ভারতে করোনায় সাত জনের মৃত্যু

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : নতুন করে গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৪৩ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট জেএন পয়েন্ট ওয়ানের প্রভাবে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। নতুন করে ২৪ ঘণ্টায় ৭৪৩ জন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। মারা গেছেন সাত জন। ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, যে সাত জনের মৃত্যু হয়েছে তাদের মধ্যে তিন জন কেরালার, দুই জন কর্ণাটকের, এক জন ছত্তিশগড়ের এবং এক জন তামিলনাড়ুর।

সর্বশেষ করোনা পজিটিভ শনাক্তদের ধরে দেশটিতে মোট করোনায় আক্রান্তদের সংখ্যা পৌঁছেছে ৩ হাজার ৯৯৭ জনে। ভারতের দক্ষিণাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে বর্তমানে যারা আক্রান্ত হচ্ছেন, তাদের একটি বড় অংশের জন্য জেএন পয়েন্ট ওয়ান নামের ভাইরাসটি দায়ী।

২০২০ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত ভারতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন মোট ৪ কোটি ৫০ লাখ ১২ হাজার ৪৮২ জন এবং এই রোগে মৃত্যু হয়েছে মোট ৫ লাখ ৩৩ হাজার ৩৫৮ জনের।

 




গাজায় ভয়াবহ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন ইসরায়েলি সেনারা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ করতে যাওয়া দখলদার ইসরায়েলি সেনারা ভয়াবহ পরজীবী সংক্রামক রোগ লিশম্যানিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন। হিব্রু ভাষার ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম মারিভ, হাসপাতালের সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, কয়েক ডজন সেনাকে এই সন্দেহজনক সংক্রমণের জন্য চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মারিভের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চর্মবিদ্যা ক্লিনিকগুলো কয়েক ডজন সেনার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছে।



করোনা ভাইরাসের ঠেকাতে কী প্রস্তুতি নেবেন?

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  একটা চারা গাছকে যতই অন্ধকারে রাখা হোক না কেন, ফাঁকফোকর দিয়ে একটু সূর্যের আলো পেলে সে ওই দিকেই মুখ করে বাড়তে শুরু করে। ভাইরাসের ক্ষেত্রেও তাই। যতই তার বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি প্রয়োগ করা হোক না কেন, জিন মিউটেট করে নতুন ভ্যারিয়েন্ট বা উপরূপে প্রকাশ পায়। করোনা ভাইরাসের ক্ষেত্রেও তাই হচ্ছে। সম্প্রতি চোখ রাঙাচ্ছে করোনা ভাইরাসের নতুন উপরূপ জেএন ১। চিন, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপিন্স, আমেরিকার পরে ভারতে প্রবেশ করেছে জেএন ১। কোভিডের এই সাব-ভ্যারিয়েন্ট প্রসঙ্গে দক্ষিণ পূর্ব দেশগুলোকে সতর্ক থাকার আর্জি জানিয়েছে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা (হু)। ভারতে কেরালা, রাজস্থান, গুজরাত, কনার্টকে জেএন ১-এ সংক্রামিত হয়েছেন অনেকে। যদিও ভারতের জনসংখ্যার অনুপাতে আক্রান্তের সংখ্যা নগণ্য, কিন্তু দু’বছর আগে কোভিড-১৯-এর পরিণতির কথা ভেবে সকলেই কমবেশি উদ্বিগ্ন। তবে ভয় পাওয়ার মধ্যে সমাধানের পথ নেই বরং পূর্ব অভিজ্ঞতা আগাম সচেতন হওয়ার, সজাগ হওয়ার শিক্ষা দেয়।

নতুন উপরূপের উপসর্গ

সর্দি-কাশি, জ্বর, গলা-ব্যথা, হাত-পা-গা-ব্যথা জেএন ১-এর উপসর্গ। ‘‘শীতকালে ঠান্ডা লেগে কমন কোল্ড বা ইনফ্লুয়েঞ্জারও এই এক উপসর্গ। তাই প্রথমেই ধরা পড়া মুশকিল রোগটা সাধারণ সর্দিকাশি না করোনা ভাইরাসের নতুন উপরূপ। এমন উপসর্গ দেখা দিলে প্রথম ৪৮ ঘণ্টা বা দু’দিন ডাক্তারের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং বাড়ি থেকে না বেরিয়ে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন, পর্যাপ্ত জল খান, প্রয়োজনে প্যারাসিটামল খেতে পারেন। কমন কোল্ড হলে দিন দুয়েকের মধ্যে কমতে শুরু করবে। কিন্তু যদি দেখা যায় তৃতীয় বা চতুর্থ দিনে জ্বর ক্রমশ বাড়ছে, গা-হাত-পায়ে খুব ব্যথা হচ্ছে, গলার ব্যথা কমছে না, তখন বুঝতে হবে সাধারণ সর্দিকাশি নয়। আর দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। তিনি মনে করলে কোভিড টেস্ট করতে দিতে পারেন। তখন টেস্ট করিয়ে নিতে হবে,’’ বললেনডা. অরুণাংশু তালুকদার।

প্রতিকারের চেয়েপ্রতিরোধ ভা

জেএন ১ কতটা ভয়ানক নাকি নেহাতই নিরীহ, তা এখনও পুরোপুরি জানা নেই বিজ্ঞানী বা চিকিৎসকদের। তাই প্রিভেনশন ইজ় বেটার দ্যান কিয়োর বা প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ ভাল এই নীতি নিতে হবে। শীতকাল উৎসবের মরসুম। গোটা দেশ জুড়ে চলছে নানা মেলা, অনুষ্ঠান। আমাদের রাজ্যও এই আনন্দ উৎসবে পিছিয়ে নেই। এই সময় বেড়াতে যান বহু মানুষ। পর্যটন স্থলগুলো পর্যটকের ভিড়ে গমগম করছে। যত বেশি জনসমাবেশ তত বেশি সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা! জেএন ১-এর স্বরূপ এখনও অস্পষ্ট। তাই দুঃশ্চিন্তাও বাড়ছে। ‘‘চিন্তা ফেলে আবার সেই পুরনো নিয়মে ফিরে যেতে হবে। কোভিড ১৯-এর সময় যে সচেতনতা মেনে চলা হত তা শুরু করতে হবে। এই সময় যে কোনও সমাবেশ, মেলা বা অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে মাস্ক পরতে হবে। সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে, স্যানিটাইজ়ার ব্যবহার করতে হবে। শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা দরকার। সম্ভব হলে বাইরে থেকে এসে পরা জামা-কাপড় ঘরের বাইরে রাখুন। বাইরের পোশাক পরে বা হাত না ধুয়ে বাচ্চাদের ও বয়স্কদের কাছে যাবেন না। নিয়মিত সাবান দিয়ে স্নান করুন। পর্যাপ্ত জল পান করুন। জ্বর, গলাব্যথা বা সর্দিকাশি হলে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হন,’’ পরামর্শ দিলেন ডা. তালুকদার। ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তিদের বা যাঁদের অন্যান্য রোগ আছে এবং যাঁরা নিয়মিত স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ খেয়ে থাকেন, তাঁদের সজাগ থাকতে হবে।

এই ছোট-ছোট সচেতন পদক্ষেপ শুধু কোভিড নয় যে কোনও সংক্রামক রোগের জন্যও কার্যকর। এই মরসুমে ইনফ্লুয়েঞ্জাও বেশি হয়। মাস্ক পরা, হাত ধোয়া ইত্যাদি সচেতনতা ইনফ্লুয়েঞ্জার থেকেও দূরে রাখবে।




ব্যস্ত জীবনে সুস্থ থাকার সহজ ৭ উপায়




দক্ষিণাঞ্চলে শীতের সঙ্গে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগ, হাসপাতালে শয্যা সংকট

বরিশাল অফিস :: পৌষের শেষ দিকে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলে জেঁকে বসেছে শীত। ঘন কুয়াশার সঙ্গে বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। শীতের তীব্রতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে শীতজনিত রোগ-বালাই।

এদিকে ঠান্ডা, শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি এবং চর্মরোগসহ শীতকালীন নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত রোগীদের ভিড় বাড়ছে বরিশালের হাসপাতালগুলোতে। রোগী বাড়লেও হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন রোগীরা। চিকিৎসকদের অবহেলা না থাকলেও পর্যাপ্ত জায়গা এবং শয্যা সংকটের কারণে হাসপাতালের মেঝেতেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে তাদের।

চিকিৎসকরা বলছেন, ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্তদের মধ্যে শিশু এবং বৃদ্ধদের সংখ্যা বেশি। শীতে রোগমুক্ত থাকতে সাবধানতা অবলম্বনের পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন গরম পোশাক পরিধানের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

সরেজমিনে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ঘুরে দেখা যায়, সকাল ৮টা বাজতেই মেডিসিন এবং চর্ম বহিঃবিভাগে রোগীদের দীর্ঘ লাইন পড়ে যাচ্ছে। ভিড় লেগে থাকছে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত। এসব রোগীর মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশই ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত।

বহিঃবিভাগের চিকিৎসকদের দাবি, মেডিসিন ও চর্ম বহিঃবিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৩ থেকে ৪শ রোগী আসছে। এদের মধ্যে বেশিরভাগ শ্বাসকষ্ট, এলার্জিং এবং চর্মরোগে আক্রান্ত। বৃদ্ধ এবং শিশু বয়সের রোগীরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে এসব রোগে। তাদের অন্যান্য ওষুধের সাথে চিকিৎসা হিসেবে ওয়েনমেন্ট, প্যারাসিটামল, হিস্টাসিন দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, শুধু বহিঃবিভাগেই নয়, হাসপাতালের মেডিসিন আন্তঃবিভাগেও শীতকালীন রোগে আক্রান্ত রোগীর চাপ বেড়েছে দ্বিগুণ। বিশেষ করে বয়ষ্ক শ্বাসকষ্টজনিত রোগীদের ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নগরীর রূপাতলী দপদপিয়া এলাকার বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব আসলাম হাওলাদার জানান, আগে থেকেই শ্বাসকষ্টে ভুগছেন তিনি। তবে গত তিন দিন ধরে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধির সাথে সাথে তার শ্বাসকষ্টও বেড়ে যায়। নিয়মিত ওষুধে কাজ না হওয়ায় অসুস্থবোধ করায় সোমবার দুপুরে হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। চিকিৎসাগ্রহণের পর এখন অনেকটা সুস্থ।

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক ডা. রবিন্দ্র নাথ বলেন, মূলত আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে বিভিন্ন বয়সের মানুষ শীতকালীন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। বিশেষ করে শিশু রোগীদের চাপ এখন একটু বেশি।

তিনি আরও বলেন, পুরোনো শ্বাসকষ্টের রোগীরা সাবধানে না থাকলে তাদের অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকিটা বেশি থাকে। এছাড়া ঠান্ডা, কাঁশি, গলাব্যথা, শ্বাসকষ্ট এবং শিশুদের নিউমোনিয়ায় আক্রান্তের ঝুঁকি থাকে। তাই শীতকালীন রোগ প্রতিরোধে শীতকালীন পোশাক এবং ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে নিয়মিত মাস্ক পড়ার অভ্যাস করতে হবে। এ ছাড়া যাদের শ্বাসকষ্ট রয়েছে তারা ইনহেলার ব্যবহার করবেন। যাদের নাকে এলার্জির সমস্যা রয়েছে তারা নাকের স্প্রে নিতে পারেন। স্বাস্থ্য সচেতন হলে শীতকালীন রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব বলে জানান এই চিকিৎসক।




সকালে এই ৫ কাজ করুন, দিনটি সুন্দর হবে




বিশ্বজুড়ে ফের বাড়ছে করোনা, সতর্কবার্তা ডব্লিউএইচওর

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  চলতি শীত মৌসুমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফের শুরু হয়েছে শ্বাসতন্ত্রের প্রাণঘাতী রোগ করোনার নতুন ঢেউ। গত এক মাসে বিশ্বজুড়ে করোনা সংক্রমণের শতকরা হার বেড়েছে ৫২ শতাংশ।



বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যের কালোজিরা ধান

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রামীণ ঐতিহ্যের সুগন্ধী কালোজিরা ধান। ফলন কম, বেশি খরচ ও কম লাভের কারণে এ ধান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন উপজেলার প্রান্তিক কৃষকরা। তারা বিকল্প হিসেবে আবাদ করেছেন গুটি স্বর্ণ, স্বর্ণ-৫,স্বর্ণ ৪৯, স্বর্ণ গোঠা, মাথা মোটা ও ব্রি-ধান ৪৩।

কৃষি বিভাগের মাধ্যমে কালোজিরা ধান আবাদে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা বা প্রদর্শনী প্লট প্রকল্প হাতে নেয়া হলে বিলুপ্তির হাত থেকে তা ফেরানো সম্ভব বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

জানা যায়, উপজেলায় সুগন্ধী কালোজিরা ধান স্থানীয় ভাষায় ঘুয়াধন (সুগন্ধী কালোজিরা) হিসেবে বেশ পরিচিত। এক সময় উপজেলার কৃষকদের মধ্যে জনপ্রিয় ছিল এ ধান। সর্বত্র চাষও হতো। গ্রামীণ জীবনের এক প্রকার অপরিহার্য অংশ ছিল এ ধান। এ সুগন্ধী চাল দিয়ে বিশেষ বিশেষ অনুষ্ঠানে তৈরি হতো পিঠা-পুলি, পোলাও, বিরিয়ানি, খিচুড়ি, ক্ষির, পায়েস, ফিরনি ও জর্দাসহ আরো সুস্বাদু মুখরোচক নানা ধরনের খাবার।

কিন্তু এ সবই এখন স্মৃতি হয়ে যেতে বসেছে। এ ধান কাটার সময় গ্রামবাংলা মেতে উঠত নবান্নের উৎসবে। সেসব এখন অনেকটাই অতীত। বীজের অভাব, সার, শ্রমিকের মজুরি ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধিসহ নানা কারণে হারিয়ে যাচ্ছে এ ধানের আবাদ। ২৫-৩০ বছরের ব্যবধানে এ ধানের জায়গা দখল করে নিয়েছে উফশী ও উচ্চফলনশীল জাতের ধান। উপজেলায় এক সময় কালোজিরা ধান চাষ হতো কয়েক হাজার হেক্টর জমিতে। ক্রমবর্ধমান খাদ্যের চাহিদা মেটাতে দেশ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে প্রকৃতিবান্ধব এমন হাজারও জাতের দেশী ধান।

কলাপাড়া কৃষি অফিস সূত্র জানায়, এ উপজেলায় ১২টি ইউনিয়ন ও দু’টি পৌরসভায় ৩৫ হাজার ৫০০ কৃষক পরিবার রয়েছেন। এ বছর ৩০ হাজার ৭০০হেক্টর জমিতে আমন আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে কালোজিরা ধান চাষ হয়েছে ৫০ হেক্টর জমিতে।

সরেজমিন উপজেলার ধুলাসার, নীলগঞ্জ, মিঠাগঞ্জসহ নীলগঞ্জ ইউনিয়নে বিভিন্ন জাতের ধান আবাদকারী কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, কালোজিরা ধানের ফলন হয় কম। বিঘা প্রতি অন্য জাতের ধান যেখানে ১৫ থেকে সর্বোচ্চ ২০ মণ উৎপাদন হয়, সেখানে এ ধানের ফলন হয় সর্বোচ্চ ৮ মণ। তবে বাজারে দাম পাওয়া যায় দ্বিগুণ। সার, সেচ ও পরিচর্যাও লাগে কম। সে হিসেবে লোকসান হয় না বললেই চলে। এখনো প্রতি কেজি এ ধানের চাল বিক্রি হয় ১০০ থেকে ১২০ টাকা। তবে সচরাচর সব খানে পাওয়া যায় না। এ ধান চাষে কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ লক্ষ করা গেলেও বীজের অভাবে অনেকের পক্ষে আবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না। দূর থেকে ধানক্ষেত দেখলে মনে হবে এ যেন কোনো চিত্রশিল্পীর নিপুণ হাতে আঁকা ছবি। এ জাতের ধান সাধারণত কালো বর্ণের হয়। অন্য ধানের চেয়ে এর আকারও ছোট।

একসময় গ্রামীণ জীবনে এ ধান ছিল অপরিহার্য। প্রতিটি বাড়িতে সংরক্ষণ করা হতো কালোজিরা ধান। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বিভিন্ন পূজা-পার্বণের ভোগ, মিষ্টান্ন রান্নার কাজে কালোজিরা চাল ব্যবহার করেন। উপজেলার হাটবাজারে এখন আর এ চাল তেমন একটা পাওয়া যায় না। আবহমান বাংলার ঐতিহ্য অনুযায়ী শ্বশুরবাড়িতে জামাই এলে এ চালের ভাত দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। নিম্ন, মধ্য, গরিব হলেও দিনে অন্তত একবেলা অবশ্যই এ চালের ভাত রান্না হতো।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ আর এম সাইফুল্লাহ বলেন, কালোজিরা ধান আগে বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে চাষ হতো। কিন্তু উৎপাদন কম ও বীজ আমদানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় হারিয়ে যাচ্ছে এক সময়ের জনপ্রিয় এই ধান। তুলনামূলক ফলন কম এবং লাভ কম হওয়ায় কৃষকরা এ ধান আবাদে দিনে দিনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। বাণিজ্যিক ভাবে কোনো কৃষক এখন আর কালোজিরা ধান চাষাবাদ করেন না।




ক্যালশিয়ামের ঘাটতি পূরণ করবে কোন কোন খাবার?

চন্দ্রদ্বীপ অনলাইন:  ছোট থেকে দুধ খেলে পেটের সমস্যা হত। তখন বুঝতে না পারলেও পরে জেনেছেন ‘ল্যাক্টোজ় ইনটলারেন্ট’ হলে দুধ খাওয়া যায় না।

হাড়ের জোর বাড়িয়ে তোলার ক্ষেত্রে দুধের যে কোনও বিকল্প হয় না, তা জানেন। ক্যালশিয়াম, ভিটামিন ডি-র মতো গুরুত্বপূর্ণ দু’টি উপাদানের উৎস হল এই দুধ। হাড়ের স্বাস্থ্য থেকে দেহে পেশির কার্যকরীতা, পেশি সঙ্কোচন, হৃদ্‌স্পন্দনের গতি— সবেতেই ক্যালশিয়ামের ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু ছোট থেকে দুধ খেলে পেটের সমস্যা হত। তখন বুঝতে না পারলেও পরে জেনেছেন ‘ল্যাক্টোজ় ইনটলারেন্ট’ হলে দুধ খাওয়া যায় না। সে ক্ষেত্রে শরীরে ক্যালশিয়ামের ঘাটতি থেকেই যাবে। দুধ না খেতে পারলে ক্যালশিয়ামের অভাব পূরণ করবে কে?

১) সয়া মিল্ক

দুধের বিকল্প খাবারের কথা বললে প্রথমেই আসে সয়া মিল্ক। ক্যালশিয়ামে ভরপুর এবং সঙ্গে ভিটামিন ডি-তে সমৃদ্ধ সয়া মিল্ক খেলে হজম সংক্রান্ত সমস্যা হয় না। এ ছাড়াও দুধ এবং দুগ্ধজাত খাবারে যদি অ্যালার্জি থাকে, তবে খাদ্যাতালিকায় রাখুন সয়া মিল্ক।

২) চিয়া বীজ

সোয়া মিল্কের মতো আরও একটি ক্যালশিয়ামে সমৃদ্ধ খাবার হল চিয়া বীজ। ওটমিল, দই ইত্যাদির সঙ্গে চিয়া বীজ মিশিয়ে খেতে পারেন অনায়াসে।

৩) কাঠবাদাম

এক কাপ কাঠবাদামে প্রায় ৩৮৫ মিলিগ্রাম ক্যালশিয়াম থাকে। তাই নিয়ম করে বাদাম খেলে দৈনিক ক্যালশিয়ামের চাহিদার এক তৃতীয়াংশের বেশি পূরণ হয়ে যায়। প্রতি দিন রাতে জলে ৫ থেকে ৬টি আমন্ড ভিজিয়ে রেখে সকালে খেতে পারেন।




শীতে বেড়ে যাওয়া ব্যাথা কিংবা এলার্জি রোধে মাত্র একটা লেবু

শীত এসে গেছে, নানান ব্যাথা দেখা দিচ্ছে,  পুরনো ব্যথা হলে তো কথাই নেই। এলার্জির সাথে হরহামেশা গ্যাসের সমস্যাও কাবু করে ফেলছে!  ভয় নেই,  সমাধানও আছে আর তা জানতে পড়ে ফেলুন বাকীটা। লিখেছেন মো. লতিফুর রহমান।

এছাড়াও যদি কারো বাতের ব্যাথা, দাতঁ দিয়ে রক্ত এমনকী কিডনিতে পাথরজনিত তীব্র ব্যাথাও থাকে তাহলে ঝটপট সমাধান হচ্ছে- প্রতিদিন কুসুম গরম পানিতে পুরো একটা লেবু খাওয়া। এটা ভোরে ঘুম থেকে উঠে খাওয়া ভালো। অথবা খাওয়ার এক ঘণ্টা আগে খাবেন। তবে

👉 শুধু লেবু না খেয়ে এক গ্লাস পানির সাথে খেতে হবে।
👉 পানিটা কুসুম গরম হলে খেতে ভালো লাগবে।
👉 কিন্তু ভুলেও লেবুর সাথে চিনি বা লবণ খাবেন না।

লেবু পানি খাওয়ার কারণে ব্যাথা চলে গেলে তখন মাঝে মাঝে খাবেন।

লেবু যেভাবে উপকার করে:

লেবুতে রয়েছে ভিটামিন-সি ও সাইট্রিক এসিড।

লেবু দুইধারী তলোয়ারের মতো। এটা পেটের পরিবেশ এসিডিক করে ফলে হজম ভালো হয়।

আর হজম হওয়ার পর ব্লাডের বেড়ে যাওয়া এসিডিটি নিউট্রাল করে দেয়। মূলত ব্লাডের এসিডিটি বৃদ্ধি পেলে শরীরে বিভিন্ন রকমের ব্যাথা হয়। তাই লেবু খেলে শরীরের ব্যাথা কমে যায়।

যারা নানাবিধ ব্যাথা, এলার্জি ও ক্লান্তিজনিত সমস্যায় ভুগছেন আজ থেকেই শুরু করতে পারেন। উপকার পেলে কমেন্টে জানাবেন প্লিজ।