৫ লক্ষণ: বুঝিয়ে দেবে ত্বকের আর্দ্রতা কমছে কি না

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  বিভিন্ন কারণে ত্বক নিজস্ব আর্দ্রতা হারাতে থাকে। কোন লক্ষণ দেখে তা বুঝবেন?

পর্যাপ্ত আর্দ্রতার অভাবে ত্বকে অল্প বয়সেই চলে আসছে বলিরেখা।

অনেকেই ধারণা, মরসুম ভেদে ত্বকের সমস্যার পার্থক্য দেখা যায়। ত্বক বিশেষজ্ঞরা অবশ্য এর সঙ্গে একমত নন। ত্বকে যদি কোনও সমস্যা থেকে থাকে, তা সব সময়েই থাকে। কোনও কোনও মরসুমে তা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। এই যেমন ত্বকের আর্দ্রতা হ্রাস পাওয়া। গ্রীষ্মে এই সমস্যা বেশি দেখা গেলেও, বর্ষাতেও কিন্তু শুকিয়ে যেতে পারে ত্বক। সূর্যের ক্ষতিকর অতি বেগুনি রশ্মি ত্বকের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। ত্বক আর্দ্রতা হারাতে শুরু করে। তা ছাড়া, এখন অফিস যাওয়া-আসাও শুরু হয়েছে। ফলে দীর্ঘ ক্ষণ বাতানুকূল পরিবেশে কাটাতে হয়। পর্যাপ্ত আর্দ্রতার অভাবে ত্বকে অল্প বয়সেই চলে আসছে বলিরেখা।

কী ভাবে বুঝবেন ত্বক আর্দ্রতা হারাচ্ছে?

১) ত্বকে র‌্যাশ, চুলকানি, ব্রণ হওয়া।

২) ত্বক অতিমাত্রায় স্পর্শকাতর হয়ে যাওয়া। ত্বকে লালচে ভাব, মেচেতার উপদ্রব।

৩) বলিরেখা, চোখের তলায় কালি পড়ে যাওয়া।

৪) ত্বকের ঔজ্জ্বল্য হ্রাস পাওয়া। ত্বক ক্রমশ নিস্তেজ হয়ে পড়া।

৫) আর্দ্রতাহীন ত্বক অতিমাত্রায় শুষ্ক হয়ে পড়ে। শুষ্ক ত্বকে নানা রকম লালচে দাগ ছোপ আসা।




শীতকালে ফুসফুস চাঙ্গা রাখতে ভরসা রাখবেন হেঁশেলের কোন মশলায়?

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  শীত পড়তেই অনেকের হাঁপানির সমস্যা বেড়ে যায়। হাঁপানি কষ্ট থেকে রেহাই পেতে হেঁশেলের একটি মশলায় ভরসা রাখতে পারেন। জেনে নিন কোন মশলা হাঁপানির দাওয়াই হিসাবে কাজ করে।

ইলিশ মাছের মাথা দিয়ে কচুশাক হোক কিংবা পাতলা মুসুর ডাল, কালোজিরে না পড়লে সেই সব পদের স্বাদ মোটেই ভাল হয় না। তবে কেবল রান্নার স্বাদ বৃদ্ধি করতেই নয়, কালোজিরের ঔষধি গুণও অনেক। সর্দি হলে কালোজিরে হাতের তালুতে ঘষে নিয়ে গন্ধ শুঁকলেই বন্ধ নাক একেবার খুলে যায়। শুধু তা-ই নয়, ক্রনিক অসুখ দূর করতেও বেশ উপকারী হেঁশেলের এই মশলা

১) কালোজিরে ভেজানো জল উচ্চ রক্তচাপের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা নিঃসন্দেহে ভরসা রাখতে পারেন কালোজিরের উপর। এক কাপ জলে আধ চামচ মতো কালোজিরে ভিজিয়ে রেখে দিন। পরের দিন সকালে উঠে জল ছেঁকে খেয়ে নিন। সপ্তাহে তিন-চার দিন খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

২) ওজন ঝরাতে হিমশিম খাচ্ছেন? কালোজিরের গুণেই ঝরবে মেদ। অনেকেই ওজন ঝরাতে চিয়াবীজ দিয়ে ডিটক্স পানীয় বানিয়ে খান। চিয়া বীজের মতো কালোজিরেও বেশ কার্যকর। শরীরের বাড়তি মেদ ঝরিয়ে চাঙ্গা রাখতে সাহায্য করে কালোজিরে

৩) শীতকালে পার্টি, বিয়েবাড়ি, পিকনিক লেগেই থাকে। তাই বছরের এই সময়ে বাইরে খাওয়াটা বেশি হয়। ফলে বদহজম, গ্যাস, পেটের সমস্যা লেগেই থাকে। নিয়মিত কালোজিরে খেলে কিন্তু পেটের সমস্যা থেকে রেহাই পেতে পারেন।

৪) শীতকালে ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। এই সময়ে হাঁপানির সমস্যা ঠেকাতে, ফুসফুস চাঙ্গা রাখতেও কালোজিরে বেশ উপকারী। তাই শীতকালে কালোজিরে ভেজানো জল খেতে পারেন কিংবা কালোজিরে গন্ধ শুকলেও লাভ হবে।

৫) এ ছাড়াও স্মৃতিশক্তি উন্নত করতে, হৃদ্‌রোগজনিত সমস্যা কমাতে, আথ্রাইটিসের ব্যথা কমাতেও কালোজিরে তেল বেশ উপকারী। কালোজিরেতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট পেশির নমনীয়তা বজায় রাখে। ত্বক ভাল রাখতেও কালোজিরে বেশ উপকারী।




মায়ের সঙ্গে অভিমান করে কিশোরীর আত্মহত্যা

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): জেলার গলাচিপায় তেরো বছরের এক কিশোরী মায়ের সঙ্গে অভিমান করে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় গোলখালী ইউনিয়নের দুলাল সিকদারের বাড়িতে ঘটনাটি ঘটেছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, লামিয়া বাবা দুলাল সিকদার ও মা লাইজু বেগমের সঙ্গে ঢাকায় থাকতো। ঘটনার ৪ দিন আগে লামিয়ার বাবা-মা তাকে দাদা-দাদির কাছে রেখে আবার ঢাকায় চলে যায়। ঘটনার দিন সকালে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তার মায়ের সঙ্গে মান-অভিমান হয়। পরে বিকেল ৩টার দিকে লামিয়ার দাদা ও দাদি ধান কাটার কাজে বাহিরে যায়। বিকেল ৫টায় ফিরে তার দাদা ও দাদি ঘরের দরজা খোলা দেখতে পায়। ঘরে প্রবেশ করে লামিয়াকে ঝুলন্ত দেখতে পেয়ে ডাক-চিৎকার দিলে স্থানীয় লোকজন এসে উপস্থিত হয়। পরবর্তীতে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ থেকে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মায়ের সঙ্গে অভিমান করে আত্মহত্যা করেছে।

লামিয়ার দাদা হালিম সিকদার (৫৬) বলেন, ‘আমি ও আমার স্ত্রী ধান কাটতে যাই। ধান কাটা শেষে বাড়িতে এসে দেখি লামিয়া আড়ার সঙ্গে ওড়নার পেঁচানো অবস্থায় আছে। আমার স্ত্রী দ্রুত লামিয়াকে নিচে নামিয়ে আনে এবং পুলিশকে খবর দেই।

এ বিষয়ে গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফেরদৌস আলম খান বলেন, এ ঘটনায় গলাচিপা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।




শীতে ভুট্টা কেন খাবেন

চন্দ্রদীপ ডেস্ক: বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় শস্যগুলির মধ্যে একটি হল ভুট্টা। বিভিন্ন ধরনের ভুট্টা পাওয়া যায়। এটি খেতে যেমন সুস্বাদু তেমনি পুষ্টিগুণেও ভরপুর। আজকাল প্রায় সারা বছরই ভুট্টা পাওয়া যায়। তবে শীতকালে ভুট্টা খাওয়ার মজাই আলাদা। বিশেষ করে কয়লার আগুনে শেঁকা ভুট্টা খেতে বেশ লাগে।

হজমে উপকারী: ভুট্টাতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে যা হজমের জন্য অত্যান্ত উপকারী। এটি পরিপাকতন্ত্রের জন্য উপকারী। যাদের কোষ্ঠ্যকাঠিন্য রয়েছে তাদের জন্য ভুট্টা একটি উপকারী খাবার। পেটের সমস্যা সমাধানেও এটি উপকারী।

হৃৎপিণ্ডের জন্য উপকারী: ভুট্টা হৃৎপিণ্ডের জন্য উপকারী। এটি হৃৎপিণ্ডকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে। ভুট্টায় থাকা দ্রবণীয় ফাইবার কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ: রক্তে যদি শর্করার পরিমাণ বেশি থাকে তাহলে তা কমানোর জন্য ভুট্টা খুবই উপকারী। টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ভুট্টা খুবই উপকারী বলেও দাবি করেছেন গবেষকরা। ফাইবার, কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন এবং ভিটামিন সমৃদ্ধ ভুট্টা ডায়াবেটিসের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।

ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়: ভুট্টায় উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোষকে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে সাহায্য করে। এই প্রক্রিয়া ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখে। ভুট্টায় ক্যারোটিনয়েডও রয়েছে, যার ক্যান্সার প্রতিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

চোখের জন্য উপকারী: ভুট্টায় প্রচুর পরিমাণে লুটেইন এবং জেক্সানথিন থাকে। এই দুটি ক্যারোটিনয়েডই চোখের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই দুটি উপাদান চোখকে বয়স-সম্পর্কিত ম্যাকুলার ডিজেনারেশন থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করতে পারে, যা বয়স্কদের মধ্যে অন্ধত্বের একটি প্রধান কারণ।

ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করে: ভুট্টা ভিটামিন সি এর একটি ভালো উৎস। এটি ইমিউন সিস্টেমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন সি শরীরকে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে এবং ক্ষত সারাতে সাহায্য করে।




মৃত স্বামীর শুক্রাণু ব্যবহার করে মা হলেন ৪৮ বছর বয়সী নারী

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : মৃত স্বামীর সংরক্ষিত শুক্রাণু ব্যবহার করে ‘ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন’ (আইভিএফ) পদ্ধতিতে ৪৮ বছর বয়সে সন্তানের মা হয়েছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমের মুরারইয়ের প্রত্যন্ত এলাকার এক নারী। সন্তান সুস্থ থাকলেও ওই নারী এখনও হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে রয়েছেন। ১১ ডিসেম্বর মা হয়েছেন তিনি।

তবে এই মা হওয়ার লড়াইয়ে ওই নারী পাশে পাননি পরিবারের কাউকে। দু’বছর আগে কোভিডে স্বামীকে হারিয়েছিলেন তিনি। স্বামীর রেখে যাওয়া মুদি দোকানের কর্মচারী আর তার মা খেয়াল রাখছেন ওই নারীর।

ওই নারীর আইনজীবী বলেন, স্বামী বেঁচে থাকাকালীন ওই ভদ্রমহিলার সন্তান ধারণ নিয়ে সমস্যা ছিল। দীর্ঘদিন আইভিএফ পদ্ধতিতে সন্তান লাভের চেষ্টা চালান তারা। তখনই কলকাতার একটি পরীক্ষাগারে স্বামীর শুক্রাণু সংরক্ষণ করা হয়। এর মধ্যে কোভিডে তার স্বামী মারা যান। সন্তান কামনায় মৃত স্বামীর শুক্রাণু ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেন আমার মক্কেল। এ ক্ষেত্রে আইনগত দিক খতিয়ে দেখতে হয়েছিল।

যে হাসপাতালে সন্তান জন্ম দিয়েছেন ওই নারী সেই হাসপাতালের একজন চিকিৎসক বলেন, ৪৮ বছর বয়সে সাধারণত নারীদের মেনোপজ শুরু হয়ে যায়। স্বাভাবিকভাবে মা হওয়া যায় না। এই নারীর রক্তচাপও বেশি ছিল। উনি ডায়াবেটিকও। সব মিলিয়ে তার গর্ভবতী হওয়া যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। আইভিএফ পদ্ধতিতে ওর পেটে যমজ সন্তান এসেছিল। একটি ছ’সপ্তাহে মারা যায়। যে বেঁচে ছিল, তার সংক্রমণ হতে পারতো। বয়সের কারণেও স্বাভাবিক প্রসব মুশকিল ছিল। ১১ তারিখ অস্ত্রোপচার করে আড়াই কেজি ওজনের পুত্র সন্তানের জন্ম হয়।




মালয়েশিয়ায় ফের বাড়ছে করোনা সংক্রমণ

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : মালয়েশিয়ায় আবারও করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। গত এক সপ্তাহে ১৩ হাজার আক্রান্ত হয়েছেন। প্রতিরোধের জন্য মাস্ক পরার অনুরোধ জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

এ পরিস্থিতে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায়, কোভিড-১৯ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাগুলো পুনরায় শুরু করার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। বিশেষ করে বন্ধুবান্ধব এবং পরিবারের সঙ্গে জমায়েতের সময় মাস্ক পরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য মহাপরিচালক দাতুক ডা. মুহাম্মদ রাদজি আবু হাসান জানান, ৩ ডিসেম্বর থেকে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৪৯তম মহামারি সপ্তাহ (এমই৪৯) বেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, যেখানে এমই৪৮-এ ৬,৭৯৬টি থেকে বেড়ে এমই ৪৯- এ ১২,৭৫৭টি সংক্রমণ রিপোর্ট করা হয়েছে।




খেজুরের কাঁচা রস পানে হতে পারে স্থায়ী পঙ্গুত্ব

অনলাইন ডেস্ক : শীতের কুয়াশাচ্ছন্ন ভোরে হিমশীতল কাঁচা খেজুরের রস পান বাংলার চিরচেনা একটি ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্য ধারণ করে গ্রামের পাশাপাশি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড়বড় শহরগুলোতেও নানা আয়োজনে পান করা হয় খেজুরের রস। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়েও আয়োজন করা হয় রস উৎসব। তবে খেজুরের কাঁচা রস পান করাকে অত্যন্ত বিপদজনক বলছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এতে মৃত্যুর উচ্চ ঝুঁকিসহ স্থায়ী পঙ্গুত্বের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে উল্লেখ করে খেজুরের কাঁচা রস পান থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

এমন পরামর্শের কারণ নিপাহ ভাইরাস। এ ভাইরাসের বাহক টেরোপাস (ফল আহারি) গোত্রের বাদুড়। বাদুড় থেকে মানুষের দেহে এই রোগের সংক্রমণ হয়। মানুষের মধ্যে এ সংক্রমণ প্রথম শনাক্ত হয় মালয়েশিয়ায় ১৯৯৮ সালে, যা শূকর থেকে মানুষের সংক্রমিত হয়েছিল। তবে শূকরের দেহে এ রোগের সংক্রমণ হয়েছিল বাদুড় থেকে। বাংলাদেশে ২০০১ সালে মেহেরপুর জেলায় নিপাহ ভাইরাসের প্রথম প্রাদুর্ভাব চিহ্নিত হয়। এরপর থেকে প্রায় প্রতি বছরই বাংলাদেশে এই রোগের প্রাদুর্ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দেশে পাওয়া সংক্রমণের সব ঘটনায় রোগীদের খেজুরের কাঁচা রস পানের ইতিহাস ছিল। এই রোগে আক্রান্তদের মৃত্যুহার প্রায় ৭০ শতাংশ। আর প্রাণে বেঁচে গেলেও দীর্ঘমেয়াদী স্নায়বিক রোগে ভুগতে হয়।

বাংলাদেশে শীত মৌসুমে ডিসেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত এ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। সাধারণত খেজুরের কাঁচা রস পানের মাধ্যমে এই ভাইরাস সংক্রমিত হয়। চলতি বছর (২০২৩) এ পর্যন্ত নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১৪ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ১০ জন। রোগী অনুপাতে মৃত্যুহার ৭১ দশমিক ৪২ শতাংশ। যা গত সাত বছরে সর্বোচ্চ। নতুন করে মারা যাওয়ার মধ্যে একজন নবজাতকও রয়েছেন। গর্ভাবস্থায় নবজাতকের মা নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন। জন্মের পর শিশুটিরও নিপাহ শনাক্ত হয়। এতে মায়ের জীবন রক্ষা পেলেও বাঁচানো যায়নি নবজাতককে। আর আক্রান্তদের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক ৫ জন পাওয়া গেছে নওগাঁ জেলায়। এরপরই রয়েছে রাজবাড়ী জেলা, সেখানে ৪ জনের দেহে নিপাহ শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া চলতি বছর প্রথমবারের মতো নরসিংদীতে নিপাহ রোগী শনাক্ত হয়েছে।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) দেওয়া তথ্য মতে, দেশে নিপাহর সর্বোচ্চ প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে ২০০৪ সালে। ওই বছর মোট ৬৭ জন আক্রান্ত হয়েছিল, মারা যান ৫০ জন। ২০১১ সালে আক্রান্ত হয় ৪৫ জন, যার মধ্যে ৩৭ জন মারা যান। ২০০২, ২০০৬ ও ২০১৬ সালে আক্রান্ত ও মৃত্যুর কোনো ঘটনা ঘটেনি।

বাংলাদেশের বাইরে সাম্প্রতিককালে ভারতের কেরালাতে নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছে। ২০০১ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ভারতে ১০১ জন আক্রান্ত হয়েছেন, যাদের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন ৭৪ জন। রোগী অনুপাতে মৃত্যুহার প্রায় ৭০ শতাংশ।




ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৪৫৯

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত (একদিনে) ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একইসঙ্গে এই সময়ে ভাইরাসটি আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৪৫৯ জন।



ডেঙ্গুতে আরও ৭ জনের মৃত্যু




হোমিও চিকিৎসক হতে কোথায় পড়বেন?

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  দিন যতই সামনে এগোচ্ছে চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিস্তৃতির প্রয়োজনীয়তা ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের একটি শাখা হচ্ছে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা। আমাদের দেশের প্রায় ৪০শতাংশ মানুষ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। বলা হয়ে থাকে হোমিও ঔষধে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। হোমিও চিকিৎসা নিয়ে অনেকের মধ্যে কিছু ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। অনেকেই মনে করেন হোমিও চিকিৎসকদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। ছোটখাটো কোর্স করেই হোমিও চিকিৎসক হওয়া যায়। কিন্তু হোমিও শাস্ত্রে জ্ঞান অর্জনের জন্য উচ্চতর শিক্ষা পদ্ধতি চালু রয়েছে।

বাংলাদেশ সরকার হোমিও চিকিৎসার উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের জন্য অনেকটাই সচেতন হয়েছে । এরই ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতি ২ নভেম্বর জাতীয় সংসদে হোমিও চিকিৎসা আইন পাশ হয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে এখন থেকে হোমিও চিকিৎসকরা আইনগতভাবে ডা. পদবী ব্যবহার করতে পারবেন এবং হোমিও চিকিৎসকরা তাদের নিজস্ব অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

কীভাবে একজন হোমিও ডাক্তার হবেন?
সরকারি এবং বেসরকারি দুই মাধ্যমেই হোমিও চিকিৎসা শিক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা রয়েছে। হোমিও চিকিৎসক হওয়ার জন্য বাংলাদেশে দুটি কোর্স চালু রয়েছে। বিএইচএমএস (ব্যাচেলর ইন হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন অ্যান্ড সার্জারি) এবং ডিএইচএমএস (ডিপ্লোমা অব হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন অ্যান্ড সার্জারি)। এই দুইটি কোর্সের মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী হোমিও চিকিৎসক হতে পারেন।

বিএইচএমএস কোর্স কি?
ব্যাচেলর ইন হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন অ্যান্ড সার্জারি কোর্স হলো এমবিবিএস কোর্সের সমান মর্যাদা সম্পন্ন একটি কোর্স। সরকারি এবং বেসরকারি উভয় ভাবেই এই কোর্স শিক্ষাগ্রহণ করা যায়। এই কোর্সের মেয়াদকাল পাঁচ বছর। সরকারিভাবে এই কোর্স করতে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ ৪.০০ পেতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট আসনের বিপরীতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবেন। এই কোর্সে ভর্তি হওয়ার জন্য ৫০ টি আসন বরাদ্দ রয়েছে।

রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত সরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল একমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠান। সম্পূর্ণ সরকারি খরচে ৫০ জন শিক্ষার্থী এখান থেকে হোমিও চিকিৎসক হতে পারেন। বেসরকারিভাবে বিএইচএমএস কোর্স এ ১০০টি আসন বরাদ্দ রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক ভর্তি পরীক্ষায় যারা অংশগ্রহণ করবে শুধু তারাই বেসরকারিভাবে বি এইচ এম এস কোর্স করতে পারবেন। বিএইচএমএস কোর্সের একমাত্র বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রাজধানীর গুলিস্তানে অবস্থিত বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। এই প্রতিষ্ঠানে কোর্সটি সম্পন্ন করার জন্য সর্বমোট খরচ হয় চার-পাঁচ লাখ টাকা। প্রতিষ্ঠান দুটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের আওতাধীন।

বিএইচএমএস কোর্সের ভর্তি পরীক্ষা কিভাবে অনুষ্ঠিত হয়?
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক বছরের নির্দিষ্ট সময়ে তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে সার্কুলার দিয়ে থাকেন। সাধারণত এমবিবিএস কোর্সের ভর্তি পরীক্ষার পরে এই সার্কুলার প্রকাশ করা হয়। শুধু বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার পর আবেদন করতে পারেন। মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ ৪.০০ পেতে হবে। ভর্তি পরীক্ষায় ১০০ নম্বরে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।

ডিএইচএমএস কোর্স কি?
ডিপ্লোমা অব হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন অ্যান্ড সার্জারি একটি ডিপ্লোমা কোর্স। যে কোনো বিভাগ থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পরে এই কোর্সে এ ভর্তি হওয়া যায়। এই কোর্সে ভর্তি হওয়ার জন্য তেমন কোনো শর্ত থাকে না। বাংলাদেশের প্রায় সব জেলায় ৬৫টির বেশি ডিপ্লোমা হোমিওপ্যাথিক কলেজ রয়েছে। ডিপ্লোমা কোর্স ধারীরা বিএইচএমএস কোর্সের সমান মর্যাদা লাভ করতে পারে না। তবে ডিপ্লোমা কোর্স শেষ করে ভালো রেজাল্ট নিয়ে বিএইচএমএস কোর্সে ভর্তি হতে পারেন। ডিএইচএমএস কোর্স ধারীরা নামের পাশে ডা. পদবী ব্যবহার করতে পারে না। এই কোর্সের সময়কাল চার বছর। তবে এই কোর্স সম্পন্ন করতে খরচ খুবই সীমিত।

হোমিওপ্যাথিক কোর্স করে বিসিএসে অংশগ্রহণ করা যায়?
বিএইচএমএস কোর্স ধারীরা সরাসরি বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারে এবং ডিএইচএমএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারে না। তবে কেউ যদি ডি এইচ এম এস কোর্স সম্পন্ন করে বিএইচএমএস কোর্স সম্পন্ন করে তবে সে বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। বিএইচএমএস কোর্সটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন ফ্যাকাল্টির অন্তর্ভুক্ত।

হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারদের ক্যারিয়ার কি?
বাংলাদেশের প্রত্যেকটি বিভাগীয় শহরে সরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল রয়েছে সেখানে হোমিওপ্যাথিক ডক্টররা নিয়োগ পান। দেশে অনেক বেসরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল রয়েছে সেখানেও তারা নিয়োগ পেয়ে থাকেন। তাছাড়া নিজস্ব চেম্বারে রোগী দেখার সুযোগ রয়েছে। সম্মানের দিক থেকে এমবিবিএস ডাক্তারদের সমান গুরুত্ব দেয়া হয়।