খালেদা জিয়া কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ করে দিয়েছিল : শেখ হাসিনা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ২১ বছর পর আমরা সরকার গঠন করি, জনগণের সেবার সুযোগ পাই। তখন থেকে আমাদের প্রচেষ্টায় এদেশের মানুষকে, বিশেষ করে স্বাস্থ্য সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া, এটা জাতির পিতাই শুরু করেছিলেন।



ডেঙ্গুতে আরও ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৩৩৩

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :  বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত (একদিনে) সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। একইসঙ্গে এই সময়ে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ১৩৩৩ জন রোগী।



প্রথম চিকুনগুনিয়ার টিকার অনুমোদন দিল যুক্তরাষ্ট্র

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : মশাবাহিত রোগ চিকুনগুনিয়ার প্রথম টিকার অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের অন্যতম নিয়ন্ত্রক সংস্থা খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) বৃহস্পতিবার ইক্সচিক নামের এই টিকাটির অনুমোদন দিয়েছে।

তিন পর্যায়ের মেডিকেল ট্রায়ালে এই টিকার কার্যকারিতা পরীক্ষা করেছে ভালনেভা। সেসব ট্রায়ালে অংশ নিয়েছেন অন্তত ৩ হাজার ৫০০ স্বেচ্ছাসেবী।

ডেঙ্গুর মতো চিকুনগুনিয়াও একটি ভাইরাসজনিত রোগ এবং এটি মূলত টোগা ভাইরাস গোত্রের সদস্য। এই রোগের একমাত্র বাহক এডিস মশা। ডেঙ্গুর মতো প্রাণঘাতী অবশ্য নয় চিকুনগুনিয়া। যেখানে ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার প্রতি ১০০ জনে ৫ জন, সেখানে চিকুনগুনিয়ায় প্রতি এক হাজারে ১ জন মারা যান। তবে প্রাণঘাতী না হলেও এই রোগটি ব্যাপক শারীরিক যন্ত্রণা দিতে সক্ষম। খবর এএফপির।

‘চিকুনগুনিয়া’ নামটি এসেছে আফ্রিাকাভুক্ত দেশ তানজানিয়ার মাকুন্দি জনগোষ্ঠীর ভাষা থেকে। সম্প্রতি আফ্রিকা, ভারত, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার এবং এশিয়ার মৌসুমি জলবায়ুর দেশগুলোর পাশাপাশি ইউরোপ ও আমেরিকাতেও রোগটির উপস্থিতি বাড়ছে।

বাংলাদেশে চিকুনগুনিয়া প্রথম শনাক্ত হয় ২০০৮ সালে, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে। ২০১১ সালে ঢাকার দোহার উপজেলাতেও এই রোগ শনাক্ত হয়েছে।




দশমিনায় ডেঙ্গুতে মা-মেয়ের মৃত্যু

মো: আল-আমিন, পটুয়াখালী: ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় মৃত্যু হয়েছে মা ও মেয়ের। বুধবার বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মেয়ে সাদিয়া বেগম (১২) ও এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মা সালমা বেগমের (৪০) মৃত্যু হয়।

সালমা বেগম দশমিনা উপজেলার বহরমপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের নেহালগঞ্জ গ্রামের দিনমজুর সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী আর সাদিয়া বেগম তাদের মেয়ে।

দিনমজুর সিরাজুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গু থেকে আমার স্ত্রী ও ১২ বছরের মেয়েকে বাঁচাতে পারলাম না। আমি ছিলাম ঢাকায়। কয়েক দিন ধরেই আমার স্ত্রী বলছিল তার শরীর অনেক খারাপ, গায়ে জ্বর। এর মাঝে আমার মেয়েটাও অসুস্থ হয়। আমার মেয়েকে নাপা ট্যাবলেট খাওয়ানো হয়েছিল। কিন্তু তারপরও সুস্থ না হলে প্রাইভেটভাবে ডাক্তার দেখানো হয়। তারা দশমিনা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হতে বলে। সেখানে ভর্তির পর স্বাস্থ্যের উন্নতি না হলে বরিশাল শেরে-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আমার স্ত্রী ও মেয়ে দুজনই চিকিৎসাধীন ছিল। মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে আমার স্ত্রী মারা যায় এরপর বুধবার মেয়েও মারা যায়।

তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার স্ত্রীর মরদেহ বাড়িতে এনে ভোর ৪টা দিকে শুনি হাসপাতালে আমার মেয়েটাও মারা গেছে। তারপর তাদের এক সঙ্গে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। আমি আল্লাহর কাছে বলি এরকম যে কারো সঙ্গে না হয়।

বহরমপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জলিল মল্লিক বলেন, কয়েকদিন ধরে অসুস্থ ও জ্বর থাকায় স্থানীয়ভাবে ডাক্তার দেখিয়েছে, তারপর বেশি আক্রান্ত হলে দশমিনা উপজেলা কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তারা বরিশালে শেরে-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সেখানেই মা-মেয়ের মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে দশমিনা হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এই রোগীরা যখন আমাদের এখানে ভর্তি ছিল তখনই বেশি আক্রান্ত ছিল। গ্রামের মানুষ তো সচেতন কম ছিল। তারা স্থানীয়ভাবে জ্বরের চিকিৎসা চালিয়েছে। আমাদের কাছে যখন এসেছে তখন অবস্থা ভালো ছিল না। এজন্য আমরা বরিশালে রেফার করেছি। আমরা শুনেছি তারা দুজনেই মারা গেছেন তারপরও আমরা খোঁজ খবর নিচ্ছি।




রোগীর চেয়ে দালাল বেশি : গৌরনদী উপজেলা হাসপাতাল

বরিশাল অফিস ল :  প্রতিনিয়ত সরকারি হাসপাতালে আগত রোগীর চেয়ে নামসর্বস্ত্র বিভিন্ন প্যাথলজির দালালের সংখ্যা বেশি হওয়ায় তাদের উৎপাতে চিকিৎসক থেকে শুরু করে সাধারণ রোগীদের পড়তে হচ্ছে চরম বিপাকে। পাশাপাশি রোগীদের জন্য চিকিৎসকের লিখে দেওয়া ব্যবস্থাপত্র বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানীর বিক্রয় প্রতিনিধিরা টেনে নিয়ে মোবাইল ক্যামেরার মাধ্যমে ছবি তোলার ঘটনা প্রকাশ্যে হলেও বিষয়গুলো দেখার যেন কেউ নেই। ঘটনাটি জেলার উত্তর জনপদের গুরুত্বপূর্ণ গৌরনদী উপজেলা হাসপাতালের।

হাসপাতালের নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ব্যাঙের ছাতার মতো হাসপাতালের সামনে গড়ে ওঠা নামসর্বস্ত্র অসংখ্য প্যাথলজিতে বর্তমানে ১৫ জন নারী ও প্রায় অর্ধশতাধিক পুরুষ দালাল কাজ করছে। তারা হাসপাতালের মধ্যকার চিকিৎসকদের রুমের মধ্যে সর্বদা ঘুর ঘুর করতে থাকেন। রোগী এসে তাদের সমস্যার কথা বলতে না বলতেই ওইসব দালালরা উল্টো চিকিৎসকদের পরামর্শ দিয়ে থাকেন বিভিন্ন চেস্ট করানোর জন্য। সূত্রে আরও জানা গেছে, ওইসব দালালরা স্থানীয় প্রভাবশালী হওয়া চিকিৎসকরা নাজেহাল হওয়ার ভয়ে তাদের (দালাল) কথা অনুযায়ী রোগীদের টেস্ট করতে বলেন। ফলে শুরুতেই রোগীরা ওইসব দালালদের কারণে নামসর্বস্ত্র প্যাথলজিতে গিয়ে প্রতারনার স্বীকার হয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, নোংরা ও দুর্গন্ধের কারণে গৌরনদী উপজেলা হাসপাতাল এখন নিজেই রোগী হয়েছে। দুর্গন্ধমুক্ত হাসপাতালের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কোন নজর নেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের অসংখ্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অভিযোগ করেন, হাসপাতালের কর্মচারী, পথ্য সরবরাহকারীর কাছে পার্সেন্টিজ দাবী, টিকিট বিক্রির অতিরিক্ত টাকা আত্মসাতসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় হাসপাতালের কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই এ হাসপাতাল থেকে অন্যত্র বদলী হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে ধর্না দিচ্ছেন।

সূত্রগুলো আরও জানিয়েছেন, বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মোঃ শওকত আলী গত ৩১ অক্টোবর সুশাসন প্রতিষ্ঠার নিমিত্ত অংশীজনের অংশগ্রহনে গৌরনদীতে দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক সভা করেছেন। ওই সভায় অসংখ্য ভূক্তভোগীরা গৌরনদী উপজেলা হাসপাতালের করুন অবস্থাসহ উল্লেখিত বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে তুলে ধরেন। পরবর্তীতে ওইসভায় বিভাগীয় কমিশনার স্বাস্থ্য খাতে গৌরনদী উপজেলা হাসপাতালের করুন দশার কথাশুনে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু আব্দুল্লাহ খানকে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করেন।
তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মনিরুজ্জামান বলেন, একটি মহল আমার কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করতে না পেরে মিথ্যে অপপ্রচার করছে। একইভাবে মেহেন্দীগঞ্জে থাকাকালীন সময়েও আমার বিরুদ্ধে একটি মহল অভিযোগ তুলেছিলো। যা পরবর্তীতে মিথ্যে প্রমানিত হয়েছে। বরিশালের সিভিল সার্জন ডাঃ মারিয়া হাসান বলেন, বিষয়গুলো নিয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের একাধিক কর্মচারীরা অভিযোগ করে বলেন, কর্মচারীদের বিভিন্ন বিলে পূর্বের কর্মকর্তাদের কোন পার্সেন্টিজ দেওয়া না লাগলেও ডাঃ মনিরুজ্জামান হাসপাতালে যোগদান করার পর থেকেই ৩০ থেকে ৪০ পার্সেন্ট পর্যন্ত দাবী করে আসছেন। বিল বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয়ে অনেক কর্মচারী তার (মনিরুজ্জামান) বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেননা। হাসপাতালের এক স্বাস্থ্য সহকারী অভিযোগ করে বলেন, ডাঃ মনিরুজ্জামান তাদের কাছ থেকে বিলের ২০% আদায় করে নিচ্ছেন। হাসপাতালের প্রধান সহকারী রিয়াজুল ইসলামের যোগসাজসে পার্সেন্টিজ আদায় করা হয় বলেও জানিয়েছেন কয়েকজন কর্মচারী। তারা অভিযোগ করে বলেন, আমরা চাকরি করে সাধারণভাবে জীবনযাপন করলেও হাসপাতালের প্রধান সহকারী রিয়াজুল ইসলাম আশোকাঠী এলাকায় জমি ক্রয়ে করে বিলাশবহুল ভবন নির্মান করে বসবাস করে আসছেন। যা চাকরির বেতনের টাকা দিয়ে কোনভাবেই সম্ভব নয়। তবে যোগসাজসে পার্সেন্টিজ আদায়ের বিষয়টি অস্বীকার করে হাসপাতালের প্রধান সহকারী রিয়াজুল ইসলাম বলেন, এ অভিযোগের কোন সত্যতা নেই। তিনি আরও বলেন, প্রায় ২০ বছর পূর্বে জমির দাম যখন কম ছিলো তখন আমি জমি ক্রয় করেছি এবং লোন নিয়ে ভবন নির্মান করেছি।
ঠিকাদারের কাছে পার্সেন্টিজ দাবী \ হাসপাতালের পথ্য সরবরাহকারী আহাদ মিয়া রাসেল অভিযোগ করে বলেন, ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের জন্য ১২৫ টাকার বিপরীতে ৫০ টাকা বৃদ্ধি করে রোগি প্রতি ১৭৫ ধার্য করে ২০২২ সালের ১০ নভেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। সরকারি সেই প্রজ্ঞাপনকে অগ্রাহ্য করে আটমাস পর অর্থাৎ ২০২৩ সালের জুন মাসে সরকারি প্রজ্ঞাপন বাস্তবায়ন করে ডাঃ মনিরুজ্জামান। এতে রোগীরা যেমন সরকারি সুবিধা থেকে বি ত হয়েছে। তেমনি তিনিও (ঠিকাদার) আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

অভিযোগ করে তিনি আরও বলেন, পূর্বে কোন কর্মকর্তাকে কাজের বিনিমিয়ে পার্সেন্টিজ দেওয়া না লাগলেও বর্তমান স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মনিরুজ্জামান তার (রাসেল) কাছে বিলের ১০% দাবী করে আসছেন। তিনি কোন পার্সেন্টিজ দিবেনা বলে জানিয়ে দিলে তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছে মনিরুজ্জামান।
তিন টাকার টিকিট পাঁচ টাকায় বিক্রি \ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বর্হিবিভাগে দীর্ঘদিন থেকে টিকিট বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বর্হিবিভাগে ডাক্তার দেখাতে রোগীপ্রতি টিকিটের মূল্য তিন টাকা নির্ধারিত হলেও এ হাসপাতালে আদায় করা হচ্ছে পাঁচ টাকা করে। হাসপাতালের একটি সূত্রের দাবী, সরকারি খাতে রোগীপ্রতি তিন টাকা করে জমা দেওয়া হলেও রোগীপ্রতি অতিরিক্ত নেওয়া দুই টাকা ডাঃ মনিরুজ্জামানের পকেটে ঢুকছে। তবে টিকিট ক্লার্ক জাবেদ হোসেন জানিয়েছেন, তিন টাকা করেই রোগীদের কাছ থেকে টিকিটের মূল্যে নেয়া হয়। অনেক সময় ক্যাশে কিংবা রোগীদের কাছে খুচরা টাকা না থাকায় রোগীরা পাঁচ টাকা দিয়ে যায়। এক্ষেত্রে কারো কাছ থেকে জোর করে আদায় করা হচ্ছেনা।
২৩ লাখ টাকায় নলকূপ স্থাপন \ দীর্ঘ ২০ বছর ধরে লবনাক্ত পানি ব্যবহার করতে হচ্ছে গৌরনদী উপজেলা হাসপাতালের চিকিৎসক ও রোগীদের। সেই সমস্যা সমাধানে অতিসম্প্রতি ২৩ লাখ টাকা ব্যয়ে রহস্যজনকভাবে পূর্বের পাম্পের মাত্র ১০ ফিট দূরত্বে স্থাপন করা হয়েছে নতুন সাবমারসিবল পাম্প। কিন্তু সেই পাম্প দিয়েও উঠছে লবনাক্ত পানি। প্রশ্ন উঠেছে সরকারি অর্থ আত্মসাত করতেই পূর্বের পাম্পের পাশে স্থাপন করা হয়েছে নতুন সাবমারসিবল পাম্প।




ডেঙ্গুতে আরও ৭ জনের মৃত্যু 

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ১৯০৩ জন। নতুন শনাক্তদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৮৪ জন, আর ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৫১৯ জন। একইসঙ্গে এই সময়ে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে আরও ৭ জনের।



বরিশালে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা সপ্তাহের উদ্বোধন

বরিশাল অফিস : নিজ আঙিনা পরিস্কার রাখি সবাই মিলে সুস্থ থাকি এই স্লোগান নিয়ে আজ ( ২৯ অক্টোবর) রবিবার সকালে বরিশাল জেলা প্রশাসন আয়োজনে স্থানীয় সরকার বিভাগের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বরিশাল জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম। বরিশাল স্থানীয় সরকার উপপরিচালক গৌতম বাড়ৈ সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন বরিশাল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ শাহজাহান হোসেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরিশাল সদর মনিরুজ্জামান, ইউনিসেফ বরিশাল প্রতিনিধি ফোরকান আহাম্মেদসহ অন্যান্য অতিথিরা।

শুরুতে ডেঙ্গু প্রতিরোধ পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়।
পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গনে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিয়ে র‌্যালি করা হয়।




স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পটুয়াখালীর শিশুরা – মানব দেহে বাড়ছে সীসার পরিমান

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): জেলায় মানব দেহে দিন দিন বাড়ছে সীসার পরিমান। বিশেষ করে শিশুদের দেহে পাওয়া যাচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত সীসার উপস্থিতি ।

আন্তজাতিক দাতা সংস্থা ইউনিসেফ এর গবেষণায় দেখা যায় জেলার  ৪৬ শতাংশ শিশুর রক্তে মাত্রাতিরিক্ত বিষাক্ত সীসার উপস্থিতি রয়েছে।

পরিবেশ বিপর্যয় এর পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি খাবার মানব দেহে সীসা বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ বলে জানান জেলার সিভিল সার্জন।

তিনি আরো বলেন, সঠিক সময়ে ব্যবস্থা না নিলে ক্ষতিগ্রস্থ হয় রক্তনালী। আমাদের খাদ্য দ্রবের সাথে সীসা মেশানো হয়, বাচ্চাদের তৈরি করা খাবারে সীসার উপস্থিতি আছে, এর ফলে স্মৃতি শক্তি কমে যায়, রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

ইউনিসেফ এর গবেষণায় দুই থেকে চার বছর বয়সের শিশুদের দেহে শতভাগ সীসার উপস্থিতি রয়েছে।

বরিশাল ইউনিসেফ এর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আহসানুল ইসলাম জানান, পটুয়াখালীর ৪৬ শতাংশ শিশুদের রক্তে মাত্রাতিরিক্ত সীসার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। যার ভিতর ৬৫ শতাংশ রয়েছে অতিরিক্ত উচ্চঝুঁকিতে।

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক গাইনিকোলজিস্ট ডাক্তার জাকিয়া সুলতানা বলেন, ‘সীসার নীরব বিষক্রিয়া শিশুদের স্বাস্থ্য ও বিকাশের ওপর মারাত্মক ও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলছে। সীসা গর্ভাবস্থার জন্য একদমই নিরাপদ নয়। এটি গর্ভের ভ্রূণকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। গর্ভকালীন উচ্চ রক্তচাপ, গর্ভপাত এবং মৃত শিশুর জন্মদানের মতো ঘটনা ঘটান সীসা।

পটুয়াখালীর সিভির সার্জন ডা. এস এম কবির হাসান বলেন, মানব দেহে সীসার পরিমান প্রতিদিনই বাড়ছে। বিশেষ করে অতিরিক্ত হারে শিশুদের দেহে। সীসার উৎস হলো – বাচ্চাদের খেলনা, ব্যাটারির অ্যাসিড, রং, হলুদ ইত্যাদি। সীসার পরিমান কমাতে আমরা একাধিক কর্মশালার আয়োজন করতেছি। কিন্তু এটি প্রতিরোধে আমাদের সকলকে এক হয়ে কাজ করতে হবে।




স্ট্রোকের রোগীর প্রথম চার ঘন্টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : দেশে যেসব রোগে মানুষ মারা যাচ্ছে তার তৃতীয় কারণ হচ্ছে স্ট্রোক।

স্ট্রোক হলো মস্তিষ্কে হঠাৎ রক্ত সরবরাহে বাধা সৃষ্টি হওয়া। রোগটির মূল কারণ মানুষের অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন। যে কারণে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বেই তরুণদের মধ্যে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ছে। অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপও ৫০ ভাগ স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।

পাশাপাশি অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, ধূমপান, নিয়মিত মদ্যপান, কায়িক পরিশ্রম না করা, ফাস্টফুড বা জাংক ফুড গ্রহণও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

এমন বাস্তবতায় আজ দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব স্ট্রোক দিবস-২০২৩। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘টুগেদার উই আর, গ্রেটার দেন স্ট্রোক’ অর্থাৎ ‘আমাদের ঐক্য স্ট্রোকের চেয়েও প্রবল’।

দিবসটি উপলক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসার্জারি বিভাগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া নিউরোসার্জারি সোসাইটি অব বাংলাদেশের উদ্যোগে রাজধানী, বিভাগ ও জেলা পর্যায়ের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে রোগটি সম্পর্কে সচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হবে।

নিউরোসার্জারি বিশেষজ্ঞরা বলেন, দেশে অসংক্রামক রোগে মৃত্যুর তৃতীয় কারণ স্ট্রোক। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ এর লক্ষণ বুঝতে না পারার কারণে রোগীকে হাসপাতালে নিতে বিলম্ব করেন। অথচ স্ট্রোকের রোগীর জন্য প্রথম চার ঘণ্টা গোল্ডেন আওয়ার বা অতি গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে হাসপাতালে নিতে পারলে, শুধু ওষুধ দিয়েই রোগী একদিন পরেই সুস্থ শরীরে হেঁটে বাড়ি ফিরতে পারে। কিন্তু অধিকাংশ সময় চিকিৎসকের কাছে আনতে দেরি হয় বলে ক্ষতি বেশি হয়।




হঠাৎ রক্তচাপ কমে গেলে দ্রুত কী করবেন?

যে কোনো ব্যক্তির স্বাভাবিক রক্তচাপ (১২০/৮০এমএম এইচজি) হওয়া উচিত। তবে যদি কারণে রক্তচাপ ৯০/৬০ এমএম এইচজি এর নিচে নেমে যায় তাকে নিম্ন রক্তচাপ বা হাইপোটেনশন বলা হয়।

নিম্ন রক্তচাপ বা লো প্রেশারের লক্ষণ কী কী?

রক্তচাপ কম থাকলে অনেক সমস্যা হতে পারে। রক্তচাপ হঠাৎ কমে যাওয়ার কারণে অস্পষ্ট দৃষ্টি, ক্লান্তি, দুর্বলতা, অস্থিরতা, বিভ্রান্তি, মনোযোগ দিতে অসুবিধা, বমি বমি ভাবের মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

লো প্রেশারের চিকিৎসা কী?

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের অনেক উপায় আছে, যেগুলো আপনি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করে দেখতে পারেন। এ বিষয়ে আয়ুর্বেদ ডা. দীক্ষা ভাবসার নিম্ন রক্তচাপের জন্য সস্তা ও কার্যকরী প্রতিকার সম্পর্কে জানিয়েছেন তার ইনস্টাগ্রামে-

হিমালয় লবণ

এই ডাক্তারের মতে, এক গ্লাস সাধারণ পানিতে আধা চা চামচ হিমালয় লবণ (২.৪ গ্রাম) মিশিয়ে পান করলে দ্রুত নিম্ন রক্তচাপ থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

হিমালয় রক সল্ট পটাশিয়ামের একটি বড় উৎস। এই কারণেই এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। আপনার আশপাশে কারো রক্তচাপ যদি হঠাৎ কমে যায়, তাহলে এই রেসিপি তাৎক্ষণিক উপশম দিতে পারে।

একে হিমালয় বা গোলাপি লবণও বলা হয়। এটি নোনতা ও স্বাদে সামান্য মিষ্টি, প্রভাবে ঠান্ডা ও হজমে হালকা। এটি চর্মরোগের জন্যও কার্যকরী উপাদান হতে পারে।

চিকিত্সকের মতে, নোনতা স্বাদের কারণে, হিমালয় লবণ বাতাসের ভারসাম্য বজায় রাখে ও কফ বের করে দিয়ে বুকের ভিড় দূর করতে সাহায্য করে। কফ থেকেও মুক্তি দেয় এই লবণ।

এই লবণ মেশানো পানি পান করলে শরীরের টক্সিন বের হয়ে যায় ও শরীরকে হাইড্রেট করে। পাশাপাশি হারিয়ে যেতে পারে এমন খনিজগুলো পূরণ করতে সহায়তা করে।

সূত্র: প্রেসওয়্যার ১৮