ মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যায় ভুগছেন। সায়মা এই পদে এলে উনি এই বিষয়ে যথাযথ গুরুত্ব দিতে পারবেন।’

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ ১৯৯৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মনোবিজ্ঞানে স্নাতক এবং ২০০২ সালে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ২০০৪ সালে স্কুল সাইকোলজির ওপর বিশেষজ্ঞ ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।

২০১৩ সাল থেকে ডব্লিউএইচও’র মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ পরামর্শক হিসেবে কাজ করছেন তিনি। এর স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৪ সালে সংস্থাটি তাকে ‘ডব্লিউএইচও এক্সেলেন্স’ পুরস্কারে ভূষিত করে।




রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ুক প্রকৃতিগতভাবে

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : মৌসুমের সামান্য রদবদলেই হাঁচি-কাশি শুরু হয়ে যায়। সম্ভবত দুর্বল ইমিউনিটিই এর কারণ। অনেকেই ভাবেন, ভালো ইমিউনিটি জিনগত ব্যাপার। কিন্তু জিন ছাড়াও এমন অনেক ফ্যাক্টর রয়েছে, যেগুলো ইমিউনিটির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। স্ট্রেস, পুষ্টি, এক্সারসাইজ এবং মেডিটেশন এর মধ্যে অন্যতম। ইমিউনিটি আসলে শরীরের ডিফেন্স সিস্টেম, যা বিভিন্ন ধরনের বাহ্যিক টক্সিন, কেমিক্যালস, ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাস থেকে শরীরকে সুরক্ষা দেয়। তবে অসুস্থ হওয়া মানে এই নয়, আপনার লাইফস্টাইলে কোনো ত্রুটি রয়ে গেছে। চূড়ান্ত স্বাস্থ্যসচেতন মানুষও অসুস্থ হতে পারেন। তবে ঘন ঘন অসুস্থ হওয়া অপুষ্টি এবং দুর্বল ইমিউনিটির পরিচায়ক। ইমিউনিটি বাড়াতে তাই নজর দিন বিশেষ কিছু দিকে।

পুষ্টি হোক শরীরের অস্ত্র: আমাদের শরীরে যে ইমিউন বডিস রয়েছে, তারা মূলত প্রোটিন দিয়ে তৈরি। সুতরাং, ভালো ইমিউনিটির জন্য শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন থাকা জরুরি। ডেইরি প্রডাক্ট, লিন মিট, মাছ এবং ডাল প্রোটিনের অন্যতম উৎস। ডেইরি প্রডাক্টের মধ্যেও টক দই এবং ইয়োগার্ট ইমিউনিটি বুস্টার হিসেবে ভালো। এ ছাড়া প্ল্যান্ট ফুডসও ইমিউনিটি বাড়াতে সাহায্য করে। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, ক্যান্সার প্রতিরোধে নিরামিষাশীদের শরীরের শ্বেতরক্তকণিকা আমিষাশীদের চেয়ে বেশি কার্যকরী। নানা ধরনের অ্যান্টি-অক্সিডেন্টও এ ক্ষেত্রে জরুরি ভূমিকা পালন করে। ভিটামিন সি, ই, ক্যারোটিনয়েডস, জিঙ্ক, আয়রন, কপার এবং সেলেনিয়াম তার মধ্যে অন্যতম। ভিটামিন সি’র জন্য কাঁচালঙ্কা, পেয়ারা, টমেটো, খরমুজ, ভিটামিন ই’র জন্য চীনাবাদাম, ভেজিটেবল অয়েল, কাজু ইত্যাদি খেতে পারেন। এই দুই প্রকার ভিটামিনের সঙ্গে ক্যারোটিনয়েডস খেতে পারলে সবচেয়ে ভালো! তরমুজ, সবুজ শাকসবজি, টমেটো, আম ইত্যাদি শরীরে ন্যাচারাল কিলার সেল এবং টি-লিম্ফোসাইটের পরিমাণ বাড়িয়ে ইমিউনিটি আরও শক্তিশালী করে তোলে। এ ছাড়া পর্যাপ্ত পরিমাণে হুইট ব্র্যান, জোয়ার, বাজরা, শেলফিশ, বাদাম, বাদামের তেল খেলে সর্দি-কাশি থেকেও সুরক্ষা পাবেন। তবে অনেক সময়ই খাবারের গুণগত মানের জন্য শরীর পর্যাপ্ত পুষ্টি পায় না। তাই এর সঙ্গে কোনো মাল্টিভিটামিন সাপ্লিমেন্ট নিতে পারলে ভালো।

ন্যাচারাল ইমিউন বুস্টার: ‘সুপার ফুডস’ প্রতিদিন ডায়েটে রাখলে সুস্থ থাকাও সহজ হবে। আমাদের চারপাশে যেসব সুপার ফুডস রয়েছে, রসুন তার মধ্যে অন্যতম। এ ছাড়া মৌরি, হলুদ, আদা, লবঙ্গ এবং দারচিনিও ইনফেকশনের বিরুদ্ধে ম্যাজিকের মতো কাজ করে। ঘন ঘন চা-কফির অভ্যাস কমিয়ে গ্রিন টি বেছে নিতে পারেন। এতে থাকা ক্যাটেকিনসের অ্যান্টি-কারসিনোজেন হিসেবে যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। মনে রাখবেন, মজবুত ইমিউনিটি গড়ে তুলতে অনবরত শরীরের খেয়াল রাখা প্রয়োজন। আর সেখানে আপস করলে মাশুলটাও আপনাকেই গুনতে হবে।




যে ৭ লক্ষণে বুঝবেন ভিটামিন বি১২ এর অভাব

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : ভিটামিন বি১২ কোবালামিন নামেও পরিচিত। যেহেতু আমাদের শরীর নিজে ভিটামিন বি-১২ তৈরি করতে পারে না, তাই আমাদের এটি বিভিন্ন খাবারের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হয়। এই ভিটামিনের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলে নানা ধরনের শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। জেনে নিন কোন কোন লক্ষণে বুঝবেন ভিটামিন বি-১২ কমে গেছে।

১। ভিটামিন বি-১২ এর অভাবের সবচেয়ে সাধারণ এবং প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে ক্লান্তি এবং দুর্বলতা। এটি ঘটে কারণ এই ভিটামিন রক্তকণিকা উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা সারা শরীরে অক্সিজেন বহন করে। পর্যাপ্ত রক্তকণিকা ছাড়া টিস্যু এবং অঙ্গগুলো পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় না। ফলে ক্লান্ত এবং দুর্বল লাগে।

২। মস্তিষ্কসহ সুস্থ স্নায়ুতন্ত্র বজায় রাখার জন্য অপরিহার্য ভিটামিন বি-১২। এর মাত্রা কমে গেলে স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। মেজাজের ব্যাঘাত ঘটতে পারে যেমন হতাশা এবং বিরক্তি।

৩। শারীরিক অসাড়তা বিশেষ করে হাত ও পায়ে অসাড়তা ভিটামিন বি-১২ কমে যাওয়ার লক্ষণ। পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি নামে পরিচিত এই অবস্থাটি ঘটে কারণ বি-১২ এর ঘাটতি স্নায়ুকে ঘিরে থাকা একটি উপাদানকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ফলস্বরূপ স্নায়ুগুলো সঠিকভাবে সংকেত প্রেরণ করতে পারে না। যার ফল অসাড়তার অনুভূতি হয়। ধীরে ধীরে এই অবস্থা আরও গুরুতর হতে পারে যেমন পেশী দুর্বলতা, ভারসাম্য এবং সমন্বয়ের সাথে অসুবিধা।

৪। কিছু ক্ষেত্রে ভিটামিন বি-১২ এর অভাবে দৃষ্টিশক্তিতে সমস্যা হতে পারে। অপটিক নিউরোপ্যাথি এমন একটি অবস্থা যেখানে অপটিক নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা বা বিঘ্নিত হতে পারে, রঙ চিনতে অসুবিধা হতে পারে এবং গুরুতর ক্ষেত্রে দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হতে পারে।

৫। জিহ্বার প্রদাহ, জিহ্বা ফোলা, লাল হয়ে যাওয়া ভিটামিন বি-১২ এর অভাবজনিত লক্ষণ। এমনকি মুখের আলসারো হতে পারে এই ভিটামিনের অভাবে।

৬। ভিটামিন বি-১২ এর ঘাটতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এটি স্নায়বিক উপসর্গের দিকে ধাবিত হতে পারে। যেমন হাঁটাচলা এবং ভারসাম্যের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

৭। ত্বকের বিবর্ণ হয়ে পড়া ভিটামিন বি-১২ কম এ যাওয়ার লক্ষণ। এটি ঘটে কারণ পর্যাপ্ত ভিটামিন বি-১২ এর অনুপস্থিতিতে উৎপাদিত লোহিত রক্তকণিকা অস্বাভাবিকভাবে বড় এবং ভঙ্গুর হতে পারে। এতে সঞ্চালনে সুস্থ লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা হ্রাস পায়। এতে ত্বক ফ্যাকাশে বা হলুদ বর্ণের হয়ে যেতে পারে, যা ‘মেগালোব্লাস্টিক অ্যানিমিয়া’ নামে পরিচিত।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া




খালি পেটে যা খেলে উপকার মেলে

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : স্বাস্থ্য আমাদের খাওয়া দাওয়ার ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। শরীর সুস্থ রাখতে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস রাখা জরুরি। চাইলেই আমরা যখন-তখন যে কোনো কিছু খেতে পারি না। আর সকালে ঘুম থেকে উঠে কী খাব আর কী খাব না এই নিয়ে তৈরি হয় জটিলতা।

স্বাস্থ্যকর অভ্যাস আপনাকে ফিট এবং ভালো রাখতে সাহায্য করে। তাই আপনার প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় স্বাস্থ্যকর খাবার রাখার চেষ্টা করুন। এ ছাড়া একটি সঠিক ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তুলুন। এ ছাড়া আপনাকে চেষ্টা করতে হবে চাপ মুক্ত জীবনযাপন করার, সব সময় হাইড্রেটেড থাকা ও ৮ ঘণ্টা ঘুমানোর অভ্যাস করুন। সকাল শুরু করুন যেকোনো একটি কাজের মাধ্যমে। এতে আপনার দিন ভালো যাবে।

পুষ্টিবিদ রুজুতা দিওয়েকারের মতে, সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর আপনি এক গ্লাস স্বাভাবিক পানি পান করতে পারেন। তারপরে, আপনি কলা, বাদাম বা কালো কিশমিশ এই তিনটি জিনিসের মধ্যে একটি খেতে পারেন। কেননা, আপনি যদি এই খাবারগুলো খাওয়া নিশ্চিত করতে পারেন, তাহলে দিনের শেষে আপনার মিষ্টি খাবার খাওয়ার লোভ হবে না। এ ছাড়া আপনার বিরক্তিভাব কিংবা ক্ষুধাও পাবে না।

ফল
খাবার খাওয়ার পরে যদি আপনার হজমের সমস্যা, গ্যাস, ফোলাভাব, কম শক্তি বা চিনির ক্ষুধা থাকে, তাহলে একটি কলা দিয়ে আপনার দিন শুরু করুন। অথবা আপনি যেকোনো মৌসুমি ফল দিয়ে আপনার দিন শুরু করতে পারেন।
বাদাম
আপনার যদি ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স থাকে বা ডায়াবেটিস থাকে অথবা আপনি যদি মনে করেন যে আপনার চোখ সত্যিই দুর্বল হয়ে যাচ্ছে তাহলে আপনি ভেজানো বাদাম খেয়ে দিন শুরু করতে পারেন। পুষ্টিবিদের মতে, মিনিমাম চারটি বাদাম পানিতে সারারাত ভিজিয়ে রাখুন। সকালে খোসা ছাড়িয়ে বাদামগুলো খান। এতে উপকার মিলবে।
কালো কিশমিশ
আপনার যদি কম হিমোগ্লোবিন বা পিএমএস সমস্যা যেমন স্তনের কোমলতা, ফোলাভাব, অ্যাসিডিটি, ক্র্যাম্প, খিটখিটে বা মেজাজ পরিবর্তন নিয়ে সমস্যায় থাকেন তবে কালো কিশমিশ খান। কালো কিশমিশ সারারাত ভিজিয়ে রাখুন এবং পরের দিন সকালে সেগুলো খান।



বরিশালে ডেঙ্গুতে মারা গেলেন আরও দুজন, নতুন শনাক্ত ১৭১

শুক্রবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বরিশালের উপ-পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল জাগো নিউজকে এতথ্য নিশ্চিত করেন।

মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বিমালা (৭০) ও পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার আফছানা (২১)। তারা দুজনই বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত বরিশালের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ২৮ হাজার ৪৫৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এরমধ্যে সুস্থ হয়েছেন ২৭ হাজার ৩২৮ জন। আর মৃত্যু হয়েছে ১২৫ জনের। এর মধ্যে বরিশালের দুই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ৯১ জন, ভোলা সদর হাসপাতালে নয়, বরগুনা সদর হাসপাতালে পাঁচ, পিরোজপুর সদর হাসপাতালে ১২, পটুয়াখালীর দুই হাসপাতালে সাত ও ঝালকাঠি হাসপাতালে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশালে সর্বোচ্চ ৫৭, পটুয়াখালীতে ২৭, পিরোজপুরে ৩৮, ভোলায় ৪৩, বরগুনায় এক ও ঝালকাঠিতে পাঁচজন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ছয় জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে এক হাজার ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন।